Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মহামারীর কাছে আমরা কেন এত অসহায়?
মৃণালকান্তি দাস

কেমন যেন স্লো মোশনের একটা সিনেমার দৃশ্যের ভিতরে ঢুকে পড়েছি আমরা! গোটা দুনিয়াটাই হঠাৎ করে যেন আটকে গিয়েছে এক জায়গায়। মানুষের থেকে অনেক ক্ষমতাবান কিছু একটা যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে সবকিছু। চীন, ইতালি, স্পেন ছাড়িয়ে মার্কিন মুলুকেও ঝাঁপিয়ে পড়েছে সেই ক্ষমতাবান অদৃশ্য শত্রু। কেউ ভাবতেই পারছে না, যে নিউ ইয়র্ক সম্পর্কে সপ্তাহ খানেক আগেও বলা হতো ‘দ্য সিটি দ্যাট নেভার স্লিপস’, সেই শহর আজ গভীর ঘুমের দিকে এগিয়ে চলেছে। ৯/১১-র পর শহরটার বুকে এখন আবার একবার বেঁচে ওঠার হাহাকার। এ যেন চাকচিক্যময় প্রথম বিশ্বের বিলাসী জীবনে হঠাৎ ছন্দপতন! দরজার হাতল, কাগজের বোর্ড, শাকসব্জির ব্যাগ—এমন জড় বস্তুগুলোর দিকে তাকালেও এখন মনে হয় অদৃশ্য, ভয়ঙ্কর জীবাণু রয়েছে সেখানে, যা আমাদের ফুসফুসকে আঁকড়ে ধরার জন্য মুখিয়ে আছে। আজ এমন কোনও বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক কি আছেন, যিনি গোপনে অলৌকিক কিছুর আশা করছেন না? কোনও ধর্মীয় গুরু আছেন, যিনি অন্তত গোপনে বিজ্ঞানের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি?
প্রশ্ন হল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সর্বোপরি চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিপুল অগ্রগতির পরেও এই মহামারীর কাছে আমরা কেন এত অসহায়? চোখের সামনে এই মৃত্যুমিছিল চলতে থাকার পরেও কেন আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছি? ভাবতে অবাক লাগে, দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ আমেরিকায় এই মুহূর্তে সর্বাধিক মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এক অতিক্ষুদ্র ভাইরাস সে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল অবস্থা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এই তো বছর দুয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থায় ৮০ শতাংশ বরাদ্দ ছাঁটাই করে, শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঠেলে দিয়েছিলেন আরও বেসরকারিকরণের পথে। প্যান্ডেমিকের প্রাদুর্ভাবে তারই মাশুল গুনছেন সাধারণ নাগরিকরা। কিছু প্রভিন্সে নামমাত্র সরকারি ভর্তুকির কথা ঘোষণা করলেও গোটা আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের টেস্ট এবং চিকিৎসা মূলত বেসরকারি এবং ব্যাপক খরচ সাপেক্ষ। তার উপর ৩ কোটি মর্কিন নাগরিকের নেই কোনও মেডিক্যাল ইনসিওরেন্সই। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ হাসপাতাল জানিয়ে দিয়েছে, তারা এতটাই অসহায় যে, কোনও আর্থিক সাহায্য না পেলে ঝাঁপ ফেলতে বাধ্য হবেন। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মুনাফার আখড়ায় পরিণত করলে কী পরিণতি হতে পারে, আমেরিকা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আসলে মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই মহামারীর জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। মার্কিন মুলুকের স্ট্যাচু অব লিবার্টি, শাহরুখের হেঁটে যাওয়া ব্রুকলিন, আলো ঝলমলে টাইম স্কোয়ার, দুরন্ত সিলিকন ভ্যালি আজ থমথমে। গোটা বিশ্বের মতো আজ মার্কিন আকাশেও জমেছে কালো মেঘ। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। ধসে পড়েছে অর্থনীতি। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প তো বলেই ফেলেছেন, মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষের মধ্যে রাখতে পারলেই বুঝতে হবে তাঁর প্রশাসন ‘ভালো কাজ করেছে’। তাঁরই প্রশাসন, গত ১৮ মার্চে, মার্কিন কংগ্রেস যে বিল পাশ করেছে, তার আওতায় শুধু রয়েছে করোনা-পরীক্ষা। এতে নেই চিকিৎসার কোনও সরকারি দায়ভার। এর অর্থ, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গুনতে হবে বিপুল অঙ্কের অর্থ। সোজা কথায় অর্থ থাকলে চিকিৎসা, না থাকলে মৃতের তালিকায়।
