Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দ্বিতীয়জন আধ্যাত্মিক ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মানসপুত্র স্বামী বিবেকানন্দ। এবং তৃতীয়জন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৮৬১তে রবীন্দ্রনাথ। দু’বছর পর ১৮৬৩-তে স্বামী বিবেকানন্দ। ঠিক যেন হিসেব করে বাঙালির আধ্যাত্মিক চেতনার দুই অগ্রদূতকে পাঠিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান। আর ১৮৯৭-তে নেতাজি সুভাষ। মাত্র ৩২ বছরের মধ্যে বাঙালির স্বর্ণখচিত ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল তিন ব্যক্তিত্বের জন্ম। তিনজনই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিশ্বজনীন মনুষ্যত্বের উন্মেষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ একবার রোমাঁ রোলাঁকে বলেছিলেন, যদি ভারতবর্ষকে জানতে চাও তবে বিবেকানন্দকে জানো। আর তিনজনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নেতাজি সুভাষচন্দ্র স্বামীজি সম্পর্কে বলেছেন, শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের নিকট আমি যে কত ঋণী তা ভাষায় কী করে প্রকাশ করব? চরিত্র গঠনের জন্য ‘রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সাহিত্য’ অপেক্ষা উৎকৃষ্ট সাহিত্য আমি কল্পনাও করতে পারি না।
প্রকৃতপক্ষে ঠাকুর ও স্বামীজির এই একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠা এবং বাঙালির আধ্যাত্মিক জীবনকে নতুনভাবে নতুনরূপে উদ্ভাসিত করে তোলার মধ্য দিয়েই বাঙালির গত একশো বছর ও তার বেশি সময়ের ধর্মজীবন আন্দোলিত। এর একটাই কারণ গুরু শিষ্য দু’জনেই সাধারণ মানুষ মুচি মেথরের মধ্যে ভগবানকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীন দরিদ্রের মধ্যে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘আশীর্বাদ করি, তোমাদের চৈতন্য হোক।’’ আর তাঁর মানসপুত্র স্বামী বিবেকানন্দ আরও একধাপ এগিয়ে চৈতন্যের উন্মেষের সঙ্গে প্রকৃত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, জগতের সব ধনরাশিকে এক করলেও মানুষের শক্তি তার চেয়ে অনেক বেশি, অনেক মূল্যবান। তাই স্বামীজির কাছে বড় বড় ধর্মগ্রন্থ, আধ্যাত্মিক আলোচনা, বেদ-উপনিষদের ব্যাখ্যার চেয়েও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রকৃত মানুষ তৈরি করা এবং সর্বোপরি মানুষের ভালোর জন্য কাজ করা। তাই তিনি বলেছেন, এস মানুষ হও। মনে রেখো—মানুষ চাই, পশু নয়। স্বামীজির প্রয়াণের শতবর্ষ পরেও আজকের ভোগবাদী কম্পিউটার শিক্ষিত দুনিয়াতে যে-দুটি জিনিসের সবচেয়ে বড় অভাব, তা হচ্ছে ওই চৈতন্য এবং প্রকৃত মানুষ। সত্যিই আজকের দিনে প্রকৃত মানুষেরই বড় অভাব অনুভূত হয়। রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের কুৎসিত আচারআচরণ উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। এত রাজনৈতিক ওঠাপড়ার মধ্যেও মনীষীদের জন্মের বিশেষ দিনগুলি আমাদের উজ্জ্বল অতীতের স্মৃতিগুলিকে জাগিয়ে তোলে। তাই এই বিশেষ দিনগুলি উদযাপনের গুরুত্ব অসীম।
স্বামীজির ধর্ম ও জীবন সাধনা ছিল সম্পূর্ণ মানুষকেন্দ্রিক। যে সন্ন্যাসধর্ম হৃদয় পাষাণ করতে উপদেশ দেয় আমি সেই সন্ন্যাস মানি না, গ্রাহ্য করি না। এই ছিল তাঁর ধর্ম ও জীবন চর্চার সারকথা। তিনি বার বার বলেছেন, সন্ন্যাসী মানুষকে সংস্কারে বেঁধে ভয় দেখাবে কেন? বরং, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন না-থেকে নরনারীর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের শক্তি সঞ্চার করার উপরেই স্বামীজি বেশি জোর দিয়েছিলেন। কারণ
তিনি জানতেন, আত্মবিশ্বাসই মানুষের প্রকৃত কল্যাণসাধন করতে পারে। জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারে। জগতের যা-কিছু উন্নতি তা তো সম্ভব হয়েছে মানুষের শক্তিতেই। এই জন্যেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনের আত্মা লুকিয়ে আছে—‘বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়’ মন্ত্রের ভিতরে। আত্মবিশ্বাস থাকলে আপনা থেকেই শক্তি আসবে। এই ছিল স্বামী বিবেকানন্দের অদম্য সাহস ও
