Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। জলের কল, বাড়িতে আলো চান তাঁরা। ডিটিসি–র বাসে দিল্লির মেয়েদের নিখরচায় যাতায়াত, সরকারি বাসে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্শাল নিযুক্ত, রাস্তাঘাটের সুরক্ষায় ১ লাখ ৪০ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, নিখরচায় ২০ হাজার লিটার জল, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ—তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই জনকল্যাণমুখী। চিকিৎসা পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছেন মহল্লায় মহল্লায় ক্লিনিক খুলে। স্কুলগুলোর হাল ভালো করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। ঘরে বসে মানুষ যাতে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করে দালালরাজ প্রায় তুলেই দিয়েছেন। দিল্লির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণের মতো আটপৌরে সমস্যার নজরকাড়া সমাধান করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিভাজনের কৌশল আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নয়, উন্নয়নই ভারতের ভবিষ্যৎ। ভোটে জেতার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘দিদির (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ ও নিরন্তর যোগাযোগ রয়েছে। এবারেও ভোটের আগে গত কয়েক মাস ধরে আমি সব সময় দিদির পরামর্শ নিয়েছি।’
গাঢ় নীল রঙের একটা সোয়েটার। গলায় জড়ানো মাফলার। সেই চিরপরিচিত পোশাক। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেজরিওয়াল নিজেকে বদলাননি। একবারের জন্যও ‘স্যুটেড-বুটেড’ মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিবাসী দেখেনি। বিপুল জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরে ভগবান হনুমানকে স্মরণ করলেন তৃতীয় বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলা ‘মাফলার ম্যান’ অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জনতাকে ধন্যবাদ দিতে চটজলদি তৈরি মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে প্রথমেই যে স্লোগান তুললেন, তা এত দিন বিজেপি মনে করত তাদেরই পেটেন্ট নেওয়া। ‘ভারতমাতা কী জয়’। এরপর বামেদের সুরে বললেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং শেষে কংগ্রেসের প্রায় নিজস্ব করে নেওয়া ‘বন্দে মাতরম’। আম জনতা তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন। দিল্লিবাসী জানিয়ে দিল, সবাইকে নিয়েই তিনি এবং তাঁর দল। বিজেপি ভোটপ্রচারকে যেভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের নামাবলিতে মুড়ে দিতে চেয়েছিল, কেজরিওয়ালের এই স্লোগানগুলো সম্ভবত তারই উত্তর। একইসঙ্গে নতুন ধারার এক রাজনীতির জন্ম দিলেন তিনি। যেটা উন্নয়নের রাজনীতি। কেজরিওয়াল মনে করেন, ‘এই ধরনের রাজনীতিই ভারতকে একবিংশ শতাব্দীতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই জয় শুধু দিল্লির নয়, ভারতমাতারও।’ ধন্যবাদ জানাতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রকে নিয়ে। আমজনতাকে জানাতে দ্বিধা করেননি, ১১ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রীর জন্মদিন। বলেছেন, মঙ্গলবার ‘ভগবান হনুমানজিরও দিন’। তিনিও তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন। এই সহজ সরল আটপৌরে পারিবারিক রাজনীতিই কেজরিওয়ালের হাতিয়ার। নিজের যাপিত জীবনকেও তিনি সাধারণের পর্যায়েই রেখে দিয়েছেন। ঠিক ‘দিদি’-র মতোই।
