Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে। আজ সারা বিশ্বেই মানুষের জীবনে আরও এক ক্রান্তিকাল সমুপস্থিত। এক ভয়াবহ ভাইরাস তাকে আক্রমণ করছে। সেই আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে ঝড়ের বেগে। মানুষের সুস্থ জীবনে হঠাৎই মৃত্যুর নিকষ কালো হাতছানি। সচেতনতা দিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে মানবসমাজ। এর থেকে অনেক বড়বড় মহামারীর বিরুদ্ধে আমরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়াই করেছি। সেই ইতিহাস আজ আমাদের নতুন করে প্রেরণা জোগাতে পারে।
আজ থেকে ১০২ বছর আগের কথা। সারা বিশ্বে তখন মরণথাবা বসিয়েছে স্প্যানিস ফ্লু। ১৯১৮ সালের এমনই এক বসন্তের দিনে ধরা পড়ল নতুন এক ভাইরাস। নাম তার এইচ ওয়ান এন ওয়ান। প্রায় দেড় বছর সেই রোগ মানবজাতির উপর দুরমুশ করেছিল। সারা বিশ্বে পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতেও এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। গান্ধীজি তখন বছর চারেক হল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরেছেন। তিনি তখন সবরমতী আশ্রমে থাকেন। তিনিও আক্রান্ত হলেন এই রোগে। আজ যেভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনের মধ্য দিয়ে এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা চেষ্টা হচ্ছে, সেদিনও তাই হয়েছিল। স্প্যানিশ ফ্লু’র কোনও ওষুধ ছিল না। এভাবেই সেদিন মানুষ লড়াই করেছিল। সেই লড়াই আজ আমাদের কাছে এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। সেদিন আমাদের দেশে এক কোটি সত্তর লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিন ছিল শিক্ষার অভাব। ছিল পরিকাঠামোর অভাব। পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজের অবহেলাতেই মানুষ পথেঘাটে কুকুর বিড়ালের মতো মরেছিল। বলা হয়, সেদিন ব্রিটিশদের ওই অবহেলাই মানুষের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। দেশ জুড়ে ক্রমেই আন্দোলন সংগঠিত হয়ে উঠেছিল। ভয় পেয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ রাজ। তাই ভারতীয়দের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দিতে ১৯১৯ সালে তারা জালিয়ানওয়াবাগ হত্যাকাণ্ড করে বসল। সে অন্য ইতিহাস।
গান্ধীজি তাঁর অসুস্থতার মধ্যে তরল জাতীয় খাবার খেয়ে এবং ঘরে একা একা থেকে দিন কাটাতেন। ভারতের ভাগ্যবিধাতা সেদিন বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে। সেদিন এই স্প্যানিশ ফ্লুতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন সাহিত্যিক প্রেমচন্দও। তিনিও পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের মধ্যেই আমরা পেয়েছি ‘কোয়ারেন্টাইন’ শব্দটি। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৮ সালে। ‘পরদিন বেলা এগার-বারটার মধ্যে জাহাজ রেঙ্গুন পৌঁছিবে; কিন্তু ভোর না হইতেই সমস্ত লোকের মুখচোখে একটা ভয় ও চাঞ্চল্যের চিহ্ন দেখা দিল। চারিদিক হইতে একটা অস্ফুট শব্দ কানে আসতে লাগিল, কেরেন্টিন। খবর লইয়া জানিলাম, কথাটা qarantine; তখন প্লেগের ভয়ে বর্মা গভর্নমেন্ট অত্যন্ত সাবধান। শহর হইতে আট-দশ মাইল দূরে একটা চড়ায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়া খানিকটা স্থান ঘিরিয়া লইয়া অনেকগুলি কুঁড়েঘর তৈয়ারি করিয়াছে। ইহারই মধ্যে সমস্ত ডেকের যাত্রীদের নির্বিচারে নামাইয়া দেওয়া হয়। দশদিন বাস করার পর, তবে ইহারা শহরে প্রবেশ করিতে পায়।’
