Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বাজার, সুপার মার্কেটের র‌্যাকগুলো শূন্য। যে যেমন পারছে চাল, ডাল, কাঁচা বাজার জমা করছে অ্যাপার্টমেন্টে। পুরোপুরি শাট ডাউন হলে খাবারও যে জুটবে না! তাই সাবধানের মার নেই। ব্যক্তি... তার থেকে সমষ্টি। আর তারপর বাজার অর্থনীতিতে ধস। ‘করোনা মহামারীতে’ এটাই এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক... যা চোরাস্রোতের মতো প্রত্যেকটা দেশের অস্থি-মজ্জায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই উদ্বেগে অমিতাভও। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার থেকে অন্য একটি প্রশ্ন অনেক বেশি ভাবাচ্ছে তাঁকে... চাকরিটা থাকবে তো? বলছিলেন, ‘যে কয়েকটা বড় ক্লায়েন্টকে হ্যান্ডল করি, তাদের মধ্যে অন্যতম রয়্যাল ব্যাঙ্ক অব স্কটল্যান্ড। হাইপ্রোফাইল ক্লায়েন্ট। কিন্তু এই করোনা এফেক্ট ওদেরও ধাক্কা দিতে চলেছে। বিষয়টা যেদিকে যাচ্ছে, তাতে মার্কেট মুখ থুবড়ে পড়বেই... সেই ছবিটা দ্রুত চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। এর পরের উদ্বেগটা আরও গুরুতর... এই ভয়ঙ্কর প্রভাব কাটতে কতদিন লাগবে? কত মাস... কত বছর!’
এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি রিপোর্ট বলছে, করোনা ভাইরাসের জন্য অর্থনীতির ধাক্কা খাওয়া প্রথম ১৫টি দেশের মধ্যে থাকছে ভারত। ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে চলেছে অন্তত ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। গত কয়েক বছরে আমাদের দেশের অর্থনীতি গোঁত্তা খেতে খেতে যেখানে এসে পৌঁছেছে, তাতে এই অঙ্ক পথে বসিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় আঘাত আসছে রাসায়নিক বা কেমিক্যাল সেক্টরে। তারপর একে একে টেক্সটাইল, গাড়ি শিল্প, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, ধাতু ও ধাতব জিনিস, চামড়া শিল্প..। প্রভাবের অভিঘাত আমাদের দেশে বসে কিন্তু এখনই সেভাবে বোঝা যাচ্ছে না। অথচ, শুরুটা হয়ে গিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশে। চীনে। উহান থেকে দুনিয়াভর ছড়িয়েছে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। তাই ঝড়টাও প্রথম আছড়ে পড়েছে চীনেই। উৎপাদন ক্ষেত্র বিপুল ধাক্কা খেয়েছে তাদের। আর আজকের বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে এটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। কেন? প্রথমত, বিশ্ব অর্থনীতির সিংহভাগ এখন নিয়ন্ত্রণ করে চীন। বহু উন্নয়নশীল দেশ মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে বেজিংয়ের। কখনও আর্থিক সাহায্য, কখনও আবার উৎপাদিত পণ্য দিয়ে সেই দেশগুলিকে সমর্থন দেয় চীনা সরকার। সেই সহায়তা ক্ষেত্রটা কার্যত বন্ধ। দ্বিতীয়ত, চীনের উৎপাদিত পণ্যের উপর ভিত্তি করে বাণিজ্য-বিশ্বের একটা বড় অংশ এখন পরিচালিত হয়। অনেক দেশ আছে, যারা শিল্পের কাঁচামাল সবটাই আমদানি করে চীন থেকে। জি জিনপিংয়ের দেশের পুরো ফোকাস এখন করোনায়। আক্রান্ত হাজার হাজার। নজরদারি বা আইসোলেশনে বহু। অফিস, কারখানা বন্ধ। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই উৎপাদন তলানিতে। বার্ষিক গড় উৎপাদনের হার ২ শতাংশ কমে গিয়েছে। ঠিক এই কারণে যে দেশগুলি শিল্পক্ষেত্রে চীনা পণ্যের উপর নির্ভরশীল, তাদের উপরও আঁচটা এসে পড়ছে। সরাসরি। পুরোটাই চেইন সিস্টেম। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই আমদানি-রপ্তানি খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর প্রাথমিক হিসেব বলছে, করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। কয়েকটা ক্ষেত্র ধরে নেওয়া যাক।
পর্যটন ও হোটেল ব্যবসা। উৎপাদন শিল্পের পরই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে এই ক্ষেত্রটি। এবং সেটা খুব অস্বাভাবিক নয়। গুণোত্তর প্রগতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। কোথাও কোথাও আরও দ্রুত। এর কারণ পরিষ্কার... একজন যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলেই রোগটা ১০ জনে ছড়িয়ে যাওয়া কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আর সেই রোগী বিষয়টি লুকিয়ে রাখলে তো কথাই নেই! আপনি-আমি জানি না, কোন মানুষটি পরীক্ষা না করিয়ে, রোগ লুকিয়ে বাসে পাশের সিটে বসে আছেন। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যা আরও বেশি সম্ভব। রাজস্থান বা কেরলের মতো রাজ্যে বহু বিদেশি পর্যটক আসেন। তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হলে স্বেচ্ছায় সেই রোগ ভারতীয়দের দান করে যেতেই পারেন। সেটা হয়েওছে। আর তারপরই কঠোর হয়েছে প্রশাসন। সব দেশেই। এই পদক্ষেপে প্রথমেই বন্ধ হয়েছে ট্যুরিস্ট আসা। বিদেশি মুদ্রায় আয় তো বন্ধই, পাশাপাশি দেশের মধ্যেও বেড়িয়ে আসার আনন্দ আপাতত সিন্দুকে তোলা। আগে যেখানে একটা গড়পড়তা হোটেলের ৭৫ শতাংশের বেশি ঘর পর্যটন মরশুমে ভর্তি থাকত, সেটা এখন ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। রেস্তরাঁগুলির বিক্রিও অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে।
