Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম। কিন্তু বন্ধ ঘরের আশ্রয় এত দীর্ঘ হয়ে গেল যে তার ধাক্কায় স্তব্ধ অর্থনীতির চাকা। অতএব অনিবার্য হয়ে উঠেছে অর্থনীতির চাকায় ফের গতিসঞ্চারের মরিয়া চেষ্টা। ধীর পদক্ষেপেও সেটা করতে গিয়ে আতঙ্ক গ্রাস করছে—লকডাউনের এত কৃচ্ছ্রসাধন পুরো জলে চলে যাবে না তো! উহান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি জায়গার অভিজ্ঞতা তো তেমনই। দিন যত এগচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে করোনা নামক মায়া-হস্তির সামনে আমরা সকলে রকমারি অন্ধ-দর্শক। একের সঙ্গে অন্যের পর্যবেক্ষণ বিশেষ মিলছে না। আজকের ‘দৃঢ়’ উপলব্ধি কালই নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। ক্রমে যেন কুয়াশার মতো হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিষেধক উদ্ভাবনের উচ্চাশা। বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের আপাতত অভিমত হল, করোনা নিয়েই আমাদের চলতে হবে, বাঁচতে হবে—জীবনের আর পাঁচটি স্বাভাবিক সমস্যাকে সঙ্গী করে নিয়ে যেমন দিব্য চলেছি আমরা! এমনটা শোনার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। এ কোনও সামান্য দুঃসংবাদ নয়, বিরাট এক ধাক্কা, যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত! তবে মানুষের অন্বেষণ প্রবৃত্তি ও প্রবণতায় পূর্ণচ্ছেদ বলে কিছু হয় না। প্রতিষেধক আবিষ্কারে মানুষ এখনও মরিয়া—আন্তরিকভাবে লড়ে যাচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপের পাশাপাশি চীন এবং ভারতও। জীবিকায় ফিরতে ক্ষেত্রবিশেষে লকডাউন শিথিল করা নিয়েও একাধিক মত বেরিয়ে আসছে। সোজা কথায়, তীব্র আজ জীবনের সঙ্গে জীবিকার অভূতপূর্ব এক লড়াই। যদিও এই লড়াই প্রতিনিয়ত জয়ের সঙ্কেতই দিচ্ছে—মানুষকে জীবিকায় ফিরিয়ে আনার প্রেরণা জুগিয়ে। জীবনের ধ্বজা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার সূত্র-সন্ধানে গতি আসছে। আরও সহজ করে বলা যায়, জীবন ও জীবিকা নামক দু’কূল রক্ষার এক কুশলী খেলায় জিততে চলেছি আমরা।
ভাবছি বটে, কিন্তু মোটেই সহজ নয়। তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। কারণ ১ ফেব্রুয়ারি নির্মলা সীতারামন যে বাজেট ২০২০-২১ পেশ করেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে তার প্রাসঙ্গিকতা অনেকখানি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনুমিত রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাস্তবে সামান্য এক ভগ্নাংশে নেমে আসবে। বিরাট ধাক্কা খাবে আর্থিক বৃদ্ধি বা অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন (জিডিপি)। অন্যদিকে, চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং নয়া আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে আকাশ ছোঁবে সরকারি ব্যয়ের বহর। রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণ হবে পূর্বানুমানের দ্বিগুণের বেশি। সুতরাং আয়-ব্যয়ের হিসেব-নিকেশ মাঝপথে নতুন করে রচনা করার অবকাশ তৈরি হয়েছে বলা যায়, যাকে ‘চলতি বছরের বিশেষ করোনা বাজেট’ হিসেবেই গণ্য করা যায়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালের জন্য সর্বমোট ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন—তার ভিতরে কতটা আত্মনির্ভরতা অর্জনের মন্ত্র রয়েছে অথবা সেটি কতটা পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ তা নিয়ে তরজা অব্যাহত। করোনা বাগে আসার পরেও হয়তো তা থামবে না। কিন্তু তাতে আম জনতার কিছু যায় আসে না। মানুষের জিজ্ঞাসার বিষয় একটাই—এটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত করোনা বাজেট? এই প্যাকেজ বা বলা ভালো মহামারী বাজেট কি আমাদের মোটামুটিভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম? অর্থনীতির চাকা সামনে গড়িয়ে নিয়ে যেতে এই ঘোষণা কি যথেষ্ট?
কতকগুলি সংখ্যা, পরিসংখ্যান, তথ্য সপ্তাহ কয়েক যাবৎ শিল্প-অর্থনীতি মহলে ঘুরছে।
