Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে মানুষকে ঘরবন্দি করতে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক পর্যন্ত দিতে হচ্ছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। কোনও একটা রোগ নিয়ে স্মরণকালের মধ্যে বিশ্বজোড়া এমন আতঙ্কের কথা মনে করতে পারছেন না ডাক্তারবাবুরাও। যুদ্ধ বাধলে শত্রু পক্ষের বিমানহানা থেকে বাঁচতে ব্ল্যাকআউট, দীর্ঘসময় জুড়ে কার্ফু জারিটাই দস্তুর। শেষবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় তা আমরা দেখেছি। কিন্তু, এবারের এই মহা-লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ দুটি দেশ নয়, দুটি সম্প্রদায় নয়, নয় দুই বিবদমান জাতি। উল্টে এক ভয়ানক জৈবযুদ্ধে অবতীর্ণ ভারতসহ বিশ্বের প্রায় দু’শো দেশ। তাই রবিবার দেশের জনগণকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হওয়ার যে আবেদন প্রধানমন্ত্রী করেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। এখনও এদেশে করোনা দ্বিতীয় স্টেজে রয়েছে। অর্থাৎ মূলত বিদেশ থেকে আসা মানুষজনের মধ্যে দিয়েই এটা ছড়াচ্ছে। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ বাড়ছেই। গত রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল একশোর কিছু বেশি। আর আজ তা ৩০০ ছুঁই ছুঁই! পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না-যায় তবে বড় বিপদ কিন্তু অপেক্ষা করছে। তাই ভয় না পেয়ে, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে আপাতত কিছুদিন বাড়িতেই ঘরবন্দি থাকতে হবে। এই কালান্তক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে সভা সমাবেশসহ যে-কোনও ধরনের ভিড় এড়ানোই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। রোগ ছড়ানোর চেনটা তাতে ভেঙে যাবে। এ ধরনের ভাইরাস রুখতে এটি ভীষণ জরুরি। তাই‌ প্রত্যেক দেশবাসীর উচিত, প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শটিকে আন্তরিকভাবে মেনে চলা।
কেন এত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল করোনা? কারণটা খুবই সহজবোধ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এই গ্রহের এত মানুষ, এত দেশ এভাবে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েননি। কিন্তু গোলাগুলি না ছুটলেও, কামান না দাগা হলেও এবার যুদ্ধের ব্যাপকতা আরও অনেক বিস্তৃত। যুদ্ধটাও নয় নয় করে প্রায় দু’মাস অতিক্রান্ত। চীন ও ইউরোপকে ঘায়েল করে এবং শক্তিশালী আমেরিকাকে পর্যন্ত বেসামাল করে করোনা এবার ১৩০ কোটি মানুষের ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশ সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের নির্ণায়ক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৭১-এর বাংলাদেশ যুদ্ধের পর শেষ এমন কার্ফু দেখেছিলাম ১৯৯২-তে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঠিক পরে। তবে, সেটা ছিল শুধুই কার্ফু। জনতার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনও দাম ছিল না। এবার প্রধানমন্ত্রী জনতাকে নিজের ইচ্ছায় রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা ঘরে থাকতে বলেছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া আগামী কিছুদিন সবাইকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষত ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের। অত্যন্ত বিনীত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি, আশা করেছেন এবারও দেশবাসী তাঁকে নিরাশ করবেন না। আসলে এই যুদ্ধের প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে, সঙ্কল্প ও সংযম। কোনওরকম সন্দেহ হলেই নিজেকে সমাজে আলাদা করে ফেলা। যে-কোনও রকম সভা সমাবেশ, জমায়েত এড়িয়ে চলা। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও মুখে মাস্ক পরা। নিজেকে বাঁচানোর
আর কোনও অস্ত্রই নেই। প্রতিষেধক তো দূর
অস্ত! আর নিজেকে তথা গোটা মানবজাতিকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে যাবতীয় বৈরিতা দূরে সরিয়ে সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ।
