Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনআরসি দেশ গড়ার পথ, নাকি ক্ষমতায় পৌঁছনোর ইস্যু
তন্ময় মল্লিক

পরিবর্তনই জীবনের বৈশিষ্ট্য। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সবকিছুই। কিন্তু পরিবর্তনের এই ধারায় সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির অভিমুখ ও উপাদান। একটা সময় রাজনীতিতে সাফল্য লাভের প্রধান উপাদান ছিল উন্নয়ন। এখন রাজনীতিতে সাফল্য লাভের উপাদান জবরদস্ত ইস্যু। ইস্যু তৈরি করতে পারলেই কেল্লা ফতে। আর ইস্যু তৈরিতে গেরুয়া শিবিরের জুড়ি মেলা ভার। এই মুহূর্তে বিজেপি নেতৃত্ব এনআরসির মতো জবরদস্ত ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধী দলগুলির তো বটেই, কোটি কোটি ভারতবাসীর নজর একটা বিন্দুতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাস্তাঘাট, পাড়ার মোড় সর্বত্র একটাই আলোচনা, এনআরসি। অক্ষরজ্ঞানের আলো যাঁদের মধ্যে প্রবেশ করেনি, তাঁরাও বুঝে গিয়েছেন এনআরসির অর্থ। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর সেই চর্চা আরও বেড়েছে।
হরি হালদার অত্যন্ত ছাপোষা মানুষ। শিলিগুড়ি শহরের রাস্তাঘাটে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালান। থাকেন শিলিগুড়ির আশিনগরে। আগে থাকতেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায়। এনআরসির কথা তুলতেই মুখ কাঁচুমাঁচু। বলেন, কাগজপত্র চোপড়ায় দাদাদের কাছে আছে বোধহয়। তবে, সবটাই ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছি। বেশি ভাবলেই কেমন যেন...। কথা শেষ না করেই ‘বাদাম চাই, বাদাম’ হাঁক দিয়ে সরে গেলেন।
উত্তর দিনাজপুরে মাটিকুন্ডা ১ পঞ্চায়েতের নতুন ডাঙাপাড়ার হালিমুদ্দিন শেখ বলেন, এদেশেই জন্মেছি... আর এখন প্রমাণ দিতে হবে, আমরা এদেশের নাগরিক! এটা ভাবা যায়? তবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এরাজ্যে এনআরসি হবে না। আমরা ওঁর ভরসাতেই আছি।
রাজ্যের উপনির্বাচনে বিজেপি পর্যুদস্ত হওয়ায় কাঠগড়ায় এনআরসি। উপনির্বাচনে এনআরসি অবশ্যই একটা ফ্যাক্টর। কিন্তু, সেটাই প্রধান কারণ নয়। কালিয়াগঞ্জের ক্ষেত্রে কথাটা খাটলেও করিমপুর এবং খড়্গপুরে তৃণমূলের সাফ঩ল্যের জন্য শুধু এনআরসিকে নম্বর দিলে ভুল হবে। এনআরসি মূল ফ্যাক্টর হলে করিমপুরে বিজেপির ভোট কিছুতেই বাড়ত না। তাই কেবল এনআরসির দিকে আঙুল তুললে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক লাভ ষোলো আনা।
এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা বোঝার জন্য অ্যাডাম স্মিথের ‘ওয়েল্থ অব নেশনস’ পড়ার দরকার নেই। মানুষ টের পাচ্ছে, সংসারের বোঝা দিন দিন হিমালয় হয়ে যাচ্ছে। উপলব্ধি করছে, ‘আচ্ছে দিন’ শুধুই স্লোগান। ১৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ ১৫০ টাকা ছুঁয়েছে। ৫০০ টাকা কেজির পোস্ত ১৪০০ টাকা ছুঁয়ে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে। বেকারি, রেলের মাশুল বৃদ্ধি, পেট্রল-ডিজেল, পেঁয়াজ, পোস্তর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মানুষের জ্বলুনির অন্ত নেই। তবে, এসব কিছুর দহন ঢেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এনআরসিকে ময়দানে নামানো হয়েছে।
হ্যাঁ, এটাই কৌশল। ইস্যু তৈরির কৌশল। বিজেপির ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ অমিত শাহ বারবার বলছেন, এনআরসি হবেই। তাঁর যুক্তি, দেশকে মজবুত করতে গেলে এনআরসিই পথ। অমিত শাহ খুব ভালো করেই জানেন, বোতলবন্দি দৈত্যকে ছেড়ে দিলে তাকে সামলাতেই সকলে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে রাজনীতি। এনআরসি কোনও ইস্যুকেই দানা বাঁধতে দেবে না।
রাহুল সিন্হা বাদে বঙ্গ বিজেপির প্রায় সকল নেতা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের জন্য এনআরসির দিকে আঙুল তুলেছেন। বলছেন, এনআরসি নিয়ে তৃণমূল মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে।
অনেকেই বলছেন, উপনির্বাচনে খারাপ ফলের জন্য এনআরসিকে বড় করে দেখানোটা বিজেপির একটা কৌশল। কারণ এনআরসিকে ‘ভিলেন’ বানাতে পারলেই এক ঢিলে দু’টি পাখি মরবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে বেশি চর্চা হবে না। আবার আলোচিত হবে না সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর কারণগুলি।
গেরুয়া শিবিরের এক তাত্ত্বিক নেতা এখনও ২০২১ সালে এরাজ্যে ভালো ফল করা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তাঁর কথায়, এখন যাঁরা এনআরসি নিয়ে লম্ফঝম্ফ করছেন, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরাই চোখে সর্ষে ফুল দেখবেন। কারণ আতঙ্ক দূর করার দাওয়াই আছে অমিতজির ঝুলিতেই।
বিজেপির ওই নেতার কথা শুনে বহু বছর আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। রাজ্যে তখন বামশাসনের স্বর্ণযুগ। উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় সিপিএম আর তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই লেগেই থাকত। সিপিএমের এক হার্মাদ নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় তৃণমূল বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি শুরু হল রাস্তা অবরোধ। অবরোধ তুলতে গিয়ে অফিসার আচমকা লাঠিচার্জ করায় একটি ছেলের মাথা ফেটে গেল। উত্তেজনা চরমে। দাবি বদলে গেল, অভিযুক্ত পুলিস অফিসারের শাস্তি চাই। বিক্ষোভ জোরদার হল। শুরু হল ভাঙচুর। বারাকপুর থেকে এক অফিসার বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেই চারদিক দেখে নিলেন। চোখের ইশারায় পজিশন নিল পুলিস। তারপর লাঠি উঁচিয়ে রে রে করে তেড়ে গেল। সামনে যাকে পেল, তাকেই গাড়িতে তুলল। মুহূর্তে এলাকা ফাঁকা।
