Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

১২৫ বছরে স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ 
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বামী প্রণবানন্দজি অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রামে ১৩০২ বঙ্গাব্দের ১৬ মাঘ (১৮৯৬ সালের ২৯ জানুয়ারি) পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম বিষ্ণুচরণ দাস (ভুঁইয়া) ও মাতা সারদা দেবী। পরিবারের কুলদেবতা ছিলেন নীলরুদ্র শিব। মধ্যযুগে বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে এই পরিবারের আত্মীয়তা ছিল বলে কেউ কেউ মনে করেন। সেজন্য তাঁদের পদবির সঙ্গে সম্মানসূচক ‘ভুঁইয়া’ যুক্ত হয়। ভুঁইয়া অর্থে ভূমধ্যকারী বা জমিদার বোঝায়। বিষ্ণুচরণ তাঁর তৃতীয় পুত্রকে আদর করে ডাকতেন জয়নাথ। বুধবারে জন্ম বলে বাড়ির কেউ কেউ তাঁকে বুধো বলে ডাকত। অন্নপ্রাশনের সময় তাঁর নাম রাখা হয় বিনোদ।
শৈশবকাল থেকেই অত্যন্ত শান্ত, ধীর-স্থির ছিল বিনোদ। পড়ত বাজিতপুর স্কুলে। প্রায়শই নিজের চিন্তায় ডুবে থাকত। প্রত্যহ কয়েক ঘণ্টা ধ্যান করত। এইভাবে বালক বিনোদ ধীরে ধীরে ব্রহ্মচারী বিনোদে পরিণত হল। আহারে বিশেষ রুচি ছিল না। নুন ভাত, জল ভাত, আলু সেদ্ধ ভাত, ভাত ছিল তাঁর খাদ্য। অথচ এই খেয়েই প্রত্যহ মুগুর ভাঁজতেন, অজস্রবার ডন বৈঠক দিতেন। শরীরে ছিল হস্তীর বল। ১৯১৭-এ মাঘী পূর্ণিমার দিনই বাজিতপুরে সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯২৩-এ মাঘী পূর্ণিমার দিন সঙ্ঘের নামকরণ করা হয়- ‘ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ’।
বিপ্লবীদের সঙ্গে সম্পর্ক: পূর্ববঙ্গের বিপ্লবীদের সঙ্গে ব্রহ্মচারী বিনোদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশেষত ফরিদপুর জেলার বিখ্যাত বিপ্লবী সন্তোষ দত্ত ও পূর্ণচন্দ্র দাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। নিশিকান্ত দত্ত আচার্যের ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিলেন। তিনি লিখছেন— একদিন রাত্রি প্রায় ২টা বাজে। ধরণী গভীর সুপ্তিমগ্না, প্রকৃতি নীরব, নিথর। আশ্রমের কুটিরে আমি ও ব্রহ্মচারীজি শায়িত আছি। হঠাৎ কে যেন দরজায় মৃদু করাঘাত করে অনুচ্চ স্বরে ডাকল—‘‘বিনোদ দা আছেন নাকি?’’ এত গভীর রাতে সেই ডাক শুনে ব্রহ্মচারীজি উঠে বসে বললেন—‘‘দরজা খুলুন।’’ আমি দরজা খুলে দেখি ৩-৪ জন যুবক সেই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে। আলো জ্বালতে গেলে তিনি নিষেধ করলেন। আগন্তুক যুবকদের তিনি ভিতরে ডাকলেন। তারা একজন তাঁর কানে কানে কী বলল ও তারপর বাইরে জঙ্গলের ভিতরে চলে গেল। তিনি আমাকে বললেন—‘‘শীঘ্র সাতজনের মতো ভাত-ডাল রান্না করতে হবে। এরা আজ সারাদিন কিছু খায়নি।’’ আসলে ব্রিটিশ পুলিসের তাড়া খেয়ে এই যুবকদল সারাদিন ধরে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ফলে, সারাদিন কিছু খেতেও পারেনি। অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই বিপ্লবী দলকে তিনি খাওয়ান। তারপর তাঁরা বিদায় নেয়। এরকম ঘটনা আরও দু-তিনবার ঘটেছিল।
জনসেবায় হাতেখড়ি: ১৯২১-এ খুলনা জেলার সাতক্ষীরা মহকুমায় ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সংবাদ পেয়েই প্রণবানন্দজি তাঁর অনুগত ছাত্র ও তরুণদের নিয়ে সেই অঞ্চলে ছুটে গিয়ে সেবাকার্য আরম্ভ করেন। কিন্তু এই বিরাট সেবাকার্যে বহুলোক ও বহু অর্থের প্রয়োজন। খুলনা জেলার অন্যতম সুসন্তান ভারত বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় মহাশয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আচার্য দেবের পিছনে দাঁড়ালেন। প্রণবানন্দও বিভিন্ন স্কুলে-কলেজে ঘুরে ঘুরে প্রায় ৫০০ জন তরুণ কর্মী সংগ্রহ করলেন। তাদেরকে দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রায় আটমাস যাবৎ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সেবাকার্য পরিচালনা করলেন। এই ঘটনার পর প্রণবানন্দজির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
শক্তি সাধনার প্রবর্তন: আচার্য দেবের ইচ্ছা ছিল যে তিনি জাতীয় জীবনে শক্তিসাধনার প্রবর্তন করবেন। ১৯২৮-এ তীর্থশ্রেষ্ঠ কাশীধামে তিনি দুর্গাপূজা শুরু করেন। শক্তিপূজা প্রসঙ্গে প্রণবানন্দ বলেন, ‘‘হিন্দু তুমি কি জান না যে তুমি শক্তির পূজক, মহাশক্তির উপাসক? তোমার সেই শক্তির সাধনা কোথায়? একবার ধীর, স্থির হয়ে চিন্তা কর—তোমার উপাস্য দেবদেবীর সেই মহাবীরত্ব-ব্যঞ্জক লীলাভিনয়। শিবের হাতে ত্রিশূল, তাহা দেখে তুমি কি চিন্তা করবে? শ্রীকৃষ্ণের হাতে সুদর্শন, শ্রীরামচন্দ্রের হাতে ধনুর্বাণ, মা কালীর হাতে রক্তাক্ত খড়্গ—তাহা দেখে তুমি কী ভাবনা ভাববে? দশ হস্তে দশপ্রহরণধারিণী মা দুর্গার দিকে তাকিয়ে তোমার ভিতরে কী চিন্তা আসবে? এই মহাশক্তির সাধনা করে কি মানুষ দুর্বল হয়, না সবল হয়? সাধক, একবার বিশেষভাবে এই সমস্ত কথা চিন্তা কর। তারপর তুমি ভেবে ও বুঝে দেখ যে, তোমার শক্তির পূজা ও সাধনা ঠিক ঠিক হচ্ছে কি না। যদি না-হয়ে থাকে, তবে ঠিক কর যে— এখন থেকে কীভাবে তোমার আরাধ্য দেবতার পূজা উপাসনা করবে?’’
