Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা। সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৩ সালের ১১-২৭ সেপ্টেম্বর। যদিও নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট স্বামীজির জানা ছিল না। তাই তিনি অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। শিকাগো মহানগরে প্রথম পা রাখেন ১৮৯৩ সালের ৩০ জুলাই। তারপর বিরাট এক ইতিহাস গড়ে তিনি দেশে ফেরেন ১৮৯৭ সালে। ধর্ম মহাসভার নির্ঘণ্ট তাঁর অজানা থাকার কারণ, তিনি শিকাগো পৌঁছেছিলেন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই। শুধু তাই নয়, হিন্দুধর্মের কোনও প্রতিনিধিও ভারত পাঠাবার প্রয়োজন মনে করেনি। শিকাগোয় গিয়ে স্বামীজি জানতে পারলেন যে উপযুক্ত পরিচয়পত্র এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার ছাড়া মহাসভার মঞ্চে ওঠার কোনও সুযোগ নেই। ‘ভগবানের আদেশ’-এ এবং ভক্তদের কথায় সরল মনে তিনি চলে এসেছেন বটে, এরপর ভয়ঙ্কর কঠিন মাটিতে পা রেখে ভাবছেন, এত কষ্ট স্বপ্ন সব জলে চলে যাবে যে! তিনি এসেছিলেন মূলত মাদ্রাজের ভক্তদের তরফে সংগৃহীত সামান্য কিছু অর্থ হাতে নিয়ে। বিরূপ এই পরিস্থিতির মধ্যে সেই সম্বলটুকুও দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। কারণ, আমেরিকায় সবকিছুরই দাম অস্বাভাবিক বেশি আর রয়েছে ঠগ-বাটপাড়দের ফাঁদ। কিছুদিন পর মাদ্রাজের এক ভক্তকে লেখা চিঠি থেকে আমরা জানতে পারি, আমেরিকায় পৌঁছনোর আগে স্বামীজি যেসব ‘সোনার স্বপ্ন’ দেখেছিলেন সেগুলি একে একে ভেঙে যাচ্ছে। ক্রমশ ‘অসম্ভবের সঙ্গে যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ছেন। তবু তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন এই ভেবে যে, ‘‘আমি একগুঁয়ে দানা, আর ভগবানের আদেশ পেয়েছি। আমি কোনও পথ দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু তাঁর চোখ তো সব দেখছে। মরি বাঁচি, উদ্দেশ্য ছাড়ছি না।’’
শিকাগোর তুলনায় বস্টনে জীবনধারণ কিছুটা সস্তা। স্বামীজি বস্টনে গেলেন। ট্রেনে বস্টন যাওয়ার পথে তাঁর আলাপ হয় ক্যাথেরিন এবট স্যানবর্ন ওরফে কেট নামে প্রভাবশালী প্রৌঢ়ার সঙ্গে। বস্টনে থাকার বন্দোবস্ত তিনিই করে দেন। বাগ্মী ও লেখিকা হিসেবে বিশেষ প্রতিপত্তিও ছিল তাঁর। কেটের মাধ্যমেই শিক্ষিত গণ্যমান্য শ্রেণীর মধ্যে সহজ প্রবেশাধিকার মেলে স্বামীজির। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে প্রফেসর রাইটের। তাঁরই বদান্যতায় ধর্মমহাসভায় স্বামীজির জন্য প্রতিনিধির আসনটি নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে, এই পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁকে কত যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ হয়তো কোনোদিনই পাওয়া যাবে না। যেটুকু জানা যায়, সেটুকুই ভয়ঙ্কর! ‘বিবেকানন্দ’ নামটাই পশ্চিমাদের জিভে ঠিকমতো উচ্চারিত হতো না। ফলে, তিনি একাধিক বিকৃত নামের অধিকারী হলেন। তাঁর অদ্ভুত পোশাক ও পরিচয় নিয়েও নানা মজা হতো। খবরের কাগজেও তাঁর মুখে মনগড়া বিবৃতি বসানো হয়েছে। হজম করেছেন রাস্তার ফালতুদেরও বিদ্রুপ।
ধৈর্য ও সাহসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেখা গেল, আমেরিকার সমাজ তাঁকেই ‘ভবিষ্যদ্‌দ্রষ্টা ঋষি’ হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁকে দেখার জন্য, তাঁর মুখের কথা শোনার জন্য বড় বড় জায়গা থেকে আমন্ত্রণ আসতে লাগল। উল্লেখ্য, শিকাগো ছেড়ে বস্টনে যাওয়ার পর স্বামীজি ধর্ম মহাসভায় যোগদানের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। প্রফেসর রাইট অনেক বুঝিয়েই তাঁকে ফের শিকাগোয় পাঠান। পরিচয়পত্র না-থাকার অস্বস্তি কাটাতে রাইট স্বামীজিকে যে-কথা বলেছিলেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—‘‘আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া আর সূর্যকে তার কিরণ-বিকিরণের কী অধিকার আছে জিজ্ঞাসা করা তো একই কথা!’’ তবুও রাইট নিজ দায়িত্বে চিঠি লিখলেন মহাসভার প্রতিনিধি নির্বাচক কমিটির সেক্রেটারিকে—‘‘ইনি এমন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি যে আমাদের সকল অধ্যাপককে একত্র করলেও তাঁর জ্ঞানের সমকক্ষ হবেন না।’’ স্বামীজির শিকাগো যাওয়ার ট্রেনের টিকিটটাও প্রফেসর কিনে দিলেন এবং মহাসভার পক্ষ থেকে বাসস্থানের বন্দোবস্ত করতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সমীপে একটি চিঠিও লিখলেন। কিন্তু, শিকাগো পৌঁছেও স্বামীজি এক নিদারুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান। তখনই আলাপ হয় সহৃদয় জর্জ ডব্লু হেল পরিবারের সঙ্গে। মহাসভার মঞ্চে প্রতিনিধির আসন পেতে স্বামীজিকে চূড়ান্ত সাহায্যটি করেন তাঁরাই। জে বি লায়নের পরিবারে থাকারও বন্দোবস্ত হয়। কিন্তু, সমস্যা দেখা দেয় সেই বাড়িতে আশ্রিত কিছু বর্ণবিদ্বেষীকে নিয়ে। স্বামীজির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই মিস্টার লায়ন এতটাই মুগ্ধ হন যে, এই কথা জানার পর তাঁর স্ত্রী এমিলিকে সাফ বলেন, ‘‘সব অতিথি চলে গেলেও আমার এতটুকু দুঃখ নেই। আমাদের ঘরে এ যাবৎ যতজন এসেছেন তাঁদের মধ্যে এই ভারতীয় মানুষটিই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত এবং আমাদের মন কেড়ে নিয়েছেন। ইনি যতদিন খুশি এখানে থাকবেন।’’
স্বামীজি ক্রমশ উৎসাহ ফিরে পেতে লাগলেন। তাঁর কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে, স্বয়ং ভগবানই তাঁকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। ধর্মমহাসভা নতুন কিছু নয়। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকবার অনেক দেশে হয়েছে। কিন্তু, একটিমাত্র মহামঞ্চ থেকে সব ধর্মের প্রতিনিধি মুক্তকণ্ঠে নিজ নিজ মত ব্যক্ত করবেন এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। কারণ, যুগটা ভীষণভাবে পরমত অসহিষ্ণুতার। তাই মহাসভাটি স্বামীজির কাছে দৈবনির্দিষ্ট ও অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হয়েছিল। শিকাগোর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় গুরুভাই স্বামী তুরীয়ানন্দকে স্বামীজি বলেছিলেন, ‘‘ধর্মমহাসভাটা আমারই জন্য হচ্ছে। আমার মন তাই বলছে। শিগগিরই এর প্রমাণ পাবে।’’ দ্রুত প্রমাণ পেয়েছিল সারা পৃথিবী। ১১ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০ তারিখ মহামঞ্চে উপস্থিত হয়েই সমবেত দর্শকমণ্ডলীকে তিনি ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতাগণ’ বলে সম্বোধন করলেন। পশ্চিমি মানুষ এমন আন্তরিক সম্বোধন কস্মিনকালেও শোনেনি। এই ছোট্ট সম্বোধনই তাঁদের হৃদয়জয়ের সূচনা করল। মহাসভাস্থল করতালিতে ফেটে পড়ল। সেই অভিনন্দন যে থামতেই চায় না! বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ করার পর তিনি সনাতন হিন্দু ধর্ম দর্শন এবং উদার ভারতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন। স্বামীজি তাঁর ভাষণের গোড়ার দিকে একটি অত্যন্ত দামি কথা বললেন, যা আজ অধিকতর প্রাসঙ্গিক—‘‘যে-ধর্ম জগৎকে চিরকাল সমদর্শন ও সর্ববিধ মত-গ্রহণের বিষয় শিক্ষা দিয়ে আসছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা যে কেবল অন্য ধর্মাবলম্বীর মত সহ্য করি, তা-ই নয়—সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলে বিশ্বাস করি। যে-ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভাষায় ইংরেজি ‘এক্সক্লুশান’ (হেয় বা পরিত্যাজ্য) শব্দটি কোনোমতে অনুবাদ করা যায় না, আমি সেই ধর্মভুক্ত।’’
দেশের পথে পা বাড়ানোর মুহূর্তে এক ইংরেজ বন্ধু স্বামীজির কাছে প্রশ্ন রাখেন—‘‘বিলাসের লীলাভূমি, গৌরবের মুকুটধারী মহাশক্তিধর পাশ্চাত্যে চার বছর ভ্রমণের পর মাতৃভূমি আপনার কেমন লাগবে?’’ স্বামীজি হাসি মুখে জবাব দিয়েছিলেন—‘‘পাশ্চাত্যে আসার আগে ভারতকে ভালোবাসতাম। এখন তো আমার কাছে ভারতের ধূলিকণা পর্যন্ত পবিত্র, ভারতের বায়ু পবিত্রতামাখা, ভারতভূমি তীর্থস্বরূপ।’’
