Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি। সরকারি স্ট্যাম্প। রতু লালের কপালে সাদা রঙের পেইন্ট দিয়ে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অনিতা অগ্নিহোত্রী স্ট্যাম্পের মতো করে হাতে লিখে দিয়েছেন, ‘আমি লকডাউন অমান্য করেছি, আমার কাছে ঘেঁষবেন না কেউ। সাবধান!’ উত্তরপ্রদেশ থেকে হাঁটতে হাঁটতে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার সীমান্তে প্রবেশ করার পরই রাস্তা থেকে রতু লালসহ পাঁচজনকে পুলিস ধরেছে। জানতে চেয়েছে ধমক দিয়ে, কেন তারা লকডাউন অমান্য করে এভাবে হাঁটছে। তিনদিন একটানা হেঁটে আসার পর মাটিতে বসে পড়েছিল রতু লাল। তাদের গৌরীহর পুলিস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারের আদেশ কেন মানা হয়নি? রতু লাল বলেছিল, তার কাছে পড়ে আছে ৬০ টাকা। এই টাকায় চলবে না। খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আর দু’দিন পর থেকে রাস্তায় সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা হাঁটা শুরু করেছে। বাড়ি ফিরতে। উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত হাঁটার মধ্যেই কয়েক জায়গায় রতু লালদের খাবার দিয়েছে কিছু দোকান। কিন্তু থানা থেকে বেরিয়ে ফের হাঁটা শুরু করার পর তাকে আর কেউ খাবার দিতে সাহস পাচ্ছিল না। কারণ, তার কপালের ওই লেখা। ‘কাছে ঘেঁষবে না’ লেখা দেখে সকলেই ধরে নিয়েছে, তার করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তাই কে দেবে তাকে খাবার? সুতরাং পরবর্তী ১৩ ঘণ্টার হাঁটায় কোথাও খাবার পায়নি রতু লাল। অবশেষে তার স্থান হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। কপালে সরকারি স্ট্যাম্প।
খাবার আছে, চা আছে, একটা অনেক বড় স্কুলবাড়িতে আশ্রয়ও রয়েছে। কিন্তু সামনে খাবার থাকলেও দয়াল মণ্ডলের মুখে রুচি নেই। অথচ সে ৩৫ ঘণ্টা খায়নি। কম্বল, চাদর দেওয়া হলেও তার ঘুম আসছে না। হায়দরাবাদের টুক্কুগুড়া থেকে মধ্যপ্রদেশের বেতুল যেতে হবে। ৮১০ কিমি হাঁটা। হীরাপুর গ্রামের দয়াল মণ্ডল টুক্কুগুড়া থেকে রওনা দিয়ে ১৩৫ কিলোমিটার হেঁটে আসার পর তাকে থামানো হয়েছিল। আর হাঁটা যাবে না। সরকারের বারণ বাইরে থাকা। পুলিস বলল। অতএব আশ্রয় শিবিরে। চিন্তা নেই। খাবার পাবে। কিন্তু দয়াল মণ্ডল খাবে কীভাবে? ১৯ মার্চের পর আর সে টাকা জমা করেনি ব্যাঙ্কে। তাই হীরাপুর গ্রামে থাকা তার স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে আর বিধবা মায়ের কাছে তো আর টাকা থাকার কথা নয়! তারা কী খাচ্ছে? নিশ্চয়ই খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে? তাই ছেলেমেয়ের কথা ভেবে দয়াল মণ্ডল খাবার মুখে দিতে পারছে না। কাঁদছে। কবে যেতে পারবে বাড়ি? গিয়ে কী দেখবে? দীপক, দয়ালদের এই গোটা ১৬ জনের দল বেতুল থেকে হায়রাবাদে গিয়েছিল কেন? সেকেন্দ্রাবাদের কাছে লাক্সারি ভিলা হাউজিং কমপ্লেক্স তৈরি করতে। তারা কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার। দয়াল আর দীপক তৈরি করছিল ফ্ল্যাট অ্যাটাচড সুইমিং পুল! দয়ালদের হীরাপুর গ্রামে জল শুকিয়ে এসেছে। তাই চাষ বন্ধ। সেই কারণে, তারা এই হায়দরাবাদে এসেছে কাজ করতে। আর এসে দেখছে প্রতিটি ফ্ল্যাটের একটি করে সুইমিং পুল থাকবে। পরিভাষায় এগুলিকে বলা হয় ব্যালকনি পুল। দয়াল মণ্ডলের মাত্র ১২ টাকা ব্যালান্স আছে মোবাইলে। সেটাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। কথা বললে শেষ যোগাযোগের মাধ্যমটিও সমাপ্ত হয়ে যাবে। তারপর? দয়াল মণ্ডল সুযোগ খুঁজছে। সে খাবার চাইছে না। ব্লক অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। সে অনুমতি চায় বাড়ি ফেরার। বাস, ট্রেন দিতে হবে না। অনুমতি পেলেই আবার হাঁটবে। সে না গেলে বাড়ির সকলে না খেয়ে মারা যাবে। তার কাছে তবু ১২৬০ টাকা আছে। এই টাকা সে ব্যালান্স রিচার্জ করে করে শেষ করতে চায় না।
