Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। আইনত দণ্ডনীয়। আর ইন্টেলেকচুয়াল হওয়া বর্জনীয়। এই অংশটির বিশ্বাস, এ জগতে কেউ বিশুদ্ধ সেকুলার হতেই পারে না। সবটাই মুখোশ আর মিথ্যাচার। তাই সেকুলার মানে হল একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করা। সমস্যা হল, ঠিক যে দুটি শব্দকে ঘিরে এই বিশেষ অংশের মানুষের সমস্যা, সেই সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়ার হওয়াটা আসলে খুব কঠিন। আর কে না জানে যেটা আমাদের চিন্তাধারায় অর্জন করা খুব কঠিন, যা আমাদের অধরা, যে অবস্থান আমাদের মানসিক গঠনের উপলব্ধির বাইরে, সেটা সম্পর্কে আমাদের একটা অসূয়া, রাগ তৈরি হয়। তাই সেটাকে খারাপ প্রতিপন্ন করতে চাই। সেকুলার হতে গেলে স্রেফ ধর্মের কারণে একজন ব্যক্তিকে শত্রু ভেবে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে বহু সর্বনাশ করেছে এমন অনেক মানুষ, আত্মীয়, স্বজন, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, অফিস, কর্মস্থলে আছে, যারা কিন্তু আমাদেরই নিজের ধর্মসম্প্রদায়। তারা আমারই ধর্মের, অথচ তাদের জন্য আমাদের জীবন হয়তো দুর্বিষহ হয়েছে। আবার বহু উপকারও করেছে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা ভিন্ন সম্প্রদায়ের। সুতরাং স্রেফ একজন হিন্দু অথবা মুসলিম হলেই সে খারাপ মানুষ ও ঘৃণ্য হয়ে গেল, এরকম ভাবাটা চিন্তার দৈন্য। ইন্ডিভিজুয়াল একজন মানুষ খারাপ হয়। ধর্ম খারাপ হয় না। নিশ্চয়ই যারা আমাদের উপর অত্যাচার করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করতে হবে। ব্যবস্থা না নিলে সরকার তথা শাসক দলকে অবশ্যই উচিত শিক্ষা দিতে হবে ভোটের সময়। এটাই গণতান্ত্রিক পথ। যে শব্দটি সংবিধানের অন্তর্গত, সেই সেকুলার শব্দটিকে প্রায় গালাগালির পর্যায়ে নামিয়ে আনা হচ্ছে কেন? এর প্রকৃত ডিজাইনটি কী? উদ্দেশ্য কী।
যারা ইন্টেলেকচুয়াল শব্দটিকে অপছন্দ করে, তারা ধরেই নেয় ইন্টেলেকচুয়াল শব্দটির মানে হল ওই যেসব বিখ্যাত ব্যক্তি আমার পছন্দের দলের বিরোধিতা করছেন, আমার প্রিয় নেতানেত্রীকে আক্রমণ করছেন, আমার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের দলটির ছাতার তলায় এসে জড়ো হয়েছেন, তাঁরাই। আসলে কি তাই? মোটেই নয়। এরা ইন্টেলেকচুয়াল হতেও পারেন, নাও পারেন। আমার মুখটা টিভি অথবা সিনেমা কিংবা অনুষ্ঠানের বদান্যতায় জনসমাজে পরিচিত মানেই আমি ইন্টেলেকচুয়াল তা হয় না। ইন্টেলেকচুয়াল মানে একঝাঁক কবি, সাহিত্যিক, সিনেমা স্টার সেলেব্রিটি মোটেই নয়। তাঁরা তো সামান্য কয়েকজন!
একজন সম্পূর্ণ আড়ালে থাকা, নিজের মনে নিজের সংসারধর্ম, পেশায় থেকে জীবন প্রতিপালন করা মানুষও ইন্টেলেকচুয়াল হতে পারেন। ইন্টেলেকচুয়াল শব্দটির প্রথমাংশ ইন্টেলেক্ট। অর্থাৎ শানিত বুদ্ধি। ইন্টেলেকচুয়াল তাঁরাই, যাঁরা নিজের বুদ্ধি দিয়ে সামাজিক ঘটনাক্রমকে বিশ্লেষণ করেন, অবস্থান গ্রহণ করেন। ইন্টেলেক্ট বাড়ানো যাবে কীভাবে? সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন ভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা এবং পড়াশোনা করা। বামপন্থী, দক্ষিণপন্থী সব ধরনের পড়াশোনা। নিছক সোশ্যাল মিডিয়ার শিক্ষা নয়। যা আমার কাছে শেয়ার করা হচ্ছে সেগুলি ভেরিফাই করা, ক্রস চেক করা যে, সত্যিই এই ফরওয়ার্ড করা মেসেজ সঠিক তো? নাকি আমাকে বোকা বানানো হচ্ছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে? আমার অধীর বিদ্যা, আমার মধ্যে থাকা পূর্বপুরুষের ডিএনএ, জিন, আমার শিক্ষা, আমার সংস্কৃতিচর্চা, সমস্ত কিছুর মিশ্রণ দিয়ে, আমি স্থির করব কোনও একটি সামাজিক রাজনৈতিক ঘটনায় আমার অবস্থান কী হবে। কোনও বাইরের নেতা বা নেত্রী স্থির করে দেবেন না আমার অবস্থান। দল অথবা সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত ভালো? নাকি খারাপ? এটা আমি দেখেশুনে উপলব্ধি করে বিচার করব। আমার দল একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অতএব সেটি ভালো হতে বাধ্য—এরকম বুদ্ধিহীন, চিন্তাহীন জীবনযাপন নিজেরই অসম্মান নয়? ইন্টেলেকচুয়াল হতে গেলে কবিতা লিখতে হবে না, সিনেমা করতে হবে না, দার্শনিক ভাষণ দিতে হবে না। শুধু নিজের সিদ্ধান্ত নিজের বুদ্ধি বিবেচনার মাধ্যমে নিলেই হবে। আমার বিপরীত মতামত যার, সেই লোকটি বোকা এবং শত্রুপক্ষের—এই মনোভাব থেকেও দূরে থাকার শক্তি অর্জন করা।
