Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে। গত রবিবারই বিহারের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর ওই স্তাবকতা দেখে চমকে যায় গোটা দেশ। যখন অর্থনীতি অন্ধকারে। সীমান্ত ঘিরে ফেলেছে শত্রু। আগামী দিনে শিক্ষানীতি কী হবে, চরম অনিশ্চয়তা। গরিব কৃষকের অস্তিত্ব বিপন্ন। তখন আমরা বাজনা বাজাচ্ছি, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত।’ আবার পিতামহ ভীষ্মকে উদ্ধৃত করে বলছি, ‘শাসক কখনও পরিস্থিতির ক্রীতদাস হবে না, বরং তাঁর কর্মের মধ্যে দিয়ে অন্যকে বানাবেন।’ হ্যাঁ আজ আমরা সত্যি তাঁর হাতে ক্রীতদাস!
ঠিক আগের দশ বছরের অবস্থাটা ছিল উল্টো। ইউপিএ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছিলেন একটি পরিবারের হাতের পুতুল। দলের নেত্রীই ছিলেন সর্বেসর্বা। লোকে তাই দুর্বল বলে সে জমানায় উঠতে বসতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করত। কোয়ালিশন সরকারে যা হয়, আর পাঁচটা দলের নেতাদের শর্ত মানতে মানতেই বেলা কেটে যেত। পদে পদে চলত শরিকদের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত। পণ্ড হতো কাজ। বাজপেয়ি জমানাতেও ভিন্ন ভিন্ন দলের নেতা যেমন জর্জ ফার্নান্ডেজ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাল থ্যাকারের মতো শরিক দলের নেতাদের মানাতেই সময় যেত। আর মনমোহনের আমলে তো প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে নয়, জোটের শরিকরা ভিড় করত সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে। যাবতীয় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হতো ১০ জনপথে সরকারের অন্তরাত্মার বাড়িতে। মন্ত্রীসান্ত্রিরাও মাথা ঠুকত সেখানেই। এমনকী গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট নোট প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে সে আমলে, অথচ প্রধানমন্ত্রীর টুঁ শব্দ করার জো ছিল না। সবকিছুকে হাসি মুখে মেনে নেওয়াটাই ছিল সে আমলে দস্তুর।
গত ৬ বছরে পরিস্থিতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। আজ পিছন থেকে কোনও অন্তরাত্মা নয়, দলের সভাপতি নয়, কোনও শরিকনেতার অঙ্গুলিহেলন নয়, গোটা দেশটাকে চালাচ্ছে এক এবং একমাত্র পিএমও। সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর অফিস। একটাই পোস্ট, বাকি সব.......! অধিকাংশ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরও ক্ষমতা শূন্য। একদা দলে প্রভাবশালী প্রয়াত সুষমা স্বরাজ এই সরকারে প্রথম পাঁচ বছর বিদেশমন্ত্রী ছিলেন বটে তবে কোনও ক্ষমতা ছিল না। হতাশা কাটাতে তিনি তাই বিদেশে অসুবিধায় পড়া ভারতীয়দের সঙ্গে চিঠি বিনিময়ে জোর দিয়েছিলেন। একমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়া সরকারের আগাম পদক্ষেপের কথা জানতেও পারছেন না কেউ। মধ্যরাতে কাকপক্ষীকে (পড়ুন, ঘনিষ্ঠ অর্থমন্ত্রীকে) কিছু জানতে না দিয়ে নোট বাতিলের মতো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। আগে পিছে পরিণামের কথা না ভেবে, রাজ্যগুলিকে প্রস্তুত না করে জিএসটি চালু করা। সংক্রমণ যখন সামান্য, তখন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ ছাড়াই টানা ৬৮ দিনের লকডাউনের নামে অর্থনীতির গলা টিপে মারা। সবকিছুতেই একটা জিনিস পরিষ্কার, সিদ্ধান্তটা একজনেরই। ওয়ান ম্যান শোয়ে আলাদা করে কোনও বিশেষজ্ঞ লাগে না। ফেডারালিজমের যে আদর্শের উপর ভারতের গণতন্ত্র দাঁড়িয়ে, যে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের মন্ত্রিমণ্ডলী পরিচালিত হয়, তা আজ ভয়ঙ্করভাবে বিপন্ন। মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য থেকে ধুরন্ধর আমলা, কারও বক্তব্যেরই কোনও দাম নেই। