Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিশ্বাসের অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

বিগত তিন বছর ধরে ভারতের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি তথা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে নয়। দেশের আটটি সরকারি এবং আটটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি হল সরকারি ব্যাঙ্কে যে টাকা জমা রয়েছে তার সিংহভাগই আগে থেকে জমা হয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট। নতুন করে ফিক্সড ডিপোজিট করার প্রবণতা কমছে। বরং জমা টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে, বেসরকারি ব্যাঙ্কে নতুন করে ফিক্সড ডিপোজিটের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের সাধারণ বুদ্ধিতে কী বলে? ভারতের আমজনতার মনোভাব অনুযায়ী সচরাচর কী হওয়া উচিত? সরকারি সংস্থা, সরকারি ব্যাঙ্ক, সরকারি চাকরি, সরকারি জীবনবিমা, সরকারি দপ্তরের দেওয়া সার্টিফিকেট ইত্যাদি মানুষের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য। যেমন আজও পাত্রপাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে সরকারি চাকুরে পাত্রপাত্রীর অগ্রাধিকার এবং বিবাহের সেক্টরে স্ট্যাটাসও বেশি। কারণ কিন্তু বেতনকাঠামো নয়, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। অর্থাৎ বেসরকারি চাকরিতে বিপুল বেতন হলেও কবে যে সেই চাকরি থাকবে, আর কবেই বা আর থাকবে না, সেটা নিয়ে আজও একটা শঙ্কা কাজ করে আমাদের মধ্যবিত্ত মননে। তাই সরকারি চাকরিতে পেনশন উঠে গেলেও সরকারি চাকরিই এখনও প্রধান মোক্ষ কর্মপ্রার্থীদের সিংহভাগ অংশের কাছে। ঠিক সেভাবেই সরকারি ব্যাঙ্কে নিজের কষ্টার্জিত টাকা জমা থাকলে, যতই দিন দিন সুদ কমে যাক না কেন আমাদের বিশ্বাস টাকাটা সুরক্ষিত আছে এবং থাকবে। তাই আজকের এই মিউচুয়াল ফাণ্ডের যুগেও বহু মানুষ সরকারি ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা পোস্ট অফিসের কোনও স্মল সেভিংস স্কিমে টাকা রেখে নিশ্চিন্ত হন।
ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে যে রিপোর্টটি পাওয়া গেল, সেটির অভিঘাত সুদূরপ্রসারী। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্টের নাম ‘রিপোর্ট অন ট্রেণ্ড অ্যাণ্ড প্রোগ্রেস অফ ব্যাঙ্কিং ইন ইন্ডিয়া’। সেখানে স্বীকার করা হয়েছে, ভারতের মানুষ সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে নিজেদের টাকা জমা রাখা অথবা ইনভেস্ট করার প্রবণতা বেসরকারি ব্যাঙ্কের দিকে শিফট করে নিচ্ছে। আপাতভাবে এই বিশ্লেষণ দেখে মনে হবে এতে এমন আর কী ক্ষতি হচ্ছে? মানুষ যেখানে সুবিধা বেশি পাবে, সেখানেই যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা নয়। বরং এই মনোভাব ভারতের মতো দেশে চরম উদ্বেগজনক। কারণ মানুষের এই আচরণের সঙ্গে একটি চিন্তাজনক বার্তা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, শাসক দল, রাষ্ট্রের কাছে। সেটি হল মানুষ আর সরকারি ব্যবস্থাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ‘আমার টাকা সরকারি ব্যাঙ্কে আর নিরাপদ নয়’, এরকম মনোভাব কি তৈরি হচ্ছে? যদি হয়, তা হলে সেটা মারাত্মক এক নেতিবাচক ইঙ্গিত। বস্তুত মোদি সরকারের কাছে বৃহত্তর উদ্বেগের জায়গা ক্রমেই কিন্তু এটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে দ্বিতীয় মোদি সরকারের সরকারি সিস্টেমের প্রতি মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। ব্যাঙ্কের রিপোর্ট তারই একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ। এবার আর একটি উদাহরণ দেওয়া যাক।
