Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে আমেরিকার ডালাস থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেবে সেই বিমান। জানা গিয়েছে, দু’টি বোয়িং ৭৭৭ বিমান কিনছে ভারত। খরচ হচ্ছে ৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। যা রীতিমতো পাল্লা দিতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানকেও।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য আকাশপথে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চয় জরুরি। কিন্তু আর্থিক মন্দায় ডুবে থাকা দেশের পক্ষে এখনই এই বিপুল খরচ সত্যিই কি প্রয়োজন ছিল? এই ৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা— কার টাকা?
এই অভূতপূর্ব সঙ্কটকালে দেশের সরকারের প্রধান চিন্তা কী হওয়া উচিত? কীভাবে মারণ ভাইরাসকে পরাস্ত করা যাবে। কীভাবে বিপদ থেকে মুক্ত করা যাবে দেশবাসীকে। বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপায় কী হতে পারে। কত মানুষ কাজ হারাবেন। যাঁরা হারিয়েছেন, কীভাবে কাজ ফিরে পাবেন। এবং দ্বিতীয় চিন্তা, যা আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী, কোথা থেকে আসবে টাকা। অপ্রয়োজনীয় কিংবা আপাতত গুরুত্বহীন খরচ কমিয়ে কীভাবে দেশের অর্থনীতি বাঁচানো যায়। তাই তো?
করোনা সঙ্কটে বেহাল অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়েছিলেন ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার উপর। বলেছিলেন, ‘লোকাল’ নিয়ে ‘ভোকাল’ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় যা করবেন বলেছেন, আর যা করছেন তার মধ্যে ফারাক বিস্তর। দেশের সিংহভাগ মানুষের যেখানে অন্নের নিশ্চয়তা নেই, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক যখন ধ্বস্ত, বেকারত্বের হার সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, সেখানে মোদিজির ‘আত্মনির্ভরতা’-র বুলিকে উচ্চমার্গের রসিকতা ছাড়া কী বলা যায়?
এই মহামারী-দীর্ণ সময়ে দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড কোং কী ভাবলেন, পাঁচ কিস্তির প্রহসনে তা বোঝাই দায়। করোনা প্যাকেজে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া তো দূরের কথা, হিসেবের ছলচাতুরি প্রতিটি ছত্রে ছত্রে। যার শূন্য গুনতে ক্যালকুলেটার বের করেছেন কেউ, কেউ বা হাতড়েছেন গুগল। তারপরও হিসেব মেলাতে গিয়ে গোত্তা খেয়েছেন আমআদমি। তীব্র কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘২০ লক্ষ কোটির প্যাকেজ বিগ জিরো, অশ্বডিম্ব!’ অনেকে ভেবেছিলেন মোদি সরকার করোনা ত্রাণে দেশের নিম্নবিত্ত, গরিব মানুষের হাতে টাকা আর বাড়িতে খাবার প্যাকেট পৌঁছে দেবে। অন্তত কয়েক মাসের জন্যে। পাঁচ কিস্তি শেষে বোঝা গেল সেই গুড়ে বালি। আসলে করোনা পরিস্থিতিতে যারা ভেবেছিলেন যে, বর্তমান বিজেপি সরকার কিছুটা জনদরদী পথে হাঁটবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছিলেন।
২০ লক্ষ কোটির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্প। অথচ গরিব-নিম্নবিত্ত হোক কিংবা ছোট ব্যবসায়ী— কাউকেই কোনও অনুদানই দেওয়া হয়নি। উল্টে আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলায় সকলের জন্য বেশি বেশি করে ঋণ নেওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। যে সৎ কোম্পানি দিনের পর দিন সরকারকে বিপুল ট্যাক্স দিয়ে গিয়েছে, তার জন্য যা নিদান, আর যে কোম্পানি সরকারের ট্যাক্স কীভাবে মারা যায় তা নিয়েই সারা বছর কাঁটাছাড়া করে— তার জন্যও একই ভাবনা। এই ঋণের টাকা কারা পাবেন? এই ঋণের টাকা কীভাবে ফেরত পাবে সরকার? কোনও স্পষ্ট দিশা নেই। অতএব এই টাকা কিছুদিন পরে কতটা তামাদি হবে, তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।