প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির অবসান ঘটাতে মোটা মাইনের সরকারি চাকরি ছেড়ে রাস্তায় নেমে দাঁড়িয়েছিলেন। দুর্নীতি দমনে লোকপাল আইনের দাবিতে আন্না হাজারের ধর্না–বিক্ষোভে। খোলা আকাশের নীচে। রাস্তায় বসে প্রতিবাদে। সেই শুরু। ২০১২ সালে ‘আম আদমি পার্টি’ প্রতিষ্ঠা। ২০১৩ সালে দিল্লিতে ক্ষমতায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কেজরিওয়াল। তবে ৪৯ দিন পরে, ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্তফা দেন। ২০১৫ সালে সেই ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে দ্বিতীয়বার শপথ নেন তিনি। ফের ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আপ-ঝড়ে তৃতীয়বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে কেজরিওয়াল। গোপন তথ্য জানার দাবি নিয়ে ‘তথ্য জানার অধিকার’ আইন আনার লড়াই শুরু করেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালই। সেই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য ২০০৬ সালে ‘র্যা মন ম্যাগসাইসাই’ পুরস্কারে সম্মানিত হন। শিক্ষাদীক্ষায় তাঁর সমকক্ষ ভারতের রাজনীতিতে খুব কমই আছেন। আইআইটি–র স্নাতক। তারপর ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস। সব ছেড়েছুড়ে নাগরিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পথে নেমেছেন। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে প্রতিবাদী ‘আম আদমি’। মুখ্যমন্ত্রীর তখতে বসেও কখন যেন হয়ে উঠেছেন ‘পাশের বাড়ির লোক’। যিনি অন্তত রুটি–রুজির সমস্যাটা বোঝেন।
লক্ষ্য করুন, হ্যাটট্রিক নিশ্চিত করে সন্ধ্যায় কনট প্লেসের প্রাচীন হনুমানজির মন্দিরে গিয়েছেন প্রণাম করতে। ওই মন্দিরেই মাথা ঠেকিয়ে তিনি নির্বাচনী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়েছিলেন। আসলে তা করেছিলেন নিজে কতটা ধার্মিক, তা বোঝাতে নয়। করেছিলেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে বোঝাতে, তিনিও প্রকৃত হিন্দু। আরও বোঝাতে চেয়েছিলেন, প্রকৃত হিন্দু কখনও হিন্দুস্তানের শত্রু হতে পারে না। এভাবে নরম হিন্দুত্বের নামাবলি তাঁকে জড়াতে বাধ্য করেছিল কিন্তু বিজেপিই। এবারের মতো এত তিক্ত, এত কদর্য, এত বিদ্বেষপূর্ণ প্রচার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আগে দেখা যায়নি। গত একমাসে বিজেপি–র প্রচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন শাহ। নামিয়েছিলেন ২৪০ সাংসদ–সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। প্রধানমন্ত্রী নিজে সভা করেছেন। ভোট প্রচারে খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মিছিল থেকে স্লোগান উঠেছে, ‘দেশ কি গাদ্দারকো, গোলি মারো শালোকো।’ শাহিনবাগ নিয়ে কেজরিওয়ালকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দলে বাড়তি জোশ আমদানি করতে অমিত শাহ প্রচারের অভিমুখ বদলে দেওয়ার পর কেজরিওয়াল হয়ে গিয়েছিলেন টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের প্রশ্রয়দাতা। প্রকারান্তরে পাকিস্তানের ‘দালাল’। শাহিনবাগের বিরুদ্ধে কেন তিনি রা কাড়ছেন না, অবরোধ সরাতে কেন পুলিসকে বলছেন না, এমন ধরনের কথা তাঁকে শুনতে হয়েছিল। শুনতে হয়েছিল, তিনি ‘টেররিস্ট’। কেন টেররিস্ট, তার ব্যাখ্যা শুনিয়ে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের অনেক প্রমাণ নাকি তাঁদের কাছে রয়েছে। কেজরিওয়াল সব শুনেছেন। কিন্তু সেই অর্থে জবাব দেননি। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জনতার কাছে পাল্টা জানতে চেয়েছেন, ‘আপনারাই বলুন, আমি সন্ত্রাসবাদী কি না। যদি মনে হয় তা-ই, তাহলে আমাকে ভোট দিতে হবে না।’ ঠিক এই সময়ই আম আদমি পার্টি পাল্টা স্লোগান তোলা শুরু করে: ‘লাগে রহো কেজরিওয়াল’। আপ-এর এই থিম সংটি তৈরি করেছিলেন বলিউডের বিখ্যাত সুরকার বিশাল দাদলানি। তার প্রতিটি শব্দে গত পাঁচ বছরে সরকারি কাজের খতিয়ান। কেজরিওয়াল নিজে ভোটারের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন ‘আপকা বেটা’ হিসেবে। ফলে বিভাজনের রাজনীতি শুধু ব্যর্থ হয়নি, দিল্লিতে একেবারে বেআব্রু হয়ে গিয়েছে বিজেপি।
