Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  এভাবেই  কেউ তাঁর সন্ন্যাসজীবন নিয়ে লজ্জাজনক কটাক্ষ করেছেন, ইঙ্গিত দিয়েছেন নারী সংসর্গ সম্পর্কে। এই শহরের সংবাদপত্রেও অভিযোগ উঠেছে,  শিকাগো বক্তৃতার ঠিক পরেই তিনি কি বিদেশের রেস্তরাঁয় নিষিদ্ধ মাংসের অর্ডার দিয়েছিলেন?  মৃত্যুর কাছাকাছি এসেও সেই সব যন্ত্রণার অবসান হয়নি। বেলুড় মঠকে নরেন দত্তর  ‘প্লেজার হাউস’  বলে চিহ্নিত করে বালি মিউনিসিপ্যালিটি ট্যাক্স নির্ধারণ করেছে। বাধ্য করেছে বিপন্ন সন্ন্যাসীকে আদালতে যেতে। নগর কলকাতার নিষ্ঠাবান,  নামীদামি নাগরিক তাঁর স্মরণসভায় যেতে চাননি। এমন কথাও বলেছেন,  হিন্দু আমল হলে তাঁকে নাকি তুষানলে দগ্ধ হতে হতো। মানুষের জন্য,  দেশের জন্য, সেবার জন্য,  সত্যের জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়ে তাঁর কীর্তি কতখানি সুদূরপ্রসারী হবে তা সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ তাঁর জীবনকালে আন্দাজ করে যেতে পারেননি। এ বিষয়ে তাঁর মাথাব্যথাও ছিল না। নিজে ক্ষত হয়েছেন, কিন্তু ক্ষতির বিস্তার চাননি। কারণ, স্বামীজির হৃদয়জুড়ে ভারত ও ভারতবাসী।
তাঁর জীবনের প্রথম বড় ঘটনা শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে পরিচয়। যিনি সবচেয়ে আধুনিক এবং পূর্ণ বিকশিত চরিত্র জ্ঞান,  প্রেম,  বৈরাগ্য,  উদারতার পূর্ণ প্রকাশ। ঠাকুরের ছিল তিনটি মূল অস্ত্র। অকপট সত্যানুরাগ,  নিপীড়িত মানুষের প্রতি অকৃপণ প্রেম এবং যুক্তিবাদে আস্থা। সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের যাবতীয় অসঙ্গতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন তিনি,  জ্বেলেছিলেন যে প্রাণের প্রদীপ,  তা আজও নিবাত নিষ্কম্প। আচারের চোরাবালিতে যে ধর্মের সমাধি ঘটতে চলেছিল,  সত্য ও প্রেমের প্রাণোচ্ছল স্রোত- ধারায় তাকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনিই। তাঁর কাছে ধর্ম কখনওই আচারসর্বস্ব ছিল না। প্রচলিত গড়পড়তা ধর্মাচার্যদের সঙ্গে এখানেই তাঁর প্রভেদ। পরম ঔদার্যে তিনি ভেঙে দিয়েছিলেন ধর্মে ধর্মে বিভেদের খড়ির গণ্ডি। সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে তাই তিনিই বলতে পেরেছিলেন: যত মত তত পথ। রামকৃষ্ণ নিজের জীবনে বহু সাধনার পথ পেরিয়ে ওই উপলব্ধিতে পৌঁছন। এই অমোঘ বাণীর প্রেরণায় শ্রেষ্ঠ শিষ্য বিবেকানন্দ মনে করেছিলেন, সব ধর্মের মধ্যে মূলগত একটি ঐক্য আছে। সেটিকে স্বীকার করতে হবে।
