Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বৈধ-অবৈধ নাগরিক কথা
সমৃদ্ধ দত্ত

পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসার পর মানুষদের কী অবস্থা সে সব আমরা খুব বেশি জানি না। আমরা বাঙালিরা জানি বাংলাদেশ সম্পর্কে। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের পাশের দেশ। সুতরাং নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া দরকার সেগুলি বাংলাদেশ সংক্রান্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। প্রথম প্রশ্ন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত হিন্দু বাঙালি প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান এবং পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে এসেছে, তাদের মধ্যে কতজন আছে, যাদের এখনও পর্যন্ত কোনও নথিই নেই ভারতের নাগরিকত্বের? আমরা তো সকলেই জানি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা একবার সীমান্ত পেরিয়ে এপার বাংলায় ঢুকে পড়ার পর, প্রথম যে কাজটি করে, তা হল একটা রেশন কার্ড জোগাড় করা। যখন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল তাদের স্থানীয় নেতাদের ধরাধরি করে রেশন কার্ড পেয়ে যেত বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষ। আর পরবর্তী কালে তৃণমূল ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও একই চিত্র। আর যাদের রেশন কার্ড নেই, তারা আজকের দিনে পেয়ে যাচ্ছে আধার কার্ড। এরকম উদাহরণ প্রচুর। কারণ অত্যন্ত স্বাভাবিক। ভোটব্যাঙ্ক। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকবে সেই চাইবে নতুন আসা মানুষকে আমি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিলে সে আমারই ভোটার হয়ে থাকতে বাধ্য হবে। সেই প্রবণতা থেকে এই রেশন কার্ড ইস্যু হয়। সেই কারণেই বিগত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে দেখা যায় সর্বদাই পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার থেকে রেশন কার্ডের সংখ্যা বেশি। সুতরাং, বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষেরা এদেশে একটানা বিনা নথিতে পাঁচ বছর থাকলেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে এই ঘোষণার তাৎপর্যপূর্ণ দিক এটা নয় যে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবার নাগরিকত্ব পেতে চলেছে। কারণ, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছে, অথচ রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড কিছুই নেই, এরকম মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য হবে সেটা বলাই বাহুল্য। আর পাঁচ বছর আগেও যে লোকটি কোনও না কোনওভাবে রেশন কার্ড জোগাড় করে নিয়েছে, সে আবার নতুন করে নিজেকে নথিপত্রহীন বাংলাদেশি বলে সরকারের কাছে ঘোষণা করবে? কেন করবে? তার ভয় করবে না হাতে রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও আবার নিজেকে অবৈধ ঘোষণাতে? কারণ, একবার যখন রেশন কার্ড বা ভোটার কার্ড পাওয়া হয়েই গিয়েছে, তখন আবার নিজেকে অনুপ্রবেশকারী বা শরণার্থী হিসাবে ঘোষণা করতে কেউ কেন যাবে? বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর, এখন দেখার বিষয় এটাই যে, আদৌ কতজন মানুষ আবেদন করছে নিজেকে নথিপত্রহীন ঘোষণা করে। যদি এই যুক্তির পাল্টা যুক্তি এটা দেওয়া হয় যে, অবশ্যই কোটি কোটি মানুষ আছে, যাদের কোনও নথিই নেই, তা হলে তো পরোক্ষে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে বামফ্রন্ট অথবা তৃণমূল কোনও সরকারই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক ভেবে ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড পাইয়ে দেয়নি! কোনটা ঠিক?
প্রশ্নটা অন্য। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে কিংবা আগামীদিনেও আসবে, তাদের ক্ষেত্রেও কি এই আইন প্রযোজ্য হবে? নতুন আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু, আইনে বলা হয়েছে হিন্দুরা (এবং অন্য পাঁচটি অমুসলিম ধর্মীয় সম্প্রদায়) ধর্মীয় অত্যাচারে ভারতে আশ্রয় পেতে চাইছে এবং তাই তাদের শরণার্থী আখ্যা দিয়ে ভারত মানবিকতার স্বার্থে নাগরিকত্ব দেবে। খুব ভালো কথা। কিন্তু সেই অত্যাচার তো আগামীকালও হতে পারে? তা হলে সেই সম্ভাব্য অত্যাচারিত হিন্দু মানুষগুলি কী দোষ করল? তাদের ভারতে ঢুকতে কি বাধা দেওয়া হবে? যদি বাধা দেওয়া না হয়, তা হলে কি তাদেরও আগামী পাঁচ বছর ভারতে থাকার পর সমানভাবে নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে? অর্থাৎ সেক্ষেত্রে আমরা কি ধরে নিতে পারি যে, বাংলাদেশ থেকে আগামীদিনে হিন্দু বাঙালিরা সক঩লেই যদি ভারতে এসে নাগরিকত্ব পেতে চায়, সকলকেই ভারত নিজেদের নাগরিক করে নেবে? প্রশ্নটার কারণ হল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারংবার বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চরম অত্যাচার শুরু হয়েছে মুজিবর রহমানের মৃত্যুর পর। সেই অত্যাচার আজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে এমন কথা বলা হচ্ছে না। তাহলে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন? এখন যারা বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে চাইবে তাদেরও তো অনুমতি ও নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত নীতি অনুযায়ী? বিনীত প্রশ্ন, কারা ২০১৪ সালের আগে এসেছে আর কারাই বা গতকাল এসেছে, এটা প্রমাণ হবে কী ভাবে? প্রমাণপত্র লাগবে না এটা তো সরকারই বলেছে। সেলফ ডিক্লারেশনই যথেষ্ট।