১২ জনের টিম। একটি মাস্ক। সব মিলিয়ে রয়েছে ৩৪৫ টাকা। পাঁচটি রুটি। তিন পাউচ জল। প্রভীন কুমার এবং ১২ জনের দল চারদিন ধরে হাঁটছে। ২০০ কিমি হাঁটার মধ্যে ১১ বার চেকপোস্টে পুলিস আটকেছে। আধার কার্ড দেখার জন্য। উত্তরকাশীতে প্রজেক্ট হনুমান চটিতে কাজ করছে প্রবীণ কুমার আর তার এই সঙ্গীরা। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী। এটা হল কেন্দ্রীয় চার ধাম প্রকল্প। কিন্তু সেই কাজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদার নেমে গিয়েছে হরিদ্বারে। শ্রমিকদের এখানে রেখে। একদিন... দুদিন... খাবারের দোকানও বন্ধ। সাপ্লাই আসছে না নীচের থেকে। তাই হাঁটা শুরু করেছিল প্রভীন কুমার। অবশেষে দেরাদুনে এসে ৬৫ ঘণ্টা পর খাবার পেয়েছে তারা। পাঁচটি রুটি শেষ হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। হাঁটা শেষ হয়নি। আরও ৬০ কিমি বাকি। তারপর উত্তরপ্রদেশের কুতুবপুর গ্রামে। ৬০ কিলোমিটার। দেরাদুনে আসার পর কমিউনিটি সেন্টারে আটকে থাকা প্রবীণ কুমারদের খিচুড়ি দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, তিনদিন ধরে না খাওয়া, এখনই কিন্তু বেশি বেশি খিচুড়ি খেও না। আস্তে আস্তে সইয়ে খাও। নয়তো পেট খারাপ হবে। প্রবীণ কুমার মাথা নেড়ে খাওয়ার মধ্যেই সন্তর্পণে ব্যাগ থেকে জল খাবার ঘটি বের করে সেটায় খিচুড়ি সরিয়ে রেখেছে। কারণ বিশ্বাস নেই, আবার কখন খাবার পাওয়া যাবে। যদি না পায়!
হাঁটছে ব্রিজমোহন সিং, হরদোইয়ে বাড়ি। গাজিয়াবাদে কার্পেন্টারের কাজ করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। বেতন ৯ হাজার টাকা। ফ্যামিলি মেম্বার ১০ জন। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, পাড়ার মুদির দোকান আর বাকিতে জিনিস দিচ্ছে না। তাই তাকে ফিরতে হবে। অতএব হাঁটা। হাঁটছে পিলিভিটের ব্রিজপাল। গ্রেটার নয়ডায় খেলনা তৈরির কারখানার শ্রমিক। আয় কত? ২ হাজার টাকা মাসে! হাঁটছে সঈদা বাণী। সুলতানপুর যাবে। ৩০০ টাকা আয় দিনে। গাজিয়াবাদে কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার। হাঁটছে মুকরিম আলি। মায়ের অপারেশন করতে হবে। তাই সে রোজগার বাড়াতে গিয়েছিল ছত্তিশগড়ের রায়পুর। তার মধ্যেই লকডাউন। রায়পুর থেকে বাড়ি... বারাণসী। ৬৪৪ কিলোমিটার। লকডাউনের পরদিনই ভাই ফোন করে বলেছে, মা আর নেই। মারা গিয়েছে। মুকরিম আলি মাকে শেষ দেখা দেখতে চায়। হাঁটতে শুরু করেছে। ৩১০ কিলোমিটার হাঁটার পর সে আটকে আছে কোরিয়া নামে এক ব্লক শহরে। আর যেতে দেওয়া হবে না। এটাই বর্ডার। বর্ডার সিল করে দেওয়ার নির্দেশ আছে। মুকরিম আলি থানায় বলছে একবার অন্তত বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও। মায়ের কবরে মাটি দিতে চাই। চিকিৎসা করাতে যখন পারলাম না। পুলিসকর্মীরা অসহায়। কারণ সত্যি তাঁরাও অপারগ। ঝুঁকি নেওয়া যায় না। মুকরিম আলির ভাই বারংবার ফোন করে বলছে, কী করব? মাকে গোর দিয়ে দিই? তুই তো আসতে পারছিস না?
এই যে শোনা যায় রাজ্যে রাজ্যে কিংবা কেন্দ্রে সরকার এত সব উন্নয়নের কাজ করে, উন্নয়ন নাকি উপচে পড়ছে দেশজুড়ে, তাহলে আজও এত মাইগ্রেশন হচ্ছে কেন? দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ কেন নিজেদের ঘর ছেড়ে শহরে আসতে বাধ্য হচ্ছে এখনও। এই যে সকলেই বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়... এই দৃশ্যটাই একটা উত্তর যে, আসলে গ্রামে গ্রামে, ব্লকে ব্লকে কাজ নেই। তাই এরা ভিনরাজ্যে। কেন কাজ নেই?
শুধু মারাঠাওয়াড়া আর তেলেঙ্গানার উদাহরণ দেখা যাক। এপ্রিল মাস এল, মে আসছে। এই সময় এই দুই এলাকায় প্রবল জলসঙ্কট শুরু হবে। আর সেই সঙ্কটের সময় দেখা যায় গ্রামগুলিতে প্রাইভেট বা সরকারি ট্যাঙ্কার আসছে। প্রতি লিটার জল সাধারণ মানুষকে কিনতে হয় ৪৫ পয়সা করে। জুন মাসে যখন তুঙ্গে উঠবে জলকষ্ট, তখনই ওই রেট হয়ে যায় লিটারে ১ টাকা। আর ঠিক এই সময়েই, এই এলাকাগুলিকেই বিয়ার এবং সুগার ফ্যাক্টরিকে জল বিক্রি করা হয় ৪ পয়সা প্রতি লিটার। তিনটি রাজ্যে কোল্ড ড্রিংক সংস্থা জল পায় ২৫ পয়সা প্রতি লিটার দরে। গোটা মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের হিসেব হল, গ্রামের তুলনায় সরকারি জলের সাপ্লাই শহরাঞ্চল পায় ৪০০ শতাংশ বেশি।
গ্রামে জল নেই। তাই চাষ নেই। চাষ নেই। তাই কাজ নেই। কাজ নেই। তাই মাইগ্রেশন। কতরকম মাইগ্রেশন আছে ভারতে? সিজনাল, শর্ট টার্ম, সার্কুলার এবং পার্মানেন্ট। ফসল কাটার সময়টায় মাইগ্রেশন হয়। এর মধ্যে সার্কুলার মাইগ্রেশন সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক। এই মাইগ্রেশনে একটি শ্রমিক বা গোটা পরিবার কিছু মাস অথবা কয়েক বছর পরপরই এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যায় কাজের জন্য। মুম্বইয়ে একটা প্রোজেক্ট শেষ। তাদের কাজ চলে গেল। তারা পুনে চলে গেল সেখান থেকে ভোপাল। তারপর সুরাত। এই সার্কুলার মাইগ্রেশনের সংখ্যা সবথেকে বেশি। আর সেই কারণে এদের কোনও স্থায়ী সংখ্যা সরকারের ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভেতে পাওয়া যায় না। তাই এই সেক্টর বিপিএল তালিকাতেও থাকে না। গরিবদের সহায়তার জন্য সরকারি যে কোনও প্রকল্পেই এই সার্কুলার মাইগ্রেশনের অনেকে বাদ চলে যায়। কারণ স্থায়ী ঠিকানা নেই, আধার কার্ড নেই।
