Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একুশের নির্বাচন ও জোড়া কালিদাস
ব্রাত্য বসু

এই বঙ্গে ২০২১-এর আসন্ন নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ তত চড়ছে। রাজ্য বিজেপির ধরন-ধারণ দেখে মনে হচ্ছে, কোভিড বা অর্থনীতির সঙ্কট নিয়ে তাদের কিছু যায় আসে না। মানুষ বাঁচল না মরল, তা নিয়েও তাদের লবডঙ্কা। তাদের পাখির চোখ একটাই, তা হল যেনতেন প্রকারে রাজ্যে ২১-এর নির্বাচন। দরকারে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করা, সিবিআই, ইডি ইত্যাদি এজেন্সিকে দিয়ে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে দেওয়া, মৌখিক ‘ভায়োলেন্স’ এমনকী দরকারে চরম উচ্ছৃঙ্খল নৈরাজ্য তৈরি করে সরকারকে বিপাকে ফেলা। বিজেপির বহুখ্যাত আইটি সেল দিয়ে ‘ভার্চুয়াল’ দুনিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সম্পর্কে মিথ্যা ও কুৎসার বেসাতি করা, সাম্প্রদায়িক ‘পোলারাইজেশন’ তৈরি করে গোটা রাজ্যজুড়ে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করা। আরএসএস ও বিজেপির বহিরাগত নেতাদের এনে দরকারে রাজ্য-বিজেপির ভূমিপুত্রদের মাথায় বসিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা ও তৃণমূলের থেকে নেতা-কর্মী ভাঙিয়ে আপাতভাবে সম্মান দিয়ে, ব্যবহার করে, পরে ছিবড়ে করে ছুঁড়ে ফেলা। এই ‘মিশন’ নিয়েই কেন্দ্রীয় বিজেপি বা আরএসএস পশ্চিমবঙ্গে আপাতত জোর কদমে এগচ্ছে। প্রধানত অন্য রাজ্য থেকে আগত এই পরিযায়ী দলটি এইভাবেই তাদের ঘুঁটি সাজাচ্ছে, গঙ্গার এপারে দেশের সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমুখী এই রাজ্যটিকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তাকে অশান্ত না করে তোলা পর্যন্ত এই হানাদার ও খাকি-র দলের মাথার ভেতরে জ্বলতে থাকা ধিকিধিকি চুলোর কয়লার আঁচ হয়তো শান্তি পাবে না।
তৃণমূল কংগ্রেস তথা বাংলার নিজস্ব দলটিও অবাঙালি রাজনৈতিক এই জঙ্গি হানাদারি রুখতে মরিয়া। তাদের সবথেকে বড় সুবিধে এই যে, তারা এই জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা বাংলার নিজস্ব দল। তাদের রাজনৈতিক কর্মীদের কৈফিয়ত দাখিল করতে হয় এই বাংলায়, তার রাজধানী কলকাতা শহরের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। নাগপুরের ‘হেডগেওয়ার ভবন’, বা দিল্লির ‘আকবর রোড’, বা ‘গোপালন ভবন’ বা ‘দীনদয়াল মার্গ’-এ নয়। বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে সুদে-আসলে এই বাংলাতেই চুকোতে হয়। আর যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস দলটির জন্ম গণ-আন্দোলনের জঠর থেকে, যেহেতু তাদের অগ্নিকন্যা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় কুড়ি-পঁচিশ বছর নাগাড়ে আন্দোলন করে এরাজ্য থেকে সিপিএমের কায়েমি মৌরসিপাট্টার পাততাড়ি গুটিয়ে দিয়ে এক স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় গণনেত্রী মসিহা হয়ে উঠেছেন, ফলে বিজেপির মতো স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে কোনও গণস্বার্থবাহী আন্দোলন না করা সাম্প্রতিক রাজ্য নেতাদের সঙ্গে তাঁর এক মনোভঙ্গিগত সংঘর্ষ হতে বাধ্য। কেননা তাদের সব পদ-ই প্রায় ‘নমিনেটেড’ তথা ‘মনোনীত’, রাজনৈতিক স্বতঃস্ফূর্ততার বিকাশ ও স্বাভাবিকতা যেহেতু তাদের বাড়বৃদ্ধিতে নেই, ফলে আন্দোলন করে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে সরকার প্রতিষ্ঠা করা তৃণমূল