Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে মানুষকে ঘরবন্দি করতে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক পর্যন্ত দিতে হচ্ছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। কোনও একটা রোগ নিয়ে স্মরণকালের মধ্যে বিশ্বজোড়া এমন আতঙ্কের কথা মনে করতে পারছেন না ডাক্তারবাবুরাও। যুদ্ধ বাধলে শত্রু পক্ষের বিমানহানা থেকে বাঁচতে ব্ল্যাকআউট, দীর্ঘসময় জুড়ে কার্ফু জারিটাই দস্তুর। শেষবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় তা আমরা দেখেছি। কিন্তু, এবারের এই মহা-লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ দুটি দেশ নয়, দুটি সম্প্রদায় নয়, নয় দুই বিবদমান জাতি। উল্টে এক ভয়ানক জৈবযুদ্ধে অবতীর্ণ ভারতসহ বিশ্বের প্রায় দু’শো দেশ। তাই রবিবার দেশের জনগণকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হওয়ার যে আবেদন প্রধানমন্ত্রী করেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। এখনও এদেশে করোনা দ্বিতীয় স্টেজে রয়েছে। অর্থাৎ মূলত বিদেশ থেকে আসা মানুষজনের মধ্যে দিয়েই এটা ছড়াচ্ছে। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ বাড়ছেই। গত রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল একশোর কিছু বেশি। আর আজ তা ৩০০ ছুঁই ছুঁই! পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না-যায় তবে বড় বিপদ কিন্তু অপেক্ষা করছে। তাই ভয় না পেয়ে, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে আপাতত কিছুদিন বাড়িতেই ঘরবন্দি থাকতে হবে। এই কালান্তক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে সভা সমাবেশসহ যে-কোনও ধরনের ভিড় এড়ানোই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। রোগ ছড়ানোর চেনটা তাতে ভেঙে যাবে। এ ধরনের ভাইরাস রুখতে এটি ভীষণ জরুরি। তাই‌ প্রত্যেক দেশবাসীর উচিত, প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শটিকে আন্তরিকভাবে মেনে চলা।
কেন এত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল করোনা? কারণটা খুবই সহজবোধ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এই গ্রহের এত মানুষ, এত দেশ এভাবে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েননি। কিন্তু গোলাগুলি না ছুটলেও, কামান না দাগা হলেও এবার যুদ্ধের ব্যাপকতা আরও অনেক বিস্তৃত। যুদ্ধটাও নয় নয় করে প্রায় দু’মাস অতিক্রান্ত। চীন ও ইউরোপকে ঘায়েল করে এবং শক্তিশালী আমেরিকাকে পর্যন্ত বেসামাল করে করোনা এবার ১৩০ কোটি মানুষের ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশ সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের নির্ণায়ক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৭১-এর বাংলাদেশ যুদ্ধের পর শেষ এমন কার্ফু দেখেছিলাম ১৯৯২-তে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঠিক পরে। তবে, সেটা ছিল শুধুই কার্ফু। জনতার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনও দাম ছিল না। এবার প্রধানমন্ত্রী জনতাকে নিজের ইচ্ছায় রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা ঘরে থাকতে বলেছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া আগামী কিছুদিন সবাইকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষত ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের। অত্যন্ত বিনীত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি, আশা করেছেন এবারও দেশবাসী তাঁকে নিরাশ করবেন না। আসলে এই যুদ্ধের প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে, সঙ্কল্প ও সংযম। কোনওরকম সন্দেহ হলেই নিজেকে সমাজে আলাদা করে ফেলা। যে-কোনও রকম সভা সমাবেশ, জমায়েত এড়িয়ে চলা। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও মুখে মাস্ক পরা। নিজেকে বাঁচানোর
আর কোনও অস্ত্রই নেই। প্রতিষেধক তো দূর
অস্ত! আর নিজেকে তথা গোটা মানবজাতিকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে যাবতীয় বৈরিতা দূরে সরিয়ে সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।
