Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নেতৃত্বের পরীক্ষা
সমৃদ্ধ দত্ত

তিন মাস পর দেখা যাচ্ছে একটা বিস্ময়কর ট্রেন্ড। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে সবথেকে সফল মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানরা। আর সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলনামূলকভাবে ধাক্কা খেয়েছেন কারা? মূলত সেই পুরুষ শাসকরা যাঁদের প্রবল আমিত্ব বোধ। যাঁরা প্রায় সকলেই ‘ফার রাইট’ অর্থাৎ অতি দক্ষিণপন্থী। যাঁদের উপস্থিতি প্রবল উচ্চকিত। যাঁরা দেশের সাফল্যকে নিজেদের সাফল্য হিসেবেই প্রচার করেন উচ্চস্বরে। উগ্র জাতীয়তাবাদ বা হাইপার দেশপ্রেমের প্রচার এই নেতাদের অন্যতম স্টাইল। এই তালিকায় বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলির রাষ্ট্রপ্রধানেরা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। চীনের জিনপিং থেকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জের বোলসোনারো। রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন থেকে ভারতের নরেন্দ্র মোদি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইপ এরডোগন থেকে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজ। এই রাষ্ট্রনেতাদের দেশগুলিতে বেড়েই চলেছে করোনার আক্রমণ। এখনও। কমছে না আশঙ্কা। যদিও ভারতের মূত্যুহার তুলনামূলক কম। কিন্তু সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী। ভারতে সবথেকে বড় যে ব্যর্থতা প্রকট হয়েছে, তা হল, দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা চিকিৎসার প্রশাসনিক ম্যানেজমেন্ট চরম বিপর্যস্ত, উপেক্ষিত ও অবহেলিত।
সফলভাবে করোনা ভাইরাসকে আটকে দেওয়া মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে এই নেতাদের সবথেকে বড় যে পার্থক্যটি চোখে পড়েছে, সেটি হল, পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কনসাল্টেশন। মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রায় প্রত্যেকেই এক্সপার্ট গ্রুপ, বিশেষজ্ঞ মেডিকেল প্রফেশনাল, বিজ্ঞানীদের প্যানেল এবং অন্য সফল দেশের ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে, শক্তিশালী হিসেবে পরিগণিত দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রপ্রধানদের দেখা গিয়েছে প্রধানত নিজেদের ব্যক্তিগত যে অ্যাডভাইসর গোষ্ঠী অথবা পছন্দসই বিশেষজ্ঞ প্যানেল, তাঁদের কথাই অনুসরণ করেছেন। ডিসিশন এবং কাউন্টার ডিসিশন পদ্ধতি মানা হয়নি। ফলে এই তাবৎ দেশগুলিতে করোনা নিয়ে লাগাতার বিভ্রান্তি এবং পরস্পর-বিরোধী মতামত ছড়িয়ে পড়েছে। মার্চ মাসে বলা হয়েছে, একটি পথের কথা। এপ্রিল মাসে বলা হয়েছে, অন্য ফরমুলা। ক্রমাগত পরিবর্তিত মডেলের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়েছে সংক্রমণ। গোটা বিশ্বের মিডিয়া, রাজনীতি, সমাজতত্ত্ব, জেন্ডার অ্যানালিস্টের মধ্যে আপাতত জোরদার আলোচনা চলছে, কেন তথাকথিত শক্তিশালী এবং একক ক্যারিশমাসম্পন্ন রাষ্ট্রনেতারা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট অপারদর্শী? লেখা হচ্ছে থিসিস। সংবাদমাধ্যমে চলছে সেমিনার, বিতর্ক, নিবন্ধ রচনা।
স্ক্যান্ডিনিভিয়া রাষ্ট্র হিসেবে যাদের বলা হয়, সেখানে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রবণতা দেখা গেল। পাশাপাশি দেশ। সুইডেনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনকভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। অথচ ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হল ভাইরাসের সংক্রমণকে। এই তিন রাষ্ট্রই মহিলা প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত। ফিনল্যান্ডের সানা মারিনের বয়স মাত্র ৩৪ বছর। এবং মাত্র ৬ মাস আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মার্চ থেকে মে দেড় মাসের মধ্যেই এই দেশের করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রণে। আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
জার্মানির কাছের দেশগুলি তীব্র আতঙ্কে ভুগছে। ইতালি, স্পেন, ব্রিটেন, বেলজিয়াম। অথচ জার্মানির মহিলা চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল একাই আটকে দিয়েছেন করোনার ভয়াবহতাকে। তিনি লজ্জা পাননি দক্ষিণ কোরিয়া মডেল ফলো করতে। মার্কেল নিজেও বিজ্ঞানী। অনেক কম মৃত্যু তাঁর দেশে। ক্যাটরিন জ্যাকবসদোত্তির আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। তিনি মার্চ মাসের শুরুতেই ডিকোড জেনেটিকস নামক একটি বায়োফার্মা সংস্থার সঙ্গে সরকারের চুক্তি সম্পাদন করে ফেলেন। এবং ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই শুরু হয় ঘরে ঘরে করোনা টেস্টিং। আইসল্যান্ডের সাফল্য কী? ইউরোপের মধ্যে সবথেকে কম মৃত্যুহার এই দেশে। ডেনমার্কের মহিলা প্রধানমন্ত্রী মিট ফ্রেডেরিকসনকে লকডাউনের রোলমডেল বলা হচ্ছে। কারণ, তিনি এক মূহূর্ত সময় নষ্ট করেনি। সবার আগে দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন। আর ঘোষণা করেন ইউনিভার্সাল টেস্টিং। চীন থেকে সবথেকে আগে টেস্টিং কিট অর্ডার করে ডেনমার্ক।