Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

 কিছুতেই মমতা হতে
পারবেন না পাইলটরা
সমৃদ্ধ দত্ত

একটি রাজনৈতিক দলে কোনও এক নেতা অথবা কর্মী যোগ্য সম্মান না পেলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। চাহিদা এবং মনোবাসনা অনুযায়ী যথাযথ পদ কিংবা দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না দেখলে, ধীরে ধীরে রাগ এবং হতাশা তৈরি হয়। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। নতুন কিছুও নয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সব দলে এরকম বহু নেতা কর্মী আছেন, যাঁদের ঠিক এরকমই মনোভাব অতীতে তৈরি হয়েছে কিংবা এখনও ওই ক্ষোভ রয়েছে দলের বিরুদ্ধে। এসব ক্ষেত্রে ওই হতাশা ও ক্ষোভের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়? তিনি দল থেকে চলে গিয়ে অন্য একটি দলে যোগদান করেন। হয়তো সেই দলটি গত সপ্তাহে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু ওসব আজকাল আর কেউ বিচার করে না। নিয়ম হল অন্য কোনও দলের থেকে বিশেষ কোনও ‘সুবিধা’ অথবা ‘উপঢৌকন’পেয়ে কিংবা গুরুত্ব পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েই দলবদল করা। কিন্তু সাহস করে কেউই নতুন দল গঠন করেন না। নিরাপদে অন্য শক্তিশালী দলে চলে যান। আশ্চর্যরকমভাবে একক শক্তির মেরুদণ্ডটা উধাও হয়ে যাচ্ছে ভারতের রাজনীতি থেকে।
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, শচীন পাইলটদের দেখে বেশি করে আরও প্রত্যয় হয় যে, কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জার্নি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকাল শুধু আমাদের রাজ্যে নয়, ভারতেও এরকম সাহসের নমুনা মেলে না। দলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে শতাব্দীপ্রাচীন একটি দল থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ নতুন একটি দল গঠন করে, ১৩ বছরের মধ্যে সেই দলকে ক্ষমতায় আসীন করার মতো চোখ ধাঁধানো সাফল্য মমতার মতো আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী ভুল করেন কিংবা তাঁর দলের সম্পর্কে কত রকম অভিযোগ আছে অথবা এখনও তিনি কতটা জনপ্রিয়, সেসব পৃথক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ। নির্বাচনে তিনি আবার জয়ী হতে পারেন। অথবা পরাজিত হয়ে যেতে পারেন। সেটা ভোট রাজনীতির দস্তুর। কিন্তু বিস্ময়ের হল, সিন্ধিয়া কিংবা পাইলটদের মতো তরুণ এবং বংশগৌরবে বলীয়ান নেতাদেরও এই আত্মবিশ্বাস কেন থাকছে না যে, একা দল গড়ে মানুষের সমর্থন অর্জন করব? যা মমতা পেরেছিলেন।
এই নেতৃত্বের সাহস, ঝুঁকি নেওয়ার স্পর্ধা, চরম আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ আজকাল দেখাই যায় না কেন? দলের প্রতি ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বড় অথবা ছোট, যে কোনও নেতার সহজতম পদক্ষেপ হল অন্য দলে চলে যাওয়া। নতুন দলের ছত্রচ্ছায়ায় নিরাপদে একটি পদ বা মন্ত্রিত্ব পেয়েই এঁরা খুশি। তাঁদের অন্যতম কাজ হল, মাঝেমধ্যেই পুরনো দলের নিন্দামন্দ করা। কিন্তু এভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সেই নেতারা আর সমীহ, সম্মান পান না। তাঁরা প্রমাণ করেই দেন যে, আমার ব্যক্তিগত ক্ষমতার উপর আমার নিজেরই ভরসা নেই। তাই স্রেফ ভেসে থাকার জন্য যে কোনও একটি দলে যোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়েই বিদ্রোহ সমাপ্ত হয়ে যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এখানেই ব্যতিক্রম। তিনি এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে নতুন দলে কংগ্রেসের বিপুল সংখ্যক ভোটব্যাঙ্কটাই নিয়ে চলে এলেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর বিরোধীদের মধ্যে এরকম কোনও শক্তিশালী নেতানেত্রী আর দেখা যাচ্ছে না, যিনি একাই একটা সংগঠনের দিশারি হয়ে উঠছেন। এই বিরোধীদের মধ্যে একজনও এমন নেতা নেই, যিনি একার জোরে ব্রিগেড কিংবা ধর্মতলায় সমাবেশের ডাক দেবেন। কোনও নরেন্দ্র মোদি অথবা রাহুল গান্ধীকে দরকার হবে না। আজ বাংলায় বিরোধী দলের এমন কোনও নেতা নেই, যাঁর নামটি গোটা ভারতই কমবেশি চেনে। এমন কোনও নেতা