Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর।
২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮। আর ২০১৮-১৯ গিয়েছে সেই বছরটা, যেবার অর্থনীতি পতনের সূচনা দেখল এবং বৃদ্ধির হার প্রত্যেক ত্রৈমাসিকে (কোয়ার্টার) একটু একটু করে নেমে যেতে থাকল। সেবার বৃদ্ধির হার নেমে গিয়েছিল এইভাবে: ৮.০, ৭.০, ৬.৬ ও ৫.৮ শতাংশ। শেষমেশ ২০১৯-২০ একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া বছর হিসেবেই কাটল। কারণ, সরকার কারও কোনও সতর্কবার্তা গ্রাহ্য করল না এবং বৃদ্ধির হারটা ৫ শতাংশের নীচে নেমে যেতে দিল।
বিপর্যয়ের ব্যাপ্তি
এখন একেবারে স্পষ্ট হয়েছে যে:
 ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের হিসেব-নিকেশ চূড়ান্ত হলে দেখা যাবে যে বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নীচে নথিভুক্ত হয়েছে।
 বাজেট এস্টিমেটের তুলনায় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হবে চোখে পড়ার মতো—নিট কর রাজস্ব এবং বিলগ্নিকরণের মতো দুটি প্রধান খাতেই।
 বাজেট এস্টিমেটে ফিসকাল ঘাটতি ৩.৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল। এবার সেটা ৩.৮-৪.০ শতাংশের কাছাকাছি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 পূর্ববর্তী বছরের সাপেক্ষে পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসার দুটিতেই বৃদ্ধির হার নেতিবাচক হতে চলেছে।
 বর্তমান মূল্যমানে বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের অঙ্কটা প্রায় ৫৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৪৩১ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। (বলে রাখা দরকার, বিনিয়োগের পরিমাণটা নির্ধারণ করা হয়েছে গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফর্মেশন বা জিএফসিএফ পদ্ধতিতে।) বেসরকারি বিনিয়োগের এই চেহারা ঝুঁকিগ্রহণে বিনিয়োগকারীদের অনীহা এবং অবসন্নতার লক্ষণ নির্ণায়ক।
 বছরটা জুড়ে ব্যক্তিগত উপভোগে অনীহাই লক্ষ করা গিয়েছে।
 কৃষি ক্ষেত্রটির কেটেছে ভয়ঙ্কর চাপের মধ্যে এবং পরিণামে বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের মতো দাঁড়াবে।
 উল্লেখযোগ্য হারে কাজের সুযোগ তৈরি হয় ম্যানুফ্যাকচারিং, খনি এবং নির্মাণশিল্প ক্ষেত্রে। ২০১৯-২০ সালে এইসব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের করুণ দশা, দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত করবে।
 শিল্পে ঋণগ্রহণের ক্ষমতা বাড়েনি। এই প্রশ্নে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের। পূর্ববর্তী বছরের সাপেক্ষে শিল্পে সার্বিকভাবে ঋণবৃদ্ধির (ক্রেডিট গ্রোথ) হার হবে নেতিবাচক।
 খুচরো মূল্যসূচকের (কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই) উপর ভিত্তি করে বছর শেষে যে মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারিত হয়, সেটা এবার ৭ শতাংশ ছাপিয়ে যাবে, যার ভিতরে খাদ্যদ্রব্যের দামের বৃদ্ধি ঘটবে ১০ শতাংশের বেশি। এই দুর্ভোগের সঙ্গে যুক্ত হবে কর্মহীনতার বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মজুরি বা সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি না-হওয়ার মতো সমস্যাটি।
প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ানের মতে, ভারতের অর্থনীতির গতি হয়েছে ‘ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট’-এ। পাশাপাশি, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, অর্থনীতি ধুঁকছে (doing badly)। সমালোচকদের পর্যবেক্ষণ থেকে সরকারকে এমন উদ্বিগ্ন মনে হয়নি যে পরবর্তী ত্রৈমাসিকে উন্নতি করার মতো পদক্ষেপ তারা করবে। কারণ সরকারটি আচরণে চোখ বোজা (উটপাখির মতো) গোছের। তার ফলে, প্রতিটি ক্ষেত্রে যথার্থ সুরাহার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবর্তে সরকার যেসব পদক্ষেপ করেছে তার সবই ভুলভাল। উদারহণ দিচ্ছি: যদি কর ছাড় দিতে হয়, তবে সরকারের উচিত অপ্রত্যক্ষ করে ছাড় দেওয়া। তার পরিবর্তে এই সরকার কী করল? বৃহৎ ব্যবসায়ীদের (কর্পোরেট সেক্টর) কপাল খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করল। তাদের দেওয়া হল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কর ছাড়। প্রতিদানে কোনও বড় মাপের শিল্প-বাণিজ্য লগ্নি দেশ পায়নি। সরকারের উচিত ছিল গরিবের হাতে টাকার জোগান বাড়িয়ে দিয়ে বাজারে সাধারণ পণ্যের চাহিদায় জোয়ার আনা। পরিবর্তে, গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে গত বছর যা বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছিল, তা ছেঁটে দেওয়া হল। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—১০০ দিনের কাজ (এমজিএনআরইজিএ), স্বচ্ছ ভারত মিশন, শ্বেত বিপ্লব, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। বরাদ্দ সঙ্কোচনের পর যে অর্থ ধরা হয়েছিল, খরচপাতি বাস্তবে তার চেয়েও কম হয়ে থাকতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর বাজেট: তিনি কী করবেন?