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন একটি তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেটি হল, এয়ারপোর্টে নামলেই মোবাইল ফোন হ্যান্ডওভার করে দিতে হবে সিকিউরিটি এজেন্টদের। সেই ফোনের জিপিএস সিস্টেম ট্র্যাক করে দেখা হচ্ছিল ওই প্যাসেঞ্জার কবে কোথায় ছিলেন। ঠিক সেই লোকেশন ট্রেস করে করে প্যাসেঞ্জারদের কোয়ারিন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। যাতে এয়ারপোর্ট থেকে তাঁরা শহরে ঢুকতেই না পারেন। সাই ইং ওয়েন সরকারের সেই সিদ্ধান্ত অনেক পর অন্য ‘শক্তিশালী’ নেতাদের দেশ অনুকরণ করেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিনা আর্ডেনকে দেখা গিয়েছিল, মাঝেমধ্যেই নিজের মোবাইল থেকে একটা ক্যাজুয়াল সোয়েট শার্ট পরে নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ফেসবুক লাইভ টেলিকাস্ট করছেন। কোনও প্রোটোকলের মধ্যেই যাননি তিনি। প্রতিদিন তিনি এই লাইভ করে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জানাতেন দেশবাসীকে। ফেব্রুয়ারি থেকে আর্ডেন কোয়ারিন্টাইন শুরু করেছেন। নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুর সংখ্যা কত? মাত্র ১৮। গোটা বিশ্ব তাঁকে বাহবা দিচ্ছে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ নিয়েছেন একটি আশ্চর্য সিদ্ধান্ত। সব রাষ্ট্রপ্রধানরা যেমন বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন, প্রত্যেকের মতামত নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ এসবের সঙ্গে আরও একটি কাজ করেছেন। সেটি হল, তিনি টিন এজারদের মতামত নিয়েছেন। ১০ বছরের কমবয়সি বাচ্চাদের ‘কী করতে ইচ্ছে করছে’,তাদের কী কী প্রবলেম হচ্ছে এসব জানতে চেয়েছেন সরকারিভাবে। প্রধানমন্ত্রী দু’টি প্রেস কনফারেন্স করেছেন, যেখানে অ্যাডাল্ট সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ। শুধুই ১৮ বছরের কম বয়সি নাগরিক স্কুলপড়ুয়াদের ডাকা হয়েছিল সেই প্রশ্নোত্তরে। তাদের বলা হয়েছিল, যা সরকারের থেকে জানতে ইচ্ছা হবে অথবা ক্ষোভ প্রকাশ করতে হবে, সেটা প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলতে।
এই প্রবণতার পাশাপাশি ট্রাম্প, জি জিনপিং, বরিস জনসন, পুতিন, নরেন্দ্র মোদি, বোলসোনারোর মতো তথাকথিত ক্যারিশম্যাটিক এবং প্রবল শক্তিধর ইমেজসম্পন্ন নেতারা তাঁদের দেশের সংক্রমণকে কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না সময়মতো? একটা কমন ফ্যাক্টর হল, এই প্রতিটি রাষ্ট্র দেরি করে রেসপন্স করেছে। অন্য দেশগুলির তুলনায় এই রাষ্ট্রগুলিতে জনসংখ্যা বেশি। সুতরাং অনেক আগে থেকেই সচেতনতা দেখানো উচিত ছিল। কিন্তু এঁরা প্রত্যেকেই আগে থেকে হিসেব কষতে শুরু করেছেন কী করা হলে তাঁর নিজের সাফল্য প্রতিষ্ঠা পাবে। বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এই নেতাদের মধ্যে সাদৃশ্য হল, এঁরা সকলেই প্রায় একক পার্সোনালিটির ভাবমূর্তিতে বিশ্বাসী। দেশের যে কোনও অ্যাচিভমেন্টকে নিজেদের সফলতা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং প্রচারও করেন। আর ব্যর্থতা হলেই বিরোধীদের দিকে অথবা অতীতের অন্য সরকারের ভুল নীতিকে দোষারোপ করেন। এই নেতারা সকলেই প্রায় নিজেদের দলকে গ্রাস করে ফেলেছেন ব্যক্তিগত ইমেজকে দিয়ে। আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টি অথবা ভারতের বিজেপির একটি ঩নিজস্ব অস্তিত্ব এবং পরিচিতি ছিল। কিন্তু ক্রমেই এই দলগুলি হয়ে গিয়েছে ট্রাম্পের পার্টি অথবা মোদির দল। ব্রিটেনে বরিস জনসন ক্ষমতায় এসেছেন ব্রেক্সিটকে সমর্থনের জেরে। তাঁরা সকলেই দেশে প্রবল জনপ্রিয়। বিপুল সমর্থন নিয়েই ভোটে জয়ী হয়েছেন। আগামীদিনেও হয়তা জয়ী হবেন। কিন্তু ক্রাইসিস ম্যানেজে যে দক্ষ নন তাঁরা, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। তাঁরা দেশবাসীকে একটি বার্তা দিতে সদা সচেষ্ট। সেটি হল, এতকাল পর এই প্রথম এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান এসেছেন যিনি দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে রাখেন। এই উচ্চকিত দেশপ্রেমের কথা শুনতে এবং ভাবতে অবশ্য‌ই নাগরিকদের ভালো লাগে। কিন্তু সমস্যার উৎপত্তি হচ্ছে ক্রাইসিস এলে। দেখা যাচ্ছে, একের পর এক ক্রাইসিস যখনই আসছে, তখন আর এই স্বঘোষিত শক্তিশালী নেতারা সেটাকে যথেষ্ট ধৈর্য, যোগ্যতা এবং ধীরস্থিরভাবে সামাল দিতে পারছেন না। কিন্তু, একজন নেতার প্রকৃত সাফল্য হল, তিনি ঠান্ডা মাথায় ক্রাইসিস মোকাবিলায় কতটা দক্ষ। সেটিই তাঁর প্রধান পরীক্ষা। তিনি গোটা বছর ধরে নিজেকে শক্তিশালী এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল হিসেবে উচ্চস্বরে প্রচার করে গেলেন। কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে তাঁর কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এসেছে, তখন তিনি সেই শক্তির প্রমাণ দিতে পারছেন না। ঠিক এখান থেকেই প্রবল ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা ইমেজের।