অথচ গত তিন দশকে অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধ প্রযুক্তির কম উন্নতি তো হয়নি। পরমাণুযুদ্ধ বাধলে রক্ষা মিলবে কীভাবে সেই হিসেব-নিকেশও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু, আকস্মিক এক ভাইরাসের আক্রমণ চীন, আমেরিকা, ইউরোপকেও অসহায় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। একে ৪৭ নয়, অতি আধুনিক কোনও মেশিনগানও নয়, নয় ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী রাশিয়ার এস ৪০০ সিস্টেম কিংবা আধুনিক এফ ১৬-এর মতো কোনও মারাত্মক বোমারু বিমানও। ফ্রান্সের অবস্থা আবার এতই খারাপ যে বিতর্কিত রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরিও বন্ধই হয়ে গিয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সবই আজ অর্থহীন। অস্ত্রশস্ত্র কোনও কাজেই আসছে না। মানবজাতির অস্তিত্বকে অকস্মাৎ চ্যালেঞ্জর মুখে ফেলে দিয়েছে অবতীর্ণ আপাতনিরীহ এক ফ্লু ভাইরাস।
চীন মুলুক থেকে কয়েকমাস আগেই এর উৎপত্তি। ইবোলা, নিপা, সার্স, জিকা, প্লেগ, ক্যান্সার, টিবি পেরিয়ে এখন মানবজাতির সামনে মৃত্যুদূত হয়ে হাজির এই ‘চীনা ভাইরাস’। যদিও এর মারণ ক্ষমতা ৩ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়। তবে, সংক্রমণ ছড়ানোর বিপজ্জনক প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৭০ বছরের প্রবীণদের বিপদ বেশি। করোনা তাই অনায়াসেই প্রাণ নিচ্ছে দুর্বল ফুসফুসের প্রবীণ নাগরিকদের। বছরের শুরুতেই এই যুদ্ধের সূচনা চীন থেকে হলেও এখন তার এপিসেন্টার বিস্তৃত হয়েছে বিস্তীর্ণ ইউরোপে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেনের অবস্থা সঙ্গীন। ইরানেও ক্রমাগত মৃত্যু বাড়ছে। আবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও ইতালিতে প্রায় মড়ক লেগে গিয়েছে। রোজ কয়েকশো মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। স্পেনের অবস্থাও ভয়ঙ্কর! ব্রিটেনেও আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সবমিলিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দশ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। টনকটা নড়েছে সেই কারণেই। বেশ কিছুদিন ধরেই আশঙ্কা ছিল, আকস্মিক পরমাণু যুদ্ধ বাধলে পৃথিবীটাই অবলীলায় ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু, না। এক ভয়ঙ্কর জৈববিষ তথা জীবাণু যে গোকুলে বেড়ে চীনের গবেষণাগার থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানবজাতির অস্তিত্বের সামনে এত বড় একটা প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দেবে, তা দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবেনি।
অথচ, ইঙ্গিত একটা ছিলই। ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা নানা হিসেব-নিকেশও করছিলেন। বিগত ১৭২০-তে প্লেগ। ১৮২০-তে কলেরা। ১৯২০-তে স্প্যানিশ ফ্লু। আর তার ঠিক ১০০ বছর পেরিয়ে এই ২০২০-তেই বা বিশ্বব্যাপী এক মহামারী বাকি থাকে কেন? ঠিক তাই হল। বছরের শুরু থেকেই চীনের উহানে শুরু এই মারণ ভাইরাসের তাণ্ডব। গত ২৩ জানুয়ারি কমিউনিস্ট চীন তার বজ্রকঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে গোটা উহানকে যদি দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদ করে না দিত, তাহলে এতদিনে পরিস্থিতি সে-দেশের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হতো। চীন কিছুটা সামলে নিলেও ইউরোপের অবস্থা কিন্তু ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ইতালি ও স্পেন দুটি দেশের অবস্থা এক কথায় ভয়ঙ্কর। সেখানে এই রোগটি স্টেজ-৩ ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশিদের কাছ থেকেই তা ছড়াচ্ছে না, গোটা কমিউনিটি বা সম্প্রদায়ই আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার বলছেন, এই জৈবযুদ্ধ নাকি আসলে চীন ও আমেরিকার বাণিজ্যিক লড়াইয়ের ফল। ভুললে চলবে না, চীন কিন্তু এখন আর সোশ্যালিস্ট দেশ নয়। আমেরিকার মতোই বেনিয়া। আমেরিকাতেও এই মারণ ভাইরাস ভালোরকমই থাবা বসিয়েছে। শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছে সেখানে। আক্রান্তও কয়েক হাজার নরনারী। প্রথমটায় নাকি ট্রাম্প প্রশাসন তেমন আমলই দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। দেরিতে হলেও এখন আক্কেল গুড়ুম হয়ে গিয়েছে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর দেশটির।