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পর গোটা দেশে এনআরসি চালু হবে সরকারই ঘোষণা করেছে। এনআরসিতে স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চয়ই ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখই সময়সীমা হবে? এটাই প্রত্যাশিত। অর্থাৎ এনআরসিতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছে, তাদেরই স্থান দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অসমে যে ১৯ লক্ষ মানুষ বাদ গিয়েছে তাদের সিংহভাগই আবার নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু নতুন এনআরসি যখন সমাপ্ত হবে, তখন যারা ভারতের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাদের নিয়ে কী করা হবে? ভারতের অভ্যন্তরে এনআরসি আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যতটা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কথা বলছে, শেখ হাসিনাকে তো কি‌ছুই বলা হচ্ছে না! বরং সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতে আসার পর বলেছেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশের চিন্তার কারণ নেই এনআরসি নিয়ে। এর অর্থ কী? ভারতে লক্ষ লক্ষ অথবা কোটি কোটি বেআইনি নাগরিক যখন ধরা পড়বে, তাদের তার মানে পাকিস্তান অথবা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না? কী করা হবে? ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে? কতদিন? নিয়ম হল ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্টে অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক করা। সেটা হবে না?
তৃতীয় প্রশ্ন, এনআরসিতে বিভিন্ন স্থানে যত মানুষ বাদ যাবে অবৈধ নাগরিক হিসাবে, তাদের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও ইস্তফা দেবেন তো? কারণ যে মানুষটি ভারতের নাগরিকই নয়, তার ভোটও অবৈধ। সুতরাং ভারতব্যাপী এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় জেলায় জেলায়, শহরে, গ্রামে, ব্লকে, পঞ্চায়েতে যখন অবৈধ নাগরিক ধরা পড়বে একজনও, তখন নীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী থেকে পঞ্চায়েত প্রধান, এমপি থেকে কাউন্সিলার, সক঩লেই নিশ্চয়ই পদত্যাগ করবেন? একজনও অবৈধ নাগরিকের ভোটে নির্বাচিত এমপি, বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যের নির্বাচনটাও তো অবৈধ হয়ে যাবে! তাই তখন সকলের উচিত নয় কি পদত্যাগ করা? অসমে সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষ বাদ গিয়েছেন। এটা যদি চূড়ান্ত এনআরসি তালিকাই হয়, তা হলে কেন্দ্র ধরে ধরে জেলায় জেলায় প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির ইস্তফা দেওয়া উচিত। সহজ যুক্তি, অবৈধ নাগরিক মানে হল নাগরিকত্ব নেই। সুতরাং ভোটদানের অধিকার নেই। তার অর্থ ভোটেরও তো বৈধতা নেই! অসমের এমপি, এমএলএ, কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত সদস্যরা ইস্তফা দিচ্ছেন না কেন?
শেষ প্রশ্ন। যখন এনআরসি প্রক্রিয়া চালু হবে, তখন আমাদের, যাঁদের কাছে সমস্ত রকম নথিপত্র আছে, যাঁরা বছরের পর বছর আয়কর দিয়ে গেলাম, যাঁরা বছর বছর ভোট দিয়ে যাচ্ছি, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে পেনশন অ্যাকাউন্ট, সবই আছে, যাঁদের বার্থ সার্টিফিকেট থেকে আধার সার্টিফিকেট, সবই আছে, ভোটার কার্ড থেকে পাশপোর্ট, সবই আছে, তাঁদের কেন লাইন দিয়ে, ভিড় ঠেলে, ফর্ম ফিল আপ করে, কাজের সময় নষ্ট করে, নিজেদের আবার ভারতীয় প্রমাণ করতে হবে? বৈধ ভারতীয়দের কাছে এভাবে বারংবার বৈধতার প্রমাণ চাওয়া কি তাদের অপমান করা নয়! মাননীয় সরকার এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করার আগে একটু ভেবে দেখবেন অনুগ্রহ করে! এটুকু সম্মান কি প্রাপ্য নয় বৈধ নাগরিকদের? সে নাগরিক ধনীই হন অথবা দরিদ্র।  
13th  December, 2019
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
দাভোস, ২৪ জানুয়ারি: ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংসের মুখে’ ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এর মঞ্চ থেকে ...

