Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে মানুষকে ঘরবন্দি করতে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক পর্যন্ত দিতে হচ্ছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। কোনও একটা রোগ নিয়ে স্মরণকালের মধ্যে বিশ্বজোড়া এমন আতঙ্কের কথা মনে করতে পারছেন না ডাক্তারবাবুরাও। যুদ্ধ বাধলে শত্রু পক্ষের বিমানহানা থেকে বাঁচতে ব্ল্যাকআউট, দীর্ঘসময় জুড়ে কার্ফু জারিটাই দস্তুর। শেষবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় তা আমরা দেখেছি। কিন্তু, এবারের এই মহা-লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ দুটি দেশ নয়, দুটি সম্প্রদায় নয়, নয় দুই বিবদমান জাতি। উল্টে এক ভয়ানক জৈবযুদ্ধে অবতীর্ণ ভারতসহ বিশ্বের প্রায় দু’শো দেশ। তাই রবিবার দেশের জনগণকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হওয়ার যে আবেদন প্রধানমন্ত্রী করেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। এখনও এদেশে করোনা দ্বিতীয় স্টেজে রয়েছে। অর্থাৎ মূলত বিদেশ থেকে আসা মানুষজনের মধ্যে দিয়েই এটা ছড়াচ্ছে। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ বাড়ছেই। গত রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল একশোর কিছু বেশি। আর আজ তা ৩০০ ছুঁই ছুঁই! পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না-যায় তবে বড় বিপদ কিন্তু অপেক্ষা করছে। তাই ভয় না পেয়ে, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে আপাতত কিছুদিন বাড়িতেই ঘরবন্দি থাকতে হবে। এই কালান্তক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে সভা সমাবেশসহ যে-কোনও ধরনের ভিড় এড়ানোই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। রোগ ছড়ানোর চেনটা তাতে ভেঙে যাবে। এ ধরনের ভাইরাস রুখতে এটি ভীষণ জরুরি। তাই‌ প্রত্যেক দেশবাসীর উচিত, প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শটিকে আন্তরিকভাবে মেনে চলা।
কেন এত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল করোনা? কারণটা খুবই সহজবোধ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এই গ্রহের এত মানুষ, এত দেশ এভাবে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েননি। কিন্তু গোলাগুলি না ছুটলেও, কামান না দাগা হলেও এবার যুদ্ধের ব্যাপকতা আরও অনেক বিস্তৃত। যুদ্ধটাও নয় নয় করে প্রায় দু’মাস অতিক্রান্ত। চীন ও ইউরোপকে ঘায়েল করে এবং শক্তিশালী আমেরিকাকে পর্যন্ত বেসামাল করে করোনা এবার ১৩০ কোটি মানুষের ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশ সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের নির্ণায়ক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৭১-এর বাংলাদেশ যুদ্ধের পর শেষ এমন কার্ফু দেখেছিলাম ১৯৯২-তে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঠিক পরে। তবে, সেটা ছিল শুধুই কার্ফু। জনতার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনও দাম ছিল না। এবার প্রধানমন্ত্রী জনতাকে নিজের ইচ্ছায় রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা ঘরে থাকতে বলেছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া আগামী কিছুদিন সবাইকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষত ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের। অত্যন্ত বিনীত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি, আশা করেছেন এবারও দেশবাসী তাঁকে নিরাশ করবেন না। আসলে এই যুদ্ধের প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে, সঙ্কল্প ও সংযম। কোনওরকম সন্দেহ হলেই নিজেকে সমাজে আলাদা করে ফেলা। যে-কোনও রকম সভা সমাবেশ, জমায়েত এড়িয়ে চলা। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও মুখে মাস্ক পরা। নিজেকে বাঁচানোর
আর কোনও অস্ত্রই নেই। প্রতিষেধক তো দূর
অস্ত! আর নিজেকে তথা গোটা মানবজাতিকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে যাবতীয় বৈরিতা দূরে সরিয়ে সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।
