Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। তার উপর ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলন অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আন্দোলনের এই উত্তাল সময়ে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ছিল প্রচুর প্রশ্ন। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী কোনও রাজ্যে গেলে সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর দায় অবশ্যই থাকে রাজ্য সরকারের। সংবিধানে তো আর প্রতিটি বাক্য লেখা থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী এলে যে বিমানবন্দরে কোনও এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে যেতে হয়, বিমানবন্দরে অনুপস্থিত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশনেতার সঙ্গে দেখা করেন, এই ধরনের নানারকম রীতিনীতি এদেশে সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। সেই সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কলকাতায় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন এটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতামত থাকবে, এবং থাকবে বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল। এর প্রেক্ষিতে বাম-কংগ্রেস পেশ করতে চাইছে বিজেপি-তৃণমূল গোপন আঁতাঁতের তত্ত্ব। বিজেপি বলছে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বাম সবাই একদলে হয়ে বিরোধিতা করছে বিজেপির, আদতে বাংলার মানুষের জনসমর্থনের নিরিখে এগিয়ে তারাই। সৌজন্য প্রকাশ বা রাজ্যের দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্যে নয়, রীতিমত চাপে পড়েই নাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তৃণমূলের বক্তব্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে দোষের কিছু নেই। সেটাই একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঠিক প্রশাসনিক ভূমিকা। তাদের মূল বক্তব্য হল সারা দেশে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে মেনে নিতেই হবে যে নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি কোনও গোপন আলোচনা করতে হয় সেক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন প্রযুক্তির অনেক উপায় আছে। তার জন্যে নেতানেত্রীর মুখোমুখি বসে কথা বলার কোনও প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ এখানে বুঝতে হবে যে সহজ সরল ‘সেটিং’য়ের তত্ত্ব সত্যি হোক কি না-হোক, তা ক্যামেরার সামনে দুই নেতানেত্রীর বৈঠক কিংবা একই অনুষ্ঠান মঞ্চে পাশাপাশি বসার অনুসিদ্ধান্ত হতে পারে না। কিন্তু তাঁরা দুজন এই যে একাধিকবার দেখা করলেন, অথবা নরেন্দ্র মোদি যে বেলুড়ে রাত কাটালেন তার মধ্যে দেশের সবথেকে পরিচিত দুই নেতানেত্রীর সুগভীর রাজনৈতিক ভাবনা থাকতেই পারে। কিন্তু গোপন আঁতাঁতের কারণে তাঁদের কলকাতায় বৈঠক করতে হচ্ছে—এই যুক্তি একেবারেই অতি সরলীকরণ। যেহেতু দু’জনেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় দেশের মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে, তাই তাঁরা ঠিক কী কী ভেবে এই সমস্ত পদক্ষেপ করেছেন তা হয় নিজেরাই জানেন, অথবা জানেন তাঁদের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগীরা। বাকিরা শুধুমাত্র চেষ্টা করতে পারেন দূর থেকে তা অনুধাবন করতে। সেটা ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও। তবে রাজনীতি যেহেতু সম্ভাবনার বিজ্ঞান, তাই নেতানেত্রীর কৌশল অনুমান করতে দোষ কোথায়?
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট এখনও বেশিরভাগটাই তৃণমূলের দিকে। সেখান থেকে বিজেপির ভোট কাটার সম্ভাবনা বেশ কম। নাগরিকত্ব নিয়ে তীব্র আন্দোলন বজায় রাখতে পারলে সেই ভোটে ভাগ বসাতে পারে বাম-কংগ্রেস জোট। একই ঘটনা ঘটবে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মহাশয়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নামক দলটি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে লড়তে এলে। তারা যদি সংখ্যালঘু জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে, তাহলে ভোট কাটবে তৃণমূলের। এতে সুবিধে বেশি বিজেপির। অন্যদিকে এই মুহূর্তে হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশ অবশ্যই বিজেপির দিকে, আবার সেখানে তৃণমূলের প্রতিও যথেষ্ট সমর্থন আছে। সেই ভোটের ভাগাভাগিটাও নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে হিন্দু ভোটারদের আমরা তিনভাগে ভাগ করতে চাই। প্রথম হল একেবারে দক্ষিণপন্থী এবং তীব্র জাতীয়তাবাদী। এই ভোট বিজেপি থেকে সরার সম্ভাবনা খুব কম। দ্বিতীয় ভাগ হল মধ্যপন্থী। তাঁরা এই মুহূর্তে সিএএ ভালো না খারাপ সেই নিয়ে ভাবছেন। জাতীয়তাবোধ তাঁদের যথেষ্টই আছে, পড়শি দেশকে উচিত শিক্ষা দিলে তাঁরা খুশিই হন, কিন্তু একই সঙ্গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র জোগাড়ের হয়রানির কথা ভেবে তাঁরা কিছুটা সন্দিহান এবং বিরক্ত। এই জায়গার ভোট মূলত ভাগ হয় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। তৃতীয় ভাগ হল প্রগতিশীল উদারবাদী হিন্দু। কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের টিমটিমে সমর্থককুল মূলত এই জায়গা থেকেই আসে। তৃণমূলের পক্ষেও এখানে যথেষ্ট সমর্থন আছে। বুঝতে অসুবিধে হয় না যে এই ভাগ থেকে বিজেপির পক্ষে সমর্থন পৌঁছনোর সম্ভাবনা বেশ কম।