শুনলে অবাক হবেন, এক দশকের বিনিয়োগহীন দেউলিয়া ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ভার লাঘব করার জন্যে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সব অসুস্থ লোককে পরীক্ষা না করার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘পরীক্ষা-পরীক্ষা-পরীক্ষা’ উপদেশ সত্ত্বেও ব্রিটেনে অসুস্থ হলে ১৪ দিন ঘরবন্দি থাকতে বলা হয়েছিল, পরীক্ষা ছাড়াই। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, অনেকেই তাঁদের প্রিয়জন হারাবেন।
তবে কারও সর্বনাশ তো কারও পৌষ মাস! লক্ষ্য করুন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়ার পর গোটা দুনিয়ায় শেয়ার বাজারে কার্যত ধস নেমেছে। কিন্তু এই বিশ্বব্যাপী মহামারীর মধ্যে ওষুধ শিল্পের শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পড়তি বাজারে যেখানে অনেক বড় বড় কোম্পানি তলিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ওষুধ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে এত উল্লাসের কারণ কী? তাহলে কি এই বিশ্বব্যাপী সঙ্কট তাদের বিক্রয় ও মুনাফা বিপুল বাড়িয়ে তুলবে এবং মহামারী যত খারাপ দিকে যাবে তাদের মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ তত বেশি হবে? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ছয়ের দশক থেকে করোনা ভাইরাস গোত্রের সন্ধান পাওয়া গেলেও আজ পর্যন্ত কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হ‌঩য়নি কেন? এমনকি সার্স বা মার্স থাবা বসানোর পরেও তারা এ ব্যাপারে চুপ করে বসেছিল কেন? কেন ছোঁয়াচে রোগের প্রতিরোধ নিয়ে গবেষণায় বড় বড় কর্পোরেট ফার্মা কোম্পানির কোনও আগ্রহ নেই? প্রশ্ন আছে, উত্তর নেই।
আসলে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বহুদিন ধরেই পৃথিবীজুড়ে যে ধরনের ছিনিমিনি খেলা চলছে, এই মহামারী তা জনসমক্ষে নগ্নভাবে ফাঁস করে দিয়েছে। সরকারি ব্যয় সঙ্কোচের অজুহাতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মী সঙ্কোচন, ঠিকা কর্মী নিয়োগ, হাসপাতালগুলির শয্যাসংখ্যা কমানো, স্থানীয় ছোট ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করা, ওষুধের দাম ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যয় বৃদ্ধি, পরিকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামে কম বিনিয়োগ, বড় বেসরকারি ওষুধ শিল্পের স্বার্থে চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি ক্ষেত্রের বিনিয়োগ দিনের পর দিন কমেছে। এক মহামারী চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের মতো স্পর্শকাতর পরিষেবাকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিলে কী হয়! আমতা আমতা করে তা এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের যাঁরা এখন এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তাঁরা সাধারণত যুদ্ধের কথা বলতেই ভালোবাসেন। তাঁরা রূপক অর্থে যুদ্ধকে ব্যবহার করেন না, আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধ করেন। আর যুদ্ধের কথাই যদি আসে, তবে আমেরিকার চেয়ে আর কে বেশি প্রস্তুত? এমন যদি হতো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের সারির সেনাদের মাস্ক বা গ্লাভসের বদলে বন্দুক, স্মার্ট বোমা, বাঙ্কার বাস্টার, সাবমেরিন, ফাইটার জেট, পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন হচ্ছে, তাহলে কি কোনও ঘাটতি থাকত?