অথচ গত তিন দশকে অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধ প্রযুক্তির কম উন্নতি তো হয়নি। পরমাণুযুদ্ধ বাধলে রক্ষা মিলবে কীভাবে সেই হিসেব-নিকেশও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু, আকস্মিক এক ভাইরাসের আক্রমণ চীন, আমেরিকা, ইউরোপকেও অসহায় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। একে ৪৭ নয়, অতি আধুনিক কোনও মেশিনগানও নয়, নয় ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী রাশিয়ার এস ৪০০ সিস্টেম কিংবা আধুনিক এফ ১৬-এর মতো কোনও মারাত্মক বোমারু বিমানও। ফ্রান্সের অবস্থা আবার এতই খারাপ যে বিতর্কিত রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরিও বন্ধই হয়ে গিয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সবই আজ অর্থহীন। অস্ত্রশস্ত্র কোনও কাজেই আসছে না। মানবজাতির অস্তিত্বকে অকস্মাৎ চ্যালেঞ্জর মুখে ফেলে দিয়েছে অবতীর্ণ আপাতনিরীহ এক ফ্লু ভাইরাস।
চীন মুলুক থেকে কয়েকমাস আগেই এর উৎপত্তি। ইবোলা, নিপা, সার্স, জিকা, প্লেগ, ক্যান্সার, টিবি পেরিয়ে এখন মানবজাতির সামনে মৃত্যুদূত হয়ে হাজির এই ‘চীনা ভাইরাস’। যদিও এর মারণ ক্ষমতা ৩ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়। তবে, সংক্রমণ ছড়ানোর বিপজ্জনক প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৭০ বছরের প্রবীণদের বিপদ বেশি। করোনা তাই অনায়াসেই প্রাণ নিচ্ছে দুর্বল ফুসফুসের প্রবীণ নাগরিকদের। বছরের শুরুতেই এই যুদ্ধের সূচনা চীন থেকে হলেও এখন তার এপিসেন্টার বিস্তৃত হয়েছে বিস্তীর্ণ ইউরোপে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেনের অবস্থা সঙ্গীন। ইরানেও ক্রমাগত মৃত্যু বাড়ছে। আবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও ইতালিতে প্রায় মড়ক লেগে গিয়েছে। রোজ কয়েকশো মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। স্পেনের অবস্থাও ভয়ঙ্কর! ব্রিটেনেও আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সবমিলিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দশ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। টনকটা নড়েছে সেই কারণেই। বেশ কিছুদিন ধরেই আশঙ্কা ছিল, আকস্মিক পরমাণু যুদ্ধ বাধলে পৃথিবীটাই অবলীলায় ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু, না। এক ভয়ঙ্কর জৈববিষ তথা জীবাণু যে গোকুলে বেড়ে চীনের গবেষণাগার থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানবজাতির অস্তিত্বের সামনে এত বড় একটা প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দেবে, তা দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবেনি।
অথচ, ইঙ্গিত একটা ছিলই। ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা নানা হিসেব-নিকেশও করছিলেন। বিগত ১৭২০-তে প্লেগ। ১৮২০-তে কলেরা। ১৯২০-তে স্প্যানিশ ফ্লু। আর তার ঠিক ১০০ বছর পেরিয়ে এই ২০২০-তেই বা বিশ্বব্যাপী এক মহামারী বাকি থাকে কেন? ঠিক তাই হল। বছরের শুরু থেকেই চীনের উহানে শুরু এই মারণ ভাইরাসের তাণ্ডব। গত ২৩ জানুয়ারি কমিউনিস্ট চীন তার বজ্রকঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে গোটা উহানকে যদি দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদ করে না দিত, তাহলে এতদিনে পরিস্থিতি সে-দেশের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হতো। চীন কিছুটা সামলে নিলেও ইউরোপের অবস্থা কিন্তু ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ইতালি ও স্পেন দুটি দেশের অবস্থা এক কথায় ভয়ঙ্কর। সেখানে এই রোগটি স্টেজ-৩ ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশিদের কাছ থেকেই তা ছড়াচ্ছে না, গোটা কমিউনিটি বা সম্প্রদায়ই আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার বলছেন, এই জৈবযুদ্ধ নাকি আসলে চীন ও আমেরিকার বাণিজ্যিক লড়াইয়ের ফল। ভুললে চলবে না, চীন কিন্তু এখন আর সোশ্যালিস্ট দেশ নয়। আমেরিকার মতোই বেনিয়া। আমেরিকাতেও এই মারণ ভাইরাস ভালোরকমই থাবা বসিয়েছে। শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছে সেখানে। আক্রান্তও কয়েক হাজার নরনারী। প্রথমটায় নাকি ট্রাম্প প্রশাসন তেমন আমলই দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। দেরিতে হলেও এখন আক্কেল গুড়ুম হয়ে গিয়েছে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর দেশটির।
