Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষ এই অণুজীবদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে কোটি কোটি। অথচ কারা এই প্রাণহাণির কারণ তা মানুষের বুঝে উঠতে সময় লেগেছে হাজার হাজার বছর। ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারেরও বেশ কিছু সময় পর, রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস সম্পর্কে মানুষ জানতে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ইতিহাসে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীবসৃষ্ট মহামারীর প্রভাবে সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে, পাল্টে গিয়েছে সমাজ-অর্থনীতি। মহামারীর ইতিহাস ও মানুষের মধ্যে তার প্রভাব নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। মানুষের প্রাচীন ফসিল বিশ্লেষণ করে স্মলপক্স, টিউবারকিউলোসিসসহ বিভিন্ন রোগের নিদর্শন পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এই দুনিয়া বিশ্বায়িত হওয়ার বহু আগেও লাখ লাখ মানুষ মহামারীতে মারা গিয়েছে। আসলে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বিশ্বে জনসংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমনই বাড়ে রোগ বালাইয়ের প্রকোপ। মানুষ পশুপাখিকে যখন গৃহপালিত করতে শেখে, তখন সেই গৃহপালিত পশু পাখি থেকেও মানুষ সহজে সংক্রমিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ জলের অভাবে গ্রামকে গ্রাম উজার হয়েছে। নগরসভ্যতা হারিয়ে গিয়েছে মহামারীতে। ওল্ড টেস্টামেন্টে যেমন ঈশ্বরের শাস্তি হিসেবে মহামারীর নিদর্শন আমরা পাই, তেমনই প্রাচীন গ্রিসের ইতিহাসবিদ থুসিসাইডিসের রচনাতেও মহামারীর উল্লেখ পাওয়া যায়। থুসিসাইডিসের রচনা থেকে আমরা জানিতে পারি, পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের সময় টাইফাস মহামারীতে এথেন্সের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মারা যায়। যার কারণে স্পার্টার জয়লাভ সম্ভব হয়েছিল। ১৬৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮০ খ্রিস্টাব্দে রোমে স্মল পক্স মহামারীতে বহু মানুষ মারা যায়, রাজপরিবারের সদস্যরাও এর প্রকোপ থেকে বাঁচেনি। বিখ্যাত রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের ভাই লুইসিয়াস ভেরাসের মারা গিয়েছিলেন। ২৫০ খ্রিস্টাব্দে সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারী রোমান সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে দেয়। এরপর, পঞ্চম শতাব্দীতে একদিকে যুদ্ধ অন্যদিকে এই মহামারী শক্তিশালী পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যকেই শেষ করে দেয়।
১৪ শতকে যখন কোনও বিমান কিংবা প্রমোদতরী কিছুই ছিল না, তখনও ব্ল্যাক ডেথ নামে মহামারী এক যুগের কিছুটা বেশি সময়ের মধ্যেই প্রাচ্য এশিয়া থেকে পাশ্চাত্য ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি ইউরো-এশিয়া অঞ্চলটির সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মেরে ফেলেছিল। যা ইউরো-এশিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। ইংল্যান্ডে প্রতি দশজনে চারজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফ্লোরেন্স শহরে এক লাখ নাগরিকের মধ্যে ৫০ হাজার নাগরিক প্রাণ হারায়। সময়টা ১৫২০ সালের মার্চ মাস। গুটিবসন্তের (স্মল পক্স) একজন মাত্র বাহক ফ্রান্সিকো ডি অ্যাগুইয়া মেক্সিকোতে পা রাখেন। সেই সময় মধ্য আমেরিকায় কোনও ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনও বাস পরিবহন। তা সত্ত্বেও ডিসেম্বরের মধ্যে গুটি বসন্ত মহামারি আকারে পুরো মধ্য আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মধ্য আমেরিকার মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখানেই শেষ নয়! ১৯১৮ সালে একটি বিশেষ ধরনের ফ্লু ভাইরাস কয়েকমাসের মধ্যেই পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় পঞ্চাশ কোটি মানুষকে আক্রান্ত করে, যা তখনকার মানব প্রজাতির এক চতুর্থাংশেরও বেশি। এই ভাইরাসে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়। ওই মহামারীতে এক বছরেরও কম সময়ে ১০ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। চার বছর ধরে চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যার চেয়েও তা বেশি ছিল। মহামারীর এরকম বহু নিদর্শন পাওয়া যায় ইতিহাসে, যা শুধু মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে এমন নয়, গোটা সমাজ-রাজনীতির সমীকরণকেই বদলে দিয়েছে। মহামারী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ডেমোগ্রাফিকে বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেও ফেলেছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব।
তাহলে কি করোনা ভাইরাসের প্রকোপেও আধুনিক বিশ্ব পাল্টে যাবে?
জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কেল গত ১৮ মার্চ দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে প্রথম করোনা সংক্রমণকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী সবচেয়ে বড় সঙ্কট বলেছেন। ২০১৯–এর ডিসেম্বরের পরের পৃথিবী আগের মতো নেই। পরিবর্তনটা হবে অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন এবং মৌলিক। নতুন অনেক কিছুর জন্য প্রস্তুত হতে হবে মানবজাতিকে। কিছু কিছু পরিবর্তন স্থায়ী হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, ১৯৪৫ সালের মে মাসের আগের ও পরের বিশ্ব আলাদা হয়ে গিয়েছিল। করোনা ভাইরাস মহাযুদ্ধের চেয়েও বেশি মাত্রায় চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারে। সেই অর্থে করোনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ‘রাজনৈতিক ঘটনা’।
এই প্রজন্ম এ রকম সর্বগ্রাসী দুর্যোগ আর দেখেনি। প্রতিদিনই কোভিড-১৯ ক্ষয়ক্ষতির চমক দেখাচ্ছে। এর শেষ কোথায়, আমরা কেউই জানি না। ঝড়ের বেগে ধাবমান মানব সভ্যতা অতর্কিতে থেমে গিয়েছে। শিল্প-বাণিজ্য-বিশ্বায়ন, পরিবেশ দূষণের উদ্দাম গতি, সব কিছু থমকে দাঁড়িয়েছে এক মাসের মধ্যে। করোনা-উত্তর পৃথিবীতে মানুষ কবে আবার ঘর থেকে বেরিয়ে কাজে ফিরবে, তার উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়নি, চীন এত দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এও মনে হয়নি, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বিপর্যয় এত ব্যাপক হবে।
তুলনামূলকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা ছিল ওই সব অঞ্চল। অথচ সেখানেই অস্তিত্বের সঙ্কট তীব্র চেহারা নিয়েছে। ইরানে সংক্রমণের ব্যাপকতারও কোনও উত্তর মেলেনি আজও। এটুকুই শুধু বোঝা যাচ্ছে, যেসব দেশ ও সরকার আগেভাগে সমস্যার রূঢ়তা চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ সক্রিয় হয়েছে, তারা ভাইরাসের আগ্রাসন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অন্যত্র ঘটেছে উল্টো। এই বিপর্যয় মোকাবিলায় আমেরিকা, ব্রিটেনসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা ব্যর্থ। নিজেদের সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁদের তরফ থেকে এখনও এমন একটি বাক্যও পাওয়া যায়নি, যা বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করতে পারে। যা বিশ্বে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের ইঙ্গিত। অতীতে মহামারীর ইতিহাসে শুধুমাত্র সঠিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়ে বহু রাজত্ব নুয়ে পড়েছিল। তবে সব মহামারির শিক্ষা এক রকম নয়।
ইউরোপ যুগের পর যুগ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে শরিক হয়েছে আমেরিকার। অথচ, ভাইরাস হানা দেওয়ামাত্র ওয়াশিংটন কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাকি বিশ্বের দায় এড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতি যেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘স্প্যানিশ-ফ্লু’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই দুর্যোগে অস্ট্রিয়া আর জার্মানি শক্তি হারিয়ে উত্থান ঘটেছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের। তবে মহামারী শুধু রাজনীতিতে নয়, নাটকীয় পরিবর্তন আনে অর্থনীতিতেও। ডলার-পাউন্ড পকেটে নিয়ে পণ্য না পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক নাগরিকের জীবনে এই প্রথম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত বন্ধ এবং জরুরি অবস্থার মতো ঘটনা।