অর্থমন্ত্রী অথবা তাঁর সহকারীদের ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী যখন ১২ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করলেন, তখন অর্থমন্ত্রীর ভিতরে ভয় ভয় ভাব এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ করা গেল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত সংবাদ এবং অংশগ্রহণকারীদের তরফে রেখে যাওয়া কিছু সংকেত থেকে অনুমান করছি যে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারির বাজেটে নীচের ব্যাপারগুলি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে:
১. যেসব ব্যক্তির বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার ভিতর, আয়কর হারে তাঁদের কিছু সুরাহা দেওয়া।
২. কোম্পানির কাগজ (সিকিউরিটি) দু’বছরের বেশি সময় ধরে রাখার কারণে যে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস) হয়, তার উপর প্রদেয় কর প্রত্যাহার করে নেওয়া অথবা ওই কর কমিয়ে দেওয়া।
৩. ডিভিডেন্ড বণ্টন কর (ডিভিডেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন ট্যাক্স) -এর হার কমানো।
৪. প্রত্যক্ষ কর সূচক (ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস কোড) প্রবর্তনের আশ্বাস।
৫. বাছাই কয়েকটি ক্ষেত্রে জিএসটিতে স্বল্প মেয়াদি হ্রাস। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হল নির্মাণ শিল্প।
৬. পিএম-কিষানে নাগরিকদের বার্ষিক প্রাপ্যের অঙ্কটা ৬০০০ টাকার বেশি করা এবং/অথবা এই স্কিমে বেনিফিসিয়ারি বা উপকৃত ব্যক্তিদের তালিকায় আরও কিছু শ্রেণীকে যুক্ত করা।
৭. কর রাজস্ব আদায়ের অঙ্কটা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হতে পারে অথবা বিরাট অঙ্কের ঋণ নেওয়া হতে পারে। আর সেইমতো প্রতিরক্ষা, ১০০ দিনের কাজ, এসসি এসটি ওবিসি ও সংখ্যালঘু ছাত্রবৃত্তি, আয়ুষ্মান ভারত (স্বাস্থ্য বিমা) প্রভৃতি কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ অনেকখানি বাড়িয়ে দেওয়া।
৮. সাধারণভাবে শিল্পে এবং নির্দিষ্ট করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগীদের (এসএমই) জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের জোগান দিতে একটি অথবা দুটি ডেভেলপমেন্টাল ফিনান্স ইনস্টিটিউশন (ডিএফআই) প্রতিষ্ঠা করা।
৯. সংকীর্ণ উদ্দেশ্যে সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিরাট আকারে বিলগ্নিকরণ কর্মসূচি এবং/অথবা সরকারি সম্পদ বেচে অর্থ সংগ্রহের কর্মসূচি নেওয়া।
প্রতিবন্ধক অর্থনীতি
উপরে যেগুলি বলা হল সবই সরকারের চিন্তা-ভাবনা স্তরের কথা। সরকার ভীষণভাবে আস্থা রেখেছে—পুঁজির জন্য কর্পোরেট সেক্টরের উপর, ভোটের জন্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উপর এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগের উপর। কাঠামোগত সংস্কারের উপযোগী ভাবনা-চিন্তার ক্ষমতা এই সরকারের সীমিত। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা মারফত ঋণ জোগানোর ব্যাপারে এই সরকারের আত্মবিশ্বাস নেই। সংরক্ষণ নীতির সমর্থক বা অবাধ বাণিজ্যের বিরোধী লবিকে ধন্যবাদ এই কারণে যে, বাণিজ্যবৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে বৈদেশিক বাণিজ্যে ‘গিভ আপ’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। শেয়ার বাজারের হাসিখুশি ভাব কমাতে নারাজ সরকার। এই সরকার ব্যাখ্যা করতে পারে না তার সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) সম্বন্ধ এবং স্থির করতে পারে না—দু’জনে মিলে দেশের আর্থিক সুস্থিতি কীভাবে বজায় রাখতে পারে, আর্থিক বৃদ্ধিতে গতি আনতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাগে আনতে পারে।
অর্থনীতিটা বিজেপি সরকারের প্রধান চিন্তার বিষয় নয়। এই সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় হল ‘হিন্দুত্ব’-এর কর্মসূচি। অন্যদিকে, দেশবাসীর চিন্তা অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি—যেমন আরও চাকরি বা কর্মসংস্থান, উৎপন্ন পণ্যের আর-একটু ভালো দাম, শ্রমিকদের আরও কিছুটা বেশি মজুরি বা আয়, আপেক্ষিক মূল্যের স্থিরতা (রিলেটিভ প্রাইস স্টেবিলিটি), আর-একটু ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণের নাগালে আসা, এবং উন্নত পরিকাঠামো।
পরিতাপের সঙ্গে এটাই স্পষ্ট যে, ভারতের মানুষ এমন একটি সরকার পেয়েছে যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতীয় অর্থনীতির গুরুত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এই কারণেই আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ) বিরক্তির সঙ্গেই উচ্চারণ করেছে—‘ড্র্যাগ অন দি ওয়ার্ল্ড ইকনোমি’। 
26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
 আগ্রা, ২৫ জানুয়ারি: কথায় বলে প্রেমের কোনও বয়স হয়না। এই প্রবাদবাক্যটি ফের একবার বাস্তবে ধরা পড়ল। আর তার ঘটল খোদ তাজমহলেরই শহর আগ্রায়। যার রূপকার ...