আর পর্যটনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে বিমান ও ট্রেনযাত্রা। সোমবার বিকেলেও দেখা গেল, আজকের হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের এসি থ্রি টিয়ারের টিকিট রয়েছে ১৭টি। এই পরিসংখ্যান খুব সুলভ নয়! হাওড়া-এনজেপি শতাব্দীর এসি চেয়ারকারের টিকিট রয়েছে ১০৯টি। আর বিমান? আগামী সপ্তাহের দিল্লির টিকিট হাজার পাঁচেক দর চলছে। আর আজ গেলে ৬ হাজারের আশপাশে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা অফার দিচ্ছে... টিকিট কেটে রাখুন ডিসকাউন্টে। ছাড় তো মিলবেই। ক্যানসেল করার চার্জও লাগবে না...। কারণ একটাই। যাত্রী পরিবহণ ব্যবসা ধুঁকছে। ৬ মার্চ পর্যন্ত ৫৮৫টি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল হয়েছে। সাধারণত রোজ যে পরিমাণে ফ্লাইট বুকিং হয়, তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বিমানবন্দর ফাঁকা। আতঙ্ক...।
জামাকাপড়, ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র... প্রভাব সর্বত্র। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ জামাকাপড় প্রত্যেক বছর রপ্তানি হয়। করোনার জন্য ইতিমধ্যেই টেক্সটাইল শিল্প হোঁচট খাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অর্ডার আসা। আরও বেশি আঘাত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি উৎপাদনে। টিভির প্যানেল হোক বা এসি মেশিনের কমপ্রেশার... চীনেই সবচেয়ে সস্তায় তৈরি হয়। যা আপাতত বন্ধ। মোবাইল ফোনও আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
সঙ্গে রয়েছে পোলট্রি শিল্প। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ছড়াল, মুরগির মাংস খেলে নাকি করোনা ধরতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেজ তো আজকাল আবার আগুনের থেকে দ্রুত ছড়ায়। কমল বিক্রি। দাম নামতে নামতে কলকাতার বাজারে গড়ে ১০০ টাকার আশপাশে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল খাসির মাংসের দাম। দোলের দিন কোনও কোনও বাজারে ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে খাসি। এই প্রবণতা কিন্তু শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে নয়! গোটা বিশ্বে।
উৎপাদন নেই, পণ্যের চাহিদা নেই, সরবরাহ নেই... বাজার মুখ থুবড়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। সেটাই হচ্ছে। আর এই মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও দিশা নেই। করোনা আক্রান্তদের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হল শ্বাসকষ্ট। অভিঘাত বাড়লে যা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায়। সেক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন ছাড়া গতি নেই। একটা শহরে সব হাসপাতাল মিলিয়ে কটা ভেন্টিলেটর থাকতে পারে? গুণোত্তর প্রগতিতে আক্রান্ত বাড়লে সেই সংখ্যাটা কিন্তু মরুভূমিতে একফোঁটা জলের মতো হয়ে দাঁড়াবে। এখন পর্যন্ত গোটা বিশ্বে আক্রান্তের মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পরিসংখ্যানটা উল্টে যাবে। তাই এখন আতঙ্কে সবাই।
লন্ডনে ভয় পাচ্ছেন অমিতাভ, প্যারিসে শমীক চক্রবর্তী, বার্লিনে সৌম্য দাশগুপ্ত। ফ্রান্সে সোমবার থেকে স্কুল, কলেজ, ক্রেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও জানানো হয়েছে, খুব দরকার না হলে কর্মীদের অফিসে আসতে বাধ্য করবেন না। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করান। তাই শমীক খানিক স্বস্তিতে। তাও আতঙ্কমুক্ত নন...।
শতবর্ষ আগে... ১৯১৮ সালে এমনই এক ফ্লু মহামারী হয়ে দেখা দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, আর্জেন্তিনা... সর্বত্র থাবা দিয়েছিল এই ফ্লু। প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ৫ কোটি মানুষ। মৃতদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। খাবার, জল, ওষুধ... সবেরই আকাল। সেই সময় ছিল না ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ। ভাইরাসের উপস্থিতি বিজ্ঞানীরা জানতেন, কিন্তু তাকে পর্যবেক্ষণ করে ভ্যাকসিন তৈরি করা ছিল অসম্ভব। সেবারও কিন্তু প্রবল ধাক্কা খেয়েছিল অর্থনীতি। তার উপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ... পরবর্তী সময় শুরু হয়েছিল প্রায় শূন্য থেকে। সে যুগ বিশ্বায়নের ছিল না। বাজার অর্থনীতি এতটা উন্মুক্ত হয়নি। উন্নয়নশীল দেশের সংখ্যা বেশি। প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবের দিন আসেনি...। ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বিশ্ব। আজ কী হবে? আপাতত বিজ্ঞানী, চিকিৎসকরা করোনাকে ঠেকিয়ে রাখতে বেশি তৎপর। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে না ছড়ায়...। তারপর প্রতিষেধক। তাই সচেতনতার থেকে কার্যকরী ওষুধ কিন্তু এই মুহূর্তে অন্য কিছু নেই। কিন্তু আজ কী হবে? শুধু কোয়ারেন্টাইন করে কতদিন ঠেকিয়ে রাখা যাবে এই মহামারী?
প্রতিষেধক কিন্তু এখনও নাগালের অনেক দূর!
17th  March, 2020
করোনাকালেও অব্যাহত পাকিস্তানের নষ্টামি
হারাধন চৌধুরী