আমেরিকা, ইউরোপ, সিংহল ঘুরে স্বামীজি ১৮৯৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে ভারতের মাটিতে প্রথম পা রাখেন মাদ্রাজে, পাম্পান দ্বীপে। খবর পেয়ে রামনাদ-রাজ তাঁর জন্য রাজকীয় অভ্যর্থনারই ব্যবস্থা করেছিলেন। মাদ্রাজের পর তাঁর গন্তব্য নির্দিষ্ট হয় কলকাতা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘মোসাম্বা’ জাহাজে চড়ে বসলেন। সহযাত্রী স্বামী শিবানন্দ, স্বামী নিরঞ্জনানন্দ, ক্যাপ্টেন সেভিয়ার, মিসেস সেভিয়ার, গুডউইন ও আনন্দ চার্লু। গন্তব্য ছিল সম্ভবত খিদিরপুর। চারদিন পর, ১৮ ফেব্রুয়ারি জাহাজ যখন গন্তব্যের কাছাকাছি এল, তখন প্রায় সন্ধ্যা। নেভিগেশনের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানেই নোঙর করা হয়। সপার্ষদ স্বামীজির রাত কাটল জাহাজেই। পরদিন, অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি মাটিতে পা রাখেন। বজবজে। স্বামীজি বজবজ স্টেশনের ওয়েটিং রুমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করেন। কাঠ ও বেতের তৈরি যে চেয়ারে বসেছিলেন সেটি উদ্ধার করে রেলের হেরিটেজ গ্যালারিতে রাখা হয়েছে। স্বামীজির পদার্পণের পুণ্যস্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৮৬-তে বজবজ স্টেশনের ওয়েটিং রুমের দেওয়ালে একটি প্রস্তরফলকও বসানো হয়েছে।
স্পেশাল ট্রেনে তাঁকে তোলা হয় আনুমানিক সকাল সাড়ে ৬টায়। ঘণ্টাখানেক বাদে তাঁরা শিয়ালদহে পৌঁছন। কলকাতায় তাঁকে বিপুল অভ্যর্থনা করা হয়। অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ছিলেন দ্বারভাঙার মহারাজ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বামীজি মাদ্রাজে পৌঁছতেই কলকাতায় অভ্যর্থনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিয়ালদহে বিশ হাজার মানুষের সমাগম হয়। সুগন্ধী ফুল মালায় তাঁর ঢাকা পড়ার অবস্থা। উপস্থিত গুরুভাইদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়েরও সুযোগ নেই। আবেগবিহ্বল ভক্তদের ভিড় ঠেলে কোনোরকমে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ির দিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেভিয়ার দম্পতির সঙ্গে স্বামীজি গাড়িতে বসতেই একদল ছাত্র ঘোড়া দুটিকে মুক্তি দিয়ে নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে গেল। সঙ্গে চলল ব্যান্ডপার্টি ও কীর্তনের দল। জায়গায় জায়গায় সুন্দর তোরণ সেজে উঠেছিল। শহরের রাস্তাগুলিতেও উপচে-পড়া ভিড়। এইভাবে স্বামীজি বাগবাজার, বরানগর ছুঁয়ে পৌঁছে গেলেন আলমবাজার মঠে। মঙ্গলকলসসহ তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন মঠের সাধুরা। পরদিন কাগজে কাগজে বর্ণনা ছাপা হল। কলম্বো এবং মাদ্রাজেও তাঁকে অভ্যর্থনার খবর বাংলার মানুষ জেনেছিল সংবাদপত্র থেকে। আমেরিকা এবং ইউরোপে পাওয়া অভিনন্দনপত্রগুলিরও ছবি ছাপা হতো। স্বামীজির বিশেষ ট্রেন শিয়ালদহে আসামাত্র সমস্বরে জয়ধ্বনি ওঠে—‘‘জয় পরমহংস রামকৃষ্ণদেব কী জয়, জয় স্বামী বিবেকানন্দ কী জয়।’’ সারা বাংলা ভীষণ উজ্জীবিত হল।
কলকাতায় এই জন-অভ্যর্থনা প্রসঙ্গে স্বামীজি বলেছিলেন—‘‘আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে আমায় নিয়ে একটু হইচই হয়। কী জানিস, একটা হইচই না-হলে তাঁর (ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ) নামে লোক চেতবে কী করে? এত সংবর্ধনা কি আমার জন্য করা হল? না। তাঁর নামেরই জয়জয়কার হল। তাঁর বিষয় জানবার জন্য লোকের মনে কতটা ইচ্ছা হল। এইবার একটু একটু করে তাঁকে জানবে। তবে না, দেশের মঙ্গল হবে। যিনি দেশের মঙ্গলের জন্য এসেছেন, তাঁকে না-জানলে লোকের মঙ্গল কী করে হবে?’’
19th  February, 2020
কুকথায় পঞ্চমুখ, কণ্ঠভরা বিষ ...
সন্দীপন বিশ্বাস