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যায়, সরকারটাকে নাকি চালাচ্ছেন মোদি, অমিত শাহ আর অজিত দোভাল নামে এক পোড় খাওয়া গোয়েন্দা। অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চেয়েও নাকি তাঁর বেশি দাপট। যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সে অর্থনীতি কিংবা বিদেশনীতি, শিক্ষানীতিই হোক কিংবা কৃষিনীতি, সবই আসছে পিএমও থেকে। অনেক সিদ্ধান্তের ব্যাপারেই ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা পর্যন্ত জানতে পারছেন তা কার্যকর হওয়ার পরে। কাগজে পড়ে। মনমোহনকে যাঁরা একদিন দুর্বল বলে গাল দিতেন, তারাই আজ এই উলটপুরাণের সঙ্গে মানাতে না পেরে ফের গেল গেল রব তুলছেন। এমনকী গেরুয়া শিবিরেরও কতজন ঠিক সম্মান নিয়ে বেঁচেবর্তে আছেন? তার হিসেব কে রাখে।
কিন্তু তবু এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে দেশটা কি ভালো আছে? অর্থনীতি। বিদেশনীতি। শিক্ষার পরিবেশ। সব ভালো চলছে তো? কী বলছে পরিসংখ্যান? যত বড় মোদি ভক্তই হোন না কেন, গত চার বছরে অর্থনীতি এগিয়েছে, সমৃদ্ধির বসন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলার মতো লোক মিলবে কি? রব উঠেছিল ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছে যাবে দেশ। কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে। আপাতত জিডিপি মাইনাসে নেমে যাওয়ায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি নিয়ে স্বপ্ন দেখাও একটু থমকে গিয়েছে। আর আয় দ্বিগুণ নয়, কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ আজ কোওরকমে বেঁচে থাকতে পারলেই অনেক। কৃষি নিয়ে যে বিল দু’দিন আগে রাতের অন্ধকারে লোকসভায় পাশ হয়েছে, তাতে ওটাও যে ক্রমে বৃহৎ কর্পোরেটের হাতেই চলে যাবে, তা নিশ্চিত। আর আদুল গায়ে গ্রামের সর্বহারারা আঙুল চুষবে। এই হচ্ছে কৃষকের আয় বাড়ানোর কিসসা। প্রতিবাদে শরিক দলের এক মন্ত্রী ইস্তফাও দিয়েছেন। কিন্তু ওসবই তো লোকদেখানো। পাঞ্জাবের স্থানীয় রাজনীতিতে টিকে থাকার ফন্দি। লুটে পুটে খাই, আর চাপে পড়লে নজর ঘোরাই!
এককথায় গত ৫০ বছরে এত বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনীতির সামনে আসেনি। যেভাবে ব্যবসা মার খাচ্ছে তাতে সরকারি চাকুরে বাদে আর ক’জনের রোজগার আগের মতো থাকবে, তা বলা মুশকিল। আর এর কারণ শুধু করোনা নয়। মহামারীর আগে থেকেই দেশের আর্থিক বুনিয়াদের উপর ‘ম্যান মেড’ আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে। যার শুরু ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর মধ্যরাতে। এক ঘোষণায় টাকাই ভ্যানিশ! সেই অভিঘাতে অর্থনীতি যেমন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে, তেমনই বিগত এক বছরে সম্পর্কের ভয়ঙ্কর অবনতি হয়েছে অধিকাংশ পড়শি রাষ্ট্রের সঙ্গেও। বিদেশনীতির এই অধ্যায়কে কোনওভাবেই গৌরবোজ্জ্বল বলে সরকারের স্তুতি করা যায় না। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরদিনই হিমশীতল। ও সম্পর্ক জোড়া লাগার নয়। লোকদেখানো বন্ধুত্ব করতে পাকিস্তানে বিয়ে খেতেই যাও কিংবা ভোটের মুখে বদলা নিতে বালাকোটে হামলাই চালাও, তার পরিণাম একই। ওরা চিরশত্রু। মোদিজি এটা ঠেকে শিখেছেন। পাকিস্তানের জন্ম থেকেই সে দেশের মাটিকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে উস্কানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ষোলোআনা। আজও পুরোদমে তা চলছে। বিরাম নেই। কিন্তু গত ৪৫ বছরে কোনওদিন চীনের সঙ্গে দফায় দফায় গুলি বিনিময়ের খবর কেউ শুনেছে! সরকার নিজে মুখেই স্বীকার করছে, সাম্প্রতিককালে