এই যে নিজের বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে অবস্থান গ্রহণ করা, এটাই সবথেকে কঠিন। আর এটাই ইন্টেলেকচুয়াল হওয়ার প্রথম ধাপ। তাই কে সেলেব্রিটি আর কে সেলেব্রিটি নয়, সেটা দিয়ে ইন্টেলেকচুয়াল হওয়া মোটেই নির্ভর করে না। অত্যন্ত সাধারণ মানুষ যদি কোনও দলদাস না হন, কোনও নেতানেত্রীকে নিজের রোলমডেল হিসাবে বন্দনা না করেন, প্রতিটি ঘটনাকেই পৃথক পৃথকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করেন, তা হলে তিনিও কিন্তু একজন ইন্টেলেকচুয়াল। সমস্যা হল, যারা ইন্টেলেকচুয়াল শব্দটিকে ঘৃণা করে, তারা আসলে চিন্তার শক্তিকেই ঘৃণা করে এবং ভয় পায়। তারা কোনও একটি বিশেষ দল বা নেতানেত্রীর ভক্ত হয় এবং তারা নিজেরাই যদি লক্ষ্য করে, দেখতে পাবে, তারা আসলে কোনও বিশেষ সিদ্ধান্তের সমর্থক নয়। তাদের প্রিয় দল বা নেতানেত্রী যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেটাই তাদের সমর্থন পায়। তারা অযথা ওই সিদ্ধান্তটির পক্ষে নানারকম যুক্তিতর্ক দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করে। তারা এটা ভুলে যায় যে তার প্রিয় দল বা সরকারের নেওয়া ওই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের জন্য ভালোই হোক অথবা খারাপ হোক, তারা সমর্থন করবেই। কারণ, তাদের প্রিয় দল ও নেতা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা আজ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কিংবা এনআরসি সমর্থন করছে, তারা প্রচ্ছন্ন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেন এই আইন দেশের জন্য খুব ভালো বলেই তারা সমর্থন করছে। আদতে তা কিন্তু নয়। এই আইন তাদের প্রিয় সরকার, দল ও নেতা গ্রহণ করেছেন বলেই তারা সমর্থন করছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার অথবা শাসক দলের সব আচরণ, সব সিদ্ধান্ত মোটেই সমর্থনযোগ্য হয় না। আর সেটা যে হয় না, সেটা শাসক দল বিভিন্ন সময় প্রমাণও পেয়েছে। মানুষ বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।
সুতরাং ইন্টেলেকচুয়াল এবং সেকুলার হওয়ার অর্থ হল, পক্ষপাতহীন থাকা। নরেন্দ্র মোদির যে সিদ্ধান্তগুলি সত্যিই ভালো, সেগুলি মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করা। আর যে কাজগুলি খারাপ তার তীব্র সমালোচনা করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসংখ্য সরকারি প্রকল্প জনস্বার্থবাহী। সেকথা স্বীকার করা। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আপত্তিকর কার্যকলাপও স্বীকার করতে হবে। একেই বলা হয় নিরপেক্ষ অবস্থান।
চিন্তার শক্তি এবং কোনও দলের প্রতিই মোহহীন অবস্থান না থাকলে ক্রমেই একটি দেশে মাথা চাড়া দেয় একটি বিশেষ শাসন প্রবণতা। সেটির নাম ইওরোপের চিন্তাবিদরা দিয়েছেন ন্যাশনাল পপুলিজম। বিশ্বজুড়ে ন্যাশনাল পপুলিজম সবথেকে বেশি চাপে ফেলছে এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে লিবারালিজমকে। অর্থাৎ উদার- মনস্কতাকে। সেই চ্যালেঞ্জের প্রথম ধাপ হয় পোস্ট ট্রুথ। আর প্রতিটি জাতীয়তাবাদকে উস্কে দেওয়া এই ন্যাশনাল পপুলিস্ট দলের অন্যতম অস্ত্র হয় জাতিসত্ত্বাকে জীবনযাপনের অগ্রাধিকার হিসাবে স্থান দেওয়া। তাই বিশ্বের সর্বত্র ন্যাশনাল পপুলিস্টদের প্রধান ইস্যু আজ ইললিগ্যাল ইমিগ্রেশন। জার্মানিতে ফিরে এসেছে এরকম ন্যাশনাল পপুলিস্ট দল, হাঙ্গেরিতে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছে, ‌ইতালিতে জোট সরকার গঠন করে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ইন্টিরিয়র মিনিস্ট্র দখল করেছে। ফ্রান্সের যে শহরগুলিতে ন্যাশনাল পপুলিস্ট লিডার মেরিন ল্য পেনের প্রশাসন প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেইসব শহরবাসী কিন্তু বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি। আবার সুযোগ দিয়েছে। সুইডেনে বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস। এই তালিকায় সবথেকে উজ্জ্বল দুটি নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বরিস জনসন। ন্যাশনাল পপুলিস্টদের সবথেকে বড় সাফল্য কিন্তু আমজনতার সমর্থন নয়। তাদের সবথেকে বড় সাফল্য হল বিরুদ্ধপক্ষীয় লেফট অথবা সেকুলার লিবারাল দলগুলিকেও তারা বাধ্য করে কিছুটা নিজেদের আদর্শের দিকে নিয়ে আসতে। যাদের আজকাল পশ্চিমি দেশে বলা হচ্ছে, ন্যাশনাল পপুলিস্ট লাইট। ঠিক ভারতে যেমন প্রায় তাবৎ বিজেপি বিরোধী দলগুলি আজ পূর্বের অবস্থানে আর ফিরতে পারবে না। সূক্ষ্মভাবে দেখলে বোঝা যাবে, তারা আজকাল আর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির তীব্র বিরোধিতা করতে পারছে না। কারণ ভোটব্যাঙ্ক। অর্থাৎ তারাও পা দিয়েছে সফট হিন্দুত্বে! এটাই সাফল্য ন্যাশনাল পপুলিজমের!
24th  January, 2020
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
 আগ্রা, ২৫ জানুয়ারি: কথায় বলে প্রেমের কোনও বয়স হয়না। এই প্রবাদবাক্যটি ফের একবার বাস্তবে ধরা পড়ল। আর তার ঘটল খোদ তাজমহলেরই শহর আগ্রায়। যার রূপকার ...

