Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
দেশের কৃষিক্ষেত্রের ভোল বদলে ফেলা যায় এই টাকায়। ভারতের মতো কৃষি প্রধান দেশে ২০ হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে সেচের কাজ করা যায়। প্রায় ১০০টি ছোট সেচ প্রকল্প মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এই টাকায়। এই টাকা খরচ করে ৪২৫টি ছোট বাঁধ তৈরি করা যায়। সেচের জল পেলে কৃষকদের আর হাহাকার করতে হতো না। ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে আত্মহত্যাও করতে হতো না।
ক্ষুধা সূচকে ভারতের স্থান প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, নেপাল, ইরাকের থেকেও নীচে। অপুষ্টিতে ভুগছে ভবিষ্যত প্রজন্ম। এ দেশে খালি পেটে রোজ রাতে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যাটা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বাড়ছে অপুষ্টি। স্রেফ খেতে না পেয়ে কচি কচি মুখগুলির সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অথচ ওই ১৬০০ কোটি টাকায় দেশের পাঁচ হাজারের বেশি শিশুর দায়িত্ব নেওয়া যেত। ৭২৫টি গ্রামের উন্নতি করা যেত।
ওই টাকায় ঢেলে সাজানো যেত শিক্ষাক্ষেত্র। অন্তত একটি নতুন আইআইটি ক্যাম্পাস তৈরি করা যেত। একটা আইআইটি তৈরির খরচ প্রায় ১১৬৭ কোটি টাকা। তৈরি করা যেত একটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের (এইমস) ক্যাম্পাস। একটি এইমস তৈরির খরচ প্রায় ১১০৩ কোটি টাকা। তিনটি নতুন আইআইএম ক্যাম্পাস তৈরি করা যেত এই টাকায়। একটি আইআইএম ক্যাম্পাস তৈরির খরচ প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা।
অপ্রচলিত শক্তির ক্ষেত্রে আনা যেত জোয়ার। ৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি নতুন সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করা যেত এই টাকা দিয়ে। যেখানে একটি তৈরিতে খরচ প্রায় ৫২৮ কোটি টাকা। অভাবনীয় উন্নতি করা যেত মহাকাশ গবেষণায়। অন্তত তিনটি মঙ্গল অভিযানের খরচের সমতুল ওই ১৬০০ কোটি টাকা। একটি অভিযানের খরচ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর অধীনে দু’টি চন্দ্রাভিযানও করা যেত টাকায়। একটি অভিযানের খরচ মোটামুটি ৮০০ কোটি টাকা।
অথচ, অসমে এনআরসি আপডেটের জন্য, গত চার বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলা হয়েছে। নিট ফল? শূন্য। অসমে আপডেটেড এনআরসি পাশ হয়েছিল গত বছর ৩১ আগস্ট। তাতে ১৯ লক্ষ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষই হিন্দু। তাঁদের অধিকাংশই বাঙালি। এ ছাড়াও আছেন বহু গোর্খা, হিন্দিভাষী ও অসমের স্থানীয় মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অসমের আদি মুসলিম সম্প্রদায় ‘খিলঞ্জিয়া’কে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খিলঞ্জিয়া মুসলিম সম্প্রদায় মোগল আমল থেকে অসমে বসবাস করে আসছে। তাদের বলা হয় অসমের ভূমিপুত্র। এবার তাঁরা রেজিস্টার থেকে বাদ যাওয়ার পর আবেদন করতে পারবেন, এবং তাতেও অসফল হলে ডিটেনশন ক্যাম্প তাঁদের ভবিতব্য। এনআরসির সীমাবদ্ধতা কতদূর, অসম তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এনআরসি এবং তার হাত ধরে আসা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পুরনো কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই পশ্চাৎগতির কথা। অতীতে যা সমাজের একাংশকে অন্যদের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়েছিল। এনআরসির রসায়নাগার অসম অন্তত সেই ইঙ্গিত দিয়েছে। বাকি গোটা দেশ তা এখনও টেরই পায়নি।
আর শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি। ভারতের সব রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি তৈরির দাবি জানিয়ে তারা এখন বলছে, অসমের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা ভুলে ভরা নথি ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, হিন্দুস্তানে কোনও হিন্দু কখনও ‘বিদেশি’ হতে পারে না। অসমের বিজেপির নেতারা বলতে শুরু করেছেন, এনআরসির নামে রাজ্যে যা হয়েছে, তা পর্বতের মূষিক প্রসব। শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির বিধায়ক দিলীপ কুমার পাল বলেছেন, ভুলে ভরা এই তালিকা বিজেপি কিছুতেই মেনে নেবে না। তালিকায় নাম নেই বিজেপি বিধায়ক রামকান্ত দেউড়ির। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘জন্মসূত্রে আমি ভারতীয়। কয়েক পুরুষের বসবাস। আমি বৈধ ভূমিপুত্র। তাই কোনও আবেদনই করব না।’ তাহলে এবার কী হবে? আবার এনআরসি? আবার বিপুল টাকা খরচ? যদি ধরেও নেওয়া যায় যে বিজেপি আসলে দেশের মঙ্গল করতে চাইছে, সেই মঙ্গলের খরচ আপাতত বাজারের সব্জির মতই চড়া।