আপাতত গোটা পৃথিবী জুড়ে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ, পর্যটন স্তব্ধ, হোটেল, খাবার দোকান সবেতেই তালা ঝুলছে। এমন চললে মে মাসের শেষের মধ্যে প্রায় সব বিমান সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা। পর্যটন-শিল্পেও একই কালো মেঘ। শিল্পের যে ক্ষেত্রগুলো কাজ তৈরি করে, তার মধ্যে প্রধানই হল ভ্রমণ ও পর্যটন— পৃথিবীব্যাপী আনুমানিক ২০ শতাংশ মানুষের জীবিকার কেন্দ্র। ফলে যে সংখ্যায় মানুষ কাজ হারাতে চলেছে আগামী এক-দুই মাসে, তার হিসেব আন্দাজ করা যায় না। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে পড়েছে। বড় ধরনের মন্দার মুখে গোটা বিশ্ব। সব দেশেই ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জন্য মরিয়া। কেউ চাইছেন নগদ সহায়তা, কেউ কর ছাড়। পরিস্থিতি অভূতপূর্ব। কিন্তু অধিকাংশ অর্থমন্ত্রী হতবিহ্বল। রাষ্ট্রগুলো সাহায্য চাইছে বিশ্বব্যাঙ্ক, আইএমএফ, এডিবির কাছে।
চীনকে বাদ দিলে ভারতসহ পৃথিবীর সব শেয়ার মার্কেটে অবিরাম রক্তক্ষরণ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৮ সালের আর্থিক ‘মন্দা’র পরিস্থিতি আবার ফিরে এসেছে। মাসখানেকের মধ্যে পরিস্থিতির মোড় না ঘুরলে হয়তো আমরা ১৯৩০ সালের ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ এর সঙ্গে তুলনীয় জায়গায় পৌঁছে যাব। ভাইরাস–ঝড় থামার পরই পুঁজি তার পুনরুত্থানের জন্য অটোমেশনের উপর জোর দেবে। কারখানা ও সাপ্লাই চেন দুটোর অটোমেশন করা গেলে পরের ভাইরাস যুদ্ধগুলোকে এড়ানো সহজ হতে পারে। আর এই অটোমেশন যুগের ব্যাপকতা শ্রমজীবীনির্ভর দেশগুলোর জন্য খারাপ খবর। অসংগঠিত শ্রমিকের হারও কমে আসবে।
প্রতিটি সংকটই কিছু সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দেয়। অর্গানিক ফুডের বাজার চাঙা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে যেসব খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলোর দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। মাস্ক পরার চেয়েও শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা যে অধিক জরুরি ছিল, সেটা করোনা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে। ফলে ভোগের ধরন পাল্টাবে। জীবনযাপনের ধরনও। ‘লাইফস্টাইল’ জগতে তাই পরিবর্তন হবে বিস্ময়কর। করোনা ভাইরাস শুধু বিশ্বায়নের ধরনই নয়, হয়তো অনেক সামাজিক মূল্যবোধই আমূল পাল্টে দিতে পারে। গোলার্ধজুড়ে বইতে পারে স্বাস্থ্যসচেতনতার নতুন তরঙ্গ। মানুষ টের পাচ্ছে, একটা মিসাইল বানানোর চেয়ে একজন ডাক্তার তৈরি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। করোনা–আতঙ্ক সেই শিক্ষাই দিচ্ছে!
27th  March, 2020
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থেকে বোমাবাজির জেরে জখম হয়েছেন কয়েকজন। আহতরা সকলে যুব শিবিরের অনুগত। প্রতিবাদে যুব গোষ্ঠী রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে। ...

মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, সোমবার থেকে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির খোলার কথা ঘোষণা করা হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সেই সিদ্ধান্ত বদল করল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের জন্য এখনই মন্দির খোলা হবে না। ...

চেন্নাই, ৩১ মে (পিটিআই): কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার গত নির্দেশিকা বদলের কোনও ঘোষণা করেনি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজস্থানে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ১৪৯ 
রাজস্থানে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ১৪৯ জন। এই নিয়ে মোট ...বিশদ

01:10:49 PM

অসমে নতুন করে করোনা আক্রান্ত আরও ২৩ 
অসমে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ২৩ জন। এই নিয়ে ...বিশদ

01:02:49 PM

করোনা যোদ্ধাদের কুর্ণিশ প্রধানমন্ত্রীর 
করোনা যোদ্ধাদের ফের একবার কুর্ণিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ ...বিশদ

12:39:49 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত? 
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

12:38:49 PM

বন্ধ করে দেওয়া হল দিল্লি সীমান্ত
এক সপ্তাহের জন্য নয়াদিল্লি সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি ...বিশদ

12:25:00 PM

করোনা: কোন রাজ্যে কত আক্রান্ত? 
ভারতে এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ...বিশদ

12:16:20 PM