Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

সাধারণ মানুষ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। নেতারা রাজনীতিকে সম্বল করে ক্ষমতা দখল করছে। এই দেশে বাস করে কেউ দেশটার কথা চিন্তা করে না। একটা যুবক নিজেকে ভারতবাসী বলে ভাবে না বা তা নিয়ে গর্ব করে না। তাহলে কী জন্যে তুমি রাজনীতি করবে? কেন করবে? আমি ঠিক বুঝি না তোমাদের। কিন্তু মনে হয়, তোমরা নানান জিনিস দিয়ে প্রতিমা বানাও শুধু প্রতিমার জন্যে, ভক্তিটুকুই তোমাদের নেই...।
সরিৎশেখর যখন অনিমেষকে কথাগুলো বলছিলেন, তার প্রেক্ষাপট এখন থেকে প্রায় চার যুগ আগের। সমরেশ মজুমদারের ‘কালবেলা’ উপন্যাসের এই শব্দগুলো আজকের পরিস্থিতির সঙ্গেও বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। আজও সেই রাজনীতির আবর্তে আবদ্ধ রাজনৈতিক নেতা, আখের গোছানোই যেখানে এক এবং একমাত্র লক্ষ্য... আর তার সঙ্গে রাজনৈতিক দিশাহীন ছাত্র রাজনীতি। শনিবার ধর্মতলার ধর্না-বিক্ষোভ থেকে যখন শোনা যাচ্ছে, ‘নরেন্দ্র মোদিকে যেতে গেলে আমাদের ছাত্রদের বুকের উপর দিয়ে যেতে হবে’, সেটাও বেশ অদ্ভুত একটা অনুভূতি। সত্যিই কি তাহলে এই একটা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ইস্যু ছাত্রসমাজকে একটা উদ্দেশ্য দিল? প্রতিমা গড়নের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তিও?
আপাতদৃষ্টিতে উত্তরটা হ্যাঁ। আবার দূরদৃষ্টির কথা বললে... এখনও বলার সময় আসেনি। নামজাদা বেসরকারি কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলছিলেন, ‘এদের কজন আইনের ড্রাফ্ট পুরোটা ঠিকমতো পড়েছে জিজ্ঞেস করবেন। বাজি রাখছি, ১০০ জনে দু’জন পাবেন কি না সন্দেহ।’ কথাটা হয়তো ঠিক। সবাই শুনেছে, চায়ের দোকানে তর্ক করেছে, ভাসা ভাসা জেনেছে, আর তারপরই শুরু হয়ে গিয়েছে আন্দোলন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লাগাতার বলে আসছেন, এটা নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন নয়। নাগরিকত্ব প্রদানের আইন। বিরোধীদের দাবি এবং সাধারণ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বিশ্লেষণ হল, এই আইন ধর্মীয় বিভাজক হয়ে দেখা দেবে। গত শুক্রবার রাতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন দেশে কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব, পরিণতি বা নেপথ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা চলছে-চলবে। প্রশ্ন হল, ছাত্র রাজনীতি এবং আন্দোলন কি এই ইস্যুতে সত্যিই একটা মাত্রা পাবে?
অনিমেষ যখন ছাত্র রাজনীতিতে এসেছিল, সেটা রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম টালমাটাল সময়। নকশালবাড়ি আন্দোলন বাংলার ছাত্রসমাজের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু পদ্ধতি ছিল ভুল। সেই ‘সশস্ত্র বিপ্লবে’র আগুনে পুড়ে গিয়েছিল বহু ভবিষ্যৎ। তারপর তারা আবিষ্কার করেছিল, দাহ্যবস্তুর সত্যিই কোনও সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই। স্বাধীনতার পর খুব কম ইস্যু ছাত্রসমাজকে, ছাত্র রাজনীতিকে সঠিক কোনও দিশা দেখাতে পেরেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রসমাজ যে এগিয়ে এসেছিল, তার একটা নির্দিষ্ট চালিকাশক্তি ছিল। দেশ। স্বাধীনতা। ১৯৪৭ সালের পর যে উদ্দেশ্যটা শেষ হয়ে যায়। তখন নতুন এমন কোনও চালিকাশক্তি ছিল না, যা ছাত্রসমাজকে বা আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেল ছাত্র রাজনীতিকে একটা ইতিবাচক লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। রাজনৈতিক নেতারা ছিলেন নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত। ছাত্ররাও তাই। জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা বলতে আর কিছুই ছিল না। সবটাই রাজ্যভিত্তিক। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসনির্ভর। হস্টেলের ফি বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন রাস্তায় নেমে আসতে পারে, কিন্তু দেশের অর্থনীতি শুধরাতে সরকারের কী করা উচিত, সে ব্যাপারে নতুন প্রজন্মের কোনও নির্দিষ্ট পরামর্শ থাকবে না কেন? নকশালবাড়ি আন্দোলনের দিশা প্রশ্নাতীত নয়। কিন্তু জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন? সেই স্রোত ইন্দিরা গান্ধী সরকারকে পর্যন্ত টালমাটাল করে দিয়েছিল। তবে প্রকাশ্যে না হলেও নেপথ্যে কোথাও না কোথাও রাজনৈতিক রং বা আদর্শ ছিলই। ওই যে কথাটা... নিজেকে ভারতীয় ভেবে গর্ব বোধ করে, ভারতের জন্য আন্দোলন... সেটা কি হয়েছিল? হয়তো হয়েছিল... হয়তো কোনও কোনও ছাত্র সত্যিই রাজনীতির ব্যানারের বাইরে থেকেও শুধু দেশের জন্যই আত্মত্যাগ করেছিলেন। ত্যাগ ছাড়া সমাজ বা দেশ, কোনওটাই সম্পূর্ণ হয় না। সবটাই দাঁড়িপাল্লার খেলা। কেউ কোথাও ত্যাগ করেছে বলেই উল্টোদিকের আর একজন গ্রহণ করতে পেরেছে। ব্যালান্স। এর উপরই দাঁড়িয়ে পৃথিবী, রাজনীতি, আন্দোলন।
জেএনইউয়ের হস্টেল ফি বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন আজ জাতীয় রাজনীতির প্রধান চর্চা। আর তার জন্যও দায়ী রাজনীতি। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিসের বিরুদ্ধে হামলা। শুরুটা এখান থেকেই। পুলিসের অভিযোগ ছিল, জামিয়ার পড়ুয়ারা দিল্লির রাস্তায় পুলিসের উপর চড়াও হয়েছে। তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কিছু তো করতে হতো! কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কিন্তু পুলিস ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে না! তারা সেটাই করেছিল। এমনকী সেদিন ভাঙচুর হয় লাইব্রেরি... যেখানে মিলেছিল কাঁদানে গ্যাসের শেলও। কোনও পড়ুয়ার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারও ভেঙেছে হাত। এই ঘটনা গোটা দেশের ছাত্রসমাজকে খেপিয়ে দিয়েছে। যে বিক্ষোভ কয়েকটা জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হচ্ছিল, তা নেমে এসেছে রাস্তায়... দেশের নানা প্রান্তে। প্রায় সব বড় শহরে। ছাত্রসমাজের প্রতি কি এতটুকু সহিষ্ণুতা সরকার দেখাতে পারত না? এর নেপথ্যে তাহলে কী ছিল? শুধুই নিরাপত্তাহীনতা? ইন্দিরা গান্ধী না হয় ইমার্জেন্সি জারি করে হাত পুড়িয়েছিলেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির জমানায় পুলিস বা পুলিসকে চালানেওয়ালারা কেন এতটুকু সহিষ্ণু হবে না! আজকের যা পরিস্থিতি, তার নেপথ্য সম্ভাবনা অনেকগুলো হতে পারে... প্রথমত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সত্যিই ধর্মীয় বিভাজন আনছে। সেটা যাতে জনমানসে আগুনের মতো ছড়িয়ে না পড়ে, সেই কারণেই আগেভাগে দমন করে দেওয়া ভালো। দ্বিতীয়ত, সবটাই ধন্দ। এমন কিছুই হবে না। বিরোধী প্রচারে প্রভাবিত হয়েই ভারতের আগামী প্রজন্ম আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে কি তাদের বোঝানোটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না? যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। দেশের ছাত্রসমাজের স্লোগান আজ একটাই, সিএএ বাতিল করতে হবে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কেন্দ্র বিরোধী এই লড়াইয়ে তাদের প্রধান অস্ত্র। ক্যাম্পাসভিত্তিক, দলবিরোধী রাজনীতির প্রেক্ষাপট ছেড়ে বেরিয়ে এই আন্দোলন আজ হয়ে উঠেছে দেশের জন্য। যেখানে প্রতিমা আছে। আর ভক্তিও।