এখন তাই সবথেকে বড় পরীক্ষা নরেন্দ্র মোদির। চীনের সঙ্গে ভারতের সংঘাত তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এতদিন তিনি ও তাঁর দল জওহরলাল নেহরুকে দুর্বল, ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে এসেছেন ১৯৬২ সালে চীনের কাছে পরাজয়ের জন্য। এবার সময় এসেছে তাঁর নিজেকে প্রমাণের। চীনের চরম আগ্রাসনে তিনি কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সেদিকে তাকিয়ে আছে ১৩৫ কোটি দেশবাসী। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলবে, জওহরলাল নেহরু অন্তত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, চীনের সঙ্গে যুদ্ধ করা হবে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, আমি আমাদের সেনাকে বলেছি চীনকে ছুঁড়ে সীমান্তের এপারে পাঠিয়ে দিতে। সেটা হয়তো ভুল ছিল। ভারত পারেনি, পরাস্ত হয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু সিদ্ধান্তটা অন্তত নেওয়া হয়েছিল। কোনও আপস করা হয়নি। দ্বিধাও নয়। এখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? নেহরুকে অপছন্দ করলেও নেহরুর একটি উচ্চাশার সঙ্গে মোদির সাংঘাতিক মিল। সেটি হল, নেহরু চাইতেন তিনি নিছক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নন, একজন বিশ্বস্তরের স্টেটসম্যান হবেন। তাই তিনি নির্জোট নেতা হয়েছিলেন। মোদিরও ওরকম একটি উচ্চকাঙ্ক্ষা আছে। তিনি অবিকল নেহরুর মতোই সর্বদা বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে অতি বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে সদা তৎপর। চীন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল নেহরুর সঙ্গে। অবিকল এবারও তাই। জি জিনপিং ঠান্ডা মাথায় বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন এবং ভারতের ভূমি দখল করতে মরিয়া। সুতরাং চরিত্রগতভাবে মোদির পক্ষে এটা তো মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কী করবেন তিনি?
কঠোরতায় এখনও রোলমডেল হলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি কোনও রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে বেশি উচ্ছ্বসিত ফোটো সেশন করতেন না। পিতার সঙ্গে গোটা বিশ্ব ঘুরে ঘুরে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল যে, বিদেশনীতি সদা পরিবর্তনশীল। কেউ স্থায়ী বন্ধু নয়, কেউ স্থায়ী শত্রু নয়। একটি বহুল চর্চিত জানা কাহিনী আবার মনে করা যাক। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিংগার ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনে ব্রেকফাস্ট করতে আসার আগে সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশকে ডেকে নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কিসিংগারকে তিনি চা খেতে খেতে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে বলুন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে। ওরা আপনাদের কথা শোনে। আপনারা ব্যবস্থা না নিলে আমাদেরই নিতে হবে। কিসিংগার বলেছিলেন, কী ব্যবস্থা নেবেন? ইন্দিরা গান্ধী হেসে সেনাপ্রধান মানেকশর দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেছিলেন, আমি কেন নেব? উনি নেবেন। কিসিংগার স্তব্ধ হয়ে যান এই ইঙ্গিতে! শুধু মুখেই আস্ফালন করেননি ইন্দিরা গান্ধী। সত্যিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পাকিস্তানকে জবাব দিয়ে আক্রমণ করে ভারত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে ভারতীয় সেনা শুধু পরাজিত করেনি, দেশটাকেই ভেঙে দু’টুকরো করে দেওয়া হয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে চীনকেও ভারতীয় সেনা সিকিমে চরম জবাব দিয়ে পরাস্ত করে। তখনও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।
চীনকে কড়া শিক্ষা দেওয়া হোক সেটা অবশ্যই ভারতবাসী চায়। পদ্ধতি কী হবে? কূটনৈতিক? বাণিজ্যিক? নাকি সামরিক? স্থির করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চীনের বর্তমান আগ্রাসনে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটাও হবে ইতিহাসেরই অংশ!
26th  June, 2020
মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণা: আত্মনির্ভরতার নতুন থিম সং
শান্তনু দত্তগুপ্ত