উন্নয়ন যদি ইনক্লুসিভ হয়, তাহলে মাইগ্রেশন হওয়ারই কথা নয়। কিন্তু ২০১১ সালের জনগণনার রিপোর্টে নজিরবিহীন প্রবণতা দেখা গিয়েছে। জনগণনা যতদিন ধরে চলছে ভারতে, সেখানে সর্বদাই দেখা গিয়েছে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বদাই শহরের তুলনায় বেশি হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯২১। সেটার কারণ ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্প্যানিশ ফ্লু। ওই রোগের কারণে গ্রাম থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরে চলে আসে কয়েক বছরে। তাই ১৯২১ সালের জনগণনায় দেখা যায়, গ্রামের তুলনায় শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে। কিন্তু ওই একবারই। আর কোনওদিন নয়। অভাবনীয় ব্যতিক্রম দেখা গেল সর্বশেষ জনগণনায়। ২০১১ সালের রিপোর্টে পাওয়া গেল, গ্রামে ৯ কোটি মানুষ বেড়েছে। কিন্তু শহরে বেড়েছে ৯ কোটি ১৪ লক্ষ মানুষ। অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এই প্রথম স্বাধীন ভারতে বেশি হয়ে গেল। এর এক ও একমাত্র কারণ মাইগ্রেশন। এই যে ১৯২১ সালের জনগণনা শুরু হচ্ছে, নিশ্চিতভাবে দেখা যাবে ওই প্রবণতা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার বাড়ছে। কারণ বিগত ১০ বছরে মাইগ্রেশনের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে সাম্প্রতিক ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভেতে। এর কারণ কি? যে কোনও সরকার বিগত ২৫ বছর ধরে লাগাতার অ্যান্টি ফার্মার, অ্যান্টি ভিলেজ, অ্যান্টি লেবার ডেভেলপমেন্ট মডেল অনুসরণ করে চলেছে। সবথেকে বড় প্রমাণ হল মাইগ্র্যান্ট লেবারদের কোনও সার্ভেই হয় না। মাইনগ্র্যান্টস লেবারার ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট ১৯৭৯ গ্রাহ্যই হয় না ভারতের রাজ্যে রাজ্যে। তাই পৃথক সঠিক কোনও তথ্যই নেই সংখ্যাটি কত। এসবের মধ্যেই শুধু একটা প্রাপ্তি। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ৮০ কোটি গরিব মানুষের জন্য ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ। প্যাকেজটা বড় কথা নয়। ওটা সামান্য। আসল ম্যাজিক হল ওই ৮০ কোটি শব্দবন্ধটি! বহু বছর পর সরকার অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল যে, দেশে গরিবের সংখ্যা ৮০ কোটি!
অধ্যাপক অমর্ত্য সেন ও জঁ দ্রেঁজের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অ্যান আনসার্টেন গ্লোরি’তে একটি ক্ষুদ্র দৃশ্যের বর্ণনা আছে। উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলায় ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের বিদ্যু্ৎকেন্দ্র ক্যাম্পাসে একটি বিরাট গেস্ট হাউস। সেখানে অফিসাররা থাকেন, ইঞ্জিনিয়াররা ইন্সপেকশনে এলে বিশ্রাম নেন। সকালে উঠেই এই গেস্ট হাউসের কেয়ারটেকারের কাজ হল, সবকটা এয়ারকন্ডিশনার চালিয়ে দেওয়া। এমনকী ঘরে বা লবিতে কেউ না থাকলেও দিনভর এসি চলে। আর এই গেস্ট হাউসের বাউন্ডারি ওয়ালের ঠিক বাইরে রয়েছে সার দেওয়া মেকশিফট কটেজ। এখানে থাকেন পাওয়ার প্ল্যান্টের সাফাই কর্মীরা। ডোম কমিউনিটির। বাউন্ডারি ওয়ালের একদিকে দিনভর এসি চলে ফাঁকা লবিতে। আর এই অন্যদিকে এই অস্থায়ী কটেজগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগই নেই। এঁদের অনেকেই ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন এনটিপিসিতে। জলও আনতে হয় হেঁটে... ক্যাম্পাসের অন্য প্রান্ত থেকে। উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ, দাঙ্গায় বাস্তুহারা, পানীয় জলের অভাব, জীবিকার সন্ধান, খরায় ফসল জ্বলে যাওয়া, বন্যায় ত্রাণ শিবিরের খেঁাজ—ভারতের ৮০ কোটির সিংহভাগ সবথেকে ভালো শিখেছে একটি স্কিল! হাঁটা!  
03rd  April, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
ছুটি শব্দটাই আজ অর্থহীন, মনের অসুখ ডেকে আনছে লকডাউন, প্রবীণদের সঙ্কট আরও তীব্র
হিমাংশু সিংহ