আজ কিন্তু আমরা অনেকেই কোয়ারেন্টাইন মানছি না। একটা জিনিস আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেটা হল বিদেশ থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক, উচ্চবিত্ত শ্রেণীর, সেলেব্রিটি, আবার প্রভাবশালীও বটে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নির্বুদ্ধিতা দেখে মনে হয়েছে, যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, এঁরা অত্যন্ত অভাবশালী। অভাবটা বুদ্ধির, সচেতনতার, মানসিকতার। শুধু আত্মম্ভরিতা আর অবিবেচক হওয়ার কারণে এই কয়েকজন কলকাতায় করোনার বীজাণুটা ছড়িয়ে দিলেন। এই ছবিটা শুধু এই রাজ্যের নয়, সারা দেশের। প্রভাবশালী, আর কিছু আহাম্মক সেলেব্রিটি মনে করেন, এসব বুঝি তাঁদের জন্য নয়। ইসস, আমি কিনা বেলেঘাটা আইডিতে যাব! আমার মতো বড় মাপের মানুষ ওইসব গরিবগুর্বোদের চিকিৎসার জন্য তৈরি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করব? এই অহংকারই আজ দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষকে সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। এদের ধিক্কার জানানোর ভাষাও যেন আমরা হারিয়ে ফেলেছি। একটা জিনিস এঁরা প্রমাণ করে দিয়েছেন। সেটা হল, আমাদের দেশের প্রধান অভিশাপ অশিক্ষা নয়। অভিশাপ হল, এদেশের শিক্ষিত কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন নির্বুদ্ধিতা। সারাদেশের উৎকণ্ঠিত মানুষ আজ এই আত্মম্ভরিতার শাস্তি দাবি করছে।
১৯১৮ সালে আমাদের দেশে যে স্প্যানিশ ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছিল, সেদিনও তা এসেছিল বিদেশ থেকেই। ১৯১৮ সালে মধ্যরাতে বোম্বাই (বর্তমানে মুম্বই) বন্দরে এসে নোঙর করল একটি জাহাজ। সেই জাহাজ থেকে নামলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা সেনারা। সেই সেনা কর্মীদের মধ্য দিয়েই সেদিন ভারতে ঢুকেছিল স্প্যানিশ ফ্লুয়ের বীজাণু। এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে বেশি দেরি হয়নি। সেদিন হেল্থ ইন্সপেক্টর জে এস টার্নার বলেছিলেন, ‘রাতের অন্ধকারে ভারতে যেন চোরের মতো ঢুকে পড়েছিল এক গুপ্ত ঘাতক।’ তারপর সেই রোগ ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণ ভারতের উপকূল বরাবর। ভারতের অন্য অংশেও তা মৃত্যুর এক ভয়াবহ চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল। হিন্দি সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক ছিলেন সূর্যকান্ত ত্রিপাঠি। তিনি ‘নিরালা’ নামেই পরিচিত। তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী সহ পরিবারের অনেককেই। তিনি লিখেছিলেন, ‘চোখের পলকে আমার পরিবারের সদস্যরা যেন অদৃশ্য হয়ে গেল।’ তখন এত মৃত্যু হয়েছিল যে সৎকার্য করার উপায় ছিল না। মানুষ নদীতে দেহ ভাসিয়ে দিত। গঙ্গায় ভেসে যেত পচাগলা মানুষের দেহ। এর ফলে সংক্রমণ যে আরও বেড়েছিল, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই। পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ ডাক্তারকেই তখন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওয়ার ফ্রন্টে। তাই যেটুকু চিকিৎসার সুযোগ ছিল, তাও জোটেনি। তখন দেশের মানুষের শুশ্রুষার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন একদল লড়াকু তরুণ। তাঁরা চাঁদা তুলে পাড়ায় পাড়ায় ক্যাম্প তৈরি করে মানুষকে সচেতন করার প্রয়াস চালাতেন। খাদ্য, জল সরবরাহ করতেন তাঁরা। কেউ মারা গেলে তাঁরাই অন্ত্যেষ্টির দায়িত্ব নিতেন।
সেদিন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আজকের মতোই জনগণের মধ্যে সচেতনতার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল। সংবাদপত্রে লেখা হতো, ‘কেউ বাইরে বেরবেন না। ঘরে থাকুন। অন্যজনের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকুন।’ সেদিন কিন্তু মানুষ দুর্বলতর হয়েও সচেতনতা দিয়ে লড়াই করেছিল। সেদিন আমাদের দেশের মানুষ সেই লড়াইয়ে সরকারকে পাশে পায়নি। আজ কিন্তু সমস্ত দুর্বিপাকের মধ্যে সমস্ত সরকার একজোট হয়ে লড়াই শুরু করে দিয়েছে। আজ এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে যে, সমস্ত রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভেদাভেদ, লাভ লোকসান, ভোটের অঙ্ক ভুলে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার একসঙ্গে হাত মিলিয়ে মানুষকে রক্ষা করার কাজে নেমেছে। এই মুহূর্তে এই রোগের একমাত্র ওষুধ হল জনবিচ্ছিন্নতা। সংস্পর্শে এলেই ছড়াবে এই রোগ। ছড়ানোর সুযোগ না পেলে ভাইরাস ধীরে ধীরে শক্তিহীন হয়ে পড়বে। প্রকোপ কমবে। এর মধ্যেও বাজারে, হাটে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে দেখা যাচ্ছে একদল অতি দিগ্‌গজ নানা ধরনের কথা বলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এখন সকলের কাছে একটাই অনুরোধ, এইসব অতি দিগ্‌গজদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ওনারা করোনা ভাইরাসের থেকেও ভয়ংকর। সরকার, প্রশাসন, ডাক্তারদের নির্দেশ মেনে চলুন। প্রত্যেকের নিজস্ব নিরাপত্তা নিজের কাছে এবং নিজের নিরাপত্তাটুকু বজায় রাখলে অন্যদের নিরাপত্তাও রক্ষিত হবে। ‘ভ্রান্তিবিলাস সাজে না দুর্বিপাকে।’ ১৯১৮-র সেই লড়াই কিন্তু আজকের থেকে আরও ভয়ংকর ছিল। সেদিন অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা লড়াই করে বেঁচে উঠেছিলাম। সে তুলনায় করোনা ভাইরাসের মৃত্যুর হার কিন্তু অনেক কম। যদিও এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণই নেই। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার তার রাজধর্ম পালন করছে। আজ এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজ্যের মানুষকে সাহায্য করছেন, ভরসা জোগাচ্ছেন। তাঁর লড়াই উজ্জীবিত করেছে প্রত্যেককে। গেরুয়া শিবিরের কেউ কেউ এই লড়াইয়ের প্রশংসাও করছেন। পাশাপাশি বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে জনতা কার্ফুর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে যথার্থ সিদ্ধান্ত। এভাবেই আমরা সবাই নিয়মশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। সরকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এখন আমাদের উচিত মানুষের ধর্ম পালন করা। কোনও কোনও দেশে আইনের মধ্য দিয়ে মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে নিয়ম মেনে চলার। কোথাও কোথাও বলা হয়েছে, ‘হয় বাড়িতে থাকো নাহয় পাঁচ বছর জেলে থাকো।’ হয়তো এখনই আমাদের দেশে এই আইন বলবৎ করার সময় আসেনি। কিন্তু এমন যেন না হয়, যেদিন আমাদের দেশও এরকম একটা আইন এনে মানুষকে নিয়ম মানাতে বাধ্য করবে। এটুক সচেতন আমরা হতেই পারি। এই সচেতনতাই আজ মানুষের প্রকৃত ধর্ম। আজ এই বিপদকালে আমরা সত্যিই উপলব্ধি করতে পারছি, ধর্ম কাকে বলে। এতদিন আমরা দেখেছি রাজনৈতিক ধর্ম কিংবা ভক্তিমার্গগামী ধর্মের এক স্বরূপ। আজ এই বিপন্নতার মধ্যে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করছি বিরাজমান মানুষের ধর্মকে। মানুষকে রক্ষা করতে বন্ধ হয়েছে মন্দির, মসজিদ, গির্জা এবং অন্যান্য ধর্মস্থল। আজ ধর্মগুরুরাও বিজ্ঞানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। আজ সকলেই হয়তো উপলব্ধি করতে পারছেন, এই ধর্মই মহত্তর ধর্ম। মানব কল্যাণের ধর্ম।
অ্যালবেয়ার ক্যামু, জ্যাক লন্ডন, মার্কেস প্রমুখ সাহিত্যিকের লেখায় মহামারীর বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের ছবি আঁকা হয়েছে। আমাদের কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছেন, ‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি/ বাঁচিয়া গিয়েছি বিধির আশীষে অমৃতের টিকা পরি।’ মানুষের কপালে আছে অমৃতের টিকা। তার ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়।’ 
23rd  March, 2020
আমেরিকান কর্পোরেট ও ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারতকে বুঝতে হবে নিজেদের শক্তি। সেইমতো নতুন প্রেসিডেন্টের চোখে চোখ রেখে আদায় করতে হবে ভারতের স্বার্থ। এবার সিস্টেমটা বদলে যাক। আমরা আর মার্কিন কর্পোরেটের হাতে পুতুল হয়ে ব্যবহৃত হব না। বিশদ