অথচ, কে না জানে, গভীর সঙ্কটের মুখে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। তথ্য বলছে, গত তিন বছরে ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ মোট ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা ফেরত দেননি ৪১৬ জন। ঋণগ্রহীতা পিছু অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ গড়ে প্রায় ৪২৪ কোটি টাকা। আবার বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ১০০ কোটি বা তার বেশি ঋণ ফেরত না দেওয়ায় তাদের ক্ষতি হয়েছে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। শেষ পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ৫০০ কোটি বা তার বেশি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। আরবিআইয়ের ভাষায় এই ঋণগ্রহীতাদের ঋণের অঙ্ক ব্যাঙ্কের হিসেবের খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ঋণ অনদায়ী বা অনুৎপাদক সম্পদ। সংসদে প্রশ্ন ওঠা সত্ত্বেও কেন্দ্র জানায়নি ৫০ জন সর্বোচ্চ ঋণখেলাপির নাম। তথ্যের অধিকার আইনে জানাতে হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। নীরব মোদি, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়া, যতীন মেহতারা আছেন। তালিকায় শেষ সংযোজন, বাবা রামদেব। বিজেপি‌র প্রবল সমর্থক।
এই সঙ্কট–পর্বের সুযোগে ‘নজর’ পড়ল ব্যাপক বেসরকারিকরণে। পাঁচ কিস্তির প্যাকেজ ঘোষণা করার সময় অর্থমন্ত্রীকে দেখে একসময় মনে হচ্ছিল, সরকার যেন এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র বেচে দেওয়ার নীতি নিয়েছে কেন্দ্র। জানিয়ে দিয়েছে, কয়েকটি চিহ্নিত স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনও ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র থাকবে না। স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থাকবে। বাকি সব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হয় সংযুক্তিকরণ হবে, নয়তো বেচে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থার হাতে। এটা ছিল করোনা প্যাকেজের পঞ্চম পর্বের দাওয়াই। অর্থাৎ, সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় সমস্ত সংস্থাগুলিতেই বেসরকারি পুঁজি ঢুকবে। এতটাই যে, সংস্থার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি পুঁজিপতিদের হাতে চলে যাবে। অতএব, কয়লা থেকে অস্ত্র, বিদ্যুৎব্যবস্থা থেকে আকাশসীমা, সবটাই বেসরকারি বিনিয়োগের আবর্তে ঢুকে গেল। ঘরবন্দি মানুষকে আড়ালে রেখে ‘আত্মনির্ভরতা’র নামে ছুরি বসানো হল অর্থনীতিতে, জনজীবনেও।
দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজে সরকারি কোষাগার থেকে দেয় নগদের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১০ শতাংশেরও কম। শুধু তাই-ই নয়, প্যাকেজে এমন অনেক ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাজেটের ব্যয়বরাদ্দে আগেই হয়েছিল। নতুন যে সব প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে, তার মোট মূল্য মাত্র ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। সঙ্কট মোকাবিলা করতে হচ্ছে রাজ্যগুলোকে। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে চিকিৎসা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। রাতারাতি কোভিড হাসপাতাল, কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র, চিকিৎসক–নার্স–স্বাস্থ্যকর্মীদের কিট ও অন্যান্য ব্যবস্থা। বিপুল খরচ। ভয়ঙ্কর চাপ। আপৎকালীন সহায়তা নেই। রাজ্যের প্রাপ্য, নির্ধারিত প্রাপ্যও, পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলার পাওনা ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অন্তত সেই টাকাটা দিয়ে দিলে, রাজ্য আরও ঝাঁপাতে পারত। রাজ্যকে কিছুই দিল না কেন্দ্র। শুধু ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ১৯৭৫ থেকে দু’বছর ইন্দিরা গান্ধী স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালিয়েছিলেন। কিন্তু, রাজ্যগুলোকে বঞ্চিত করা হয়নি। ইন্দিরা গান্ধী গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নগ্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোটাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। ভাঙার খেলায় ইন্দিরাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