আমাদের দেশের অবস্থা কিন্তু চীন বা ইউরোপের মতো শোচনীয় না-হলেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ, এখনও পর্যন্ত এদেশে বাইরে থেকে আসা লোকেরাই মূলত আক্রান্ত বা কেরিয়ার হলেও ভারত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কটা সবসময়ই বেশি। তার উপর এখানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষই অত্যন্ত গরিব। তাদের পক্ষে ভিড় এড়িয়ে কয়েক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরা করা মোটেই সম্ভব নয়। যে-কোনও দিন শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন ঘুরলেই দেখা যাবে কাতারে কাতারে মানুষ বাদুড়ঝোলা হয়ে এ-শহর থেকে ও-শহরে যাওয়া-আসা করছে। তাই তাদেরকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মারণ করোনার মোকাবিলা করতে বলা একেবারেই অবান্তর প্রস্তাব।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কত রকম সরঞ্জাম বেরিয়ে গিয়েছে তার কোনও ইয়ত্তা নেই। অথচ, যেই আমাদের জীবনদীপকে নেভাতে করোনা নামক ভাইরাসটি উদ্যত, সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে কৃত্রিম আকাল। সামান্য মাস্ক আর হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্যানিটাইজার নিয়েও কালোবাজারি ব্যবসা চলছে। অথচ, একমাস আগেও অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতবান মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত সফরে এসেছিলেন তখনও আমাদের দেশ কিন্তু এত ঐক্যবদ্ধ ছিল না। রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকাতেই ধর্মের নামে, সম্প্রদায়ের নামে মানুষ একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রক্তাক্ত হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। এমনকী, অফিস ফেরতা ভারতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর তরুণ কর্মী অঙ্কিত শর্মাকেও রেহাই দেয়নি ধর্মোন্মাদ জল্লাদেরা। একের পর এক ছুরির ঘায়ে তাঁকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে পথের পাশে নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আর ওই ঘটনার ঠিক একমাস পরে আজকের অবস্থাটা কী রকম? ভেদাভেদের, বিভাজনের, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে রং বাছাবাছির কোনও সুযোগ নেই কারও কাছে। গত দু’সপ্তাহে এই উপগ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রজাতিটির এই উপলব্ধিই হয়েছে যে আমরা সবাই এক। একটা আপাত নিরীহ ভাইরাস ধনী নির্ধন হিন্দু মুসলমান ক্রিশ্চান বৌদ্ধ যাবতীয় আকচা-আকচিকে দূরে সরিয়ে গোটা মানবজাতিকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে। যুদ্ধ, বিশেষত বিশ্বযুদ্ধ সবাইকে এক সমতলে এনে দাঁড় করায়। এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। করোনা ভাইরাসও এই ২০২০-তে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি-ওস্তাদ মানবজাতিকে এক পংক্তিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ বড় কম শিক্ষা নয়।
যে ধর্মস্থান নিয়ে আমরা ক্রমাগত আস্ফালন করি, আজ সেগুলি সবই বন্ধ। মক্কা মদিনা শুনশান! ভ্যাটিকানে ভক্ত বাড়ন্ত। বেলুড় দক্ষিণেশ্বর তারাপীঠেও ভক্তের সমাগম প্রায় নেই। অতন্দ্রপ্রহরীর মতো জেগে আছে শুধু হাসপাতালগুলি। ঘুমিয়ে পড়েছে ধর্ম, জেগে আছে শুধু হাসপাতাল আর বিজ্ঞান। মনুষ্যত্বের জয় হোক। ভাইরাসকে হারিয়ে মানবজাতির জয় ঘোষিত হোক। এই প্রত্যয় নিয়েই শুধু একটি কথা বলে যাই, গুজবে কান দেবেন
না, গুজব ছড়াবেন না, এই কঠিন মুহূর্তে আমরা সকলেই যেন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতোই আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠি।
22nd  March, 2020
গুরু কে, কেনই বা গুরুপূর্ণিমা?
জয়ন্ত কুশারী