সন্ন্যাসী জীবনের মূলমন্ত্র।
এই কারণেই স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম ও সাধনা শুধুমাত্র বেদ বেদান্ত আর আধ্যাত্মিক লেকচারে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি তাঁর জীবনচর্চায় এবং গুরুভাইদের উপদেশ দিতে গিয়ে বার বার বলেছেন, ধর্মের আগে মানুষের পেটের চিন্তা দূর করতে হবে। তিনি বলেছেন, এই বিশাল দেশে একটা কুকুরও যতক্ষণ অভুক্ত থাকবে ততক্ষণ আমার ধর্ম হবে তাকে খাওয়ানো। সেবা করা ব্যতীত আর সবই তাঁর কাছে ছিল অধর্ম। তাই মানুষের কল্যাণে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপদেশ, জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। পাশাপাশি ক্ষমতাপ্রিয়তা, লোভ ও ঈর্ষা থেকে তিনি সবসময় সন্ন্যাসীদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, সাহসীরাই শুধু বড় কাজ করতে পারে। ইহলোক পরলোক বলে কিছু হয় না, ওসব ছোটদের জন্য। সবই আছে এখানে। মানুষকে সেবা করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে পাওয়ার কথা বলেই তিনি ক্ষান্ত হননি। বার বার বলেছেন, মানুষের দুর্বলতাকে প্রকট করে তোলা কোনও প্রতিকার নয়। বরং তার সবলতা ও সুপ্ত ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই প্রকৃত প্রতিকার। এতদ্দ্বারা মানুষ তার শক্তির খোঁজ পাবে, আত্মবিশ্বাসী হবে। আর এই দু’টি মিললেই জয় নিশ্চিত। সে ধর্মই হোক কিংবা সংসার।
আজ যে কুসংস্কার এখনও আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে তার বিরুদ্ধে স্বামীজি প্রথম থেকেই ছিলেন খড়্গহস্ত। কিন্তু কুসংস্কারের চেয়েও ধর্মান্ধতা সভ্যতার আরও বড় শত্রু, তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন। সেই কারণেই তিনি বলে গিয়েছেন, ধর্মোন্মত্ততা না-গেলে মানবসমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। যে-ভগবান অন্ন দিতে পারেন না তিনি স্বর্গে আমার জন্য অনন্ত সুখ রাখবেন কীভাবে! আসলে, প্রচলিত ধর্মের নাগপাশ থেকে মুক্ত করে স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মের ফলিত শিক্ষার উপরেই জোর দিয়েছিলেন। তিনি চাইতেন সবাই সবকিছু পরখ করে নিক। অলৌকিক কিছু বা ভোজবাজির খেল ধর্ম নয়। ধর্ম ও শিক্ষা স্বামীজির দৃষ্টিতে ছিল—মানুষের ভিতর যে পূর্ণতা প্রথম থেকেই বিদ্যমান তারই সম্যক প্রকাশ।
গুরু শ্রীরামকৃষ্ণকেও স্বামী বিবেকানন্দ শুধু পরখই করেননি রীতিমতো বাজিয়ে নিয়েছিলেন। একবার নয়, তিনবার। গুরু-শিষ্যের প্রথম দেখা ১৮৮১-র নভেম্বরে। প্রথম দর্শন ঠাকুরের অত্যন্ত কাছের ভক্ত সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে। তখন তিনি নরেন্দ্রনাথ, বয়স ১৮। সুগায়ক, সৌম্যদর্শন, ফর্সা চেহারা। ঠাকুরকে গান শোনালেন। মন চলো নিজ নিকেতনে। ঠাকুর পরে বলেছিলেন, পশ্চিমের দরজা দিয়ে নরেন ঢুকেছিল। যেন ঠিক দমকা হাওয়া। ঠাকুর প্রথম দর্শনেই চিনতে পেরেছিলেন তাঁর মানসপুত্রকে। আর তাতেই তিনি আহ্লাদে গদ গদ হয়ে বলেছিলেন, এতদিন পরে আসতে হয়! আমি কতটা প্রতীক্ষা করে আছি সেটা একবার ভাববে না? কিন্তু সেই দেখাতে ঠাকুর আহ্লাদিত হলেও নরেন্দ্র কিন্তু নিজেকে এত সহজে সঁপে দেননি গুরুর চরণে। এর পর দ্বিতীয় বার এবং তৃতীয় বার গুরু-শিষ্য মুখোমুখি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বার শ্রীরামকৃষ্ণ আলাদা করে নরেনকে ছুঁয়ে দিতেই সারা পৃথিবী যেন দুলতে শুরু করেছিল। কিন্তু এবারও নরেনের পুরোপুরি বিশ্বাস ঠাকুর জিততে পারেননি। একটা সংশয় ছিলই। গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক একেবারে প্রগাঢ় রূপ নিয়েছিল তৃতীয় বারের দেখাশোনায়। এবার শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর হাতটি ধরে ছুঁয়ে দিতেই নরেন সেদিন বাহ্যজ্ঞান হারিয়েছিলেন।
পরে নরেন প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি ভগবানকে দেখেছেন? স্থির প্রশান্ত দৃষ্টিতে ঠাকুর উত্তর দিয়েছিলেন—হ্যাঁ দেখেছি, ঠিক তোকে যেমন
