Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে পুরভোট কার্যত সেমিফাইনাল
হিমাংশু সিংহ

আর কয়েকদিনের মধ্যেই পুরভোটের দামামা বাজতে চলেছে। আর ভোট এলেই প্রতিবার এই বঙ্গে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধূমকেতুর মতো এর বাড়িতে হানা দেয়, ওকে ডেকে জেরা করে। সবমিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ। জনসমক্ষে সম্মানহানি হয় বিস্তর। দীর্ঘ জেরার পর জেলেও পোড়া হয় কখনও সখনও। কিন্তু ভোট মিটলেই দেখা যায় আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সব চুপচাপ। সময় যায়, তদন্তের ফাইলে ধুলো জমে। মামলা দুর্বল হয়। মানুষের স্মৃতিতেও গোটা ঘটনাটা ক্রমে ফিকে হয়ে আসে। আর তখনই এই বাড়াবাড়ির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
২০১৩ সালের পয়লা বৈশাখের কথা মনে আছে? সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে সেদিন উত্তাল হয়েছিল বাংলা। মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিল কয়েক লক্ষ বিনিয়োগকারীর। তার কয়েকদিনের মধ্যেই কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সারদাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। তারপর কত ভোট গিয়েছে। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। সারদা পেরিয়ে তদন্তকারীদের নজর পড়েছে রোজভ্যালি সহ আরও নানা চিটফান্ডের উপর। কত জেরা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি। আতঙ্কে মারা গিয়েছেন দুই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সুলতান আহমেদ ও তাপস পাল। কিন্তু আজ ওই ঘটনার পর প্রায় সাত বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে, প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি। গরিব আমানতকারীরা তাঁদের টাকাও ফিরে পাননি। তাহলে এসবই কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ?—প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই ক্ষোভ মোটেই উড়িয়ে দেওয়ার নয়। দোষ করলে নিশ্চয়ই শাস্তি প্রাপ্য। তবে আইনকে আইনের পথে চলতে দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক কারণে আইনকে ব্যবহার করা উচিত নয়। এভাবে যে রাজনৈতিক জমি দখল সম্ভব নয়, বাংলার মানুষ তার মুখের মতো জবাব দিয়েছেন সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে। আগামী পুরভোট থেকে শুরু করে পরের বছরের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তার কোনও অন্যথা হবে বলে মনে হয় না।
সরকারি ঘোষণা না হলেও জানা গিয়েছে, কলকাতা ও হাওড়ায় ভোট হবে আগামী ১২ এপ্রিল। আর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বাকি ১০০টি পুরসভায় নির্বাচন ২৬ এপ্রিল। নিঃসন্দেহে আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই শতাধিক পুরসভার ভোট শাসক ও বিরোধীদের কাছে সেমিফাইনাল। আগামী মার্চের মাঝামাঝি পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গে এরাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করবে, যা ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছবে এপ্রিলে। তবে তার আঁচ থাকবে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে উত্তরবঙ্গে ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে বিজেপি যেভাবে তৃণমূলের ভোটে থাবা বসিয়েছিল, সেই ট্রেন্ডই বহাল রয়েছে নাকি তৃণমূল তার হারানো জমি গত একবছরে পুনরুদ্ধার করে ফেলেছে, তারই অগ্নিপরীক্ষা আসন্ন এই ভোট। ইতিমধ্যেই, মাস কয়েক আগে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তৃণমূল তিনটি আসনের সবক’টিতেই জয়ী হয়ে বিজেপি এবং সিপিএম-কংগ্রেস জোটকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এনআরসি, মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান আর্থিক সঙ্কট ও তার মোকাবিলায় মোদি সরকারের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই আসন্ন শতাধিক পুরসভার ভোটে তৃণমূলেরই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