২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে অসমের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ১১ লাখের কিছু বেশি। এই জনসংখ্যাকে এনআরসির প্রক্রিয়ায় আনতে খরচ হয়েছে ১৬০০ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ৯ কোটি ১২ লাখের কিছু বেশি। ভাবুন একবার, এই জনসংখ্যাকে এনআরসির প্রক্রিয়ায় আনতে সরকারের কোষাগার কতটা ফাঁকা হবে। আর গোটা দেশের কথা তো ছেড়েই দিলাম। এই এনআরসি প্রক্রিয়ায় নাম তোলাতে সাধারণ মানুষের খসেছে মোটা অঙ্কের গাঁটের কড়ি। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই বাদ পড়া মানুষের পকেট থেকে মোট ৭,৮৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে শুধুমাত্র নাম তোলার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠী রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস (আরআরএজি) গ্রুপ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এমনই একটি সমীক্ষা রিপোর্ট। ‘The Economic Cost of Draft NRC: Poor Made Extremely Poor’ শীর্ষক রিপোর্টের জন্য সমীক্ষা চালানো হয়েছে অসমের বাকসা, গোয়ালপাড়া এবং কামরূপ জেলায়। ৬২ জনের এনআরসিতে নাম তোলার জন্য খরচ হওয়া টাকার অঙ্কের হিসেব নেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, ওই ৬২ জনের মোট খরচ হয়েছে ১১,৮২,০০০ টাকা, অর্থাৎ মাথা পিছু ১৯,০৬৫ টাকা। কিন্তু গরিব মানুষ আকাশ ছোঁয়া সেই খরচ জোগাবেন কীভাবে?
দেশের মাত্র একটি রাজ্যে বিপুল টাকা এমন সময় খরচ করা হয়েছে, যখন খোদ কেন্দ্রীয় সরকার বলছে কোষাগারের অবস্থা খারাপ। সার্বিক ভাবে অর্থনীতির ঝিমিয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে অর্থ মন্ত্রকে আলোচনা চলছে। প্রতিদিন আরও বিবর্ণ হচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতি! মন্দার কারণে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচের ক্ষমতা কমছে সরকারের। সুদ কমানো, কর কমানোর মতো কোনও দাওয়াইয়েই চাঙ্গা করা যাচ্ছে না দেশের অর্থনীতিকে। অর্থনীতির কাহিল হওয়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রের মন্থর উৎপাদনকেও। বিশ্বব্যাঙ্কের দাবি, বৃদ্ধির গতি শ্লথ যথেষ্ট ঋণের অভাবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কমায় এবং চাহিদা-কেনাকাটা ঝিমিয়ে পড়ায়। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের ইঙ্গিত, কারখানার উৎপাদন, লগ্নি বা নির্মাণ যন্ত্রাংশে পুঁজির ক্ষেত্রেও ছবিটা বেশ খারাপ। সরকার যতই ‘কিছু হয়নি’ ভাব দেখাক, সম্প্রতি খোদ মোদি সরকারের পরিসংখ্যান মন্ত্রক জানিয়েছিল, চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশে আটকে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত সত্যিই এই ৫ শতাংশের ‘গর্তে’ পা ঢুকলে, ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার পরে ১১ বছরের তলানিতে পিছলে যাবে দেশের বৃদ্ধির হার। মার্কিন অর্থনীতিবিদ নুরিয়েল রুবিনির মন্তব্য, ‘‘ভারত সরকার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির তুলনায় মতাদর্শগত বিষয়গুলিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে অর্থনীতি শ্লথ হলে ভারতের জনপ্রিয়তা হারাতে হতে পারে।’’ প্রশ্ন ওঠে, অর্থনীতি বেহাল, তবুও নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মাতামাতি কেন?
অনেকেই বলছেন দেশের অর্থনীতির মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরানোর জন্যই নাকি
তড়িঘড়ি জাতীয় নাগরিকত্ব আইনের প্রবর্তন। এই ধরনের স্পর্ধা ভারতের জনগণ কখনও দেখেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি মন্ত্রী লিখছেন, তোমাকে আগে ফেরত পাঠাই তোমার দেশে, তার পর তোমার কথার জবাব দেব...। কর্ণাটকের বেল্লারির বিজেপি বিধায়ক সোমশেখর রেড্ডির প্রকাশ্যে বলছেন, ‘খুব সাবধান, আমরা দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ। তোমরা মাত্র ১৫ শতাংশ। তোমরা সংখ্যালঘু। এ দেশে থাকতে গেলে বুঝে শুনে পা ফেলতে হবে।’ কলাকাতায় এসে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বলে গিয়েছেন, পিকচার অভি বাকি হ্যায়। সিএএ, এনআরসির মধ্যে ‘জুজু’ খুঁজছে গোটা দেশ, গোটা বাংলা।
একদিন হয়তো, মজা করে নিজেকে ‘বরিশালের পোলা’ বলতেও ভয় হবে! 
25th  January, 2020
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
 ওয়াশিংটন: আরও একবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ...

