Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দলভাঙানো রাজনীতি:
এ রাজ্যে নবতর সংযোজন

‘দলবদলু’ শব্দটা বাংলায় খুব একটা প্রচলিত ছিল না। বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো ভিন রাজ্যের দল ভাঙানো খেলায় বঙ্গবাসী বরং বিরক্ত বোধ করতেন। মশকরা করতেন। একটা গরিমা ছিল—‘যাই হোক বাপু বাংলায় এইসব হয় না।’ বাংলার সেই গরিমাটাও ভেঙে গেল। রাজনীতির দল ভাঙানো বা দলবদলের খেলা এ বাংলায় এখন এতই প্রবল যে ময়দানের ফুটবলের সেই পুরনো দিনের দলবদলও হার মেনে যায়। রাজনীতির এই সুবিধাবাদীদের রাজনৈতিক অবস্থান সবসময় রহস্যে মোড়া। কে কখন কোথায় তা বোঝা ভার। আজ এ দলে, তো কাল অন্য দলে। আজ এক কথা বলছেন, তো কাল অন্য দলে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কথা। রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দুই শাসকদলেরই একই অবস্থা। তাদের পারস্পরিক দ্বৈরথে রাজনীতির যুক্তি, আদর্শ কিংবা নৈতিকতাবোধ আজ বিপন্ন। ব্যক্তি স্বার্থে দলবদল বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলবদল। নীতি আদর্শহীন দলবদল। জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কহীন। রাজনীতি মানুষের—এই সাধারণ ধারণাটাই কার্যত বাতিল দুই শাসকদলের পারস্পরিক দ্বৈরথে।
দলবদল—রাজ্য রাজনীতির গত দশ বছরের নতুন সংযোজন ২০১১ সালে বাংলায় রাজ্যপাটের পালাবদল ঘটেছে। বামবিরোধী শক্তি সমূহের সমাহার তখন। সিঙ্গুরসহ নানান আন্দোলনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তখন অতি ডান, অতি বাম অনেকেই। বিজেপি নেতাদের প্রত্যক্ষ সাহচর্য নিয়েই পূর্ববতী—বস্তুত একটা মহাজোট। রামধনু জোট। ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হল তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের জোট সরকার। তৃণমূল তখন কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের শরিক। এক বছর পার হতে না হতেই কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সরে আসল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সরকার থেকে সরে গেল জাতীয় কংগ্রেস। দল ভাঙানো শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম দফাতেই সতেরো জন কংগ্রেস এবং ছয়জন বাম বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হল না কারও বিরুদ্ধে। যে কংগ্রেসকে সঙ্গে করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসল, সেই কংগ্রেস দলটাকেই ভাঙাবার প্রবল প্রচেষ্টা চলল। উপনির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও কংগ্রেসের দু’জন দলত্যাগীকে মন্ত্রী পদে বহাল রাখল। চূড়ান্ত অনৈতিকতা। শুধু বিধায়ক না। পঞ্চায়েত, পুরসভা, জেলা পরিষদ, ক্লাব সব কিছুই দখল। নির্লজ্জ দখলদারি। একজনও তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত সদস্য নেই এমন পঞ্চায়েত, পুরসভাও দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য জুড়েই একই রকমভাবে দলত্যাগ, দল ভাঙানো। জবরদস্তি, লোক দেখানো, প্রশাসনিক চাপ, মিথ্যা মামলা সবই চলতে থাকল। তৃণমূল কংগ্রেসের দপ্তরে রোজই উৎসব চলছে! মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় দলত্যাগের হিড়িক। ‘উন্নয়নের জোয়ারে’ ভেসে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরার মহা সমারোহ। পতাকা না ধরলেই মিথ্যা মামলা। ধরলেই সাত খুন মাফ। গত দশ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এ এক নতুন অপসংস্কৃতির আমদানি যা অতীতে বঙ্গবাসী দেখেনি কখনও।
বিরোধী শূন্য রাজনীতিরই এ এক অপচেষ্টা দলত্যাগ কিংবা দল ভেঙে দল গঠনের পরম্পরা সাধারণভাবে আমাদের দেশে খুব একটা ছিল না। ১৯৬৭-তে একসঙ্গে দেশের অনেকগুলি রাজ্যে অকংগ্রেসি সরকার তৈরি হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনা বেশিমাত্রায় চোখে পড়ে। লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল সুভাষ কাশ্যপ তাঁর প্রকাশিত বইয়ে লিখছেন যে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১-এর মধ্যে বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে দল ভাঙা-গড়ার ১৯৬৯টি ঘটনা ঘটে। সব রাজ্য মিলিয়ে ৩২ বার সরকারের পতন ঘটে। এ রাজ্যেও ১৯৬৭-তে যুক্তফ্রন্টের আমলে প্রফুল্ল ঘোষের নেতৃত্বে আরও ১৭ জন বিধায়ক দলত্যাগ করে সরকার গঠনের লক্ষ্যে পিডিএফ নামে নতুন মোর্চা গঠন করেন। পরবর্তীতে আবার সেই পিডিএফ থেকে পদত্যাগ করে ৩২ জন বেরিয়ে এসেছিলেন আইএনডিএফ নামে আরও একটি ফ্রন্ট গড়ার জন্য। দল ভেঙে দল গঠন। বাংলাতে ব্যতিক্রম এরকম নজিরও। যদিও উল্লিখিত দলত্যাগ বা দল গঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্ত ছিল সরকার ফেলে দেওয়া বা সরকার গঠনের তৎপরতা।