আচ্ছা, দুধ থেকে কি করোনা ভাইরাসের আশঙ্কা থাকে?
আচমকা শিবের প্রশ্নে একটু থতমত খেয়ে যান পার্বতী। একটু থেমে বলেন, এমন কথা বলছো কেন?  বিশদ

মোদি সরকারের সবকিছুই জাতীয় স্বার্থে আর তার তালিকাটিও শেষ হওয়ার নয়
পি চিদম্বরম

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বারাণসীতে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু করার প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্তগুলি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা এই সিদ্ধান্তগুলির পক্ষে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’’ 
বিশদ

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে পুরভোট কার্যত সেমিফাইনাল
হিমাংশু সিংহ

মাত্র এক বছর পরেই বিধানসভার ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পরপর তিনবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের সুবর্ণ সুযোগ। এই অবস্থায় শাসক তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের উচিত সংযত থাকা। সেইসঙ্গে গণ্ডগোল, রক্তপাত এড়ানোর সবরকম চেষ্টা করা। তাহলেই এরাজ্যের মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দ্বিধায় আরও একবার দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন।
বিশদ

23rd  February, 2020
প্রার্থী নির্বাচনে সাহসী হলে পুরভোটে লাভ পাবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস
তন্ময় মল্লিক

নির্বাচন মানেই পরীক্ষা। রাজনৈতিক দলের পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা পুরসভা বা পঞ্চায়েতের হলে বিষয়বস্তু হয় উন্নয়ন, পরিষেবা ও সমস্যা। কিন্তু, এই ধরনের পরীক্ষায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মুখ। আর এবার পুরভোটে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা। তার জন্য তৃণমূল সহ রাজ্যবাসী তাকিয়ে আছে টিম পিকের দিকে।  
বিশদ

22nd  February, 2020
বিশ্বাসের অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিগত তিন বছর ধরে ভারতের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি তথা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে নয়। দেশের আটটি সরকারি এবং আটটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি হল সরকারি ব্যাঙ্কে যে টাকা জমা রয়েছে তার সিংহভাগই আগে থেকে জমা হয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট।
বিশদ

21st  February, 2020
মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? 
বিশদ

20th  February, 2020
ট্রাম্পের ভারত সফর এবং প্রাপ্তিযোগের অঙ্ক 

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সফর মাত্র দু’ঘণ্টার। আর তাতে আয়োজন পাহাড়প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! তাই এতটুকু ফাঁক রাখতে নারাজ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (বা বেসরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)।  বিশদ