 আগ্রা, ২৫ জানুয়ারি: কথায় বলে প্রেমের কোনও বয়স হয়না। এই প্রবাদবাক্যটি ফের একবার বাস্তবে ধরা পড়ল। আর তার ঘটল খোদ তাজমহলেরই শহর আগ্রায়। যার রূপকার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা। ব্যবসায়ীদের উন্নতির আশা রয়েছে। বিদ্যার্থীদের সাফল্যযোগ আছে। আত্মীয়দের সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দেবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৬: জন লগি বেয়ার্ড লন্ডনে প্রথম টেলিভিশন সিস্টেমকে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন
১৯৩৬: জনগণের জন্য লন্ডনে শুরু হল বিবিসি-র সম্প্রচার
১৯৩৯: আমেরিকায় নিয়মিতভাবে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু
১৭৮২ – বাঁশের কেল্লা খ্যাত বিপ্লবী তিতুমীর তথা সৈয়দ মীর নিসার আলীর জন্ম
১৮৮০ - টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির বাণিজ্যিক পেটেন্ট করেন।
১৯৬৯: অভিনেতা ববি দেওলের জন্ম
১৯৬৯: চিত্রপরিচালক বিক্রম ভাটের জন্ম
১৯৮৬: বিশিষ্ট সেতারবাদক নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৯: ভারতের অষ্টম রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটরামনের মৃত্যু
২০০২ - নাইজেরিয়ার লেগোস শহরে এক বিস্ফোরণে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুন গৃহহীন হন।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৫ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
26th  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গিরিশ পার্ক এলাকায় ১১ মাসের শিশুকে অপহরণের অভিযোগ

04:55:03 PM

আনন্দপুরে একটি বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে বেঁধে লুটতরাজ দুষ্কৃতীদের, তদন্তে পুলিস 

04:18:31 PM

৮৩ যাত্রী নিয়ে আফগানিস্তানের গজনিতে ভেঙে পড়ল বিমান

04:15:59 PM

৪৫৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:11:36 PM

আলিপুরদুয়ারে খুনের ঘটনায় থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের
আলিপুরদুয়ার শহরের অরবিন্দ নগর এলাকায় বাপি পন্ডিত (২৩) নামের যুবক ...বিশদ

04:11:00 PM

৪৮৩ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:27:26 PM