আমাদের দেশের অবস্থা কিন্তু চীন বা ইউরোপের মতো শোচনীয় না-হলেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ, এখনও পর্যন্ত এদেশে বাইরে থেকে আসা লোকেরাই মূলত আক্রান্ত বা কেরিয়ার হলেও ভারত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কটা সবসময়ই বেশি। তার উপর এখানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষই অত্যন্ত গরিব। তাদের পক্ষে ভিড় এড়িয়ে কয়েক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরা করা মোটেই সম্ভব নয়। যে-কোনও দিন শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন ঘুরলেই দেখা যাবে কাতারে কাতারে মানুষ বাদুড়ঝোলা হয়ে এ-শহর থেকে ও-শহরে যাওয়া-আসা করছে। তাই তাদেরকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মারণ করোনার মোকাবিলা করতে বলা একেবারেই অবান্তর প্রস্তাব।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কত রকম সরঞ্জাম বেরিয়ে গিয়েছে তার কোনও ইয়ত্তা নেই। অথচ, যেই আমাদের জীবনদীপকে নেভাতে করোনা নামক ভাইরাসটি উদ্যত, সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে কৃত্রিম আকাল। সামান্য মাস্ক আর হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্যানিটাইজার নিয়েও কালোবাজারি ব্যবসা চলছে। অথচ, একমাস আগেও অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতবান মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত সফরে এসেছিলেন তখনও আমাদের দেশ কিন্তু এত ঐক্যবদ্ধ ছিল না। রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকাতেই ধর্মের নামে, সম্প্রদায়ের নামে মানুষ একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রক্তাক্ত হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। এমনকী, অফিস ফেরতা ভারতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর তরুণ কর্মী অঙ্কিত শর্মাকেও রেহাই দেয়নি ধর্মোন্মাদ জল্লাদেরা। একের পর এক ছুরির ঘায়ে তাঁকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে পথের পাশে নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আর ওই ঘটনার ঠিক একমাস পরে আজকের অবস্থাটা কী রকম? ভেদাভেদের, বিভাজনের, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে রং বাছাবাছির কোনও সুযোগ নেই কারও কাছে। গত দু’সপ্তাহে এই উপগ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রজাতিটির এই উপলব্ধিই হয়েছে যে আমরা সবাই এক। একটা আপাত নিরীহ ভাইরাস ধনী নির্ধন হিন্দু মুসলমান ক্রিশ্চান বৌদ্ধ যাবতীয় আকচা-আকচিকে দূরে সরিয়ে গোটা মানবজাতিকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে। যুদ্ধ, বিশেষত বিশ্বযুদ্ধ সবাইকে এক সমতলে এনে দাঁড় করায়। এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। করোনা ভাইরাসও এই ২০২০-তে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি-ওস্তাদ মানবজাতিকে এক পংক্তিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ বড় কম শিক্ষা নয়।
যে ধর্মস্থান নিয়ে আমরা ক্রমাগত আস্ফালন করি, আজ সেগুলি সবই বন্ধ। মক্কা মদিনা শুনশান! ভ্যাটিকানে ভক্ত বাড়ন্ত। বেলুড় দক্ষিণেশ্বর তারাপীঠেও ভক্তের সমাগম প্রায় নেই। অতন্দ্রপ্রহরীর মতো জেগে আছে শুধু হাসপাতালগুলি। ঘুমিয়ে পড়েছে ধর্ম, জেগে আছে শুধু হাসপাতাল আর বিজ্ঞান। মনুষ্যত্বের জয় হোক। ভাইরাসকে হারিয়ে মানবজাতির জয় ঘোষিত হোক। এই প্রত্যয় নিয়েই শুধু একটি কথা বলে যাই, গুজবে কান দেবেন
না, গুজব ছড়াবেন না, এই কঠিন মুহূর্তে আমরা সকলেই যেন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতোই আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠি।
22nd  March, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
একনজরে
ওয়াশিংটন, ২৮ মে: ‘তথ্য যাচাই’ (ফ্যাক্ট চেক) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ট্যুইটারের লড়াই অন্য মাত্রা পেল। বুধবার ট্রাম্প জানান, কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পেতে ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি হিসেবে সুন্দরবনের ৩ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার জঙ্গল কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ বাদাবন ধ্বংস করে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর নিরিখে দেশের মধ্যে শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্র সহ পাঁচ রাজ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ফিরল ১৬টি স্পেশাল ট্রেন। এর মধ্যে ন’টি ট্রেনে চেপে ১০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ফিরলেন মহারাষ্ট্র ...