কিছুক্ষণ পর তৃণমূলের এক নেতা দু’-একজনকে নিয়ে থানায় গিয়ে ওই অফিসারকে বললেন, যাদের ধরেছেন, তারা নির্দোষ। দয়া করে ছেড়ে দিন। অফিসার বললেন, ‘কেস দিয়ে সবাইকে কোর্টে চালান করে দেব। ইয়ার্কি হচ্ছে! পুলিসের সঙ্গে মস্তানি।’ তখন সকলে হাতজোড় করে বলেন, স্যার, দয়া করে ছেড়ে দিন। আর এরকম হবে না। অফিসার বললেন,‘এলাকা যেন একদম ফাঁকা হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর মুচলেকা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে।’ নেতা সহ সকলেই পুলিস অফিসারকে ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’ বলে গদগদ চিত্তে বিদায় নিলেন।
নেতা যেতেই অফিসার চায়ের অর্ডার দিয়ে মুচকি হেসে বললেন, দেখলেন, কী ভাবে সিচ্যুয়েশন কন্ট্রোল করলাম। ওরা যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিল, সেটাই ভুলে গেল। এখন লোকজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারলে বাঁচে। ওরা মার খেল, মাথা ফাটল, রক্ত ঝরল। আবার ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’ বলে গেল। জেলের আতঙ্ক তৈরি করতে না পারলে থামানোই কঠিন হতো।
প্রশাসনই হোক, আর রাজনীতিই হোক, কৌশলটাই আসল। প্রয়াত অনিল বিশ্বাস দেখিয়ে গিয়েছেন, জনপ্রিয়তার তলানিতে পৌঁছেও স্রেফ কৌশলে কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়। ২০০১ সালে ভাঙনের মুখে অনিলবাবু দলের ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের আলিমুদ্দিনে ডেকে বলেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হলে তাঁদের তৃণমূল কী হাল করে ছাড়বে! দোদুল্যমান নেতাদের আতঙ্কিত করে তিনি এককাট্টা করেছিলেন। তা না হলে ২০০১ সালেই ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।
আবার কৌশলী না হলে উন্নয়ন করে, চাকরি দিয়েও ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারার উদাহরণ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকার। প্রচুর চাকরি দিয়ে, উন্নয়ন করেও পাঁচ বছরের বেশি টিকতে পারেনি। নিজের দ্বন্দ্ব, মারামারি রুখতে মূলত সিদ্ধার্থশঙ্করবাবুর পরামর্শে জরুরি অবস্থা জারি করেও নয়। উল্টে জরুরি অবস্থার জন্যই কংগ্রেসকে গোটা দেশ থেকে সমূলে উৎখাত হতে হয়েছিল। সুতরাং ক্ষমতায় টিকে থাকার শর্ত, হতে হবে কৌশলী।
২০২১ সালে এরাজ্যের নির্বাচনে এনআরসিই প্রধান ইস্যু হতে চলেছে। বিশেষ করে উপনির্বাচনের এই ফলাফলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সকলেই এনআরসিকে মূল হাতিয়ার করতে চাইবেন। কিন্তু, একটা কথা মনে রাখতে হবে, দৈত্য যত ভয়ঙ্করই হোক, সে মালিকের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। কারণ দৈত্য মালিকের কেনা গোলাম।
অনেকেই বলছেন, এনআরসি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটির রয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনা। চেষ্টা করলে অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়তো সম্ভব। কিন্তু, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ রাখা বা তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। এটা তাঁরা খুব ভালো করেই বোঝেন। তবুও এনআরসির কথাই বলছেন। কারণ তাঁরা বিরোধীদের এনআরসি ইস্যুতেই বেঁধে রাখতে চাইছেন। তাঁরা মনে করছেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলই হবে তাঁদের তুরুপের তাস। ওই বিলে শুধু আতঙ্কের ক্ষতে মলমের ব্যবস্থাই নেই, আছে বিরোধীদের ঘায়েলের অস্ত্রও।
তাঁরা মনে করছেন, সংশোধনী বিলের যারা বিরোধিতা করবে, মুসলিম ছাড়া সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তাদের ‘ভিলেন’ বানানো সহজ হবে। এরাজ্যে তারা বলবে, তৃণমূল শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় না বলেই বিলের বিরোধিতা করছে। এনআরসি আতঙ্কে ভোগা মানুষের একটা বড় অংশ বিজেপির প্রচার বিশ্বাসও করবে। কথায় আছে, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। আর তখনই অমিত শাহের এনআরসি ইস্যু বৃত্ত সম্পূর্ণ করবে।
যে কায়দায় পুলিস নিরীহদের হাজতে ভরে আতঙ্ক তৈরির পর মুক্তি দিয়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’ পায়, একইভাবে এনআরসি আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়ে মোদি-অমিত শাহ জুটি ‘স্যালুট’ কুড়াবেন। আর তখন বিরোধীরা সরকার বিরোধী ইস্যু তৈরি করতে নাকানি চোবানি খাবে। তাই এনআরসি স঩ত্যিই দেশ গড়ার পথ, নাকি ক্ষমতায় পৌঁছনোর ইস্যু, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। মনে রাখতে হবে, ছলনা শুধু দুর্জনের অস্ত্র নয়, রাজনীতির কৌশলও। 
14th  December, 2019
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
মুম্বই, ২৪ জানুয়ারি (পিটিআই): বিধানসভা নির্বাচনের সময় মহারাষ্ট্রের অবিজেপি নেতাদের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। সরকারি পরিকাঠামোর অপব্যবহার করে এই কাজ করেছিল তৎকালীন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করেছেন মহারাষ্ট্রের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। এই কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।  ...