ঐশী ঘোষ কোন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন, তা বারবার প্রচারে আনছে বিজেপি। মানুষের কাছে কিন্তু তিনি জেএনইউয়ের এক পড়ুয়া। তাঁকে দিল্লি পুলিস অন্য মামলায় অভিযুক্ত করছে। অথচ যারা মাথা ফাটিয়ে ঐশীকে রক্তস্নাত করল, সেই মুখোশধারীদের হদিশ নেই। এই ছাত্রছাত্রীরা আজ গর্ববোধ করছেন নিজেদের ভারতীয় বলতে। শুধু কেরিয়ার নয়, মানুষের জন্য তাঁদের লড়াই। দেশের জন্য তাঁদের বিপ্লব। কোনও দলের জন্য নয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের যদি আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ থাকে, তাহলে তা ছাত্রসমাজ। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন মুলুকে প্রথম আওয়াজ তুলেছিলেন ছাত্ররা।
আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই সময় ছাত্রসমাজের প্রশ্ন ছিল, ‘এত দূরের দেশে কেন আমেরিকা যুদ্ধ করবে? কেন ভিয়েতনামে গিয়ে আমাদের দেশের হাজার হাজার তরুণ প্রাণ দিয়ে আসবে?’ সেই আন্দোলনে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল মার্কিন সরকার। ভিয়েতনামে ধাক্কা তারা খেয়েইছিল, পাশাপাশি দেশেই ছাত্রসমাজের কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছিল আমেরিকাকে। তেমন কিছু আজ হয়তো ভারতের সঙ্গে হতে চলেছে। সরকার যতই দাবি করুক, সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে... আদৌ কি তাই? বাড়তে থাকা অপরাধ প্রবণতা এই দাবির সবচেয়ে বড় অন্তরায়। নৃশংস ধর্ষণ, খুন, সমাজের আগ্রাসী হয়ে ওঠা কোনও রাষ্ট্রের জন্য ভালো বিজ্ঞাপন নয়! ধর্মীয় মেরুকরণ যে প্রবণতায় আরও বেশি অনুঘটকের কাজ করছে। একজন পড়ুয়াও চাইলে বিশ্বের স্বার্থান্বেষী ভাবনায় আঘাত হানতে পারে... গ্রেটা থুনবার্গ তার সবথেকে বড় প্রমাণ। দিনের পর দিন স্কুল কামাই করে পথে বসে থেকেছেন পরিবেশের জন্য। দূষণের ধারক-বাহক দেশগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের জন্য আপনারা ভাবতে বাধ্য। ছাত্র রাজনীতি থেকে যদি নেতা বা নেত্রী উঠে আসে, তাহলেই একটা দল বা আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে একটা দেশ এগিয়ে যায়। ভারতের ছাত্রসমাজও যদি আন্দোলনের প্রতি এই সততা বজায় রাখতে পারে, আজ না হয় কাল পরিস্থিতি বদলাবেই। এখান থেকেই ফের উঠে আসবে সত্যিকারের নেতা। যাদের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে আসবে আরও অনেকে। রাজনীতির জন্য। আর অবশ্যই, দেশের স্বার্থে।
14th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
নতুন ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনধিকারীদের প্রবেশে কেউ আপত্তি করলে, বিরুদ্ধমতাবলম্বীদের বাছাই করে করে মারতে হবে। এবং মাথায় মারাই নিয়ম এক্ষেত্রে। কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাশক্তি এবং ভাবনায় ফারাক করে দেয় একটাই জিনিস, মাথা অর্থাৎ মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কেই থাকে মেধা। সুতরাং মাথাকে সবরকম ভাবে টার্গেট করাই যুক্তিযুক্ত ভাবা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, হয় মগজ ধোলাইয়ের কোর্স চালু হোক অথবা মাথা ফাটানোর পারমিশন দেওয়া হোক। একান্তই যদি এগুলো সম্ভব না হয়, তা হলে যে সব মনীষী আধুনিক উন্নত চিন্তাশক্তির জনক, তাঁদের মূর্তি ভাঙতে হবে। যেমন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে হয়েছে। ভাঙতে হলে বাঙালি মনীষীর মূর্তিই হয় টার্গেট। মাথায় মারতে হলেও বাঙালি ছাত্রী ও অধ্যাপিকাই টার্গেট হয়। বিশদ