হিন্দু মিলনমন্দির ও হিন্দুরক্ষীদল গঠন: হিন্দু সমাজ সমন্বয় আন্দোলন তথা হিন্দু মিলন মন্দির ও রক্ষীদল গঠন আন্দোলন প্রবর্তন মহারাজ প্রণবানন্দজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান। ১৯৩৪ সালের শেষ থেকে তিনি এই আন্দোলন আরম্ভ করেন এবং তখন থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন—‘‘সর্বশেষে সর্বনিয়ন্তার বিশেষ ইচ্ছায় হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু মিলন মন্দির আন্দোলনের আরম্ভ- অধ্যাত্ম সাধনার মহাব্রত। ভারতের তথা সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল ইহাতেই নিহিত রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন—‘‘হিন্দুতে হিন্দুতে মিলন শীঘ্র গড়ে উঠবে, হিন্দু-মুসলমান—খ্রিস্টানে মিলন তত তীব্র সম্ভব হয়। কারণ মিলন হয়—সমানে-সমানে, সবলে-সবলে; সবলে ও দুর্বলে কখনো মিলন হয় না। সুতরাং বিশাল হিন্দু জনগণ যখন সমস্ত ভেদ-বিবাদ-বিরোধ ও অস্পৃশ্যতা ভুলে সম্মিলিত ও সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হবে, তখনই অন্যান্য জাতির সঙ্গে তার মিলন সহজ ও সম্ভব হবে।’’ হিন্দুদের গলদ সম্পর্কে তিনি বলছেন—‘‘হিন্দুর বিদ্যা আছে, বুদ্ধি আছে, অর্থ আছে, ব্যক্তিগত শক্তি-সামর্থ্যও যথেষ্ট আছে। কিন্তু নাই কেবল তাদের মধ্যে একতা, সঙ্ঘবদ্ধতা বা সংহতি শক্তি। তাদের মধ্যে এই সঙ্ঘশক্তি জাগিয়ে দিতে পারলেই হিন্দুজাতি জগতে অজেয় হয়ে দাঁড়াবে।’’ এই দোষ-ত্রুটি-দুর্বলতা দূর করার জন্যই তিনি ‘হিন্দুমিলন মন্দির’ আন্দোলন আরম্ভ করেন।
তা ছাড়া গ্রামের সমস্ত যুবকদের নিয়ে প্রত্যেক মিলনমন্দিরে একটি করে ‘হিন্দুরক্ষীদল’ গঠন করা হবে। এই রক্ষীদল সম্পর্কে আচার্য প্রণবানন্দ বলেন—‘‘সমগ্র হিন্দু-সমাজকে ধর্ম-মান-ইজ্জত, স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার্থে সজাগ ও সতর্ক করে তুলবার জন্যই আমার এই রক্ষীদল গঠন আন্দোলন। অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ ও প্রতিকারের জন্য স্থিরসঙ্কল্প যে, দেহে একবিন্দু রক্ত থাকতেও হিন্দুর ধর্ম, মান, ইজ্জত, স্বার্থ ও অধিকারে কাকেও হস্তক্ষেপ করতে দিব না—এরূপ সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা যার সেই হবে প্রকৃত রক্ষী।’’
শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রণবানন্দজির সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ভারত সেবাশ্রমের সন্ন্যাসী স্বামী অরুণানন্দ তাঁর ‘শ্রীশ্রীপ্রণবানন্দচরিতামৃত’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-১০০) লিখেছেন, ‘‘১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দের অগাস্ট মাসে জন্মাষ্টমীর শুভ তিথিতে কলিকাতার বালিগঞ্জে এক বিরাট হিন্দুধর্ম সম্মেলনে প্রখ্যাত দেশনেতা বাঙ্গালীর গৌরব ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। সম্মেলনের পূর্বে ভগবান আচার্যদেব পর পর পাঁচদিন শ্যামাপ্রসাদ মহাশয়কে তাঁর নিকটে আনবার জন্য সন্ন্যাসীদের প্রেরণ করেন। কিন্তু অত্যধিক কাজের চাপে তিনি তখন আসতে পারেন নাই। শেষে জন্মাষ্টমীর সম্মেলনের দিন বৈকাল ৫টায় শ্রীমৎ আচার্যদেব মণ্ডপের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রীযুত শ্যামাপ্রসাদ মহাশয় এসে পৌঁছিলে শ্রীমৎ আচার্যদেব তাঁকে নিয়ে সভামণ্ডপে উঠলেন। মঞ্চের উপর উঠে শ্রীশ্রী আচার্যদেব সহস্র সহস্র উৎসুক দর্শকের সামনে স্বীয় কণ্ঠের আশীর্বাদী ফুলমালা স্বহস্তে শ্রীযুত শ্যামাপ্রসাদ মহাশয়ের গলায় পরিয়ে দিয়ে আশীর্বাদদান ও শক্তিসঞ্চারপূর্বক স্বীয় আসন গ্রহণ করেন। এতে প্রবীণ সঙ্ঘ-সন্ন্যাসীগণ এবং দর্শক জনসাধারণ বিস্ময়ে একেবারে হতবাক হয়ে যান। কারণ ইতিপূর্বে শ্রীশ্রী আচার্যদেব কখনও কাহারও গলায় স্বহস্তে মালা পরিয়ে দেন নাই। সম্মেলনের শেষে বিশ্রাম মন্দিরের কক্ষে প্রবেশ করে তিনি পূজ্য শ্রীমৎ স্বামী বেদানন্দজিকে শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—‘‘আজ বাঙ্গালী হিন্দুর স্বপক্ষে দাঁড়াবার লোক ঠিক করে দিয়ে এলাম’’।
এর কিছু মাস পরেই ১৯৪১ সালের ৮ জানুয়ারি আচার্য প্রণবানন্দজি কলকাতার বালিগঞ্জ আশ্রমে দেহত্যাগ করেন।
 লেখক কলকাতায় মৌলানা আজাদ কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক (মতামত ব্যক্তিগত)  
29th  January, 2020
করোনার পরেও আছে এক অন্ধকার সময়
সন্দীপন বিশ্বাস

