Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নির্লিপ্তি কেন? এরকম নানা প্রশ্ন বাতাসে ঘুরছে। পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে একটি বিস্মিত এবং আহত মনোভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সত্যি কথা হল, এই যে দেশের এরকম মনোভাবে একটি বৃহৎ অংশের বাঙালি ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হওয়াটাই বরং বেশি বিস্ময়কর! যেন এরকম ঘটনা নজিরবিহীন। যেন ভারতের এই নির্লিপ্ত মনোভাব প্রত্যাশাই করা যায়নি। এই বিস্ময়ের কারণ হল, ইতিহাসবিস্মৃতি। যা এখন বাঙালি জীবনের লেটেস্ট ট্রেন্ড। বাঙালির জীবনে আধুনিক ভারতে যত সর্বনাশ হয়েছে, সেটা এই দেশের আর কোনও জাতির ভাগ্যে ঘটেনি। এবং প্রতিটি সর্বনাশেই দেশ ছিল উদাসীন। একটা উম-পুন নামক সাইক্লোন আসবে এবং তৎক্ষণাৎ গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এই প্রত্যাশা তাই অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। বরাবরই বাংলা যখন একটু আর্থিক, সামাজিক, প্রশাসনিক সুস্থিতির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে, তখনই একটি করে চরম দুর্ভাগ্য আছড়ে পড়েছে এই জাতির উপর। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো অভিঘাত তৈরি করেছে। এরকম ধারাবাহিক দুর্ভাগ্যযাপন ভারতের একটিও রাজ্য ভোগ করেনি।
সবথেকে বড় দুর্ভাগ্য হল, বাঙালি নিজেই সেই দুর্দশাকে মনে রেখে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, এরকম দেখা যায়নি। বরং প্রতিটি সর্বনাশের পরই বাংলার অভ্যন্তর থেকেই সবথেকে বেশি প্রতিবন্ধকতা ও অন্তর্ঘাত এসেছে। যে ট্র্যাডিশন এখনও চলছে। আর বহিরাগত শাসক বরাবরই এই সুযোগটা নিয়ে বাঙালিকে নানারকমভাবে বিভাজিত করার ইন্ধন দিয়েছে। কখনও সম্প্রদায়গতভাবে, কখনও রাজনৈতিক। সেই ফাঁদে বাঙালির একটি অংশ পা দিয়েছে বরাবর। বাংলার সর্বনাশে দেশ উদাসীন, এই প্রবণতা মোটেই নতুন নয়। মন্বন্তর, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশভাগ। ১৭৭০ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়সীমায় প্রধানত এই চারটি মহাসঙ্কট বাঙালি জাতিকে বারংবার অগ্রসর হওয়া থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিদেশি শাসক, রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীরা তো বটেই, প্রকৃতিও ভারতের এই পূর্ব প্রান্তের প্রতি বহুবার নির্দয় আচরণ করেছে।
১৭৬৮ সালে শেষবার সামান্য হলেও একটু বৃষ্টি হয়েছিল। ১৭৬৯ সালে প্রায় হলই না। অক্টোবর মাসেই মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাউন্সিল অফিসে খবর আসতে শুরু করল, মানুষ নাকি না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। ধানের চাষ হয়নি। চরম খরা। নভেম্বর মাসে চাষিরা জানিয়ে দিল, তুঁতে আর তুলোচাষও করা যাবে না। জল নেই। যা সাধারণত ধানের পর করা হয়। ডিসেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদের প্রশাসক রেজা আলি খান কলকাতায় কোম্পানি অফিসে চিঠি পাঠিয়ে বললেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, মানুষ চাল কেনার জন্য সন্তান বিক্রি করতে শুরু করেছে। সবথেকে বেশি অনাহারে মারা যাচ্ছে ভূমিহীন মজুর, মাঝি, ক্ষুদ্রশিল্পীরা। কেউ কিছু করেনি। ১৭৭০ সাল। ফেব্রুয়ারি মাসে চালের দাম ১০ গুণ বৃদ্ধি পেল। তখন আর মন্বন্তর আটকে নেই মুর্শিদাবাদে। কলকাতার রাস্তায় আছড়ে পড়ছে মানুষ। হেঁটে হেঁটে চলে আসছে গ্রামগঞ্জ থেকে ক্ষুধার্ত। জুলাই থেকে নভেম্বর, এই চার মাসে শুধু কলকাতার রাস্তায় কতজন মারা গেল অনাহারে? ৭৬ হাজার! কোম্পানি থেকে বলা হয়েছিল যারা রাস্তা থেকে মৃতদেহ সরিয়ে গঙ্গায় ফেলবে, তারা চাল পাবে। মৃতদেহ সরানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয় নিম্নবর্গের বাঙালির মধ্যে। শুধু মন্বন্তর? বাংলার ভাগ্যকে ধ্বংস করতে তার আগেই হাজির হয়েছিল স্মল পক্স। শুধু মুর্শিদাবাদ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে এসেছিল ৬৩ হাজার মৃত্যুর খবর। স্বয়ং ছোট নবাব সঈফ-উদ-দৌল্লার মৃত্যু হয় স্মল পক্সে। অচিরেই ১২ লক্ষ মানুষের মূত্যু হয়েছিল মন্বন্তরে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেব শস্যের ভাণ্ডার খুলে দিলেও কোম্পানি এই সময়টায় কী করেছিল? খাজনা আদায় বাড়াতে সেপাইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ডিফেন্স বাজেট ২ কোটি পাউন্ড থেকে বাড়ানো হয় ৪৪ শতাংশ। যারা খাজনা দিতে পারেনি অথবা বাধা দিয়েছে, তাদের গাছে গাছে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলশ্রুতি কী? ১৭৭০-৭১ সালে কোম্পানি তাদের লন্ডন হেড কোয়ার্টারে ১০ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৫৫ পাউন্ড ট্যাক্স সংগ্রহ ট্রান্সফার করেছিল। সমস্ত চাল বাজেয়াপ্ত করে বিপুল অর্থ মুনাফা হয়ে গেল ছ’মাসে। যা ছিল রেকর্ড। বাঙালির মৃত্যুও হয়েছিল রেকর্ড। বাংলার মানবসম্পদের বিপুল অংশ ধ্বংস হয়ে গেল অনাহারে।
১৯৪২ সালের ৭ মার্চ, রেঙ্গুন প্রায় জনশূন্য। কারণ জাপানের আক্রমণ। বার্মার চাল বাংলায় নিয়ম করে এসেছে। কিন্তু সেইদিন থেকে বার্মার ওই বিপুল চালের স্টোরেজ ভারতের জন্য বন্ধ হল। ওদিকে সমুদ্র আর স্থলপথে দলে দলে মানুষ ও ব্রিটিশ সেনা বার্মা থেকে পালিয়ে ভারতে ফিরছে। এদের সিংহভাগ কোথায় এসে থাকছে? কিছু অসম, বেশিটাই বাংলায়। প্রথম ছ’মাসে বাংলা নিজের জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত এই ৫ লক্ষ মানুষ ও সেনাকে খাইয়েছে। বাংলার ভাণ্ডারে থাকা অতিরিক্ত কত টন শস্য এভাবে খরচ হয়েছে? দেড় লক্ষ টন! বাকি ভারতের গায়ে কিন্তু আঁচ পড়ছে না। বরং উলটে ভারত থেকে বিদেশে ১৯৪২ সালে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার টন চাল রপ্তানি করে দেয় ব্রিটিশ সরকার। পাশাপাশি জাপানকে আটকাতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? ডিনায়াল পলিসি। বাংলার জেলায় জেলায় জোর করে ধান-চাল কিনে নিতে শুরু করল সরকার। না দিতে চাইলে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি। প্রাথমিক ধাক্কা খুলনা, মেদিনীপুর আর বরিশালে। শুধু এই তিন জেলা থেকেই ৩০ হাজার টন চাল নিয়ে নেওয়া হল। আর ৫ হাজার টন পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাংলার বাইরে। আর এক ধ্বংসাত্মক নীতি। নৌকা অপসারণ। জাপানিরা যাতে নৌকা না পায়, অগ্রসর হতে না পারে, তাই হাজার হাজার নৌকা সাধারণ মানুষের থেকে কেড়ে নেওয়া হল এবং ধ্বংস করা হল। পাঁচ মাসে অন্তত ৪৬ হাজার নৌকা ধ্বংস হল। নৌকা মানে কি? নৌকা মানে নদীমাতৃক বাংলায় চাষ করতে যাওয়া, বীজ আনা-নেওয়া, লেবারদের আসা যাওয়া, মাছ ধরা। অর্থাৎ জীবনযাপনের প্রাথমিক ভিতটাই ধ্বংস। চাষিরা নিজেদের খাবার চাল না রেখেই সরকারকে ভয়ে ভয়ে সব চাল দিয়ে দিতে বাধ্য হল। এসব চাল কোথায় গেল? ২৫ মার্চ ১৯৪৩ সালে বাংলার বিধানসভায় রাজস্বমন্ত্রী প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রশ্নের উত্তরে জানালেন, সরকারের কোনও ধারণাই নেই যে, কীভাবে এজেন্টদের মাধ্যমে গভর্নর চুক্তি করেছিলেন। এমনকী বাংলা থেকে চাল বাইরে রপ্তানি করে দেওয়া হয়েছে এটাও প্রদেশ সরকারের অগোচরে হয়েছে। গভর্নরের নাম ছিল জন আর্থার হার্বার্ট। ব্রিটিশ সরকারের দিল্লির ভাইসরয় অথবা ভারতের সব প্রদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেশ উত্তাল করে দিতে দেখা যায়নি। যদিও জাতীয় কংগ্রেসের সিংহভাগ নেতা তখন জেলবন্দি। কিন্তু অন্য কোনও প্রদেশ থেকে কংগ্রেস অথবা কংগ্রেস বিরোধী কোনও দলের নেতানেত্রীকে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়নি বাঙালির দুঃসময়ে। ১৯৪৩ সালের সেই দুর্ভিক্ষে ভাতের জন্য কী দেখা গিয়েছিল? চলন্ত ট্রেনের সামনে সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলেছে বাবা। স্বামীরা স্ত্রীকে, বাবারা মেয়েকে ঠেলে দিয়েছে শরীর বিক্রি করে চাল আনার জন্য। বগুড়া, জলপাইগুড়িতে দেখা গিয়েছে, গাছের পাতা খেয়ে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। এবং কলকাতার রাস্তায় যখন গড়ে ১২০ জন করে মারা যাচ্ছে অনাহারে, তখন অশোককুমারের ‘কিসমৎ’ হাউসফুল ‘রক্সি’ সিনেমা হলে। কিসমতের ১৯৪৩ সালের বক্স অফিস কালেকশন ছিল ১ কোটি ২৩ হাজার টাকা। ৩০ লক্ষ বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে। মুনাফা করেছিল মজুতদার আর ব্যবসায়ীরা। ভারত ছিল উদাসীন।
মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৯৪৬ সালে কলকাতা আর বাংলায় ছড়িয়ে পড়ল দাঙ্গা। বাংলা একপ্রকার শ্মশান হয়ে যাচ্ছে। নোয়াখালি থেকে কলকাতা। থামেনি সেই দাঙ্গা। ১৯৫০ সালে আবার। লাগাতার। কিন্তু বাকি প্রদেশগুলির হস্তক্ষেপ কোথায়? কেন্দ্রীয় সরকার কতটা মরিয়া হয়ে ঠেকাচ্ছে? আর কারাই বা বাংলার সর্বনাশ ঠেকানোর চেষ্টা না করে শুধু আরও বেশি করে দাঙ্গায় প্ররোচনা দিয়ে চলেছে ওই সময়টায়? এসবই ইন্ধন এসেছে বাংলার বাইরে থেকে। বাকি সব রাজ্য তখন নতুন স্বাধীনতায় কেন্দ্র থেকে বেশি আর্থিক প্যাকেজ জোগাড় করে রাজ্যটাকে সাজিয়ে নিতে আগ্রহী। আর বাংলা ডুবছে অন্ধকারে।