দল ও তার নেত্রী তাদের দু’চক্ষের বিষ, শ্রেণীস্বার্থ-বিরোধী। সেইসঙ্গে যেহেতু বিজেপি যে-কোনও আঞ্চলিক ‘আইডেনটিটি’কে খতম করে, ‘এক দেশ-এক ধর্ম-এক ভাষা’ নামক অলীক তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাই ‘বাংলা বলা’ বা ‘বাঙালি’ বা ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ বিষয়গুলিই তাদের কাছে প্রায় আস্তাকুঁড়। একইসঙ্গে সেইজন্য তারা আঞ্চলিক দলগুলিরও বিনাশ চায়, চায় মাত্র দু’টি দল ভারতবর্ষে থাকুক, অবিকল মার্কিনি ধাঁচ ‘ডেমোক্র্যাট’ আর ‘রিপাবলিকান’-এর মতো। বহুদলীয় গণতন্ত্র চৌপাট করে যাতে ভবিষ্যতে ‘রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রিক’ শাসন ব্যবস্থা দেশে চালু করা যায়।
আঞ্চলিক দলের এইখানে যেমন সুবিধা, তেমনি অসুবিধাও আছে। যেহেতু তারা প্রধানত একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ, সেইজন্য রাজ্যের অন্যান্য দলগুলি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বোঝে না। কেন্দ্রে আসীন একটিমাত্র জাতীয় দল যখন সর্বনেশে ফ্যাসিস্ত হয়ে ওঠে, তখন অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য দলগুলির উচিত সেখানে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলটিকে অন্তত তলায় তলায় সমর্থন জোগানো। সেখানে তারা ‘ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে’-র প্রাচীন প্রবাদে শামিল হয়ে 
শক্তিশালী আঞ্চলিক দলটির পেছনেই আদা-জল খেয়ে লেগে পড়ে। তাদের আশা থাকে, এই পদ্ধতিতে অন্তত তারা একদিন উক্ত অঙ্গরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারবে। ফ্যাসিস্ত শক্তির কাছে যে বিরোধীমাত্রেই বিষবৎ, তারা যে আদতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, গোবরপরিকীর্ণ আহ্লাদীর দল তা বোঝে না।
পশ্চিমবঙ্গের কথাই ধরা যেতে পারে। বিজেপি যেখানে রাষ্ট্রগতভাবে অপর জাতীয় দল কংগ্রেস এবং আদর্শগতভাবে সিপিএম তথা কমিউনিস্ট বিরোধী, সেটা বুঝেও রাজ্য কংগ্রেস আর সিপিএম এমন হাবভাব দেখাচ্ছে যেন ‘যার শিল যার নোড়া, তারই ভাঙি দাঁতের গোড়া’। ২০১১ থেকে যেখানে এই দুই দলের ভোট প্রাপ্তি শতাংশের হিসেবে আস্তে আস্তে দশকেরও নীচে নেমে এসেছে, সেখানে কুঁজো এখনও চাইছে চিৎ হয়ে শুতে। কংগ্রেস মুখে যাই বলুক, তাদের ভেতরের কথা হল, রাজ্য কংগ্রেসের তাবড় নেতারা যেখানে বরাবর দিল্লির কাছে হাতজোড় করে থেকেছেন, বা বিদ্রোহ করে দল ভেঙে বেরলেও, কিছুদিন বাদে সুড়সুড় করে আবার কংগ্রেসে ফিরে ‘পুনর্মূষিকো ভব’-তে পরিণত হয়েছেন সেখানে কংগ্রেস দলের আধার থেকে বেরনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করে স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও নিজস্ব দল গড়ে সফল হতে পারেন? আর যদি সফল হনই বা, তার সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেস হাত মেলালে তো, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের জ্বালা তাতে চড়চড় করে বাড়ে। ফলে অবিকল কালিদাসের মতোই গাছে বসে নিজেরই ডাল কেটে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কংগ্রেস। কালিদাসকে যে বিজেপির ক্রীতদাস বানানোর পথে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা তারা বুঝেও বুঝছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বা শচীন পাইলটের মতো রাজনৈতিক আচরণ অন্তত কস্মিনকালেও কংগ্রেসের সঙ্গে করেননি, তা মুর্শিদাবাদি জগৎশেঠদের মাথায় ঢুকেও ঢুকছে না।