বিবেকানন্দ সেই উপলব্ধিকে দেখেন বেদান্তের আলোয়। উপনিষদই তো বলে, ‘একম্ সদ্, বিপ্রো বহুধা বদন্তি।’  মানে,  সত্য একটিই,  ঋষিরা তাকে নানা ভাবে বলেন। ধর্মচেতনাতেও ধাপে ধাপে অভিব্যক্তির কথা বলেন তিনি। শুরুতে দ্বৈতবাদ। জীব আর ঈশ্বর আলাদা। আরও অগ্রসর হলে,  অদ্বৈতবাদ। তখন জীব আর ঈশ্বরে ফারাক নেই। এরপরই গুরু রামকৃষ্ণের সেই চেতনা ছড়িয়ে দিতে পরিব্রাজক সন্ন্যাসীর ভারতসন্ধান। দুঃখী ভারতকে আবিষ্কার। একইসঙ্গে দুর্জয় মনোবৃত্তি, “আমি যতক্ষণ খাঁটি আছি,  ততক্ষণ কেউ আমাকে প্রতিরোধ করতে সমর্থ হবে না।... যুবকদলকে সঙ্ঘবদ্ধ করতেই জন্মগ্রহণ করেছি। এরা দুর্দমনীয় তরঙ্গাকারে ভারতভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। যারা সর্বাপেক্ষা দীন হীন পদদলিত তাদের দ্বারে দ্বারে এরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, নীতি, ধর্ম ও শিক্ষা বহন করে নিয়ে যাবে। এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা ও ব্রত। এটি আমি সাধন করব কিংবা মৃত্যুকে বরণ করব।’’
রামকৃষ্ণের প্রকৃত যে সংজ্ঞা তিনি দিয়েছেন তা আসমুদ্র ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অল্প সময়ের মধ্যে।  “যে রামকৃষ্ণের ছেলে,  সে আপন ভাল চায় না,  প্রাণ দিয়েও তারা পরের কল্যাণকাঙ্ক্ষী। যারা আপনার আয়েস চায়,  কুঁড়েমি চায়,  যারা আপনার জেদের সামনে সকলের মাথা বলি দিতে রাজি, তারা আমাদের কেউ না,  তারা তফাত হয়ে যাক,  এই বেলা ভালয় ভালয়।”  শত শত বুদ্ধের কারুণ্য-নিষিক্ত হৃদয়বান মানুষই ছিল তাঁর কাঙ্ক্ষিত। অজ্ঞ,  কাতর,  পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে, তাদের স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করার লক্ষ্যে তিনি ছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই তাঁর ধর্ম-দর্শন-অধ্যাত্মচিন্তার সবটাই জুড়ে আছে মানুষের কথা। তিনি যথার্থ মানুষ,  ভালো মানুষ, সচেতন-শুভ্র-সুন্দর-বুদ্ধ-শুদ্ধসত্ত্ব-প্রমুক্ত মানুষ চান। বলতেন, জন্মালেই আমরা সবাই মানুষ হয়ে উঠি না। মানুষ হয়ে উঠতে হয়। চৈতন্যের সম্প্রসারণে মানুষের পশুত্ব থেকে দেবত্বে উত্তরণ হয়।