অকল্যান্ড, ২৪ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে একদিনের সিরিজ জেতার পর ভারতের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বেড়েছে তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের প্রথম ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শুরুতেই ফের বাস ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সুর চড়াচ্ছেন মালিক সংগঠনের নেতারা। একাধিক সংগঠন এ নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। কয়েকটি সংগঠন আবার আরও এগিয়ে পরিবহণ দপ্তরে চিঠিও দিয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে।   ...

মুম্বই, ২৪ জানুয়ারি (পিটিআই): বিধানসভা নির্বাচনের সময় মহারাষ্ট্রের অবিজেপি নেতাদের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। সরকারি পরিকাঠামোর অপব্যবহার করে এই কাজ করেছিল তৎকালীন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করেছেন মহারাষ্ট্রের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। এই কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় ভোটদাতা দিবস
১৮৫০: অভিনেতা অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফির জন্ম
১৮৫৬: সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্ম
১৮৭৪: ইংরেজ লেখক সামারসেট মমের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৭১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৬২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,২০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫৫/২৪ রাত্রি ৪/৩২। শ্রবণা ৫৫/৩৩ রাত্রি ৪/৩৬। সূ উ ৬/২২/৭, অ ৫/১৫/৩১, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫২/৪৫/৪২ রাত্রি ৩/৩১/৩১। শ্রবণা ৫৪/৮/১ শেষরাত্রি ৪/৪/২৬। সূ উ ৬/২৫/১৪, অ ৫/১৪/৮, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/২১ মধ্যে ও ৩/৫৪/২ গতে ৫/১৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৪/১ মধ্যে ও ৪/৪৬/২০ গতে ৬/২৪/৫৫ মধ্যে। 
২৯ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

03:32:34 PM

বড়বাজার থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকার সোনা সহ গ্রেপ্তার ২ 
বড়বাজারে তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার ...বিশদ

03:27:10 PM

ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে এক শ্রমিকের মৃত্যু 
ভুবনেশ্বরে বিজু পট্টনায়েক বিমানবন্দরে নির্মীয়মান অংশ ভেঙে মৃত্যু হল এক ...বিশদ

01:22:58 PM

কেশিয়াড়িতে যুবতীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার
 

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি এলাকার সাঁতারাপুর গ্রামে এক যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ ...বিশদ

01:09:01 PM

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে ময়নাগুড়িতে চলছে নাকা চেকিং
 

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে শনিবার ময়নাগুড়ি জুড়ে চলছে পুলিসের নাকা চেকিং। ...বিশদ

01:09:00 PM

জাতীয় ভোটার দিবসে ট্যুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:04:00 PM