পরিবর্তনের পর এ রাজ্যে যেভাবে দলত্যাগ বা দল ভাঙানোর খেলা চলছে তার সঙ্গে উপরোক্ত ঘটনাগুলির কোনও মিল নেই। প্রথমত, ১৯৮৫ সালে সংবিধানের দশম তফসিলে দলত্যাগ বিরোধী আইন সংযোজিত হয়। উপরোক্ত ঘটনাগুলি তার আগের। দ্বিতীয়ত, গত দশ বছরে এ রাজ্যে যে দলত্যাগ আর দল ভাঙানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তার সঙ্গে সরকার ফেলে দেওয়া বা গঠন করার সম্পর্ক নেই। দু’দফায় দল ভাঙিয়ে তৃণমূল ক’জনকে দলে নিয়েছে সে হিসাব রাখাই দায়। কমবেশি ২৩ জন করে ৪৬ জন। সরকার গঠন বা রক্ষার জন্য তো এর দরকার ছিল না। তাহলে কেন? জবরদস্তি। আগ্রাসী মনোভাব। একক বা সীমাহীন ক্ষমতার ঝোঁকে বিরোধীশূন্য রাজনীতিই লক্ষ্য। বিরুদ্ধ মত বা প্রতিবাদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করার স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা। পরিবর্তনের দশ বছরে বিরোধীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া, দশ বছর চুপ করে থাকা কিংবা মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে রাখার নিদান, প্রশাসনিক সভার নামে নির্বাচিত বিরোধী সদস্যদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের সভায় প্রশাসনিক কর্তাদের হাজির করানো। দলবাজির চূড়ান্ত এই অনুশীলন স্বৈরতান্ত্রিকতার আস্ফালনেরই ইঙ্গিত দেয়।
কলুষিত হচ্ছে এ রাজ্যের রাজনীতি এই রাজ্যে দল ভাঙানোর অনৈতিক রাজনীতির যাঁরা প্রবর্তক, তাঁরা এখন হঠাৎ চিৎকার শুরু করলেন কেন? পাঁচিল ভেঙে পথ করেছে তৃণমূল। সেই পথ ধরেই বিজেপি আজ তৃণমূলের ঘর ভাঙছে। তৃণমূলের হয়ে দল ভাঙানোর খেলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরাই এখন একই কাজ করছেন বিজেপি’র হয়ে। তখন মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের জোয়ারে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল ভবনে গিয়ে জোড়াফুলের পতাকা হাতে যাঁরা ছবি তোলার ব্যবস্থা করেছিলেন, তাঁরাই এখন উন্নয়নের ভাটার প্রাবল্যে বিজেপি ভবনে গিয়ে পদ্মফুল ফোটাচ্ছেন। দলবদলু তৃণমূলীদের পিছনে রাজ্য পুলিসের প্রহরা। আর দলবদলু বিজেপি’র পিছনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরা। দলবদলের খেলায় মানুষের কষ্টার্জিত করের টাকার এত বড় অপচয় কখনও এ রাজ্যে আগে কল্পনাও করা যেত না। ক্ষমতার তেজ আর দম্ভের পারস্পরিক আস্ফালন।
বিজেপি দল ভাঙানোর খেলায় পারদর্শী। সাম্প্রতিক সময়ে গোয়া, অরুণাচল, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ—একের পর এক রাজ্যে এমএলএ কেনাবেচার মাধ্যমে সরকার তৈরি করেছে। বেআইনি এবং নীতিহীন। এ রাজ্যেও বিজেপি একই কলুষিত রাজনীতি করছে।  সর্বনাশ হয়েছে বাংলার কৃষ্টি, মনন, শ্লাঘা আর আত্মগরিমার। এ দায় কার?
তৃণমূল-বিজেপি। একই ছাঁচ। একই ডিএনএ।
এখন সদ্য বিজেপিতে যুক্ত দলত্যাগী প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুংকার ছেড়ে বলছেন—‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও’। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ পাল্টা হুংকার দিচ্ছেন ‘ঘুষের টাকায় তোলা নেওয়ার ভিডিওতে কাদের ছবি দেখা যাচ্ছে?’ নেতারা বলছেন—‘দশ বছর দলে থেকে করেকম্মে খেয়ে, এখন বিজেপিতে যাওয়া?’ মানুষ বুঝছে, ভাইপোও ঠিক বলছেন। অধিকারীবাবুও ঠিক বলছেন। আমরা যা বলেছিলাম তৃণমূল সম্পর্কে, দু’পক্ষের পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে, এখন সেই সত্য তথ্যই প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। মোদ্দা কথা প্রতারিত, শোষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। চিটফান্ডে সর্বস্ব খুইয়ে, শিক্ষক অথবা সরকারি চাকরির নিয়োগে কিংবা সরকারি যে কোনও পরিষেবার সুবিধা নিতে ঘুষের রাজত্বে আজ সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বিপর্যস্ত অবস্থা তাদের। নীতি, মূল্যবোধ বিবর্জিত ক্ষমতা, অর্থ আর দম্ভের রাজনীতির শিকার বাংলার আপামর জনসাধারণ। কয়লা, গোরু, সোনা কিংবা বালি-পাথর জড়িয়ে পাচার চক্র এখন বিভাজিত। হয় তৃণমূল-তৃণমূলে, নয়তো তৃণমূল-বিজেপিতে। একই ছাঁচ দু’দলের। একই ডিএনএ-তে গড়া এই লুটেরা বাহিনী। সমার্থক। রং আর পতাকা আপাতত আলাদা। কিন্তু মিলে যেতে কতক্ষণ?