পশ্চিমবঙ্গের সিপিএমের রাজনৈতিক মত ও চিন্তার দৈন্য আরও করুণ। তারাও মুখে তৃণমূলের নামে যা খুশি যাই বলুক, তাদের ভেতরের আদত রাগ হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এত বছরের ‘করে খাওয়া’ যাকে বলে বন্ধ করে দিয়েছেন। সিপিএমের তাবৎ বাঘা নেতারা, যাঁরা সংসদীয় গণতন্ত্রে পার্টির মুখ হন বা লড়েন, তাঁদের সবাই, গত ২০০৯ থেকে রাজ্যে এখন পর্যন্ত যে চারটি প্রধান লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, তাদের সবাই কোনও না কোনও নির্বাচনে গো-হারা হেরেছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে গৌতম দেব, সুজন চক্রবর্তী থেকে বিকাশ ভট্টাচার্য, এনারা কেউই এই তালিকার বাইরে নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রে যে হারজিত থাকতেই পারে, এই স্বাভাবিক তথ্যটি তাঁদের চৌত্রিশ বছরের মৌরসিপাট্টার দাম্ভিক হাড়ে এখনও  জ্বলুনি জারি রেখেছে। ফলে পাশের রাজ্য ত্রিপুরার উদাহরণ হাতে থাকা সত্ত্বেও, তাদের অধিকাংশ কর্মী মনে মনে রাম-বাম জোট চান; নেতারাও রাজ্যে বিজেপির থেকে অনেক বেশি তৃণমূলের প্রতি চোখা বাপান্তকর শব্দরাজি ছুঁড়তে ব্যস্ত। অন্তত তিনটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ত্রিপুরায়, বামপন্থীদের প্রতি বিজেপির ভয়ঙ্কর অত্যাচার বিশদে বেরিয়েছে। সেখানে তাদের অজস্র পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, পার্টিকর্মীদের বাড়ি বাড়ি ঢুকে মারধর, হত্যা, ধর্ষণ, বিনা বিচারে জেলে ভরে দেওয়া ব্যাপকহারে চলছে। ক্ষমতায় এলে বাংলাতেও যে ওরা একই কাজ করবে তা নিঃসন্দেহ। কারণ বামেদের ওরা মতাদর্শগত শত্রু বলে মনে করে। এ রাজ্যের কমিউনিস্টদের অহঙ্কারী এবং মাৎসর্যপীড়িত মগজে সেটা ঢুকছে না। এর জন্য অন্যতম দায়ী নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, ‘বদলা নয়, বদল চাই’ মার্কা রাবীন্দ্রিক স্লোগান, টেলিভিশনে বসে চিল চিৎকার করা বা নেত্রীকে ইচ্ছেমতো গালমন্দ করা বামপন্থী মাথায় যে এখন ঢুকছে না, তার কারণ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের শত-সহস্র অত্যাচারের পরেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানত শান্তি ও উন্নয়নের বার্তাই বারবার দিতে চেয়েছেন। বলাই বাহুল্য, ক্ষমতায় এলে বিজেপি রবীন্দ্রসঙ্গীত না শুনিয়ে প্রথমেই এরাজ্যে ‘ত্রিপুরা মডেল’ই প্রয়োগ করবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই আত্মঘাতী কংগ্রেস এবং হারাকিরি করা সিপিএমের মাঝখানে সঠিক কথাটি বলেছেন সম্প্রতি বিহার রাজ্য নির্বাচন কংগ্রেস ও সিপিএমের সঙ্গে জোট করে ১৯টি আসনে লড়ে ১২টি আসনে জেতা (যেখানে কংগ্রেস ৭০টি আসনে লড়ে পেয়েছে ২০টি আসন, সিপিএমের আসনসংখ্যা লজ্জাবশত আর উল্লেখ করছি না) তথা ভালো ফল করা সিপিআইএমএল লিবারেশন সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সিপিএমের বিরুদ্ধে মূল যে কথাটা বলেছেন, তা হল, ‘একটা গোটা রচনা তৃণমূল বিরোধিতা করে, ফুটনোটে সামান্য কিছু বিজেপি বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গে চলতে পারে না। এরাজ্যে বামেদের মূল নিশানা হওয়া উচিত বিজেপিকে হারানো।’ দীপঙ্করবাবু মোদ্দা যে কথাটা বলেছেন তা হল, সিপিএম যে বলছে, তৃণমূল ও বিজেপি দু’জনেই প্রধান শত্রু, তা তত্ত্বগতভাবেই ভুল একটি মতাদর্শ। এ অনেকটা বুনোহাঁসের পেছনে ধাওয়া করা বা ভাবের ঘরে চুরি করা। একটি নির্ণায়ক ভোটে  কখনও দু’জন সমপরিমাণ শত্রু থাকতে পারে না। তাঁর মতে, এরাজ্যে বামেদের মূল শত্রু হিসেবে বিজেপিকেই চিহ্নিত করা এবং মূল বামভোট নিজের দিকেই ‘কনসোলিডেট’ করা। দীপঙ্করবাবুর কথায় এরাজ্যে সিপিএম যে বলছে, তৃণমূল-বিজেপি ‘প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা’য় মদত দিচ্ছে, এর ভেতরের অর্থ হল, তারা বলতে চাইছে বিজেপি হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে, তৃণমূল সেখানে মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে। সমস্যা হল, বামেদের এই একই কথা বিজেপিও বলছে। ফলে বামেরাও যদি একই কথা বলে, তাহলে এরাজ্যে বিজেপির জমিই আরও শক্ত হবে। সেক্ষেত্রে বাম আর রামের মূল লাইনের কোনও ফারাক থাকবে না। তার চেয়ে বরং বামপন্থীরা নির্বাচনের মূল ইস্যু করুক দেশের বেহাল অর্থনীতি, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যর মতো বিষয়কে। তাতে সাম্প্রদায়িকতা থেকে মানুষের ফোকাস সরিয়ে আনা যাবে। লিবারেশন মনে করে, বিহার নির্বাচনে তাদের সাফল্যের মূল কারণ হল, ধর্মকে পেছনে রেখে এই ইস্যুগুলিকে সামনে আনা।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য একথাও বলছেন যে, তৃণমূল সরকারে আছে। এটা সত্যি। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, তৃণমূল একচেটিয়া বৃহৎ পুঁজির দল নয়। বরং আঞ্চলিক ছোট পুঁজির দল, যে পুঁজির সঙ্গে বৃহৎ একচেটিয়া পুঁজির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এবং, ঠিক একারণেই তৃণমূল একটি প্রতিষ্ঠান-বিরোধী দল। রাজ্যে সরকারে থেকেও তারা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এরাজ্যে বামেদের কিছুতেই বিজেপি ও তৃণমূলকে এক দাঁড়িপাল্লায় মাপা উচিত নয়।
লিবারেশন যদিও তৃণমূলের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী সমঝোতার কথা বলেননি। শুধু তাঁরা মনে করেছেন, এই নির্ণায়ক গুরুত্বপূর্ণ ভোটে বাম-তৃণমূল নির্বাচনী সমঝোতা হলে, সেটা কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা হবে না। এরাজ্যে সিপিএমের যুক্তি হল, সরকারে তথা ক্ষমতায় আছে তৃণমূল, ফলে তাদের সঙ্গে কোনও জোট হতে পারে না। কিন্তু তাদের একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, অতীতে সরকারে তথা ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে, অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি, ওড়িশার বিজেডি এবং বিহারে আরজেডির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়েছে উক্ত রাজ্যের বিরোধী দল সিপিএম। তাহলে তৃণমূলকে অচ্ছুৎ ভাবার কারণ কী? সাধারণ মানুষের নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে এলিটের ঘৃণা, নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিকতার বিদ্বেষ নাকি ওই চৌত্রিশ বছরের মৌরসিপাট্টা হারানোর দগদগে জ্বালা? কোনটা?
এখন দেখার, এই জ্বালা বা বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে এ রাজ্যে সিপিএম বা কংগ্রেস আবার কোনও ঐতিহাসিক ভুল করে, নাকি দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মতো সহজ বাস্তবতার স্বাভাবিক সত্যপথটিকে তারা অনুসরণ করে। রাজ্যের সুস্থবুদ্ধি সম্পন্ন অধিকাংশ মানুষও সেই উত্তরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
লেখক রাজ্যের মন্ত্রী। মতামত ব্যক্তিগত
03rd  December, 2020
ভোটকে কলুষিত করলে
উচিত শিক্ষা দিতে হবে
হিমাংশু সিংহ