18th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

17th  February, 2020
স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

17th  February, 2020
এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

 ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। বিশদ

15th  February, 2020
মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। 
বিশদ

14th  February, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি ও গোয়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি: ফের দুর্ঘটনায় পড়ল মিগ যুদ্ধবিমান। গোয়ায় রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভেঙে পড়ল ভারতীয় নৌসেনার একটি মিগ-২৯ কে বিমান। তবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের চালক নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে। সেক্ষেত্রে ছোট শিল্পকে আরও বেশি করে উৎসাহ দিতে রাজ্য সরকার যদি সামরিক বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সংক্রান্ত একটি নীতি আনে, তাহলে রাজ্য উপকৃত হবে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নিয়ে বিশেষ অভিযানে নামছে কলকাতা পুরসভা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মঙ্গলবার থেকেই বরোভিত্তিক ক্যাম্প করে শহরের গরিব, দুঃস্থ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হবে।  ...

নয়াদিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়ার জেরে ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমতে পারে ২৫ শতাংশ। একাধিক সূত্র মারফৎ এ খবর জানা গিয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় আড়াই ডলার কমতে পারে গ্যাসের দাম। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসায় বাড়তি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সাফল্য নাও দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি। শ্বাসকষ্ট ও বক্ষপীড়ায় শারীরিক ক্লেশ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৮ তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার জন্মদিন
১৯৫২ - ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। কয়েক দিন পরেই এটি পুলিস ধ্বংস করে দেয়।
১৯৫৫ – অ্যাপল সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের জন্ম
১৯৫৯ কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভির জন্মদিন
১৯৬৩ চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির জন্মদিন
১৯৭২ অভিনেত্রী পূজা ভাটের জন্মদিন
১৯৮২ - আর্জেন্টাইন ফুটবলার ইমানুয়েল ভিলার জন্ম
১৯৮৩ দাবারু সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন
১৯৯৩ - ইংরেজ ফুটবলার ববি মুরের মৃত্যু
১৯৯৮ অভিনেত্রী ললিতা পাওয়ারের মৃত্যুদিন
২০১১ কমিক্স বইয়ের জনক অনন্ত পাইয়ের মৃত্যুদিন
২০১৮-দুবাইয়ের হোটেলে মৃত্যু অভিনেত্রী শ্রীদেবীর



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৪ টাকা ৭২.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.৩০ টাকা
ইউরো ৭৬.০৫ টাকা ৭৯.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  February, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৩,১৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৫৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  February, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার, (ফাল্গুন শুক্লপক্ষ) প্রতিপদ ৪২/৫২ রাত্রি ১১/১৫। শতভিষা ২৫/৩৫ অপঃ ৪/২১। সূ উ ৬/৬/৩৯, অ ৫/৩৩/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ মধ্যে পুনঃ১০/৪২ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/২৩ গতে ৮/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১১/২৫ গতে ২/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/৩২ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ২/৪২ গতে ৪/৭ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৫০ মধ্যে। 
১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার, প্রতিপদ ৩৯/১১/১ রাত্রি ৯/৫০/৮। শতভিষা ২৩/১০/৫০ দিবা ৩/২৬/৪। সূ উ ৬/৯/৪৪, অ ৫/৩২/৩২। অমৃতযোগ দিবা ৭/২৬ মধ্যে ও ১০/৩৫ গতে ১২/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৮ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১১/২১ গতে ২/৩৬ মধ্যে। কালবেলা ৭/৩৫/৫ গতে ৯/০/২৬ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৬/২৯ গতে ১১/৫১/৮ মধ্যে। 
 ২৯ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তাজমহলে পৌঁছলেন সস্ত্রীক ডোনাল্ড ট্রাম্প 

05:10:56 PM

সিএএ নিয়ে বিক্ষোভের জেরে রণক্ষেত্র দিল্লির জাফরাবাদ, গোলাগুলিতে নিহত এক পুলিস কর্মী 

04:43:21 PM

আগ্রার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পৌঁছলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 

04:29:00 PM

আমেদাবাদ থেকে আগ্রার উদ্দেশে রওনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

03:32:00 PM

৮২৪ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:29:18 PM

মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ পরীক্ষার্থী, ভর্তি হাসপাতালে
মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে জলপাইগুড়ির বেলাকোবা গার্লস হাইস্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ল ...বিশদ

03:19:58 PM