Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। জলের কল, বাড়িতে আলো চান তাঁরা। ডিটিসি–র বাসে দিল্লির মেয়েদের নিখরচায় যাতায়াত, সরকারি বাসে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্শাল নিযুক্ত, রাস্তাঘাটের সুরক্ষায় ১ লাখ ৪০ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, নিখরচায় ২০ হাজার লিটার জল, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ—তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই জনকল্যাণমুখী। চিকিৎসা পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছেন মহল্লায় মহল্লায় ক্লিনিক খুলে। স্কুলগুলোর হাল ভালো করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। ঘরে বসে মানুষ যাতে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করে দালালরাজ প্রায় তুলেই দিয়েছেন। দিল্লির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণের মতো আটপৌরে সমস্যার নজরকাড়া সমাধান করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিভাজনের কৌশল আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নয়, উন্নয়নই ভারতের ভবিষ্যৎ। ভোটে জেতার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘দিদির (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ ও নিরন্তর যোগাযোগ রয়েছে। এবারেও ভোটের আগে গত কয়েক মাস ধরে আমি সব সময় দিদির পরামর্শ নিয়েছি।’
গাঢ় নীল রঙের একটা সোয়েটার। গলায় জড়ানো মাফলার। সেই চিরপরিচিত পোশাক। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেজরিওয়াল নিজেকে বদলাননি। একবারের জন্যও ‘স্যুটেড-বুটেড’ মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিবাসী দেখেনি। বিপুল জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরে ভগবান হনুমানকে স্মরণ করলেন তৃতীয় বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলা ‘মাফলার ম্যান’ অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জনতাকে ধন্যবাদ দিতে চটজলদি তৈরি মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে প্রথমেই যে স্লোগান তুললেন, তা এত দিন বিজেপি মনে করত তাদেরই পেটেন্ট নেওয়া। ‘ভারতমাতা কী জয়’। এরপর বামেদের সুরে বললেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং শেষে কংগ্রেসের প্রায় নিজস্ব করে নেওয়া ‘বন্দে মাতরম’। আম জনতা তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন। দিল্লিবাসী জানিয়ে দিল, সবাইকে নিয়েই তিনি এবং তাঁর দল। বিজেপি ভোটপ্রচারকে যেভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের নামাবলিতে মুড়ে দিতে চেয়েছিল, কেজরিওয়ালের এই স্লোগানগুলো সম্ভবত তারই উত্তর। একইসঙ্গে নতুন ধারার এক রাজনীতির জন্ম দিলেন তিনি। যেটা উন্নয়নের রাজনীতি। কেজরিওয়াল মনে করেন, ‘এই ধরনের রাজনীতিই ভারতকে একবিংশ শতাব্দীতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই জয় শুধু দিল্লির নয়, ভারতমাতারও।’ ধন্যবাদ জানাতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রকে নিয়ে। আমজনতাকে জানাতে দ্বিধা করেননি, ১১ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রীর জন্মদিন। বলেছেন, মঙ্গলবার ‘ভগবান হনুমানজিরও দিন’। তিনিও তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন। এই সহজ সরল আটপৌরে পারিবারিক রাজনীতিই কেজরিওয়ালের হাতিয়ার। নিজের যাপিত জীবনকেও তিনি সাধারণের পর্যায়েই রেখে দিয়েছেন। ঠিক ‘দিদি’-র মতোই।