১৯৫০ সালের পর শিয়ালদহ, এসপ্ল্যানেড, ডালহৌসি স্কোয়ারের রাস্তায় রাস্তায় দেখা গেল দু’-চারজন করে যুবতী হাতে বাক্স নিয়ে চাঁদা তুলছেন। উদ্বাস্তু সম্মিলিত বিদ্যালয়ের জন্য। তাদের দেখে কেউ এগিয়ে এসে পয়সা দিয়েছে। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলেছে, সবটাই ধাপ্পা। এই যুবতীরা কেউ ছিল ময়মনসিংহে স্কুলশিক্ষকের মেয়ে, কারও বাবা ছিলেন পাবনার উকিল। এরকম ভিক্ষাবৃত্তির অভ্যাস নেই। তবু এই অপমান সহ্য করে তারা কলোনির স্কুলের বইখাতা কেনা কিংবা স্ট্রাকচার করার জন্য টাকা তুলেছেন চোখের জল লুকিয়ে। দাঁতে দাঁত চেপে। বিধানচন্দ্র রায় এরপরই উদ্যোগী হন উদ্বাস্তুদের স্কুলের জন্য। ১৯৪৯ সালে উদ্বাস্তুদের স্কুলের সংখ্যা ছিল ৩৪০। সেটাই ১৯৬০ সালে বেড়ে হয় ১৪০০। কোথায় তখন কেন্দ্রীয় সরকার? কোথায় বাকি ভারত?
১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩২ লক্ষ উদ্বাস্তু এসেছে। সেই বছরের ১৯ মার্চ সংসদ সদস্যা রেণুকা রায় সংসদে বললেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি ছোট্ট রাজ্যে এত উদ্বাস্তু এসেছে। আমাদের একার পক্ষে কি এই বিপুল চাপ সহ্য করা সম্ভব? ভারতের অন্য রাজ্য কেন ভাগ করে নেবে না? জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল তার আগেই অবশ্য বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে উদ্বাস্তুদের ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কটা রাজ্য নিয়েছে উদ্বাস্তুদের ভার? পাঞ্জাব থেকে দিল্লিতে আসা উদ্বাস্তুদের আজকের আর্থিক স্ট্যাটাস আর বাংলার উদ্বাস্তুদের স্ট্যাটাসে এখনও বিরাট ফারাক। সব চাপ নিতে হয়েছে একা বাংলাকে। শুধু ব্যতিক্রম হিসেবে দণ্ডকারণ্য এবং আন্দামান রয়েছে। অর্থাৎ এই দুই জনমানবশূন্য স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল উদ্বাস্তুদের। দেশ ছিল উদাসীন।
আজ সাইক্লোন আসার পর গোটা দেশ অথবা কেন্দ্রীয় সরকার তাই ইতিহাসগতভাবেই নির্লিপ্ত। গোটা রাজ্যের বহু অংশ ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে। ৬ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকার কত টাকা সাহায্য করল? ১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ক্ষতিপূরণ হিসেবপত্র করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কেন শুরুতে আরও বেশি দেওয়া গেল না? ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ১৯৪৯ সালে জওহরলাল নেহরুকে একটি চিঠি লেখেন অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে। চিঠিতে বলেছিলেন, আপনি যে টাকা বাংলায় আসা ১৬ লক্ষ উদ্বাস্তুর জন্য বরাদ্দ করেছেন, সেটা পাঞ্জাবের উদ্বাস্তু তহবিলের তুলনায় অনেক কম। মাথাপিছু ২০ টাকা হয়! ৭৩ বছর পর উম-পুন নামক একটি সাইক্লোনে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে যে আর্থিক সাহায্য প্রাথমিকভাবে দিয়েছে, সেটা ৬ কোটি ক্ষতিগ্রস্তর জন্য বরাদ্দ ধরা হলে, মাথাপিছু পড়ে ১৬৬ টাকার মতো। অথচ অন্তহীন মানুষ আজ অর্থ, খাদ্য, বাসস্থানে নিঃস্ব।
সুতরাং, মন্বন্তর, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশভাগ কিংবা উম-পুন...। বাংলার সর্বনাশে দেশ চিরকালই উদাসীন।
29th  May, 2020
এবার আপনার ক্রোনোলজি
বোঝার সময়
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ​​​​​