কে দেখাবেন আলোর পথ? পথ অন্ধকারাচ্ছন্নই বা কেন? এই অন্ধকার, মনের। মানসিকতারও। চিন্তার। আবার চেতনারও। এই অন্ধকার কুসংস্কারের। আবার অশিক্ষারও। অথচ আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত এক একজন।   বিশদ

জাতির উদ্দেশে ভাষণের চরম অবমূল্যায়ন
হিমাংশু সিংহ

অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েও মাত্র ১৬ মিনিট ৯ সেকেন্ডেই শেষ। দেশবাসীর প্রাপ্তি বলতে আরও পাঁচ মাস বিনামূল্যে রেশন। শুধু ওইটুকুই। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে চীনকে কোনও রণহুঙ্কার নয়, নিহত বীর জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নয় কিম্বা শূন্যে নেমে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে তোলার সামান্যতম অঙ্গীকারও নয়। ১৬ মিনিটের মধ্যে ১৩ মিনিটই উচ্চকিত আত্মপ্রচার।   বিশদ

মধ্যবিত্তের লড়াই শুরু হল
শুভময় মৈত্র 

কোভিড পরিস্থিতি চীনে শুরু হয়েছে গত বছরের শেষে। মার্চ থেকেই আমাদের দেশে হইচই। শুরুতেই ভীষণ বিপদে পড়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষ। পরিযায়ী শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা এখন সকলেই জানেন।  বিশদ

04th  July, 2020
রাজধর্ম
তন্ময় মল্লিক 

যেমন কথা তেমন কাজ। উম-পুন সুপার সাইক্লোনে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, টাঙিয়ে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা। ফেরানো হবে অবাঞ্ছিতদের হাতে যাওয়া ক্ষতিপূরণ।   বিশদ

04th  July, 2020
উন্নয়ন  ও  চীনা  আগ্রাসনের  উত্তর  একসুতোয় গাঁথা
নীলাশিস  ঘোষদস্তিদার 

আমরা ভারতীয়রা চীনা পণ্য বয়কট করব কি না, এই প্রশ্নে অনেকেই বেশ দ্বিধায়। এই কারণে যে এত সস্তায় কেনা সাধের চীনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ছেড়ে কি দামি আই-ফোন বা অকাজের দেশি ফোন কিনতে হবে?   বিশদ

03rd  July, 2020
ভার্চুয়াল স্ট্রাইক নাকি ড্যামেজ কন্ট্রোল!
মৃণালকান্তি দাস

ভারতের কোনও রাষ্ট্রনেতা তাঁর মতো বিদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও বিনিয়োগ টানতে চীনে গিয়েছেন অনেকবার। তখন তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। দশ বছরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চীনে গিয়েছেন ২ বার।  বিশদ

03rd  July, 2020
চীনের নতুন পুতুলের নাম পাকিস্তান
হারাধন চৌধুরী 

পাকিস্তান ছিল আমেরিকার পুতুল। এবার সেটা হাত বদলে চীনের হয়েছে। চীনের কোনও কিছুর গ্যারান্টি নেই। যেমন তাদের কথা আর বিশ্বাসের মূল্য, তেমনি চীনা প্রোডাক্টের আয়ু। এ নিয়ে চালু রসিকতাও কম নয়।  বিশদ

02nd  July, 2020
‘শোলে’ ছবির পুনর্নির্মাণ
সন্দীপন বিশ্বাস

দৃশ্য ১
রামগড়ের পাহাড়ের কোলে নিজের ডেরায় রাগে ফুঁসছেন গব্বর সিং। হাতের লোহার বেল্টটা পাথুরে মাটিতে ঘষতে ঘষতে এদিক ওদিক করছেন। চোখ মুখ দিয়ে তাঁর রাগ উথলে পড়ছে। চারপাশে গব্বর সিংয়ের চ্যালা কালিয়া, সাম্ভারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরে গব্বর সিং বললেন, ‘হুম, সীমান্তে ওরা কতজন ছিল?’ কালিয়া ভয়ে মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, ‘ওরা অনেকেই ছিল সর্দার। হাতে ওদের অনেক অস্ত্রশস্ত্রও ছিল।’
বিশদ

01st  July, 2020
সুদিনের আশায়
গ্রামীণ পর্যটন
দেবাশিস ভট্টাচার্য

 ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের গ্লোবাল হওয়ার কথা বললেন। বললেন দেশীয় উৎপাদন ও সম্পদকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে হবে। মেড ইন ইন্ডিয়া, মেড ফর ওয়ার্ল্ড। ব্যাপারটাকে আমরা লোকাল টু গ্লোবাল হিসেবে দেখতে পারি। বিশদ

01st  July, 2020
‘সাম্রাজ্যবাদী’ জিনপিং...
শেষের এটাই শুরু নয় তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

তরুণ বয়সে মাও সে তুং লিখেছিলেন... চীনকে ধ্বংস করতে হবে, আর সেই ধ্বংসস্তূপের উপর গড়ে তুলতে হবে নতুন দেশ। বিপ্লব—এটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য... এবং স্বপ্নও। ভেবেছিলেন, কমিউনিজমই পারবে এই বিপ্লব আনতে। শত শত আইডিয়া ঘোরাফেরা করত তাঁর মাথায়। কিন্তু গা করেনি কেউ। বিশদ

30th  June, 2020
আপনি কি আর্থিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ দেখছেন?
পি চিদম্বরম

 কিছু মানুষের দূরদৃষ্টি নিখুঁত। কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে ভালো দেখেন। তাঁরা দ্রষ্টা। সাধারণ মরণশীল মানুষ দেখতে পায় না এমন জিনিসও তাঁরা দেখতে পান। কিছু মানুষের দৃষ্টিশক্তি আমাদের ভাবনার চেয়েও উন্নত। তাঁরা মহাজ্ঞানী। তাঁরা ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন। গড়পড়তা মানুষের যা অসাধ্য।
বিশদ

