Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের দায়
মোদি সরকার এড়াতে পারে না
হিমাংশু সিংহ

একদিকে সুদের হার কমতে কমতে তলানিতে আর অন্যদিকে একের পর এক ব্যাঙ্ক মুখ থুবড়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ গরিব মানুষ তো বটেই, প্রবীণদের অবস্থা আরও করুণ। কারণ ওই সুদটুকু ছাড়া তাঁদের তো আয়ের আর কোনও পথ নেই। মানুষ যাবে কোথায়। বাড়িতে টাকা রাখলে নোট বাতিলের ভয়, আর ব্যাঙ্কে রাখলে লাটে ওঠার আতঙ্ক! মানুষের সামান্য সম্বলটুকুও বিপন্ন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইয়েস ব্যাঙ্ক কাণ্ডের গোটা দায় চাপিয়েছেন পূর্বতন ইউপিএ সরকারের উপর। আবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম কড়া আক্রমণ করেছেন মোদি জমানার অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তথা চরম গাফিলতিকে। প্রাক্তন ও বর্তমানের এই চাপান-উতোরের মাঝে পড়ে জনগণের চূড়ান্ত প্রাণান্তকর অবস্থা। এর উপর দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও নির্ভরযোগ্য ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক সুদের হার গত ১০ মার্চ থেকে আরও বেশকিছুটা কমানোয় অবস্থা আরও খারাপ হতে বাধ্য। বিশেষ করে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামই কমার কোনও লক্ষণ নেই। সুদ কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টাকা রাখার নিরাপদ জায়গা কমছে, এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে। এর দায় মোদি সরকার কোনওভাবেই এড়াতে পারে না।
একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের লম্বা তালিকায় নবতম সংযোজন ‘ইয়েস ব্যাঙ্ক’। এর আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে লাটে উঠেছিল পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক। তা নিয়ে উত্তেজনাও কম হয়নি। এরও আগে একাধিক দুর্বল লোকসানে চলা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তি নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। মোদি জমানায় ব্যাঙ্ক-সংযুক্তির সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করতে হয় অনেক বিলম্ব করেছে কিংবা সব দেখেও কোনও এক রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করেছে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের উদাসীন থাকার আর একটা বড় কারণ। আর সেই কারণেই রঘুরাম রাজন, উর্জিত প্যাটেলদের মতো ব্যাঙ্ক কর্তাদের ক্ষমতা চিরকাল অত্যন্ত সীমাবদ্ধই থেকে যায়। দিল্লির শাসককুল কোনও জমানাতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কে খুব স্বাধীনচেতা সাহসী মেরুদণ্ড সোজা গভর্নর পছন্দ করে না। তাই সবক্ষেত্রেই অনুগত বশংবদ অফিসারদের জয়জয়কার। যখন একটা ব্যাঙ্ক তার আমানতের বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত গতিতে ঋণ দিতে উদ্যোগী হয়, তখন বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। ইয়েস ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। মোদি জমানার শুরু থেকেই লাফিয়ে বেড়েছে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ।
রানা কাপুর ও অশোক কাপুর মিলে বিতর্কিত ব্যাঙ্কটির প্রতিষ্ঠা করেন গত ২০০৪ সালে। অর্থাৎ ১৬ বছর আগে। অত্যন্ত দ্রুত ব্যাঙ্কটি জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০১৩-১৪ সাল থেকেই ব্যাঙ্কটি ঝুঁকিপূর্ণ বিপজ্জনক ঋণ দিতে শুরু করে। যেসব সংস্থা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারবে না তাদেরকেই জেনেশুনে সজ্ঞানে বেশি বেশি করে ঋণ দেন ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুর। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই যেখানে ব্যাঙ্কের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, এই মুহূর্তে তা বেড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। নোট বাতিলের পর পরই একটি মাঝারি মাপের বেসরকারি ব্যাঙ্কের এমন বিরাট অঙ্কের বকেয়া ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণটা কী? সিবিআই জানাচ্ছে, বহু ক্ষেত্রেই ঋণ দেওয়া হয়েছে স্রেফ ঘুষের বিনিময়ে। সেই ঘুষের টাকা ঘুরপথে ঢুকেছে ব্যাঙ্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের বিভিন্ন পারিবারিক সংস্থার অ্যাকাউন্টে। বর্তমানে সেই ঘটনারই তদন্ত করছে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
প্রায় লাটে ওঠা আর্থিক সংস্থা ডিএইচএফএলকে ইয়েস ব্যাঙ্ক ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। সেই ঋণ শোধ হয়নি। হওয়ার কথাও ছিল না। উল্টে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ঋণের বিনিময়ে ডিএইচএফএল সংস্থাটি ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের পরিবারকে ৬০০ কোটি টাকা ঘুষ দেয় বলে অভিযোগ। সেই টাকা রানা কাপুরেরই পারিবারিক সংস্থায় ঢোকে। অর্থাৎ এই অসৎ, কায়েমি স্বার্থে ঋণদানের প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে তিলে তিলে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার আসল কারণ। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক ফোঁপরা হল আর রানা কাপুর ঘুষের টাকায় ফুলেফেঁপে উঠলেন। ক্ষমতার অলিন্দে তাঁর ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ল, কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগাগোড়া চোখ বুঝে থাকল কীভাবে? কোনও উত্তর মেলে না। তাহলে এদেশে যাবতীয় আইন, কড়াকড়ি কি শুধু সাধারণের জন্য? ভারতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার এটাই সবচেয়ে করুণ চিত্র। যেকোনও ব্যবসাই চলে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর। সেই বিশ্বাসে ঘাটতি হলে কেউ আর কষ্টার্জিত টাকা সেই ব্যাঙ্কে রাখতে উৎসাহী হন না। যদি কোনও বেসরকারি ব্যাঙ্ককে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজের আখের গোছানোর জন্য ব্যবহার করেন, আমানতকারীদের অর্থ ঘুরপথে নয়ছয় করেন, তাহলে মাঝপথে ওই আর্থিক সংস্থার এরকম বিপর্যয় মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। ব্যাঙ্ক লাটে উঠলে ছিবড়ে করে ফেলে চলে যান সকলে। ইয়েস ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছে।
একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এই ব্যাঙ্কের মোট আমানতের চেয়ে ঋণের পরিমাণ বেশি। তাজ্জব ব্যাপার! মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেই ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ দিয়েছে ব্যাঙ্কটি! এরমধ্যে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, সুভাষচন্দ্রের এসেল গোষ্ঠীকে ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ডিএইচএফএল গোষ্ঠীকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সিবিআই এই মুহূর্তে তদন্ত করছে মূলত ডিএইচএফএলকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিরাট ঋণ দেওয়া নিয়েই। শুধু ওই কয়েকটি সংস্থাই নয়। আইএল অ্যান্ড এফএস নামক এক সংস্থাকেও দেওয়া হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। রুগ্ন হয়ে পড়া জেট এয়ারওয়েজকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কক্স অ্যান্ড কিং ও গো ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়েছে হাজার কোটি টাকা। এভাবেই ব্যাঙ্কের টাকার মনের সুখে হরির লুট করেছেন রানা কাপুর এবং তাঁর পরিবার। আজ যখন আর কোনও বিকল্প রাস্তা নেই, ব্যাঙ্কের গণেশ চিরতরে উল্টে যাওয়ার অবস্থায় তখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টনক নড়েছে। অথচ গত দু’বছর ধরেই ইয়েস ব্যাঙ্কে যে টানাটানি চলছে তা কারও অজানা নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও তা বিলক্ষণ জানত। কিন্তু সবাই ছিল নীরব দর্শক। যেখানে সামান্য কিছু টাকা ঋণ নিলেও মধ্যবিত্তকে হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি
হতে হয়, সেখানে এত হাজার কোটি টাকা ঋণের কথা দেশের সর্বোচ্চ ব্যাঙ্ক জানত না একথা মেনে
নেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন
ওঠে, এক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কোন অজ্ঞাত শক্তির চাপে ‘ মাস্টার মশাই আপনি কিছুই দেখেন নি’ নীতি অবলম্বন করেছে?
সবচেয়ে বড় কথা, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেল কীভাবে? তা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত হওয়া দরকার। কিছুদিন আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরই চাপে ব্যাঙ্কটির সিইও বদল হলেও পরিস্থিতি কিন্তু বদলায়নি। এমনকী, ব্যালান্সশিটে প্রায় এক বছর আগে বড় মাপের লোকসান ঘোষণা করার পরেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্কতা অবলম্বন করেনি। অথচ মজার ব্যাপার এই ব্যাঙ্কে একাধিক রাজ্য সরকার, সমবায়, বিভিন্ন মন্দির ট্রাস্টের শ’য়ে শ’য়ে কোটি টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা ছিল। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে
সম্প্রতি আংশিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই আশ্চর্যজনকভাবে তিরুপতি মন্দির ট্রাস্ট ১৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। গুজরাতের ভদোদরার
একটি সমবায়ও ২৬৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সতর্ক হওয়ার আগে। এর থেকেই বোঝা যায়
ভারতের শীর্ষ ব্যাঙ্ক যে একটা ব্যবস্থা নিতে চলেছে তা আগে থেকেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। নোট বাতিলের আগে যেমন বহু কর্পোরেট সংস্থা আগাম জানতে পেরে তাদের পুরনো নোট সরিয়ে ফেলেছিল। তেমনি ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকেও কিছু
বড় মাপের আমানতকারী জমানো
টাকা তুলে নিতে সমর্থ হয়েছে।
পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষেরও প্রায় ৫৪৫ কোটি টাকা গচ্ছিত আছে ইয়েস ব্যাঙ্কে।
কোনও ব্যাঙ্ক লাটে উঠলেই বিতর্ক থামাতে ও জনরোষ মোকাবিলায় সরকার ঘুরপথে টাকা ঢালে। এটাই নিয়ম। এভাবেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকার লুটপাট সামাল দিতে স্টেট ব্যাঙ্ক, এলআইসির মতো সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়। এ জিনিস মোটেই দেশের অর্থনীতির পক্ষে সুখকর নয়। এর আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের রুগ্ন স্বাস্থ্য মোকাবিলায় এলআইসিকে নামানো হয়েছিল। আর এবার শোনা যাচ্ছে, ইয়েস ব্যাঙ্কের লাটে ওঠা সামলাতে স্টেট ব্যাঙ্ককে দিয়ে ৪৯ শতাংশ শেয়ার কেনা হবে। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনের একটা রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে সেই স্টেট ব্যাঙ্ককে মধ্যিখানে রেখেই। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, যেসব অসাধু ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কটিকে ধনেপ্রাণে শেষ
করল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন সাধারণ গরিব মানুষের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা ঢালা হচ্ছে রুগ্ন ইয়েস ব্যাঙ্কের জন্য। এভাবে কী ব্যাঙ্কের টাকা মারা বন্ধ করা যাবে? যাবে না। উল্টে এতে বেসরকারি ব্যাঙ্ক লুটের ঘটনা আরও প্রশ্রয় পেতে বাধ্য। অন্যান্য বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির লাটে ওঠা রুখতে তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে হবে। কড়া হতে হবে। এই নজরদারিতে গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।
এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি গভীর সঙ্কটের
মধ্যে দিয়ে চলেছে। কোনও জিনিসের চাহিদা বাড়ছে না। জিডিপি কমছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তার
উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিকে এক নজিরবিহীন
মন্দার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। এই অবস্থায় যদি একের পর এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে
দেশের কিছু ধনকুবের অসাধু ব্যবসায়ী নোংরা খেলা খেলে তাহলে অর্থনীতির সর্বনাশ অনিবার্য। নোট বাতিলের পর ক্রমাগত সেই সর্বনাশের দিকেই মোদি সরকার আমাদের টেনে নিয়ে চলেছে।
15th  March, 2020
করোনাকালেও অব্যাহত পাকিস্তানের নষ্টামি
হারাধন চৌধুরী