তৃণমূল ভাঙতে দশ মণ তেল পুড়িয়ে বিজেপি এখন বুঝতে পারছে শুধু অবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে বাংলা দখল প্রায় অসম্ভব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্বল করা যাচ্ছে না। বিশদ

ভোটের আগে ‘গাজর’ ঝোলানো
বিজেপির ট্র্যাডিশন
তন্ময় মল্লিক

ভোটের মুখে ‘গাজর’ ঝোলানোটা বিজেপির ট্র্যাডিশন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের জমা ‘বেআইনি অর্থ’ ফিরিয়ে এনে প্রত্যেককে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি। ‘গাজর’ ঝোলানোর সেই শুরু। এবার সোনার বাংলা ও কৃষি সম্মান নিধির ‘গাজর’। বিশদ

16th  January, 2021
ক’দিনের জন্য বাঙালি হওয়া যায় না
মৃণালকান্তি দাস

মাস কয়েকের জন্য রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন, শ্রীচৈতন্য... বাংলার মনীষীরাই হয়ে উঠছেন গেরুয়া বাহিনীর প্রচারের অনুঘটক। এটা স্পষ্ট, ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচাতে বিজেপিকে নিরুপায় হয়েই বাংলার মনীষীদের আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। বাংলার মনীষীরা কোন দলে, ভোট-হাওয়ায় সেই ধন্দ উস্কে দিতে চাইছে বিজেপি। বিশদ

15th  January, 2021
বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা দেশের
জন্যও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ
জিষ্ণু বসু

বাঙালি ভারতের নবজাগরণের কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেছে। জীবন্ত জাগ্রত ভারতাত্মার পূজাবেদি ছিল বাংলা। ১৮৮২ সালে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র লিখলেন আনন্দমঠ উপন্যাস। বাঁধা হল ‘বন্দেমাতরম’ গান। দেশমাতৃকাকে দশপ্রহরণধারিণী দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করলেন সাহিত্যসম্রাট। বিশদ

14th  January, 2021
এই রাজ্যে মেয়েদের
ভোট ভাগ করা যাবে না
সন্দীপন বিশ্বাস

বিজেপি জানে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করতে না পারলে তাদের সিএএ-এনআরসি সব ব্যর্থ হয়ে যাবে। সারা দেশে একজন ব্যক্তিত্বই তাঁদের সব ভুলভাল কাজকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লড়াই জারি রাখতে পারেন। তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কাছে মমতা নামটাই জুজুর মতো। বিশদ

13th  January, 2021
বিজেপির প্রচারে স্বামীজি
আছেন, কিন্তু অনুসরণে...?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

