Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে। অনেকেই লকডাউন শহরের চেহারা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। বাজার করার অজুহাতে ব্যাগ হাতে নামছেন রাস্তায়। পুলিসের সামনে পড়লেই আঙুল যাচ্ছে ব্যাগের দিকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহে বাধা না দেওয়ার নির্দেশকে হাতিয়ার করে অনেকেই পুলিসকে ধোঁকা দিচ্ছি। ধোঁকা দিতে গিয়ে নিজেরাই ধোঁকা খাচ্ছি। করোনাকে থাবা বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছি। টিভির পর্দায়, সংবাদপত্রে বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে দেখেও আমাদের সম্বিত ফিরছে না। আমরা যেন ক্রমশই আত্মঘাতী খেলায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলছি।
লকডাউন ঘোষণার পর শহর, গ্রাম হামলে পড়েছিল মুদির দোকানে। দোকানে দোকানে জমেছিল মেলার ভিড়। দু’দিনেই স্টক ফাঁকা। সকলেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন। মানুষকে ঘরবন্দি করতে পুলিসের সক্রিয়তা নজর কেড়েছিল। কোথাও কোথাও অতিসক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল ঠিকই। কিন্তু, লকডাউন মানার সবক শেখানোর ক্ষেত্রে পুলিসের সেই ভূমিকাকে বেশিরভাগ মানুষই কুর্নিশ করেছিলেন। দিন দুয়েক পর থেকেই পুলিস ‘মানবিক আচরণ’ শুরু করতেই রাস্তায় রাস্তায় বেয়াদপির বাড়বাড়ন্ত। সরকারের নরম মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শহরের রাস্তায় মজা লুটেরাদের ভিড়। ভাবখানা এমন, মওকা যখন মিলেছে ফায়দা তুলতে হবে পুরো।
অপ্রিয় হলেও সত্যি, কলকাতা শহর, শহরতলি এবং বিভিন্ন জেলার শহরগুলিতেই লকডাউনকে ‘ডাউন’ করার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে এক শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষজনের ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব বিপদ বাড়াচ্ছে। এ রাজ্যে মারণ ভাইরাস পা রেখেছিল সেই ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাবের হাত ধরেই। সেই ট্র্যাডিশন বজায় রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তথাকথিত শিক্ষিত এবং শহুরে মানুষের একাংশই লকডাউন ভাঙছেন প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। এনিয়ে রাজ্যের বহু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সতর্ক করছেন। এমনকী, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বেরতে বারণ করছেন। তবুও কাজ হচ্ছে না। তাই অনেকেই বলছেন, অনুরোধে কাজ না হলে ‘ঢেঁকি গেলানোর’ জন্য যা দরকার, সেটাই করতে হবে। কারণ জনস্বার্থে সবই আইনসিদ্ধ। কুইনাইন যতই তেতো হোক না কেন, প্রয়োজনে জোর করে খাওয়াতে হয়। তাতে মঙ্গল রোগীরই।
বাস, ট্রেন, উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি’র হৃদয় যেন ছটফট করছে। বাইরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। বন্ধ শহরের মল, সিনেমা হল, রেস্তরাঁ। টিভি সিরিয়ালের আপডেটও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবেতন লম্বা ছুটির জীবনে যখন বিনোদনের সব রাস্তাই যখন বন্ধ, তখন হাতের কাছে যা পাওয়া যাচ্ছে তা থেকেই ফায়দা লোটার চেষ্টা। এমন শুনশান শহর দেখার সুযোগ হয়তো আসবে আবার ১০০ বছর পর। সুতরাং ওই বোদ্ধাদের বিচারে লকডাউনের ‘লাইভ পিকচার’ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা নেহাতই মূর্খামি। তাই তাঁরা করোনাকে সাধারণ এলেবেলে ফ্লু বলে ফু‌ৎকারে উড়িয়ে দিয়ে নামছেন রাস্তায়। তারপর দুপুরে খ্যাঁটনের পর লম্বা ঘুম শেষে সান্ধ্য আড্ডায় লকডাউন শহরের বর্ণনা। এইভাবেই সবেতন ছুটির পুরোটা উসুলের চেষ্টা।
শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ কিছুটা হলেও বেশি করে লকডাউন মানছেন। তবে নজির গড়েছে পুরুলিয়ার বলরামপুর। বলরামপুরের গেঁড়ুয়া পঞ্চায়েতের ভাঙ্গিডি গ্রামের ৭জন শ্রমিক গিয়েছিলেন চেন্নাই। লকডাউন ঘোষণা হতেই তাঁরা গ্রামে ফেরেন। গ্রামে ফিরলেও ফিরতে পারেননি বাড়িতে। কারণ ততদিনে ভাঙ্গিডি জেনে গিয়েছে করোনার বিপদ। কেউ মারণ ভাইরাস নিয়ে ঢুকলে গোটা গ্রাম উজাড় হয়ে যাবে... উপলব্ধি করেছেন গ্রামবাসী। তাই ৭জনের ফেরার খবর পেতেই গ্রামের ও পরিবারের লোকজন একযোগে সিদ্ধান্ত নেন, সরকারি নির্দেশ মেনে ১৪দিন আলাদা থাকতে হবে। বাড়িতে ঘরের অভাব। তাই হোম কোয়ারেন্টাইনের সুযোগ নেই। বিকল্প পথ, গাছে থাকবেন তাঁরা। গ্রামে ঢোকার মুখে আমগাছে খাটিয়া বেঁধে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ। গ্রামবাসীদের কথা অমান্য করেননি চেন্নাই ফেরত সুনীল সিং লায়া, বিজয় সিং লায়া ও তাঁর সঙ্গীরা। তাঁদের সঙ্গে থাকা