Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? মুখহীন লড়াই তো কাণ্ডারীহীন তরণী, সেনাপতিহীন সেনা! ২০১৯ লোকসভায় সেটা তো প্রমাণিত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বেশ কিছু আঞ্চলিক দল যখন দেশের শাসক-বিরোধী মঞ্চ গড়ে যুদ্ধে নামার প্রস্তুতিতে ঐক্যবদ্ধ, মমতাকে জোটনেত্রী ও প্রধান মুখ হিসেবে দেশ-জনতার দরবারে তুলে ধরার পরিকল্পনা যখন প্রায় চূড়ান্ত, ঠিক তখনই কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছিল, আগে জয় আসুক, তারপর দেখা যাবে। তখন সকলে মিলে বসে প্রধানমন্ত্রী মুখ ঠিক হবে। স্বয়ং রাহুল গান্ধীই দিয়েছিলেন এই নিদান। আর সেই নিদানে মুখহীন বিরোধী ব্রিগেড সেনাপতিহীন দিশেহারা বাহিনীর মতো মোদি-শাহ জুটির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। তিনশোর বেশি আসন তুলে নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে তাঁর বাহিনী প্রায় গোটা দেশটাকেই গেরুয়ায় রঞ্জিত করে দিয়েছিলেন।
অথচ, তার ঠিক আগেই একাদিক্রমে ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মতো দেশের তিন-তিনটি রাজ্যে এই পদ্মবাহিনীকেই হারের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এবং, ভোটফল প্রকাশের পর দলের শীর্ষমহলের আক্ষেপে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছিল যথাযোগ্য ‘মুখ’-এর অভাবের কথা। ঠিকঠাক মুখ প্রজেক্ট না-করে মোদিজি শাহজির ভরসায় লড়তে গিয়েই বিপর্যয়—এমন কথাও উঠেছিল। ২০১৯ লোকসভায় বিপুল জয়ের পরও ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, এমনকী মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনের অনেকেই ভোটের লড়াইতে দলীয় ‘মুখ’-এর গুরুত্ব স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। তাঁদের একাংশের বক্তব্য ছিল, দেশ-জনতার কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এখনও অপরিহার্য হলেও রাজ্য-ভোটে অর্থাৎ বিধানসভার লড়াইতে যেখানে আঞ্চলিক দল ও সমস্যার মোকাবিলা করতে হয় সেখানে তিনি ও তাঁর সংস্কারক ভাবমূর্তি প্রশ্নাতীতভাবে অবিসংবাদী নন। সেখানে সংশ্লিষ্ট নেতানেত্রী ও তাঁদের জনমনোরঞ্জক আঞ্চলিক ভাবমূর্তি তাই বহু ক্ষেত্রেই টেক্কা দিয়েছে মোদিজির জাতীয় আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে। নোটবন্দি, কালো টাকা উদ্ধার থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ, তিন তালাক রদ, পুলওয়ামার বদলা ইত্যাদি সংস্কার ও শক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের পর তাঁর প্রতি দেশ-জনতার আস্থা-বিশ্বাসের যে দৃঢ় ভিত তৈরি হয়েছিল তার মূলেও একটা ক্ষুদ্র প্রশ্নচিহ্ন বিঁধে দিয়েছে। দেশজুড়ে এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআর তৈরির প্রয়াস যে সাম্প্রতিকে সেই প্রশ্নচিহ্নকে আরও কিছুটা বল জুগিয়েছে তাতেই-বা সন্দেহ কী?
কারণ, কোনওরকম বিতর্কে না-গিয়েও বলা যায়, আজ বিরোধী শিবির প্রবল প্রচারে এবং সক্রিয় বিরোধিতায় সাধারণ দেশবাসীর একাংশের মনে (বিশেষত মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে) একটি ভীতি অন্তত ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন যে মোদিজির ওই কার্যক্রমগুলো কার্যকর হলে দেশভাগের সমতুল হবে, মানবতার উপরে ঠাঁই পাবে ধর্ম! সাধারণ দেশবাসী, গরিবগুর্বো তো আর আইন পড়ে বিচার বিশ্লেষণ করে কোনও ধারণা গ্রহণ বর্জন করেন না, করেন প্রচারের গুরুত্ব ও ব্যাপ্তির নিরিখে। এই শ্রেণীতে ব্যতিক্রম হয়তো আছে, কিন্তু তার পরিমাণ পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়নের অনুকূল বা ক্ষমতাসম্পন্ন—এমন বলা যাবে কি? সুতরাং, এনআরসি ইত্যাদি নিয়ে এখন বলা বাহুল্য। রীতিমতো বেকায়দায় গেরুয়া বাহিনী ও তার শীর্ষ সঞ্চালকবৃন্দ। দিল্লি ভোটের একপেশে ফলে (আপ ৬২ এবং বিজেপি ০৮) তার আভাসও কি নেই? শাহিনবাগ থেকে পার্ক সার্কাস, বেলগাছিয়া। চলছে অবস্থান বিক্ষোভ। জারি রয়েছে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-যুব থেকে পদ্ম-বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদের লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি। সব মিলিয়ে উত্তাল দেশ। এর ভিতরে গেরুয়া দলের পাল্টা প্রতিবাদ, যুক্তিজাল কোথায়? মাঝেমধ্যে দিল্লি থেকে কখনও প্রধানমন্ত্রী মোদিজি, কখনও তাঁর সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অমিত শাহ জোর গলায় ঘোষণা ছুঁড়ছেন—হবে। নাগরিকপঞ্জি কী সিএএ রূপায়ণ—এসব থেকে সরে আসার প্রশ্নই নেই। দেশের দশের উন্নয়ন ও প্রগতির স্বার্থেই ওসব হবে! ব্যস, ওইটুকুই। রাজ্যে রাজ্যে তার প্রতিধ্বনি কোথায়, কতটুকু? পশ্চিমবঙ্গও কি তার ব্যতিক্রম?
এ তো গেল একদিক। অন্যদিকে দিল্লি বিধানসভার ভোটফল আরও কয়েটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও কি তুলে দেয়নি? প্রথমত, ধর্ম না কাজ, মানুষের সার্বিক উন্নয়ন না তাঁদের মধ্যে ধর্মীয় গুরু-লঘু বিভাজন—রাজ্য-ভোটে রাজ্যের মানুষের কাছে কোনটার অগ্রাধিকার? দ্বিতীয়ত, কুকথায় পঞ্চমুখ নেতানেত্রী না সুভদ্র যুক্তিবাদী বাস্তববাদী মানবতাবাদী ও কর্মনিষ্ঠ (ভিতরে যা-ই হোন, অন্তত জনসমক্ষে তেমনই ভাবমূর্তির রচয়িতা) লিডার—কাকে চান সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আম বাসিন্দা? রাজনীতি সর্বব্যাপ্ত—দলীয় রাজনীতিতে বিভক্ত জনতা, তাতেও সন্দেহ নেই। কিন্তু, আজকের দিনে, এই মিডিয়া-প্রকোপিত, মিডিয়া-মগ্ন সময়ে জ্ঞানভাণ্ডারের বিপুল আদান-প্রদানের যুগে যখন সক্কলে সব জানেন, মনে হয়, সেটাই শেষ কথা নয়। তারপরেও ‘চয়েস’ নির্ভর করে আরও কিছু ফ্যাক্টরের উপর। যেমন রাজনীতির শীর্ষলোকের কর্তাব্যক্তিদের ব্যক্তিত্ব, তাঁদের বাণী ও বচনের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্য, উন্নয়ন-উন্নতির সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির বাহুল্য, তা নিয়ে আগের সঙ্গে চলতির তুলনামূলক ভাবনা ইত্যাদির মতো হাজারো বিষয় সেখানে। এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই তৈরি হতে থাকে কোনও বিশেষ নেতানেত্রীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি।
ফলে, এই প্রক্রিয়ায় অনিবার্যভাবেই জুড়ে থাকে সেই ভাবমূর্তির ব্যক্তিমুখ। আর জনতার যাবতীয় আশা-প্রত্যাশা ভোটকালে আবর্তিত হতে থাকে সেই মুখটিকে কেন্দ্র করে, নির্বাচনী মহারণের রাজনৈতিক রোমাঞ্চের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ওঠে সেই মুখ, হয়ে ওঠে জনতার অভাব-অভিযোগ জানানোর কমপ্লেন-বক্স, আশা-প্রত্যাশা বিশ্বাসের বিগ্রহ। পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা তারই উজ্জ্বল সব উদাহরণ। শুধু তাই নয়, আপন কর্মকুশলতায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যবাসীর মনে তাঁদের স্থান আজ এতটাই দৃঢ় যে, সেখান থেকে তাঁদের স্থানচ্যুত করা প্রায় অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষত, মুখহীন বা দুর্বলমুখ বিরোধী দল হলে সেই অসম্ভাব্যতা আরও প্রকট হয়ে পড়ছে।