স্বামীজি বলতেন, ‘এমন ধর্ম চাই, যার মূল মন্ত্র হবে মানবপ্রেম। এমন ধর্ম চাই, যা মানুষকে, বিশেষ করে অবহেলিত, পদদলিত মানুষকে প্রত্যক্ষ মানুষ বলে প্রচার করবে। খালি পেটে ধর্ম হয় না। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে ধর্ম বা ঈশ্বর অর্থহীন।’ নাঃ... যে পরিব্রাজক এমন কথা বলতে পারেন, তাঁকে বিজেপি অন্তত অনুসরণ করে না। বিশদ

12th  January, 2021
বিবেকানন্দের স্বপ্নের
বাংলা আবার গঠিত হবে
জগৎপ্রকাশ নাড্ডা

এক নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামীজি, যেখানে দারিদ্র্যের মোচন এবং চেতনার উন্মেষ ঘটবে। এই কাজে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ যুবশক্তি। বিশদ

12th  January, 2021
মহামারী, ভ্যাকসিন
এবং বিতর্ক
পি চিদম্বরম

মহামারী বিদায় নিচ্ছে বলে মনে হয়, তবে এখনও বিদায় হয়নি। ভ্যাকসিন আসছে বলে মনে হয়, তবে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছয়নি। কিন্তু একটা জিনিস বরাবর একজায়গায় রয়ে গিয়েছে, সেটা হল বিতর্ক! বিশদ

11th  January, 2021
আদি বনাম নব্য, বিজেপিতে
নরকগুলজার সপ্তমে
হিমাংশু সিংহ

শেষে হাটে হাঁড়িটা ভাঙলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই। দলে স্বার্থপর দলবদলুদের দাপাদাপি দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না। বলেই বসলেন, একদিন যাঁরা নন্দীগ্রামে বিজেপিকে ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন, তাঁরাই আজ নতমস্তকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। আলিঙ্গন করছেন। একেবারে হক কথা। বিশদ

10th  January, 2021
রাজনীতিবিদদের ‘সৌজন্যে’ই
করোনার নয়া স্ট্রেইনে পঙ্গু ব্রিটেন
রূপাঞ্জনা দত্ত

বি.১.১.৭। কোভিডের নয়া অবতার বা বিলিতি স্ট্রেইনের পোশাকি নাম এটাই। চীনের উহান থেকে সার্স-কোভ-২ ছড়িয়ে পড়ার পর যতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বিশ্বজুড়ে, সেই দিনগুলিই ফিরিয়ে এনেছে ভাইরাসের এই নয়া রূপ। ‘ভাইরাস আন্ডার ইনভেস্টিগেশন’ থেকে ‘ভাইরাস অব কনসার্ন’ হতে এর খুব বেশিদিন সময় লাগেনি। বিশদ

10th  January, 2021
প্রচারকে নিয়েও রাজনীতি
করা যায়, দেখাচ্ছে বিজেপি

তন্ময় মল্লিক

তৃণমূলের ‘অতৃপ্ত আত্মা’রা চলে যাওয়ায় দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও কমে গিয়েছে। দলের কর্মীরা যে মমতার সঙ্গে আছে, সেটা প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠছে। ভিড়ের প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে না পেরে বিজেপির অস্ত্র ‘হুইসপারিং ক্যাম্পেন’। বিশদ

09th  January, 2021
বিরোধী দলগুলির
স্থায়ী ক্ষতি হল
সমৃদ্ধ দত্ত

যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি সরব ছিল, তাঁদেরই বিজেপি এখন উচ্চপদে বরণ করছে। এর ফলে বিজেপির শক্তি ও প্রভাব হয়তো বাড়ছে বলে তারা মনে করছে। কিন্তু বড়সড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে ভাবমূর্তির। বিশদ

08th  January, 2021
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ এবং সংবাদদাতা: গৌড়বঙ্গের তিন জেলায় শনিবার উৎসবের মেজাজে করোনার টিকাকরণ কর্মসূচি হল। এদিন মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে টিকাকরণকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।   ...