অর্থাৎ বিজেপি আর তৃণমূল এই মুহূর্তে যে অংশের জন্যে লড়াই করবে তা হল মধ্যপন্থী হিন্দু ভোট। তাই গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে যে নরেন্দ্র মোদির দু’দিনের (ঘণ্টার হিসেবে এক দিনের মতো) কলকাতা সফর এবং বেলুড়ে রাত্রিবাস এই ধরনের ভোটারদের উপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে? আবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌজন্যের আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এই বার্তা দিতে পারেন যে তাঁর দলের মধ্যেও কিছুটা জাতীয়তাবাদী ভাবনা বর্তমান, সেক্ষেত্রে মধ্যপন্থী হিন্দু ভোটের উপর কিছুটা দখল রাখার সুযোগ থাকবে তাঁরও। সিএএ বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হলে এই ভোটের সামান্য কিছু অংশ হয়তো বাম-কংগ্রেসের দিকেও যেতে পারে, তবে সে আলোচনায় আমরা আপাতত আর এগচ্ছি না।
এই প্রসঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বেলুড় মঠে রাত্রিযাপন এবং এবং ভোরবেলা ধ্যান করার বিষয়গুলি। মনে রাখতে হবে হিন্দুদের একটা বড় অংশ রামকৃষ্ণ মিশনকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় আসার আগে এটা জানা ছিল যে তিনি বেলুড় মঠে যাবেন, কিন্তু সেখানে যে রাত কাটাবেন সেকথা সম্ভবত সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা যায়নি। সে সংবাদ প্রচারিত হয় তিনি কলকাতা সফরে আসার দিনেই। ফলে এই খবরে চমক ছিল যথেষ্ট। তার উপর বেলুড় যাত্রা সড়কপথে নয়, বরং জলপথে গঙ্গা পার হয়ে। এর মধ্যে অবশ্যই দেশজ ঐতিহ্যের একটা ছোঁয়া আছে। সব থেকে বড় কথা, রাজভবনে না-থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে বেলুড় মঠে রাত্রিবাস করবেন, এতে তাঁর সাদামাটা জীবনযাপনের কথা জনমানসে যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল বা বাম-কংগ্রেসের গোঁড়া সমর্থকরা একে কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখবেন। কিন্তু মধ্যপন্থী ধর্মপ্রাণ হিন্দু সমাজের কাছে এটি সরাসরি রাজনৈতিক চাল হিসেবে গণ্য হবে না মোটেই। তার কারণ বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি মহাশয়ের সম্পর্ক যুবা বয়স থেকেই। তাই নরম হিন্দুত্বের অনুগামী বাঙালি জনমানসে এর ইতিবাচক প্রভাব কিছুটা পড়বেই। অর্থাৎ যে মধ্যপন্থী হিন্দু ভোটাররা গত লোকসভায় বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু একইসঙ্গে নাগরিকত্ব সমস্যা নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে, তাঁদেরকে কিছুটা কাছে টানার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সম্ভবত সফল হতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। বেলুড়ে বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবসের ভাষণে তাই বারবার প্রধানমন্ত্রীর গলায় উঠে এসেছে রাজনীতির কথা। সিএএ যে মানুষের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, তা কেড়ে নেওয়ার নয়, সেই কথা জোর গলায় প্রচার করেছেন তিনি।
ঠিক এই জায়গাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ। বাম-কংগ্রেস নাগরিকত্ব বিরোধী আন্দোলন এবং পশ্চিমবঙ্গে এআইএমআইএম-এর মৃদু উপস্থিতি সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার সময় আসেনি তাঁর। তাই এখনও মধ্যপন্থী হিন্দু ভোটের দিকে নজর দেওয়ার সময় এবং সুযোগ থাকবে কিছুটা। সেই জায়গায় তীব্র মোদি-বিরোধী অবস্থান নিয়ে খুব লাভ হবে না। অর্থাৎ সোজা কথায় ব্রিটিশ নির্বাচনে জেরেমি করবিন অতি বামপন্থার যে পথ নিয়ে ভুগেছেন, সেই রাস্তা সযত্নে এড়িয়ে যেতে চাইছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তুলনায় তিনি হয়তো অরবিন্দ কেজরিয়ালের পদক্ষেপগুলি বঙ্গীয়করণের চেষ্টা করবেন। লক্ষ করলে দেখবেন যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী গত প্রায় এক বছর ধরে বিজেপির জাতীয়তাবাদী ভাবনা এবং তার রূপায়ণের তীব্র বিরোধিতা করছেন না একেবারেই। দিল্লির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিকত্ব বিষয়ক আন্দোলন সমর্থন এবং বিরোধিতা এই দুই দিক থেকেই খুব সন্তর্পণে দূরত্ব বজায় রাখছেন তিনি। তুলনায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিজেপি-বিরোধিতা বহুগুণে তীব্র। সেখানে একটু নরম মনোভাব দেখালে মধ্যপন্থী হিন্দু ভোটাররা হয়তো কিছুটা কাছে আসতে পারে। উল্টোদিকে সেই জায়গায় বাম-কংগ্রেস আরও জোর গলায় দাদা-দিদির সেটিংয়ের অভিযোগ তুলবে। ব্যঙ্গোক্তি শোনা যাবে ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ আর ‘কাছাকাছি’ গোছের শব্দবন্ধে। অর্থাৎ গোটা বিষয়টির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বহুমাত্রিক, এবং কীসে লাভ কীসে ক্ষতি তা এই মুহূর্তে বুঝতে পারা শক্ত। তবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিতর্ক যে সামনের বছর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষ প্রভাব ফেলবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই।
লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
16th  January, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
একনজরে
  ওয়াশিংটন, ৩ এপ্রিল (পিটিআই): দ্বিতীয়বার করোনার পরীক্ষা এবং এবারও রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় স্বস্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শন কোনলি বৃহস্পতিবার বলেন, প্রেসিডেন্ট পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁর শরীরে সংক্রমণের কোনও উপসর্গ বা লক্ষণ ধরা পড়েনি। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাইস মিলগুলিতে যাতে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার কয়েকদিন আগে প্রায় ১০ হাজার মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আর্থিক সঙ্কট চললেও মাসের ১ তারিখের মধ্যে সকলের বেতন হয়েছে। ৩৫ লক্ষ ১০ হাজার ২০০ জনকে দু’মাসের সামাজিক সুরক্ষা পেনশন দেওয়া ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেসপেটরি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক যুবতীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফাঁসিদেওয়া থানার বিধাননগরে তাঁর বাড়ি।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের বিভিন্ন দিক থেকে শুভ যোগাযোগ ঘটবে। হঠাৎ প্রেমে পড়তে পারেন। কর্মে উন্নতির যোগ রয়েছে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১০: শ্রীঅরবিন্দ পণ্ডিচেরি পৌঁছালেন
১৯৩৩: ক্রিকেটার বাপু নাদকার্নির জন্ম
১৯৪৯: অভিনেত্রী পারভিন ববির জন্ম
১৯৭১ – বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ এবং শিক্ষাবিদ তথা সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা যোগেশচন্দ্র ঘোষের মৃত্যু।
১৯৭৫: বিল গেটস এবং পল অ্যালেন প্রতিষ্ঠা করলেন মাইক্রোসফট
১৯৭৯: ফাঁসি হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোর
২০০৪: অভিনেতা সুখেন দাসের মৃত্যু 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২১ চৈত্র ১৪২৬, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) একাদশী ৪২/৩১ রাত্রি ১০/৩০। অশ্লেষা ২৯/৫ অপঃ ৫/৮। সূ উ ৫/৩০/১২, অ ৫/৪৯/১২, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩৮ গতে ১২/৫৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/৯ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩৭ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে ৩/৫৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/২ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৪৪ মধ্যে পুনঃ ৪/১৭ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/১৭ মধ্যে পুনঃ ৪/২ গতে উদয়াবধি।
২১ চৈত্র ১৪২৬, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার, একাদশী ৩০/৩৮/১৬ সন্ধ্যা ৫/৪৭/৫। অশ্লেষা ১৭/৫৯/৪৯ দিবা ১২/৪৩/৪৩। সূ উ ৫/৩১/৪৭, অ ৫/৪৯/৪২। অমৃতযোগ দিবা ৯/৩৫ গতে ১২/৫৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১০ গতে ১০/২৯ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৩৫ মধ্যে ও ২/২১ গতে ৩/৫৪ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪/১ মধ্যে ও ৪/১৭/২৭ গতে ৫/৪৯/৪২ মধ্যে।
১০ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 গত ২৪ ঘণ্টায় আমেরিকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৬২ জনের

03-04-2020 - 10:04:00 PM

ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪,৫৮৫ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন, মৃত ৭৬৬ 

03-04-2020 - 09:38:59 PM

ব্রিটেনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪,৪৫০ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস, মৃত ৬৮৪ 

03-04-2020 - 09:37:41 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৯০ 

03-04-2020 - 09:09:26 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯১, মৃত ৮২: পিটিআই 

03-04-2020 - 08:43:18 PM

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪৭৮ জন করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রক 

03-04-2020 - 08:40:54 PM