 গত ১৬ মার্চ কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আইসিস তার সদস্য ও অনুগামীদের ইউরোপ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে বলেছিল—‘‘দি ল্যান্ড অফ দি এপিডেমিক!’’ লন্ডন থেকে তাদের ‘অ্যাডভাইজারি’ ছিল যে: বিশ্ব মহামারীর এই নতুন কেন্দ্রে তাদের কেউ যেন আপাতত পা না-রাখে এবং ইউরোপে অবস্থানকালে কেউ যদি ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রামিত হয়ে গিয়ে থাকে তবে সে/তারা যেন কোনওভাবেই সংগঠনে এসে ভিড়ে না-যায়।
বিশদ

ড্রেনের জল পরীক্ষা করেই গোষ্ঠী সংক্রমণের আগাম হদিশ মিলতে পারে
মৃন্ময় চন্দ

 নোভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সারা বিশ্ব প্রকম্পিত। রোগটির চালচলন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক মহলে মোটেই পরিচিত নয়। শুধু চীন কেন, আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ইরান—সর্বত্রই বয়স্কদের উপর বেশি আঘাত হানতে শুরু করেছিল এই মারণ ভাইরাস।
বিশদ

করোনার পরেও আছে এক অন্ধকার সময়
সন্দীপন বিশ্বাস

 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর ওই অবস্থা নিয়ে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন। ‘আমরা চাঁদা তুলে মারব কীট/... বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে সে কীসের বসন্ত!’
বিশদ

08th  April, 2020
জরুরি দ্রুত এবং ব্যাপক জনমুখী পদক্ষেপ
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

