Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। শয়ে শয়ে লোক মরে যাচ্ছে। কাজকর্ম বন্ধ করে লোকজনকে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে! কী মারাত্মক কাণ্ড ভাবুন! তবে, আমেরিকা ছাড়বে না। বদলা একটা নেবেই। ওই কোন জ্যোতিষী বলেছে না বিশ সালে যুদ্ধ বাধবে। বিশ্বযুদ্ধ। পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে। এখন তো মনে হচ্ছে পরিস্থিতি সেদিকেই এগচ্ছে! ঝাঁকড়া চুলে কাঁচি চালাতে চালাতে প্রায় এক নিঃশ্বাসে ক্ষোভ উগরে দিলেন উত্তর কলকাতার সেলুনকর্মী সুভাষদা। চীনের ওপর এখন তাঁর প্রবল রাগ। এ রাজ্যে এখনও করোনার প্রকোপ ঘটেনি তো কী—ব্যবসার তো সাড়ে তেরোটা। যে সেলুনে ভিড় সামলাতে চারজন হিমশিম খাই, সেখানে এখন দিনে ছ-দশটার বেশি লোকের দেখা মিলছে না! কী বুঝলেন? এমন চললে করোনা আসার আগেই আমাদের সংসারের দফারফা হয়ে যাবে। কিন্তু উপায়ও নেই—বলছে একবার ছড়াতে শুরু করলে নাকি বাঁচাই মুশকিল হবে! মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কাশ্মীর, লাদাখ আরও কোথায় কোথায় এর মধ্যেই যথেষ্ট ছড়িয়েছে। কয়েকজন মরেওছে। কলকাতাতেও ঢুকে পড়েছে। তার ওপর বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী দু’সপ্তাহ নাকি আমাদের জন্য ডেঞ্জার টাইম! কী হবে বলুন তো—এবার ক্ষোভ কেটে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ল প্রবীণ সুভাষচন্দ্রের মুখে।
বলতে কী, শেষপর্যন্ত কী হবে কেউ জানেন না। বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারছেন না, এ যাত্রায় করোনার প্রাণঘাতী দৌড় কোথায় গিয়ে থামবে। এই ভাইরাসের থাবায় স্পেনের তরুণ প্রতিভাবান ফুটবল কোচ ফ্রান্সিসকো গার্সিয়ার মতো আরও কত প্রাণ বলি হবে! কত ঘর-পরিবার হারাবে তাদের প্রিয়জন? কেউ জানেন না। কারণ, এখনও পর্যন্ত এই কালান্তক করোনার কোনও জুতসই প্রতিষেধক নেই গোটা পৃথিবীতে। শোনা যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা নাকি একটা প্রতিষেধকের সন্ধান পেয়েছেন এবং সেই সন্ধানীদলে আছেন এক ভারতীয়ও। কিন্তু সে প্রতিষেধক এখনও চূড়ান্ত পরীক্ষিত নয়। আমেরিকার সিয়াটেলও মানবদেহের ওপর কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রতিষেধকের পরীক্ষা হয়েছে। ফল নাকি মন্দ নয়। অবশ্য এইসব অ্যান্টিডোট যদি বা পরীক্ষায় শেষ অবধি পাশও করে তবেও তা মহাজনী কারবারের স্রোত বেয়ে জনসাধারণের নাগালে আসতে বছর ঘুরে যাবে বলেই মনে করছেন তথ্যভিজ্ঞজন!
অতএব, আপাতত আমরা বিশ্বমানুষ বর্মহীন, শস্ত্রহীন নিধিরাম হয়েই করোনার আক্রমণের মুখে। প্লেগ, ম্যালেরিয়া, সার্স, ক্যান্সার, ইবোলা, টিবির মতো মারণরোগের মুখে একটা সময় অবধি আমরা যেমন অসহায় ছিলাম, তাদের নিষ্ঠুর আক্রমণে হারিয়েছি অজস্র প্রিয়জন-স্বজন-বান্ধব—আজ করোনার আগ্রাসনের মুখে ঠিক তেমনই অবস্থা আমাদের, তেমনই মর্মান্তিক। অথচ, আজ একুশ শতকীয় বিজ্ঞান আমাদের করায়ত্ত, চাঁদ-মঙ্গলে বসতির চিন্তা এখন আর রূপকথা বলে মনে হয় না, সর্বাধুনিক গবেষণাগার প্রগাঢ়মেধা বিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম—সব আমাদের হাতে—অজস্র অঢেল। তবু, কী আশ্চর্য দেখুন এক অদৃশ্য আণুবীক্ষণিক শত্রুর আতঙ্কে আজ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রনেতা থেকে মহাপ্রভাবশালী মহাপণ্ডিত, হাজার হাজার কোটির শাহেনশা বাদশাহ থেকে হতদরিদ্র জীবনসম্বল—সকলে বিকলবিহ্বল বিপন্নতার শিকার! করোনার ভয়াবহতা, প্রাণঘাতী আক্রমণের মোকাবিলায় রাজনীতি, অর্থনীতি দম্ভ-দ্বেষ সব ভুলে এক সারিতে, একমত। সেলুনকর্মী সুভাষদার ভাবনা মতো চীন আমেরিকার যুদ্ধ লাগুক না লাগুক আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই এক অসম যুদ্ধে নেমে পড়েছি, পড়তে বাধ্য হয়েছি। এবং সে যুদ্ধপরিস্থিতি যে আজ রীতিমতো উদ্বেগজনক—তাতেই বা সন্দেহ কী?