বিহারের ফল বাংলাতেও
প্রভাব ফেলবে
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

করোনা আবহে বিশ্বে সর্বাধিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বিহার বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ২০ বছর বিহারে ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। বিশদ

কৈলাসে ফিরতে
মন চাইবে না মা
হারাধন চৌধুরী

আমাদের পাশে থেকো মা। তোমাকে কথা দিচ্ছি, আগামীবার এসে দেখবে—আমাদের এই পৃথিবীর সমস্ত অসুখ সেরে গেছে। আমাদের কারও মধ্যে ছোঁয়াছুঁয়ির ভয় নেই, কোনওরকম ছুঁৎমার্গ নেই। বিশদ

29th  October, 2020
মূকরাই সরব হবেন যথাসময়ে
পি চিদম্বরম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পৃথিবী বিপুলভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে সেখানে দরিদ্র বা গরিব রয়ে যাওয়াটা এক দুর্ভাগ্য। একটা দরিদ্র দেশে দরিদ্র থাকাটা গণতন্ত্রের ব্যর্থতা। আর একটা গরিব দেশের গরিব রাজ্যে দরিদ্র থেকে গেলে তাকে রাজনীতির অভিশাপ মানতে হবে।  বিশদ

28th  October, 2020
বিহারের ভোটে অনেক পাখি মারার ছক মোদির
সন্দীপন বিশ্বাস

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে দেখেছিলাম, বিজেপি সেখানে কী পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল। সমস্তিপুর, বেগুসরাই, জামুই, ভাগলপুর, মুঙ্গের, খাগাড়িয়া, লক্ষ্মীসরাই ঘুরে দেখেছিলাম, পতাকা, ফেস্টুন, ফ্লেক্স দিয়ে বিজেপি শহর মুড়ে দিয়েছে। বিশদ

28th  October, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

23rd  October, 2020
বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
অনেক হারানোর পুজো
হিমাংশু সিংহ

পুজোর ছুটির একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকে। উৎসবের অনেক আগে থেকেই সেই গন্ধে ম ম করে বাংলার গাঁ গঞ্জ থেকে শহর সর্বত্র। সেই গন্ধের সঙ্গে আগমনি মিশে তৈরি হয় অদ্ভুত ঘোর লাগানো একটা অপেক্ষার। মা আসছেন। বাঙালির অনেক না পাওয়া ক্ষতবিক্ষত জীবনে এর চেয়ে পরম প্রাপ্তির আর কিছুই হতে পারে না। সেই অপেক্ষার সঙ্গেই মিশে যায় বিদেশে কাজ করা দত্ত বাড়ির ছেলে, দূরে বিয়ে হওয়া পাশের বাড়ির হেমন্তদার মেয়ের ঘরে ফেরার খুশি। 
বিশদ

18th  October, 2020
একনজরে
ভারতের জনপ্রিয়তম ক্লাব বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এর আগে ফ্যান বেস, ইতিহাস, সাম্প্রতিক সাফল্যের ভিত্তিতে সেরা পাঁচটি ক্লাবকে বাছাই করেছে এশিয়ান ...

