Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য সঙ্গীত এবং স্বপ্নের ঘোরটুকুতেও অগ্রাধিকার শুধু তারই। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার কেন্দ্রেও সে। আজ করোনা বিনে গীত নেই! সে আমাদের কানুর জায়গাটাই দখল করে নিয়েছে সবার অগোচরে। করোনা মুছে দিয়েছে রাম রহিম নাস্তিক সুবিধাবাদী শাক্ত শৈব বৈষ্ণব শিয়া সুন্নি আহমেদিয়া বৌদ্ধ ঈশা ক্যাথলিক প্রোটেস্ট্যান্ট, ধনী গরিব, শিক্ষিত অশিক্ষিত, এমনকী বিজেপি কংগ্রেস তৃণমূল সিপিএম... রকমারি ভেদরেখাও। রাষ্ট্রগুলির কঠিন কঠোর প্রাচীর কাঁটাতারও কেমন হাস্যকর হয়ে উঠেছে করোনার দাপটে। করোনা আমার শত্রু। তোমার শত্রু। তার শত্রু। সবার শত্রু। শত্রুর শত্রু, তাই আমার মিত্র—রাজনীতির এই চেনা তত্ত্বটাকেও বাতিল করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আমরা একযোগে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি করোনার বিরুদ্ধে। আধুনিক পৃথিবী দু’-দু’টি বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে। বলা বাহুল্য, একটিবারও সার্বিক ঐক্য হয়নি। না মিত্রজোটের ভিতরে, না অক্ষশক্তির অন্দরে। আর এবার ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র চীন ভারত আরব ইউরোপ রাশিয়া আফ্রিকা লাতিন আমেরিকা...! প্রথম বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্ব তৃতীয় বিশ্ব...! ধনতান্ত্রিক রাজতান্ত্রিক সোশ্যালিস্ট কমিউনিস্ট...! সাদা কালো বাদামি মঙ্গোলীয়...! সকলেই।
আমাদের সকলের যুদ্ধ যার বিরুদ্ধে, সে কিন্তু দৃশ্যমান নয়। অন্তত খালি চোখে তাকে দেখা যায় না। তাকে দেখতে হয় যন্ত্রের সাহায্যে। আপাতনিরীহ, না-জড়, না-জীব গোত্রের এই আণুবীক্ষণিক বস্তুটিকে তখন যন্ত্রের কারসাজি বলে অগ্রাহ্য করার হিম্মত এই গ্রহের কারও হয় না। বস্তুটিকে হাতার মধ্যে পেয়েও তার নামকরণ করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ৪৩ দিন সময় নিয়েছিল। চীনের উহানে মানবদেহে নতুন করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেল ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯। হু ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে তার নাম দিল কোভিড-১৯। প্রথম দিকে চীনও রোগটিকে পাত্তা দেয়নি। বাকি বিশ্বও অগ্রাহ্য করেছিল সমস্যাটি বিচ্ছিন্নভাবে চীনের ভেবে। পরিণামে কোভিড-১৯ থাইল্যান্ড দক্ষিণ কোরিয়া জাপান সিঙ্গাপুর হয়ে ইরান ইউরোপ আমেরিকা ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান প্রভৃতি দুনিয়ার সিংহভাগ দেশে অনুপ্রবেশ করল। গুপ্তচরবৃত্তিও এত স্মার্ট এবং নিখুঁত হয় না।
আমরা হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসার অবস্থায় দেখছি, মাত্র তিন মাসের ভিতরে সারা পৃথিবীর ২০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে। ২৯ মার্চ ২০২০ তারিখে একদিনে (২৪ ঘণ্টায়) যোগ হয়েছে নতুন ১ লক্ষ করোনা রোগী! মহামারীর ইতিহাসের সমস্ত হিসেব গুলিয়ে গেল সেদিন। আক্রান্ত নর-নারীর সংখ্যা মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভিতরে ৬ লক্ষাধিক থেকে ৭ লক্ষাধিক হয়ে গেল! যেখানে সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা প্রথম ১ লক্ষ হতে সময় নিয়েছিল ৬৭ দিন (১৬০৮ ঘণ্টা)। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত সংখ্যার দিকে নজর রাখা যাক: আক্রান্ত... ২৫ মার্চ ২ হাজার ১৫ জন, ২৫ ফেব্রুয়ারি ৮০ হাজার ৮২৮ জন, ২৫ মার্চ ৪ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৫ জন।
অনুমান করা যায়, আজ ২ এপ্রিল সংখ্যাটি ৯ লক্ষ ছাপিয়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে সর্বনাশের দিকে। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির গ্রাফেও সাদৃশ্য লক্ষণীয়। আমরা অনুরূপভাবে চোখ রাখি আরও কয়েকটি বিক্ষিপ্ত পরিসংখ্যানে: মৃত... ২২ জানুয়ারি ১৭ জন, ২৩ জানুয়ারি ২৫ জন, ২৪ জানুয়ারি ৪১ জন, ২৫ জানুয়ারি ৫৬ জন, ৩১ জানুয়ারি ২৫৯ জন। সংখ্যাটি ২৯ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ৯৭৭-এ পৌঁছে যায়। মৃতের সংখ্যা ১২ মার্চ ৫ হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। ১০ হাজার পেরিয়ে যায় ১৯ মার্চ। ৩০ হাজার পেরিয়ে যায় পরের ৯ দিনে। মার্চের শেষদিনে ৪২ হাজার টপকে তীব্র গতিতে ছুটছে!
এই যে অপ্রতিরোধ্য বিষাদ, তার পত্তন চীনের হাতে। দ্রুত চীনকে পিছনে ফেলে আর্তচিৎকার করতে থাকে ইতালি ও স্পেন। অথচ জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় অগ্রণী দেশ হিসেবেই পরিচিত ইতালি। বিষণ্ণতা অক্টোপাসের মতোই জড়িয়ে ধরে ইরান ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অনেক স্বঘোষিত মুরুব্বি দেশকেই। আমাদের ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি, মার্চের শেষদিনে। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ হয়ে গিয়েছে। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত ৪৩ জন আর মৃত ৫ জন।
এত এত হতাশারই ভিতরে উঁকি দিয়েছে কিছু নিশ্চিত আশাও: বিশ্বজুড়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন পৌনে ২ লক্ষ নরনারী। ভারতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন শ’দেড়েক মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে সুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে ৩ জনের ক্ষেত্রে। শেষোক্ত ক্ষেত্রে হাবড়ার তরুণীর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তিনি স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা করেন। রোগলক্ষণ নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে তিনি নিজেই সোজা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে গিয়ে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে সেখানেই ভর্তি করানো হয়। সেখানকার সুন্দর পরিবেশে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠে যারপরনাই অভিভূত তিনি। মঙ্গলবার ওই তরুণী বাড়ি ফিরে গিয়ে বস্তুত রাজ্যবাসীকেই আশ্বস্ত করেছেন, আশার আলো দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশে ২০০ করোনা হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা চলছে। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে করোনা পরীক্ষার পরিকাঠামোও। উপযুক্ত মাস্ক, পিপিই, ভেন্টিলেটর-সহ করোনা চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জামের জোগান দ্রুত বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি। এজন্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট পণ্য বা কাঁচামালের উপর আমদানি শুল্ক, আইজিএসটি, কাস্টমস ডিউটি প্রভৃতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার নেওয়ার কথা ভাবছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সামর্থ্যানুযায়ী আর্থিক সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, করোনা পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি অদূর ভবিষ্যতে মেডিক্যাল রিসার্চের উপর জোর দেবে এবং বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াবে। এই ধরনের গবেষণাকে ভারতও আর বিলাসিতার তকমা দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। এই প্রশ্নে চীনের সাফল্য ভারতকে অনুপ্রাণিত করবেই। চীনের যথার্থ প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হয়ে ওঠার বাসনা পোষণ করলে এর অন্যথা করা চলে না।
এর ভিতরেই তাল কেটে গিয়েছে একাধিক ঘটনায়।
হু ৩০ জানুয়ারি এই বিপদটি নিয়ে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন (পিএইচইআইসি) ঘোষণা করে। তাতেই থেমে থাকেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রবাহকে ১১ মার্চ সারা বিশ্বব্যাপী মহামারী (প্যানডেমিক) বলেও ঘোষণা করে দেয় তারা। কিন্তু তারপরেও ১১ দিন যাবৎ চালু ছিল ভারতের আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা-সহ নানাভাবে এ-দেশ সে-দেশ যাতায়াত ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান, ওই ক’দিনে ইউরোপ, আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লক্ষাধিক মানুষ ভারতে ফিরেছেন! কিন্তু তাঁদের কতটা কী স্বাস্থ্যপরীক্ষা এদেশে হয়েছিল, তা নিয়ে সংশয় সন্দেহ এবং আতঙ্ক দুই-ই সচেতন দেশবাসীর রয়েছে।
ওইসঙ্গে যোগ হয়েছে দিল্লির দু’টি ঘটনা।
২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে দেশজুড়ে লকডাউন বলবৎ করা হয়েছে। তারই তিনদিন পর ২৮ মার্চ দিল্লির আনন্দবিহার বাস টার্মিনাস এবং গাজিয়াবাদে কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক জড়ো হন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাড়িতে ফিরবেন বলে। এই ছবি দেখে সারা দেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।
এর দু’দিন পর ৩১ মার্চ ফাঁস হয় দিল্লিরই নিজামুদ্দিন বস্তি এলাকায় মুসলিমদের একটি ধর্মীয় সমাবেশে দু’হাজারের বেশি (বেসরকারি মতে, সংখ্যাটি ৭-৮ হাজার!) মানুষ জমায়েতের একটু পুরনো খবর। করোনার কারণে দিল্লির যে কোনও স্থানে ২০০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করে সরকার। তার পরেও সেখানে টানা তিনদিনের ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩-১৫ মার্চ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, এমনকী আন্দামান থেকেও তাঁরা গিয়েছিলেন। আর ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ২৮১ জন এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশ মায়ানমার মালয়েশিয়া ফিলিপিন্স ব্রিটেন আফগানিস্তান আলজিরিয়া কিরঘিস্তান শ্রীলঙ্কা নেপাল প্রভৃতি ১৬টি দেশ থেকে। সমাবেশ শেষ হওয়ামাত্র কিছু মানুষ নিজ নিজ দেশে, রাজ্যে বা এলাকায় ফিরে গিয়েছিলেন। আর লকডাউন ঘোষণার পরেও দিল্লির ওই মহল্লায় কয়েকশো ধর্মপ্রচারককে থাকতে দেখা যায়। একটি খবরে সবার বুক কেঁপে ওঠে যে, ওই সমাবেশ থেকে বাড়ি ফিরে কিংবা ফেরার পথে জানা দশেক মানুষ মারা গিয়েছেন। তাঁদের মৃত্যুর কারণ কোভিড-১৯! মৃতদের মধ্যে ৬ জন তেলেঙ্গানার, একজন করে কাশ্মীর, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর। একজন আবার ফিলিপিন্সের বাসিন্দা‌। ওই সমাবেশ ফেরত ৪ শতাধিক মানুষের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ক্যাজুয়ালি দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়েছেন। ৩১ মার্চ দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানান, দিল্লিতে ২৪ জনের দেহে কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। নিজামুদ্দিনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলারও ৭৩ জন। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৪ জনকে শনাক্ত করে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে বাংলার বাকিদের হদিশ এখনও মেলেনি। কলকাতা হয়ে আন্দামানেও ফিরে গিয়েছেন ১০ জন।
করোনা নিয়ে আমাদের ভরসা ছিল যে, রোগটার সঙ্গে বিদেশের কোনও-না-কোনও যোগ রয়েছে। গোষ্ঠী সংক্রমণের ভয়টা আমরা এতদিন পাইনি। এবার একটু একটু করে পেয়ে বসছে স্থানীয় স্তরেও রোগ ছড়াবার আশঙ্কাটি। দিল্লির ঘটনা দু’টি নিয়ে দায় এড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিজেপি এবং আম আদমি পার্টি। তার ভিতরে সুরাহার কোনও দিশা নেই। ভারত আর ক’দিন স্টেজ-২ দখলে রেখে করোনামুক্ত হওয়ার লড়াইটা চালাতে পারবে, সেই ব্যাপারে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন উঠে পড়েছে। আমরা কি বড্ড বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ছি? ব্যাপারটি হঠকারিতার নামান্তর হয়ে উঠবে না তো? সামনে চীন ইতালি স্পেন ইরান ব্রিটেন আমেরিকার মতো বিভীষিকা রূপ একগুচ্ছ ঘটমান বর্তমানকে রেখেও আমরা এতটা বেপরোয়া হতে পারছি! ঈশ্বর কি আমাদের ক্ষমার যোগ্য মনে করবেন আর? চীন বা আমেরিকার মতো রূপকথার পাখির জান নিয়ে কি জন্মেছে ভারত রাষ্ট্র? আমরা যেন কোনওভাবেই ভুলে না যাই যে, ছিয়াত্তর (১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দ বা ১১৭৬ বঙ্গাব্দ) আর পঞ্চাশের মন্বন্তরের (১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ বা ১৩৫০ বঙ্গাব্দ) ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠিনি আমরা। কোথাও যেন দাগা দিয়ে চলেছে সেই ধূসর স্মৃতি। 
02nd  April, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
ছুটি শব্দটাই আজ অর্থহীন, মনের অসুখ ডেকে আনছে লকডাউন, প্রবীণদের সঙ্কট আরও তীব্র
হিমাংশু সিংহ