গত ১৭ মে দেশে বেকারত্বের হার (৩০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ) ছিল ২৩.৮৮ শতাংশ। সংখ্যাটিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়: শহরাঞ্চলে ২৬.৩ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ২২.৮ শতাংশ। [সূত্র: সিএমআইই] এর থেকে এই ধারণা হয় যে, করোনা পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলের মানুষ বেশি খারাপ আছেন। সিএমআইই সম্প্রতি আরও খারাপ খবর দিয়েছে যে, ২০+ বয়সি ২ কোটি ৭০ লক্ষ যুবক-যুবতী কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদে এর ফল যে মারাত্মক হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য কিছু শূন্যপদের জন্য তাঁদেরকে এবার নতুনদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। সিআইআইয়ের অভিমত হল: ৫২ শতাংশ শিল্প-বাণিজ্য সংস্থার ১৫-৩০ শতাংশ কর্মীকে চাকরি খোয়াতে হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আর্থার ডি লিটলের আশঙ্কা, এই দফায় ভারতের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের চাকরিতে কোপ পড়তে পারে। মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার কারণে নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারেন ১২ কোটি নরনারী। তাঁদের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন শহর-গ্রাম মিলিয়ে ৪ কোটি মানুষ।
অন্য কিছু তথ্য হল: কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী মহামারী হয়ে ওঠার জন্য প্রায় সারা পৃথিবী চীনকে ভয়ানক সন্দেহের চোখে দেখছে। বলা বাহুল্য, চীন এই মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত গতির অর্থনীতি। ক্রমোন্নত আর্থিক ও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান চীন অহরহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্প সাহেবের দাদাগিরি অস্বীকার করার স্পর্ধা দেখায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য-যুদ্ধে নেমেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরাগভাজন হয়েছেন জি জিনপিং। কোভিড-১৯-কে হাতিয়ার করে চীনকে শায়েস্তা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিধ্বস্ত আমেরিকা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক ছিন্ন করার চিন্তাও ঘুরছে তাদের মাথায়। মনে রাখা দরকার, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি (মোট আমদানির ২১ শতাংশের বেশি) করে যে দেশ থেকে তার নাম চীন। তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাণিজ্যেও চীনের গুরুত্ব বিরাট: আমেরিকার তৃতীয় বৃহৎ রপ্তানি বাজার। ২০১৮-র হিসেবে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ৭৩৭ বিলিয়ন ডলারের অধিক। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৩৭৯ বিলিয়ন ডলার! প্রভাবশালী মার্কিন সেনেটরদের একাংশ এখানেই ক্ষান্ত হতে চান না। তাঁরা চান, ২০২২ সালের শীতকালীন ওলিম্পিকস সংগঠনের দায়িত্ব বেজিংয়ের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার বন্দোবস্তটি পাকা করতে। আর এই পুরো ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে দুই বৃহৎ শক্তির মিডিয়া-যুদ্ধও ‘রণং দেহি’ রূপ নিয়েছে। ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফোরাম সূত্রে আগেই খবর ছিল, শ’দুয়েক মার্কিন বাণিজ্য সংস্থা (কর্পোরেশন) তাদের উৎপাদন কেন্দ্র চীন থেকে ভারতে স্থানান্তরিত করা যায় কি না ভাবছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানেরও কিছু কোম্পানি মুখিয়ে আছে ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে সরে যেতে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন প্রভৃতি উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত এক সংস্থা (যার সদর দপ্তর তাইওয়ানে) তাদের সাপ্লাই চেন অব্যাহত রাখার প্রয়াসে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ পুঁজি চীন থেকে সরিয়ে ভারত, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোতে বিনিয়োগ করেছে। যেসমস্ত কোম্পানি চীন ছাড়তে চাইবে তাদের উৎসাহদানের জন্য জাপান ইতিমধ্যেই ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। জাপানের লক্ষ্য ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে আকর্ষণ করা।
