Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম। কিন্তু বন্ধ ঘরের আশ্রয় এত দীর্ঘ হয়ে গেল যে তার ধাক্কায় স্তব্ধ অর্থনীতির চাকা। অতএব অনিবার্য হয়ে উঠেছে অর্থনীতির চাকায় ফের গতিসঞ্চারের মরিয়া চেষ্টা। ধীর পদক্ষেপেও সেটা করতে গিয়ে আতঙ্ক গ্রাস করছে—লকডাউনের এত কৃচ্ছ্রসাধন পুরো জলে চলে যাবে না তো! উহান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি জায়গার অভিজ্ঞতা তো তেমনই। দিন যত এগচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে করোনা নামক মায়া-হস্তির সামনে আমরা সকলে রকমারি অন্ধ-দর্শক। একের সঙ্গে অন্যের পর্যবেক্ষণ বিশেষ মিলছে না। আজকের ‘দৃঢ়’ উপলব্ধি কালই নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। ক্রমে যেন কুয়াশার মতো হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিষেধক উদ্ভাবনের উচ্চাশা। বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের আপাতত অভিমত হল, করোনা নিয়েই আমাদের চলতে হবে, বাঁচতে হবে—জীবনের আর পাঁচটি স্বাভাবিক সমস্যাকে সঙ্গী করে নিয়ে যেমন দিব্য চলেছি আমরা! এমনটা শোনার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। এ কোনও সামান্য দুঃসংবাদ নয়, বিরাট এক ধাক্কা, যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত! তবে মানুষের অন্বেষণ প্রবৃত্তি ও প্রবণতায় পূর্ণচ্ছেদ বলে কিছু হয় না। প্রতিষেধক আবিষ্কারে মানুষ এখনও মরিয়া—আন্তরিকভাবে লড়ে যাচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপের পাশাপাশি চীন এবং ভারতও। জীবিকায় ফিরতে ক্ষেত্রবিশেষে লকডাউন শিথিল করা নিয়েও একাধিক মত বেরিয়ে আসছে। সোজা কথায়, তীব্র আজ জীবনের সঙ্গে জীবিকার অভূতপূর্ব এক লড়াই। যদিও এই লড়াই প্রতিনিয়ত জয়ের সঙ্কেতই দিচ্ছে—মানুষকে জীবিকায় ফিরিয়ে আনার প্রেরণা জুগিয়ে। জীবনের ধ্বজা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার সূত্র-সন্ধানে গতি আসছে। আরও সহজ করে বলা যায়, জীবন ও জীবিকা নামক দু’কূল রক্ষার এক কুশলী খেলায় জিততে চলেছি আমরা।
ভাবছি বটে, কিন্তু মোটেই সহজ নয়। তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। কারণ ১ ফেব্রুয়ারি নির্মলা সীতারামন যে বাজেট ২০২০-২১ পেশ করেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে তার প্রাসঙ্গিকতা অনেকখানি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনুমিত রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাস্তবে সামান্য এক ভগ্নাংশে নেমে আসবে। বিরাট ধাক্কা খাবে আর্থিক বৃদ্ধি বা অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন (জিডিপি)। অন্যদিকে, চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং নয়া আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে আকাশ ছোঁবে সরকারি ব্যয়ের বহর। রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণ হবে পূর্বানুমানের দ্বিগুণের বেশি। সুতরাং আয়-ব্যয়ের হিসেব-নিকেশ মাঝপথে নতুন করে রচনা করার অবকাশ তৈরি হয়েছে বলা যায়, যাকে ‘চলতি বছরের বিশেষ করোনা বাজেট’ হিসেবেই গণ্য করা যায়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের জন্য সর্বমোট ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন—তার ভিতরে কতটা আত্মনির্ভরতা অর্জনের মন্ত্র রয়েছে অথবা সেটি কতটা পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ তা নিয়ে তরজা অব্যাহত। করোনা বাগে আসার পরেও হয়তো তা থামবে না। কিন্তু তাতে আম জনতার কিছু যায় আসে না। মানুষের জিজ্ঞাসার বিষয় একটাই—এটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত করোনা বাজেট? এই প্যাকেজ বা বলা ভালো মহামারী বাজেট কি আমাদের মোটামুটিভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম? অর্থনীতির চাকা সামনে গড়িয়ে নিয়ে যেতে এই ঘোষণা কি যথেষ্ট?
কতকগুলি সংখ্যা, পরিসংখ্যান, তথ্য সপ্তাহ কয়েক যাবৎ শিল্প-অর্থনীতি মহলে ঘুরছে।