প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির অবসান ঘটাতে মোটা মাইনের সরকারি চাকরি ছেড়ে রাস্তায় নেমে দাঁড়িয়েছিলেন। দুর্নীতি দমনে লোকপাল আইনের দাবিতে আন্না হাজারের ধর্না–বিক্ষোভে। খোলা আকাশের নীচে। রাস্তায় বসে প্রতিবাদে। সেই শুরু। ২০১২ সালে ‘আম আদমি পার্টি’ প্রতিষ্ঠা। ২০১৩ সালে দিল্লিতে ক্ষমতায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কেজরিওয়াল। তবে ৪৯ দিন পরে, ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্তফা দেন। ২০১৫ সালে সেই ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে দ্বিতীয়বার শপথ নেন তিনি। ফের ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আপ-ঝড়ে তৃতীয়বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে কেজরিওয়াল। গোপন তথ্য জানার দাবি নিয়ে ‘তথ্য জানার অধিকার’ আইন আনার লড়াই শুরু করেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালই। সেই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য ২০০৬ সালে ‘র্যা মন ম্যাগসাইসাই’ পুরস্কারে সম্মানিত হন। শিক্ষাদীক্ষায় তাঁর সমকক্ষ ভারতের রাজনীতিতে খুব কমই আছেন। আইআইটি–র স্নাতক। তারপর ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস। সব ছেড়েছুড়ে নাগরিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পথে নেমেছেন। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে প্রতিবাদী ‘আম আদমি’। মুখ্যমন্ত্রীর তখতে বসেও কখন যেন হয়ে উঠেছেন ‘পাশের বাড়ির লোক’। যিনি অন্তত রুটি–রুজির সমস্যাটা বোঝেন।
লক্ষ্য করুন, হ্যাটট্রিক নিশ্চিত করে সন্ধ্যায় কনট প্লেসের প্রাচীন হনুমানজির মন্দিরে গিয়েছেন প্রণাম করতে। ওই মন্দিরেই মাথা ঠেকিয়ে তিনি নির্বাচনী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়েছিলেন। আসলে তা করেছিলেন নিজে কতটা ধার্মিক, তা বোঝাতে নয়। করেছিলেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে বোঝাতে, তিনিও প্রকৃত হিন্দু। আরও বোঝাতে চেয়েছিলেন, প্রকৃত হিন্দু কখনও হিন্দুস্তানের শত্রু হতে পারে না। এভাবে নরম হিন্দুত্বের নামাবলি তাঁকে জড়াতে বাধ্য করেছিল কিন্তু বিজেপিই। এবারের মতো এত তিক্ত, এত কদর্য, এত বিদ্বেষপূর্ণ প্রচার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আগে দেখা যায়নি। গত একমাসে বিজেপি–র প্রচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন শাহ। নামিয়েছিলেন ২৪০ সাংসদ–সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। প্রধানমন্ত্রী নিজে সভা করেছেন। ভোট প্রচারে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মিছিল থেকে স্লোগান উঠেছে, ‘দেশ কি গাদ্দারকো, গোলি মারো শালোকো।’ শাহিনবাগ নিয়ে কেজরিওয়ালকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দলে বাড়তি জোশ আমদানি করতে অমিত শাহ প্রচারের অভিমুখ বদলে দেওয়ার পর কেজরিওয়াল হয়ে গিয়েছিলেন টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের প্রশ্রয়দাতা। প্রকারান্তরে পাকিস্তানের ‘দালাল’। শাহিনবাগের বিরুদ্ধে কেন তিনি রা কাড়ছেন না, অবরোধ সরাতে কেন পুলিসকে বলছেন না, এমন ধরনের কথা তাঁকে শুনতে হয়েছিল। শুনতে হয়েছিল, তিনি ‘টেররিস্ট’। কেন টেররিস্ট, তার ব্যাখ্যা শুনিয়ে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের অনেক প্রমাণ নাকি তাঁদের কাছে রয়েছে। কেজরিওয়াল সব শুনেছেন। কিন্তু সেই অর্থে জবাব দেননি। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জনতার কাছে পাল্টা জানতে চেয়েছেন, ‘আপনারাই বলুন, আমি সন্ত্রাসবাদী কি না। যদি মনে হয় তা-ই, তাহলে আমাকে ভোট দিতে হবে না।’ ঠিক এই সময়ই আম আদমি পার্টি পাল্টা স্লোগান তোলা শুরু করে: ‘লাগে রহো কেজরিওয়াল’। আপ-এর এই থিম সংটি তৈরি করেছিলেন বলিউডের বিখ্যাত সুরকার বিশাল দাদলানি। তার প্রতিটি শব্দে গত পাঁচ বছরে সরকারি কাজের খতিয়ান। কেজরিওয়াল নিজে ভোটারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন ‘আপকা বেটা’ হিসেবে। ফলে বিভাজনের রাজনীতি শুধু ব্যর্থ হয়নি, দিল্লিতে একেবারে বেআব্রু হয়ে গিয়েছে বিজেপি।