 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তখন যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত। তাঁর ওই অবস্থা নিয়ে সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন। ‘আমরা চাঁদা তুলে মারব কীট/... বসন্তে কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে সে কীসের বসন্ত!’
বিশদ

জরুরি দ্রুত এবং ব্যাপক জনমুখী পদক্ষেপ
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

করোনা ভাইরাস ভারতীয় অর্থনীতির সামনে একই সঙ্গে একটা বড় ধাক্কা এবং কিছুটা সুযোগ দিয়ে গেল। এমনিতেই বৃদ্ধির হার কমতে কমতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। আশা করা যাচ্ছিল এবার হয়তো সেটা ৫ শতাংশের কাছে পৌঁছবে।
বিশদ

গ্যালারি শো কতদিন?
খাবার জুটবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ব্যবসার কাজে হংকং গিয়েছিলেন বেথ এমহফ। কাজ সেরে পার্টি... তারপর দেশে ফেরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো হয়ে যখন মিনিয়াপোলিস ফিরলেন, ততক্ষণে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, চার, ১৬, ২৫৬... বাড়তে শুরু করল সংখ্যা। সর্দি, কাশি, জ্বর... মৃত্যু। এটাই ছিল চক্র। বিশদ

07th  April, 2020
যাও সুখের সন্ধানে যাও
অতনু বিশ্বাস

 সাম্প্রতিক ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গিয়েছিলেন দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে। পূর্বনির্ধারিত ‘হ্যাপিনেস ক্লাস’-এ যোগ দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুখের ক্লাস দেখতে। বিশদ

07th  April, 2020
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

06th  April, 2020
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
একনজরে
 রিও ডি জেনেইরো, ৭ এপ্রিল: বিশ্ব ফুটবলে এক দশকের বেশি সময় ধরে দাপট দেখিয়ে চলেছেন লায়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে অনেকের মতে, এই দুই ...