10th  January, 2020
মিশন ২০২১: নাগরিকত্ব ইস্যু কি বঙ্গ বিজেপির পথের কাঁটা হয়ে উঠছে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ক্ষমতায় আসার পর মমতা রাজ্যের যেখানে যা উন্নয়ন উন্নতি করেছেন তার ফল সরাসরি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। বড় ও ভারী শিল্প হয়তো তিনি এখনও তেমন আনতে পারেননি, তবে ওই উন্নয়নের জোয়ারে এবং অব্যর্থতায় বাংলার গরিব সাধারণের জীবনযাত্রার মান ও গতিতে যে উন্নতি ঘটিয়েছেন— তা এই বঙ্গের ইতিহাসে অনন্য, মুখে না মানুন মনে মনে মানেন সকলেই। সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম আমলের সূচনায় ভূমি সংস্কার ছাড়া মমতার এই উন্নয়নের তুল্য উদ্যোগের নজির খুব কি আছে যাতে উপকৃত হয়েছেন গরিব প্রান্তিক মানুষ থেকে শহর বস্তির সাধারণজন?
বিশদ

09th  January, 2020
একনজরে
 সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি: মেগা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করছে কেন্দ্র। কৃষক থেকে শ্রমিক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র ঋণগ্রাহকের সংখ্যা। মোদি সরকার বিভিন্ন ...

 আমেদাবাদ, ১৭ জানুয়ারি (পিটিআই): সমস্ত বিদেশি কোম্পানিকে আইন মেনে ভারতে বিনিয়োগ করতে হবে। আমাজনের লগ্নি নিয়ে মন্তব্যের পর শুক্রবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ...

ডার্বির ইতিহাসে প্রথম পাঁচ গোলদাতার মধ্যে একমাত্র বাঙালি তিনি। আট ও নয়ের দশকে তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হত সমর্থকদের স্বপ্ন। দুই প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বল ...

বাংলা নিউজ এজেন্সি: পুরসভার আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই উত্তরবঙ্গে বামপন্থী ও ডানপন্থী নেতাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। প্রশাসন সূত্রের খবর, আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা অনুসারে উত্তরবঙ্গে ১৩টি পুরসভার প্রায় দু’ডজন নেতার ভাগ্য পুড়তে চলেছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৪৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৮,৯৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, নবমী ৫৪/৫ দিবা ৪/১। স্বাতী ৪৪/৪১ রাত্রি ১২/১৬। সূ উ ৬/২৩/৪, অ ৫/১০/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৮ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১২/১২ গতে ১/৫৮ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/৭ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৮ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, অষ্টমী ৬/৩২/৩৮ দিবা ৯/২/৫৩। স্বাতী ৫২/৪১/৩১ রাত্রি ৩/৩০/২৬। সূ উ ৬/২৫/৫০, অ ৫/৯/৩২, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫৭ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ২/০ মধ্যে ও ২/৫২ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/১৯ মধ্যে ও ৩/৪৯/৪ গতে ৫/৯/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৪৯/৪ মধ্যে ও ৪/৪৬/১৮ গতে ৬/২৫/৫৫ মধ্যে। 
২২ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
হাড়োয়ায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি অভিযোগ, গ্রামবাসীদের গণপিটুনি পুলিস কর্তাকে
একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক পুলিস কর্তার ...বিশদ

12:04:00 PM

পুরুলিয়ায় শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ
পুরুলিয়ায় বাড়িতে ঢুকে শ্বাসরোধ এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে ...বিশদ

11:46:06 AM

 ফের বনদপ্তরের ফাঁদে চিতা
ফের বনদপ্তরের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল আরও একটি চিতা। চিতাটি ...বিশদ

11:08:03 AM

জামিনে মুক্ত হয়েই নির্যাতিতার মাকে পিটিয়ে খুন করল অভিযুক্তরা
ফের সংবাদ শিরোনামে যোগীর রাজ্য। এবার নাবালিকা মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ...বিশদ

11:03:00 AM

বর্ধমানে লরির ধাক্কায় ছাত্রীর মৃত্যু, উত্তেজনা
লরির ধাক্কায় এক ছাত্রীর মৃত্যু হল বর্ধমানে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ ...বিশদ

10:41:00 AM

বীরভূমে লরি ঢুকল চায়ের দোকানে, মৃত ১
সাতসকালেই দুর্ঘটনা বীরভূমে। লরি ঢুকল চায়ের দোকানে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি ...বিশদ

10:35:00 AM