এই সময়ই একের পর এক ঘটে গিয়েছে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলা, জামিয়ার মিছিলে ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলে গুলি চালানো, জামিয়ার মিছিলে পুলিসের বেলাগাম লাঠিচার্জের মতো ঘটনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় বিজেপি, এবিভিবি বা অমিত শাহের দিল্লি পুলিস। এ সব যত ঘটেছে, তত উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে গিয়েছেন বিজেপি নেতারা। যোগী আদিত্যনাথও ঘাড় নেড়ে জোরগলায় বলেছিলেন, এটাই সেরা উপায়। ভোটের ফলাফলে দেখা গেল, শাহিনবাগের সেই ‘কারেন্ট’-এ ঘায়েল হয়েছে বিজেপিই। দিল্লির বাঙালি মহল্লায়ও ফোটেনি পদ্ম। কালকাজি থেকে গ্রেটার কৈলাস সর্বত্রই আপ ঝড়। রাজধানী দখলের লড়াইয়ে দিল্লিনিবাসী বাঙালিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন ধর্মীয় ভেদাভেদ তাঁরা মানবেন না। বরং যারা এই ভেদাভেদ করতে আসবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন তাঁরা।
কেজরিওয়াল পাশে পেয়েছিলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে। সেই প্রশান্ত কিশোর, যাঁর সংস্থা অর্থের বিনিময়ে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের ভোটের স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে সাহায্য করেছেন ও করছেন। আম আদমি সুপ্রিমোকে নাকি প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠতে হবে। অর্থাৎ বিরোধীদের ভুলত্রুটি না খুঁজে-বিজেপির সমালোচনা না করে রাজ্যের উন্নয়নকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেদিকেই মন দিতে হবে। বিজেপি গোটা প্রচারকে হিন্দুস্তান-পাকিস্তানে টেনে আনলেও সেই ফাঁদে পা না দিয়ে কেজরিওয়াল উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবার গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকেছেন। পিকে জানতেন, লড়াইটা নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের মতো হেভিওয়েট মগজাস্ত্রের বিরুদ্ধে। তাই বিজেপি যখন ভোট পেতে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করল, তখন আপের জয় নিশ্চিত করতে কেজরির রোজনামচায় হনুমান চালিশা জুড়ে দিলেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি নেতা কেজরিকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিতেই প্রতিবাদ মিছিল করাও স্ট্র্যাটেজিরই অংশ। শুধু তাই নয়, অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির জন্য যেদিন কেন্দ্র ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা করে, সেদিনও পিকের ঝুলিতে গচ্ছিত ছিল দাওয়াই। পরিকল্পনা করেই সমস্ত সংবাদপত্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল আপ সুপ্রিমোর ইন্টারভিউ। যাতে শিরোনামে তিনিও সমান গুরুত্ব পান। প্রশান্ত কিশোরের এই সব ছোটখাটো গুগলিতেই দিল্লিতে বাজিমাত হয়েছে। বিজেপির ফাঁদে পা দেননি কেজরিওয়াল। উল্টে মোদির কাছ থেকে ধার করে তিনি প্রচারে জনতার কাছে জানতে চেয়েছেন, ‘কাকে ভোট দেবেন? নামকে (নরেন্দ্র মোদি), নাকি কাজকে?’ প্রতিশ্রুতি হয়তো আরও অনেক কিছুই ছিল। সব পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু দিল্লির মানুষ দেখেছে, কেজরিওয়াল সরকারের অন্তত সদিচ্ছা আছে। সত্যিই কিছু করতে চায়। সাধারণ মানুষকে সুরাহা দিতে চায়। মানুষ তাই তাদের বিমুখ করেনি। রাজ্য শাসনের ক্ষেত্রে ২১ বছরের অজানা-অচেনা বিজেপির উপর ভরসা না রেখে ঘরের মানুষ চেনা কেজরিওয়ালকেই তাঁরা কাছে টেনে নিয়েছেন। একইসঙ্গে দিল্লির নির্বাচনী রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে শূন্যে নামিয়ে এনেছেন কংগ্রেসকেও।
২০১২ সালের নভেম্বরে যখন জনসমক্ষে এসেছিল আম আদমি পার্টি, তখনও কি কেউ ভেবেছিল নতুন এই দলটা আগামী আট বছরে ইতিহাস গড়বে? শুধু কি ইতিহাস গড়া, উল্টে দেবে সব হিসেব নিকেশ? কোনও রাজনৈতিক পরিচিতি ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করাই শুধু নয়, কংগ্রেস-বিজেপির মতো বর্ধিষ্ণু দলকে পিছনে ফেলে পর পর তিন বার তাঁর দল আসবে দিল্লির ক্ষমতায়?
এমন দিনেই নিশ্চিন্তে ‘মাফলার ম্যান’ মুচকি হেসে বলতে পারেন, ‘নাথিং সাকসিডস লাইক সাকসেস।’ 
14th  February, 2020
মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? 
বিশদ

বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা।
বিশদ

19th  February, 2020
ট্রাম্পের ভারত সফর এবং প্রাপ্তিযোগের অঙ্ক 

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সফর মাত্র দু’ঘণ্টার। আর তাতে আয়োজন পাহাড়প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! তাই এতটুকু ফাঁক রাখতে নারাজ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (বা বেসরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)।  বিশদ

18th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

17th  February, 2020
স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

17th  February, 2020
এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

 ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। বিশদ

15th  February, 2020
রাজনীতির কাছে মানুষের চাহিদাটাই
বদলে দিল দিল্লির এই ভোট-সংস্কৃতি
হারাধন চৌধুরী

 প্রতিমা গড়ে পুজো করা আর ভগবানকে লাভ করা এক নয়। প্রতিমা সাজিয়ে পুজো যে-কেউ করতে পারে। কিন্তু, ভগবান লাভ? মানুষ চিরদিন মনে করে এসেছে, সে শুধু সাচ্চা সাধকের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এসে একেবারে অন্যকথা বললেন।
বিশদ

13th  February, 2020
সেনাবাহিনীও যখন রাজনীতির অস্ত্র
শান্তনু দত্তগুপ্ত

লঞ্চপ্যাড মাত্র ৫০ মিটার দূরে... অন্ধকারের মধ্যেই তাঁর চোখ দু’টো খুঁজে চলেছে... নজরে এসেও গেল দুই জঙ্গি... ছায়ার মতো সেঁটে আছে লঞ্চপ্যাডের অন্ধকারে। নাইট ভিশন গ্লাস চোখে লাগিয়ে নিশ্চিত হলেন মেজর মাইক ট্যাঙ্গো। আগেভাগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার কারণ আরও ছিল তাঁর কাছে।
বিশদ

11th  February, 2020
রাজস্ব-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রেখেই জনমুখী বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এই বাজেট নিঃসন্দেহে জনমুখী, তবে রাজস্ব-শৃঙ্খলা (ফিসকাল ডিসিপ্লিন) যথেষ্ট বজায় রেখে জনমুখী বাজেট পেশ করলেন অমিতবাবু। প্রথমে রাজস্ব-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে আসা যাক। বিশদ

11th  February, 2020
মানুষ কী চায়, বুঝিয়ে দেবে দিল্লির ভোটের ফল
সন্দীপন বিশ্বাস

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘বাহুবল ও বাক্যবল’ নিবন্ধে দুই প্রকার বলের প্রভূত ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও তিনি বলেছেন, বাহুবল পশুর বল এবং বাক্যবল মানুষের বল, তা সত্ত্বেও মনুষ্য সমাজে বাহুবলের প্রয়োগ অনবরত দেখা যায়। মানুষের বল সমাজ গঠনে কখনও কখনও নিশ্চয়ই কাজে লাগে। কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ আপন স্বার্থে এই বাহুবলকে ব্যবহার করে। 
বিশদ

10th  February, 2020
সরকার দিশেহারা এবং ভীত
পি চিদম্বরম

অর্থমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন সরকারি ব্যয় নামক একমাত্র ‘ইঞ্জিন’-এর উপর আস্থা রাখতে। কিন্তু এই ইঞ্জিনটাও যে জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে এবং নড়বড়ে রাজকোষের ভূতের ছায়াটিও পড়ছে সরকারের উপর! তীব্র বেকারত্ব এবং ব্যাপক হারে ছোট ও মাঝারি শিল্প-ব্যবসা চৌপাট হয়ে যাওয়ার মতো দুটি ভয়ঙ্কর ইস্যুও অস্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী। সাম্প্রতিককালে ভারতের অর্থনীতিকে সবচেয়ে কঠিন যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে সেটা হল—স্বঘোষিত শক্তিমান এবং নির্ণায়ক (ডিসিসিভ) সরকার—যে সরকার নিজেকে দিশেহারা এবং ভীত বলেই প্রতিপন্ন করেছে।
বিশদ