বাজার চালাতে হলে আমার আপনার হাতে খরচের টাকা থাকতে হবে। কিন্তু যেখানে বহু মানুষের রোজগারের রাস্তাই বন্ধ, সেখানে খরচ হবে কোথা থেকে? সরকারের সোজা পথ, প্রভিডেন্ট ফান্ডে আপনার দায় কমানো। মূল রোজগারের উপর আপনি দিতেন ১২ শতাংশ, এখন দেবেন ১০ শতাংশ। এতে নাকি মানুষের খরচ করার ক্ষমতা বাড়বে! সাধারণ চাকুরিজীবীর অবসরের পরের ভরসা ওই প্রভিডেন্ট ফান্ডের কয়েকটি টাকা। তার দায় কমলে কিন্তু আসলে চাপ আসবে অবসরের পরে। সঞ্চয় কমবে। আর যে মুহূর্তে আপনার হাতে আয় হিসেবে ওই ২ শতাংশ আসবে, সরকার তার থেকে আয়কর কাটবে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হারেই। লাভ কার? সরকারেরই। আর আখেরে ক্ষতি কিন্তু আপনারই। দেশবাসী ভেবেছিলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য সঙ্কটের মোকাবিলায় ঘোষণা হবে প্যাকেজ। সেখানে স্বাস্থ্য নিয়ে একটি মাত্র ঘোষণাই চোখে পড়েছে। মেডিক‌্যাল আইসোটোপ নিয়ে পারমাণবিক গবেষণা। যা কি না কর্কট রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে। কর্কট রোগের সঙ্গে করোনার কী সম্পর্ক, তা অর্থমন্ত্রীই জানেন!
‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনাকালের তাঁর পঞ্চম ভাষণে ৩৩ মিনিটের মধ্যে গুণে গুণে ২৯ বার ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার কথা বলেছিলেন মোদিজি। সহজ কথায়, বিদেশি পণ্য নয়, দেশীয় পণ্য কিনুন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন, কোন মানুষ নিজের দেশের চাল, ডাল, তেল, নুন, অত্যাবশকীয় জিনিসপত্র ছেড়ে বিদেশি কোম্পানির
পণ্য কেনেন?
দেশকে স্বনির্ভর করতে ‘‌লোকাল’‌ নিয়ে ‘‌ ভোকাল’‌ হওয়ার আবেদনে উত্তর কোরিয়ার স্বৈরতন্ত্রী শাসক কিম জং উনের মিল খুঁজে পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মোদিজিকে মশকরা করে তাঁর ট্যুইট, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনছি। খুব মিল খুঁজে পাচ্ছি উত্তর কোরিয়ায় কিম জংয়ের সঙ্গে।’‌ ট্যুইটার ছেয়ে যায় তির্যক সব মন্তব্যে। কেউ লিখেছেন, ‘‌একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি মেব্যাকের রোদচশমা, মোভ্যাকের ঘড়ি পরেন। মব্ল‌্যাঁ পেনে লেখেন। বিএমডব্লিউ গাড়ি চড়েন। তিনিই আমাকে দেশি জিনিস কিনতে বলছেন। সময়ের সঙ্গে আত্মনির্ভরতার অর্থ বদলায়!‌’‌
এসব ছেড়ে দিন। মোদির গালভরা প্রোজেক্ট ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র কথাই ধরুন। কী অবস্থা? গত ৬ বছরে সবচেয়ে বেশি বিদেশি সংস্থাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। ধনীতম শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি এই কয়েক সপ্তাহেই দেশীয় ব্যবসায় টেনে এনেছেন তিন-তিনটি মার্কিন সংস্থাকে। পেট্রোপণ্যের বাজারে ডেকে আনা হয়েছে সৌদি আরবের আরামকোকে। রাফাল বিমান কেনা হয়েছে ফ্রান্স থেকে। আরও অস্ত্র কেনার বরাত গিয়েছে আমেরিকায়। অথচ, ব্রাত্য থেকে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল। ‌আর এখন সেই সরকারই বলছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার কথা।
মোদিজি বলেছেন, লকডাউন ৪ নাকি রঙিন হবে! আর আমরা ক্রমশ ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’-এ চলে যাচ্ছি। এক অদ্ভুত আঁধার নেমেছে আজ। দেশবাসী বুঝে গিয়েছেন, সঙ্কটকালে আরও ভয়াবহ খবরের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
22nd  May, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
অনেক হারানোর পুজো
হিমাংশু সিংহ