অথচ গত তিন দশকে অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধ প্রযুক্তির কম উন্নতি তো হয়নি। পরমাণুযুদ্ধ বাধলে রক্ষা মিলবে কীভাবে সেই হিসেব-নিকেশও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু, আকস্মিক এক ভাইরাসের আক্রমণ চীন, আমেরিকা, ইউরোপকেও অসহায় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। একে ৪৭ নয়, অতি আধুনিক কোনও মেশিনগানও নয়, নয় ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী রাশিয়ার এস ৪০০ সিস্টেম কিংবা আধুনিক এফ ১৬-এর মতো কোনও মারাত্মক বোমারু বিমানও। ফ্রান্সের অবস্থা আবার এতই খারাপ যে বিতর্কিত রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরিও বন্ধই হয়ে গিয়েছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সবই আজ অর্থহীন। অস্ত্রশস্ত্র কোনও কাজেই আসছে না। মানবজাতির অস্তিত্বকে অকস্মাৎ চ্যালেঞ্জর মুখে ফেলে দিয়েছে অবতীর্ণ আপাতনিরীহ এক ফ্লু ভাইরাস।
চীন মুলুক থেকে কয়েকমাস আগেই এর উৎপত্তি। ইবোলা, নিপা, সার্স, জিকা, প্লেগ, ক্যান্সার, টিবি পেরিয়ে এখন মানবজাতির সামনে মৃত্যুদূত হয়ে হাজির এই ‘চীনা ভাইরাস’। যদিও এর মারণ ক্ষমতা ৩ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়। তবে, সংক্রমণ ছড়ানোর বিপজ্জনক প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৭০ বছরের প্রবীণদের বিপদ বেশি। করোনা তাই অনায়াসেই প্রাণ নিচ্ছে দুর্বল ফুসফুসের প্রবীণ নাগরিকদের। বছরের শুরুতেই এই যুদ্ধের সূচনা চীন থেকে হলেও এখন তার এপিসেন্টার বিস্তৃত হয়েছে বিস্তীর্ণ ইউরোপে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেনের অবস্থা সঙ্গীন। ইরানেও ক্রমাগত মৃত্যু বাড়ছে। আবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও ইতালিতে প্রায় মড়ক লেগে গিয়েছে। রোজ কয়েকশো মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। স্পেনের অবস্থাও ভয়ঙ্কর! ব্রিটেনেও আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সবমিলিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দশ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। টনকটা নড়েছে সেই কারণেই। বেশ কিছুদিন ধরেই আশঙ্কা ছিল, আকস্মিক পরমাণু যুদ্ধ বাধলে পৃথিবীটাই অবলীলায় ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু, না। এক ভয়ঙ্কর জৈববিষ তথা জীবাণু যে গোকুলে বেড়ে চীনের গবেষণাগার থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানবজাতির অস্তিত্বের সামনে এত বড় একটা প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দেবে, তা দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবেনি।
অথচ, ইঙ্গিত একটা ছিলই। ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা নানা হিসেব-নিকেশও করছিলেন। বিগত ১৭২০-তে প্লেগ। ১৮২০-তে কলেরা। ১৯২০-তে স্প্যানিশ ফ্লু। আর তার ঠিক ১০০ বছর পেরিয়ে এই ২০২০-তেই বা বিশ্বব্যাপী এক মহামারী বাকি থাকে কেন? ঠিক তাই হল। বছরের শুরু থেকেই চীনের উহানে শুরু এই মারণ ভাইরাসের তাণ্ডব। গত ২৩ জানুয়ারি কমিউনিস্ট চীন তার বজ্রকঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে গোটা উহানকে যদি দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদ করে না দিত, তাহলে এতদিনে পরিস্থিতি সে-দেশের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হতো। চীন কিছুটা সামলে নিলেও ইউরোপের অবস্থা কিন্তু ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ইতালি ও স্পেন দুটি দেশের অবস্থা এক কথায় ভয়ঙ্কর। সেখানে এই রোগটি স্টেজ-৩ ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশিদের কাছ থেকেই তা ছড়াচ্ছে না, গোটা কমিউনিটি বা সম্প্রদায়ই আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ আবার বলছেন, এই জৈবযুদ্ধ নাকি আসলে চীন ও আমেরিকার বাণিজ্যিক লড়াইয়ের ফল। ভুললে চলবে না, চীন কিন্তু এখন আর সোশ্যালিস্ট দেশ নয়। আমেরিকার মতোই বেনিয়া। আমেরিকাতেও এই মারণ ভাইরাস ভালোরকমই থাবা বসিয়েছে। শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছে সেখানে। আক্রান্তও কয়েক হাজার নরনারী। প্রথমটায় নাকি ট্রাম্প প্রশাসন তেমন আমলই দেয়নি। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। দেরিতে হলেও এখন আক্কেল গুড়ুম হয়ে গিয়েছে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাধর দেশটির।