দাভোস, ২৪ জানুয়ারি: ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংসের মুখে’ ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এর মঞ্চ থেকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎপাদন কম থাকায় দাম বাড়ছে হু হু করে। সেকারণেই কুমোরটুলিতে শোলার বদলে সরস্বতী প্রতিমার সাজে ব্যবহার বাড়ছে জরির অলঙ্কারের। মৃৎশিল্পীদের কথায়, প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে যদি প্রতিমা শোলার অলঙ্কারে সাজাতে হয়, তাহলে ঢাকের ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: সংঘাতের আবহেই কি আগামীকাল রবিবার সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোমুখি হতে চলেছেন? সাংবিধানিক রীতি ও সৌজন্যের কারণেই কি তাঁদের দু’জনকে কাল পাশাপাশি দেখা যাবে? ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় ভোটদাতা দিবস
১৮৫০: অভিনেতা অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফির জন্ম
১৮৫৬: সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্ম
১৮৭৪: ইংরেজ লেখক সামারসেট মমের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৭১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৬২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,২০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫৫/২৪ রাত্রি ৪/৩২। শ্রবণা ৫৫/৩৩ রাত্রি ৪/৩৬। সূ উ ৬/২২/৭, অ ৫/১৫/৩১, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫২/৪৫/৪২ রাত্রি ৩/৩১/৩১। শ্রবণা ৫৪/৮/১ শেষরাত্রি ৪/৪/২৬। সূ উ ৬/২৫/১৪, অ ৫/১৪/৮, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/২১ মধ্যে ও ৩/৫৪/২ গতে ৫/১৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৪/১ মধ্যে ও ৪/৪৬/২০ গতে ৬/২৪/৫৫ মধ্যে। 
২৯ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

03:32:34 PM

বড়বাজার থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার সোনা সহ গ্রেপ্তার ২ 
বড়বাজারে তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার ...বিশদ

03:27:10 PM

ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে এক শ্রমিকের মৃত্যু 
ভুবনেশ্বরে বিজু পট্টনায়েক বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে মৃত্যু হল এক ...বিশদ

01:22:58 PM

কেশিয়াড়িতে যুবতীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার
 

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি এলাকার সাঁতারাপুর গ্রামে এক যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ ...বিশদ

01:09:01 PM

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে ময়নাগুড়িতে চলছে নাকা চেকিং
 

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে শনিবার ময়নাগুড়ি জুড়ে চলছে পুলিসের নাকা চেকিং। ...বিশদ

01:09:00 PM

জাতীয় ভোটার দিবসে ট্যুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:04:00 PM