সেজন্যই কিছুদিন হল বাংলার বিজেপি দলের অন্দরে দাবি উঠেছে—মুখ চাই মুখ। ২০২১ সালে জবরদস্ত লড়াইয়ের জন্য একটি কালিমাহীন শিক্ষিত সজ্জন মুখ চাই পদ্মশিবিরে সেনাপতি পদে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রিত্বের উপযুক্ত দাবিদার হিসেবে। সেইমতো দিল্লিতে পৌঁছেছে বাংলার আবেদনও। তাতে সাড়া দিয়ে নাকি দলের রাজ্য সভার সংসদ সদস্য স্বপন দাশগুপ্তকে ‘মুখ’ করে যুদ্ধে নামার বার্তা পাঠিয়েছেন দিল্লির সাংগঠনিক কর্তারা। দিল্লিতে মনোজ তিওয়ারিকে দিয়ে ব্যর্থতাই এসেছে। কেজরিওয়াল ও তাঁর সুশিক্ষিত সুবক্তা দলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেননি তিনি। বাংলায় সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইছেন না অমিত শাহ থেকে বিজেপি নেতৃত্বের কেউই। অমিতজি তো স্বয়ং স্বীকার করেছেন, কুকথা পরনিন্দায় ক্ষতিই হয়েছে। কারণ, উল্টো দিক থেকে পাল্টা কুকথা উড়ে আসেনি কখনওই। বুদ্ধিটা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হোক কিংবা দলটা নিজ সিদ্ধান্তে কেবল গণপরিষেবা ও উন্নয়নের খতিয়ান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পেশ করে গেছে। ফল মিলেছে হাতেনাতে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথেই হাঁটছেন। সভা-সমিতিতে সিএএ-এনআরসি-এনপিআরের বিরোধিতায় দু-চারটে কটুবাক্য বললেও অধিকাংশ জুড়েই থাকছে তাঁর বিপুল উন্নয়নের কথা, সংযত শান্ত ভাষণে।
একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী, তায় তাঁর আস্থাময় অক্লান্ত উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তি—এমন দুই কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা যে কেবল দলীয়ভাবে সম্ভব নয়, সেটা বিজেপির একাংশ বুঝেছেন। এবং, সেইমতো স্বপন দাশগুপ্তকে খাড়া করতে চাইছেন তাঁরা ‘মুখ’ হিসেবে। কিন্তু, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাফ জানাচ্ছেন, কোনও মুখ লাগবে না। দলীয় রীতিপ্রথা অনুসারে যাবতীয় মোকাবিলা দলই করবে। তারপর ‘মুখ’-এর প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, একপক্ষ চাইছেন দুর্নীতি সন্ত্রাসের সঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণকে সামনে রেখে লড়তে। অন্যপক্ষের বক্তব্য, চলতি সরকারের ব্যর্থতা ও ‘অপশাসন’ হোক হাতিয়ার! আবার কেউ বলছেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে ২০২১ বিধানসভার আসরে নামতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটের আগে (পুরভোট এসে গেল। এপ্রিলে) নীতি-নির্ধারণে এই মতপার্থক্যের কারণই মুখের অভাব। সেই মুখ যা দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মিলেমিশে আপন ব্যক্তিত্ববলে কার্যকরী একটা রণকৌশল তৈরি করবেন এবং সেইমতো প্রাণপণ লড়াইতে প্রাণিত করবেন দলীয় নেতা-কর্মীদের। কিন্তু, তা না-হয়ে বিভাজনের আবহ তৈরি হয়ে যাচ্ছে বিজেপির মতো রেজিমেন্টেড পার্টিতেও!
অন্যদিকে, মমতার সঙ্গে লড়াইতে কেবল শিক্ষিত সজ্জন রাজনীতিক হলেই কি চলবে? মমতার ওই বিপুল জনপ্রীতি, তাকে টেক্কা দিতে হবে না? তার জন্য বঙ্গ বিজেপির সেই মুখকে জনপ্রীতিতেও তো যথেষ্ট দড় হতে হবে—তাই না? সবচেয়ে বড় মুশকিলটা বোধহয় সেখানেই। দিলীপ ঘোষ বছর চারেকের পরিক্রমায় এখন চেনা মুখ। কিন্তু, স্বপন দাশগুপ্ত কি পারবেন? মাঝে তো মাত্র বছরখানেক। বলতে কী, ২০২১ বিধানসভার লক্ষ্যপূরণের পথে আপাতত বঙ্গ বিজেপির চিন্তা সেখানেই। কারণ, আস্থার মুখটিকে ভালোমতো বুঝে নিতে না-পারলে অন্তত এই বাংলায় মানুষ মজেন না—এমনই বলেন মহাজনেরা, বলেছে দিল্লি। অতএব, সাধু সাবধান।  
20th  February, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস।  বিশদ