সীমান্তে এতবড় সমরসজ্জা দেখা যায়নি। মাত্র জুন মাসেই গলওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি লড়াইয়ে দু’দেশের অন্তত ৪০-৫০ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতেও আর একপ্রস্থ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিসেব বলছে, আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের ৮-৯ তারিখ পর্যন্ত অন্তত তিন দফায় ২০০ রাউন্ড গুলি চলেছে। দফায় দফায় বৈঠক কম হয়নি। মোদি ও জিনপিং গত পাঁচ বছরে ১৮ বার বৈঠক করেছেন। দু’দেশের প্রতিরক্ষা ও বিদেশমন্ত্রীরাও মিলিত হয়েছেন একাধিকবার। কিন্তু সমাধান সূত্র মেলেনি। কথা রাখেনি চীন। উল্টে শত্রুতা আজ যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন করে সীমান্ত সঙ্কট আরও তীব্র হচ্ছে। দু’পক্ষই অনড়। দু’দেশের হাতেই আধুনিক অস্ত্র আছে। দুই রাষ্ট্রই পরিমাণু শক্তিধর। তাই গোটা বিশ্বের নজর ভারত-চীন এই আকচাআকচির দিকে। আমেরিকা সহ অন্যান্য বৃহৎ শক্তিও চোখ রাখছে পরিস্থিতির দিকে। এই ভগ্ন অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে আর একটা যুদ্ধ দেশের মানুষের সইবে তো!
চীনকে এভাবে শত্রুতে পরিণত করাকে মোটেই বিদেশনীতির সাফল্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। কারণ এতে পাকিস্তান উৎসাহিত হতে বাধ্য। হচ্ছেও তাই। পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার বদলে বন্ধু হারাচ্ছে ভারতই। এতো গেল চীনের কথা। কিন্তু আমেরিকার নির্বাচনের একবছর আগেই ভারত সরকার কেন একটি নির্দিষ্ট পক্ষ গ্রহণ করল? আগে কোনওদিন তো এমনটা হয়নি। টেক্সাসে ও আমেদাবাদে উপর্যুপরি হাউডি মোদি ও নমস্তে ট্রাম্প অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আমেরিকার মতো বৃহৎ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করারই চেষ্টা নয় কি? বিদেশ নীতিতে এ জিনিস চূড়ান্ত ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমেরিকার নির্বাচনে ভারত কেন নাক গলাবে? কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আগাম জয়ের অভিনন্দন জানাবে? নেহরু থেকে বাজপেয়ি, কেউ তো এই ভয়ঙ্কর খেলা খেলেননি। আসলে মোদি সরকার বারবার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলছে। তাতেই গোল বাধছে। এখন মার্কিন নির্বাচনে ফল যদি উল্টো হয়, তখন দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সেই দিক দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অযাচিত ভূমিকা মোটেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। ফল উল্টো হলে তার চরম মাশুল দিতে হবে। আমেরিকার সঙ্গে মোদি সরকারের এই দোস্তি অত্যন্ত বিরূপ করেছে রাশিয়াকেও। ফলে ভারতের বহু দুঃসময়ের বন্ধু মস্কোর সঙ্গেও একটা নিরাপদ দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ তো গেল বৃহৎ শক্তির কথা। অত্যন্ত ছোট্ট রাষ্ট্র নেপাল রুষ্ট হয়ে গেল কেন? আর নেপাল বন্ধুত্ব ছিন্ন করলে ভুটানকে কতক্ষণ তাঁবে রাখা সম্ভব? বলা বাহুল্য, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কটাও আর আগের মতো নেই। আর বাংলাদেশ? সিএএ, এনআরসি আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর হুঙ্কার বাংলাদেশ সরকারকেও রুষ্ট করতে বাধ্য। এভাবেই একে একে নিভিছে দেউটি। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ভারতকে আর কবে এতটা নিঃসঙ্গ দেখা গিয়েছে বলুন তো? কোটি কোটি টাকা খরচ করে গত ৬ বছরে বার কয়েক পৃথিবীটাকে চরকি খাওয়ার পরিণাম কি শেষ পর্যন্ত এই? আজ নয় কাল মানুষ এর জবাব চাইবেই।
20th  September, 2020
কৈলাসে ফিরতে
মন চাইবে না মা
হারাধন চৌধুরী