দেখছি! এভাবেই শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ ভারতের আধ্যাত্মিক চেতনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের এক আমূল বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। ১৮৮৪ সালে স্বামীজির পিতৃবিয়োগ ঘটে। সংসার অনটনের মধ্যে পড়ে।
আর ১৮৮৫ সালে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কর্কট রোগে। সেই সময় নরেনের সাংসারিক অনটন ঠাকুরকে অত্যন্ত স্পর্শ করেছিল। নরেন তখন চাকরির খোঁজে সকাল বিকেল ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একদিন এক ভক্তের বাড়িতে আবার গুরু-শিষ্যের সাক্ষাত। ঠাকুর নরেনকে পাঠালেন মায়ের কাছ থেকে কিছু চেয়ে নিতে যাতে তার সংসারের অভাব-অনটন দূর হয়। কিন্তু স্বামীজি তা চাইতে পারেননি, উল্টে চেয়েছিলেন— জ্ঞান, শিক্ষা, বৈরাগ্য। শেষে সব শুনে ঠাকুর বলেছিলেন, যা তোর মোটা চালের ভাত আর কাপড়ের অভাব হবে না। আর ঠিক ওইখান থেকে শ্রীরামকৃষ্ণ আর স্বামীজির অসামান্য যুগলবন্দি শুরু। ১৮৮৬-তে আগস্ট মাসে ঠাকুরের তিরোধানের পর সাময়িক সঙ্কটে পড়লেও বরানগরের মঠ থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাইদের জয়যাত্রার পথে আর কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। যা পরে বিস্তার লাভ করে গঙ্গার ওপারের বেলুড় মঠে। ১৮৯৭ এর ১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের। অবশ্য তার অনেক আগেই ১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দের রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলন এরপর আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় ঝড় তোলে। শিকাগো বিশ্ব ধর্মসম্মেলনের মঞ্চ থেকে তাঁর অসামান্য মানবিক বক্তৃতার মাহাত্ম্যে গোটা আমেরিকা উদ্বেল হয়ে ওঠে। স্বামীজির ওই একটি কথা—‘ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স অব আমেরিকা’ বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের আধ্যাত্মিক প্রগতির অসামান্য প্রতীক।
এরপর ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাস। ঠাকুর-স্বামীজির প্রথম সাক্ষাতের ঠিক ১৪ বছর পর এল আর এক অবিস্মরণীয় শুভক্ষণ। লন্ডনের ওই হিমশীতল সন্ধ্যায় হঠাৎই যেন ওয়েস্টএন্ডের এক সুন্দর পরিচ্ছন্ন বাড়ির দরজা হাট করে খুলে গেল
কোন এক দমকা হাওয়ায়। প্রাচ্যের পথিক স্বামীজির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল পাশ্চাত্যের এক বিদেশিনীর।
নাম মার্গারেট নোবেল। যিনি পরবর্তীকালে হয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। বাইরে ধীরে ধীরে তখন
অন্ধকার নেমে আসছে। আর ভিতরে প্রাচ্যের
এক অসামান্য সাধুর শরীরের আলোক বিচ্ছুরণে জীবনের গতিপথটাই বদলে গেল এক বিদেশিনীর। তাঁকে ভেঙেচুরে এ-দেশের সাধারণ মানুষের
কল্যাণে নিয়োজিত করলেন স্বামীজি। যেন সেবার অসামান্য প্রতিমূর্তি। এ দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আর ক’টা আছে! কলকাতার যখন মারণ প্লেগে মানুষ মরছে তখনও জীবন বাজি রেখে মানুষের জন্য ছুটছেন
তিনি। বোসপাড়ার সেই নোনাধরা বাড়ি থেকে যিনি স্বামীজির আদর্শকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
যে-জন্য বীর নেতাজি পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, যদি স্বামী বিবেকানন্দকে জানতে চাও নিবেদিতাকে সম্যকভাবে জানো। আর স্বয়ং সেই মহামানব
স্বামীজি কী বলে গিয়েছেন? একশো বছর আগে
তিনি বলে গিয়েছেন, যে দেশ নারীদের সম্মান
দেয় না সে কখনও উন্নতি করতে পারে না, এগতে পারে না। আজ দেশে প্রতিদিন নারী নির্যাতন
যেভাবে বাড়ছে। এবং তা দেখে যখন আমাদের লজ্জায় মুখ লুকোতে হচ্ছে তখন মহামানবের
সেই বাণীর তাৎপর্য আরও বেশি করে আমরা
উপলব্ধি করছি।  
12th  January, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
আত্মনির্ভরতার স্টিকার
মারা ‘খুড়োর কল’
সন্দীপন বিশ্বাস

