Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি। সরকারি স্ট্যাম্প। রতু লালের কপালে সাদা রঙের পেইন্ট দিয়ে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অনিতা অগ্নিহোত্রী স্ট্যাম্পের মতো করে হাতে লিখে দিয়েছেন, ‘আমি লকডাউন অমান্য করেছি, আমার কাছে ঘেঁষবেন না কেউ। সাবধান!’ উত্তরপ্রদেশ থেকে হাঁটতে হাঁটতে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার সীমান্তে প্রবেশ করার পরই রাস্তা থেকে রতু লালসহ পাঁচজনকে পুলিস ধরেছে। জানতে চেয়েছে ধমক দিয়ে, কেন তারা লকডাউন অমান্য করে এভাবে হাঁটছে। তিনদিন একটানা হেঁটে আসার পর মাটিতে বসে পড়েছিল রতু লাল। তাদের গৌরীহর পুলিস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারের আদেশ কেন মানা হয়নি? রতু লাল বলেছিল, তার কাছে পড়ে আছে ৬০ টাকা। এই টাকায় চলবে না। খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আর দু’দিন পর থেকে রাস্তায় সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা হাঁটা শুরু করেছে। বাড়ি ফিরতে। উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত হাঁটার মধ্যেই কয়েক জায়গায় রতু লালদের খাবার দিয়েছে কিছু দোকান। কিন্তু থানা থেকে বেরিয়ে ফের হাঁটা শুরু করার পর তাকে আর কেউ খাবার দিতে সাহস পাচ্ছিল না। কারণ, তার কপালের ওই লেখা। ‘কাছে ঘেঁষবে না’ লেখা দেখে সকলেই ধরে নিয়েছে, তার করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তাই কে দেবে তাকে খাবার? সুতরাং পরবর্তী ১৩ ঘণ্টার হাঁটায় কোথাও খাবার পায়নি রতু লাল। অবশেষে তার স্থান হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। কপালে সরকারি স্ট্যাম্প।
খাবার আছে, চা আছে, একটা অনেক বড় স্কুলবাড়িতে আশ্রয়ও রয়েছে। কিন্তু সামনে খাবার থাকলেও দয়াল মণ্ডলের মুখে রুচি নেই। অথচ সে ৩৫ ঘণ্টা খায়নি। কম্বল, চাদর দেওয়া হলেও তার ঘুম আসছে না। হায়দরাবাদের টুক্কুগুড়া থেকে মধ্যপ্রদেশের বেতুল যেতে হবে। ৮১০ কিমি হাঁটা। হীরাপুর গ্রামের দয়াল মণ্ডল টুক্কুগুড়া থেকে রওনা দিয়ে ১৩৫ কিলোমিটার হেঁটে আসার পর তাকে থামানো হয়েছিল। আর হাঁটা যাবে না। সরকারের বারণ বাইরে থাকা। পুলিস বলল। অতএব আশ্রয় শিবিরে। চিন্তা নেই। খাবার পাবে। কিন্তু দয়াল মণ্ডল খাবে কীভাবে? ১৯ মার্চের পর আর সে টাকা জমা করেনি ব্যাঙ্কে। তাই হীরাপুর গ্রামে থাকা তার স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে আর বিধবা মায়ের কাছে তো আর টাকা থাকার কথা নয়! তারা কী খাচ্ছে? নিশ্চয়ই খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে? তাই ছেলেমেয়ের কথা ভেবে দয়াল মণ্ডল খাবার মুখে দিতে পারছে না। কাঁদছে। কবে যেতে পারবে বাড়ি? গিয়ে কী দেখবে? দীপক, দয়ালদের এই গোটা ১৬ জনের দল বেতুল থেকে হায়রাবাদে গিয়েছিল কেন? সেকেন্দ্রাবাদের কাছে লাক্সারি ভিলা হাউজিং কমপ্লেক্স তৈরি করতে। তারা কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার। দয়াল আর দীপক তৈরি করছিল ফ্ল্যাট অ্যাটাচড সুইমিং পুল! দয়ালদের হীরাপুর গ্রামে জল শুকিয়ে এসেছে। তাই চাষ বন্ধ। সেই কারণে, তারা এই হায়দরাবাদে এসেছে কাজ করতে। আর এসে দেখছে প্রতিটি ফ্ল্যাটের একটি করে সুইমিং পুল থাকবে। পরিভাষায় এগুলিকে