Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ইতিহাস কি আবার
তালিবানের পক্ষে?
মৃণালকান্তি দাস

সর জমিন এ হিন্দুস্তান... আস সেলাম আলেকুম...
সেদিন কেঁপে উঠেছিল সিনেমা হল। ভরাট গলায় তখন স্ক্রিন জুড়ে নতমস্তকে ভারতকে অভিবাদন আফগানভূমি থেকে আসা এক পাঠানের। সীমান্ত ছাড়িয়ে সেই আবেগ ঝড় তুলেছিল আফগানিস্তানেও। বলিউডের মারকাটারি সিনেমা ‘খুদা গাওয়া’। আর দুরন্ত এক পাঠান—বাদশা খান।
নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ বচ্চন আফগান মেহমান! তখনও আফগানিস্তানে শাসনে বসেনি তালিবান। সোভিয়েত সেনা সেখান থেকে চলে গেলেও তার প্রভাব ছিল। সেই শক্তিতেই ক্ষমতায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লা। তিনি ভারতীয় হিন্দি ছবির গুণমুগ্ধ। পরিচালক মুকুল এস আনন্দ ‘খুদা গাওয়া’ ছবির প্লট আফগানিস্তানে করেছেন জানতে পেরেই নাজিবুল্লা সরকার সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। শ্যুটিং হয়েছিল বালখ প্রদেশের বিখ্যাত মাজার ই শরিফে। সেদিনের আফগান আপ্যায়নের কথা ভোলেননি অমিতাভ। ভোলেননি নাজিবুল্লা সরকারের দেওয়া রাজকীয় আতিথ্য ও নিরাপত্তার কথা। স্মৃতি জুড়ে থাকা পাঠান ভূমির কথা। যেখানে তিনি শুধু অভিনেতাই নন, একজন অকুতোভয় সর্দার। আফগানদের আপনজন। আসলে আফগানিস্তান মানেই ভারতের চির বন্ধু।
কিন্তু হঠাৎই বদলে গিয়েছিল সব! আফগানিস্তানে তখন প্রাক্‌-শীত মরশুম। বছরের এই সময় কাবুলের আবহাওয়া থাকে মনোরম। কয়েক মাস পরই বরফ পড়ার সময়। ঠিক এই সময়ই তালিবান দুনিয়া কাঁপিয়ে কাবুলে ঢুকে পড়েছিল। নাজিবুল্লার ‘পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান’, সংক্ষেপে পিডিপিএ-এর এন্তেকাল ঘনিয়ে এসেছিল, তাসের ঘরের মতো সেই শাসন ভেঙে পড়ল বলে! মূলত মার্কিন প্রচারমাধ্যমের নিরন্তর ঢক্কানিনাদের কারণেই এমন একটি ধারণা গোটা দুনিয়া জুড়েই বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। ছবিটা একেবারে পরিষ্কার। জালালাবাদে আফগান মুজাহিদিনরা জিতে যাবে। জিতলেই আফগান সেনার একটা বড় অংশ শিবির পাল্টে তাদের দিকে ভিড়বে। ব্যস, তার পরে কাবুলের পতন তো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়রের নেতৃত্বে গেরিলারা তখন জালালাবাদ দখলে তৎপর। তাদের প্রচ্ছন্ন মদতদাতা একদিকে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইসলামাবাদ। ঝাঁকে ঝাঁকে পশ্চিমি সাংবাদিক ততদিনে কাবুলে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়ে ফেলেছেন। মুখিয়ে আছেন আফগানিস্তানে সোভিয়েত -মদতপুষ্ট জমানার বিয়োগান্তক পরিণতিটির আঁখো-দেখা বিবরণী লেখার জন্য।
১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাজিবুল্লা ও তাঁর ভাই শাহপুর আহমেদজিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবনের পাশের ট্রাফিক পোস্টে। দু’দিন এভাবেই ঝুলে থাকলেন নাজিবুল্লা। তালিবান জঙ্গিদের বাধায় কাবুলে তাঁদের কবরও দেওয়া গেল না। নাজিবুল্লার জমানা যে ফুরোল, তার বড় কারণ মোটেই তালিবানবাহিনী নয়, বরং সোভিয়েতের স্বপ্নভঙ্গ, সোভিয়েতের টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া এবং বরিস ইয়েলৎসিনের উত্থান। এ সবের সম্মিলিত প্রভাবে কাবুল নৈরাজ্যে নিমজ্জিত হল। নাজিবুল্লার স্ত্রী ও কন্যা নয়াদিল্লি থেকে এসব সংবাদ শুনে গেলেন আটচল্লিশ ঘণ্টাজুড়ে। আফগানিস্তানের মাটিতে এভাবেই শুরু তালিবান শাসন।
নখ রাঙানোর জন্য নেলপলিশ লাগানোর অভিযোগে চাবুক খেতে হতো মেয়েদের। আফগানিস্তানে তখন তালিবানের রাজত্ব। বোরখা ছাড়া অন্য পোশাকে মেয়েরা রাস্তায় বেরলেও জুটত চাবুকের বাড়ি। পরকীয়ার অভিযোগ এনে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শুক্রবারের প্রার্থনার পরে খেলার স্টেডিয়ামের সামনে মুণ্ডচ্ছেদ করা হতো তাঁদের।