যে বাঙালি ছুটি পাগল, সেও দু’মাস ঘরে থেকে আজ যে-কোনও মূল্যে কাজে যোগ দিতে মরিয়া। লকডাউন যে কাজের সঙ্গে ছুটির রসায়নটাকেও এভাবে রাতারাতি বদলে দেবে, কারও কল্পনাতেও ছিল না। রবিবারের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। লোকে বার ভুলে সবদিনকেই আজ শুধু লকডাউন বলে চিহ্নিত করছে। চার দেওয়ালের শৃঙ্খল আর ভালো লাগছে না কারও।
বিশদ

17th  May, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিক, তীর্থ যাত্রী বা চিকিৎসার কাজে বাইরে যাওয়া মানুষজনকে নিয়ে একের পর এক ট্রেন আসছে হাওড়া স্টেশনে। প্রায় প্রতিদিনই কমপক্ষে একটি ট্রেন তো ঢুকছেই হাওড়ায়। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লকডাউনে কাজ হারানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাড়ে আট হাজার মানুষকে প্রচেষ্টা প্রকল্পে মাথাপিছু ১০০০ টাকা দিল রাজ্য সরকার। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘স্নেহের পরশ’ এবং কাজ হারানো দুঃস্থ মানুষদের জন্য ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।   ...