করোনা ভাইরাস ভারতীয় অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে একটা বড় ধাক্কা এবং কিছুটা সুযোগ দিয়ে গেল। এমনিতেই বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। আশা করা যাচ্ছিল এবার হয়তো সেটা ৫ শতাংশের কাছে পৌঁছবে।
বিশদ

08th  April, 2020
গ্যালারি শো কতদিন?
খাবার জুটবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ব্যবসার কাজে হংকং গিয়েছিলেন বেথ এমহফ। কাজ সেরে পার্টি... তারপর দেশে ফেরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো হয়ে যখন মিনিয়াপোলিস ফিরলেন, ততক্ষণে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, চার, ১৬, ২৫৬... বাড়তে শুরু করল সংখ্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর... মৃত্যু। এটাই ছিল চক্র। বিশদ

07th  April, 2020
যাও সুখের সন্ধানে যাও
অতনু বিশ্বাস

 সাম্প্রতিক ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গিয়েছিলেন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে। পূর্বনির্ধারিত ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’-এ যোগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুখের ক্লাস দেখতে। বিশদ

07th  April, 2020
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

06th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
একনজরে
  নয়াদিল্লি, ৮ এপ্রিল: দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যেও ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। আর এর মধ্যে একটা বড় অংশের সংক্রমণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রক দায় চাপিয়েছে নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশের উপর। ...

  বিএনএ, বারাকপুর: লকডাউনে বাড়ির বাইরে গিয়ে মোবাইল গেম খেলার সময় কংক্রিটের শেড ভেঙে এক তরুণের মৃত্যু হল। মঙ্গলবার রাতে চাকদহ থানার মদনপুরের মারফোডাঙায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম শীতল পাসোয়ান (১৮)। ...

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর পাঁচালের ঐতিহ্যবাহী গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের কারণে যে কোনওরকম জমায়েত বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। তা মেনে এবারের গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  ...

 রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন, ৮ এপ্রিল: প্রতিদ্বন্দ্বী রেবেক্কা লং-বেইলি এবং বাঙালি বংশোদ্ভূত লিসা নন্দীকে হারিয়ে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে ৫৬.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের পঠন পাঠনে আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তিদের যোগ। বিশেষত সরকারি বা আধা সরকারি ক্ষেত্রে যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৬: বাংলার নবাব হলেন সিরাজউদ্দৌলা
১৮৯৩: লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্ম
১৮৯৮: গায়ক পল রবসনের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী ও রাজনীতিক জয়া বচ্চনের জন্ম
২০০৯: পরিচালক শক্তি সামন্তের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৯ টাকা ৭৭.০১ টাকা
পাউন্ড ৯২.০৮ টাকা ৯৫.৩৪ টাকা
ইউরো ৮১.১২ টাকা ৮৪.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৫ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, (চৈত্র কৃষ্ণপক্ষ) দ্বিতীয়া ৪৮/৪ রাত্রি ১২/৩৯। স্বাতী ৪৭/৩ রাত্রি ১২/১৫। সূ উ ৫/২৫/৩৫, অ ৫/৫০/৫৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৬ মধ্যে। বারবেলা ২/৪৬ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১/৫ মধ্যে।
২৬ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, প্রতিপদ ১/৫৮/২৮ প্রাতঃ ৬/১৪/১৮ পরে দ্বিতীয়া ৫৬/২১/৪০ রাত্রি ৩/৫৯/৩৫। স্বাতী ৫৫/৯/৩৯ রাত্রি ৩/৩০/৪৭। সূ উ ৫/২৬/৫৫, অ ৫/৫১/৪৩। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৪/১৮/৩৭ গতে ৫/৫১/৪৩ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩৯/১৯ গতে ১/৬/১৩ মধ্যে।
১৫ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১২৩৬ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

01:27:03 PM

জম্মু ও কাশ্মীরে অস্ত্রশস্ত্র সহ গ্রেপ্তার এক জঙ্গি 
জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলায় এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল সেনা জওয়ানরা। ...বিশদ

01:26:03 PM

করোনা: মেক্সিকোয় আক্রান্ত আরও ৩৯৬
মেক্সিকোয় আরও ৩৯৬ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস। মৃত্যু হয়েছে ...বিশদ

01:22:03 PM

করোনা: থাইল্যান্ডে আক্রান্ত আরও ৫৪ জন 

01:20:16 PM

করোনা: ইউক্রেনে আক্রান্ত আরও ২২৪ জন 

01:18:42 PM

১১০০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

01:10:08 PM