কে না জানে, ২০১৭ সালে গোটা বিশ্ব সরাসরি সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটা মোটা দাগের হিসেব। এর সঙ্গে আরও নানা হিসেব জুড়ে দিলে সেই অঙ্ক মাথা ঘুরিয়ে দেবে। সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় আস্ফালন দেখানো দেশ আমেরিকার দিকে তাকালেই বিষয়টি বোঝা যাবে। ২০১৮ সালে আমেরিকার সামরিক খাতের বাজেট ছিল ৬৩৯ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এর সঙ্গে যখন অন্য অঙ্কগুলো যুক্ত হয়, তখন অন্য ক্ষেত্রের সঙ্কোচন ও এই ক্ষেত্রের প্রসারণ রীতিমতো চমকে দেয়। মার্কিন সাময়িকী সায়েন্সম্যাগ জানাচ্ছে, ওই একই বছর গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ১৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। এই বরাদ্দের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের গবেষণাবান্ধব হিসেবে জাহির করতে শুরু করে। কারণ, আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এই গবেষণা বরাদ্দের মধ্যেই রয়েছে খেলাটা। সায়েন্সম্যাগই জানাচ্ছে, এই বরাদ্দের মধ্যে ৮২.৯ বিলিয়ন সামরিকক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট গবেষণার জন্য বরাদ্দ। আর বাকিটা অসামরিক ক্ষেত্রে গবেষণায়। শুধু আমেরিকা নয়, প্রায় সব দেশের অবস্থা একই। এমনকী শান্তির সময়েও সামরিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শুধু চলেই না, বাড়তেও থাকে। অস্ত্রের মজুত বাড়ানোকেই রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতের একমাত্র পন্থা মনে করে। বন্দুক আর গোলাবারুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে, নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্র দেখাতে তৎপর যে, ‘দেখো তোমাকে কতটা নিরাপদ করলাম’। সীমান্তে সীমান্তে বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে সবাইকে বোঝাতে চায় যে নিরাপত্তা মানেই বন্দুক, নিরাপত্তা মানেই নজরদারি। কিন্তু ‘নিরাপত্তা’র এই ব্যাখ্যা কতটা ভ্রান্ত, তা এবার দেখিয়ে দিল করোনা ভাইরাস। যাকে চোখে দেখা যায় না। ফলে অজস্র গোলাবারুদ মজুত রেখেও, সীমান্তগুলোয় অতন্দ্র প্রহরী বসিয়েও তাকে ঠেকানো যায়নি। মানুষ বুঝতে পারছে, নিরাপত্তার নামে কত ঠুনকো ব্যবস্থা তারা গড়ে তুলেছে।
রাতের পর রাত বিশ্বের বহু মানুষ নিউ ইয়র্কের গভর্নরের হতাশ বক্তব্য যে নিস্তব্ধতার সঙ্গে শুনছেন, তা ব্যাখ্যা করা মুশকিল। আমরা পরিসংখ্যানের কথা শুনছি। শুনছি রোগীর ভারে নুয়ে পড়া আমেরিকার সেই সব হাসপাতালের গল্প, যেখানে স্বল্প মজুরিতেই বাড়তি কাজ করে চলা নার্সরা ময়লা ফেলার পলিথিন বা রেনকোট দিয়ে মাস্ক তৈরি করছেন। আমরা শুনছি আমেরিকার অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ভেন্টিলেটর নিয়ে চলা যুদ্ধের গল্প। শুনছি ভেন্টিলেটর কে পাবে, আর কে পাবে না—এ নিয়ে উভয়সঙ্কটে পড়া চিকিৎসকদের কথা। শুনছি দিশেহারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবোল-তাবোল বকা। এমনকী, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ভারতকে হুমকিও। আর আমরা হঠাৎ চমকে উঠে বলছি, এটাই আমেরিকা? যাদের থেকে আমরা শিখি!
আমরা ভাবছি, হয়তো ইতিহাসের পৃষ্ঠায় কোনওদিন লেখা হবে, করোনা মহামারীর সময় আমেরিকার মতো দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী, নিউক্লিয়ার পাওয়ার দেশগুলি জানিয়েছিল, তারা মাস্ক, ভেন্টিলেটারের অভাবে ভুগছে। কী ভয়ঙ্কর ভাবুন!
10th  April, 2020
কিছু বৃক্ষ স্বয়ং ইতিহাস
হারাধন চৌধুরী