 ওয়াশিংটন: আরও একবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসের উপস্থিতি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা। ব্যবসায়ীদের উন্নতির আশা রয়েছে। বিদ্যার্থীদের সাফল্যযোগ আছে। আত্মীয়দের সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দেবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৬: জন লগি বেয়ার্ড লন্ডনে প্রথম টেলিভিশন সিস্টেমকে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন
১৯৩৬: জনগণের জন্য লন্ডনে শুরু হল বিবিসি-র সম্প্রচার
১৯৩৯: আমেরিকায় নিয়মিতভাবে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু
১৭৮২ – বাঁশের কেল্লা খ্যাত বিপ্লবী তিতুমীর তথা সৈয়দ মীর নিসার আলীর জন্ম
১৮৮০ - টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির বাণিজ্যিক পেটেন্ট করেন।
১৯৬৯: অভিনেতা ববি দেওলের জন্ম
১৯৬৯: চিত্রপরিচালক বিক্রম ভাটের জন্ম
১৯৮৬: বিশিষ্ট সেতারবাদক নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৯: ভারতের অষ্টম রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটরামনের মৃত্যু
২০০২ - নাইজেরিয়ার লেগোস শহরে এক বিস্ফোরণে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুন গৃহহীন হন।





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৫ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
26th  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গিরিশ পার্ক এলাকায় ১১ মাসের শিশুকে অপহরণের অভিযোগ

04:55:03 PM

আনন্দপুরে একটি বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে বেঁধে লুটতরাজ দুষ্কৃতীদের, তদন্তে পুলিস 

04:18:31 PM

৮৩ যাত্রী নিয়ে আফগানিস্তানের গজনিতে ভেঙে পড়ল বিমান

04:15:59 PM

৪৫৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:11:36 PM

আলিপুরদুয়ারে খুনের ঘটনায় থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের
আলিপুরদুয়ার শহরের অরবিন্দ নগর এলাকায় বাপি পন্ডিত (২৩) নামের যুবক ...বিশদ

04:11:00 PM

৪৮৩ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:27:26 PM