টানা লকডাউনের কারণে বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা কমে গিয়েছে। ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাসের বাজার বিশেষভাবে আমদানি-নির্ভর। ২০১৯-এ মোট তেলের চাহিদার ৮৪ শতাংশ এবং মোট গ্যাসের চাহিদার ৫৩ শতাংশ আমদানি করা হয়। লকডাউনকালে চাহিদা বিপুলভাবে ধাক্কা খেয়েছে, আবার দামেও ঘটেছে রেকর্ড পতন। তার ফলে ভারতের তেল আমদানির খরচ ইতিমধ্যেই ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। এটা একদিক থেকে কোনও অর্থনীতির জন্যই সুখবর নয়, ভারতের জন্যও নয়। কারণ ভারতেরও নিজস্ব অয়েল মার্কেট রয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও থাকে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যতদিন তলানিতে থাকে ভারতের লাভ অবশ্যই। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, তেল বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ভিতরে ভিতরে ভারসাম্যের দিকে পা বাড়াতে শুরু করেছে, যদিও স্বভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২২ হয়ে যেতে পারে।
লগ্নি আকর্ষণের প্রশ্নে চীন যে সুবিধাগুলি ভোগ করে তার বেশিরভাগ ভারতেরও রয়েছে: পরিশ্রমী, মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, অনুকূল প্রকৃতি, বিরাট অভ্যন্তরীণ বাজার। ভারতের বাড়তি রয়েছে—কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো ইংরেজি জানা বিরাট কর্মিদল। তার পরেও কি ভারত এই সামগ্রিক পরিস্থিতির সুযোগ নিতে প্রস্তুত? চীনকে বাদ দিলে মাথায় রাখতে হবে ভারতের একাধিক নিকট প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম—ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি। শিল্প-বান্ধব প্রশাসন এবং যুগোপযোগী কর্মসংস্কৃতির সৌজন্যে তারা ইতিমধ্যেই নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে। তবে, তাদের শিল্প-বাণিজ্য মূলত রপ্তানি-বাজার-নির্ভর, যেখানে ভারত অভ্যন্তরীণ চাহিদায় দশ গোল এগিয়ে থেকে খেলাটা শুরু করতে পারে। তবুও ভারতে লগ্নি করার আগে বিদেশিরা এখানকার গণতন্ত্রের নামে যা-খুশি করার প্রবণতা, জমি অধিগ্রহণের সীমাহীন জটিলতা, পুঁজির কাছে না-পছন্দ শ্রমনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে পাঁচবার ভাবেন। দ্বন্দ্বদীর্ণ কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের কারণে এসব সমস্যা জটিলতর হয় হামেশা।
এই সব সমস্যা সমাধানে দরকার কয়েকটি ইতিবাচক মনোভাব: (এক) কেন্দ্রীয় শাসকরা ফেডারেল শাসনতন্ত্র এবং বিকেন্দ্রীকরণের নীতিতে শ্রদ্ধাশীল হবেন। কারণে অকারণে বিরোধ নয়, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত বৃদ্ধি কাম্য। (দুই) ছোট-বড় সমস্ত রাজনৈতিক দল শুধু মানুষের স্বার্থে রাজনীতির অনুশীলনে অভ্যস্ত হবে। (তিন) তৃণমূল স্তরে খোঁজ-খবর নিয়ে দেশের শ্রমশক্তির প্রকৃত চিত্র জানা চাই। নির্ভরযোগ্য তথ্য (ডেটা) ছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা করা আর হাওয়ায় ভেসে বেড়ানোর মধ্যে তফাত কিছু নেই। করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে মজবুত স্ট্যাটিস্টিক্যাল ক্যাপাসিটি গড়তেই হবে। (চার) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদের ধারাবাহিক উন্নয়নে আন্তরিকতা ভীষণ ভীষণ জরুরি। মনে রাখতে হবে, অপুষ্টির হার এবার অনেক বাড়বে। তার প্রভাবে ভয়ানক চেহারা নিতে পারে অন্য একাধিক রোগ-সংক্রমণেরও বৃদ্ধি। যেন একা রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর! (পাঁচ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার দ্রুত বাড়াতেই হবে, পৌঁছে দিতে হবে সমস্ত পরিবারের কাছে, যাতে ডিজিটাল সমাজ ও অর্থনীতি গড়ার পথে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে আগামী দু’বছরে।
তাহলে অংশত অনুমাননির্ভর যাবতীয় সংখ্যা, পরিসংখ্যান, তথ্য ও তত্ত্বের ভীতিপ্রদ জাল কেটে করোনা-পরবর্তী ভারত অবশ্যই মাথা তুলে
দাঁড়াবে। এতকিছুর পরেও বলব, উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে ভারত তুলনামূলকভাবে ভালো জায়গায় আছে। ভারত যেমন পরিস্থিতির শিকার, তেমন পরিস্থিতিরই সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের প্রিয় দেশ।
21st  May, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
অনেক হারানোর পুজো
হিমাংশু সিংহ

