Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের দায়
মোদি সরকার এড়াতে পারে না
হিমাংশু সিংহ

একদিকে সুদের হার কমতে কমতে তলানিতে আর অন্যদিকে একের পর এক ব্যাঙ্ক মুখ থুবড়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ গরিব মানুষ তো বটেই, প্রবীণদের অবস্থা আরও করুণ। কারণ ওই সুদটুকু ছাড়া তাঁদের তো আয়ের আর কোনও পথ নেই। মানুষ যাবে কোথায়। বাড়িতে টাকা রাখলে নোট বাতিলের ভয়, আর ব্যাঙ্কে রাখলে লাটে ওঠার আতঙ্ক! মানুষের সামান্য সম্বলটুকুও বিপন্ন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইয়েস ব্যাঙ্ক কাণ্ডের গোটা দায় চাপিয়েছেন পূর্বতন ইউপিএ সরকারের উপর। আবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম কড়া আক্রমণ করেছেন মোদি জমানার অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তথা চরম গাফিলতিকে। প্রাক্তন ও বর্তমানের এই চাপান-উতোরের মাঝে পড়ে জনগণের চূড়ান্ত প্রাণান্তকর অবস্থা। এর উপর দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও নির্ভরযোগ্য ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক সুদের হার গত ১০ মার্চ থেকে আরও বেশকিছুটা কমানোয় অবস্থা আরও খারাপ হতে বাধ্য। বিশেষ করে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামই কমার কোনও লক্ষণ নেই। সুদ কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টাকা রাখার নিরাপদ জায়গা কমছে, এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে। এর দায় মোদি সরকার কোনওভাবেই এড়াতে পারে না।
একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের লম্বা তালিকায় নবতম সংযোজন ‘ইয়েস ব্যাঙ্ক’। এর আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে লাটে উঠেছিল পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক। তা নিয়ে উত্তেজনাও কম হয়নি। এরও আগে একাধিক দুর্বল লোকসানে চলা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তি নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। মোদি জমানায় ব্যাঙ্ক-সংযুক্তির সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করতে হয় অনেক বিলম্ব করেছে কিংবা সব দেখেও কোনও এক রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করেছে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের উদাসীন থাকার আর একটা বড় কারণ। আর সেই কারণেই রঘুরাম রাজন, উর্জিত প্যাটেলদের মতো ব্যাঙ্ক কর্তাদের ক্ষমতা চিরকাল অত্যন্ত সীমাবদ্ধই থেকে যায়। দিল্লির শাসককুল কোনও জমানাতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কে খুব স্বাধীনচেতা সাহসী মেরুদণ্ড সোজা গভর্নর পছন্দ করে না। তাই সবক্ষেত্রেই অনুগত বশংবদ অফিসারদের জয়জয়কার। যখন একটা ব্যাঙ্ক তার আমানতের বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত গতিতে ঋণ দিতে উদ্যোগী হয়, তখন বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। ইয়েস ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। মোদি জমানার শুরু থেকেই লাফিয়ে বেড়েছে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ।
রানা কাপুর ও অশোক কাপুর মিলে বিতর্কিত ব্যাঙ্কটির প্রতিষ্ঠা করেন গত ২০০৪ সালে। অর্থাৎ ১৬ বছর আগে। অত্যন্ত দ্রুত ব্যাঙ্কটি জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০১৩-১৪ সাল থেকেই ব্যাঙ্কটি ঝুঁকিপূর্ণ বিপজ্জনক ঋণ দিতে শুরু করে। যেসব সংস্থা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারবে না তাদেরকেই জেনেশুনে সজ্ঞানে বেশি বেশি করে ঋণ দেন ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুর। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই যেখানে ব্যাঙ্কের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, এই মুহূর্তে তা বেড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। নোট বাতিলের পর পরই একটি মাঝারি মাপের বেসরকারি ব্যাঙ্কের এমন বিরাট অঙ্কের বকেয়া ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণটা কী? সিবিআই জানাচ্ছে, বহু ক্ষেত্রেই ঋণ দেওয়া হয়েছে স্রেফ ঘুষের বিনিময়ে। সেই ঘুষের টাকা ঘুরপথে ঢুকেছে ব্যাঙ্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের বিভিন্ন পারিবারিক সংস্থার অ্যাকাউন্টে। বর্তমানে সেই ঘটনারই তদন্ত করছে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