বামপন্থার গর্ববোধ
বিলাপ করে কী লাভ? বাংলার সমাজজীবনে স্বচ্ছতা, মূল্যবোধ, নীতি, বিবেচনা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির মননটাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাম আমলে গড়ে ওঠা নজিরগুলো সারা দেশেরই নজর কেড়েছে। ৩৪ বছরের বাম শাসনে দলত্যাগ বা দল ভাঙানোর রাজনীতি এ রাজ্যের মানুষ দেখেনি। সারা দেশে যখন ‘আয়ারাম গয়ারাম’-এর চর্চা, তখন পশ্চিমবাংলায় বিরোধীদল পূর্ণ অধিকার নিয়েই একের পর এক পঞ্চায়েত বা পুরসভা চালিয়ে গেছে। সরকারের পূর্ণ মদত এবং সহযোগিতা পেয়েছে। আজকের দিনে এরকম ছবি চেতনারও অতীত। সারা দেশ দেখেছে, বাম আমলে জেলা পরিষদের বিরোধী নেতাকে ‘অধ্যক্ষ’ পদ তৈরি করে প্রশাসনিকভাবেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ খতিয়ে দেখতে। মানুষের ভিন্নমত, স্বাধীন রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বিরোধীদল সমূহের অধিকার এ রাজ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল তো বটেই। সর্ব ভারতীয় প্রিসাইডিং অফিসারদের পরামর্শক্রমে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন লোকসভার স্পিকার দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং তার প্রয়োগের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যের তৎকালীন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে, এ রাজ্যের চাইতে এ বিষয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান কার হতে পারে? সেই মর্যাদা এবং গর্ববোধটাকে রোজই ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে সচেতনভাবে।