29th  June, 2020
মোদির তেল রাজনীতি ও
মমতার মানবিক প্যাকেজ
হিমাংশু সিংহ

 ডাক নাম মধু। বেসরকারি বাসের কন্ডাকটর। রোজ চুঁচুড়া থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাসের পাদানিতে দাঁড়িয়ে লোক নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসাই তাঁর পেশা। গত এপ্রিল-মে মাসে বাস চলেনি বলে মালিকও বেতনের পুরো টাকা দেননি। অনুনয় বিনয়ের পর সামান্য কিছু ঠেকিয়েছেন।
বিশদ

28th  June, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: যত দিন গড়াচ্ছে অশোকনগর শহরে ততই দাপট বাড়াচ্ছে করোনা। শুক্রবার রাতে করোনা-আক্রান্ত এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও ৬ জন ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা আতঙ্ক এবার সিএবি’তে। সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক অস্থায়ী কর্মীর কোভিড-১৯ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে সিএবি।   ...

লখনউ ও কানপুর: কানপুর এনকাউন্টারে ৮ পুলিসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত বিকাশ দুবে এখনও অধরা। কুখ্যাত এই দুষ্কৃতীর খোঁজে ২৫টিরও বেশি দল গড়ল উত্তরপ্রদেশ পুলিস। পাশাপাশি, ...

সংবাদদাতা, কান্দি: শনিবার সকালে ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহী সড়কের বড়ঞা থানার করালীতলার কাছে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে বাইক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হলেন এক ব্যক্তি।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শারীরিক কারণে কর্মে বাধা দেখা দেবে। সন্তানরা আপনার কথা মেনে না চলায় মন ভারাক্রান্ত হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৪: অভিনেতা দীপঙ্কর দের জন্ম
১৯৪৬: রাজনীতিক রামবিলাস পাসোয়ানের জন্ম
২০০৫: ক্রিকেটার বালু গুপ্তের মূত্যু
২০০৭: অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৮৯ টাকা ৭৫.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭০ টাকা ৯৪.৯৭ টাকা
ইউরো ৮২.৫৭ টাকা ৮৫.৬৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮, ৯৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬, ৪৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭, ১৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৯, ২৭০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৯, ৩৭০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ত্রয়োদশী ২০/৪২ দিবা ১/১৭। জ্যেষ্ঠা ৪৭/৫০ রাত্রি ১২/৮। সূর্যোদয় ৫/০/৬, সূর্যাস্ত ৬/২১/২২। অমৃতযোগ দিবা ১২/২৭ গতে ২/৪৭ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৪ গতে ২/৫২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩/৩৫ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/২০ গতে ১১/৪১ মধ্যে। কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২১ মধ্যে। 
১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ত্রয়োদশী দিবা ১২/৫০। জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র রাত্রি ১২/২৭। সূযোদয় ৫/০, সূর্যাস্ত ৬/২৩। অমৃতযোগ দিবা ১২/৯ গতে ২/৪৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৩০ মধ্যে ও ১২/৪৬ গতে ২/৫৫ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/০ মধ্যে। বারবেলা ৮/২১ গতে ১১/৪২ মধ্যে। কালরাত্রি ৯/২ গতে ১০/২২ মধ্যে। 
১১ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়াল 
মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দু’লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। শনিবার রাতে ...বিশদ

04-07-2020 - 09:57:35 PM

বেলভেড়িয়া রোডে বহুতলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৫টি ইঞ্জিন 

04-07-2020 - 09:25:00 PM

গুলিবিদ্ধ উত্তর বারাকপুরের কাউন্সিলার 
উত্তর বারাকপুরের তৃণমূল কাউন্সিলারকে গুলি করে খুনের চেষ্টা। গুলিবিদ্ধ কাউন্সিলার ...বিশদ

04-07-2020 - 09:23:35 PM

কর্ণাটকে করোনা পজিটিভ আরও ১,৮৩৯ জন, মোট আক্রান্ত ১১,৯৬৬ 

04-07-2020 - 08:58:07 PM

করোনা: একদিনে রাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণ 
রাজ্যে একদিনে রেকর্ড সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জনের শরীরে ...বিশদ

04-07-2020 - 08:06:31 PM

দিল্লিতে করোনা পজিটিভ আরও ২,৫০৫ জন, মোট আক্রান্ত ৯৭,২০০ 

04-07-2020 - 07:25:52 PM