Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

১৯৯১ সালে বাজেট পেশ করার আগে ভিক্টর হুগোকে উদ্ধৃত করেছিলেন মনমোহন সিং... ‘কোনও ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার যদি সময় এসে থাকে, তাকে ঠেকানোর ক্ষমতা পৃথিবীর কোনও শক্তির নেই।’ ভারতের অর্থনীতিকে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাটাই ছিল সেই ভাবনা। আর কখন? বৈদেশিক ঋণ যখন জাতীয় গড় উৎপাদন বা জিডিপির ২৩ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ ঋণ জিডিপির ৫৫ শতাংশ। একটা দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে যা মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয়! বেকারত্ব বাড়ছে, লাইসেন্স রাজ ও সরকারি লাল ফিতের ফাঁসে আটকে মহা সঙ্কটে শিল্প, উৎপাদন তলানিতে, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধুঁকছে আর্থিক বৃদ্ধির হার। এই রোগের লক্ষণ আরও ছিল... আর্থিক ঘাটতি জিডিপির ৮ শতাংশ, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশ আর খুচরোয় মূল্যবৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশ। সোজা কথায় আটের দশকের শেষে ভারতের অর্থনীতি কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। আর এমন একটা সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মনমোহন সিং। পেশ করেছিলেন ওই বাজেট। ভারতে আর্থিক উদারনীতির প্রবেশ ঘটেছিল সেদিন। তাই ওই বছরের বাজেট ভারতের অর্থনীতির জন্য একটা মাইল ফলক হয়ে রয়েছে। সেই সময়... আর এই সময়।
আরও একটা বাজেট আসন্ন। কোনও সন্দেহ নেই ভারতের অর্থনীতি এখনও প্রবল টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক, জাতীয় গড় উৎপাদনের হার ছ’বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা তোপ দেগে চলেছেন... এই পরিস্থিতিতে বাজেট পেশ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই কাজটাই শনিবার করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অর্থনীতি নিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে তাঁকে দেখা যায়নি ঠিকই, তবে রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে হালুয়া উৎসব পালন করে ফেলেছেন। বিশেষজ্ঞরা চ্যানেলে চ্যানেলে বসে পড়েছেন বাজেট পূর্বাভাস দিতে। সঙ্গে অবশ্য বিশ্লেষণ চলছে, অর্থমন্ত্রীর হাতে এই বাজেট সংক্রান্ত ঠিক কতটা ক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই যে এবার চালিকাশক্তি হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন, তা গোটা দেশ দেখছে। তাই এই বাজেট নিয়ে নির্মলার থেকেও বেশি আশা-আতঙ্ক জমাট বেঁধে আছে নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশার আলো একটাই, যতই বেহাল হোক না কেন, তাঁর জমানার অর্থনৈতিক হাল সেই ‘মনমোহনী’ বাজেট পেশ করার সময়ের তুলনায় অন্তত ভালো। দেখা যাক, এবার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ঠিক কী?
১) প্রথমেই আসতে হবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে। বাজেটে এমন কোনও পদক্ষেপ সরকারকে ঘোষণা করতেই হবে, যার মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম দেওয়া যায়। এই মুহূর্তে মূল্যবৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আনাজ, আলু, পেঁয়াজ আগুন দাম। দৈনন্দিন বাজার করতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। আর প্রবল লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদর। এর অবশ্য আর একটা কারণও রয়েছে—জিএসটি। নোট বাতিল ছোটখাট কোম্পানিগুলির কোমর ভেঙে দিয়েছিল। আর জিএসটি সোজা কথায় পথে বসিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপরও জিএসটি এমনভাবে মেঘ বিস্তার করে রেখেছে যে, নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনধারণই অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকার এবং জিএসটি নির্ধারক কমিটিকে সবার আগে এদিকে নজর দিতে হবে। মানুষের হাতে টাকার জোগান নেই। বড় কোম্পানিগুলিতে লাগাতার ছাঁটাই হচ্ছে। এবং যাঁদের চাকরি যাচ্ছে, শত চেষ্টা করে তাঁরা নতুন চাকরি জোটাতে পারছেন না। ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও। কঠিন সত্যিটা হল, কোম্পানিগুলি খরচ কোনও মতেই বাড়াতে চাইছে না। লোকসান করে কর্মী নিয়োগ তারা করবে না। বাজারে পণ্যের চাহিদা থাকলে উৎপাদন বাড়বে, তখন না হয় কর্মসংস্থানের কথা ভাবা যাবে। আপাতত নয়। তাও বড় কোম্পানিগুলি কিছুটা হলেও ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে। বেহাল অবস্থা ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র সেক্টরের। এই এমএসএমই ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চেয়েছেন নীতিন গাদকারি। যদি এই সেক্টরকে চাঙ্গা করা যায়, তাহলে তা অর্থনীতির পক্ষে মঙ্গল হবে। কারণ এই ছোটখাট শিল্পগুলিতেই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। তবে প্রস্তাব বা ভাবনা তো এই একটা নয়! আরও অনেক আছে। তার জন্য অর্থের জোগান হবে কীভাবে? এয়ার ইন্ডিয়ার ১০০ শতাংশ বেসরকারিকরণ করছে কেন্দ্র। পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে ভারত পেট্রলিয়ামের মতো সংস্থাও। এ কথা সত্যি, লাভজনক সংস্থার শেয়ার বিক্রি না করলে কাঙ্ক্ষিত দাম সরকার পাবে না। যে সংস্থা ধুঁকছে, তার শেয়ার ছাড়লে কম দামই পাওয়া যাবে। আর সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতির হাল ফেরানো। তাই নজরে লাভজনক সংস্থাই থাকবে। একইসঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোও জরুরি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দেশের প্রায় সর্বত্র কাঁচা সব্জির দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। কৃষিক্ষেত্র, বিশেষত কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়িয়ে এবং পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিলে এই সঙ্কট থেকে মুক্তির দিশা মিলতে পারে।