এই উদ্বেগ এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, পুণ্যভূমি দেবস্থান পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে! বন্ধ হয়েছে বিনোদন কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ইউরো কাপের মতো আনন্দযজ্ঞ। এমনকী আসন্ন টোকিও ওলিম্পিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! সৌজন্যে সেই করোনা! কেবল হাসপাতালে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলো এখন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দিনরাত সেবায় মগ্ন থেকে প্রমাণ করে চলেছে—ঈশ্বর বিশ্বাসীর এই পৃথিবীতেও ঈশ্বরের প্রতিনিধি ডাক্তারেরা ছাড়া এখন মানুষ জনতার আর কোনও পরিত্রাতা নেই। কৌশলী যুদ্ধবাজ করোনার সঙ্গে প্রাণ বিপন্ন করে আত্মজন ভুলে আসল লড়াইটা লড়ছেন তাঁরাই। এবং সে লড়াইয়ের ভয়াবহতা কত সেটা চীন, ইতালি, ফ্রান্স, ইরাক, ইরান, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর সমেত গোটা বিশ্বের ভুক্তভোগী মাত্রেই এখন হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এর মধ্যেই মহারাষ্ট্র, কর্ণাটকের মতো বেশ কিছু জায়গায় মারণ ভাইরাসের হামলার খবর মিলেছে। কর্ণাটকের কালবুর্গি জেলায় করোনার প্রথম বলি হয়েছেন এক বৃদ্ধ। তার চেয়েও বড় কথা, আমাদের কলকাতাতেও এসে পড়েছে কালান্তক করোনা-সেনা, তাদের আক্রমণে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আপাতত বন্দি একজনা। আর সেই সংবাদনিহিত বিপদশঙ্কা
রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে মহানগরবাসীর। জেলা মফস্‌সল গ্রামগ্রামান্তের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে দুশ্চিন্তা উদ্বেগ।
উদ্বেগের কারণ, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগামী দু’সপ্তাহ ভারতের পক্ষে অতীব বিপজ্জনক। এই সময়ের মধ্যে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে করোনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার হামলা পরিসংখ্যান থেকেই এই আশঙ্কা উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, প্রথম দু’সপ্তাহ ধীরে চলো নীতি নিলেও পরবর্তী সপ্তাহগুলিতে বিদ্যুৎবেগে ছড়ায় এই ভাইরাস। একেবারে মহামারীর মতো। সে পরিসংখ্যান সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন সকলের জানা, তাই পুনরুল্লেখের প্রয়োজন দেখি না। কিন্তু, যেটা আবিশ্ব মানুষকে ভাবাচ্ছে তা হল—এই সংক্রমণ রোধের উপযুক্ত প্রতিষেধকের অভাব। কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়া আপাতত বিশ্বের মানুষের হাতে করোনা ঠেকাবার আর কোনও অস্ত্রও নেই।