নেই, যাঁর নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব তাঁর দলের মধ্যে প্রবলভাবে উপস্থিত। আজও তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস কিংবা সিপিএমের যে-কোনও নেতা দলবদলের কথাই ভাবেন নিজের ক্ষোভ-বিক্ষোভ হলে। নতুন দল গড়ার কথা কেউ ভাবেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসার জন্য এই প্রতিবেদন নয়। এটা হল বিরোধীদের মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়াস যে, তাঁরা যাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁরা মরিয়া, তাঁর শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত থাকা দরকার। শুধুই দুর্বলতা দেখে যুদ্ধজয় হয়ে গেল ভাবা ঠিক নয়। তাঁকে পরাস্ত করতে নিজেদের অনেক বেশি শক্তিশালী করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৪ সাল থেকেই জয়ী হয়ে আসছেন (একবার ছাড়া)। তিনি দু’টি দশক ধরে একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মন্ত্রী হয়েছেন। আজকাল দেখা যায়, বিরোধী দলের নেতারা তাঁদের উপরওয়ালাদের মর্জির উপর নির্ভরশীল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু উপরওয়ালাদের বাধ্য করতেন তাঁকে গুরুত্ব দিতে। গোটা নব্বই দশকে তার অজস্র উদাহরণ আছে। যখন তাঁর দাবি অগ্রাহ্য করা হল, তখন তিনি দল ছেড়ে দিয়ে নতুন দল গঠন করলেন। অথচ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এত বড় রাজ পরিবারের প্রতিনিধি হয়েও পৃথক দল গঠনের ক্ষমতা দেখানোর সাহস পেলেন না। তাঁর পিতা কিন্তু বিদ্রোহ করে পৃথক দল তৈরি করেছিলেন। যদিও তিনিও শেষ পর্যন্ত ফিরে আসেন কংগ্রেসে। শচীন পাইলট কী করবেন? দেখা যাক।
কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করে সাফল্য পেয়েছেন আরও দু’জন। শারদ পাওয়ার এবং জগনমোহন রেড্ডি। শারদ পাওয়ার পৃথক দল করেও কোনওদিন এককভাবে সরকারে আসতে পারলেন না। তাঁকে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের জোটে থাকতে হচ্ছে। আর জগনমোহন রেড্ডি কংগ্রেস ছেড়ে দিয়ে নতুন দল গড়ে এককভাবে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু তাঁর উত্থান ও সাহসের প্রধান অনুঘটক হল তাঁর পিতা অন্ধ্রপ্রদেশ কংগ্রেসের অবিসংবাদিত নেতা ওয়াই রাজশেখর রেড্ডির তুমুল জনপ্রিয়তা। বাংলায় কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করে অজয় মুখোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন বটে। কিন্তু একক ক্ষমতায় নয়। সিপিএমকে সঙ্গে নিয়ে। আর সেই জোটের করুণ পরিণতি এমনই যে, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়কে কার্জন পার্কে নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই অনশনে বসতে হয়েছিল।
সুতরাং বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া বাংলার রাজনীতিতে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে একইরকম বিপুল প্রভাবশালী, এরকম নেতা আসেননি। এখনও নেই। বরং এখন আরও বড় সঙ্কট হল, বিরোধী এমন কোনও নেতা নেই, যাঁর নিজের দলের উপরই নিরঙ্কুশ প্রভাব রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাফল্যের কারণ কী? খুব সিম্পল। একক জনপ্রিয়তা। মানুষ ও দলের কর্মীদের মধ্যে। তাঁর কাছে নিজের একক ভোটব্যাঙ্ক ছিল, জনতার উদ্বেলিত সমর্থন ও ভালবাসা ছিল। আর রাজ্যটাকে হাতের মুঠোর মতো চেনা। প্রতিটি ব্লকের দলীয় নেতা-কর্মীর নাম তিনি যে কোনও সময় বলে দেবেন। তিনি যখন এমপি ছিলেন, তখন দিল্লির খড়্গ সিং মার্গের ফ্ল্যাটে বসে একটা ফোনের মাধ্যমে তাঁর এই রাজ্যজুড়ে নেটওয়ার্ক পরিচালন দিল্লির সাংবাদিকরা নিজের চোখেই দেখেছেন দিনের পর দিন। ব্লকের পর ব্লকে কথা বলে চলেছেন। ঠিক এরকমই ইমেজ আজ কোন নেতার আছে? এই ফরমুলায় আজ আর কোনও নেতাকে উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে না কেন? যাঁরা প্রতিদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন, তাঁদের একক ক্ষমতা সম্পর্কে মমতা অবহিত। তাই লক্ষ করলে দেখা যাবে, তিনি রাজ্যের কোনও বিরোধী নেতার আক্রমণ কিংবা সমালোচনার জবাব দেন না। রাজ্যের কোনও বিরোধী নেতাকে চিহ্নিত করে পালটা আক্রমণও করেন না। রাজ্য নেতাদের তিনি ইগনোর করেন। প্রকটভাবে। তিনি যখন তীব্র আক্রমণ করেন তখন নিশানা নরেন্দ্র মোদি অথবা অমিত শাহ। এবং দল হিসেবে বিজেপি, সিপিএম অথবা কংগ্রেস। রাজ্য নেতাদের জবাবই দেন না।
এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিপক্ষ কিংবা প্রধান বিরোধী নেতা এরাজ্যের কেউ নয়। তাঁরা হলেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। রাজ্য বিজেপির নেতানেত্রীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় দেখান কিংবা হুঁশিয়ারি দেন নরেন্দ্র মোদিকে দেখিয়ে। জ্যোতি বসু কিংবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে কিন্তু তা ছিল না। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী মুখ ছিলেন মমতাই। বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন অথবা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়দের প্রধান বিরোধী মুখ ছিলেন জ্যোতি বসু। বাইরের কোনও নেতা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এটা গৌরবের হতে পারে যে, তাঁর সমকক্ষ কোনও বিরোধী নেতানেত্রী উঠে আসতে পারছেন না রাজ্য-রাজনীতিতে। কিন্তু বাংলার রাজনীতিতে সেটা মোটেই সুসংবাদ নয়। কারণ আগামী ভোটে বিজেপি জয়ী হলে বলা হবে মোদির জয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মোদিই হবেন সুপার চিফ মিনিস্টার! রাজ্য বিজেপি নেতানেত্রীদের কোনও ভূমিকার কথাই উচ্চারিত হবে না। কারণ, বিজেপির (সিপিএমেরও) গ্রামগঞ্জের ছোটখাটো সমর্থকরাও ভাবে যে, মমতাকে শিক্ষা দেবেন মোদি। তাঁরা রাজ্যের কোনও নেতাকে আইকন অথবা রোলমডেল ভাবেন না। এটা এরাজ্যের বিরোধী নেতাদের বড়সড় এক দুর্বলতা। নেতৃত্বপ্রদান ক্ষমতার দুর্বলতা। বাংলার রাজনীতি নায়কোচিত নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে, এটা বাঙালির কাছে এক বড় সঙ্কট।
কেন এককভাবে কোনও নেতানেত্রী বাংলায় প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্রাউড পুলার হতে পারছেন না? অন্যতম প্রধান কারণ, তাঁদের হোমওয়ার্ক কম। তাঁদের রাজনৈতিক আইডিয়া কম। পলিটিক্যাল রিডিং কম। কেন কম? কারণ, তাঁরা এই রাজ্যকে চষে ফেলেননি মমতার মতো। যে-কোনও প্রথম সারির বিরোধী নেতাকে যদি তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করা হয়, ২৯৪টি বিধানসভা আসনের নাম বলুন এখনই, কেউ পারবেন, কিন্তু অনেকেই পারবেন না। কোনও একটি ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলে সেখানে অনুন্নয়ন ও মানুষের সমস্যা রয়ে যাচ্ছে, এরকম অঞ্চল চিহ্নিত করে শোরগোল তোলা হলে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে বিব্রত করা যায়। কিন্তু সেরকম কোনও পদক্ষেপ কখনও নিতে দেখা যায় না বিরোধীদের। তাঁরা জানা-শোনা সমস্যা নিয়ে সরকারকে চেপে ধরেন। কিন্তু অজানা, আড়ালে রয়ে যাওয়া সমস্যাকে সামনে আনতে পারেন না। কারণ নিজেরাই জানেন না। সেই নেটওয়ার্ক নেই। এটা হল শহর এবং সোশ্যাল মিডিয়ামুখী রাজনীতির কুফল। লকডাউনের সময় দেখা গিয়েছে পি চিদম্বরম, রাহুল গান্ধীরা মাঝে-মধ্যেই এমন কিছু প্রস্তাব ও আইডিয়া দিয়েছিলেন সরকারকে যে সেগুলি কয়েকদিন পরই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং মোদি সরকার। ওটাই বিরোধী হিসেবে জয় ছিল কংগ্রেসের। কিন্তু এরাজ্যে এরকম কোনও কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া বিরোধীদের কাছ থেকে আসছে না যেটা সরকার অনিচ্ছা থাকলেও মেনে নিতে বাধ্য হয় সার্বিক উন্নতির জন্য। মমতা না বিজেপি, কাকে বেশি আক্রমণ করা উচিত? এই দোলাচল এবং নিজেদের মধ্যে জোট নিয়েই দ্বিধা কাটছে না কংগ্রেস ও সিপিএমের। সুতরাং তাদের থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।
রাজ্যের কোনও নেতার একক শক্তি নেই। নিজস্ব ক্যারিশমা নেই। মানুষের কাছে প্রবল আকর্ষণ নেই। একাই কয়েক লক্ষ ভিড় জমিয়ে দেওয়ার শক্তি নেই। সুতরাং, রাজ্যের কেউ নয়, রাজ্য-রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এই পারসেপশন কিন্তু আদতে মমতারই জয়!
24th  July, 2020
ভাবনা বদলালেই সহজ
হবে করোনা মোকাবিলা
তন্ময় মল্লিক 

‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে। আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো পুবে-পশ্চিমে।’—রবীন্দ্রনাথ। ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি।’—লেনিন।   বিশদ

বন্ধু চীনই এখন
আমেরিকার বড় শত্রু
মৃণালকান্তি দাস 

পঞ্চাশ বছরের ‘সম্পর্ক’ মাত্র চার বছরে উল্টে গিয়েছে! এই সেদিনও চীন-আমেরিকা নিজেদের বলত ‘কৌশলগত বন্ধু’। ১৯৭১ সালে বেজিং সফরে গিয়ে ধুরন্ধর মার্কিন বিদেশসচিব হেনরি কিসিঞ্জার সেই ‘বন্ধুত্বে’র চারা লাগিয়ে এসেছিলেন।   বিশদ

31st  July, 2020
মমতাকে স্বস্তি দিচ্ছে
বিজেপির এই রাজনীতি
হারাধন চৌধুরী 

যদি ক্যুইজে প্রশ্ন করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নাম ক’জনের মাথায় আসবে সংশয় রয়েছে। বেশিরভাগ উত্তরদাতার ঠোঁটের ডগায় তৈরি থাকবে বিধানচন্দ্র রায়ের নামটা।   বিশদ

30th  July, 2020
মোদিজি, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
সন্দীপন বিশ্বাস 

কতটা লড়াইয়ের পর করোনার মতো এমন ভয়ঙ্কর ভাইরাসকে নিঃশেষ করা যাবে, আমরা জানি না। কতদিনে আমরা এর ওষুধ বের করতে পারব, তাও জানি না! কোভিড ওষুধ নিয়ে আমাদের দেশের ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের গবেষণা এখন ঠিক কোন পর্যায়ে, সেটাও আমরা জানি না।   বিশদ

29th  July, 2020
পাঁপড়ভাজা খেলে ভ্যাকসিন
বানানোর দরকারটা কী?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ফিদেল কাস্ত্রোর ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছেন এক সাংবাদিক। শুরুতেই কাস্ত্রো পাল্টা একটা প্রশ্ন ছুঁড়লেন... ‘দ্য ফোর্থ ভার্টিব্রা পড়েছেন? ফিনিশ লেখক না?... দারুণ লেখা কিন্তু।’ মার্কিনিদের জীবনযাত্রা ছিল ‘দ্য ফোর্থ ভার্টিব্রা’র বিষয়বস্তু।   বিশদ