নাজিবুল্লার সঙ্গে ভারতের বরাবর বিশেষ হৃদ্যতা ছিল। পুরোনো মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন তত দিনে ভেঙে গিয়েছে। মুজাহিদিনদের আক্রমণে ১৯৯২ সালে পদত্যাগের পর স্ত্রী-কন্যাকে ভারত পাঠিয়ে নাজিবুল্লা নিজেও দিল্লি চলে আসবেন ভেবেছিলেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘও সেটা চাইছিল। একটা বিমানও পাঠায় ভারত। উজবেক নেতা আবদুর রশিদ দোস্তামের বাধায় শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এমনকী কাবুলের ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েও পাননি নাজিবুল্লা। হত্যার আগে তাঁকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থানীয় দপ্তর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নাজিবুল্লার নির্মম হত্যাযজ্ঞ তালিবানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক কাঁটা হয়ে রয়েছে। আজও। কিন্তু বিশ্ব তো সব সময় বিজয়ীদের সঙ্গেই থাকতে চায়। সম্প্রতি কাবুলে রাজনৈতিক সমীকরণ যতই তালিবানের পক্ষে যাচ্ছে, গোটা দুনিয়া ততই সেই ‘নৃশংস-মানবতার শত্রু’ বলে পরিচিত তালিবানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চাইছে।
১৯ বছর আগের সেপ্টেম্বরে এক যুদ্ধের শুরু। আর ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় একই প্রতিপক্ষরা বসেছিল যুদ্ধের বদলে শান্তির খোঁজে। ইতিহাসের নির্মম কৌতুক ছাড়া একে কী বলবেন? কোনও এক অনাগত ইতিহাস এ রকম যুদ্ধবাজ আর কপট শান্তিবাদীদের নিশ্চয়ই হাজার হাজার সাধারণ মানুষের খুনের দায় নিতে বলবে। তারপরও সাধারণ আফগানরা এখনই শান্তি চায়। কিন্তু তালিবান কী পারবে সেটা দিতে? বন্দুক হাতে পাহাড়ের ফাঁকফোকর থেকে বিদেশি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেয়েও কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আলোচনার টেবিলে ন্যাটো জেনারেলরা নেই এখন। এবার স্বদেশি ভিন্ন মতাবলম্বীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। যুক্তিতর্ক আর আশ্বাসে নিজ দেশের বিভিন্ন মহলকে আশ্বস্ত করতে পারলেই কাবুলে ক্ষমতার ভাগ পাবে তারা।
দোহা আলোচনায় তালিবানের মতোই জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছে আফগান সরকারের জন্যও। এই সরকারে আছে অনেক উপদল। তালিবানকে ছাড় দেওয়ার সীমা নিয়ে সরকারের ভিতরে রয়েছে অনেক মতভিন্নতা। এই দূরত্ব সামলাতে আমেরিকাকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর ভারত? আফগানিস্তানের পুরোনো ‘বৈধ সরকার’ হিসেবে তালিবানের দাবি ভারত এখনও মানে না। কিন্তু এরপরও ভারতের বিদেশমন্ত্রী ১২ সেপ্টেম্বর দোহায় তালিবান নেতাদের সঙ্গে আফগান সরকারের শান্তি বৈঠকের সময় অনলাইনে বক্তৃতা দেন। আফগানিস্তানে একটি হানাহানি-মুক্ত স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে ওঠার উপরে জোর দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বলেন, হিংসা মুছে ফেলার পাশাপাশি আফগানিস্তানে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র কায়েম এবং সংখ্যালঘু ও মহিলাদের সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা হবে— এমন শান্তিচুক্তির পক্ষে ভারত। তালিবান উপস্থিতি আছে, এমন কোনও আসরে ভারতীয় মন্ত্রীর প্রকাশ্যে মুখোমুখি এই প্রথম। তাহলে কি ঘৃণ্য তালিবানকেও মেনে নিতে হবে ভারতকে? তালিবান নেতাদের কি স্বীকৃতি দেবে ভারত? না কি দুর্ধর্ষ খুনে বাহিনী তালিবান রাতারাতি অস্ত্রশস্ত্র তুলে রেখে সভ্য হয়ে যাবে?