বলা হয় ব্যালকনি পুল। দয়াল মণ্ডলের মাত্র ১২ টাকা ব্যালান্স আছে মোবাইলে। সেটাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। কথা বললে শেষ যোগাযোগের মাধ্যমটিও সমাপ্ত হয়ে যাবে। তারপর? দয়াল মণ্ডল সুযোগ খুঁজছে। সে খাবার চাইছে না। ব্লক অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। সে অনুমতি চায় বাড়ি ফেরার। বাস, ট্রেন দিতে হবে না। অনুমতি পেলেই আবার হাঁটবে। সে না গেলে বাড়ির সকলে না খেয়ে মারা যাবে। তার কাছে তবু ১২৬০ টাকা আছে। এই টাকা সে ব্যালান্স রিচার্জ করে করে শেষ করতে চায় না।
১২ জনের টিম। একটি মাস্ক। সব মিলিয়ে রয়েছে ৩৪৫ টাকা। পাঁচটি রুটি। তিন পাউচ জল। প্রভীন কুমার এবং ১২ জনের দল চারদিন ধরে হাঁটছে। ২০০ কিমি হাঁটার মধ্যে ১১ বার চেকপোস্টে পুলিস আটকেছে। আধার কার্ড দেখার জন্য। উত্তরকাশীতে প্রজেক্ট হনুমান চটিতে কাজ করছে প্রবীণ কুমার আর তার এই সঙ্গীরা। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী। এটা হল কেন্দ্রীয় চার ধাম প্রকল্প। কিন্তু সেই কাজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদার নেমে গিয়েছে হরিদ্বারে। শ্রমিকদের এখানে রেখে। একদিন... দুদিন... খাবারের দোকানও বন্ধ। সাপ্লাই আসছে না নীচের থেকে। তাই হাঁটা শুরু করেছিল প্রভীন কুমার। অবশেষে দেরাদুনে এসে ৬৫ ঘণ্টা পর খাবার পেয়েছে তারা। পাঁচটি রুটি শেষ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। হাঁটা শেষ হয়নি। আরও ৬০ কিমি বাকি। তারপর উত্তরপ্রদেশের কুতুবপুর গ্রামে। ৬০ কিলোমিটার। দেরাদুনে আসার পর কমিউনিটি সেন্টারে আটকে থাকা প্রবীণ কুমারদের খিচুড়ি দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, তিনদিন ধরে না খাওয়া, এখনই কিন্তু বেশি বেশি খিচুড়ি খেও না। আস্তে আস্তে সইয়ে খাও। নয়তো পেট খারাপ হবে। প্রবীণ কুমার মাথা নেড়ে খাওয়ার মধ্যেই সন্তর্পণে ব্যাগ থেকে জল খাবার ঘটি বের করে সেটায় খিচুড়ি সরিয়ে রেখেছে। কারণ বিশ্বাস নেই, আবার কখন খাবার পাওয়া যাবে। যদি না পায়!
হাঁটছে ব্রিজমোহন সিং, হরদোইয়ে বাড়ি। গাজিয়াবাদে কার্পেন্টারের কাজ করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। বেতন ৯ হাজার টাকা। ফ্যামিলি মেম্বার ১০ জন। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, পাড়ার মুদির দোকান আর বাকিতে জিনিস দিচ্ছে না। তাই তাকে ফিরতে হবে। অতএব হাঁটা। হাঁটছে পিলিভিটের ব্রিজপাল। গ্রেটার নয়ডায় খেলনা তৈরির কারখানার শ্রমিক। আয় কত? ২ হাজার টাকা মাসে! হাঁটছে সঈদা বাণী। সুলতানপুর যাবে। ৩০০ টাকা আয় দিনে। গাজিয়াবাদে কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার। হাঁটছে মুকরিম আলি। মায়ের অপারেশন করতে হবে। তাই সে রোজগার বাড়াতে গিয়েছিল ছত্তিশগড়ের রায়পুর। তার মধ্যেই লকডাউন। রায়পুর থেকে বাড়ি... বারাণসী। ৬৪৪ কিলোমিটার। লকডাউনের পরদিনই ভাই ফোন করে বলেছে, মা আর নেই। মারা গিয়েছে। মুকরিম আলি মাকে শেষ দেখা দেখতে চায়। হাঁটতে শুরু করেছে। ৩১০ কিলোমিটার হাঁটার পর সে আটকে আছে কোরিয়া নামে এক ব্লক শহরে। আর যেতে দেওয়া হবে না। এটাই বর্ডার। বর্ডার সিল করে দেওয়ার নির্দেশ আছে। মুকরিম আলি থানায় বলছে একবার অন্তত বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও। মায়ের কবরে মাটি দিতে চাই। চিকিৎসা করাতে যখন পারলাম না। পুলিসকর্মীরা অসহায়। কারণ সত্যি তাঁরাও অপারগ। ঝুঁকি নেওয়া যায় না। মুকরিম আলির ভাই বারংবার ফোন করে বলছে, কী করব? মাকে গোর দিয়ে দিই? তুই তো আসতে পারছিস না?