গত ১৭ মে দেশে বেকারত্বের হার (৩০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ) ছিল ২৩.৮৮ শতাংশ। সংখ্যাটিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়: শহরাঞ্চলে ২৬.৩ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ২২.৮ শতাংশ। [সূত্র: সিএমআইই] এর থেকে এই ধারণা হয় যে, করোনা পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলের মানুষ বেশি খারাপ আছেন। সিএমআইই সম্প্রতি আরও খারাপ খবর দিয়েছে যে, ২০+ বয়সি ২ কোটি ৭০ লক্ষ যুবক-যুবতী কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদে এর ফল যে মারাত্মক হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য কিছু শূন্যপদের জন্য তাঁদেরকে এবার নতুনদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। সিআইআইয়ের অভিমত হল: ৫২ শতাংশ শিল্প-বাণিজ্য সংস্থার ১৫-৩০ শতাংশ কর্মীকে চাকরি খোয়াতে হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আর্থার ডি লিটলের আশঙ্কা, এই দফায় ভারতের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের চাকরিতে কোপ পড়তে পারে। মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার কারণে নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারেন ১২ কোটি নরনারী। তাঁদের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন শহর-গ্রাম মিলিয়ে ৪ কোটি মানুষ।
অন্য কিছু তথ্য হল: কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী মহামারী হয়ে ওঠার জন্য প্রায় সারা পৃথিবী চীনকে ভয়ানক সন্দেহের চোখে দেখছে। বলা বাহুল্য, চীন এই মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত গতির অর্থনীতি। ক্রমোন্নত আর্থিক ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান চীন অহরহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্প সাহেবের দাদাগিরি অস্বীকার করার স্পর্ধা দেখায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য-যুদ্ধে নেমেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরাগভাজন হয়েছেন জি জিনপিং। কোভিড-১৯-কে হাতিয়ার করে চীনকে শায়েস্তা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিধ্বস্ত আমেরিকা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক ছিন্ন করার চিন্তাও ঘুরছে তাদের মাথায়। মনে রাখা দরকার, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি (মোট আমদানির ২১ শতাংশের বেশি) করে যে দেশ থেকে তার নাম চীন। তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাণিজ্যেও চীনের গুরুত্ব বিরাট: আমেরিকার তৃতীয় বৃহৎ রপ্তানি বাজার। ২০১৮-র হিসেবে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ৭৩৭ বিলিয়ন ডলারের অধিক। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৩৭৯ বিলিয়ন ডলার! প্রভাবশালী মার্কিন সেনেটরদের একাংশ এখানেই ক্ষান্ত হতে চান না। তাঁরা চান, ২০২২ সালের শীতকালীন ওলিম্পিকস সংগঠনের দায়িত্ব বেজিংয়ের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার বন্দোবস্তটি পাকা করতে। আর এই পুরো ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে দুই বৃহৎ শক্তির মিডিয়া-যুদ্ধও ‘রণং দেহি’ রূপ নিয়েছে। ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফোরাম সূত্রে আগেই খবর ছিল, শ’দুয়েক মার্কিন বাণিজ্য সংস্থা (কর্পোরেশন) তাদের উৎপাদন কেন্দ্র চীন থেকে ভারতে স্থানান্তরিত করা যায় কি না ভাবছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানেরও কিছু কোম্পানি মুখিয়ে আছে ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে সরে যেতে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন প্রভৃতি উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত এক সংস্থা (যার সদর দপ্তর তাইওয়ানে) তাদের সাপ্লাই চেন অব্যাহত রাখার প্রয়াসে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ পুঁজি চীন থেকে সরিয়ে ভারত, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোতে বিনিয়োগ করেছে। যেসমস্ত কোম্পানি চীন ছাড়তে চাইবে তাদের উৎসাহদানের জন্য জাপান ইতিমধ্যেই ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। জাপানের লক্ষ্য ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে আকর্ষণ করা।