ভারতের আর পাঁচটা রাজ্যের মতো এই পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অ্যাডভাইসারি মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক মাসের জন্য স্কুল-কলেজ-অফিস-আদালত সমেত প্রায় সব কর্মস্থান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন, মানুষজনকে খুব প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরতে বা হোটেল-রেস্তোরাঁ ক্লাব জমায়েতে যেতেও বারণ করেছেন। ১৮৯৭ সালের মহামারী আইনও লাগু করেছেন। সেই সঙ্গে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার, মুখে-চোখে হাত না দেওয়ার মতো কিছু অবশ্যকর্তব্যের কথাও জানিয়েছেন। নিঃসন্দেহে সময়োচিত যথার্থ সিদ্ধান্ত। তার চেয়েও বড় কথা, দেখে স্বস্তি লাগছে যে, মমতার কট্টর বিরোধীরাও অন্তত এক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুরভোট পিছনোর ব্যাপারেও তার অন্যথা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা তো ঠিকই বলেছেন, আগে মানুষের প্রাণ তারপর ভোট ইত্যাদি সবকিছু।
কিন্তু কথা হল—মানব বিশ্বকে এতো বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিল কোন দুষ্টচক্র? কেউ কেউ বলছেন, টিবি ক্যান্সার কি সার্স ইবোলাতে এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় মানুষের মৃত্যু ঘটে প্রতি বছর। সেই পরিসংখ্যানকে ঢাল করে করোনা বিপদকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টাও চলছে! কিন্তু, প্রতিষেধক প্রতিপক্ষহীন করোনা যে এই মুহূর্তে পৃথিবীর মানুষের সামনে যমরাজের দোসর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা অস্বীকার করবেন কে? বেশ কিছুদিন যাবৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে এই মারণ ভাইরাসের উৎপত্তি ও বিস্তার নিয়ে। তাতে যে সব ‘থিওরি’ ঘুরেফিরে আসছে—তার মধ্যে অন্যতম হল জৈবঅস্ত্র তত্ত্ব। মার্কিন বিশেষজ্ঞের মন্তব্য সামনে রেখে বলা হচ্ছে, জৈবঅস্ত্র হিসেবে চীন উহানের গবেষণাগারে এই করোনা তৈরি করেছিল এবং সেটি কোনওভাবে লিক হয়ে যায় এবং সংক্রমণ ঘটায়। প্রথমে তারা সংক্রমণের ব্যাপারটা চেপে গিয়েছিল। আর পরবর্তীতে তাতেই যত বিপত্তি বিশ্বজুড়ে! চীন সঙ্গত কারণেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তা নিয়ে দুই মহাদেশে ঠান্ডা লড়াইও জারি হয়ে গেছে।
তবে, মহাশক্তিধরদের এইসব বাদবিসংবাদে আমাদের কী কাম? আমরা ভাবছি, কাল কী হবে? আমাদের সরকার প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা নিয়েছেন, গত রবিবার তার জেরে দেখলাম মহানগরীর রাস্তাঘাট, শপিংমল, পার্ক স্ট্রিটের রেস্টুরেন্ট পাড়া বনধের কলকাতার মতো শুনশান, গাড়ি-ঘোড়া মানুষজনে জমজমাট সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনের শহরটা যেন কোনও অজানা সন্ত্রাসের আশঙ্কায় দুয়ার এঁটে লুকিয়ে পড়েছে! নিত্যদিনের ট্রেনেও ভিড় নেই, বেশ কিছু মেল এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রীর অভাবে আপাতত বন্ধ! দোকান-বাজারেও সেই হুড়োহুড়ি হইহল্লা যেন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। কেবল সুভাষচন্দ্রদের মতো যাদের দিন আনি দিন খাই—রুটি-রুজির তাগিদ তাঁদের দেখা মিলছে পথে। তাঁদের চোখেমুখে কথায় আচরণে বিশ্বাস-অবিশ্বাসে মেশা সেই কী হয় কী হয় ভাবটাও নজর এড়ায় না। সর্বত্র একটাই শঙ্কা একটাই আলোচনা উড়ে বেড়াচ্ছে—করোনা! সব মিলিয়ে প্রকৃত অর্থেই যুদ্ধপরিস্থিতি। আর সঙ্গত কারণেই তাতে উদ্বেগের মাত্রাও ক্রমবর্ধমান। তবে আমাদের বিশ্বাস, মানুষের প্রবল মেধাশক্তি ও বিজ্ঞানচেতনার সঙ্গে লড়াইতে করোনা-সেনা শেষপর্যন্ত পরাস্ত হবে, হবেই। এবং সেটা নিছকই সময়ের অপেক্ষা। তাই নয় কি?
19th  March, 2020
করোনাকালেও অব্যাহত পাকিস্তানের নষ্টামি
হারাধন চৌধুরী