কে না জানে তালিবান জঙ্গিরা আদতে পাকিস্তানের সৃষ্টি। আফগান সীমান্তবর্তী নিজেদের ভূখণ্ডে তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে সংগঠিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। শান্তিচুক্তিতে ক্ষমতাবান হওয়ার পরে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য তালিবান অধ্যুষিত এলাকাগুলি পাকিস্তানি ও কাশ্মীরি জঙ্গিদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তালিবান নেতারা যুদ্ধের ময়দানে ১৯ বছর থাকার পর এখন নিশ্চিতভাবেই জানে, ন্যাটোর বাইরে কারা কারা আফগান সরকারকে সমর্থন-সাহায্য দিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে তালিবানবিরোধী নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রতি ভারতের সাহায্য ছিল বিপুল। আজকের আফগানিস্তানে ভারত দ্বিতীয় প্রধান ‘দাতা’। তালিবানমুক্ত সমৃদ্ধ আফগানিস্তান চায় ভারত । ন্যাটো সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমেরিকাও আর এই যুদ্ধের খরচ জুগিয়ে যেতে রাজি নয়। তাছাড়া তালিবানকে স্বীকৃতি দিতে আমেরিকার চাওয়াটা স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আফগান শান্তি আলোচনায় একধাপ এগনো দরকার। যা ট্রাম্পকে নির্বাচনী যুদ্ধের প্রচারে এগিয়ে রাখবে। ট্রাম্প দেখাতে চাইছেন, দেশকে ১৯ বছরের যুদ্ধ থেকে মুক্তি দিচ্ছেন তিনি। এর জন্য ওই অঞ্চলের সব খেলোয়াড়কে তারা ‘শান্তি প্রক্রিয়া’য় শামিল করতে চায়। ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকে বিশেষভাবে চায় তারা।
কিন্তু তাতে ভারতের কী লাভ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান রেষারেষির পরবর্তী অধ্যায় কাশ্মীর থেকে আফগানিস্তানের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। পাকিস্তান তো ইতিমধ্যে ভাবা শুরু করেছে, তালিবানের সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্ককে সম্বল করে ভবিষ্যতের আফগানিস্তানে তার প্রভাব হতে পারে একচ্ছত্র। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে। ভারত কি চাইবে তার মিত্র দেশ হাতছাড়া করতে? তালিবানও অতীতকে সামনে টেনে এনে হয়তো হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। বরং দর–কষাকষি করতে আগ্রহী হবে। যা আবার পাকিস্তানের সঙ্গে দর–কষাকষিতেও তাদের এগিয়ে রাখবে। কিন্তু ওয়াশিংটন পাকিস্তান-তালিবান জোটের হাতে আফগানিস্তানকে ছেড়ে দিয়ে আসতে চাইছে না। চীন-পাকিস্তান মৈত্রীর কাছে আফগানিস্তানকে ছেড়ে দেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। জানে ওয়াশিংটন। ভারতকে তারা দোহা সমঝোতায় যেকোনওভাবে যুক্ত করতে আগ্রহী। বলা বাহুল্য, পাকিস্তান ও চীনের তরফ থেকে বিরোধিতা থাকবে এতে। তালিবানের একাংশও ইসলামাবাদ ও বেজিংয়ের হয়ে ভারতের প্রতি বৈরিতা দেখাবে। কিন্তু ভারতের জন্য সুবিধার দিকও আছে। আফগান সরকার এখনও নয়াদিল্লির পাশে।
তবে তালিবান ও ভারতের পারস্পরিক স্বীকৃতির মুহূর্তটি অবশ্যই নাজিবুল্লার পরিবারের জন্য হবে চরম বেদনাময়। ১৯৯৬-এর সেপ্টেম্বর এবং ২০২০–এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের বিদেশনীতির মোটা দাগে এই মোড় পরিবর্তনে তারা এখন শোকার্ত দর্শকমাত্র। কিন্তু এটাই ভূরাজনীতির বাস্তবতা। বিশেষ করে যখন চীন-ভারত-পাকিস্তান-ইরানের মধ্যে আফগানিস্তান নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। ইতিহাস তো নির্মমভাবে শক্তির পূজারি! এই দুনিয়ায় নাজিবুল্লার স্ত্রী ফাতানা নজিব এবং তাঁর তিন কন্যার চোখের জলের কোনওই মূল্য নেই!
25th  September, 2020
কৈলাসে ফিরতে
মন চাইবে না মা
হারাধন চৌধুরী