নরেন্দ্র মোদি মুখ... আর চালিকাশক্তি অমিত শাহ। তিনি নরেন্দ্র মোদির চাণক্য... ম্যানেজ মাস্টার। কিন্তু বাণীবর্ষণে তো প্রশাসন চলে না! নিজের পছন্দসই, পেটোয়া লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেও নয়। তাতে শুধু পুতুল নাচ হয়।
বিশদ

‘কারবার শুধু সরকারগুলির সঙ্গে’
পি চিদম্বরম 

শিরোনামের চারটি শব্দে (কারবার শুধু সরকারগুলির সঙ্গে) বিতর্কটাকে বাঁধা উচিত। রাজনৈতিক নেতা (বিরোধী সদস্য এবং মন্ত্রীরা), বিচারপতি, আমলা, ছাত্র, নাগরিক আন্দোলনের কর্মী, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারিতে স্পাইওয়্যার ব্যবহার নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, কথাটা বলছি সেই প্রসঙ্গে।
বিশদ

02nd  August, 2021
আপনার টাকা, আপনার চাকরি কতটা নিরাপদ!
হিমাংশু সিংহ

সোজা কথায় কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই দেশের ব্যাঙ্কিং ও বিমা ক্ষেত্রকে বৃহৎ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার আয়োজন সম্পূর্ণ। এবং তা করা হচ্ছে বুক ফুলিয়ে সংসদে প্রায় কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই।
বিশদ

01st  August, 2021
মোদি-বিরোধী জোটের
মূল কাণ্ডারী মমতা
তন্ময় মল্লিক

মোদি-অমিত শাহের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস দেখানোয় মমতা হয়ে উঠেছেন জাতীয় রাজনীতির চর্চিত চরিত্র। বাংলার নির্বাচনকে ‘প্রেস্টিজ ফাইটে’র জায়গায় নিয়ে যাওয়ায় নরেন্দ্র মোদিই নিজের বিপদ নিজে ডেকে এনেছেন। বাংলায় বিজেপির ভরাডুবির পর থেকেই দেশের মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন, মমতাই পারবেন।
বিশদ

31st  July, 2021
মমতার গতিশীল রাজনীতির
টক্করে ব্যর্থ বিরোধীরা
সমৃদ্ধ দত্ত

 

রাজ্য কংগ্রেস ও সিপিএমের সামনে ব্লাইন্ড লেন। সোনিয়ার সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ, মমতার জোট আহ্বানে সব দলের সবুজ সংকেতের পর এ রাজ্যে এই দু‌ই দলের মমতা বিরোধিতা হাস্যকর। তবু হয়তো এ রাজ্যের বিরোধীরা একটি পথ গ্রহণ করবে। সেটি হল, মমতার দিল্লিমুখী রাজনীতি নিয়ে হাসাহাসি করা, আক্রমণ করা, তাঁকে অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী তকমা দিয়ে কটাক্ষ করা, ব্যঙ্গবিদ্রুপ করা। বিশদ

30th  July, 2021
অগ্নিগর্ভ আফগানিস্তানে
অনিশ্চয়তার দুলুনি!
মৃণালকান্তি দাস

কাবুলে নতুন আফগান পার্লামেন্ট ভবনটিও তৈরি করেছে ভারত। নির্মীয়মান শত শত প্রকল্পের এখন কী হবে? ভারতের নীতি-নির্ধারকরা এখন সেই চিন্তায় অস্থির। তাছাড়া মধ্য এশিয়ার বাজারে ঢুকতে ভারতের জন্য আফগানিস্তান খুবই জরুরি।
বিশদ