 ওয়াশিংটন: আরও একবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা। ব্যবসায়ীদের উন্নতির আশা রয়েছে। বিদ্যার্থীদের সাফল্যযোগ আছে। আত্মীয়দের সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দেবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৬: জন লগি বেয়ার্ড লন্ডনে প্রথম টেলিভিশন সিস্টেমকে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন
১৯৩৬: জনগণের জন্য লন্ডনে শুরু হল বিবিসি-র সম্প্রচার
১৯৩৯: আমেরিকায় নিয়মিতভাবে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু
১৭৮২ – বাঁশের কেল্লা খ্যাত বিপ্লবী তিতুমীর তথা সৈয়দ মীর নিসার আলীর জন্ম
১৮৮০ - টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির বাণিজ্যিক পেটেন্ট করেন।
১৯৬৯: অভিনেতা ববি দেওলের জন্ম
১৯৬৯: চিত্রপরিচালক বিক্রম ভাটের জন্ম
১৯৮৬: বিশিষ্ট সেতারবাদক নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৯: ভারতের অষ্টম রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটরামনের মৃত্যু
২০০২ - নাইজেরিয়ার লেগোস শহরে এক বিস্ফোরণে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুন গৃহহীন হন।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৫ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
26th  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজকের রাশিফল
মেষ: বিদ্যার্থীদের সাফল্যযোগ আছে। বৃষ: নিজের প্রতিভার দ্বারা বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করতে ...বিশদ

07:11:04 PM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৯২৬: জন লগি বেয়ার্ড লন্ডনে প্রথম টেলিভিশন সিস্টেমকে জনসমক্ষে নিয়ে ...বিশদ

07:03:20 PM

গিরিশ পার্ক এলাকায় ১১ মাসের শিশুকে অপহরণের অভিযোগ

04:55:03 PM

আনন্দপুরে একটি বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে বেঁধে লুটতরাজ দুষ্কৃতীদের, তদন্তে পুলিস 

04:18:31 PM

৮৩ যাত্রী নিয়ে আফগানিস্তানের গজনিতে ভেঙে পড়ল বিমান

04:15:59 PM

৪৫৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:11:36 PM