নয়াদিল্লি, ২৭ মে: বিভিন্ন হোটেলের শ্রেণিবিন্যাস ও অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করল পর্যটন মন্ত্রক। এই অনুমোদনের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে আতিথেয়তা শিল্প একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগচ্ছে। ...

 নিউ ইয়র্ক, ২৭ মে: আবার মুখোমুখি মাইক টাইসন ও ইভান্ডার হোলিফিল্ড। চ্যারিটি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য প্রাক্তন দুই হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন অবসর ভেঙে রিংয়ে ফিরছেন। এই লড়াইয়ের দিন ঠিক হয়েছে ২৬ জুন। উল্লেখ্য, হোলিফিল্ডের বয়স এখন ৫৮ বছর। তাঁর থেকে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যাধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা। বাহন বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সন্তানের বিদ্যা শিক্ষায় অগ্রগতি বিষয়ে সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪২ - লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিংপুল চালু
১৮৮৩- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকারের জন্ম
১৯২৩- রাজনীতিক ও তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামা রাওয়ের জন্ম
২০১০- পশ্চিমবঙ্গে জ্ঞানশ্বেরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪১জনের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৮৯ টাকা ৭৬.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৮ টাকা ৯৪.১২ টাকা
ইউরো ৮১.২৯ টাকা ৮৪.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ৪৬/১৯ রাত্রি ১১/২৮। পুষ্যা নক্ষত্র ৬/১৬ দিবা ৭/২৭। সূর্যোদয় ৪/৫৬/১৭, সূর্যাস্ত ৬/১১/২০। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/৫২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৮/৫৩। পুষ্যানক্ষত্র প্রাতঃ ৫/৩৫ পরে অশ্লেষানক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৪৫। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৪ গতে ৬/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৫ গতে ১২/৫৫ মধ্যে।
৪ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ২,১৯০ জন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬,৯৪৮ 

27-05-2020 - 09:09:17 PM

 কলকাতার উপর দিয়ে ঝড় বইল ঘণ্টায় ৯৬ কিমি বেগে

27-05-2020 - 07:45:15 PM

বাংলায় করোনায় আক্রান্ত আরও ১৮৩ 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮৩ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

27-05-2020 - 07:08:26 PM

অসমে নতুন করে আক্রান্ত আরও ৬০
অসমে নতুন করে আরও ৬০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। ...বিশদ

27-05-2020 - 06:56:31 PM

একদিনে তামিলনাড়ুতে করোনা আক্রান্ত ৮১৭
একদিনে তামিলনাড়ুতে ৮১৭ জনের শরীরে মিলেছে করোনার জীবাণু। মৃত্যু হয়েছে ...বিশদ

27-05-2020 - 06:50:00 PM

শুরু হল বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি 
কলকাতা সহ জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি। যদিও আবহাওয়া ...বিশদ

27-05-2020 - 06:43:33 PM