আমাদের দেশের অবস্থা কিন্তু চীন বা ইউরোপের মতো শোচনীয় না-হলেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ, এখনও পর্যন্ত এদেশে বাইরে থেকে আসা লোকেরাই মূলত আক্রান্ত বা কেরিয়ার হলেও ভারত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কটা সবসময়ই বেশি। তার উপর এখানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষই অত্যন্ত গরিব। তাদের পক্ষে ভিড় এড়িয়ে কয়েক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরা করা মোটেই সম্ভব নয়। যে-কোনও দিন শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন ঘুরলেই দেখা যাবে কাতারে কাতারে মানুষ বাদুড়ঝোলা হয়ে এ-শহর থেকে ও-শহরে যাওয়া-আসা করছে। তাই তাদেরকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মারণ করোনার মোকাবিলা করতে বলা একেবারেই অবান্তর প্রস্তাব।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কত রকম সরঞ্জাম বেরিয়ে গিয়েছে তার কোনও ইয়ত্তা নেই। অথচ, যেই আমাদের জীবনদীপকে নেভাতে করোনা নামক ভাইরাসটি উদ্যত, সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে কৃত্রিম আকাল। সামান্য মাস্ক আর হাত জীবাণুমুক্ত রাখার স্যানিটাইজার নিয়েও কালোবাজারি ব্যবসা চলছে। অথচ, একমাস আগেও অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতবান মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত সফরে এসেছিলেন তখনও আমাদের দেশ কিন্তু এত ঐক্যবদ্ধ ছিল না। রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকাতেই ধর্মের নামে, সম্প্রদায়ের নামে মানুষ একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রক্তাক্ত হয়েছিল দিল্লির রাজপথ। এমনকী, অফিস ফেরতা ভারতীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর তরুণ কর্মী অঙ্কিত শর্মাকেও রেহাই দেয়নি ধর্মোন্মাদ জল্লাদেরা। একের পর এক ছুরির ঘায়ে তাঁকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে পথের পাশে নালায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আর ওই ঘটনার ঠিক একমাস পরে আজকের অবস্থাটা কী রকম? ভেদাভেদের, বিভাজনের, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে রং বাছাবাছির কোনও সুযোগ নেই কারও কাছে। গত দু’সপ্তাহে এই উপগ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রজাতিটির এই উপলব্ধিই হয়েছে যে আমরা সবাই এক। একটা আপাত নিরীহ ভাইরাস ধনী নির্ধন হিন্দু মুসলমান ক্রিশ্চান বৌদ্ধ যাবতীয় আকচা-আকচিকে দূরে সরিয়ে গোটা মানবজাতিকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে। যুদ্ধ, বিশেষত বিশ্বযুদ্ধ সবাইকে এক সমতলে এনে দাঁড় করায়। এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। করোনা ভাইরাসও এই ২০২০-তে কম্পিউটার ও প্রযুক্তি-ওস্তাদ মানবজাতিকে এক পংক্তিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ বড় কম শিক্ষা নয়।
যে ধর্মস্থান নিয়ে আমরা ক্রমাগত আস্ফালন করি, আজ সেগুলি সবই বন্ধ। মক্কা মদিনা শুনশান! ভ্যাটিকানে ভক্ত বাড়ন্ত। বেলুড় দক্ষিণেশ্বর তারাপীঠেও ভক্তের সমাগম প্রায় নেই। অতন্দ্রপ্রহরীর মতো জেগে আছে শুধু হাসপাতালগুলি। ঘুমিয়ে পড়েছে ধর্ম, জেগে আছে শুধু হাসপাতাল আর বিজ্ঞান। মনুষ্যত্বের জয় হোক। ভাইরাসকে হারিয়ে মানবজাতির জয় ঘোষিত হোক। এই প্রত্যয় নিয়েই শুধু একটি কথা বলে যাই, গুজবে কান দেবেন
না, গুজব ছড়াবেন না, এই কঠিন মুহূর্তে আমরা সকলেই যেন দায়িত্বশীল নাগরিকের মতোই আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠি।
22nd  March, 2020
অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
সন্তোষকুমার ঘোষ: অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, প্রচণ্ড
ক্ষমতাবান সাহিত্যিক ও যুগান্তকারী সাংবাদিক
বরুণ সেনগুপ্ত