 গত ১৬ মার্চ কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আইসিস তার সদস্য ও অনুগামীদের ইউরোপ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে বলেছিল—‘‘দি ল্যান্ড অফ দি এপিডেমিক!’’ লন্ডন থেকে তাদের ‘অ্যাডভাইজারি’ ছিল যে: বিশ্ব মহামারীর এই নতুন কেন্দ্রে তাদের কেউ যেন আপাতত পা না-রাখে এবং ইউরোপে অবস্থানকালে কেউ যদি ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রামিত হয়ে গিয়ে থাকে তবে সে/তারা যেন কোনওভাবেই সংগঠনে এসে ভিড়ে না-যায়।
বিশদ

ড্রেনের জল পরীক্ষা করেই গোষ্ঠী সংক্রমণের আগাম হদিশ মিলতে পারে
মৃন্ময় চন্দ

 নোভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সারা বিশ্ব প্রকম্পিত। রোগটির চালচলন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক মহলে মোটেই পরিচিত নয়। শুধু চীন কেন, আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ইরান—সর্বত্রই বয়স্কদের উপর বেশি আঘাত হানতে শুরু করেছিল এই মারণ ভাইরাস।
বিশদ

করোনার পরেও আছে এক অন্ধকার সময়
সন্দীপন বিশ্বাস

 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর ওই অবস্থা নিয়ে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন। ‘আমরা চাঁদা তুলে মারব কীট/... বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে সে কীসের বসন্ত!’
বিশদ

08th  April, 2020
জরুরি দ্রুত এবং ব্যাপক জনমুখী পদক্ষেপ
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