20th  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
একনজরে
  তেল আভিব, ২৮ মার্চ (পিটিআই): বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ৩১৪ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ জানাল ইজরায়েল। ...

  শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনের জেরে রাজ্যে বন্ধ বাস ও ট্রেন পরিষেবা। অফিসে আসতে পারছেন না সিআইডি, আইবি এবং পুলিস ডিরেক্টরেটের সিংহভাগ কর্মীই। তাই তাঁদের ...

নয়াদিল্লি, ২৮ মার্চ: করোনার ভয়াবহ আবহে হাজার খারাপের মধ্যেও অন্তত একটা ইতিবাচক দিক খুঁজে পেলেন রবি শাস্ত্রী। এই মারণ ভাইরাসকে রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষিত হওয়ার ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি: বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাতে বাধা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হতে চলেছে ভাইরাল রিসার্চ সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ভিআরডিএল ল্যাব। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লোহা ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫৭: বারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে শুরু হল সিপাহী বিদ্রোহ
১৯২৯: অভিনেতা উৎপল দত্তের জন্ম
১৯৮২: তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠা





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৫৯ টাকা ৭৫.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬০ টাকা ৯২.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৮৪ টাকা ৮৩.৮৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
28th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) পঞ্চমী ৫১/৫ রাত্রি ২/২। কৃত্তিকা ২৪/১৪ দিবা ৩/১৮। সূ উ ৫/৩৫/৫২, অ ৫/৪৭/৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ গতে ৯/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১০/১০ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৯ গতে ২/৩৮ মধ্যে।
১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, পঞ্চমী ৪১/৩৯/১২ রাত্রি ১০/১৭/২৪। কৃত্তিকা ১৬/৫০/৮ দিবা ১২/২১/৪৬। সূ উ ৫/৩৭/৪৩, অ ৫/৪৭/২২। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৬ গতে ৭/২২ মধ্যে ও ১২/১ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪২/৩২ গতে ১/১৩/৪৫ মধ্যে।
 ৪ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনা: শেষ কয়েক ঘণ্টায় রাশিয়ায় আক্রান্ত আরও ২৭০
শেষ কয়েক ঘম্টায় রাশিয়ায় আক্রান্ত আরও ২৭০জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ ...বিশদ

02:02:38 PM

মুম্বইয়ে করোনায় মৃত আরও ১
মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক রোগীর মৃত্যু হল। মৃতার ...বিশদ

02:00:43 PM

কালনায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী 

01:55:00 PM

করোনা: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে শুরু নমুনা পরীক্ষা 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়ে গেল করোনার নমুনা পরীক্ষা। ...বিশদ

01:54:53 PM

স্ট্যান্ড রোডে খাবার বিতরণ করলেন জওয়ানরা
 

লকডাউন চলাকালীন আজ স্ট্যান্ড রোডে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে রান্না করা ...বিশদ

01:54:00 PM

জলপাইগুড়িতে সাধারণদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ 

12:56:00 PM