থালা, বাটিতেই খাবার দিয়ে গিয়েছেন বাড়ির লোকজন। সেই খাবার খেয়ে রাতভর গাছে কাটিয়ে ‘সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং’ তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। পরিবারকে, গ্রামকে, গ্রামের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের আন্তরিক প্রয়াস লকডাউন ভঙ্গকারী ‘শহুরে পণ্ডিত’দের গালে কষিয়ে থাপ্পড় মারার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু, তাতেও শিক্ষা হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার একটি আদিবাসী গ্রামের কথা উল্লেখ করা খুবই প্রাসঙ্গিক। অযোধ্যা পাহাড়ের ভুঁইঘাড়া গ্রাম। সম্পূর্ণ আদিবাসী গ্রাম। সরকার থেকে বিনা পয়সায় রেশন চালুর আগে পর্যন্ত তাঁদের দিন কেটেছে কার্যত নুনে ভাতে। তবুও গ্রামের সকলে লকডাউন মেনে বাড়িতেই থেকেছেন। গ্রামের যুবক ধীরেন চঁড়ে বলেন, করোনার মতো মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করতেই আমরা গ্রামের মোড়লকে নিয়ে মিটিং করি। সিদ্ধান্ত নিই, অসুস্থতা ছাড়া কেউ গ্রাম থেকে বেরব না। গ্রামে ঢোকার রাস্তা বাঁশ দিয়ে আটকে দিয়েছি। আমরা সবাইকে বোঝাতে পেরেছি, একবার গ্রামে মারণ ভাইরাস ঢুকলে কেউ রক্ষা পাব না। পেটে বিদ্যে থাক বা না থাক, গ্রামের সবাই বিপদটা বুঝেছে।
তবে, সব গ্রামকে এক ছাঁচে ফেললে ভুল হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে আবার অন্য ছবি। লকডাউন ঘোষণা হতেই দাসপুরের নিজামপুরের কয়েকজন যুবক বাড়ি ফিরলেন। তাঁদের মধ্যে এক যুবক অসুস্থ হতে ভর্তি হলেন হাসপাতালে। নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেল, তিনি করোনায় আক্রান্ত। খবরটা রটতেই ভিড়ে গম গম করা হাট আধ ঘণ্টার মধ্যে ফাঁকা। নেমে এল শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কিন্তু, ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মাংসের দোকানে লম্বা লাইন, বিকেলে খেলার মাঠে জোরদার আড্ডা।
এক স্বাস্থ্যকর্মী মানুষকে সতর্ক করার জন্য একটি পোস্ট করে জানালেন, ‘নিজামপুরের করোনা পজিটিভ ছেলেটি যে ট্রেনের কামরায় চেপে মুম্বই থেকে বাড়ি ফিরেছিল, জোতঘনশ্যাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চারজন ছেলেও সেই কামরাতেই ২২ মার্চ বাড়ি ফিরেছিল।’ সামাজিক দায়িত্ববোধের তাড়না থেকেই তিনি এই পোস্টটি করেছিলেন।
তাঁর পোস্টটিতে কোনও নাম ছিল না। কিন্তু, সেই ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি! ওই চার যুবকের একটি পরিবার থেকে স্বাস্থ্যকর্মীকে ফোনে রীতিমতো হুমকি। বক্তব্য, পোস্টটি তাঁদের সম্মানহানি ঘটিয়েছে। হুমকির ভাষা এতটাই কর্কশ ছিল যে ওই স্বাস্থ্যকর্মী ফের পোস্ট করে ‘ভুল স্বীকার’ করতে বাধ্য হন। তিনি লিখেছেন, খুব অসহায় বোধ করছি। যদি ভুলবশত কারো সম্মানহানি করে থাকি, তবে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী আমি।
নিজামপুরের করোনায় আক্রান্ত যুবকের বাবার নমুনাও পজিটিভ এসেছে। তাঁর মা এবং স্ত্রী এখন আইসোলেশন ওয়ার্ডে। আরও জানা গিয়েছে, ওই যুবকের বাবা হাটে শসা বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। সুতরাং তিনি আর কউকে সংক্রামিত করেছেন কি না এখনই বোঝা যাচ্ছে না। এমনকী, ওই যুবকের সঙ্গে মুম্বই থেকে আসা সঙ্গীরা এখনও নিজেদের আড়াল করতে ব্যস্ত। কতদিন গোপন করতে পারবেন, তা ঈশ্বরই জানেন।
একটা কথা মাথায় রাখা দরকার, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে কোনও অপরাধ নেই। এটা এইডস নয়, যে লোকজন জানতে পারলেই নষ্ট হবে সামাজিক সম্মান। বরং ভিন রাজ্য বা দেশ থেকে আসা লোকজন নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলে তিনি যেমন বাঁচবেন, বাঁচাতে পারবেন তাঁর পরিবারকেও। নিজামপুরের ওই যুবক যদি প্রথমেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন, তাহলে গোটা পরিবারকে এভাবে বিপদে পড়তে হতো না।
এভাবে সর্বত্রই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ চেষ্টার ফল অত্যন্ত মারাত্মক। মাছের আঁশটে গন্ধ ছড়াবেই। আজ না হয় দু’দিন পর। আর এই চেষ্টা জারি থাকলে বুঝতে হবে, বিপদ বেশি দূরে নেই। হাজির ঘরের দোরগোড়ায়। আমরা নিজেদের অজান্তেই যুক্ত হয়ে যাচ্ছি এক আত্মঘাতী খেলায়। সেখান থেকে বাঁচানোর ক্ষমতা কোনও মন্দির, মসজিদ বা গির্জার নেই। এমনকী, চিকিৎসক, নার্সদেরও নেই। কারণ তাঁরাও সংখ্যায় বড়ই কম।
04th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করা হবে স্থানীয় শ্মশানে, এই আশঙ্কায় শ্মশানঘাটের চারদিকের রাস্তা আটকে ঘণ্টা দুয়েক বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।   ...