করোনা ভাইরাস ভারতীয় অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে একটা বড় ধাক্কা এবং কিছুটা সুযোগ দিয়ে গেল। এমনিতেই বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। আশা করা যাচ্ছিল এবার হয়তো সেটা ৫ শতাংশের কাছে পৌঁছবে।
বিশদ

08th  April, 2020
গ্যালারি শো কতদিন?
খাবার জুটবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ব্যবসার কাজে হংকং গিয়েছিলেন বেথ এমহফ। কাজ সেরে পার্টি... তারপর দেশে ফেরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো হয়ে যখন মিনিয়াপোলিস ফিরলেন, ততক্ষণে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, চার, ১৬, ২৫৬... বাড়তে শুরু করল সংখ্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর... মৃত্যু। এটাই ছিল চক্র। বিশদ

07th  April, 2020
যাও সুখের সন্ধানে যাও
অতনু বিশ্বাস

 সাম্প্রতিক ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গিয়েছিলেন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে। পূর্বনির্ধারিত ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’-এ যোগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুখের ক্লাস দেখতে। বিশদ

07th  April, 2020
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

06th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর পাঁচালের ঐতিহ্যবাহী গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের কারণে যে কোনওরকম জমায়েত বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। তা মেনে এবারের গাজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  ...

সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: লকডাউন ভেঙে বিনাকারণে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর অপরাধে কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিস গত তিনদিনে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরে সিংহভাগ মানুষই নিজেদের ঘরবন্দি করে ...

 রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন, ৮ এপ্রিল: প্রতিদ্বন্দ্বী রেবেক্কা লং-বেইলি এবং বাঙালি বংশোদ্ভূত লিসা নন্দীকে হারিয়ে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে ৫৬.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লকডাউনের জেরে অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি নাভিশ্বাস উঠেছে আবাসন শিল্পেও। প্রবল আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে তারা। এই অবস্থায় সুরাহা পেতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্থিক ত্রাণের আর্জি জানাল আবাসন নির্মাতাদের সংগঠন ক্রেডাই।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের পঠন পাঠনে আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তিদের যোগ। বিশেষত সরকারি বা আধা সরকারি ক্ষেত্রে যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৬: বাংলার নবাব হলেন সিরাজউদ্দৌলা
১৮৯৩: লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়নের জন্ম
১৮৯৮: গায়ক পল রবসনের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী ও রাজনীতিক জয়া বচ্চনের জন্ম
২০০৯: পরিচালক শক্তি সামন্তের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৯ টাকা ৭৭.০১ টাকা
পাউন্ড ৯২.০৮ টাকা ৯৫.৩৪ টাকা
ইউরো ৮১.১২ টাকা ৮৪.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৫ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, (চৈত্র কৃষ্ণপক্ষ) দ্বিতীয়া ৪৮/৪ রাত্রি ১২/৩৯। স্বাতী ৪৭/৩ রাত্রি ১২/১৫। সূ উ ৫/২৫/৩৫, অ ৫/৫০/৫৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৬ মধ্যে। বারবেলা ২/৪৬ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১/৫ মধ্যে।
২৬ চৈত্র ১৪২৬, ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, প্রতিপদ ১/৫৮/২৮ প্রাতঃ ৬/১৪/১৮ পরে দ্বিতীয়া ৫৬/২১/৪০ রাত্রি ৩/৫৯/৩৫। স্বাতী ৫৫/৯/৩৯ রাত্রি ৩/৩০/৪৭। সূ উ ৫/২৬/৫৫, অ ৫/৫১/৪৩। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৬ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৪/১৮/৩৭ গতে ৫/৫১/৪৩ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩৯/১৯ গতে ১/৬/১৩ মধ্যে।
১৫ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পরিবার থেকে দূরেই জন্মদিন কাটছে জয়ার
৭২-এ পড়লেন অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য জয়া বচ্চন। কিন্তু এই ...বিশদ

11:53:40 AM

 করোনা: মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত আরও ১৬২ জন
মহারাষ্ট্রে আজ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬২ জন। এর ফলে ...বিশদ

11:36:24 AM

করোনা: আহমেদাবাদে ৫০ জন সহ গুজরাতে নতুন করে আক্রান্ত ৫৫
গুজরাতে নতুন করে আরও ৫৫ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস। ...বিশদ

11:27:35 AM

করোনা: পাঞ্জাবের জলন্ধরে এক রোগীর মৃত্যু  

10:55:53 AM

৬৭০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

10:53:25 AM

আজ পুর চেয়ারম্যানদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স পুরমন্ত্রীর 
আজ রাজ্যে পুরসভাগুলির চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ...বিশদ

10:40:00 AM