অসমের বক্সা জেলার তামুলপুর গ্রামের জাবেদা বেগম মহাসঙ্কটে পড়েছেন। জমির রাজস্ব রশিদ, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবই, ১৯৬৬ সাল থেকে বাবা-মায়ের ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণপত্র, গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের প্রদান করা ম্যারেজ সার্টিফিকেট ইত্যাদি মোট ১৫টি সরকারি নথি মেনে নিতে রাজি হয়নি গুয়াহাটি হাইকোর্ট ও প্রশাসন। ওই নথিগুলির একটিও জাবেদা বেগমের নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র নয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে। জানিয়েছে হাইকোর্টও। এখন একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট ভরসা। কেন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলেন তিনি? কারণ যে বাবা-মায়ের ভোটার তালিকার প্রমাণপত্র তিনি দাখিল করেছেন, তাঁরা যে তাঁরই বাবা মা এটা প্রমাণ করতে পারছেন না তিনি। যে ভাইয়ের সব কাগজপত্র নাগরিকত্ব প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, তিনি যে সত্যিই জাবেদার ভাই এটাও প্রমাণ করা যাচ্ছে না। এই মহাসঙ্কটে ৫০ বছরের নিরক্ষর জাবেদা বেগম গুয়াহাটি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে এসে দিশাহারা হয়ে ঘুরছেন। এই ঘটনাটি অস্বাভাবিক নয়। বলা যেতেই পারে অসমে এনআরসি চালু হয়েছে। সেখানে তো প্রমাণ করতেই হবে নিজেকে। মহামান্য আদালত প্রমাণ না পেলে কেন নাগরিকত্ব প্রদান করার কথা বলবে? একদম ঠিক। কিন্তু প্রশ্নটা আমাদেরও চরম বিপদে ফেলছে। কারণ আমাদের কাছে কী প্রমাণ আছে যে আমরা ভারতের নাগরিক? স্বয়ং সরকারই বলছে, এনআরসি করা দরকার যাতে নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তাহলে এখন আমরা কী করব? সরকার বলেছে, এখন আমাদের কাছে থাকা কোনও কার্ডই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। অর্থাৎ সেটা মেনে নিলে আজ আমাদের মতো বৈধ নাগরিকের যে স্ট্যাটাস, একজন অনুপ্রবেশকারীরও একই স্ট্যাটাস রাষ্ট্রের চোখে।
বহুবছর আগে বলা হল, ভোটার কার্ড ছাড়া ভোটদান হবে না। ওটাই আমাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ জানলাম সেদিন। আমি যদি ভারতের নাগরিক হই, তাহলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হবে। তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জন্য ভোটার কার্ড দিলেই হয়ে যেত। দিন কেটে গেল। আবার একদিন প্রশ্ন শুরু হল, আপনি ভারতের নাগরিক? আয় করেন ভারতে? তাহলে প্যান কার্ড করান। আমরা নিশ্চিন্ত হলাম। হঠাৎ দিকে দিকে বার্তা রটে গেল, আধার নামক একটি কার্ড করতে হবে। ওটাই ভারতের নাগরিকত্বের সবথেকে মোক্ষম প্রমাণপত্র। কারণ ব্যাপারটা ডিজিটাল। বায়োমেট্রিক শব্দটা শুনে আমাদের সমীহ হল। আমরা আমেরিকা হয়ে যাচ্ছি এরকম একটা আলোচনাও চলল। আধার নিয়ে মারাত্মক বাড়াবাড়িও শুরু হল পূর্বতন ইউপিএ সরকারের সময়, যা এখনও মোদি সরকারের আমলে হচ্ছে। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে বহু গরিব মানুষ রেশন না পেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটান এখনও। কারণ তাঁদের রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযোগ হয়নি। অন্যদিকেও রেহাই নেই। পি এফের সঙ্গে আধার সংযোগ করান, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগ করান, মোবাইলের সঙ্গে আধার সংযোগ করান। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম আধার একটা সাংঘাতিক মূল্যবান নথি।