29th  July, 2021
মানবাধিকার, গণতন্ত্র যখন অতি স্পর্শকাতর শব্দ
হারাধন চৌধুরী

সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা। আর অত্যন্ত মর্মান্তিক হাল সিরিয়ায়। ভারতের পজিশন ১১১! তার সোজা-সাপ্টা মানে, মোদির ভারতের অবস্থান খারাপের দিকেরই শীর্ষে! আমাদের জন্য দুটি সান্ত্বনা: চীন ও পাকিস্তানের র‌্যাঙ্ক যথাক্রমে ১২৯ ও ১৪০। বিশদ

28th  July, 2021
সাধারণের করের টাকায় নজরদারির শ্রাদ্ধ
শান্তনু দত্তগুপ্ত

প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করেছেন... ভারতের যুব সম্প্রদায়কে যেভাবে ‘মন কি বাত’ আকর্ষণ করছে, তাতে তিনি ভীষণ খুশি। ওলিম্পিকস শুরু হয়েছে। টিভির পর্দায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই এখন একটাই সরকারি স্লোগানে ডুবে, ‘চিয়ার ফর ইন্ডিয়া’... হাত মুঠো করে সামনের দিকে ঘুষি ছুড়তে হবে।
বিশদ

27th  July, 2021
সরকার পক্ষীরাজের পিঠে সওয়ার
পি চিদম্বরম

একজন মন্ত্রী এই মর্মে শপথ নেন যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কোনও অশুভ শক্তিকে ভয় পাবেন না কিংবা পছন্দের কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন না।
বিশদ

26th  July, 2021
 অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বন্ধ্যাত্বের শাপমুক্তি ঘটছে
ডাঃ গৌতম খাস্তগীর

২৫ জুলাই বিশ্ব নলজাতক দিবস যেন সুপ্রজননবিদ্যার অদৃশ্য জয়ধ্বজা ওড়ানোর দিন। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ত্যাগ, তিতিক্ষা, ধৈর্য, অসহিষ্ণুতা জয়, পরিশ্রমের নির্যাস এই বিশেষ দিন, যার পোশাকি নাম ওয়ার্ল্ড ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন ডে। আজকেই তো সেইদিন যখন টাইম মেশিনে চড়ে পিছিয়ে যাওয়া কয়েক দশক।
বিশদ

25th  July, 2021
সংবাদপত্রের উপর আবার আঘাত
হিমাংশু সিংহ

‘গঙ্গা ঝুট নেহি বোলতে’। গঙ্গা কখনও মিথ্যে বলে না। দৈনিক ভাস্করের সম্পাদক ওম গৌড়ের এই প্রতিবেদনটি ঝড় তুলেছিল গোটা দেশে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা, গঙ্গায় সারি সারি লাশের ভেসে যাওয়া, অক্সিজেনের সঙ্কট এবং সর্বোপরি একটা বেডের জন্য এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে ছোটাছুটির জীবন্ত ছবি নিজের কলমে এঁকেছিলেন সম্পাদক ওম গৌড়।
বিশদ

25th  July, 2021
টক্কর নিতে গিয়ে হাসির
খোরাক হচ্ছে বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

প্রতিযোগিতা থাকা ভালো, কিন্তু রেষারেষি মোটেই কাম্য নয়। প্রতিযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যায়, দেয় প্রতিষ্ঠা। রেষারেষিতেও এগনো যায়। তবে, তার মধ্যে থাকে প্রতিশোধ নেওয়ার বাসনা।
বিশদ

24th  July, 2021
একনজরে
চলতি মাসে গৃহঋণের উপর প্রসেসিং ফি মকুব করল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। সাধারণভাবে এই ব্যাঙ্ক হোম লোনের উপর ০.৪০ শতাংশ প্রসেসিং ফি নেয়। তা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নেওয়া হবে না। ...

কলকাতাবাসীর শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি কতটা তৈরি হয়েছে, তা জানতে এবার সমীক্ষা শুরু করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। চিকিৎসা পরিভাষায় যার নাম ‘সেরো সার্ভে’।  ...