টানা লকডাউনের কারণে বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা কমে গিয়েছে। ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাসের বাজার বিশেষভাবে আমদানি-নির্ভর। ২০১৯-এ মোট তেলের চাহিদার ৮৪ শতাংশ এবং মোট গ্যাসের চাহিদার ৫৩ শতাংশ আমদানি করা হয়। লকডাউনকালে চাহিদা বিপুলভাবে ধাক্কা খেয়েছে, আবার দামেও ঘটেছে রেকর্ড পতন। তার ফলে ভারতের তেল আমদানির খরচ ইতিমধ্যেই ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। এটা একদিক থেকে কোনও অর্থনীতির জন্যই সুখবর নয়, ভারতের জন্যও নয়। কারণ ভারতেরও নিজস্ব অয়েল মার্কেট রয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও থাকে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যতদিন তলানিতে থাকে ভারতের লাভ অবশ্যই। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, তেল বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ভিতরে ভিতরে ভারসাম্যের দিকে পা বাড়াতে শুরু করেছে, যদিও স্বভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২২ হয়ে যেতে পারে।
লগ্নি আকর্ষণের প্রশ্নে চীন যে সুবিধাগুলি ভোগ করে তার বেশিরভাগ ভারতেরও রয়েছে: পরিশ্রমী, মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, অনুকূল প্রকৃতি, বিরাট অভ্যন্তরীণ বাজার। ভারতের বাড়তি রয়েছে—কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো ইংরেজি জানা বিরাট কর্মিদল। তার পরেও কি ভারত এই সামগ্রিক পরিস্থিতির সুযোগ নিতে প্রস্তুত? চীনকে বাদ দিলে মাথায় রাখতে হবে ভারতের একাধিক নিকট প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম—ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি। শিল্প-বান্ধব প্রশাসন এবং যুগোপযোগী কর্মসংস্কৃতির সৌজন্যে তারা ইতিমধ্যেই নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে। তবে, তাদের শিল্প-বাণিজ্য মূলত রপ্তানি-বাজার-নির্ভর, যেখানে ভারত অভ্যন্তরীণ চাহিদায় দশ গোল এগিয়ে থেকে খেলাটা শুরু করতে পারে। তবুও ভারতে লগ্নি করার আগে বিদেশিরা এখানকার গণতন্ত্রের নামে যা-খুশি করার প্রবণতা, জমি অধিগ্রহণের সীমাহীন জটিলতা, পুঁজির কাছে না-পছন্দ শ্রমনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে পাঁচবার ভাবেন। দ্বন্দ্বদীর্ণ কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের কারণে এসব সমস্যা জটিলতর হয় হামেশা।
এই সব সমস্যা সমাধানে দরকার কয়েকটি ইতিবাচক মনোভাব: (এক) কেন্দ্রীয় শাসকরা ফেডারেল শাসনতন্ত্র এবং বিকেন্দ্রীকরণের নীতিতে শ্রদ্ধাশীল হবেন। কারণে অকারণে বিরোধ নয়, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত বৃদ্ধি কাম্য। (দুই) ছোট-বড় সমস্ত রাজনৈতিক দল শুধু মানুষের স্বার্থে রাজনীতির অনুশীলনে অভ্যস্ত হবে। (তিন) তৃণমূল স্তরে খোঁজ-খবর নিয়ে দেশের শ্রমশক্তির প্রকৃত চিত্র জানা চাই। নির্ভরযোগ্য তথ্য (ডেটা) ছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা করা আর হাওয়ায় ভেসে বেড়ানোর মধ্যে তফাত কিছু নেই। করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে মজবুত স্ট্যাটিস্টিক্যাল ক্যাপাসিটি গড়তেই হবে। (চার) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদের ধারাবাহিক উন্নয়নে আন্তরিকতা ভীষণ ভীষণ জরুরি। মনে রাখতে হবে, অপুষ্টির হার এবার অনেক বাড়বে। তার প্রভাবে ভয়ানক চেহারা নিতে পারে অন্য একাধিক রোগ-সংক্রমণেরও বৃদ্ধি। যেন একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর! (পাঁচ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার দ্রুত বাড়াতেই হবে, পৌঁছে দিতে হবে সমস্ত পরিবারের কাছে, যাতে ডিজিটাল সমাজ ও অর্থনীতি গড়ার পথে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে আগামী দু’বছরে।
তাহলে অংশত অনুমাননির্ভর যাবতীয় সংখ্যা, পরিসংখ্যান, তথ্য ও তত্ত্বের ভীতিপ্রদ জাল কেটে করোনা-পরবর্তী ভারত অবশ্যই মাথা তুলে
দাঁড়াবে। এতকিছুর পরেও বলব, উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে ভারত তুলনামূলকভাবে ভালো জায়গায় আছে। ভারত যেমন পরিস্থিতির শিকার, তেমন পরিস্থিতিরই সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের প্রিয় দেশ।
21st  May, 2020
অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
সন্তোষকুমার ঘোষ: অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, প্রচণ্ড
ক্ষমতাবান সাহিত্যিক ও যুগান্তকারী সাংবাদিক
বরুণ সেনগুপ্ত