 গত ১৬ মার্চ কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আইসিস তার সদস্য ও অনুগামীদের ইউরোপ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে বলেছিল—‘‘দি ল্যান্ড অফ দি এপিডেমিক!’’ লন্ডন থেকে তাদের ‘অ্যাডভাইজারি’ ছিল যে: বিশ্ব মহামারীর এই নতুন কেন্দ্রে তাদের কেউ যেন আপাতত পা না-রাখে এবং ইউরোপে অবস্থানকালে কেউ যদি ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রামিত হয়ে গিয়ে থাকে তবে সে/তারা যেন কোনওভাবেই সংগঠনে এসে ভিড়ে না-যায়।
বিশদ

ড্রেনের জল পরীক্ষা করেই গোষ্ঠী সংক্রমণের আগাম হদিশ মিলতে পারে
মৃন্ময় চন্দ

 নোভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সারা বিশ্ব প্রকম্পিত। রোগটির চালচলন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক মহলে মোটেই পরিচিত নয়। শুধু চীন কেন, আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ইরান—সর্বত্রই বয়স্কদের উপর বেশি আঘাত হানতে শুরু করেছিল এই মারণ ভাইরাস।
বিশদ

করোনার পরেও আছে এক অন্ধকার সময়
সন্দীপন বিশ্বাস

 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর ওই অবস্থা নিয়ে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন। ‘আমরা চাঁদা তুলে মারব কীট/... বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে সে কীসের বসন্ত!’
বিশদ

08th  April, 2020
জরুরি দ্রুত এবং ব্যাপক জনমুখী পদক্ষেপ
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

করোনা ভাইরাস ভারতীয় অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে একটা বড় ধাক্কা এবং কিছুটা সুযোগ দিয়ে গেল। এমনিতেই বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। আশা করা যাচ্ছিল এবার হয়তো সেটা ৫ শতাংশের কাছে পৌঁছবে।
বিশদ

08th  April, 2020
গ্যালারি শো কতদিন?
খাবার জুটবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ব্যবসার কাজে হংকং গিয়েছিলেন বেথ এমহফ। কাজ সেরে পার্টি... তারপর দেশে ফেরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো হয়ে যখন মিনিয়াপোলিস ফিরলেন, ততক্ষণে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, চার, ১৬, ২৫৬... বাড়তে শুরু করল সংখ্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর... মৃত্যু। এটাই ছিল চক্র। বিশদ

07th  April, 2020
যাও সুখের সন্ধানে যাও
অতনু বিশ্বাস

 সাম্প্রতিক ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গিয়েছিলেন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে। পূর্বনির্ধারিত ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’-এ যোগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুখের ক্লাস দেখতে। বিশদ

07th  April, 2020
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

06th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লকডাউনের জেরে অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি নাভিশ্বাস উঠেছে আবাসন শিল্পেও। প্রবল আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে তারা। এই অবস্থায় সুরাহা পেতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্থিক ত্রাণের আর্জি জানাল আবাসন নির্মাতাদের সংগঠন ক্রেডাই।   ...

সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: লকডাউন ভেঙে বিনাকারণে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর অপরাধে কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিস গত তিনদিনে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরে সিংহভাগ মানুষই নিজেদের ঘরবন্দি করে ...

 রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন, ৮ এপ্রিল: প্রতিদ্বন্দ্বী রেবেক্কা লং-বেইলি এবং বাঙালি বংশোদ্ভূত লিসা নন্দীকে হারিয়ে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে ৫৬.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ...

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর পাঁচালের ঐতিহ্যবাহী গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের কারণে যে কোনওরকম জমায়েত বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। তা মেনে এবারের গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের পঠন পাঠনে আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তিদের যোগ। বিশেষত সরকারি বা আধা সরকারি ক্ষেত্রে যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৬: বাংলার নবাব হলেন সিরাজউদ্দৌলা
১৮৯৩: লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্ম
১৮৯৮: গায়ক পল রবসনের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী ও রাজনীতিক জয়া বচ্চনের জন্ম
২০০৯: পরিচালক শক্তি সামন্তের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৯ টাকা ৭৭.০১ টাকা
পাউন্ড ৯২.০৮ টাকা ৯৫.৩৪ টাকা
ইউরো ৮১.১২ টাকা ৮৪.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৫ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, (চৈত্র কৃষ্ণপক্ষ) দ্বিতীয়া ৪৮/৪ রাত্রি ১২/৩৯। স্বাতী ৪৭/৩ রাত্রি ১২/১৫। সূ উ ৫/২৫/৩৫, অ ৫/৫০/৫৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৬ মধ্যে। বারবেলা ২/৪৬ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১/৫ মধ্যে।
২৬ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, প্রতিপদ ১/৫৮/২৮ প্রাতঃ ৬/১৪/১৮ পরে দ্বিতীয়া ৫৬/২১/৪০ রাত্রি ৩/৫৯/৩৫। স্বাতী ৫৫/৯/৩৯ রাত্রি ৩/৩০/৪৭। সূ উ ৫/২৬/৫৫, অ ৫/৫১/৪৩। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৪/১৮/৩৭ গতে ৫/৫১/৪৩ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩৯/১৯ গতে ১/৬/১৩ মধ্যে।
১৫ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনা: ওড়িশায় আক্রান্ত আরও ২ জন 

01:01:19 PM

ওড়িশায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন
ওড়িশায় বাড়ান হল লকডাউনের মেয়াদ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকবে ...বিশদ

01:00:21 PM

বারাকপুর পুরসভা সংলগ্ন বিটি রোডে গাড়ি উল্টে এক যুবকের মৃত্যু 

01:00:06 PM

সোনারপুরের বেলতলায় ছোটা হাতি-বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত ১ 

12:24:00 PM

করোনা: অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে আক্রান্ত হলেন ৫২ জন 

12:23:50 PM

হেনস্তার অভিযোগে দঃ দিনাজপুরের হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মরিতি 

12:23:00 PM