ঠিক এরকম একটি সময়ে এনআরসি হুংকার। বলা হল আরও একটি মজার কথা। ভোটার, প্যান, আধার, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিছুই নাগরিকত্ব প্রমাণ নয়। এনআরসি যদি করা যায়, তা হলে ওটাই একমাত্র আসল প্রমাণপত্র। এবার একটা ধাঁধা বলা যাক। ধরা যাক, এনআরসি হচ্ছে। আমাকে বলা হল, আপনার কাছে কী কী প্রমাণপত্র আছে? সব দাখিল করুন কিংবা আপলোড করুন। আমি দেখালাম পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ড। সব ঠিক থাকলে রাষ্ট্র আমাকে বলল, হ্যাঁ, ঠিক আছে। আপনার নাম এনআরসিতে থাকছে। আপনি নাগরিক। কিন্তু আশ্চর্য কথাটি হল, যেসব কার্ডকে এখন বলা হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রই নয়, সেইগুলি দেখাতে হবে প্রমাণ হিসেবে। অর্থাৎ তখন সেগুলি নাগরিকেত্বর প্রমাণ! দেখা঩লেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে? এটা কেমন ধাঁধা? তাহলে তো সেগুলিই নাগরিকত্বের প্রমাণ? একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে সরকারকে? এই যে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন কার্ড দেওয়ার প্রকল্প, এই কার্ডের সঙ্গে সেই কার্ডের সংযোগ করার প্রকল্প, নতুন নতুন বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা, এসবের জন্য যে সফটওয়্যার বা ডেটা প্রসেসিং কোম্পানিগুলিকে কনট্রাক্ট দেওয়া হয়, যেসব মেটিরিয়ালস আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে, এসব তো একটা বিপুল বাণিজ্য! সব দলের আমলেই হয়েছে। হয়ে চলেছে। কোটি কোটি টাকার লেনদেন। এসব কারা পায়? এই চুক্তি, এই টেণ্ডার, এই কোম্পানি বাছাই করা, এই উপকরণ আমদানি—এই তথ্যগুলি আমজনতার জানা দরকার।
সিংহভাগ মানুষ কেন এনআরসি নিয়ে বিরূপ? কারণ এটাই। সরকারকে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না যে, এরা ঠিক কী চাইছে? অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদিদের কাছে বৃহত্তর উদ্বেগের বার্তা হল, মানুষ আর তাঁদের বলা কথায় বিশ্বাস করছে না। কেন? এই যে একের পর এক রাজ্যে বিজেপি পরাজিত হচ্ছে, এর অর্থ মোটেই এটা নয় যে, বিরোধীরা খুব ভালো, তাই মানুষ তাদের সমর্থন করছে। ভালো করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া হয়েছে। জয়ীকে জেতানো হবে বলে ভোট দেওয়া হয়েছে এমন নয়। বিজেপিকে হারাতে চেয়েছে মানুষ। কে জিতছে সেটা ভাবা হয়নি। কেন এই প্রবণতা? এটাই প্রকৃত সঙ্কট নরেন্দ্র মোদিদের কাছে। দিল্লিতে গোটা সরকার, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এত কিছু বললেন কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে, প্রচুর প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু মানুষ একটা কথাও বিশ্বাস করল না কেন?
সরকারি ব্যাঙ্ককে মানুষ বিশ্বাস করছে না। সরকারি সিস্টেমকে বিশ্বাস করছে না। সরকারি সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখছে। শাসক দলের নেতা ও মন্ত্রীদের উপর ভরসা করতে পারছে না। সভায় যাচ্ছে, জয়ধ্বনি দিচ্ছে, কিন্তু ফিরে এসে ভোট দিচ্ছে বিরোধীদের, এই আস্থাহীনতা একটা সংক্রমণের মতো। আগামীদিনে অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। যে কোনও ইস্যুতে সমালোচক কিংবা বিরোধীদের দেশদ্রোহী আখ্যা না দিয়ে ওই সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক দিকটা নিয়ে ভাবুক বিজেপি। কারণ বিরোধীরা মুখে বলছে বটে যে বিজেপি এরকম বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করুক, আসলে কিন্তু বিরোধীরা এখন বেশি করে চাইবে বিজেপি যেমন আচরণ করছে এরকমই করতে থাকুক। তাহলেই রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীদের লাভ বেশি হচ্ছে। তাই বিজেপির অতি আগ্রাসী নেতামন্ত্রীরা বদলে গিয়ে প্রচারের স্ট্র্যাটেজি বদলে দিলেই বরং বিরোধীদের ক্ষতি। এটা সবার আগে বুঝতে হবে বিজেপি ও মোদি সরকারকেই। সন্দেহ হয়,এই ‘কাশ্মীর-পাকিস্তান-নেহরু-সংখ্যালঘু তোষণ-গান্ধী ফ্যামিলি-রামমন্দির-হিন্দুসঙ্কট’ এই চেনা ফরম্যাটের বাইরে অন্য ফর্মুলা বিজেপি নেতামন্ত্রীরা জানেন তো? নাকি আর কোনও বিকল্প প্ল্যান জানা নেই বলেই একই কপি-পেস্ট টাইপের প্রচারের ফরম্যাট চলছে সর্বত্র? দেশের ৬৫ শতাংশ ভোটার ৩৫ বছরের নীচে। অবিলম্বে বিজেপির উচিত রণকৌশলের সফটওয়্যার আপডেট করা!
21st  February, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস।  বিশদ