  ফতেপুর (উত্তরপ্রদেশ), ৭ এপ্রিল (পিটিআই): দুই কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরের মালাওয়াইনে। পুলিশ আত্মহত্যা বললেও এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ, কিশোরের পরিবারের দাবি, দু’জনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ...

 কিয়েভ (ইউক্রেন), ৭ এপ্রিল (এপি): করোনা আতঙ্কের মধ্যে চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ইউক্রেনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরমাণু কেন্দ্র লাগোয়া জঙ্গলে দাবানল লেগে যাওয়ার এই বিপত্তি তৈরি হয়েছে। ...

 জীবানন্দ বসু, কলকাতা: করোনা কেন্দ্রিক লকডাউনের জেরে গত কয়েকদিনে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত খাদ্য-রসদের অভাবই যে তার অন্যতম কারণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসায় বাড়তি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত সাফল্য নাও দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি শ্বাসকষ্ট ও বক্ষপীড়ায় শারীরিক ক্লেশ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৭: বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁ মারা যান।
১৭৫৯: ব্রিটিশ বাহিনী ভারতের মাদ্রাজ দখল করে।
১৮৫৭: বারাকপুরে সিপাহি বিদ্রোহের নায়ক মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসি
১৮৯৪: সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯০২: কলকাতায় মূক ও বধির বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২৯: দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে বোমা ছুঁড়ে ধরা পড়লেন ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত
১৯৫০: ভারত পাক চুক্তি স্বাক্ষর করলেন লিয়াকত-নেহরু
১৯৫০: বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর মৃত্যু
১৯৭৩: স্পেনের চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর মৃত্যু
১৯৭৬: ফুটবলার গোষ্ঠপালের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.০৯ টাকা ৭৬.৮১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৫৭ টাকা ৯৪.৮৬ টাকা
ইউরো ৮০.৬৮ টাকা ৮৩.৭২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৪ চৈত্র ১৪২৬, ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) চতুর্দশী ১৬/২৬ দিবা ১২/২। উত্তরফাল্গুনী ৯/৩০ দিবা ৯/১৫। সূ উ ৫/২৭/২৬, অ ৫/৫০/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৭ গতে ১০/২৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৩ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে ৫/০ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/১৫ মধ্যে পুনঃ ১/৩৫ গতে ৩/৮ মধ্যে। বারবেলা ৭/০ গতে ৮/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৪৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১৭ গতে ৮/৪৪ মধ্যে।
২৪ চৈত্র ১৪২৬, ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার, চতুর্দশী ১৩/৫৮/১৪ দিবা ১১/৪/৯। উত্তরফাল্গুনী ৭/১০/১০ দিবা ৮/২০/৫৫। সূ উ ৫/২৮/৫১, অ ৫/৫০/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৪ গতে ১০/২৩ মধ্যে ও ১২/৫৩ গতে ২/৩২ মধ্যে ও ৩/২২ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৭ মধ্যে ও ৮/৫৬ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৩৩ গতে ৩/৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/১/৩৬ গতে ৮/৩৪/২২ মধ্যে, কালবেলা ১/১২/৩৮ গতে ২/৪৫/২৩ মধ্যে।
১৩ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবার আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়াল ফ্রান্সে
প্রথমে আমেরিকা। তারপর স্পেন, ইতালি ও জার্মানির পর এবার করোনায় ...বিশদ

08:32:00 AM

 আজ সুপার ফুল মুন
৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে পূর্ণিমা লেগেছে। পঞ্জিকা ...বিশদ

08:28:19 AM

করোনা: নতুন করে ইন্দোরে আরও ২২ জন আক্রান্ত
নতুন করে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে আরও ২২ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

08:23:01 AM

২৪ ঘণ্টায় আমেরিকায় মৃত প্রায় ২০০০: জন্স হপকিন্স
গত ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ...বিশদ

08:17:08 AM

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুশুনিয়া পাহাড়ে
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বাঁকুড়া শুশুনিয়া পাহাড়ে। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন ...বিশদ

08:08:43 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৭৫৭: বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁ মারা যান।১৭৫৯: ব্রিটিশ বাহিনী ভারতের ...বিশদ

08:04:26 AM