প্রায় লাটে ওঠা আর্থিক সংস্থা ডিএইচএফএলকে ইয়েস ব্যাঙ্ক ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। সেই ঋণ শোধ হয়নি। হওয়ার কথাও ছিল না। উল্টে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ঋণের বিনিময়ে ডিএইচএফএল সংস্থাটি ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের পরিবারকে ৬০০ কোটি টাকা ঘুষ দেয় বলে অভিযোগ। সেই টাকা রানা কাপুরেরই পারিবারিক সংস্থায় ঢোকে। অর্থাৎ এই অসৎ, কায়েমি স্বার্থে ঋণদানের প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে তিলে তিলে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার আসল কারণ। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক ফোঁপরা হল আর রানা কাপুর ঘুষের টাকায় ফুলেফেঁপে উঠলেন। ক্ষমতার অলিন্দে তাঁর ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ল, কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগাগোড়া চোখ বুঝে থাকল কীভাবে? কোনও উত্তর মেলে না। তাহলে এদেশে যাবতীয় আইন, কড়াকড়ি কি শুধু সাধারণের জন্য? ভারতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার এটাই সবচেয়ে করুণ চিত্র। যেকোনও ব্যবসাই চলে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর। সেই বিশ্বাসে ঘাটতি হলে কেউ আর কষ্টার্জিত টাকা সেই ব্যাঙ্কে রাখতে উৎসাহী হন না। যদি কোনও বেসরকারি ব্যাঙ্ককে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজের আখের গোছানোর জন্য ব্যবহার করেন, আমানতকারীদের অর্থ ঘুরপথে নয়ছয় করেন, তাহলে মাঝপথে ওই আর্থিক সংস্থার এরকম বিপর্যয় মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যাঙ্ক লাটে উঠলে ছিবড়ে করে ফেলে চলে যান সকলে। ইয়েস ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছে।
একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এই ব্যাঙ্কের মোট আমানতের চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি। তাজ্জব ব্যাপার! মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেই ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ দিয়েছে ব্যাঙ্কটি! এরমধ্যে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, সুভাষচন্দ্রের এসেল গোষ্ঠীকে ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ডিএইচএফএল গোষ্ঠীকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সিবিআই এই মুহূর্তে তদন্ত করছে মূলত ডিএইচএফএলকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিরাট ঋণ দেওয়া নিয়েই। শুধু ওই কয়েকটি সংস্থাই নয়। আইএল অ্যান্ড এফএস নামক এক সংস্থাকেও দেওয়া হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। রুগ্ন হয়ে পড়া জেট এয়ারওয়েজকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কক্স অ্যান্ড কিং ও গো ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়েছে হাজার কোটি টাকা। এভাবেই ব্যাঙ্কের টাকার মনের সুখে হরির লুট করেছেন রানা কাপুর এবং তাঁর পরিবার। আজ যখন আর কোনও বিকল্প রাস্তা নেই, ব্যাঙ্কের গণেশ চিরতরে উল্টে যাওয়ার অবস্থায় তখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টনক নড়েছে। অথচ গত দু’বছর ধরেই ইয়েস ব্যাঙ্কে যে টানাটানি চলছে তা কারও অজানা নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও তা বিলক্ষণ জানত। কিন্তু সবাই ছিল নীরব দর্শক। যেখানে সামান্য কিছু টাকা ঋণ নিলেও মধ্যবিত্তকে হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি
হতে হয়, সেখানে এত হাজার কোটি টাকা ঋণের কথা দেশের সর্বোচ্চ ব্যাঙ্ক জানত না একথা মেনে
নেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন
ওঠে, এক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কোন অজ্ঞাত শক্তির চাপে ‘ মাস্টার মশাই আপনি কিছুই দেখেন নি’ নীতি অবলম্বন করেছে?