10th  February, 2020
একনজরে
বাণীব্রত রায়  শিলিগুড়ি, শিলিগুড়ি শহরে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা বরাবরই। এই শহরকে পাপালির শহর বলে একডাকে চেনে ক্রিকেট দুনিয়া। ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম উইকেট রক্ষক পাপালি মানে ঋদ্ধিমান সাহা এই শহরেরই ছেলে। এখানেই তাঁর স্কুল শিক্ষা থেকে কলেজ পড়া। এই ...

বিএনএ, শ্রীরামপুর: রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বুধবার শ্রীরামপুরে একটি মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে এসে কারও নাম না করে এমনটাই দাবি করলেন রাজ্যপাল ...

সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: মালদহে ক্রিকেট খেলার জনপ্রিয়তা বাড়লেও একটা সময়ের পর খেলোয়াড়রা বেশি দূর অগ্রসর হতে পারছে না। কারণ হিসেবে মাঠের অভাবের পাশাপাশি উঠে আসছে আগ্রহের কমতির কথাও। এর আগে জেলায় এসে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গিয়েছেন খোদ সিএবির যুগ্মসচিব ...

বেজিং, ১৯ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): চীনে মহামারীর আকার নিয়েছে করোনা ভাইরাস। বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়ে গেল। একইসঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৫। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। লটারি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সামাজিক ন্যায় দিবস
১৯৪৭- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ঘোষণা করলেন, ১৯৪৮-এর জুন মাসের মধ্যে ইংরেজরা ভারত ত্যাগ করে চলে যাবে
১৯৫০- স্বাধীনতা সংগ্রামী শরৎচন্দ্র বসুর মৃত্যু
১৯৭১- স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ফব নেতা হেমন্ত বসু শহরের রাজপথে প্রকাশ্যে খুন হলেন  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৭৮ টাকা ৭৩.৩১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৭ টাকা ৯৫.৭৭ টাকা
ইউরো ৭৫.৫০ টাকা ৭৯.৫৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪২,১১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, (মাঘ কৃষ্ণপক্ষ) দ্বাদশী ২৪/৩৬ অপঃ ৪/০। পূর্বাষাঢ়া ৩/১৫ দিবা ৭/২৮। সূ উ ৬/৯/৩৬, অ ৫/৩১/৩৪, অমৃতযোগ রাত্রি ১/৬ গতে ৩/৩৮। বারবেলা ২/৪১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৫০ গতে ১/২৫ মধ্যে। 
৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, দ্বাদশী ২৭/৩৪/৪৬ সন্ধ্যা ৫/১৪/৪৩। পূর্ব্বাষাঢ়া ৭/২৪/৪১ দিবা ৯/১০/৪১। সূ উ ৬/১২/৪৯, অ ৫/৩০/২৩। অমৃতযোগ রাত্রি ১/০ গতে ৩/২৮ মধ্যে। কালবেলা ২/৪১/০ গতে ৪/৫/৪১ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৫১/৩৬ গতে ১/২৬/৫৪ মধ্যে। 
২৫ জমাদিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বালি পাচার রুখতে গিয়ে প্রহৃত সরকারি আধিকারিকরা 
খড়্গপুরে বালি ও মোরামের গাড়ি ধরতে গিয়ে হামলার মুখে পড়লেন ...বিশদ

10:20:56 AM

প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দিদি 
প্রয়াত হলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ারে দিদি। আজ সকাল ৭:৫৫ ...বিশদ

10:10:31 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইম। ...বিশদ

10:08:17 AM

বীরভূমের কাঁকড়তলায় বোমাবাজি, মৃত ১ 

09:52:48 AM

শহরের বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, নিগৃহীত চিকিৎসক 
কলকাতায় ফের চিকিৎসক নিগ্রহ। এক প্রসূতির মৃত্যুর জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ...বিশদ

09:50:26 AM

 পরীক্ষার মরশুমে সিইএসসির বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর
পরীক্ষার মরশুমে সুষ্ঠু বিদ্যুৎ সরবরাহে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। সিইএসসির ...বিশদ

09:10:00 AM