পুজোর ছুটির একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকে। উৎসবের অনেক আগে থেকেই সেই গন্ধে ম ম করে বাংলার গাঁ গঞ্জ থেকে শহর সর্বত্র। সেই গন্ধের সঙ্গে আগমনি মিশে তৈরি হয় অদ্ভুত ঘোর লাগানো একটা অপেক্ষার। মা আসছেন। বাঙালির অনেক না পাওয়া ক্ষতবিক্ষত জীবনে এর চেয়ে পরম প্রাপ্তির আর কিছুই হতে পারে না। সেই অপেক্ষার সঙ্গেই মিশে যায় বিদেশে কাজ করা দত্ত বাড়ির ছেলে, দূরে বিয়ে হওয়া পাশের বাড়ির হেমন্তদার মেয়ের ঘরে ফেরার খুশি। 
বিশদ

18th  October, 2020
করোনা রোখার মন্ত্র ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ 
তন্ময় মল্লিক

করোনা মোকাবিলায় সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলার ও মাস্ককে জীবনসঙ্গী করার পরামর্শ হচ্ছে উপেক্ষিত। সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। সকলের নজর সেই দিকেই। তাতে সাহসী হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে বেপরোয়া ভাব। এগিয়ে আসছে বাংলার ভোট। প্রকট হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতা দখলের বাসনা। করোনার মধ্যেও ইস্যু পেলেই আন্দোলন। না থাকলে তৈরির চেষ্টা। অভিমুখ রাজ্যপাট। তাই কথায় কথায় মিছিল আর লড়াই।  
বিশদ

17th  October, 2020
অতিরিক্ত দিল্লি নির্ভরতাই বঙ্গ-বিজেপির সঙ্কট
সমৃদ্ধ দত্ত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মতো ঝোড়ো আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেননি আর কেউই। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু-স্রোত। এই সঙ্কটের মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। তাঁকে অভীধা দেওয়া হয় বাংলার রূপকার। কিন্তু ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, তিনি কৃষিকে অবহেলা করেছেন। তাঁর ১৪ বছরের শাসনকালে তিনি যতটা উন্নতিসাধন করেছিলেন শিল্পে, সেই তুলনায় কৃষির উন্নয়ন কম হয়েছে।  
বিশদ

16th  October, 2020
ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে সব ব্যর্থতা ঢাকা যায় না 
সন্দীপন বিশ্বাস

ব্যর্থতার এক একটি মাইলস্টোন স্থাপন করতে করতে ক্রমেই অতল খাদের দিকে এগিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অ্যান্ড কোম্পানি। অনেকেই অবশ্য মানবেন না যে খাদটা অতল। কেননা ভোটের এখনও অনেকদিন বাকি। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তার প্রতিদিনই পতন হচ্ছে। সেটা তিনি নিজেও বোঝেন। তাই ইদানীং ছাতি বাজানো, তালি বাজানো বন্ধ করে দিয়েছেন। চেষ্টা করছেন, নানা রকম ভুজুং ভাজুং দিয়ে হারানো গৌরব উদ্ধার করতে।  
বিশদ

14th  October, 2020
ডিজিটাল রঙ্গমঞ্চের কাঠের পুতুল
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ল্যাপটপটা পড়ে আছে টেবিলের উপর। শাটডাউন। খোলা শুধু টপ কভারটা। আপনি অফিস থেকে ফিরে ঘরে ঢুকলেন। জামাকাপড় চেঞ্জ করছেন। এরপর বাথরুম। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে বসলেন বিছানায়...। বন্ধ ঘরে কেউ নেই। কেউ দেখছে না আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো। 
বিশদ

13th  October, 2020
শাস্তি থেকে অব্যাহতির পীঠস্থান উত্তরপ্রদেশ 
পি চিদম্বরম

গত ২০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে এক তরুণী মারা গেলেন। ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এক বয়ানে তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণী নিগৃহীতা এবং ধর্ষিতা হয়েছেন। এই ঘটনায় তরুণী যে চারজনের নামে অভিযোগ এনেছেন তারা তাঁরই গ্রামের ছেলে—উত্তরপ্রদেশে হাতরাস জেলার বুলাগড়ি গ্রামের বাসিন্দা।  
বিশদ

12th  October, 2020
একনজরে
 পুজো নয়, স্যানিটাইজেশনেই জোর দিচ্ছে চকভৃগু প্রগতি সঙ্ঘ। ছোট করে দুর্গাপুজোর আয়োজনের পাশাপাশি বালুরঘাট শহরের এই ক্লাবটি পুজোর দিনগুলিতে পাড়ায় পাড়ায় স্যানিটাইজেশনের কাজ করবে। ...