28th  July, 2020
চীন ‘মাকড়শা’ হলে ভারত তার ‘শিকার’
পি চিদম্বরম

 দ্য স্পাইডার্স ওয়েব। মানে মাকড়শার জাল। এই সম্পর্কে তথ্য জানতে যদি ইন্টারনেট সার্চ করেন, তবে আপনি জিনিসটাকে পাবেন—‘সিক্স সারপ্রাইজিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট স্পাইডারওয়েবস’ হিসেবে। মানে মাকড়শার জাল সম্পর্কে ছয়টি অবাক করা সত্য।
বিশদ

27th  July, 2020
এক দেশ এক দল
মানুষ মানবে না
হিমাংশু সিংহ

 ভারতের আত্মা বেঁচে রয়েছে বহুত্ববাদে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায়। নানা বৈচিত্র ও ভিন্নমুখী ধারার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঐক্য ও সংহতির মূল মন্ত্র। এক কথায়, বিবিধের মাঝে মিলন মহান। এটাই ভারতের চিরন্তন শক্তি।
বিশদ

26th  July, 2020
করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর
সামাজিক বয়কটের যন্ত্রণা

তন্ময় মল্লিক

একটা সময় সামাজিক বয়কট ছিল বিরোধীকে ঘায়েলের হাতিয়ার। গ্রামের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। করোনা আবহে তা ডানা মেলেছে শহুরে শিক্ষিত সমাজেও। কুসংস্কার দূর হয় শিক্ষার আলোয়। কিন্তু শিক্ষিত মানুষের অন্ধকার দূর হবে কোন আলোর ছোঁয়ায়?
বিশদ

25th  July, 2020
আজকের রাজনীতিতে
পণ্ডিত মৈত্রের প্রাসঙ্গিকতা
হারাধন চৌধুরী

দেশ আজ মহামারীর কবলে। প্রথম কর্তব্য রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যে যুদ্ধে জয়টাই একমাত্র লক্ষ্য। একমাত্র শর্ত। তার জন্য হয়েছে লম্বা লকডাউন। বেশিরভাগ আর্থিক ক্ষেত্র ধসে পড়েছে। কোটি কোটি মানুষ পড়েছে তীব্র সঙ্কটে। সকালে খাবার জুটলে তারা নিশ্চিত নয় রাতে কী খাবে।
বিশদ

23rd  July, 2020
অযোধ্যা নেপালে শুনে
অবাক স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র
সন্দীপন বিশ্বাস

বিষ্ণুলোকের রাজসভায় রামচন্দ্র বসে আছেন। সভায় সেদিন মর্ত্যলোকের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন ছাড়াও সেদিন সভায় উপস্থিত ভৃগু, আঙ্গিরস, কাশ্যপ, বশিষ্ঠ প্রমুখ। ভৃগু বললেন, ‘হে রঘুবীর, মর্ত্যের অধিবাসীগণ বড়ই বাচাল।
বিশদ

22nd  July, 2020
কঠিন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে,
ব্যক্তি নয় বড় প্রতিষ্ঠান
শান্তনু দত্তগুপ্ত

সবেমাত্র ভোরের আলোর রেখাটুকু দেখা যাচ্ছে আকাশে। লুটিয়েন’স দিল্লির রাজপথে চলেছে একটি সাইকেল। পিছনের চাকার পাশে ক্যারিয়ারের সঙ্গে বাঁধা ক্যান। দুধওয়ালা... কতই বা বয়স হবে? ১৩ কী ১৪ বছর! গাজিয়াবাদের ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর চলে এসেছিল দিল্লিতে... কাকার সঙ্গে।
বিশদ

21st  July, 2020
ডেপসাং অথবা ডোকলামের পথে
পি চিদম্বরম

 রহস্যের জট খুলে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে লিখেছিলাম যে, 'অর্থনীতির দ্রুত পতনের কারণে ভারত যে দুর্বল হয়ে পড়েছে মিস্টার জি মনে হয় সেটা নিখুঁতভাবে ধরতে পেরেছিলেন—২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মহাবলীপুরমে। অন্যদিকে, বোধহয় মিস্টার জি-র মতলবটা মোদিজি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।'
বিশদ

20th  July, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে যা জায়গা রয়েছে, তার তুলনায় বন্দির সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। দু’হাজারেরও বেশি বিচারাধীন বন্দিকে আগাম জামিন ও আসামিদের প্যারোলে ছাড়ার পরেও এই অবস্থা।   ...