২) ব্যক্তিগত আয়কর। এখন আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হয় না। আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত কর দিতে হয় ৫ শতাংশ। পাঁচ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা আয়ের জন্যে ২০ শতাংশ এবং তার উপর ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়। বছর খানেক হতে চলল, উৎপাদন ক্ষেত্রে বিপুল ধাক্কা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তলানিতে এসে ঠেকায় মরিয়া হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একটা পদক্ষেপ নিয়েছিল... কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত করে দেওয়া। ভাবনা ছিল, মুকেশ আম্বানি, আদানি, বিড়লাদের মতো ধনকুবেরদের কর্পোরেট কর কমিয়ে আনলে সেই বেঁচে যাওয়া টাকা তাঁরা এবং অন্যান্য সব বড় সংস্থাই উৎপাদনে বিনিয়োগ করবেন। কর্মসংস্থান বাড়বে, বাজারও গতি পাবে। বাস্তবে তা হয়নি। মাঝখান থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ স্ল্যাব নামিয়ে আনার দাবি প্রবল হয়েছে। আর তা হওয়ার সম্ভাবনাও বিলক্ষণ রয়েছে। কারণ, কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক। এই কয়েকটা ঘণ্টা খানিক আশা নিয়ে ঘর করার মতো হোক। আসা যাক পরের সম্ভাবনায়।
৩) এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষ জীবনবিমা, পিপিএফের মতো খাতে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পেতে পারেন। এই খাতে ছাড়ের অঙ্কটা যদি সরকার আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্তও করে, তাহলে মানুষ বিনিয়োগ করার দিকে ঝুঁকবে। এর থেকে সরকারের কোষাগারে যে টাকাটা ঢুকবে, তা দিয়েও কেন্দ্রীয় সরকার পরিকাঠামো খাতে খরচ বাড়াতে পারবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের পর যে অর্থ হাতে আসবে, তাও এই খাতে ব্যয় করতে পারে কেন্দ্র। তাহলে বাজারে নগদের জোগান বাড়বে। এছাড়া বাজেটে ৫০ হাজার টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের অঙ্কটা বাড়িয়ে ৭৫ থেকে ৮০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারে কেন্দ্র। সেটাও সাধারণ চাকরিজীবীকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
৪) গৃহঋণের সুদে এখন আমরা আয়করে সরাসরি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পেয়ে থাকি। এই পরিমাণটা যদি বাড়ানো যায়, তাহলে ঋণ নিয়ে জমি বাড়ি কেনার দিকে মানুষ আরও বেশি করে ঝুঁকবে। লাভের মুখ দেখবে ব্যাঙ্কগুলি। তার উপর ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনলে আয়করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা করে রেখেছেন নির্মলা সীতারামন। ৪৫ লক্ষ টাকার উচ্চসীমা যদি আরও বাড়ানোর ঘোষণা এই বাজেটে হয়, সেটাও অদূর ভবিষ্যতে গৃহঋণের ক্ষেত্রে বাড়তি সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে। কারণ, কলকাতা শহরের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ৪৫ লক্ষ টাকার বাজেট অনেক সময়ই কম মনে হয়। অথচ, বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত চাকরিজীবীরা অনেকেই এখন এমন বেতন পান, যা দিয়ে লোন করে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি দামি ফ্ল্যাট কেনাই যায়। আর যদি দিল্লি বা মুম্বইয়ের মতো শহরকে তালিকায় আনতে হয়, ৪৫ লক্ষ টাকার মধ্যে বলতে গেলে একটা বাথরুম আর একটা বারান্দা মিলতে পারে। কাজেই ৪৫ লক্ষ টাকার অঙ্কটাকে সরকার ৭০-৭৫ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলে মন্দ হয় না।
সার্বিকভাবে দেখতে গেলে, এই মুহূর্তে মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব। এই দুয়ের সাঁড়াশি চাপে আম ভারতীয়দের সঙ্কট প্রতিদিন বাড়ছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে বুঝতে হবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে থাকলে তার প্রভাবটা কিন্তু রান্নাঘরের পাশাপাশি ভোটযন্ত্রেও পড়বে। পরের সপ্তাহেই দিল্লি নির্বাচন। তারপর একে একে অন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বিধানসভা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এবং বিজেপিকে মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রায় সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেই তাদের ডুবতে হয়েছে। এই বাজেটে তাই সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত দু’টি—কর্মসংস্থান এবং বাজারে টাকার জোগান। একমাত্র তবেই বাজারে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে। সেই চাহিদা পূরণ করতে গেলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এবং ভারতের অর্থনীতি ফের গায়ের ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু নির্মলা সীতারামনের বাজেট কি সেই দিশা দেখাবে? সেই কৌশলী এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জোরও কি আছে মোদি সরকারের? উত্তর মিলবে ১ ফেব্রুয়ারি।
তবে নরেন্দ্র মোদির আক্ষেপ এখানেই একটাই হওয়া উচিত... তাঁর মন্ত্রিসভায় কোনও মনমোহন সিং নেই।
28th  January, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি, ৩১ মার্চ (পিটিআই): করোনার বিস্তার রুখতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। আর তা করবে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন। এই প্রযুক্তি বানিয়ে ফেললেন গুয়াহাটি আইআইটির পড়ুয়ারা।  ...