এই যে শোনা যায় রাজ্যে রাজ্যে কিংবা কেন্দ্রে সরকার এত সব উন্নয়নের কাজ করে, উন্নয়ন নাকি উপচে পড়ছে দেশজুড়ে, তাহলে আজও এত মাইগ্রেশন হচ্ছে কেন? দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ কেন নিজেদের ঘর ছেড়ে শহরে আসতে বাধ্য হচ্ছে এখনও। এই যে সকলেই বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়... এই দৃশ্যটাই একটা উত্তর যে, আসলে গ্রামে গ্রামে, ব্লকে ব্লকে কাজ নেই। তাই এরা ভিনরাজ্যে। কেন কাজ নেই?
শুধু মারাঠাওয়াড়া আর তেলেঙ্গানার উদাহরণ দেখা যাক। এপ্রিল মাস এল, মে আসছে। এই সময় এই দুই এলাকায় প্রবল জলসঙ্কট শুরু হবে। আর সেই সঙ্কটের সময় দেখা যায় গ্রামগুলিতে প্রাইভেট বা সরকারি ট্যাঙ্কার আসছে। প্রতি লিটার জল সাধারণ মানুষকে কিনতে হয় ৪৫ পয়সা করে। জুন মাসে যখন তুঙ্গে উঠবে জলকষ্ট, তখনই ওই রেট হয়ে যায় লিটারে ১ টাকা। আর ঠিক এই সময়েই, এই এলাকাগুলিকেই বিয়ার এবং সুগার ফ্যাক্টরিকে জল বিক্রি করা হয় ৪ পয়সা প্রতি লিটার। তিনটি রাজ্যে কোল্ড ড্রিংক সংস্থা জল পায় ২৫ পয়সা প্রতি লিটার দরে। গোটা মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের হিসেব হল, গ্রামের তুলনায় সরকারি জলের সাপ্লাই শহরাঞ্চল পায় ৪০০ শতাংশ বেশি।
গ্রামে জল নেই। তাই চাষ নেই। চাষ নেই। তাই কাজ নেই। কাজ নেই। তাই মাইগ্রেশন। কতরকম মাইগ্রেশন আছে ভারতে? সিজনাল, শর্ট টার্ম, সার্কুলার এবং পার্মানেন্ট। ফসল কাটার সময়টায় মাইগ্রেশন হয়। এর মধ্যে সার্কুলার মাইগ্রেশন সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক। এই মাইগ্রেশনে একটি শ্রমিক বা গোটা পরিবার কিছু মাস অথবা কয়েক বছর পরপরই এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যায় কাজের জন্য। মুম্বইয়ে একটা প্রোজেক্ট শেষ। তাদের কাজ চলে গেল। তারা পুনে চলে গেল সেখান থেকে ভোপাল। তারপর সুরাত। এই সার্কুলার মাইগ্রেশনের সংখ্যা সবথেকে বেশি। আর সেই কারণে এদের কোনও স্থায়ী সংখ্যা সরকারের ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভেতে পাওয়া যায় না। তাই এই সেক্টর বিপিএল তালিকাতেও থাকে না। গরিবদের সহায়তার জন্য সরকারি যে কোনও প্রকল্পেই এই সার্কুলার মাইগ্রেশনের অনেকে বাদ চলে যায়। কারণ স্থায়ী ঠিকানা নেই, আধার কার্ড নেই।
উন্নয়ন যদি ইনক্লুসিভ হয়, তাহলে মাইগ্রেশন হওয়ারই কথা নয়। কিন্তু ২০১১ সালের জনগণনার রিপোর্টে নজিরবিহীন প্রবণতা দেখা গিয়েছে। জনগণনা যতদিন ধরে চলছে ভারতে, সেখানে সর্বদাই দেখা গিয়েছে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বদাই শহরের তুলনায় বেশি হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯২১। সেটার কারণ ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্প্যানিশ ফ্লু। ওই রোগের কারণে গ্রাম থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরে চলে আসে কয়েক বছরে। তাই ১৯২১ সালের জনগণনায় দেখা যায়, গ্রামের