এই সময়ই একের পর এক ঘটে গিয়েছে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলা, জামিয়ার মিছিলে ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলে গুলি চালানো, জামিয়ার মিছিলে পুলিসের বেলাগাম লাঠিচার্জের মতো ঘটনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় বিজেপি, এবিভিবি বা অমিত শাহের দিল্লি পুলিস। এ সব যত ঘটেছে, তত উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে গিয়েছেন বিজেপি নেতারা। যোগী আদিত্যনাথও ঘাড় নেড়ে জোরগলায় বলেছিলেন, এটাই সেরা উপায়। ভোটের ফলাফলে দেখা গেল, শাহিনবাগের সেই ‘কারেন্ট’-এ ঘায়েল হয়েছে বিজেপিই। দিল্লির বাঙালি মহল্লায়ও ফোটেনি পদ্ম। কালকাজি থেকে গ্রেটার কৈলাস সর্বত্রই আপ ঝড়। রাজধানী দখলের লড়াইয়ে দিল্লিনিবাসী বাঙালিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন ধর্মীয় ভেদাভেদ তাঁরা মানবেন না। বরং যারা এই ভেদাভেদ করতে আসবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন তাঁরা।
কেজরিওয়াল পাশে পেয়েছিলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে। সেই প্রশান্ত কিশোর, যাঁর সংস্থা অর্থের বিনিময়ে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের ভোটের স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে সাহায্য করেছেন ও করছেন। আম আদমি সুপ্রিমোকে নাকি প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠতে হবে। অর্থাৎ বিরোধীদের ভুলত্রুটি না খুঁজে-বিজেপির সমালোচনা না করে রাজ্যের উন্নয়নকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেদিকেই মন দিতে হবে। বিজেপি গোটা প্রচারকে হিন্দুস্তান-পাকিস্তানে টেনে আনলেও সেই ফাঁদে পা না দিয়ে কেজরিওয়াল উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবার গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকেছেন। পিকে জানতেন, লড়াইটা নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের মতো হেভিওয়েট মগজাস্ত্রের বিরুদ্ধে। তাই বিজেপি যখন ভোট পেতে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করল, তখন আপের জয় নিশ্চিত করতে কেজরির রোজনামচায় হনুমান চালিশা জুড়ে দিলেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি নেতা কেজরিকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিতেই প্রতিবাদ মিছিল করাও স্ট্র্যাটেজিরই অংশ। শুধু তাই নয়, অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির জন্য যেদিন কেন্দ্র ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা করে, সেদিনও পিকের ঝুলিতে গচ্ছিত ছিল দাওয়াই। পরিকল্পনা করেই সমস্ত সংবাদপত্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল আপ সুপ্রিমোর ইন্টারভিউ। যাতে শিরোনামে তিনিও সমান গুরুত্ব পান। প্রশান্ত কিশোরের এই সব ছোটখাটো গুগলিতেই দিল্লিতে বাজিমাত হয়েছে। বিজেপির ফাঁদে পা দেননি কেজরিওয়াল। উল্টে মোদির কাছ থেকে ধার করে তিনি প্রচারে জনতার কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘কাকে ভোট দেবেন? নামকে (নরেন্দ্র মোদি), নাকি কাজকে?’ প্রতিশ্রুতি হয়তো আরও অনেক কিছুই ছিল। সব পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু দিল্লির মানুষ দেখেছে, কেজরিওয়াল সরকারের অন্তত সদিচ্ছা আছে। সত্যিই কিছু করতে চায়। সাধারণ মানুষকে সুরাহা দিতে চায়। মানুষ তাই তাদের বিমুখ করেনি। রাজ্য শাসনের ক্ষেত্রে ২১ বছরের অজানা-অচেনা বিজেপির উপর ভরসা না রেখে ঘরের মানুষ চেনা কেজরিওয়ালকেই তাঁরা কাছে টেনে নিয়েছেন। একইসঙ্গে দিল্লির নির্বাচনী রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে শূন্যে নামিয়ে এনেছেন কংগ্রেসকেও।
২০১২ সালের নভেম্বরে যখন জনসমক্ষে এসেছিল আম আদমি পার্টি, তখনও কি কেউ ভেবেছিল নতুন এই দলটা আগামী আট বছরে ইতিহাস গড়বে? শুধু কি ইতিহাস গড়া, উল্টে দেবে সব হিসেব নিকেশ? কোনও রাজনৈতিক পরিচিতি ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করাই শুধু নয়, কংগ্রেস-বিজেপির মতো বর্ধিষ্ণু দলকে পিছনে ফেলে পর পর তিন বার তাঁর দল আসবে দিল্লির ক্ষমতায়?
এমন দিনেই নিশ্চিন্তে ‘মাফলার ম্যান’ মুচকি হেসে বলতে পারেন, ‘নাথিং সাকসিডস লাইক সাকসেস।’ 
14th  February, 2020
করোনার পরেও আছে এক অন্ধকার সময়
সন্দীপন বিশ্বাস