বিএনএ, তমলুক: লকডাউনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে চণ্ডীপুর থানার হাঁসচড়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্ট খুলে ৩৪লক্ষ টাকা চুরি করে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। চাবি ব্যাঙ্কে থাকায় দুষ্কৃতীদের ভল্ট ভাঙতে হয়নি।   ...

বার্লিন, ৪ এপ্রিল: কালান্তক করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে পথ খুঁজছে গোটা বিশ্ব। আর এর উল্টো পথে হেঁটে জার্মানির বার্লিন ডিস্ট্রিক্ট মেয়র স্টিফেন ভন দাসেল ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা বিপর্যয়ের জেরে এ রাজ্যের বাসিন্দা প্রায় দু’লক্ষ মানুষ আটকে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অতিরিক্ত চিন্তার জন্য উচ্চ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৮- রাজনীতিক জগজীবন রামের জন্ম
১৯১৬- মার্কিন অভিনেতা গ্রেগরি পেকের জন্ম
১৯৩২ - বিশিষ্ট বাঙালী সাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখাপাধ্যায়ের মত্যু
১৯৫৭- কেরলে প্রথম ক্ষমতায় এলেন কমিউনিস্টরা
১৯৯৩- বলিউডের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর মৃত্যু
২০০০- রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৭- সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
04th  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) দ্বাদশী ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৫। মঘা ২৩/৪০ দিবা ২/৫৭। সূ উ ৫/২৯/১৫, অ ৫/৪৯/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৮ গতে ৯/৩৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৭ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৬ গতে ২/৩৪ মধ্যে।
২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, দ্বাদশী ২৫/৩১/০ দিবা ৩/৪৩/১২। মঘা ১৪/৫০/৩৮ দিবা ১১/২৭/৩। সূ উ ৫/৩০/৪৮, অ ৫/৫০/৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৮/২ গতে ১১/৪০/২৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪০/২৭ গতে ১/১২/৫১ মধ্যে।
 ১১ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভূমিকম্প অনুভুত অসমে 
বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মাঝে এবার ভূমিকম্প অনুভুত হল অসমে। রিখটার ...বিশদ

11:39:32 PM

নিরোর কথা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, ট্যুইট ফিরহাদ হাকিমের 
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রবিবার রাত ন’টার সময় ন’মিনিট ঘরের আলো জ্বালিয়ে ...বিশদ

10:04:34 PM

৯ মিনিটের ‘লাইট আউট’-এর জন্য বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনও প্রভাব পড়েনি: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং 

09:45:20 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১১, মৃত ১২৬: পিটিআই 

09:20:30 PM

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের 

09:18:00 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৪
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ...বিশদ

08:33:36 PM