 টানা ৬৮ দিনের লকডাউনের নিদারুণ যন্ত্রণা সবে কাটিয়ে উঠেছি আমরা। প্রবেশ করেছি আনলক-১ পর্বে। কেন্দ্রের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দিনে আরও দু’টি আনলক পর্ব পেরতে হবে। বিশদ

ব্যর্থতার নামাবলি গায়ে
মোদিজির বর্ষপূর্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

 লকডাউনের চারটে ইনিংস শেষ করে আমরা ঢুকে পড়েছি প্রথম আনলক সিজনে। করোনা বিধ্বস্ত আমাদের জীবন বইতে শুরু করেছে এক নতুন খাতে। মাত্র কয়েক মাসেই আমাদের জীবনের সামগ্রিক চালচিত্র ম্যাজিকের মতো বদলে গিয়েছে।
বিশদ

03rd  June, 2020
হিসেব মেলানো ভার
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 সাত দু’গুণে কত হয়? উঁহু, ১৪ নয়। আপনি কখন বলছেন, তার উপর নির্ভর করছে। মানে, কাকেশ্বর কুচ্‌কুচে যদি মনে করে, আপনি বলার সময় ১৩ টাকা ১৪ আনা ৩ পাই হয়েছিল... মানে পুরোপুরি ১৪ হয়নি, তাহলে সেটাই। অর্থাৎ, হাতে একটা পেনসিল থাকছেই। বিশদ

02nd  June, 2020
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

01st  June, 2020
একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: করোনা নিয়ে গুজব ও আতঙ্ক ঠেকাতে আরামবাগের ২৬ জন কোভিড-১৯ জয়ীকে নিয়ে ‘করোনা সচেতনতা টিম’ গড়ল প্রশাসন। টিমে থাকবেন একজন করে করোনা জয়ী, ভিলেজ পুলিস, আশাকর্মী ও পঞ্চায়েত সদস্য। মহকুমার গ্রামেগঞ্জে গিয়ে ওই টিম প্রচার চালাবে।  ...

 রূপঞ্জনা দত্ত, লন্ডন, ৩ জুন: করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের নিরিখে ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্ল্যাক অ্যান্ড এথনিক মাইনরিটি (বিএএম‌ই) গোষ্ঠীর মানুষ। এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচ‌ই)। ...

নয়াদিল্লি, ৩ জুন: চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে হার্দিক পান্ডিয়া। ভারতী দলের এই তারকা অলরাউন্ডারটিকে শেষবার টিম ইন্ডিয়ার জার্সি পরে খেলতে দেখা গিয়েছিল ২০১৮ সালে। ...

  রেকর্ড প্রোডিউসার কোম্পানি সারেগামা ও ফেসবুকের মধ্যে এক অভিনব চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ফলে এবার থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সারেগামার সমস্ত গান নেটিজেনরা ব্যবহার করতে পারবেন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। ব্যবসাতে যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩২: শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতের রচনাকার মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের (শ্রীম) মৃত্যু
১৯৩৬: অভিনেত্রী নূতনের জন্ম
১৯৫৯: শিল্পপতি অনিল আম্বানির জন্ম
১৯৭৪: অভিনেতা অহীন্দ্র চৌধুরির মৃত্যু
১৯৭৫ - মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্ম
১৯৮৫: জার্মান ফুটবলার লুকাস পোডোলোস্কির জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.২৯ টাকা ৭৬.০১ টাকা
পাউন্ড ৯২.৯৪ টাকা ৯৬.২৩ টাকা
ইউরো ৮২.৬৮ টাকা ৮৫.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশী ২/৫৮ প্রাতঃ ৬/৭ পরে চর্তুদশী ৫৫/৫২ রাত্রি ৩/১৬। বিশাখা নক্ষত্র ৩৪/১৩ রাত্রি ৬/৩৭। সূর্যোদয় ৪/৫৫/১৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪/৯। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৪ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৭ গতে ৯/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/২৯ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৫ গতে ১২/৫৫ মধ্যে।
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশী প্রাতঃ ৫/১ পরে চর্তুদশী রাত্রি ২/৫৩। বিশাখানক্ষত্র সন্ধ্যা ৬/২২। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৬। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪১ গতে ৬/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১২/০ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৬ গতে ৬/১৬ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৬ গতে ১২/৫৬ মধ্যে।
১১ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সে মমতা 
আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্স করবেন মমতা। দলের নেতা, ...বিশদ

04:19:37 PM

মেক্সিকোয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ অতিক্রম করলো 
আজ মেক্সিকোয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। গত ...বিশদ

02:29:44 PM

আত্মীয়দের মারের হাত থেকে বাবা-মাকে বাঁচাতে প্রাণ গেল কিশোরের
আত্মীয়দের মারের হাত থেকে বাবা মা কে বাঁচাতে গিয়ে তাঁদের ...বিশদ

02:25:20 PM

২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় আক্রান্ত ৮,৮৩১
২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় নতুন করে আরও ৮,৮৪১ জনের শরীরে করোনা ...বিশদ

01:34:15 PM

ঘাটালের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সাপের উপদ্রব, জখম ১
করোনা নয় এবার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে হানা দিল বিষধর সাপ। তার ...বিশদ

01:16:00 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৯৮, মৃত ৩ 
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্ধ্রপ্রদেশে করোনা আক্রান্ত হল ৯৮ জন। মৃত্যু ...বিশদ

12:54:34 PM