20th  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
একনজরে
বিএনএ, শিলিগুড়ি: বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাতে বাধা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হতে চলেছে ভাইরাল রিসার্চ সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ভিআরডিএল ল্যাব। ...

  শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনের জেরে রাজ্যে বন্ধ বাস ও ট্রেন পরিষেবা। অফিসে আসতে পারছেন না সিআইডি, আইবি এবং পুলিস ডিরেক্টরেটের সিংহভাগ কর্মীই। তাই তাঁদের ...

বিএনএ, মেদিনীপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শালবনীর সিমেন্ট কারখানায় আটকে থাকা ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের এক মাসের রেশনের ব্যবস্থা করা হল। লকডাউনের জেরে সিমেন্ট কারখানার সেকেন্ড ইউনিটে ভিনরাজ্যের সাড়ে চারশো শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন।  ...

  তেল আভিব, ২৮ মার্চ (পিটিআই): বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ৩১৪ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ জানাল ইজরায়েল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লোহা ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫৭: বারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে শুরু হল সিপাহী বিদ্রোহ
১৯২৯: অভিনেতা উৎপল দত্তের জন্ম
১৯৮২: তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠা





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৫৯ টাকা ৭৫.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬০ টাকা ৯২.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৮৪ টাকা ৮৩.৮৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
28th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) পঞ্চমী ৫১/৫ রাত্রি ২/২। কৃত্তিকা ২৪/১৪ দিবা ৩/১৮। সূ উ ৫/৩৫/৫২, অ ৫/৪৭/৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ গতে ৯/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১০/১০ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৯ গতে ২/৩৮ মধ্যে।
১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, পঞ্চমী ৪১/৩৯/১২ রাত্রি ১০/১৭/২৪। কৃত্তিকা ১৬/৫০/৮ দিবা ১২/২১/৪৬। সূ উ ৫/৩৭/৪৩, অ ৫/৪৭/২২। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৬ গতে ৭/২২ মধ্যে ও ১২/১ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪২/৩২ গতে ১/১৩/৪৫ মধ্যে।
 ৪ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অস্ট্রেলিয়ায় শেষ কয়েক ঘণ্টায় আক্রান্ত বাড়ল ৩৩৪ জন
অস্ট্রেলিয়ায় শেষ কয়েক ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল আরও ৩৩৪ জন। ...বিশদ

02:12:03 PM

করোনা: শেষ কয়েক ঘণ্টায় রাশিয়ায় আক্রান্ত আরও ২৭০
শেষ কয়েক ঘম্টায় রাশিয়ায় আক্রান্ত আরও ২৭০জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ ...বিশদ

02:06:32 PM

মুম্বইয়ে করোনায় মৃত আরও ১
মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক রোগীর মৃত্যু হল। মৃতার ...বিশদ

02:00:43 PM

কালনায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী 

01:55:00 PM

করোনা: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে শুরু নমুনা পরীক্ষা 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়ে গেল করোনার নমুনা পরীক্ষা। ...বিশদ

01:54:53 PM

স্ট্যান্ড রোডে খাবার বিতরণ করলেন জওয়ানরা
 

লকডাউন চলাকালীন আজ স্ট্যান্ড রোডে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে রান্না করা ...বিশদ

01:54:00 PM