সেপ্টেম্বর ১, সাল ২০১৩। দিল্লিতে বিজেপির বাইক র‌্যালি। প্রতিবাদ চলছে পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে... ঠুঁটো কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সেই বাইক মিছিল সেদিন রওনা দিয়েছিল দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের বাসভবনের উদ্দেশে।
বিশদ

দায়িত্ব নিন, আলোচনা
করুন, প্ল্যান বানান
পি চিদম্বরম

টিকাকরণ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা হল, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। ৭ জুন, টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’টো ভুল শুধরে নিয়েছেন। আমি মনে করি, এটাই তাঁর ভুল স্বীকার করে নেওয়ার কায়দা।
বিশদ

14th  June, 2021
মমতার নির্দেশে
অভিষেকের মাস্টারস্ট্রোক
হিমাংশু সিংহ

এতদিন বাংলার রাজনীতিতে মাস্টারস্ট্রোক কথাটা শুধু জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই সমার্থক ছিল ষোলোআনা। কিন্তু এখন তার আর এক দাবিদার উপস্থিত। পুত্রসম অভিষেক।
বিশদ

13th  June, 2021
সেলিব্রেটি থেকে সংগঠক,
রাজনীতির নতুন ধারা
তন্ময় মল্লিক

অনেকেই বলে থাকেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন, তৃণমূল ততদিন। তারপর পার্টিটাই আর থাকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার জবাবও দিয়েছেন। তিনি বহুবার বলেছেন, ‘যাঁরা ভাবছেন, আমি চলে গেলে দলটা উঠে যাবে, তাঁরা ভুল ভাবছেন। তৃণমূলের পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি।’ এতদিন তিনি যে কথা মুখে বলতেন, এবার সেটা করে দেখাচ্ছেন।
বিশদ