বিবেকানন্দ লিখেছিলেন: ‘অতীতে যত ধর্মসম্প্রদায় ছিল, আমি সবগুলিই সত্য বলিয়া মানি এবং তাহাদের সকলের সহিতই উপাসনায় যোগদান করি। প্রত্যেক সম্প্রদায় যেভাবে ঈশ্বরের আরাধনা করে,আমি তাহাদের প্রত্যেকের সহিত ঠিক সেই ভাবে তাঁহার আরাধনা করি। আমি মুসলমানদিগের মসজিদে যাইব, খ্রিস্টানদিগের গির্জায় প্রবেশ করিয়া ক্রুশবিদ্ধ ঈশার সম্মুখে নতজানু হইব, বৌদ্ধদিগের বিহারে প্রবেশ করিয়া বুদ্ধের ও তাঁহার ধর্মের শরণ লইব,  এবং অরণ্যে গমন করিয়া সেই–সব হিন্দুর পার্শ্বে ধ্যানে মগ্ন হইব,  যাঁহারা সকলের হৃদয়–কন্দর–উদ্ভাষণকারী জ্যোতির দর্শনে সচেষ্ট।’’ পৃথিবীতে যত বড় কাজ হয়েছে,  তার মূলে আত্মবোধ ও আত্মবিশ্বাসের জাগরণ। আর আত্মবিশ্বাস থেকেই আসে আস্তিকতা। স্বামীজির ভাষায়, ‘যে নিজেকে (মানুষ) বিশ্বাস করে না,  সে নাস্তিক—আর যারা হাজারটা দেবদেবীতে বিশ্বাস না করেই শুধু নিজের উপর বিশ্বাস রাখে,  আত্মবোধে ভর দিয়ে সচেতন হয় সে-ই আস্তিক।’  বিবেকানন্দ মন ও মুখের সত্যতায় স্পষ্টত জানান  ‘ধর্ম মানুষের বন্ধু।’  তা শর্তাধীন নয়। বিনিময়যোগ্য স্বার্থের আদানপ্রদানে সঙ্কুচিতও নয়। ধর্ম বিবর্তনের পথেই এগোয়। ধর্ম সমাজের দায় বহন করে। নিরন্ন মানুষের জন্য অন্ন,  অসুস্থ প্রপীড়িতের জন্য ত্রাণ-সেবা,  অনাথ-বিধবার অশ্রুমোচনের দায়িত্ব ধর্মকেই নিতে হয়।
আসলে অ-সুখের,  অ-সত্যের,  অ-ধর্মের, অ-বিচারের গভীরে পৌঁছে তিনি আবিষ্কার করেন জীবন অন্বেষায় উত্তরণের উজ্জ্বল পথ—আজকের সমাজে যা অপরিহার্য। শুধু স্বাধীনতা অর্জনই নয়, দেশগঠন,  শান্তিশৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে বিবেকানন্দ প্রখর সূর্যের উত্তাপ ছড়িয়ে বলেন, “বলো ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ।”  এই আহ্বান আধুনিক ভারতে উত্তরণের মহাঋক্।  ‘যৌবনের উপবন,  বার্ধক্যের বারাণসী’  তাঁর প্রিয় ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের জাগরণে উত্থান ও উন্নতি,  পুনর্গঠন ছিল তাঁর বিশেষ কাম্য—“নূতন ভারত বেরুক,  বেরুক চাষার কুটির থেকে,  জেলে,  মালো,  মুচি,  মেথরের ঝুপড়ির মধ্য থেকে,  ভুনাওয়ালার উনুনের পাশ থেকে...”।
বিবেকানন্দ হিন্দুধর্মের বিশেষ এক কাঠামো নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। সেই কাঠামোর নানা সীমাবদ্ধতা, তবে ভারতের নানাত্বকে তা অনেকটাই স্বীকার করে। তা বর্জনপন্থী নয়,  গ্রহণপন্থী। আর সবচেয়ে বড় কথা,  বিবেকানন্দ স্বীকার করেছেন সব মানুষ এক রকম নন,  নানা মানুষের নানা কাজ নানা রুচি,  সুতরাং সবাইকে এক ভাবে চালনা করতে চাওয়া মূর্খতা। ঢাকা নগরীতে দাঁড়িয়ে বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘আগামী পঞ্চাশ বছর আমাদের গরীয়সী ভারতমাতাই আমাদের আরাধ্য দেবতা হোন। অন্যান্য অকেজো দেবতাদের এই কয়েক বছর ভুললে কোন ক্ষতি নেই। তাঁরা এখন ঘুমোচ্ছেন।’