 কোচি, ২৮ মে: দেশের নামী ক্রীড়াবিদদের সন্তানরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন, এমন উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। কিন্তু ‘ট্র্যাক কুইন’ পিটি ঊষার পুত্র ভিগনেশ উজ্জ্বলও হতে পারতেন অ্যাথলিট। কিন্তু ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় সাফল্যও হতাশা দুই বর্তমান। নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কর্মপ্রার্থীদের শুভ যোগ আছে। কর্মক্ষেত্রের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৫—প্রবাসী, মডার্ন রিভিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।
১৯৫৩—প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করলেন তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি
১৯৫৪—অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের জন্ম।
১৯৭২—অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের মৃত্যু।
১৯৭৭—ভাষাবিদ সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৯৮৭—ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চৌধুরি চরণ সিংয়ের মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০১ টাকা ৭৬.৭৩ টাকা
পাউন্ড ৯১.৩২ টাকা ৯৪.৫৭ টাকা
ইউরো ৮১.৯৯ টাকা ৮৫.০৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ৪২/২৯ রাত্রি ৯/৫৬। অশ্লেষানক্ষত্র ৫/৫ দিবা ৬/৫৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৬, সূর্যাস্ত ৬/১১/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৮/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/৩৮ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫২ গতে ১০/১৩ মধ্যে।
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী রাত্রি ৭/৩। মঘানক্ষত্র রাত্রি ৩/৩৬। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ১২/৪ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৭ মধ্যে ও ১২/৪০ গতে ২/৪৮ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে।
৫ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ধর্মীয় স্থানগুলিতে জমায়েত করা যাবে না: মমতা 

04:31:36 PM

রাজ্যে ১ জুন থেকে খুলবে ধর্মীয় স্থানগুলি, তবে ১০ জনের বেশি একসঙ্গে ঢুকতে পারবেন না: মমতা 

04:30:40 PM

 ৮ জুন থেকে রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার দপ্তর খুলবে: মমতা

04:29:00 PM

 ধর্মীয় স্থানগুলিতে কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না: মমতা

04:28:12 PM

বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রা করবেন না, আসনে বসুন: মমতা 

04:23:59 PM

বাসে ২০ জনের বেশি যাত্রী উঠতে পারবেন না, স্পর্শ করা যাবে না কন্ডাক্টরকে: মমতা 

04:23:18 PM