আমাদের পাশে থেকো মা। তোমাকে কথা দিচ্ছি, আগামীবার এসে দেখবে—আমাদের এই পৃথিবীর সমস্ত অসুখ সেরে গেছে। আমাদের কারও মধ্যে ছোঁয়াছুঁয়ির ভয় নেই, কোনওরকম ছুঁৎমার্গ নেই। বিশদ

মূকরাই সরব হবেন যথাসময়ে
পি চিদম্বরম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পৃথিবী বিপুলভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে সেখানে দরিদ্র বা গরিব রয়ে যাওয়াটা এক দুর্ভাগ্য। একটা দরিদ্র দেশে দরিদ্র থাকাটা গণতন্ত্রের ব্যর্থতা। আর একটা গরিব দেশের গরিব রাজ্যে দরিদ্র থেকে গেলে তাকে রাজনীতির অভিশাপ মানতে হবে।  বিশদ

28th  October, 2020
বিহারের ভোটে অনেক পাখি মারার ছক মোদির
সন্দীপন বিশ্বাস

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে দেখেছিলাম, বিজেপি সেখানে কী পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল। সমস্তিপুর, বেগুসরাই, জামুই, ভাগলপুর, মুঙ্গের, খাগাড়িয়া, লক্ষ্মীসরাই ঘুরে দেখেছিলাম, পতাকা, ফেস্টুন, ফ্লেক্স দিয়ে বিজেপি শহর মুড়ে দিয়েছে। বিশদ

28th  October, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

23rd  October, 2020
বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
অনেক হারানোর পুজো
হিমাংশু সিংহ

পুজোর ছুটির একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকে। উৎসবের অনেক আগে থেকেই সেই গন্ধে ম ম করে বাংলার গাঁ গঞ্জ থেকে শহর সর্বত্র। সেই গন্ধের সঙ্গে আগমনি মিশে তৈরি হয় অদ্ভুত ঘোর লাগানো একটা অপেক্ষার। মা আসছেন। বাঙালির অনেক না পাওয়া ক্ষতবিক্ষত জীবনে এর চেয়ে পরম প্রাপ্তির আর কিছুই হতে পারে না। সেই অপেক্ষার সঙ্গেই মিশে যায় বিদেশে কাজ করা দত্ত বাড়ির ছেলে, দূরে বিয়ে হওয়া পাশের বাড়ির হেমন্তদার মেয়ের ঘরে ফেরার খুশি। 
বিশদ

18th  October, 2020
করোনা রোখার মন্ত্র ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ 
তন্ময় মল্লিক

করোনা মোকাবিলায় সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলার ও মাস্ককে জীবনসঙ্গী করার পরামর্শ হচ্ছে উপেক্ষিত। সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। সকলের নজর সেই দিকেই। তাতে সাহসী হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে বেপরোয়া ভাব। এগিয়ে আসছে বাংলার ভোট। প্রকট হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতা দখলের বাসনা। করোনার মধ্যেও ইস্যু পেলেই আন্দোলন। না থাকলে তৈরির চেষ্টা। অভিমুখ রাজ্যপাট। তাই কথায় কথায় মিছিল আর লড়াই।  
বিশদ

17th  October, 2020
অতিরিক্ত দিল্লি নির্ভরতাই বঙ্গ-বিজেপির সঙ্কট
সমৃদ্ধ দত্ত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মতো ঝোড়ো আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেননি আর কেউই। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু-স্রোত। এই সঙ্কটের মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। তাঁকে অভীধা দেওয়া হয় বাংলার রূপকার। কিন্তু ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, তিনি কৃষিকে অবহেলা করেছেন। তাঁর ১৪ বছরের শাসনকালে তিনি যতটা উন্নতিসাধন করেছিলেন শিল্পে, সেই তুলনায় কৃষির উন্নয়ন কম হয়েছে।  
বিশদ