বিবেকানন্দ বুঝেছিলেন যে,  দেবতা আকাশ থেকে নামেন না বা মাটি ফুঁড়েও ওঠেন না। বিবেকানন্দ চান জীবন্ত মানুষের পুজো। শিষ্যবর্গ এবং সতীর্থদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, ‘মানুষের জন্য কাজ (যা পুজোরই শামিল) করে করে তোরা শেষ হয়ে যা,  এটাই আমার আশীর্বাদ।’  গুরুভাই তূরীয়ানন্দকে বলেছিলেন, ‘জীবে জীবে, বিশেষত মানুষের মধ্যে তাঁর অবস্থান’।  ‘তাঁর’  অর্থাৎ মানুষ যাঁকে বলে দেবতা। যোগীর ধারণায় পরমপুরুষ—ভগবান—ঈশ্বর! বৈদান্তিক অনুভবে তিনিই পরমব্রহ্ম। সেই নতুন চিন্তা থেকেই লেখেন, ‘তোমার পূর্বপুরুষ না-হয় দুটো বেদ,  উপনিষদ লিখেছে,  দুটো মন্দির তৈরি করেছে, কিন্তু তাতে কী আসে যায়?  জাতপাতে দীর্ণ,  অসহায়,  দরিদ্র মানুষরাই সভ্যতার স্রষ্টা।’  সেই গরিব মানুষদের খেতে দিতে হবে। অপুষ্টি,  রোগ থেকে তাদের শরীরটা বাঁচাতে হবে। কুসংস্কার থেকে বের করে এনে তাদের মনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। জাগাতে হবে তাদের আত্মবিশ্বাস। তারপর তোমাকে আর কিছু করতে হবে না। তারা নিজেরাই নিজেদের ব্যবস্থা করে নেবে। এটিই তাঁর সামগ্রিক চিন্তাধারার সারাৎসার।
বিবেকানন্দ শক্তিমান ভারত চেয়েছিলেন অবশ্যই, কিন্তু সেই শক্তি হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়, ‘ঐসলামিক পেশি এবং হিন্দু মস্তিষ্ক’। ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্ম-মহাসম্মেলনে বলেছিলেন,  ‘যদি কেহ এরূপ স্বপ্ন দেখেন যে, অন্যান্য ধর্ম লোপ পাইবে এবং তাঁহার ধর্মই টিকিয়া থাকিবে,  তবে তিনি বাস্তবিকই কৃপার পাত্র; তাঁহার জন্য আমি আন্তরিক দুঃখিত,  তাঁহাকে আমি স্পষ্টভাবে বলিয়া দিতেছি,  তাঁহার ন্যায় লোকেদের বাধাপ্রদান সত্ত্বেও শীঘ্রই প্রত্যেক ধর্মের পতাকার উপর লিখিত হইবে—‘বিবাদ নয়,  সহায়তা;  বিনাশ নয়,  পরস্পরের ভাবগ্রহণ;  মতবিরোধ নয়,  সমন্বয় ও শান্তি।’
স্বামী আত্মবোধানন্দ লিখেছিলেন, ‘মানবসেবাই তাঁর কাছে মানবিকতা। আজকে বহুবাদের মধ্যে মানবতাবাদের বিশেষ প্রয়োজন। তাঁর এই মানবতাবাদ যদি জগতে প্রতিষ্ঠিত হত,  তা হলে অনেক বাদ আরও পরিশুদ্ধ হতে পারত। সব বাদের মধ্যমণি হওয়া উচিত মানবতাবাদের। এবং সমস্ত বাদীর পরিচিত হওয়া উচিত মানবতাবাদী বিবেকানন্দের দর্শনের সঙ্গে।’ দেশের রাজনীতিবিদরা সেই দর্শনের পাঠ নিতে পারলেন কি? 
17th  January, 2020
এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর
দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
জয়ন্ত কুশারী
 

এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
‘মা বুঝি চইলাছে কোয়ারেন্টিনে...’ বরেণ্য লোকগীতি শিল্পী অমর পাল জীবিত থাকলে বুঝি এমনটাই গাইতেন। যদিও তিনি গেয়েছিলেন, ‘মা বুঝি কৈলাসে চইলাছে...’ 
মহালয়া থেকে সপ্তমী, দিন পঁয়ত্রিশের এই ব্যবধান পাল্টে দিল এমন একটি গানের লাইন। আসলে মানুষের মুখে মুখে এখন যে ফিরছে এই কথাটি। 
বিশদ

কেন্দ্রের কথার খেলাপ, রাজ্যগুলোর অর্থাভাব
পি চিদম্বরম

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) একটা ভয়ানক লড়াই হয়ে উঠেছে। যে অর্থনীতিতে পূর্বাহ্নেই দ্রুত পতনের সূচনা হয়েছিল, সেটা যখন মহামারীতে আরও বিধ্বস্ত হল তখন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিরাট বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। 
বিশদ

অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

20th  September, 2020
কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি: রবিবার ডিজেলের দাম ফের কমল দেশজুড়ে। এই নিয়ে গত চার দিনে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১ টাকা হ্রাস পেল। এদিন দিল্লিতে ডিজেলের দাম ২৪ পয়সা কমে হয়েছে ৭১ টাকা ৫৮ পয়সা।  ...

লন্ডন: করোনা রুখতে কঠোর জরিমানার পথে হাঁটতে চলেছে ব্রিটেন। সেল্ফ আইসোলেশনে না থাকলে করোনা আক্রান্তকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হবে বলে শনিবার ঘোষণা করেছে বরিস জনসন সরকার।  ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সঙ্গে নিতে হবে বিপ্লব মিত্রকে। কলকাতায় বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে জেলা নেতৃত্বকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: রাজ্যের চটকল শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের প্রতি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিশেষ নজর দিতে চলেছে। শ্রমিকদের চাকরির স্থায়িত্ব এই শিল্পের অন্যতম এবং বহু পুরনো সমস্যা হওয়ায় আপাতত তার সমাধানকেই পাখির চোখ করেছে শ্রমদপ্তর।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধাবিঘ্ন। হঠাকারী সিদ্ধান্তের জন্য আপশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  September, 2020

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, পঞ্চমী ৪৫/৩৬ রাত্রি ১১/৪৩। বিশাখানক্ষত্র ৩৮/২১ রাত্রি ৮/৪৯। সূর্যোদয় ৫/২৮/৩৬, সূর্যাস্ত ৫/৩০/৫৪। অমৃতযোগ দিবা
৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ১১/৬ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে।  
৪ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, চতুর্থী দিবা ৭/৩৭ পরে পঞ্চমী শেষরাত্রি ৫/১৭। বিশাখানক্ষত্র রাত্রি ৩/১। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে ও ২/৩২ গতে ৪/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১ গতে ১১/৩১ মধ্যে।  
মোসলেম: ৩ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বোধোদয়! স্কুটি চুরি করেও ফেরত দিয়ে গেল চোর 
এ যেন উলটপুরাণ। চুরি করে নিয়ে গিয়েও শেষমেশ তা ফেরত ...বিশদ

09:30:00 AM

ফেসবুক ইন্ডিয়াকে ফের সমন 
নয়াদিল্লি: বিদ্বেষমূলক পোষ্ট ইস্যুতে ফেসবুককে চূড়ান্ত সমন পাঠাল দিল্লি বিধানসভার ...বিশদ

09:30:00 AM

হাতি সাফারি আপাতত বন্ধ থাকবে 
কোভিড-১৯ আবহে জঙ্গল খোলার ১৫ দিন পর রিভিউ মিটিংয়ে পরিস্থিতি ...বিশদ

09:26:24 AM

নজরুল তীর্থের ওপেন এয়ার থিয়েটার খুলছে 
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সুখবর দিচ্ছে নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। লকডাউন ...বিশদ

09:26:00 AM

মহারাষ্ট্রে বহুতল ভেঙে মৃত ১০ 
মহারাষ্ট্রের থানেতে বহুতল ভেঙে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হল। এখনও ...বিশদ

09:15:34 AM

কলেজে ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ অক্টোবর 
কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরে ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। রবিবার শিক্ষামন্ত্রী ...বিশদ

09:08:05 AM