মেলবোর্ন, ৩১ মার্চ: গাড়ি থেকে চুরি গেল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের অধিনায়ক টিম পেইনের ওয়ালেট। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার হোবার্টে। করোনার জেরে গোটা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে চলছে লকডাউন। ...

সংবাদদাতা, মালদহ: মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও করোনা পরীক্ষার দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে।   ...

বিএনএ, বাঁকুড়া: করোনার প্রকোপ বাড়লেও মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঠিকা শ্রমিকদের রাখার জন্য আলাদা পরিকাঠামো তৈরি করছে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বাড়তি অর্থ পাওয়ার যোগ রয়েছে। পদোন্নতির পাশাপাশি কর্মস্থান পরিবর্তন হতে পারে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পক্ষে থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

এপ্রিল ফুলস ডে
১৬২১- শিখ ধর্মের নবম গুরু তেগ বাহাদুরের জন্ম,
১৮৮৯- রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কে বি হেডগেওয়ারের জন্ম,
১৯৩৭- মহম্মদ হামিদ আনসারির জন্ম,
১৯৪১- ক্রিকেটার অজিত ওয়াদেকারের জন্ম,
১৯৮৪- ক্রিকেটার মুরলী বিজয়ের জন্ম 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৬৪ টাকা ৭৬.৩৬ টাকা
পাউন্ড ৭৬.৩৬ টাকা ৯৪.৮৪ টাকা
ইউরো ৮১.৭৩ টাকা ৮৪.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) অষ্টমী ৫৫/১৯ রাত্রি ৩/৪১। আর্দ্রা ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৯। সূ উ ৫/৩৩/১, অ ৫/৪৮/১১, অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৮ গতে ১১/১৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে ৪/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৬ মধ্যে ১০/৩০ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩৬ গতে ১০/৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪১ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৩৬ গতে ৪/৪ মধ্যে।
১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, অষ্টমী ৪১/১৫/৩৫ রাত্রি ১০/৪/৫৮। আর্দ্রা ২২/৩০/৫২ দিবা ২/৩৫/৫। সূ উ ৫/৩৪/৪৪, অ ৫/৪৮/৩১। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২১ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/৩৪ মধ্যে। কালবেলা ৮/৩৮/১১ গতে ১০/৯/৫৪ মধ্যে।
 ৭ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১৩৭২ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

02:08:38 PM

করোনা: সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পুরুলিয়ায় ধৃত ৩ 
সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা ইস্যুতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল ...বিশদ

02:06:53 PM

করোনা: কালিম্পংয়ে মৃতের সহযাত্রীকে পাঠানো হল আইসোলেশনে 
কালিম্পংয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মহিলার সহযাত্রীকে পাঠানো হল ...বিশদ

02:05:50 PM

করোনা: বাজার স্থানান্তর নিয়ে খানাকুলে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ 
করোনার জেরে হুগলির খানাকুলে একটি বাজার স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে শাসকদলের ...বিশদ

02:05:36 PM

পুরুলিয়ায় রেশন দেওয়া নিয়ে অশান্তি, পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর 
পুরুলিয়ার বোরো থানা এলাকার আঁকরো গ্রামে রেশনে কম চাল ...বিশদ

01:42:56 PM

মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি সুরাত থেকে ফেরা যুবক, আজ পরীক্ষা 
সুরাত থেকে ফেরা এক যুবককে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ...বিশদ

01:35:52 PM