তৃণমূলই রাজ্য বিজেপি’র সাপ্লাই লাইন
এতদিন অন্য দল ভেঙে তৃণমূলে যোগদান হচ্ছিল। এখন তৃণমূল ভেঙে বিজেপি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভিন্ন দল ভেঙে তৃণমূল যাকে দলে নিয়েছে, পাঁচ বছর সময় সীমার মধ্যে তারাও দ্বিতীয়বার দল ভেঙে আবার বিজেপিতে যাচ্ছে—এ ঘটনাও বিরল নয়। সম্প্রতি, লোকসভা সদস্য সুনীল মণ্ডল দলত্যাগ করে বিজেপিতে গেছেন বলে অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে তাঁর সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। তা বেশ! কিন্তু এ রাজ্যে দল ভেঙে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসে গেছেন তাঁদের সদস্যপদ খারিজের প্রশ্নে তৃণমূল নেতৃত্বের অবস্থান কী? চার বছর হয়ে গেল। দরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তথাস্তু। শুধু সময় নষ্ট করা হচ্ছে। বরং তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। কিংবা রাজ্যে যাঁরা তৃণমূল ভেঙে ভিন্ন দলে চলে গেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে আজও জমা দেওয়া হল না কেন? বস্তুতপক্ষে রাজ্যে বিজেপি’র সাপ্লাই লাইনই তো এখন তৃণমূল।

ফারাক মূল্যবোধেই
ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তখন বিরোধী দলের নেতা জ্যোতি বসু। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কম ছিল না। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিধানচন্দ্র রায় গড়ে তুললেন সল্টলেক। তাঁর অবর্তমানে তাঁরই সময়ের বিরোধী নেতা জ্যোতি বসু, সল্টলেককে ‘বিধাননগর’ নামাঙ্কিত করার মধ্য দিয়ে যেমন বিধানচন্দ্র রায়কে যথার্থ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তেমনই দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন। বামফ্রন্টের সময়কালে কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাটে গড়ে উঠল নতুন শহর। জ্যোতি বসুর ভাবনায় এবং নেতৃত্বে, কেন্দ্রীয় সরকারসহ সবাইকে যুক্ত করে বিশাল শহর। সল্টলেকের তিনগুণ। আধুনিক এবং সার্বিক পরিকল্পিত একটি নগর। জ্যোতি বসুর প্রয়াণের পর তৎকালীন সরকার নতুন এই শহরকে ‘জ্যোতি বসু নগর’ নামাঙ্কিত করলেন। পরিবর্তনের পর তৃণমূল সরকার তা খারিজ করে দিল। ক্ষমতার জোরে। দম্ভে। এটা লজ্জার এবং দুর্ভাগ্যের। এখান থেকে বাংলার সমাজ জীবনকে বেরতেই হবে। দায়িত্বটা সবার। প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরই। আদর্শ, নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুশীলনে বামপন্থার বিকল্প কোথায়? সমসাময়িক ঘটনাবলি সেটাই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছে।
লেখক সিপিএমের বিশিষ্ট নেতা। মতামত ব্যক্তিগত।
21st  January, 2021
নন্দীগ্রাম নয়, মমতার চ্যালেঞ্জ একলপ্তে ২৯১
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