ওয়াশিংটন: ক্ষমতা দেখাতে পুরো বিশ্বকে নিজেদের নাগালের মধ্যে আনতে উঠেপড়ে লেগেছে চীন। এবার তাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসে এই ভাষাতেই চীনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও।   ...

নয়াদিল্লি: একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেট দুনিয়া তারিয়ে উপভোগ করত বাইশগজে তাঁদের ব্যাট-বলের লড়াই। একদিকে ব্রেট লি। গতির আগুনে যিনি বিপক্ষের ব্যাটিংকে ছারখার করে দিতেন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা কবে, তা নিয়ে শুক্রবারও সুপ্রিম কোর্টে ফয়সালা হল না। আগামী ১০ আগস্ট ফের শুনানি হবে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিতর্ক-বিবাদ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। প্রেম-পরিণয়ে মানসিক স্থিরতা নষ্ট। নানা উপায়ে অর্থোপার্জনের সুযোগ।প্রতিকার: অন্ধ ব্যক্তিকে সাদা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৭৪- অক্সিজেনের আবিষ্কার করেন যোশেফ প্রিস্টলি
১৮৪৬ - বাংলার নবজাগরণের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যু
১৯২০ – স্বাধীনতা সংগ্রামী বালগঙ্গাধর তিলকের মৃত্যু
১৯২০- অসহযোগ আন্দোলন শুরু করলেন মহাত্মা গান্ধী
১৯২৪ -ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার ফ্রাঙ্ক ওরেলের জন্ম
১৯৩২- অভিনেত্রী মীনাকুমারীর জন্ম
১৯৫৬- ক্রিকেটার অরুণলালের জন্ম।
১৯৯৯- সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরির মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৯৪ টাকা ৭৫.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯৬.৫৩ টাকা ৯৯.৯০ টাকা
ইউরো ৮৭.৪০ টাকা ৯০.৫৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫৪,৬৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৫১,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫২,৬২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৪,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৪,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৬ শ্রাবণ ১৪২৭, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২০, ত্রয়োদশী ৪১/৪৮ রাত্রি ৯/৫৫। মূলানক্ষত্র ৪/২ দিবা ৬/৪৮। সূর্যোদয় ৫/১১/৪৮, সূর্যাস্ত ৬/১৩/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৬ গতে ১০/৩৭ মধ্যে পুনঃ ১২/৫ গতে ১/৩২ মধ্যে পুনঃ ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫০ মধ্যে পুনঃ ১/২০ গতে ২/৫৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৬ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫০ গতে উদয়াবধি। 
১৬ শ্রাবণ ১৪২৭, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২০, ত্রয়োদশী রাত্রি ৯/৪৮। মূলানক্ষত্র দিবা ৭/৫৩। সূর্যোদয় ৫/১১, সূর্যাস্ত ৬/১৭। অমৃতযোগ দিবা ৯/৩০ গতে ১/২ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৯ গতে ১০/৩৮ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩০ মধ্যে ও ২/১৩ গতে ৩/৩৯ ম঩ধ্যে। কালবেলা ৬/৪৯ মধ্যে ও ১/২২গতে ৩/০ মধ্যে ও ৪/৩৯ গতে ৬/১৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৯ মধ্যে ও ৩/৪৯ গতে ৫/১১ মধ্যে।  
১০ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনা: রাজ্যে আক্রান্ত আরও ২৫৮৯ জন  
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫৮৯ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

08:42:26 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ৯,৬০১ জন, মৃত ৩২২ 

08:41:24 PM

কর্ণাটকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ ৫,১৭২ জন, মৃত ৯৮ 

07:56:50 PM

করোনা: কেরলে নতুন করে আক্রান্ত আরও ১১২৯, মোট আক্রান্ত ১০৮৬২ 

07:50:00 PM

করোনা: গত ২৪ ঘণ্টায় তামিলনাড়ুতে আক্রান্ত ৫৮৭৯, মৃত্যু ৯৯ জনের 

06:43:13 PM

হায়দরাবাদে ব্যাপক বৃষ্টি জলমগ্ন একাধিক এলাকা 

06:35:00 PM