16th  October, 2020
একনজরে
কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে দুই মুসলিম দেশের কাছে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার ইরানে কালা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইমরান খানের সরকার। এমনকী, সৌদি আরবের রিয়াধেও সেই ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভুয়ো ভাউচার ছাপিয়ে ময়নার শ্রীকণ্ঠা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠল সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। গত ১৭ অক্টোবর সমবায় সমিতির সম্পাদক সুবোধচন্দ্র মাইতি ম্যানেজার সোমনাথ দাসের বিরুদ্ধে ময়না থানায় এফআইআর করেছেন।   ...

বংশপরম্পরায় আজও মহানায়ক উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন কুমোরটুলির একটি নির্দিষ্ট শিল্পী পরিবার। পটুয়াপাড়ার ৪০/১, বনমালি সরকার স্ট্রিটে মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পালের ঘরে জোরকদমে ...

ট্যুইটারে লাদাখকে চীনের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এনিয়ে ভারতের যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রশ্নের মুখে ট্যুইটার ইন্ডিয়া। তাদের তরফে বিষয়টি নিয়ে এই মাইক্রোব্লগিং সাইট কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। যার উত্তরে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে ট্যুইটার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা ভারতের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব আছে। কর্মরতদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস
১৯৬৯: ইন্টারনেটের আগের স্তর আরপানেটের আবিষ্কার
১৯৭১: অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার ম্যাথু হেডের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রীমা সেনের জন্ম
১৯৮৫: বক্সার বিজেন্দর সিংয়ের জন্ম
১৯৮৮: সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৯৯: ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু
২০০৫: দিল্লিতে পরপর তিনটি বিস্ফোরণে অন্তত ৬২জনের মৃত্যু  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৪.৪৭ টাকা ৯৭.৮৪ টাকা
ইউরো ৮৫.২৮ টাকা ৮৮.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১,৮১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,১৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯,৮৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬২,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬২,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ কার্তিক, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ত্রয়োদশী ২৩/৫২ দিবা ৩/১৬। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র ১৫/৪১ দিবা ১২/০। সূর্যোদয় ৫/৪৩/১৬, সূর্যাস্ত ৪/৫৭/৩০। অমৃতযোগ দিবা ৭/১৩ মধ্যে পুনঃ ১/১৩ গতে ২/৪২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১০ মধ্যে পুনঃ ৪/১ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/২১ গতে ১২/৫৬ মধ্যে।
১২ কার্তিক, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ত্রয়োদশী দিবা ৩/২১। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র দিবা ১/১২। সূর্যোদয় ৫/৪৪, সূর্যাস্ত ৪/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৭/১৮ মধ্যে ও ১/১১ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ৩/১৪ মধ্যে ও ৪/৬ গতে ৫/৪৫ মধ্যে। কালবেলা ২/১০ গতে ৪/৫৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/২১ গতে ১২/৫৭ মধ্যে।
১১ রবিয়ল আউয়ল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বাগনানে বনধ, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের 
বনধ ঘিরে বাগনানে অশান্তি। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে,ব্যারিকেড ফেলে বিক্ষোভ দেখান ...বিশদ

12:49:00 PM

পুরুলিয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু, চাঞ্চল্য 
বুধবার রাতে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যুতে ...বিশদ

12:47:00 PM

পুরুলিয়ায় যুবককে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 
এক যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার পুলিস শিবরাম ...বিশদ

12:42:42 PM

প্রয়াত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদা
কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল ডেপুটি স্পিকার তথা ঝাড়গ্রামের ...বিশদ

12:39:00 PM

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে গুলির চেষ্টা 
পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে গুলির চেষ্টা। ঘটনাটি ঘটেছে তপসিয়া এলাকার কোহিনুর ...বিশদ

12:02:31 PM

নন্দীগ্রামে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার গাড়ির নীচ থেকে উদ্ধার বোমা
নন্দীগ্রামের কেন্দেমারি-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মানসুরা বেগমের স্বামী তথা বহিষ্কৃত ...বিশদ

11:55:04 AM