পুজোর ছুটির একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকে। উৎসবের অনেক আগে থেকেই সেই গন্ধে ম ম করে বাংলার গাঁ গঞ্জ থেকে শহর সর্বত্র। সেই গন্ধের সঙ্গে আগমনি মিশে তৈরি হয় অদ্ভুত ঘোর লাগানো একটা অপেক্ষার। মা আসছেন। বাঙালির অনেক না পাওয়া ক্ষতবিক্ষত জীবনে এর চেয়ে পরম প্রাপ্তির আর কিছুই হতে পারে না। সেই অপেক্ষার সঙ্গেই মিশে যায় বিদেশে কাজ করা দত্ত বাড়ির ছেলে, দূরে বিয়ে হওয়া পাশের বাড়ির হেমন্তদার মেয়ের ঘরে ফেরার খুশি। 
বিশদ

18th  October, 2020
করোনা রোখার মন্ত্র ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ 
তন্ময় মল্লিক

করোনা মোকাবিলায় সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলার ও মাস্ককে জীবনসঙ্গী করার পরামর্শ হচ্ছে উপেক্ষিত। সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। সকলের নজর সেই দিকেই। তাতে সাহসী হচ্ছে মানুষ। বাড়ছে বেপরোয়া ভাব। এগিয়ে আসছে বাংলার ভোট। প্রকট হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতা দখলের বাসনা। করোনার মধ্যেও ইস্যু পেলেই আন্দোলন। না থাকলে তৈরির চেষ্টা। অভিমুখ রাজ্যপাট। তাই কথায় কথায় মিছিল আর লড়াই।  
বিশদ

17th  October, 2020
অতিরিক্ত দিল্লি নির্ভরতাই বঙ্গ-বিজেপির সঙ্কট
সমৃদ্ধ দত্ত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মতো ঝোড়ো আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেননি আর কেউই। সবেমাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু-স্রোত। এই সঙ্কটের মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। তাঁকে অভীধা দেওয়া হয় বাংলার রূপকার। কিন্তু ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, তিনি কৃষিকে অবহেলা করেছেন। তাঁর ১৪ বছরের শাসনকালে তিনি যতটা উন্নতিসাধন করেছিলেন শিল্পে, সেই তুলনায় কৃষির উন্নয়ন কম হয়েছে।  
বিশদ

16th  October, 2020
ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে সব ব্যর্থতা ঢাকা যায় না 
সন্দীপন বিশ্বাস

ব্যর্থতার এক একটি মাইলস্টোন স্থাপন করতে করতে ক্রমেই অতল খাদের দিকে এগিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অ্যান্ড কোম্পানি। অনেকেই অবশ্য মানবেন না যে খাদটা অতল। কেননা ভোটের এখনও অনেকদিন বাকি। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তার প্রতিদিনই পতন হচ্ছে। সেটা তিনি নিজেও বোঝেন। তাই ইদানীং ছাতি বাজানো, তালি বাজানো বন্ধ করে দিয়েছেন। চেষ্টা করছেন, নানা রকম ভুজুং ভাজুং দিয়ে হারানো গৌরব উদ্ধার করতে।  
বিশদ

14th  October, 2020
ডিজিটাল রঙ্গমঞ্চের কাঠের পুতুল
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ল্যাপটপটা পড়ে আছে টেবিলের উপর। শাটডাউন। খোলা শুধু টপ কভারটা। আপনি অফিস থেকে ফিরে ঘরে ঢুকলেন। জামাকাপড় চেঞ্জ করছেন। এরপর বাথরুম। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে বসলেন বিছানায়...। বন্ধ ঘরে কেউ নেই। কেউ দেখছে না আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো। 
বিশদ