সবচেয়ে বড় কথা, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেল কীভাবে? তা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত হওয়া দরকার। কিছুদিন আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরই চাপে ব্যাঙ্কটির সিইও বদল হলেও পরিস্থিতি কিন্তু বদলায়নি। এমনকী, ব্যালান্সশিটে প্রায় এক বছর আগে বড় মাপের লোকসান ঘোষণা করার পরেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্কতা অবলম্বন করেনি। অথচ মজার ব্যাপার এই ব্যাঙ্কে একাধিক রাজ্য সরকার, সমবায়, বিভিন্ন মন্দির ট্রাস্টের শ’য়ে শ’য়ে কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা ছিল। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে
সম্প্রতি আংশিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই আশ্চর্যজনকভাবে তিরুপতি মন্দির ট্রাস্ট ১৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। গুজরাতের ভদোদরার
একটি সমবায়ও ২৬৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্ক হওয়ার আগে। এর থেকেই বোঝা যায়
ভারতের শীর্ষ ব্যাঙ্ক যে একটা ব্যবস্থা নিতে চলেছে তা আগে থেকেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। নোট বাতিলের আগে যেমন বহু কর্পোরেট সংস্থা আগাম জানতে পেরে তাদের পুরনো নোট সরিয়ে ফেলেছিল। তেমনি ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকেও কিছু
বড় মাপের আমানতকারী জমানো
টাকা তুলে নিতে সমর্থ হয়েছে।
পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষেরও প্রায় ৫৪৫ কোটি টাকা গচ্ছিত আছে ইয়েস ব্যাঙ্কে।
কোনও ব্যাঙ্ক লাটে উঠলেই বিতর্ক থামাতে ও জনরোষ মোকাবিলায় সরকার ঘুরপথে টাকা ঢালে। এটাই নিয়ম। এভাবেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকার লুটপাট সামাল দিতে স্টেট ব্যাঙ্ক, এলআইসির মতো সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়। এ জিনিস মোটেই দেশের অর্থনীতির পক্ষে সুখকর নয়। এর আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের রুগ্ন স্বাস্থ্য মোকাবিলায় এলআইসিকে নামানো হয়েছিল। আর এবার শোনা যাচ্ছে, ইয়েস ব্যাঙ্কের লাটে ওঠা সামলাতে স্টেট ব্যাঙ্ককে দিয়ে ৪৯ শতাংশ শেয়ার কেনা হবে। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনের একটা রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে সেই স্টেট ব্যাঙ্ককে মধ্যিখানে রেখেই। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, যেসব অসাধু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কটিকে ধনেপ্রাণে শেষ
করল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন সাধারণ গরিব মানুষের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা ঢালা হচ্ছে রুগ্ন ইয়েস ব্যাঙ্কের জন্য। এভাবে কী ব্যাঙ্কের টাকা মারা বন্ধ করা যাবে? যাবে না। উল্টে এতে বেসরকারি ব্যাঙ্ক লুটের ঘটনা আরও প্রশ্রয় পেতে বাধ্য। অন্যান্য বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির লাটে ওঠা রুখতে তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে হবে। কড়া হতে হবে। এই নজরদারিতে গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।
এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি গভীর সঙ্কটের
মধ্যে দিয়ে চলেছে। কোনও জিনিসের চাহিদা বাড়ছে না। জিডিপি কমছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তার
উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকে এক নজিরবিহীন
মন্দার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। এই অবস্থায় যদি একের পর এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে
দেশের কিছু ধনকুবের অসাধু ব্যবসায়ী নোংরা খেলা খেলে তাহলে অর্থনীতির সর্বনাশ অনিবার্য। নোট বাতিলের পর ক্রমাগত সেই সর্বনাশের দিকেই মোদি সরকার আমাদের টেনে নিয়ে চলেছে।
15th  March, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
ছুটি শব্দটাই আজ অর্থহীন, মনের অসুখ ডেকে আনছে লকডাউন, প্রবীণদের সঙ্কট আরও তীব্র
হিমাংশু সিংহ