 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর ওই অবস্থা নিয়ে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন। ‘আমরা চাঁদা তুলে মারব কীট/... বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে সে কীসের বসন্ত!’
বিশদ

জরুরি দ্রুত এবং ব্যাপক জনমুখী পদক্ষেপ
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

করোনা ভাইরাস ভারতীয় অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে একটা বড় ধাক্কা এবং কিছুটা সুযোগ দিয়ে গেল। এমনিতেই বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। আশা করা যাচ্ছিল এবার হয়তো সেটা ৫ শতাংশের কাছে পৌঁছবে।
বিশদ

গ্যালারি শো কতদিন?
খাবার জুটবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ব্যবসার কাজে হংকং গিয়েছিলেন বেথ এমহফ। কাজ সেরে পার্টি... তারপর দেশে ফেরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো হয়ে যখন মিনিয়াপোলিস ফিরলেন, ততক্ষণে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, চার, ১৬, ২৫৬... বাড়তে শুরু করল সংখ্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর... মৃত্যু। এটাই ছিল চক্র। বিশদ

07th  April, 2020
যাও সুখের সন্ধানে যাও
অতনু বিশ্বাস

 সাম্প্রতিক ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গিয়েছিলেন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে। পূর্বনির্ধারিত ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’-এ যোগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুখের ক্লাস দেখতে। বিশদ

07th  April, 2020
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

06th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
একনজরে
  ফতেপুর (উত্তরপ্রদেশ), ৭ এপ্রিল (পিটিআই): দুই কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরের মালাওয়াইনে। পুলিশ আত্মহত্যা বললেও এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ, কিশোরের পরিবারের দাবি, দু’জনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ...

 রিও ডি জেনেইরো, ৭ এপ্রিল: বিশ্ব ফুটবলে এক দশকের বেশি সময় ধরে দাপট দেখিয়ে চলেছেন লায়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে অনেকের মতে, এই দুই ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি ডেঙ্গু দমনেরও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। করোনার প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গু যাতে নতুন করে মাথাব্যথার কারণ না হয়, সে ব্যাপারে সোমবারই প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ...

 কিয়েভ (ইউক্রেন), ৭ এপ্রিল (এপি): করোনা আতঙ্কের মধ্যে চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ইউক্রেনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরমাণু কেন্দ্র লাগোয়া জঙ্গলে দাবানল লেগে যাওয়ার এই বিপত্তি তৈরি হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসায় বাড়তি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সাফল্য নাও দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি শ্বাসকষ্ট ও বক্ষপীড়ায় শারীরিক ক্লেশ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৭: বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁ মারা যান।
১৭৫৯: ব্রিটিশ বাহিনী ভারতের মাদ্রাজ দখল করে।
১৮৫৭: বারাকপুরে সিপাহি বিদ্রোহের নায়ক মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসি
১৮৯৪: সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯০২: কলকাতায় মূক ও বধির বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২৯: দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে বোমা ছুঁড়ে ধরা পড়লেন ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত
১৯৫০: ভারত পাক চুক্তি স্বাক্ষর করলেন লিয়াকত-নেহরু
১৯৫০: বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর মৃত্যু
১৯৭৩: স্পেনের চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর মৃত্যু
১৯৭৬: ফুটবলার গোষ্ঠপালের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০৯ টাকা ৭৬.৮১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৫৭ টাকা ৯৪.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৬৮ টাকা ৮৩.৭২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৪ চৈত্র ১৪২৬, ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) চতুর্দশী ১৬/২৬ দিবা ১২/২। উত্তরফাল্গুনী ৯/৩০ দিবা ৯/১৫। সূ উ ৫/২৭/২৬, অ ৫/৫০/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৭ গতে ১০/২৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৩ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে ৫/০ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/১৫ মধ্যে পুনঃ ১/৩৫ গতে ৩/৮ মধ্যে। বারবেলা ৭/০ গতে ৮/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৪৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১৭ গতে ৮/৪৪ মধ্যে।
২৪ চৈত্র ১৪২৬, ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার, চতুর্দশী ১৩/৫৮/১৪ দিবা ১১/৪/৯। উত্তরফাল্গুনী ৭/১০/১০ দিবা ৮/২০/৫৫। সূ উ ৫/২৮/৫১, অ ৫/৫০/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৪ গতে ১০/২৩ মধ্যে ও ১২/৫৩ গতে ২/৩২ মধ্যে ও ৩/২২ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৭ মধ্যে ও ৮/৫৬ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৩৩ গতে ৩/৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/১/৩৬ গতে ৮/৩৪/২২ মধ্যে, কালবেলা ১/১২/৩৮ গতে ২/৪৫/২৩ মধ্যে।
১৩ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবার বিনামূল্যেই হবে করোনা পরীক্ষা, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
অনুমোদিত সরকারি বা বেসরকারি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হবে। ...বিশদ

07:22:52 PM

আজ ঝাড়গ্রাম, পঃ মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা 

07:09:00 PM

করোনা: ইরানে আজ মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের 
ইরানে আজ আরও ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ...বিশদ

06:56:37 PM

হলদিয়া বন্দরের লকগেটে ঢোকার আগে চরে আটকে গেল পণ্যবাহী জাহাজ

06:56:00 PM

করোনা: পাঞ্জাবে আক্রান্ত আরও ৭ জন
পাঞ্জাবে নতুন করে আজ আরও ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ...বিশদ

06:51:18 PM

কর্ণাটকে আরও এক করোনা রোগীর মৃত্যু
কর্ণাটকে আরও এক করোনা রোগীর মৃত্যু হল। ৬৫ বছরের ওই ...বিশদ

06:49:37 PM