13th  October, 2020
শাস্তি থেকে অব্যাহতির পীঠস্থান উত্তরপ্রদেশ 
পি চিদম্বরম

গত ২০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির সফদরজং হাসপাতালে এক তরুণী মারা গেলেন। ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এক বয়ানে তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণী নিগৃহীতা এবং ধর্ষিতা হয়েছেন। এই ঘটনায় তরুণী যে চারজনের নামে অভিযোগ এনেছেন তারা তাঁরই গ্রামের ছেলে—উত্তরপ্রদেশে হাতরাস জেলার বুলাগড়ি গ্রামের বাসিন্দা।  
বিশদ

12th  October, 2020
একনজরে
 একা করোনাতেই রক্ষা নেই। তার উপর দোসর হয়েছে নিম্নচাপ। মহাষষ্ঠীর সকাল থেকেই নীল আকাশ ঢেকে গিয়েছে কালো মেঘে। তবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি নামেনি। ...

 পুজো নয়, স্যানিটাইজেশনেই জোর দিচ্ছে চকভৃগু প্রগতি সঙ্ঘ। ছোট করে দুর্গাপুজোর আয়োজনের পাশাপাশি বালুরঘাট শহরের এই ক্লাবটি পুজোর দিনগুলিতে পাড়ায় পাড়ায় স্যানিটাইজেশনের কাজ করবে। ...

সায়ন্ত ভট্টাচার্য, বারাকপুর: দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার বনেদিয়ানা অক্ষরে অক্ষরে যুক্ত। জমিদারবাড়ির দালানে দুর্গাপুজোর আয়োজন এবং সেই উৎসব ঘিরে মেতে থাকতেন গ্রামের বাসিন্দারা। এখন বাংলায় সেরকম ...

নয়াদিল্লি: ভারতের অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র নাগ-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হল বৃহস্পতিবার। রাজস্থানের পোখরান রেঞ্জে এদিন চূড়ান্ত পর্যায়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা হয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭০৭— ব্রিটেনের প্রথম পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হল
১৯১৭—অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিলেন লেনিন
১৯২৯—নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে মহামন্দার সূচনা
১৯৪৪—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: হাঙ্গেরি প্রবেশ করল সোভিয়েতের লাল ফৌজ
২০০২—মস্কোর থিয়েটারে হানা দিয়ে প্রায় ৭০০ দর্শককে পণবন্দি করল চেচেন জঙ্গিরা
২০১২—সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৫.১২ টাকা ৯৮.৪৭ টাকা
ইউরো ৮৫.৭৬ টাকা ৮৮.৮৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৪১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,১৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৩,০৩০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৩,১৩০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, সপ্তমী ৩/১৩ দিবা ৬/৫৭। উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র ৪৯/২৯ রাত্রি ১/২৮। সূর্যোদয় ৫/৪০/১৮, সূর্যাস্ত ৫/১/৪৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৫৪ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৯ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৩০ গতে ১১/২১ মধ্যে। পূর্বাহ্ন ৬/৫৭ মধ্যে শারদীয়া দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন। 
৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, সপ্তমী দিবা ১১/৫৭। পূর্বষাঢ়া নক্ষত্র দিবা ৬/৫১। সূর্যোদয় ৫/৪১, সূর্যাস্ত ৫/৩। অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে ও ৭/১৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে ও ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে ও ৩/২৩ গতে ৫/৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪০ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ৩/১৫ মধ্যে ও ৪/৭ গতে ৫/৪২ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩২ গতে ১১/২২ মধ্যে। দিবা ৮/৩২ মধ্যে শারদীয়া দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন। রাত্রি ১০/৫৮ গতে ১১/৪৬ মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রবিহিত পূজা। 
৫ রবিয়ল আউয়ল। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শারদ শুভেচ্ছা ও ছুটি 
মহামারীর বিষাদ, আক্ষেপের সময়ে এই ধরিত্রীতে আপামর মানুষকে রক্ষা করতে ...বিশদ

05:00:00 AM

 আইপিএল : রাজস্থান রয়্যালস-এর বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জয়ী সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

22-10-2020 - 11:13:45 PM

 আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১১৮/২ (১৫ ওভার)

22-10-2020 - 10:41:55 PM

 আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৪০/২ (৫ ওভার)

22-10-2020 - 09:57:28 PM

আইপিএল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ১৫৫ রানের টার্গেট দিল রাজস্থান রয়্যালস 

22-10-2020 - 09:24:17 PM

আইপিএল: রাজস্থান রয়্যালস ১০৫/৩ (১৫ ওভার) 

22-10-2020 - 08:45:13 PM