আমাদের পাশে থেকো মা। তোমাকে কথা দিচ্ছি, আগামীবার এসে দেখবে—আমাদের এই পৃথিবীর সমস্ত অসুখ সেরে গেছে। আমাদের কারও মধ্যে ছোঁয়াছুঁয়ির ভয় নেই, কোনওরকম ছুঁৎমার্গ নেই। বিশদ

মূকরাই সরব হবেন যথাসময়ে
পি চিদম্বরম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পৃথিবী বিপুলভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে সেখানে দরিদ্র বা গরিব রয়ে যাওয়াটা এক দুর্ভাগ্য। একটা দরিদ্র দেশে দরিদ্র থাকাটা গণতন্ত্রের ব্যর্থতা। আর একটা গরিব দেশের গরিব রাজ্যে দরিদ্র থেকে গেলে তাকে রাজনীতির অভিশাপ মানতে হবে।  বিশদ

28th  October, 2020
বিহারের ভোটে অনেক পাখি মারার ছক মোদির
সন্দীপন বিশ্বাস

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে দেখেছিলাম, বিজেপি সেখানে কী পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল। সমস্তিপুর, বেগুসরাই, জামুই, ভাগলপুর, মুঙ্গের, খাগাড়িয়া, লক্ষ্মীসরাই ঘুরে দেখেছিলাম, পতাকা, ফেস্টুন, ফ্লেক্স দিয়ে বিজেপি শহর মুড়ে দিয়েছে। বিশদ

28th  October, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

23rd  October, 2020
বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
অনেক হারানোর পুজো
হিমাংশু সিংহ

পুজোর ছুটির একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকে। উৎসবের অনেক আগে থেকেই সেই গন্ধে ম ম করে বাংলার গাঁ গঞ্জ থেকে শহর সর্বত্র। সেই গন্ধের সঙ্গে আগমনি মিশে তৈরি হয় অদ্ভুত ঘোর লাগানো একটা অপেক্ষার। মা আসছেন। বাঙালির অনেক না পাওয়া ক্ষতবিক্ষত জীবনে এর চেয়ে পরম প্রাপ্তির আর কিছুই হতে পারে না। সেই অপেক্ষার সঙ্গেই মিশে যায় বিদেশে কাজ করা দত্ত বাড়ির ছেলে, দূরে বিয়ে হওয়া পাশের বাড়ির হেমন্তদার মেয়ের ঘরে ফেরার খুশি। 
বিশদ

18th  October, 2020
করোনা রোখার মন্ত্র ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ 
তন্ময় মল্লিক

করোনা মোকাবিলায় সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলার ও মাস্ককে জীবনসঙ্গী করার পরামর্শ হচ্ছে উপেক্ষিত। সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। সকলের নজর সেই দিকেই। তাতে সাহসী হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে বেপরোয়া ভাব। এগিয়ে আসছে বাংলার ভোট। প্রকট হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতা দখলের বাসনা। করোনার মধ্যেও ইস্যু পেলেই আন্দোলন। না থাকলে তৈরির চেষ্টা। অভিমুখ রাজ্যপাট। তাই কথায় কথায় মিছিল আর লড়াই।  
বিশদ

17th  October, 2020
অতিরিক্ত দিল্লি নির্ভরতাই বঙ্গ-বিজেপির সঙ্কট
সমৃদ্ধ দত্ত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মতো ঝোড়ো আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেননি আর কেউই। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু-স্রোত। এই সঙ্কটের মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। তাঁকে অভীধা দেওয়া হয় বাংলার রূপকার। কিন্তু ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, তিনি কৃষিকে অবহেলা করেছেন। তাঁর ১৪ বছরের শাসনকালে তিনি যতটা উন্নতিসাধন করেছিলেন শিল্পে, সেই তুলনায় কৃষির উন্নয়ন কম হয়েছে।  
বিশদ