তুলনায় শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে। কিন্তু ওই একবারই। আর কোনওদিন নয়। অভাবনীয় ব্যতিক্রম দেখা গেল সর্বশেষ জনগণনায়। ২০১১ সালের রিপোর্টে পাওয়া গেল, গ্রামে ৯ কোটি মানুষ বেড়েছে। কিন্তু শহরে বেড়েছে ৯ কোটি ১৪ লক্ষ মানুষ। অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এই প্রথম স্বাধীন ভারতে বেশি হয়ে গেল। এর এক ও একমাত্র কারণ মাইগ্রেশন। এই যে ১৯২১ সালের জনগণনা শুরু হচ্ছে, নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে ওই প্রবণতা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার বাড়ছে। কারণ বিগত ১০ বছরে মাইগ্রেশনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে সাম্প্রতিক ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভেতে। এর কারণ কি? যে কোনও সরকার বিগত ২৫ বছর ধরে লাগাতার অ্যান্টি ফার্মার, অ্যান্টি ভিলেজ, অ্যান্টি লেবার ডেভেলপমেন্ট মডেল অনুসরণ করে চলেছে। সবথেকে বড় প্রমাণ হল মাইগ্র্যান্ট লেবারদের কোনও সার্ভেই হয় না। মাইনগ্র্যান্টস লেবারার ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট ১৯৭৯ গ্রাহ্যই হয় না ভারতের রাজ্যে রাজ্যে। তাই পৃথক সঠিক কোনও তথ্যই নেই সংখ্যাটি কত। এসবের মধ্যেই শুধু একটা প্রাপ্তি। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ৮০ কোটি গরিব মানুষের জন্য ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ। প্যাকেজটা বড় কথা নয়। ওটা সামান্য। আসল ম্যাজিক হল ওই ৮০ কোটি শব্দবন্ধটি! বহু বছর পর সরকার অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল যে, দেশে গরিবের সংখ্যা ৮০ কোটি!
অধ্যাপক অমর্ত্য সেন ও জঁ দ্রেঁজের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি’তে একটি ক্ষুদ্র দৃশ্যের বর্ণনা আছে। উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলায় ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের বিদ্যু্ৎকেন্দ্র ক্যাম্পাসে একটি বিরাট গেস্ট হাউস। সেখানে অফিসাররা থাকেন, ইঞ্জিনিয়াররা ইন্সপেকশনে এলে বিশ্রাম নেন। সকালে উঠেই এই গেস্ট হাউসের কেয়ারটেকারের কাজ হল, সবকটা এয়ারকন্ডিশনার চালিয়ে দেওয়া। এমনকী ঘরে বা লবিতে কেউ না থাকলেও দিনভর এসি চলে। আর এই গেস্ট হাউসের বাউন্ডারি ওয়ালের ঠিক বাইরে রয়েছে সার দেওয়া মেকশিফট কটেজ। এখানে থাকেন পাওয়ার প্ল্যান্টের সাফাই কর্মীরা। ডোম কমিউনিটির। বাউন্ডারি ওয়ালের একদিকে দিনভর এসি চলে ফাঁকা লবিতে। আর এই অন্যদিকে এই অস্থায়ী কটেজগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগই নেই। এঁদের অনেকেই ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন এনটিপিসিতে। জলও আনতে হয় হেঁটে... ক্যাম্পাসের অন্য প্রান্ত থেকে। উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ, দাঙ্গায় বাস্তুহারা, পানীয় জলের অভাব, জীবিকার সন্ধান, খরায় ফসল জ্বলে যাওয়া, বন্যায় ত্রাণ শিবিরের খেঁাজ—ভারতের ৮০ কোটির সিংহভাগ সবথেকে ভালো শিখেছে একটি স্কিল! হাঁটা!  
03rd  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা বিপর্যয়ের জেরে এ রাজ্যের বাসিন্দা প্রায় দু’লক্ষ মানুষ আটকে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি। ...