তবে ফল যাই হোক, শাসক বা বিরোধী যার ভাগ্যের শিকেই ছিঁড়ুক না কেন সাধারণ মানুষের একটাই প্রার্থনা, ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয়। সবাই যেন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। বিরোধীরা যেন নির্ভয়ে মনোনয়ন পেশ ও প্রচার করতে পারে। ক্ষণিকের উত্তেজনায় রক্তপাত, প্রাণহানির মতো দুর্ভাগ্যজনক কোনও ঘটনা যেন না ঘটে। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে ১০২টি পুরসভার মধ্যে অন্তত ৯৫ থেকে ৯৭টি পুরসভা তৃণমূলের দখলে যাওয়া নিশ্চিত। এই হিসেবের কিছু কমবেশি হলেও, তেমন তুল্যমূল্য প্রতিরোধ বিরোধীরা গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে হয় না। কলকাতা ও হাওড়ায় ১২ এপ্রিলের ভোটে তৃণমূলের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে কোনও সংশয়ই নেই। শাসক দলের জয় নিয়ে কোনও সংশয় না থাকলেও, যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে তা হল—দু’বছর আগের পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো হাঙ্গামা হবে না তো! গণতন্ত্রে শান্তি বজায় রাখা শাসক ও বিরোধী উভয়েরই অবশ্যকর্তব্য। একইসঙ্গে বিরোধীদের প্রচার ও মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়াও প্রশাসনের দায়িত্ব। আজ ক্ষমতা হারিয়ে যে বামপন্থীরা প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলছেন, তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিই, ২০০৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল পশ্চিমবঙ্গের এ যাবৎকালের অন্যতম রক্তাক্ত গ্রামীণ ভোট। শুধু মুর্শিদাবাদেই সেবার ৪৫ থেকে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৭৬ জনের। বিরোধী দলের অনেকেই মনোনয়ন পর্যন্ত পেশ করতে পারেননি। কিংবা বলা ভালো, পেশ করতেই দেওয়া হয়নি। চারদিকে তখন ভয় আর আতঙ্কের পরিবেশ। সেই রক্তাক্ত পঞ্চায়েত ভোট যাঁরা পরিচালনা করেছিলেন, সেই বামপন্থীরাই আজ তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলেন কোন স্পর্ধায়? ২০০৩ সালে সরকারি হিসেবই বলছে, ১১ শতাংশ পঞ্চায়েত আসনে বামপন্থীরা সেবার কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয় হাসিল করেছিল। ১৯৭৭ এর নির্বাচনে সিদ্ধার্থশঙ্করবাবুরাও একতরফা ভোট লুট করিয়েছিলেন। তাহলে এই রাজনীতির পথপ্রদর্শক কারা? এসবই প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বামফ্রন্টের আমল থেকেই শাসক দল বরাবর বিরোধীদের উপর দমন-পীড়নের নীতি প্রয়োগ করে আসছে। এটা মোটেই নতুন কিছু নয়। যেমন, ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভিজ্ঞতাও এরাজ্যের পক্ষে মোটেই সুখকর ছিল না। ওই নির্বাচনও বহু মানুষের প্রাণ নিয়েছিল। ৩৪ শতাংশ আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। সেখানে জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
কিন্তু, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মাত্র এক বছর পরেই বিধানসভার ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পরপর তিনবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের সুবর্ণ সুযোগ। এই অবস্থায় শাসক তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের উচিত সংযত থাকা। সেইসঙ্গে গণ্ডগোল, রক্তপাত এড়ানোর সবরকম চেষ্টা করা। তাহলেই এরাজ্যের মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দ্বিধায় আরও একবার দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন। কোনও মানুষই গণ্ডগোল, রক্তপাত হানাহানি এসব চান না। শাসকদলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকদের অহেতুক বাড়াবাড়ি ছাড়তে হবে। রাজ্যের উন্নয়নের প্রশ্নে এবং নতুন করে বিনিয়োগ টানতে শান্তি ও সুস্থিতির প্রয়োজন সর্বাগ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য নেতৃত্ব গত প্রায় এক দশক ধরে সেই রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। রাজ্য প্রশাসনকে আরও মানবিক ও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন তাঁর সেই সুযোগ্য নেতৃত্বের উপর ভিত্তি করে আরও এগিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত। রাজ্যের গড় জিডিপি দেশের উৎপাদন হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সম্প্রতি বাজেট বক্তৃতাতেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। রাজ্যের মানুষও এই সরকারের কাজকর্মে আগাগোড়া আস্থাবান। বিশেষ করে সারা দেশে রাজ্যস্তরে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের দলের পিছু-হটা যখন শুরু হয়ে গিয়েছে তখন পশ্চিমবঙ্গই বা বিকল্প পথে হাঁটবে কেন?