 একা করোনাতেই রক্ষা নেই। তার উপর দোসর হয়েছে নিম্নচাপ। মহাষষ্ঠীর সকাল থেকেই নীল আকাশ ঢেকে গিয়েছে কালো মেঘে। তবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি নামেনি। ...

সায়ন্ত ভট্টাচার্য, বারাকপুর: দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার বনেদিয়ানা অক্ষরে অক্ষরে যুক্ত। জমিদারবাড়ির দালানে দুর্গাপুজোর আয়োজন এবং সেই উৎসব ঘিরে মেতে থাকতেন গ্রামের বাসিন্দারা। এখন বাংলায় সেরকম ...

ইসলামাবাদ: সিন্ধ প্রদেশের পুলিস ইন্সপেক্টর জেনারেলকে (আইজি) ‘অপহরণ’ ঘিরে উত্তপ্ত পাকিস্তানের বন্দর শহর করাচি। বৃহস্পতিবার পাক রেঞ্জার্সের হয়ে সাফাই দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইজাজ আহমেদ শাহ।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭০৭— ব্রিটেনের প্রথম পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হল
১৯১৭—অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিলেন লেনিন
১৯২৯—নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে মহামন্দার সূচনা
১৯৪৪—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: হাঙ্গেরি প্রবেশ করল সোভিয়েতের লাল ফৌজ
২০০২—মস্কোর থিয়েটারে হানা দিয়ে প্রায় ৭০০ দর্শককে পণবন্দি করল চেচেন জঙ্গিরা
২০১২—সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৫.১২ টাকা ৯৮.৪৭ টাকা
ইউরো ৮৫.৭৬ টাকা ৮৮.৮৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৪১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,১৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৩,০৩০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৩,১৩০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, সপ্তমী ৩/১৩ দিবা ৬/৫৭। উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র ৪৯/২৯ রাত্রি ১/২৮। সূর্যোদয় ৫/৪০/১৮, সূর্যাস্ত ৫/১/৪৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৫৪ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৯ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৩০ গতে ১১/২১ মধ্যে। পূর্বাহ্ন ৬/৫৭ মধ্যে শারদীয়া দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন। 
৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, সপ্তমী দিবা ১১/৫৭। পূর্বষাঢ়া নক্ষত্র দিবা ৬/৫১। সূর্যোদয় ৫/৪১, সূর্যাস্ত ৫/৩। অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে ও ৭/১৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে ও ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে ও ৩/২৩ গতে ৫/৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪০ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ৩/১৫ মধ্যে ও ৪/৭ গতে ৫/৪২ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩২ গতে ১১/২২ মধ্যে। দিবা ৮/৩২ মধ্যে শারদীয়া দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন। রাত্রি ১০/৫৮ গতে ১১/৪৬ মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রবিহিত পূজা। 
৫ রবিয়ল আউয়ল। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শারদ শুভেচ্ছা ও ছুটি 
মহামারীর বিষাদ, আক্ষেপের সময়ে এই ধরিত্রীতে আপামর মানুষকে রক্ষা করতে ...বিশদ

05:00:00 AM

 আইপিএল : রাজস্থান রয়্যালস-এর বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জয়ী সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

22-10-2020 - 11:13:45 PM

 আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১১৮/২ (১৫ ওভার)

22-10-2020 - 10:41:55 PM

 আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৪০/২ (৫ ওভার)

22-10-2020 - 09:57:28 PM

আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ১৫৫ রানের টার্গেট দিল রাজস্থান রয়্যালস 

22-10-2020 - 09:24:17 PM

আইপিএল: রাজস্থান রয়্যালস ১০৫/৩ (১৫ ওভার) 

22-10-2020 - 08:45:13 PM