Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে
আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ হোক
হিমাংশু সিংহ

শনিবার যখন এই লেখা লিখছি তখনও চারদিক থেকে গণ্ডগোল, অবরোধ, আগুন লাগানোর খবর আসছে। নাগরিক বিল নিয়ে এককথায় রাজ্য উত্তাল। কিন্তু এই অশান্তি কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে তাই মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন মেনে হাঙ্গামায় প্ররোচনা দেওয়া বন্ধ হোক। বন্ধ হোক আগুন নিয়ে খেলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দিয়েছেন, বাংলায় তিনি বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে দেবেন না। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে আরও অনেক রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথাকে সম্মান জানিয়েই আপাতত সবার উচিত শান্ত থাকা।
সংযত থাকা। মনে রাখতে হবে, এখন রাজনীতির সময় নয়। তার জন্য অনেক সময় পড়ে আছে। রাজনৈতিক স্বার্থে গোলমাল পাকিয়ে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা ব্যর্থ করুন। প্রশাসন কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করুক। শান্ত বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা পরাজিত হোক।
বলা বাহুল্য, এ রাজ্যের পক্ষে সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই সুযোগ সন্ধানীরা ইন্ধন দেবেই। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্ট ডাউন শুরু হল বলে। সব মিলিয়ে আর পনেরো ষোলো মাস বাকি। বাংলায় এবার মোকাবিলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি বিজেপির। সিপিএম, কংগ্রেস জোট হোক আর নাই হোক, আপাতত এরাজ্যে তারা নিতান্তই এলেবেলে শক্তি, তায় একে অপরের লেজুড়। আপাতত ওদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। এই মুহূর্তে ধারে ভারে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার নিরিখে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে থাকলেও এরাজ্যে লড়াইয়ের চূড়ান্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে মরিয়া হয়ে নেমেছেন অমিত শাহরা। বিজেপি নেতৃত্ব জানেন, এই মুহূর্তে সারা দেশে বাংলার জননেত্রীর মতো সোজা মেরুদণ্ডের আপসহীন লড়াকু আর একজনও নেই। হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষিত কংগ্রেসের তাবড় নেতা নেত্রীরাও মমতার নাছোড় লড়াইয়ের সামনে তাই ম্লান। সম্প্রতি রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গেরুয়া দলের ভরাডুবিই প্রমাণ করেছে, এখনও মমতাতেই আস্থা গোটা বাংলার। দু’হাজার একুশেও মমতাকেই বাংলার সিংহাসনে বসানোর জন্য রাজ্যবাসী প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি এবং অগ্নিকন্যা মমতা শক্ত ঠাঁই বুঝেই তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবিধানটাকেই দুমড়ে মুচড়ে তার অন্তর্নিহিত আত্মাকে খতম করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর খেলায় নেমেছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন মোদি ও অমিত শাহের বিজেপি। দরকার হলে গোলপোস্টের অবস্থানটাকেই বদলে দিতেও তাঁরা যে দু’বার ভাববেন না, তাও পরিষ্কার। সেই কারণেই দেশভাগের ক্ষত বয়ে চলা বাংলায় এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করার কদর্য খেলায় নেমেছে গেরুয়া শিবির। যার আসল উদ্দেশ্য, হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে একজোট করা। তবে একটা কথা বিনা দ্বিধায় বলতে পারি, হার মানার পাত্রী অগ্নিকন্যা নন। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আবার ধর্মের ভিত্তিতে মানুষভাগের হীন চক্রান্ত তিনি রুখবেনই রুখবেন। এখনও বাংলার মানুষের সেই বিশ্বাস আছে।
নরেন্দ্র মোদির দল বিলক্ষণ জানে সোজাসাপ্টা লড়াইয়ে একুশে বাংলা দখল কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এখানে বিগত তিন দশক ধরে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা আন্দোলন প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছে মমতাকে কেন্দ্র করেই। তিনি বাংলার অবিসংবাদিত নেত্রী। উল্টে, এনআরসির ঠেলায় জেলায় জেলায় ভয় আর আতঙ্কে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। যেটুকু সমর্থন বিজেপি পেয়েছিল লোকসভা ভোটে, তা দ্রুত কমছে। এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় সংবিধানের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে, মানুষে মানুষে বিভেদ ও বৈষম্য তৈরির আরও ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে বিজেপির সরকার। চালু হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান। তুমি হিন্দু হলে, শিখ হলে, বৌদ্ধ হলে, পার্সি হলে, খ্রিস্টান হলে, জৈন হলে শরণার্থী হয়েও নাগরিকত্ব পাবে। আর মুসলমান হলে, তোমার পরিচয় হবে ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’, বৈধ নাগরিকত্ব তুমি পাবে না। ভারতের সংবিধান যে-দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে, তা মানুষে-মানুষে এই বিভেদ বৈষম্যের কথা কখনও বলে না। সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়কে সমানভাবে দেখা ও প্রত্যেককে সুবিচার দেওয়ার জন্যই কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ এই সংবিধানের
মূল সুর। অথচ, আজ ৭০ বছর পর এর ঠিক
উল্টোটাই মোদি অমিত শাহদের রাজনীতির ধ্রুবপদ। ফলে ভয়ঙ্কর সঙ্ঘাত ও তার থেকে রক্তক্ষরণ অবশ্যম্ভাবী। হচ্ছেও তাই।
নোটবন্দি এবং ত্রুটিপূর্ণ তড়িঘড়ি জিএসটি চাপিয়ে দেওয়া থেকে রক্ত ঝরছে ভারতের অর্থনীতির। ৩৭০ ধারার ধাক্কায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা। আজ সেই ঘটনার পাঁচ মাস পরেও ওই রাজ্যের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত নজরবন্দি। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনও যোগ নেই উপত্যকার বহু অংশের। আর গতকাল থেকে একই কায়দায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে অসমে। গুয়াহাটি, তেজপুর, ডিব্রুগড় জ্বলছে। মানুষ বিপন্ন। প্রাণও হারাচ্ছে। আর ভোটব্যাঙ্কে ফায়দার হিসেব কষছেন বিজেপি নেতারা। আসল সঙ্কটের দিকে তাকানোর সময়ই নেই অমিত শাহদের। দেশজুড়ে যুবসমাজ নানা সমস্যায় দীর্ণ। চাকরি নেই, ব্যবসা নেই, উৎপাদন নেই, শিক্ষার প্রসার নেই। আর এসব নিয়ে কোনও কথা নেই, আলোচনা নেই সংসদেও। মাঝে মাঝে মহামান্য অর্থমন্ত্রী কিছু ঘোষণা করছেন। কিন্তু, তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অর্থনীতি জাগছে না। পুরো সরকারটা মজে আছে শুধু ধর্ম আর তার ভিত্তিতে অবিশ্বাস, ঘৃণা ও বিদ্বেষের মিথ্যে বাতাবরণ তৈরি করতে। মানুষের ধর্ম আর বিশ্বাসকে সম্বল করে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন বিজেপির মজ্জাগত। আর, পশ্চিমবঙ্গে দেশভাগের আগুন, সব হারানো মানুষের আর্তনাদ আজ সাত দশক পরেও ঘোর বাস্তব। শিশু কোলে শরণার্থী এরাজ্যের মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। তাই এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের আড়ালে হিন্দুদের মনে সেই দেশভাগের স্মৃতিকে উস্কে হিন্দু ভোটকে নিজেদের পদ্মফুল প্রতীকের দিকে টানার জঘন্য খেলা শুরু হয়েছে। লক্ষ্য, বিধানসভা ভোট। এই আগুন
নিয়ে খেলা বন্ধ করতে না-পারলে এরাজ্যও অন্ধকারে ডুবে যাবে। বিভেদ আর চূড়ান্ত ধর্মীয় মেরুকরণ আখেরে মূল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ারই চেষ্টা। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়ে রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করার পর তাই বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য গোটা উত্তর-পূর্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও। আর, বিজেপির এই সাম্প্রদায়িক দাপাদাপি থামাতে পারেন একমাত্র মা-মাটি-মানুষের নেত্রীই।
বাংলায় সিপিএমের দিন গিয়েছে অনেকদিন হল। জাতীয় রাজনীতিতেও বামেদের আর তাৎপর্য নেই। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যপাট হারানোর পর বামেদের সেই যে ভোটব্যাঙ্কের ক্ষয় শুরু হয়েছে তা অতি সম্প্রতি রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও জারি আছে আমরা দেখলাম। কংগ্রেসের অবস্থা আরও করুণ। কার্যত দু’দলই এরাজ্যে অস্তিত্বের তীব্র সঙ্কটে ভুগছে। জোট করেও একে অপরকে জাগাতে পারছে না। নেতৃত্বের সঙ্কটের কারণে জাতীয় স্তরেও কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে জোট করে এরাজ্যে সিপিএম-কংগ্রেস দু’তরফেরই ভরাডুবি হয়। ভুললে চলবে না, তখনও বিজেপি এত প্রবলভাবে রাজ্য-রাজনীতিতে মাথা তোলেনি। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ফল সংসদীয় রাজনীতিটাকেই চূড়ান্ত একপেশে করে দিয়েছে। বামেদের কার্যত সংসদে দূরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সংখ্যার বিচারে কংগ্রেস আর তেমন কোনও চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এর বাইরে অধিকাংশ দলই চূড়ান্ত সংশয় ও দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। যার জেরে লোকসভা তো বটেই রাজ্যসভাতেও বিজেপিকে কোনও বিল পাশ করাতে আর বেগই পেতে হচ্ছে না। বিতর্কের মানও অত্যন্ত দুর্বল। আরও কত কী যে হতে পারে, আগামী পাঁচবছর তা একমাত্র মোদি-অমিত শাহই জানেন। গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত বিল আইনে পরিণত করে চলেছেন মোদি-শাহ জুটি। তাঁদের যেন বিরাম বিশ্রাম নেওয়ার অবকাশই নেই! লোকসভা তো বটেই রাজ্যসভাও এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই সংসদে বিল পাশ করানো এখন আর কোনও চিন্তার বিষয়ই নয়। তবে, সরকারেরও মনে রাখা দরকার যে ঘৃণা ছড়িয়ে কিন্তু শেষরক্ষা সম্ভব নয়। পাকিস্তান ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল বলেই তার অগ্রগতি ও সামগ্রিক বিকাশ ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের মতো হয়নি। ধর্ম, সম্প্রদায়কে অন্তরাত্মা করলে কোনও রাষ্ট্রই এগতে পারে না। এবার বিজেপি যদি ভারতকে একটি ‘হিন্দু-পাকিস্তান’-এ পরিণত করার কথা ভেবে থাকে তবে ভুলই করবে। এই উন্নত বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলার যে পরিসর আমরা অনেক কষ্টে তৈরি করেছি, পরিণামে, সেটুকুও হারাব। আত্মহত্যা কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের ‘চয়েস’ হতে পারে না।
15th  December, 2019
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
দাভোস, ২৪ জানুয়ারি: ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংসের মুখে’ ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এর মঞ্চ থেকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎপাদন কম থাকায় দাম বাড়ছে হু হু করে। সেকারণেই কুমোরটুলিতে শোলার বদলে সরস্বতী প্রতিমার সাজে ব্যবহার বাড়ছে জরির অলঙ্কারের। মৃৎশিল্পীদের কথায়, প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে যদি প্রতিমা শোলার অলঙ্কারে সাজাতে হয়, তাহলে ঢাকের ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: সংঘাতের আবহেই কি আগামীকাল রবিবার সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোমুখি হতে চলেছেন? সাংবিধানিক রীতি ও সৌজন্যের কারণেই কি তাঁদের দু’জনকে কাল পাশাপাশি দেখা যাবে? ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: দক্ষিণবঙ্গ থেকে ভোজ্য তেল নিয়ে এসে কালিয়াচকের ডাঙা এলাকায় একটি গোডাইনে মজুত করেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই তেল পাচারকারী লরির চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় ভোটদাতা দিবস
১৮৫০: অভিনেতা অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফির জন্ম
১৮৫৬: সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্ম
১৮৭৪: ইংরেজ লেখক সামারসেট মমের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৭১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৬২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,২০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫৫/২৪ রাত্রি ৪/৩২। শ্রবণা ৫৫/৩৩ রাত্রি ৪/৩৬। সূ উ ৬/২২/৭, অ ৫/১৫/৩১, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫২/৪৫/৪২ রাত্রি ৩/৩১/৩১। শ্রবণা ৫৪/৮/১ শেষরাত্রি ৪/৪/২৬। সূ উ ৬/২৫/১৪, অ ৫/১৪/৮, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/২১ মধ্যে ও ৩/৫৪/২ গতে ৫/১৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৪/১ মধ্যে ও ৪/৪৬/২০ গতে ৬/২৪/৫৫ মধ্যে। 
২৯ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

03:32:34 PM

বড়বাজার থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার সোনা সহ গ্রেপ্তার ২ 
বড়বাজারে তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার ...বিশদ

03:27:10 PM

ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে এক শ্রমিকের মৃত্যু 
ভুবনেশ্বরে বিজু পট্টনায়েক বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে মৃত্যু হল এক ...বিশদ

01:22:58 PM

কেশিয়াড়িতে যুবতীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার
 

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি এলাকার সাঁতারাপুর গ্রামে এক যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ ...বিশদ

01:09:01 PM

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে ময়নাগুড়িতে চলছে নাকা চেকিং
 

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে শনিবার ময়নাগুড়ি জুড়ে চলছে পুলিসের নাকা চেকিং। ...বিশদ

01:09:00 PM

জাতীয় ভোটার দিবসে ট্যুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:04:00 PM