হুগলির মগরা থানা এলাকার ভাঙাঘাটের বাসিন্দা এক স্কুলছাত্রী আত্মঘাতী হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম সানিয়া সাউ। ...

বিচ্ছিন্নতাবাদী খলিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখ ফর জাস্টিস’-এর সঙ্গে যোগসাজশ নিয়ে বহু কৃষক নেতাকে সমন পাঠালো জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সম্প্রতি শিখ ফর জাস্টিসের নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নু বলেছেন, ‘মানুষের ক্ষোভ, হতাশাকে কাজে লাগিয়ে ভয় এবং নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ...

করোনা কালেও বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা হন্ডা সিটি রেকর্ড সংখ্যাক গাড়ি বিক্রি করেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংস্থা সংস্থার ‘মিড সাইজ সেডান’ বিভাগে এই সময়ে ২১ হাজার ৮২৬টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বাড়তি অর্থ পাবার যোগ আছে। পদোন্নতির পাশাপাশি কর্মস্থান পরিবর্তন হতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পক্ষে থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪১ - বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট রাখা হয়
১৯৪২: মার্কিন মুষ্টিযোদ্ধা মহম্মদ আলির জন্ম
১৯৪৫: গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের জন্ম
১৯৫৩ - সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার এবং চিত্রপরিচালক অঞ্জন দত্তের জন্ম
২০১০: কমিউনিস্ট নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মৃত্যু 
২০১১ - অভিনেত্রী গীতা দের মৃত্যু
২০১৪ - অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.২৯ টাকা ৭৪.০০ টাকা
পাউন্ড ৯৭.৬৬ টাকা ১০১.১২ টাকা
ইউরো ৮৬.৭৮ টাকা ৮৯.৯৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯,৬৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৭,১২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৫,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৫,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ মাঘ ১৪২৭, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, চতুর্থী ৪/২৫ দিবা ৮/৯। পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্র অহোরাত্র। সূর্যোদয় ৬/২৩/৫, সূর্যাস্ত ৫/১০/২৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৬ গতে  ৯/৫৮ মধ্যে, রাত্রি ৬/৫৫ গতে ৮/৪১ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৬ মধ্যে পুনঃ ১২/৫০ গতে ১/৩৪ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩ গতে ৬/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১২/১২ গতে ৩/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৫ গতে ১/৭ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৫ গতে ৩/৪ মধ্যে।
৩ মাঘ ১৪২৭, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, চতুর্থী দিবা ৯/২৪। শতভিষা নক্ষত্র দিবা ৭/৪৮। সূর্যোদয় ৬/২৬, সূর্যাস্ত ৫/১০। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ গতে ১০/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৮/৪৮ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ১২/৫৬ গতে ১/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১২ গতে ৭/৪ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ৩/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৭ মধ্যে। 
৩ জমাদিয়ল সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএমএ রাজ্যশাখার নির্বাচনে ফের জিতল তৃণমূলপন্থী প্যানেল

08:01:00 PM

করোনা পজেটিভ প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে পৌলমি

07:17:00 PM

সৌমিত্র খাঁ-কে তিরস্কার বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের
বিষ্ণুপুরের সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁ-কে তিরস্কার করল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ...বিশদ

06:40:08 PM

বামফ্রন্ট–কংগ্রেস আসনরফা অধরাই
শিয়রে বিধানসভা ভোট।  কিন্তু এখনও বাংলায় বাম-কংগ্রেসের আসন রফার জট ...বিশদ

06:14:36 PM

চড় মারার অভিযোগ মহেশ মঞ্জরেকরের বিরুদ্ধে
এ কী করলেন মহেশ মঞ্জরেকর! আজ, রবিবার চড় মারার অভিযোগ  ...বিশদ

05:57:13 PM

প্রয়াত পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশল্পী
প্রয়াত কিংবদন্তী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ গুলাম মুস্তফা খান।  বয়স হয়েছিল ...বিশদ

05:39:00 PM