নানা কারণে বিজেপি সর্বভারতীয় স্তরে একের পর এক রাজ্যে জনপ্রিয়তা হারালেও, কংগ্রেস কিন্তু সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। গত একবছরে একের পর এক রাজ্য গেরুয়া দলের হাতছাড়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা, দিল্লিতে আপ, বিহারে নীতীশের জেডিইউয়ের মতো আঞ্চলিক দলগুলি আরও বেশি করে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করছে। সেই ফাঁকেই কংগ্রেস ও বামপন্থীরা ভারতীয় রাজনীতিতে ক্রমে যেন অবান্তর হয়ে যাচ্ছে! সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে সিপিএম যে তিনটি আসনে লড়েছিল, সবেতেই জামানত জব্দ হয়েছে। কংগ্রেস মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে, শীলা দীক্ষিতের নেতৃত্বে এই দিল্লিতেই কংগ্রেস কিন্তু টানা ১৫ বছর শাসন করেছে। আর আজ তাদেরই দিল্লিতে কোনও গ্রহণযোগ্য নেতা নেই। কংগ্রেসি ভোটব্যাঙ্কেও সফল সিঁদ কেটেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল নামক এক ধূমকেতু! আবার পশ্চিমবঙ্গেও টানা ৩৪ বছর বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খাওয়ানো সিপিএম আজ স্রেফ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইটাই লড়ছে। জেলায় জেলায় সংগঠন বলতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই সম্মিলিত বামেদের। তরুণ প্রজন্মও আর সেভাবে বাম রাজনীতির মোহে ছুটে আসছে না। রাজনীতির এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় শিক্ষা। এক কূল ভাঙে আর এক কূল গড়ে। যখন কাউকে দেয় সেটা ছপ্পড় ফাড়কে, কিন্তু যখন ফকির করে তখন তার মতো নির্দয় আর কিছুই হয় না। ইতিহাস বারবার এই শিক্ষা দিলেও শাসকের টনক নড়ে না। দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, ক্ষমতার বাড়াবাড়ি রকম ব্যবহার সব চলতে থাকে অবলীলায়। আজ যেমনটা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে। খুন, জখম, রাহাজানি, ধর্ষণ সবই যেন যোগীরাজ্যের সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে। দিল্লির ভোটেও গেরুয়া দলের এই ‘গোলি মারো শালো কো’ সংস্কৃতির নগ্ন ব্যবহার দেখেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ গত লোকসভার ভোটে এই মানুষগুলিই বিজেপিকে ‘সাতে সাত’ দিয়েছিল!
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নিচুতলার পার্টিকর্মীদের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ রুখতে ঠিক সময়ে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু করে মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন। আজ, ভোটপণ্ডিত প্রশান্ত কিশোরের লোকজন প্রতিটি জেলায় ও শহরে তৃণমূলের ছোট বড় নেতাদের সম্পর্কে যেভাবে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন, তাতে সব ধরনের দুর্নীতি কমেছে বলেই খবর পাচ্ছি। আগামী বছর ভোটে জিতে বাংলার অগ্নিকন্যা ফের মুখ্যমন্ত্রী হলে এক উন্নততর তৃণমূলকে আমরা পাব বলে আশা করা যায়। অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার আমাদের দেখা হয়নি। সৎ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কিছু ভুলের কারণে বামফ্রন্টের সলিল সমাধি হয়েছে বলা যায়। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভুল করেননি। কোর ভোটব্যাঙ্কটাকে তিনি যেমন আঘাত করেননি, তেমনি উন্নয়নে গতিসঞ্চার এবং দলের দুর্নীতি মোকাবিলার প্রশ্নেও তিনি কোনওরকম আপস করতে নারাজ। আর সেইজন্যই আসন্ন পুরভোটে বিরোধীদের যেমন বিশেষ সম্ভাবনা দেখছি না, তেমনি নবান্নে তৃতীয়বারের জন্যে মমতার সরকার আসাটাও শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে হচ্ছে।
 