খবরের কাগজ সাধারণ মানুষের জন্য। তাই সাধারণ মানুষ যেসব খবরে আগ্রহী সেইগুলিই বেশি করে লেখা উচিত। অথবা যেমন, খবরের কাগজে যা লেখার তা সোজাসুজি লেখা উচিত। ‘এটাও হয় ওটাও হয়’ গোছের ব্যাপার নয়। এই জিনিসগুলি হাতেকলমে শিখেছি সন্তোষকুমার ঘোষের কাছে।
বিশদ

13th  September, 2020
সিবিআইয়ের বন্দিদশা কাটবে কবে?
হিমাংশু সিংহ

 সুশান্তের মৃত্যু হয় ১৪ জুন। আর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার পর ঠিক তিন মাস অতিক্রান্ত। প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু রহস্যের তদন্তে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার তল খুঁজে পাচ্ছেন না তুখোড় সিবিআই গোয়েন্দারাও। কিংবা বলা ভালো, সত্যি তল খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে কি?
বিশদ

13th  September, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জেলা প্রশাসনের আবেদনের দু’মাস পরেও পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ দেওয়া নিয়ে কোনওরকম সাড়াই পাওয়া গেল না। স্কিলড লেবার বা দক্ষ শ্রমিকদের একটা বড় অংশই ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে ফিরে গেলেন। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কালচিনির ডিমা চা বাগানের বিচ লাইন থেকে শনিবার সকালে বনকর্মীরা একটি অজগর উদ্ধার করেন। এদিন সকালে বাগানের জমিতে প্রায় আট ফুট লম্বা অজগরটিকে দেখে শ্রমিকরা বনদপ্তরের নিমাতি রেঞ্জে খবর দেয়।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পূর্বা দামের জীবনাবসান হল। শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।   ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজেরও এবার পরীক্ষা হবে ‘গবেষণাগারে’! এমনই পরিকল্পনা নিল পঞ্চায়েত দপ্তর। লক্ষ্য মূলত দু’টি। এক, অসাধু ঠিকাদার কিংবা নির্মাণকারী সংস্থার ফাঁকিবাজি রুখে কাজের গুণগতমান বজায় রাখা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৮: চিত্রপরিচালক মহেশ ভাটের জন্ম
২০০৪: চিত্রপরিচালক সলিল দত্তের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া ০/২৮ প্রাতঃ ৫/৩৯ পরে চতুর্থী ৫২/২৮ রাত্রি ২/২৮। স্বাতীনক্ষত্র ৪৩/২৯ রাত্রি ১০/৫২। সূর্যোদয় ৫/২৮/১৮, সূর্যাস্ত ৫/৩১/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৫৫ গতে ৪/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/১ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
৩ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া দিবা ১০/২। চিত্রানক্ষত্র দিবা ৬/১৫ পরে স্বাতীনক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৩৫। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৮ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৪১ গতে ৪/২৮ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫১ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
মোসলেম: ২ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজ্যে করোনা পজিটিভ আরও ৩,১৭৭ জন 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩,১৭৭ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

08:18:20 PM

আইপিএল: দিল্লি ৬ ওভারে ২৩/৩ 

08:08:47 PM

আইপিএল: টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পাঞ্জাবের 

07:13:06 PM

১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যে ট্রাক ধর্মঘট 

05:37:00 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত?  
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

04:45:13 PM

উত্তরপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ৫,৮০৯ জন, মৃত ৯৪ 

04:32:47 PM