মোক্ষম জবাবটা দিয়েছেন ওমর আবদুল্লা। গত শনিবার বেহালার মুচিপাড়ায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে পশ্চিমবঙ্গটা কাশ্মীর হয়ে যাবে।’ ২০১৯ সালে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিদায় নেওয়ার পর থেকে ওমর আবদুল্লা ভালোই ভুগছেন। 
বিশদ

অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাধীনতাও বিপন্ন
পি চিদম্বরম 

ভারতীয় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কি না তা একটা বিতর্কের বিষয়। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধির যে এস্টিমেট ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস (এনএসও) দিয়েছে, সরকার সেটাকে ‘সেলিব্রেট করছে’। 
বিশদ

08th  March, 2021
বাইশে উত্তরপ্রদেশে কুড়ি
দফায় ভোট হবে তো!
হিমাংশু সিংহ 

প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে শুরু করেছে। খেলেঙ্গে, লড়েঙ্গে, জিতেঙ্গে আবেগে ভাসছে নন্দীগ্রাম। সব পক্ষই বলছে, খেলা হবে। বাংলা ও বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ঙ্কর নির্ণায়ক খেলা। বহিরাগত শক্তি বনাম হাসিমুখে ঘরের মেয়ের লড়াই। তবে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়েই খেলতে হবে। তাকে আক্রান্ত করে, জখম করে নয়। 
বিশদ

07th  March, 2021
যেখানে ‘ডবল ইঞ্জিন’
সেখানেই হেরেছে বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির নেতাদের মুখে ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর প্রশংসার ফুলঝুরি ফুটছে। তাঁরা বোঝাতে চাইছেন, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে প্রচুর উন্নতি হবে। কলকারখানা হবে। চাকরি হবে। মাস্টারমশাই, সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়বে। 
বিশদ

06th  March, 2021
বিদায় শ্রেণিসংগ্রাম, স্বাগত টুম্পা
সমৃদ্ধ দত্ত

আত্মীয় অথবা পরিবারের মধ্যে কিছু কিছু বিশেষ ব্যক্তিকে দেখা যায়, যাঁরা কোনও একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর সেটি যে শ্রেষ্ঠ, সেকথা উচ্চৈঃস্বরে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। অন্যদের মতামত অথবা মৃদু বিরোধিতাকে পাত্তা দেন না তাঁরা। কিন্তু পরে যখন প্রমাণ হয় যে, ওই সিদ্ধান্ত শুধু যে ভুল ছিল তা‌ই নয়, গোটা পরিবারের পক্ষেও ক্ষতিকর হয়ে গিয়েছে, তখনই বিড়ম্বনার সৃষ্টি। 
বিশদ

05th  March, 2021
নদীবাঁধ রক্ষাই সুন্দরবনের অস্তিত্বের প্রধান শর্ত
কান্তি গাঙ্গুলী

প্রাচীন ইতিহাসে টলেমি ও মেগাস্থিনিসের বিবরণে গঙ্গারিডি বলে যে ভূখণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়, আজকের সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন নিম্নগাঙ্গেয় উপত্যকা সম্ভবত সেই ভূখণ্ডই। কলকাতার এন্টালি অঞ্চলটির নামকরণের পিছনে হেঁতাল গাছের প্রভূত উপস্থিতির কারণও হয়তো বিদ্যমান।  
বিশদ