12th  June, 2021
পুরুষ আধিপত্যের ভিড়ে
সফল শাসক দুই বাঙালি নারী
সমৃদ্ধ দত্ত

রাজনীতির হিসেব-নিকেশ বাদ দিয়ে নিছকই জাতিগত আকাঙক্ষার তাগিদে ২০২৪ সালের দিকে আমরা বাঙালিরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে লক্ষ করব এই জাতিটির জার্নিতে সত্যিই কি একটি নতুন ইতিহাস রচিত হবে? একদা একসঙ্গে থাকা দু’টি পাশাপাশি দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীই কি বাঙালি নারী হবেন? বিশদ

11th  June, 2021
অবলুপ্তির আত্মঘাতী
পথে সিপিএম
মৃণালকান্তি দাস

গোটা দেশের লোক যখন মোদি-মমতার মরণপণ দ্বৈরথ দেখছে, সিপিএম তখন চোখ বন্ধ রেখে বলেছে, ও-সব ‘সেটিং’। আসলে দল তো একটাই, তার নাম বিজেমূল। ছায়ার সঙ্গে এই পুরো যুদ্ধটাই করা হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল বাইনারি ভাঙার নাম করে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। বিজেমূল নামক এই বকচ্ছপ ধারণাটাকে জনতা স্রেফ ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
বিশদ

10th  June, 2021
দেশ নিয়ে মোদির ভাবার
এত সময়ই নেই
সন্দীপন বিশ্বাস

মোদির জনপ্রিয়তার পাড় ভাঙছে। অন্য পাড়ে ক্রমেই জেগে উঠছে মমতা নামের এক নতুন সবুজ, স্বপ্নের ভূমি। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে চোখে চোখ রেখে পাঙ্গা লড়ার শক্তি তিনি আপন ক্ষমতাবলে অর্জন করেছেন। বিশদ

09th  June, 2021
হোক প্রোপাগান্ডা!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

হোক প্রোপাগান্ডা! মন্ত্র লিখতে হবে, কৃষকের জন্য এক। শ্রমিকের জন্য এক। শিক্ষকের জন্য আর এক। কমোন মন্ত্র অবশ্য একটাই—আচ্ছে দিন। ভ্যাকসিন নীতির ঠিকঠিকানা নেই, রাজ্য সরকার প্রাপ্য টাকা পাচ্ছে না, হাসপাতালে বেড নেই, পেট্রল-ডিজেল রোজ ঊর্ধ্বমুখী, জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া... আচ্ছে দিনের ভালো নমুনা বটে।
বিশদ

08th  June, 2021
হাঁড়ির হাল নিয়ে বৃহৎ,
ক্ষুদ্র দু’পক্ষই একমত
পি চিদম্বরম

সার্বিকভাবে পুরো জাতি এবং গড়পড়তা ভারতবাসী, ২০১৭-১৮ সালের যে পজিশন ছিল তারও পিছনে পড়ে গিয়েছে। অর্থনীতিটা ঘেঁটে গিয়েছে এবং তাতে ক্ষতেরও সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রথম কারণ—বিপর্যয় সৃষ্টিকারী নীতিগুলো (যেমন বিমুদ্রাকরণ, বিশৃঙ্খল জিএসটি)। দ্বিতীয় কারণ—কোভিড-১৯। আর তৃতীয় কারণ—অর্থনীতি সামলাতে সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা। 
বিশদ

07th  June, 2021
এক আমলা যখন বাঙালির
আত্মমর্যাদার প্রতীক!
হিমাংশু সিংহ

মুখ্যসচিব হিসেবে তিনি কার নির্দেশ মানতে বাধ্য? আলাপনবাবুর দোষটা কোথায়? তিনি তো কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সচিব নন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব। আসলে কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতা ও এক্তিয়ারের এই সীমাহীন টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন মুখ্যসচিবের করণীয় কী, সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। বিশদ