সুকুমার রায়ের ‘খুড়োর কল’ কবিতার সঙ্গে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরিচয়। চণ্ডীদাসের খুড়োর সেই আজব কল ছিল একটা ভাঁওতা। ভালো ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তা ছুটিয়ে মারত। মরীচিকার মতো অবাস্তব এবং বিরাট একটা ধাপ্পা ছিল ওই খুড়োর কল।
বিশদ

20th  May, 2020
গালভরা প্যাকেজ,
দেশ বাঁচবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 ঊষা জগদালে। মহারাষ্ট্রের বিদ জেলায় বাড়ি তাঁর। রোজ সকালে যখন পরিবারকে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ছেড়ে দরজার বাইরে পা রাখেন, তখনও ঠিকঠাক জানেন না, কোন বিদ্যুতের খুঁটিতে তাঁকে উঠতে হবে। তবে জানেন, কাজের চৌহদ্দির মধ্যে কোথাও সমস্যা হলে তাঁরই ডাক পড়বে।
বিশদ

19th  May, 2020
২০ লক্ষ কোটি টাকার রহস্য কাহিনী
পি চিদম্বরম

চলতি অর্থবর্ষে ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০-২১-এর বাজেট পেশ করেছিল। ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাজস্বের দিকের ঘাটতি মেটাবে সরকার।
বিশদ