16th  October, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, পতিরাম: ১৯৩৩ সালের ২৮ অক্টোবর। অবিভক্ত ভারতের হিলি স্টেশনে দার্জিলিং মেলে লুটপাট চালিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজে লেগেছিল সেই ‘লুটের টাকা’।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভুয়ো ভাউচার ছাপিয়ে ময়নার শ্রীকণ্ঠা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠল সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। গত ১৭ অক্টোবর সমবায় সমিতির সম্পাদক সুবোধচন্দ্র মাইতি ম্যানেজার সোমনাথ দাসের বিরুদ্ধে ময়না থানায় এফআইআর করেছেন।   ...

বংশপরম্পরায় আজও মহানায়ক উত্তমকুমারের বাড়ির লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন কুমোরটুলির একটি নির্দিষ্ট শিল্পী পরিবার। পটুয়াপাড়ার ৪০/১, বনমালি সরকার স্ট্রিটে মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পালের ঘরে জোরকদমে ...

করোনা আবহেও লক্ষ্মীর আরাধনার বাজেটে খামতি পড়েনি। এমনকী বাইরে থেকে চাঁদা আদায়ও নয়। গ্রামবাসীরাই বছরভর মাটির ভাঁড়ে যে টাকা জমিয়েছেন, তাতেই হচ্ছে পুজোর আয়োজন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব আছে। কর্মরতদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস
১৯৬৯: ইন্টারনেটের আগের স্তর আরপানেটের আবিষ্কার
১৯৭১: অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার ম্যাথু হেডের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রীমা সেনের জন্ম
১৯৮৫: বক্সার বিজেন্দর সিংয়ের জন্ম
১৯৮৮: সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৯৯: ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু
২০০৫: দিল্লিতে পরপর তিনটি বিস্ফোরণে অন্তত ৬২জনের মৃত্যু  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৪.৪৭ টাকা ৯৭.৮৪ টাকা
ইউরো ৮৫.২৮ টাকা ৮৮.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১,৮১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,১৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯,৮৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬২,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬২,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ কার্তিক, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ত্রয়োদশী ২৩/৫২ দিবা ৩/১৬। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র ১৫/৪১ দিবা ১২/০। সূর্যোদয় ৫/৪৩/১৬, সূর্যাস্ত ৪/৫৭/৩০। অমৃতযোগ দিবা ৭/১৩ মধ্যে পুনঃ ১/১৩ গতে ২/৪২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১০ মধ্যে পুনঃ ৪/১ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/২১ গতে ১২/৫৬ মধ্যে।
১২ কার্তিক, ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ত্রয়োদশী দিবা ৩/২১। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র দিবা ১/১২। সূর্যোদয় ৫/৪৪, সূর্যাস্ত ৪/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৭/১৮ মধ্যে ও ১/১১ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ৩/১৪ মধ্যে ও ৪/৬ গতে ৫/৪৫ মধ্যে। কালবেলা ২/১০ গতে ৪/৫৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/২১ গতে ১২/৫৭ মধ্যে।
১১ রবিয়ল আউয়ল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বাগনানে বনধ, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের 
বনধ ঘিরে বাগনানে অশান্তি। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে,ব্যারিকেড ফেলে বিক্ষোভ দেখান ...বিশদ

12:49:00 PM

পুরুলিয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু, চাঞ্চল্য 
বুধবার রাতে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যুতে ...বিশদ

12:47:00 PM

পুরুলিয়ায় যুবককে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 
এক যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার পুলিস শিবরাম ...বিশদ

12:42:42 PM

প্রয়াত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদা
কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল ডেপুটি স্পিকার তথা ঝাড়গ্রামের ...বিশদ

12:39:00 PM

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে গুলির চেষ্টা 
পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে গুলির চেষ্টা। ঘটনাটি ঘটেছে তপসিয়া এলাকার কোহিনুর ...বিশদ

12:02:31 PM

নন্দীগ্রামে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার গাড়ির নীচ থেকে উদ্ধার বোমা
নন্দীগ্রামের কেন্দেমারি-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মানসুরা বেগমের স্বামী তথা বহিষ্কৃত ...বিশদ

11:55:04 AM