যে বাঙালি ছুটি পাগল, সেও দু’মাস ঘরে থেকে আজ যে-কোনও মূল্যে কাজে যোগ দিতে মরিয়া। লকডাউন যে কাজের সঙ্গে ছুটির রসায়নটাকেও এভাবে রাতারাতি বদলে দেবে, কারও কল্পনাতেও ছিল না। রবিবারের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। লোকে বার ভুলে সবদিনকেই আজ শুধু লকডাউন বলে চিহ্নিত করছে। চার দেওয়ালের শৃঙ্খল আর ভালো লাগছে না কারও।
বিশদ

17th  May, 2020
একনজরে
 নিউ ইয়র্ক, ২৭ মে: আবার মুখোমুখি মাইক টাইসন ও ইভান্ডার হোলিফিল্ড। চ্যারিটি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য প্রাক্তন দুই হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন অবসর ভেঙে রিংয়ে ফিরছেন। এই লড়াইয়ের দিন ঠিক হয়েছে ২৬ জুন। উল্লেখ্য, হোলিফিল্ডের বয়স এখন ৫৮ বছর। তাঁর থেকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লকডাউনে কাজ হারানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাড়ে আট হাজার মানুষকে প্রচেষ্টা প্রকল্পে মাথাপিছু ১০০০ টাকা দিল রাজ্য সরকার। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘স্নেহের পরশ’ এবং কাজ হারানো দুঃস্থ মানুষদের জন্য ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।   ...

নয়াদিল্লি, ২৭ মে: বিভিন্ন হোটেলের শ্রেণিবিন্যাস ও অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করল পর্যটন মন্ত্রক। এই অনুমোদনের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে আতিথেয়তা শিল্প একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগচ্ছে। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিক, তীর্থ যাত্রী বা চিকিৎসার কাজে বাইরে যাওয়া মানুষজনকে নিয়ে একের পর এক ট্রেন আসছে হাওড়া স্টেশনে। প্রায় প্রতিদিনই কমপক্ষে একটি ট্রেন তো ঢুকছেই হাওড়ায়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যাধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা। বাহন বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সন্তানের বিদ্যা শিক্ষায় অগ্রগতি বিষয়ে সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪২ - লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিংপুল চালু
১৮৮৩- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকারের জন্ম
১৯২৩- রাজনীতিক ও তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামা রাওয়ের জন্ম
২০১০- পশ্চিমবঙ্গে জ্ঞানশ্বেরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪১জনের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৮৯ টাকা ৭৬.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৮ টাকা ৯৪.১২ টাকা
ইউরো ৮১.২৯ টাকা ৮৪.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ৪৬/১৯ রাত্রি ১১/২৮। পুষ্যা নক্ষত্র ৬/১৬ দিবা ৭/২৭। সূর্যোদয় ৪/৫৬/১৭, সূর্যাস্ত ৬/১১/২০। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/৫২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৮/৫৩। পুষ্যানক্ষত্র প্রাতঃ ৫/৩৫ পরে অশ্লেষানক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৪৫। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৪ গতে ৬/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৫ গতে ১২/৫৫ মধ্যে।
৪ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে সম্বিত পাত্র 
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। ...বিশদ

04:01:15 PM

পঃমেদিনীপুরে বজ্রপাতে পুড়ল বাড়ি
বজ্রপাতে পুড়ে গেল খড়ের ছাউনি বাড়ি। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ...বিশদ

02:04:14 PM

লকডাউনের মেয়াদ নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে কী বললেন মুখ্যসচিব
এখনই কন্টেনমেন্ট জোন থেকে লকডাউন তোলার পক্ষে নয় রাজ্য সরকার। ...বিশদ

01:52:24 PM

কর্ণাটকে করোনা পজিটিভ আরও ৭৫ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪৯৩ 

12:53:12 PM

মহেশতলায় চায়ের গুদামে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ১৪টি ইঞ্জিন

12:31:00 PM

কলকাতার কোথায় কত বৃষ্টিপাত? 
গতকাল সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর পর থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলছে কলকাতা সহ ...বিশদ

12:22:59 PM