Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা। সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৩ সালের ১১-২৭ সেপ্টেম্বর। যদিও নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট স্বামীজির জানা ছিল না। তাই তিনি অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। শিকাগো মহানগরে প্রথম পা রাখেন ১৮৯৩ সালের ৩০ জুলাই। তারপর বিরাট এক ইতিহাস গড়ে তিনি দেশে ফেরেন ১৮৯৭ সালে। ধর্ম মহাসভার নির্ঘণ্ট তাঁর অজানা থাকার কারণ, তিনি শিকাগো পৌঁছেছিলেন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই। শুধু তাই নয়, হিন্দুধর্মের কোনও প্রতিনিধিও ভারত পাঠাবার প্রয়োজন মনে করেনি। শিকাগোয় গিয়ে স্বামীজি জানতে পারলেন যে উপযুক্ত পরিচয়পত্র এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার ছাড়া মহাসভার মঞ্চে ওঠার কোনও সুযোগ নেই। ‘ভগবানের আদেশ’-এ এবং ভক্তদের কথায় সরল মনে তিনি চলে এসেছেন বটে, এরপর ভয়ঙ্কর কঠিন মাটিতে পা রেখে ভাবছেন, এত কষ্ট স্বপ্ন সব জলে চলে যাবে যে! তিনি এসেছিলেন মূলত মাদ্রাজের ভক্তদের তরফে সংগৃহীত সামান্য কিছু অর্থ হাতে নিয়ে। বিরূপ এই পরিস্থিতির মধ্যে সেই সম্বলটুকুও দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। কারণ, আমেরিকায় সবকিছুরই দাম অস্বাভাবিক বেশি আর রয়েছে ঠগ-বাটপাড়দের ফাঁদ। কিছুদিন পর মাদ্রাজের এক ভক্তকে লেখা চিঠি থেকে আমরা জানতে পারি, আমেরিকায় পৌঁছনোর আগে স্বামীজি যেসব ‘সোনার স্বপ্ন’ দেখেছিলেন সেগুলি একে একে ভেঙে যাচ্ছে। ক্রমশ ‘অসম্ভবের সঙ্গে যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ছেন। তবু তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন এই ভেবে যে, ‘‘আমি একগুঁয়ে দানা, আর ভগবানের আদেশ পেয়েছি। আমি কোনও পথ দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু তাঁর চোখ তো সব দেখছে। মরি বাঁচি, উদ্দেশ্য ছাড়ছি না।’’
শিকাগোর তুলনায় বস্টনে জীবনধারণ কিছুটা সস্তা। স্বামীজি বস্টনে গেলেন। ট্রেনে বস্টন যাওয়ার পথে তাঁর আলাপ হয় ক্যাথেরিন এবট স্যানবর্ন ওরফে কেট নামে প্রভাবশালী প্রৌঢ়ার সঙ্গে। বস্টনে থাকার বন্দোবস্ত তিনিই করে দেন। বাগ্মী ও লেখিকা হিসেবে বিশেষ প্রতিপত্তিও ছিল তাঁর। কেটের মাধ্যমেই শিক্ষিত গণ্যমান্য শ্রেণীর মধ্যে সহজ প্রবেশাধিকার মেলে স্বামীজির। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে প্রফেসর রাইটের। তাঁরই বদান্যতায় ধর্মমহাসভায় স্বামীজির জন্য প্রতিনিধির আসনটি নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে, এই পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁকে কত যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ হয়তো কোনোদিনই পাওয়া যাবে না। যেটুকু জানা যায়, সেটুকুই ভয়ঙ্কর! ‘বিবেকানন্দ’ নামটাই পশ্চিমাদের জিভে ঠিকমতো উচ্চারিত হতো না। ফলে, তিনি একাধিক বিকৃত নামের অধিকারী হলেন। তাঁর অদ্ভুত পোশাক ও পরিচয় নিয়েও নানা মজা হতো। খবরের কাগজেও তাঁর মুখে মনগড়া বিবৃতি বসানো হয়েছে। হজম করেছেন রাস্তার ফালতুদেরও বিদ্রুপ।
ধৈর্য ও সাহসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেখা গেল, আমেরিকার সমাজ তাঁকেই ‘ভবিষ্যদ্‌দ্রষ্টা ঋষি’ হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁকে দেখার জন্য, তাঁর মুখের কথা শোনার জন্য বড় বড় জায়গা থেকে আমন্ত্রণ আসতে লাগল। উল্লেখ্য, শিকাগো ছেড়ে বস্টনে যাওয়ার পর স্বামীজি ধর্ম মহাসভায় যোগদানের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। প্রফেসর রাইট অনেক বুঝিয়েই তাঁকে ফের শিকাগোয় পাঠান। পরিচয়পত্র না-থাকার অস্বস্তি কাটাতে রাইট স্বামীজিকে যে-কথা বলেছিলেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—‘‘আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া আর সূর্যকে তার কিরণ-বিকিরণের কী অধিকার আছে জিজ্ঞাসা করা তো একই কথা!’’ তবুও রাইট নিজ দায়িত্বে চিঠি লিখলেন মহাসভার প্রতিনিধি নির্বাচক কমিটির সেক্রেটারিকে—‘‘ইনি এমন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি যে আমাদের সকল অধ্যাপককে একত্র করলেও তাঁর জ্ঞানের সমকক্ষ হবেন না।’’ স্বামীজির শিকাগো যাওয়ার ট্রেনের টিকিটটাও প্রফেসর কিনে দিলেন এবং মহাসভার পক্ষ থেকে বাসস্থানের বন্দোবস্ত করতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সমীপে একটি চিঠিও লিখলেন। কিন্তু, শিকাগো পৌঁছেও স্বামীজি এক নিদারুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান। তখনই আলাপ হয় সহৃদয় জর্জ ডব্লু হেল পরিবারের সঙ্গে। মহাসভার মঞ্চে প্রতিনিধির আসন পেতে স্বামীজিকে চূড়ান্ত সাহায্যটি করেন তাঁরাই। জে বি লায়নের পরিবারে থাকারও বন্দোবস্ত হয়। কিন্তু, সমস্যা দেখা দেয় সেই বাড়িতে আশ্রিত কিছু বর্ণবিদ্বেষীকে নিয়ে। স্বামীজির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই মিস্টার লায়ন এতটাই মুগ্ধ হন যে, এই কথা জানার পর তাঁর স্ত্রী এমিলিকে সাফ বলেন, ‘‘সব অতিথি চলে গেলেও আমার এতটুকু দুঃখ নেই। আমাদের ঘরে এ যাবৎ যতজন এসেছেন তাঁদের মধ্যে এই ভারতীয় মানুষটিই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত এবং আমাদের মন কেড়ে নিয়েছেন। ইনি যতদিন খুশি এখানে থাকবেন।’’
স্বামীজি ক্রমশ উৎসাহ ফিরে পেতে লাগলেন। তাঁর কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে, স্বয়ং ভগবানই তাঁকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। ধর্মমহাসভা নতুন কিছু নয়। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকবার অনেক দেশে হয়েছে। কিন্তু, একটিমাত্র মহামঞ্চ থেকে সব ধর্মের প্রতিনিধি মুক্তকণ্ঠে নিজ নিজ মত ব্যক্ত করবেন এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। কারণ, যুগটা ভীষণভাবে পরমত অসহিষ্ণুতার। তাই মহাসভাটি স্বামীজির কাছে দৈবনির্দিষ্ট ও অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হয়েছিল। শিকাগোর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় গুরুভাই স্বামী তুরীয়ানন্দকে স্বামীজি বলেছিলেন, ‘‘ধর্মমহাসভাটা আমারই জন্য হচ্ছে। আমার মন তাই বলছে। শিগগিরই এর প্রমাণ পাবে।’’ দ্রুত প্রমাণ পেয়েছিল সারা পৃথিবী। ১১ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০ তারিখ মহামঞ্চে উপস্থিত হয়েই সমবেত দর্শকমণ্ডলীকে তিনি ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতাগণ’ বলে সম্বোধন করলেন। পশ্চিমি মানুষ এমন আন্তরিক সম্বোধন কস্মিনকালেও শোনেনি। এই ছোট্ট সম্বোধনই তাঁদের হৃদয়জয়ের সূচনা করল। মহাসভাস্থল করতালিতে ফেটে পড়ল। সেই অভিনন্দন যে থামতেই চায় না! বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ করার পর তিনি সনাতন হিন্দু ধর্ম দর্শন এবং উদার ভারতের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন। স্বামীজি তাঁর ভাষণের গোড়ার দিকে একটি অত্যন্ত দামি কথা বললেন, যা আজ অধিকতর প্রাসঙ্গিক—‘‘যে-ধর্ম জগৎকে চিরকাল সমদর্শন ও সর্ববিধ মত-গ্রহণের বিষয় শিক্ষা দিয়ে আসছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা যে কেবল অন্য ধর্মাবলম্বীর মত সহ্য করি, তা-ই নয়—সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলে বিশ্বাস করি। যে-ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভাষায় ইংরেজি ‘এক্সক্লুশান’ (হেয় বা পরিত্যাজ্য) শব্দটি কোনোমতে অনুবাদ করা যায় না, আমি সেই ধর্মভুক্ত।’’
দেশের পথে পা বাড়ানোর মুহূর্তে এক ইংরেজ বন্ধু স্বামীজির কাছে প্রশ্ন রাখেন—‘‘বিলাসের লীলাভূমি, গৌরবের মুকুটধারী মহাশক্তিধর পাশ্চাত্যে চার বছর ভ্রমণের পর মাতৃভূমি আপনার কেমন লাগবে?’’ স্বামীজি হাসি মুখে জবাব দিয়েছিলেন—‘‘পাশ্চাত্যে আসার আগে ভারতকে ভালোবাসতাম। এখন তো আমার কাছে ভারতের ধূলিকণা পর্যন্ত পবিত্র, ভারতের বায়ু পবিত্রতামাখা, ভারতভূমি তীর্থস্বরূপ।’’