করোনা সংক্রমণের গোড়া থেকে ‘কাস্টমার’ নেই। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তাই চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা। সম্প্রতি তাঁদের নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, অনটন মেটাতে ৮৯ শতাংশ কর্মী ধার করে অন্ন জোটাচ্ছেন। ...

করোনার জেরে ছেদ পড়ল প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ট্র্যাডিশনে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় এবার জহরা মেলা হচ্ছে না। জেলার দীর্ঘদিনের পুরনো মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম চোপড়ার এই মেলাটি।  ...

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন সফরে আসছেন ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হয় তাঁর বিমান। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই সফর। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তি বিলম্ব হবে। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হলে ফল শুভ হবে। উপার্জন একই থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৭- শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্ম
১৯০১- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম
১৯০৯- পরমাণু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গির ভাবার জন্ম
১৯৬০- আর্জেন্তিনার ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনার জন্ম
১৯৬২ - ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার ও কোচ কোর্টনি ওয়ালশের জন্ম
১৯৯০- অভিনেতা বিনোদ মেহরার মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.২৪ টাকা ৭৪.৯৫ টাকা
পাউন্ড ৯৪.৭০ টাকা ৯৮.০৩ টাকা
ইউরো ৮৫.৫৪ টাকা ৮৮.৬৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১, ৪৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৮, ৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯, ৫৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬০, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬০, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৩ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, চতুর্দশী ৩০/৬ সন্ধ্যা ৫/৪৬। রেবতী নক্ষত্র ২৩/৩ দিবা ২/৫৭। সূর্যোদয় ৫/৪৩/৪৮, সূর্যাস্ত ৪/৫৬/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২৮ মধ্যে পুনঃ ৭/১৩ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৭ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১০ মধ্যে পুনঃ ৪/১ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৩২ গতে ১১/২০ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৯ গতে ৯/৪৫ মধ্যে।
১৩ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, চতুর্দশী সন্ধ্যা ৫/২০। রেবতী নক্ষত্র দিবা ৩/৪০। সূর্যোদয় ৫/৪৫, সূর্যাস্ত ৪/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে ও ৭/১৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে ও ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে ও ৩/২৩ গতে ৪/৫৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ৩/১৫ মধ্যে ও ৪/৭ গতে ৫/৪৫ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩৩ গতে ১১/২১ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/১০ গতে ৯/৪৫ মধ্যে।
১২ রবিয়ল আউয়ল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএসএল সেভনের ক্রীড়াসূচি ঘোষিত
ঢাকে কাঠি পড়ে গেল আইএসএল-এর। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্রীড়াসূচি ...বিশদ

05:41:18 PM

সুকুমার হাঁসদার দেহ সৎকারকে ঘিরে ঝাড়গ্রামে ব্যাপক গোলমাল
ঝাড়গ্রাম থানার জারালাটা গ্রামে নিজের জমিতে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার তথা ...বিশদ

04:14:00 PM

লুধিয়ানায় গ্রেপ্তার ২ জন শ্যুটার 
বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় লুধিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার করা ...বিশদ

03:57:27 PM

১৩৬ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:54:17 PM

ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জখম ২৩ জন 
মিছিল করার সময় বাঁশের ঝান্ডা বিদ্যুতের তারের সঙ্গে স্পর্শ হওয়ায় ...বিশদ

01:11:33 PM

নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় ব্যবসায়ী খুন 
নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় খুন হলেন এক ব্যবসায়ী। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য। ...বিশদ

01:06:12 PM