04th  March, 2021
গোল্লায় যাবে শিল্প-সংস্কৃতি
ব্রাত্য বসু 

বাংলা ও তার সংস্কৃতি বাঁচাতে গেলে বহিরাগত এই বিজেপি রাজনীতিকে ঠেকাতেই হবে। বিজেপি কখনও বাংলায় এসে রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান বদলে দিচ্ছে, কখনও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে তছনছ করছে, কখনও চৈতন্যদেবের মৃত্যুর অন্তত দুশো বছর পরে তাঁকে কাটোয়ায় জীবিত করে তুলছে, কখনও আবার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষণে ঔপন্যাসিক না লিখে বলছে ‘উপনিবেশিক’। 
বিশদ

04th  March, 2021
মোদির সব প্রতিশ্রুতি যেন গল্পদাদুর আসর
সন্দীপন বিশ্বাস 

হঠাৎই জহর রায়ের একটি কৌতুক নকশা মনে পড়ল। এক ভদ্রলোক একটি ঘর ভাড়া নিতে গিয়েছেন। ঘর দেখে পছন্দও হয়েছে। দু’টি ঘর, রান্নাঘর, সঙ্গে আলাদা বাথরুম। কিন্তু ভাড়া শুনে ভদ্রলোকের মাথার চুল খাড়া হয়ে গেল। ভাড়া ৫০০ টাকা।  
বিশদ

03rd  March, 2021
৮ দফার পর নিশ্চয়ই রিগিংয়ের
অভিযোগ উঠবে না!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

সেশন সাহেব, বড্ড মিস করছি আপনাকে। আপনি বলতেন, ‘গণতন্ত্র হল এমন একটা ব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে বলবৎ থাকবে।’ সব মানুষের জন্য। সব রাজনৈতিক দলের জন্য। আপনি প্রমাণ করেছেন, এটা ছেলে ভুলানো গল্প নয়।  
বিশদ

02nd  March, 2021
আদালতগুলি স্বাধীনতার ঘণ্টাধ্বনি দিচ্ছে
পি চিদম্বরম

ঠিক যখন আমরা আশা ছেড়ে দিচ্ছি, তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ব্যক্তি স্বাধীনতার বর্মটা হারিয়ে যায়নি। আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত স্বাক্ষর হয়েছিল ১৭৭৬-এর ৪ জুলাই। 
বিশদ

01st  March, 2021
কে প্রধান শত্রু, আজ ব্রিগেডে
পরিষ্কার করুক সিপিএম 
হিমাংশু সিংহ

প্রয়াত সলিল চৌধুরী আজ বেঁচে থাকলে ‘টুম্পা সোনা’ শুনে কী বলতেন জানি না। তবে তাঁর ‘ও আলোর পথযাত্রী’ কিংবা ‘ঢেউ উঠছে কারা টুটছে’ যে এত তাড়াতাড়ি ব্রাত্য হয়ে যাবে কে ভেবেছিল! অভাবে স্বভাব নষ্ট আর দুর্দিনে চরিত্র। তাই আর ঘোমটার তলায় খ্যামটা নাচ নয়। 
বিশদ

28th  February, 2021
মমতাকে ঠেকাতে শেষে ‘রামধনু’ জোট
তন্ময় মল্লিক

‘এই বাংলা যতটা আব্বাস সিদ্দিকির ততটাই দিলীপ ঘোষের। দক্ষিণ ভারত থেকে এসেছেন ওয়াইসি, তাঁরও ততটাই অধিকার।’এখানে শেষ হলে মনে হতো, এটি কোনও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের বক্তব্য। উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে এর পরের কথায়, ‘ওয়াইসি এসে এখানে মিম তৈরি করলে দিদিমণির টেনশন হচ্ছে কেন? 
বিশদ

27th  February, 2021
একনজরে
ভোটের আগেই বাংলায় জাল টাকা ছড়ানোর আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিশ পেল পুলিস। কুলটি থানা এলাকা থেকে ৭৮ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস ...

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দিল্লি সীমানার সিঙ্ঘু, তিক্রি এবং গাজিপুরে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেন মহিলা কষকরা। শুধু প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়াই নয়, আন্দোলনের সমর্থনে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন মহিলারা।   ...

শীপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন কমলাকান্ত হাঁসদা। সোমবার এই ঘোষণা করেছে বিজেপি। কাশীপুর কেন্দ্রে ভোট রয়েছে প্রথম দফাতেই। শনিবার রাজ্যের প্রথম দুই দফার ভোটের ৫৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি।  ...

কেন্দ্রের পেট্রল-ডিজেল-রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হয়েছে গোটা বাংলা। সেই পথেই সোমবার গাড়ি ছেড়ে সাইকেলে অভিনব প্রচার শুরু করলেন ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সফলতা আসবে। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে মানসিক অস্থিরতা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৫৪: আমেরিগেডস পুচির (তাঁর নামানুসারে আমেরিকার নাম করন হয়) জন্ম
১৮৫৮: দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফারি রেঙ্গুনে নির্বাসিত
১৯৩৪: মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিনের জন্ম
১৯৫১: তবলাবাদক জাকির হুসেনের জন্ম
১৯৫৯: নিউ ইয়র্কে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল টয় ফেয়ারে আত্মপ্রকাশ করল বার্বি ডল
১৯৬১: মহাকাশ যান স্ফুটনিক ৯-এর সফল উৎক্ষেপণ
২০১২: বলিউড অভিনেতা ও পরিচালক জয় মুখার্জির মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৩৯ টাকা ৭৪.১০ টাকা
পাউন্ড ৯৯.৪৩ টাকা ১০২.৯২ টাকা
ইউরো ৮৫.৬০ টাকা ৮৮.৭৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৫, ১৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪২, ৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৩, ৫০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ ফাল্গুন, ১৪২৭, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১। একাদশী ২২/৪৯ দিবা ৩/৩। উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র ৩৬/৫৬ রাত্রি ৮/৪১। সূর্যোদয় ৫/৫৫/১, সূর্যাস্ত ৫/৩৯/৪৩। অমৃতযোগ দিবা ৮/১৫ গতে ১০/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৭ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/১৯ গতে ৪/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/২৯ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৫ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৪৮ গতে ৩/২৫ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৩ গতে ৮/৫১ মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৪৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১০ গতে ৮/৪৩ মধ্যে।  
২৪ ফাল্গুন ১৪২৭, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১। একাদশী অপরাহ্ন ৪/১৫। উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র রাত্রি ৯/৫৪। সূর্যোদয় ৫/৫৭, সূর্যাস্ত ৫/৩৯। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩ গতে ১০/২৮ মধ্যে ও ১২/৫৪ গতে ২/৩১ মধ্যে ও ৩/১৯ গতে ৪/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩২ মধ্যে ও ৮/৫৫ গতে ১১/১৭ মধ্যে ও ১/৪০ গতে ৩/১৫ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৫ গতে ৮/৫৩ মধ্যে ও ১/১৬ গতে ২/৪৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৪ মধ্যে।  
২৪ রজব। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএসএল : টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে ফাইনালে মুম্বই সিটি এফসি
 

08-03-2021 - 10:36:07 PM

আইএসএলের দ্বিতীয় পর্বের সেমিফাইনাল গড়াল অতিরিক্ত সময়ে
 

08-03-2021 - 09:38:35 PM

ফের কলকাতা মেট্রোতে চালু হচ্ছে টোকেন ব্যবস্থা
ফের আগামী ১৫ মার্চ থেকে কলকাতা মেট্রোতে চালু হচ্ছে টোকেন ...বিশদ

08-03-2021 - 09:05:49 PM

আইএসএল: মুম্বই সিটি ০ – গোয়া ০ (হাফটাইম) 

08-03-2021 - 08:26:33 PM

কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কমলাকান্ত হাঁসদা  

08-03-2021 - 07:57:48 PM

স্ট্যান্ড রোড সংলগ্ন বহুতলে আগুন
স্ট্যান্ড রোডে রেলের একটি ভবনে আগুন। জানা গিয়েছে, ওই বহুতলটির ...বিশদ

08-03-2021 - 06:58:00 PM