18th  May, 2020
ছুটি শব্দটাই আজ অর্থহীন, মনের অসুখ ডেকে আনছে লকডাউন, প্রবীণদের সঙ্কট আরও তীব্র
হিমাংশু সিংহ

যে বাঙালি ছুটি পাগল, সেও দু’মাস ঘরে থেকে আজ যে-কোনও মূল্যে কাজে যোগ দিতে মরিয়া। লকডাউন যে কাজের সঙ্গে ছুটির রসায়নটাকেও এভাবে রাতারাতি বদলে দেবে, কারও কল্পনাতেও ছিল না। রবিবারের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। লোকে বার ভুলে সবদিনকেই আজ শুধু লকডাউন বলে চিহ্নিত করছে। চার দেওয়ালের শৃঙ্খল আর ভালো লাগছে না কারও।
বিশদ

17th  May, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পঙ্গপালের হামলার কোনও সতর্কবার্তা এখনও জারি করেনি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক। কিন্তু, রাজ্য কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লকডাউনে কাজ হারানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাড়ে আট হাজার মানুষকে প্রচেষ্টা প্রকল্পে মাথাপিছু ১০০০ টাকা দিল রাজ্য সরকার। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘স্নেহের পরশ’ এবং কাজ হারানো দুঃস্থ মানুষদের জন্য ‘প্রচেষ্টা’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।   ...

সংবাদদাতা, গাজোল, রতুয়া ও পতিরাম: জামাইষষ্ঠীতে মালদহের বাজারগুলিতে পোল্ট্রির মাংসের দাম বাড়ল প্রায় দ্বিগুণ। দু’এক সপ্তাহ আগেও ইংলিশবাজার ও পুরাতন মালদহ শহরের বাজারগুলিতে পোল্ট্রির মুরগীর ...

নয়াদিল্লি, ২৭ মে: বিভিন্ন হোটেলের শ্রেণিবিন্যাস ও অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করল পর্যটন মন্ত্রক। এই অনুমোদনের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে আতিথেয়তা শিল্প একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগচ্ছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যাধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা। বাহন বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সন্তানের বিদ্যা শিক্ষায় অগ্রগতি বিষয়ে সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪২ - লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিংপুল চালু
১৮৮৩- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকারের জন্ম
১৯২৩- রাজনীতিক ও তেলুগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এনটি রামা রাওয়ের জন্ম
২০১০- পশ্চিমবঙ্গে জ্ঞানশ্বেরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪১জনের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৮৯ টাকা ৭৬.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৮ টাকা ৯৪.১২ টাকা
ইউরো ৮১.২৯ টাকা ৮৪.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ৪৬/১৯ রাত্রি ১১/২৮। পুষ্যা নক্ষত্র ৬/১৬ দিবা ৭/২৭। সূর্যোদয় ৪/৫৬/১৭, সূর্যাস্ত ৬/১১/২০। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ২/৫২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৮/৫৩। পুষ্যানক্ষত্র প্রাতঃ ৫/৩৫ পরে অশ্লেষানক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৪৫। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৪ গতে ৬/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৫ গতে ১২/৫৫ মধ্যে।
৪ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গড়ফায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ বাবা, মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে 
গড়ফায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ...বিশদ

04:34:04 PM

করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে সম্বিত পাত্র 
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। ...বিশদ

04:06:43 PM

পঃমেদিনীপুরে বজ্রপাতে পুড়ল বাড়ি
বজ্রপাতে পুড়ে গেল খড়ের ছাউনি বাড়ি। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ...বিশদ

02:04:14 PM

লকডাউনের মেয়াদ নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে কী বললেন মুখ্যসচিব
এখনই কন্টেইনমেন্ট জোন থেকে লকডাউন তোলার পক্ষে নয় রাজ্য সরকার। ...বিশদ

01:52:00 PM

কর্ণাটকে করোনা পজিটিভ আরও ৭৫ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪৯৩ 

12:53:12 PM

মহেশতলায় চায়ের গুদামে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ১৪টি ইঞ্জিন

12:31:00 PM