যে বাঙালি ছুটি পাগল, সেও দু’মাস ঘরে থেকে আজ যে-কোনও মূল্যে কাজে যোগ দিতে মরিয়া। লকডাউন যে কাজের সঙ্গে ছুটির রসায়নটাকেও এভাবে রাতারাতি বদলে দেবে, কারও কল্পনাতেও ছিল না। রবিবারের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। লোকে বার ভুলে সবদিনকেই আজ শুধু লকডাউন বলে চিহ্নিত করছে। চার দেওয়ালের শৃঙ্খল আর ভালো লাগছে না কারও।
বিশদ

17th  May, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিক, তীর্থ যাত্রী বা চিকিৎসার কাজে বাইরে যাওয়া মানুষজনকে নিয়ে একের পর এক ট্রেন আসছে হাওড়া স্টেশনে। প্রায় প্রতিদিনই কমপক্ষে একটি ট্রেন তো ঢুকছেই হাওড়ায়। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লকডাউনে কাজ হারানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাড়ে আট হাজার মানুষকে প্রচেষ্টা প্রকল্পে মাথাপিছু ১০০০ টাকা দিল রাজ্য সরকার। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘স্নেহের পরশ’ এবং কাজ হারানো দুঃস্থ মানুষদের জন্য ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।   ...