আমেরিকা, ইউরোপ, সিংহল ঘুরে স্বামীজি ১৮৯৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে ভারতের মাটিতে প্রথম পা রাখেন মাদ্রাজে, পাম্পান দ্বীপে। খবর পেয়ে রামনাদ-রাজ তাঁর জন্য রাজকীয় অভ্যর্থনারই ব্যবস্থা করেছিলেন। মাদ্রাজের পর তাঁর গন্তব্য নির্দিষ্ট হয় কলকাতা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘মোসাম্বা’ জাহাজে চড়ে বসলেন। সহযাত্রী স্বামী শিবানন্দ, স্বামী নিরঞ্জনানন্দ, ক্যাপ্টেন সেভিয়ার, মিসেস সেভিয়ার, গুডউইন ও আনন্দ চার্লু। গন্তব্য ছিল সম্ভবত খিদিরপুর। চারদিন পর, ১৮ ফেব্রুয়ারি জাহাজ যখন গন্তব্যের কাছাকাছি এল, তখন প্রায় সন্ধ্যা। নেভিগেশনের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানেই নোঙর করা হয়। সপার্ষদ স্বামীজির রাত কাটল জাহাজেই। পরদিন, অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি মাটিতে পা রাখেন। বজবজে। স্বামীজি বজবজ স্টেশনের ওয়েটিং রুমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করেন। কাঠ ও বেতের তৈরি যে চেয়ারে বসেছিলেন সেটি উদ্ধার করে রেলের হেরিটেজ গ্যালারিতে রাখা হয়েছে। স্বামীজির পদার্পণের পুণ্যস্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৮৬-তে বজবজ স্টেশনের ওয়েটিং রুমের দেওয়ালে একটি প্রস্তরফলকও বসানো হয়েছে।
স্পেশাল ট্রেনে তাঁকে তোলা হয় আনুমানিক সকাল সাড়ে ৬টায়। ঘণ্টাখানেক বাদে তাঁরা শিয়ালদহে পৌঁছন। কলকাতায় তাঁকে বিপুল অভ্যর্থনা করা হয়। অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি ছিলেন দ্বারভাঙার মহারাজ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বামীজি মাদ্রাজে পৌঁছতেই কলকাতায় অভ্যর্থনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিয়ালদহে বিশ হাজার মানুষের সমাগম হয়। সুগন্ধী ফুল মালায় তাঁর ঢাকা পড়ার অবস্থা। উপস্থিত গুরুভাইদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়েরও সুযোগ নেই। আবেগবিহ্বল ভক্তদের ভিড় ঠেলে কোনোরকমে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ির দিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেভিয়ার দম্পতির সঙ্গে স্বামীজি গাড়িতে বসতেই একদল ছাত্র ঘোড়া দুটিকে মুক্তি দিয়ে নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে গেল। সঙ্গে চলল ব্যান্ডপার্টি ও কীর্তনের দল। জায়গায় জায়গায় সুন্দর তোরণ সেজে উঠেছিল। শহরের রাস্তাগুলিতেও উপচে-পড়া ভিড়। এইভাবে স্বামীজি বাগবাজার, বরানগর ছুঁয়ে পৌঁছে গেলেন আলমবাজার মঠে। মঙ্গলকলসসহ তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন মঠের সাধুরা। পরদিন কাগজে কাগজে বর্ণনা ছাপা হল। কলম্বো এবং মাদ্রাজেও তাঁকে অভ্যর্থনার খবর বাংলার মানুষ জেনেছিল সংবাদপত্র থেকে। আমেরিকা এবং ইউরোপে পাওয়া অভিনন্দনপত্রগুলিরও ছবি ছাপা হতো। স্বামীজির বিশেষ ট্রেন শিয়ালদহে আসামাত্র সমস্বরে জয়ধ্বনি ওঠে—‘‘জয় পরমহংস রামকৃষ্ণদেব কী জয়, জয় স্বামী বিবেকানন্দ কী জয়।’’ সারা বাংলা ভীষণ উজ্জীবিত হল।
কলকাতায় এই জন-অভ্যর্থনা প্রসঙ্গে স্বামীজি বলেছিলেন—‘‘আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে আমায় নিয়ে একটু হইচই হয়। কী জানিস, একটা হইচই না-হলে তাঁর (ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ) নামে লোক চেতবে কী করে? এত সংবর্ধনা কি আমার জন্য করা হল? না। তাঁর নামেরই জয়জয়কার হল। তাঁর বিষয় জানবার জন্য লোকের মনে কতটা ইচ্ছা হল। এইবার একটু একটু করে তাঁকে জানবে। তবে না, দেশের মঙ্গল হবে। যিনি দেশের মঙ্গলের জন্য এসেছেন, তাঁকে না-জানলে লোকের মঙ্গল কী করে হবে?’’
19th  February, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস।  বিশদ