বার্লিন, ৪ এপ্রিল: কালান্তক করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে পথ খুঁজছে গোটা বিশ্ব। আর এর উল্টো পথে হেঁটে জার্মানির বার্লিন ডিস্ট্রিক্ট মেয়র স্টিফেন ভন দাসেল ...

  লন্ডন, ৪ এপ্রিল: অবশেষে বরফ গললো। বেতন কাটা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ইয়ন মরগ্যান, বেন স্টোকসদের লড়াই চলছিল। ইসিবি চাইছিল, করোনা মোকাবিলায় ক্রিকেটারদের বেতনের কুড়ি শতাংশ অর্থ কমিয়ে দিয়ে। ...

সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করা হবে স্থানীয় শ্মশানে, এই আশঙ্কায় শ্মশানঘাটের চারদিকের রাস্তা আটকে ঘণ্টা দুয়েক বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অতিরিক্ত চিন্তার জন্য উচ্চ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৮- রাজনীতিক জগজীবন রামের জন্ম
১৯১৬- মার্কিন অভিনেতা গ্রেগরি পেকের জন্ম
১৯৩২ - বিশিষ্ট বাঙালী সাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখাপাধ্যায়ের মত্যু
১৯৫৭- কেরলে প্রথম ক্ষমতায় এলেন কমিউনিস্টরা
১৯৯৩- বলিউডের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর মৃত্যু
২০০০- রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৭- সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
04th  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) দ্বাদশী ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৫। মঘা ২৩/৪০ দিবা ২/৫৭। সূ উ ৫/২৯/১৫, অ ৫/৪৯/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৮ গতে ৯/৩৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৭ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৬ গতে ২/৩৪ মধ্যে।
২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, দ্বাদশী ২৫/৩১/০ দিবা ৩/৪৩/১২। মঘা ১৪/৫০/৩৮ দিবা ১১/২৭/৩। সূ উ ৫/৩০/৪৮, অ ৫/৫০/৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৮/২ গতে ১১/৪০/২৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪০/২৭ গতে ১/১২/৫১ মধ্যে।
 ১১ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভূমিকম্প অনুভুত অসমে 
বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মাঝে এবার ভূমিকম্প অনুভুত হল অসমে। রিখটার ...বিশদ

11:39:32 PM

নিরোর কথা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, ট্যুইট ফিরহাদ হাকিমের 
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রবিবার রাত ন’টার সময় ন’মিনিট ঘরের আলো জ্বালিয়ে ...বিশদ

10:04:34 PM

৯ মিনিটের ‘লাইট আউট’-এর জন্য বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনও প্রভাব পড়েনি: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং 

09:45:20 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১১, মৃত ১২৬: পিটিআই 

09:20:30 PM

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের 

09:18:00 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৪
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ...বিশদ

08:33:36 PM