নয়াদিল্লি, ২৭ মে: বিভিন্ন হোটেলের শ্রেণিবিন্যাস ও অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করল পর্যটন মন্ত্রক। এই অনুমোদনের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে আতিথেয়তা শিল্প একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগচ্ছে। ...

সংবাদদাতা, গাজোল, রতুয়া ও পতিরাম: জামাইষষ্ঠীতে মালদহের বাজারগুলিতে পোল্ট্রির মাংসের দাম বাড়ল প্রায় দ্বিগুণ। দু’এক সপ্তাহ আগেও ইংলিশবাজার ও পুরাতন মালদহ শহরের বাজারগুলিতে পোল্ট্রির মুরগীর ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যাধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা। বাহন বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সন্তানের বিদ্যা শিক্ষায় অগ্রগতি বিষয়ে সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪২ - লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিংপুল চালু
১৮৮৩- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকারের জন্ম
১৯২৩- রাজনীতিক ও তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামা রাওয়ের জন্ম
২০১০- পশ্চিমবঙ্গে জ্ঞানশ্বেরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪১জনের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৮৯ টাকা ৭৬.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৮ টাকা ৯৪.১২ টাকা
ইউরো ৮১.২৯ টাকা ৮৪.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ৪৬/১৯ রাত্রি ১১/২৮। পুষ্যা নক্ষত্র ৬/১৬ দিবা ৭/২৭। সূর্যোদয় ৪/৫৬/১৭, সূর্যাস্ত ৬/১১/২০। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/৫২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৮/৫৩। পুষ্যানক্ষত্র প্রাতঃ ৫/৩৫ পরে অশ্লেষানক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৪৫। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৪ গতে ৬/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৫ গতে ১২/৫৫ মধ্যে।
৪ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ২,১৯০ জন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬,৯৪৮ 

27-05-2020 - 09:09:17 PM

 কলকাতার উপর দিয়ে ঝড় বইল ঘণ্টায় ৯৬ কিমি বেগে

27-05-2020 - 07:45:15 PM

বাংলায় করোনায় আক্রান্ত আরও ১৮৩ 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮৩ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

27-05-2020 - 07:08:26 PM

অসমে নতুন করে আক্রান্ত আরও ৬০
অসমে নতুন করে আরও ৬০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। ...বিশদ

27-05-2020 - 06:56:31 PM

একদিনে তামিলনাড়ুতে করোনা আক্রান্ত ৮১৭
একদিনে তামিলনাড়ুতে ৮১৭ জনের শরীরে মিলেছে করোনার জীবাণু। মৃত্যু হয়েছে ...বিশদ

27-05-2020 - 06:50:00 PM

শুরু হল বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি 
কলকাতা সহ জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি। যদিও আবহাওয়া ...বিশদ

27-05-2020 - 06:43:33 PM