20th  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
একনজরে
  শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনের জেরে রাজ্যে বন্ধ বাস ও ট্রেন পরিষেবা। অফিসে আসতে পারছেন না সিআইডি, আইবি এবং পুলিস ডিরেক্টরেটের সিংহভাগ কর্মীই। তাই তাঁদের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২৮ মার্চ: সামাজিক দূরত্বেই জনসংযোগের উপায় খুঁজছে সিপিএম। করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি দেশের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের মধ্যে এবার খাবার বিতরণ করবে দল। ...

  বিএনএ, বারাসত ও বারাকপুর: করোনার ভাইরাস দূর করতে এবার জল কামান নিয়ে রাস্তায় নামল বারাসত জেলা পুলিস। শনিবার বারাসতের ডাক বাংলো থেকে দোলতলা পর্যন্ত ...

  তেল আভিব, ২৮ মার্চ (পিটিআই): বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ৩১৪ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ জানাল ইজরায়েল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লোহা ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৫৭: বারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে শুরু হল সিপাহী বিদ্রোহ
১৯২৯: অভিনেতা উৎপল দত্তের জন্ম
১৯৮২: তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠা





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৫৯ টাকা ৭৫.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬০ টাকা ৯২.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৮৪ টাকা ৮৩.৮৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
28th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) পঞ্চমী ৫১/৫ রাত্রি ২/২। কৃত্তিকা ২৪/১৪ দিবা ৩/১৮। সূ উ ৫/৩৫/৫২, অ ৫/৪৭/৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ গতে ৯/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১০/১০ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৯ গতে ২/৩৮ মধ্যে।
১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০, রবিবার, পঞ্চমী ৪১/৩৯/১২ রাত্রি ১০/১৭/২৪। কৃত্তিকা ১৬/৫০/৮ দিবা ১২/২১/৪৬। সূ উ ৫/৩৭/৪৩, অ ৫/৪৭/২২। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৬ গতে ৭/২২ মধ্যে ও ১২/১ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪২/৩২ গতে ১/১৩/৪৫ মধ্যে।
 ৪ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত আরও ১
মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক রোগীর মৃত্যু হল। মৃতার ...বিশদ

01:56:21 PM

কালনায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী 

01:55:00 PM

করোনা: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে শুরু নমুনা পরীক্ষা 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়ে গেল করোনার নমুনা পরীক্ষা। ...বিশদ

01:54:53 PM

স্ট্যান্ড রোডে খাবার বিতরণ করলেন জওয়ানরা
 

লকডাউন চলাকালীন আজ স্ট্যান্ড রোডে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে রান্না করা ...বিশদ

01:54:00 PM

জলপাইগুড়িতে সাধারণদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ 

12:56:00 PM

জলপাইগুড়ির বানারহাটে দূরত্ব বজায় রেখে রেশন বিলি করা হল চা শ্রমিকদের মধ্যে

12:55:00 PM