23rd  February, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস।  বিশদ

20th  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
একনজরে
  তেল আভিব, ২৮ মার্চ (পিটিআই): বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ৩১৪ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ জানাল ইজরায়েল। ...

বিএনএ, মেদিনীপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শালবনীর সিমেন্ট কারখানায় আটকে থাকা ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের এক মাসের রেশনের ব্যবস্থা করা হল। লকডাউনের জেরে সিমেন্ট কারখানার সেকেন্ড ইউনিটে ভিনরাজ্যের সাড়ে চারশো শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন।  ...

  শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনের জেরে রাজ্যে বন্ধ বাস ও ট্রেন পরিষেবা। অফিসে আসতে পারছেন না সিআইডি, আইবি এবং পুলিস ডিরেক্টরেটের সিংহভাগ কর্মীই। তাই তাঁদের ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি: বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাতে বাধা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হতে চলেছে ভাইরাল রিসার্চ সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ভিআরডিএল ল্যাব। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লোহা ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫৭: বারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে শুরু হল সিপাহী বিদ্রোহ
১৯২৯: অভিনেতা উৎপল দত্তের জন্ম
১৯৮২: তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠা





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৫৯ টাকা ৭৫.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬০ টাকা ৯২.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৮৪ টাকা ৮৩.৮৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
28th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) পঞ্চমী ৫১/৫ রাত্রি ২/২। কৃত্তিকা ২৪/১৪ দিবা ৩/১৮। সূ উ ৫/৩৫/৫২, অ ৫/৪৭/৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ গতে ৯/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১০/১০ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৯ গতে ২/৩৮ মধ্যে।
১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, পঞ্চমী ৪১/৩৯/১২ রাত্রি ১০/১৭/২৪। কৃত্তিকা ১৬/৫০/৮ দিবা ১২/২১/৪৬। সূ উ ৫/৩৭/৪৩, অ ৫/৪৭/২২। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৬ গতে ৭/২২ মধ্যে ও ১২/১ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪২/৩২ গতে ১/১৩/৪৫ মধ্যে।
 ৪ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তেহট্টে আক্রান্তরা যেখানে ছিলেন সেখানে জীবানুমুক্ত করার কাজ শুরু

03:19:07 PM

করোনা: তেহট্টের ঘটনায় খোঁজ মিলল রেল সহযাত্রীর
আজ বর্ধমানের চক্রবিরাজপুরের এক মহিলা এলাকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ফোন করে ...বিশদ

03:17:00 PM

আগামীকাল থেকে ব্যাঙ্কে স্বাভাবিক পরিষেবা, জানাল অর্থমন্ত্রক 

03:09:55 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে আক্রান্ত আরও ৪জন 

02:50:01 PM

তেলেঙ্গানায় আইপিএস অফিসারেরা একদিনের মাইনে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে  

02:48:00 PM

অস্ট্রেলিয়ায় শেষ কয়েক ঘণ্টায় আক্রান্ত বাড়ল ৩৩৪ জন
অস্ট্রেলিয়ায় শেষ কয়েক ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল আরও ৩৩৪ জন। ...বিশদ

02:12:03 PM