খবরের কাগজ সাধারণ মানুষের জন্য। তাই সাধারণ মানুষ যেসব খবরে আগ্রহী সেইগুলিই বেশি করে লেখা উচিত। অথবা যেমন, খবরের কাগজে যা লেখার তা সোজাসুজি লেখা উচিত। ‘এটাও হয় ওটাও হয়’ গোছের ব্যাপার নয়। এই জিনিসগুলি হাতেকলমে শিখেছি সন্তোষকুমার ঘোষের কাছে।
বিশদ

13th  September, 2020
সিবিআইয়ের বন্দিদশা কাটবে কবে?
হিমাংশু সিংহ

 সুশান্তের মৃত্যু হয় ১৪ জুন। আর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার পর ঠিক তিন মাস অতিক্রান্ত। প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু রহস্যের তদন্তে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার তল খুঁজে পাচ্ছেন না তুখোড় সিবিআই গোয়েন্দারাও। কিংবা বলা ভালো, সত্যি তল খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে কি?
বিশদ

13th  September, 2020
একনজরে
জেনিভা: করোনার জেরে স্থগিত হল ২০২০ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। শুক্রবার ফিফার সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে এবছরের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজেরও এবার পরীক্ষা হবে ‘গবেষণাগারে’! এমনই পরিকল্পনা নিল পঞ্চায়েত দপ্তর। লক্ষ্য মূলত দু’টি। এক, অসাধু ঠিকাদার কিংবা নির্মাণকারী সংস্থার ফাঁকিবাজি রুখে কাজের গুণগতমান বজায় রাখা।   ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কালচিনির ডিমা চা বাগানের বিচ লাইন থেকে শনিবার সকালে বনকর্মীরা একটি অজগর উদ্ধার করেন। এদিন সকালে বাগানের জমিতে প্রায় আট ফুট লম্বা অজগরটিকে দেখে শ্রমিকরা বনদপ্তরের নিমাতি রেঞ্জে খবর দেয়।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পূর্বা দামের জীবনাবসান হল। শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৮: চিত্রপরিচালক মহেশ ভাটের জন্ম
২০০৪: চিত্রপরিচালক সলিল দত্তের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া ০/২৮ প্রাতঃ ৫/৩৯ পরে চতুর্থী ৫২/২৮ রাত্রি ২/২৮। স্বাতীনক্ষত্র ৪৩/২৯ রাত্রি ১০/৫২। সূর্যোদয় ৫/২৮/১৮, সূর্যাস্ত ৫/৩১/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৫৫ গতে ৪/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/১ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
৩ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া দিবা ১০/২। চিত্রানক্ষত্র দিবা ৬/১৫ পরে স্বাতীনক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৩৫। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৮ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৪১ গতে ৪/২৮ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫১ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
মোসলেম: ২ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজ্যে করোনা পজিটিভ আরও ৩,১৭৭ জন 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩,১৭৭ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

08:18:20 PM

আইপিএল: দিল্লি ৬ ওভারে ২৩/৩ 

08:08:47 PM

আইপিএল: টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পাঞ্জাবের 

07:13:06 PM

১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যে ট্রাক ধর্মঘট 

05:37:00 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত?  
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

04:45:13 PM

উত্তরপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ৫,৮০৯ জন, মৃত ৯৪ 

04:32:47 PM