06th  June, 2021
আলাপনেই শেষ নয়, ফের
আসবে নতুন কোনও ইস্যু
তন্ময় মল্লিক

লোকসভার ভোটের দেরি থাকলেও মোদি-বিরোধী সলতে পাকানো শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে সেই লড়াইয়ের মুখ মমতা। তাই মোদি-অমিত শাহ জুটি তাঁকে চাপে ফেলতে মরিয়া। অস্ত্র একটাই, বিতর্ক তৈরি। তারজন্য শিষ্টাচার, প্রোটোকল, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন, সিবিআই- যা হোক একটা পেলেই হল। বিশদ

05th  June, 2021
কেন আজ ধ্বংসের
মুখোমুখি দীঘা উপকূল
মৃন্ময় চন্দ

দীঘার পূর্ব পরিচিতি ছিল ‘বীরকুল’ নামে। ১৭৮০ সালে দীঘার সৌন্দর্যে মুগ্ধ ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁর স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে পুবের ‘ব্রাইটন’ বলে দীঘাকে উল্লেখ করেছিলেন। ব্রিটিশ পর্যটক ‘জন ফ্রাঙ্ক স্মিথ’ ১৯২৩ সালে দীঘার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে মেলে ধরলেন তার ভুবনমোহিনী ঐশ্বর্যকে। বিশদ

05th  June, 2021
একনজরে
আগামী পয়লা জুলাই পর্যন্ত রাজ্য সরকারি অফিসে ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালানো হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অফিস কর্তৃপক্ষ কর্মীদের রোস্টার তৈরি করে তাঁদের আসার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করবে। ...

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণিকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম নাসির মেহমুদ। ...

মসজিদে নামাজ পরতে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের হাতে প্রহৃত হলেন এক প্রবীণ ব্যক্তি। কেটে দেওয়া হল দাড়ি। প্রহৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল সামাদ। প্রথমে তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত একটি কুঁড়ে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। ...

করোনা আতঙ্কের মধ্যে দেশে কোপা আমেরিকা আয়োজনের বিপক্ষে সুর চড়িয়েছিল ব্রাজিল দল। টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোরও ইঙ্গিতও ছিল নেইমার-কাসেমিরোদের বক্তব্যে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর ভালো যাবে না। সাংসারিক কলহ বৃদ্ধি। প্রেমে সফলতা। শত্রুর সঙ্গে সন্তোষজনক সমঝোতা। সন্তানের সাফল্যে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: জাপানে সুনামিতে ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু
১৯৫০: শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জন্ম
১৯৫৩: চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের জন্ম
১৯৬০: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়
১৯৬৯: জার্মানির গোলকিপার অলিভার কানের জন্ম 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৪৩ টাকা ৭৪.১৪ টাকা
পাউন্ড ১০১.৬৬ টাকা ১০৫.১৭ টাকা
ইউরো ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  June, 2021
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯, ১০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬, ৬০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭, ৩০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৭২, ০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৭২, ১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
14th  June, 2021

দিন পঞ্জিকা

৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১। পঞ্চমী ৪৫/৪ রাত্রি ১০/৫৭। অশ্লেষা নক্ষত্র ৪১/৫৬ রাত্রি ৯/৪২। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৮, সূর্যাস্ত ৬/১৮/১২। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৭ গতে ২/৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ২/৪৪ গতে ৩/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে ৫/২৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৫ গতে ৯/৫০ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে পুনঃ ১/১৭ গতে ২/৫৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৮ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১। পঞ্চমী রাত্রি ৭/৩৬। অশ্লেষা নক্ষত্র রাত্রি ৭/৭। সূর্যোদয় ৪/৫৫, সূর্যাস্ত ৬/২০।  অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ২/৪৮ গতে ৩/৪২ মধ্যে ও ৪/৩৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৩০ গতে ৯/৫৫ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৭ মধ্যে ও ১/১৮ গতে ২/৫৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৪০ গতে ৮/৫৯ মধ্যে। 
৪ জেল্কদ।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের দল ঘোষণা
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নসশিপের ফাইনালের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ...বিশদ

01:03:47 PM

বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভাঙার কাজ শুরু হল পোস্তায়

01:02:00 PM

পানশালার ভিতরে গান বাজনায় অনুমতি দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ বেন্টিক স্ট্রিটের সামনে

12:49:00 PM

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে মঙ্গলবার ভোরে অভিযান ...বিশদ

12:41:50 PM

মায়াবতী পার্টির ৯ জন বিধায়ক দেখা করলেন অখিলেশ যাদবের সঙ্গে: সূত্র 

12:23:39 PM

আজ সন্ধ্যায় দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার 

11:45:00 AM