ওষুধের দোকানের আড়ালে চলছে মাদক কারবার। প্রধাননগর থানার সহযোগিতায় সিকিম পুলিস দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করার পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, শিলিগুড়িতে ওষুধের ...

হংকংয়ে গণতন্ত্রের দাবিতে সরব হয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক অ্যান্টনি ওং। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল চীনের মদতপুষ্ট হংকংয়ের দুর্নীতি দমন শাখা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের পক্ষে শুভ দিন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলতার সম্ভাবনা। উদাসীনতায় কাজে ও উপার্জনে বাধার আশঙ্কা। বন্ধুর ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১৪: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল জার্মানি
১৯৫৬: ভারতীয় ক্রিকেটার এবং কোচ বলবিন্দর সিং সান্ধুর জন্ম
১৯৫৭ - মহাত্মা গান্ধীর কনিষ্ঠ পুত্র তথা বিশিষ্ট সাংবাদিক দেবদাস গান্ধীর মৃত্যু
১৯৮৪: ভারতীয় ফুটবলার সুনীল ছেত্রীর জন্ম  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৫৯ টাকা ৭৫.৩১ টাকা
পাউন্ড ১০১.৭৪ টাকা ১০৫.২৫ টাকা
ইউরো ৮৬.৮০ টাকা ৯০.০০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮,৬৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,১৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৬,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৮,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৮,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১। দশমী ১৯/২৯ দিবা ১/০। রোহিণী ৫১/১৮ রাত্রি ১/৪৪। সূর্যোদয় ৫/১২/৩১, সূর্যাস্ত ৬/১৩/১। অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ গতে ১০/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে ৫/২১ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৯/৯ গতে ১১/২০ মধ্যে পুনঃ ১/৩২ গতে ৫/২১ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৯/৯ গতে ১১/২০ মধ্যে পুনঃ ১/৩২ গতে ৩/০ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫০ গতে ৮/২৭ মধ্যে পুনঃ ১/২০ গতে ২/৫৮ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৬ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
১৭ শ্রাবণ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১। দশমী দিবা ১২/৩৪। রোহিণী নক্ষত্র রাত্রি ২/১৩। সূর্যোদয় ৫/১১, সূর্যাস্ত ৬/১৬। অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৩ গতে ১০/২৩ মধ্যে ও ১২/৫৬ গতে ২/৩৮ মধ্যে ও ৩/২৮ গতে ৫/১০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪৬ মধ্যে ও ৯/২ গতে ১১/১৭ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/২ মধ্যে। বারবেলা ৬/৪৯ গতে ৮/২৭ মধ্যে ও ১/২২ গতে ৩/০ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৮ গতে ৯/০ মধ্যে। 
২৩ জেলহজ্জ।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে ময়নাগুড়িতে বিক্ষোভ তৃণমূলের
ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ময়নাগুড়ি ১নম্বর ব্লক ...বিশদ

01:32:37 PM

মেদিনীপুরে পুলিস ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে পলাতক ২ বন্দি
মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে তমলুক কোর্টে আনার সময় পুলিস ভ্যান ...বিশদ

01:30:56 PM

মহিষাদলে লক্ষাধিক টাকার লোহার পাইপ চুরি, পাকড়াও ড্রাইভার সহ খালাসি
মহিষাদলের ঝাউপাতরা এলাকা থেকে আইওসির লক্ষাধিক টাকার লোহার পাইপ নিয়ে ...বিশদ

01:21:09 PM

প্রকাশিত হল সিবিএসই-র দশম শ্রেণীর ফল
প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশিত হল সিবিএসই-র দশম শ্রেণির ফল। বেলা ১২টা ...বিশদ

12:12:00 PM

পর পর জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আন্দামান নিকোবর
পর পর জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আন্দামান নিকোবর। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

11:49:26 AM

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেল র‌্যালি রাহুল গান্ধীর
পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ। দিল্লির রাজপথে সাইকেল র‌্যালিতে রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ...বিশদ

11:38:35 AM