Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বারাণসীতে জটলা কোর্ট চত্বরে। আইনজীবী এবং সাধারণ মহিলারা আছেন সেখানে। মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন একে অপরকে।
চুঁচুড়ায় পুলিসকর্মীদের হাতে রাখী পরাচ্ছেন যুবতীরা।
মুম্বইতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন মহিলারা। একজন সামনে দাঁড়িয়ে নাগাড়ে ড্রাম বাজিয়ে যাচ্ছেন। চলছে স্লোগান... এতদিনে পুলিস একটা কাজের কাজ করল।
এই সব ছবি শুক্রবারের। সকাল ৮টা নাগাদ শোনা গিয়েছিল খবরটা। আর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল আগুনের মতো। হায়দরাবাদের ২৫ বছরের পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণে যারা অভিযুক্ত ছিল, সেই চারজনকে এনকাউন্টারে নিকেশ করেছে তেলেঙ্গানার পুলিস। ব্রিজের উপর তখন সার বেঁধে মানুষ দাঁড়িয়ে। নীচ দিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে পুলিস যাচ্ছে, আর তাদের উপর হচ্ছে পুষ্পবৃষ্টি। গোটা দেশ একবাক্যে সমর্থন করেছে এই এনকাউন্টারকে। মতটা স্পষ্ট, এমনই হওয়া উচিত ছিল। নৃশংসতা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। নির্ভয়া কাণ্ডের বিবরণ শুনে শিউরে উঠেছিল ভারত। প্রতিবাদে নেমে পড়েছিল রাস্তায়। নাঃ, কোনও রাজনৈতিক দলের আয়োজন ছিল না। সবটাই ছিল স্বতঃপ্রণোদিত। নির্ভয়াকে হয়তো বাঁচানো যায়নি। তাঁর লড়াই শেষ হয়ে গিয়েছিল হাসপাতালের বিছানায়। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ঝড় ধর্ষণের মতো অপরাধ সংক্রান্ত আইনে বদল আনতে বাধ্য করেছিল। নাবালক যদি এই নৃশংসতা দেখাতে পারে, তাহলে তার বিচারও জুভেনাইল আদালতে হতে পারে না। সংশোধিত আইনে এমন ঘটনায় নাবালককেও আজ সাবালক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেটাও কি যথেষ্ট?
না, যথেষ্ট নয়। তাই আজ ফের হায়দরাবাদের মতো ঘটনায় দেশ কেঁপে ওঠে। এরপর মালদহে উদ্ধার হয় যুবতীর দগ্ধ দেহ। উন্নাওয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়া অভিযুক্ত প্রকাশ্যে গায়ে আগুন দেয় ধর্ষিতাকে। ত্রিপুরাতেও ধর্ষণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মুজফ্‌ফরনগরে ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় অভিযোগকারিণীর মুখে অ্যাসিড ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। একের পর এক এমন ঘটনা কী প্রমাণ করে? উত্তর একটাই, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আজ হয়তো আমরা নারী স্বাধীনতা, সমান অধিকারের স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপাই, কিন্তু শিকড়টাই যে পচে গিয়েছে!
হয়তো কাকতালীয়...। মাস দুয়েক আগে একটি হিন্দি ছবির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানের কোটায় এক দুষ্কৃতী মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং তারপর তার গায়ে আগুন দিয়ে দেয়। আশ্চর্যজনকভাবে তারপরই এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়ে গেল। ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া শেষ রিপোর্ট ২০১৭ সালের। ওই বছর দেশের ৩২ হাজার ৫০০টি ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। যাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই নাবালিকা। ওই বছরের শেষ পর্যন্ত দেশের আদালতে মোট ১ লক্ষ ২৮ হাজার ধর্ষণের মামলা পড়ে রয়েছে, যার ফয়সালা হয়নি।
এই সব ঘটনাই খাতায়-কলমে নথিভুক্ত। অভিযোগ হয়নি, এমন বহু ঘটনা গ্রামে-গঞ্জের বাতাসে হারিয়ে যায়। আধপেটা খাওয়া পরিবারগুলোর বাড়ি থেকে মেয়েরা উধাও হয়ে যায়। কেউ ফিরে আসে। কেউ আসে না। পুলিস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ নিতে চায় না। সেই সংখ্যাটা সরকারি হিসেব কখনও আসে না...। এক্ষেত্রে পুলিসকে আমরা ঠুঁটো, অপদার্থ, রাজনৈতিক দলের তাঁবেদার বলে গাল দিয়ে থাকি। কিন্তু পুলিস চাইলে পারে না, এমন কোনও কাজ নেই। সাইবারাবাদের ঘটনাই তার প্রমাণ। একদিকে উত্তরপ্রদেশে উন্নাওয়ের অভিযুক্ত ধর্ষিতার গায়ে আগুন দিচ্ছে, নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে পুলিস নির্বিকার। আবার অন্যদিকে তেলেঙ্গানায় এনকাউন্টারে খতম করে দেওয়া হচ্ছে বর্বরতার ধারক ও বাহক চার অমানুষকে। অর্থাৎ, পুলিস কাজ করছে। এখানেও আবার পাল্টা সমালোচনা, মানবিকতার হত্যা...। উভয় সঙ্কট পুলিসের। তারা কাজ না করলেও বিপদ, করলেও। মানুষ অবশ্য এই শ্রেণীর সরকারি কর্মীকে কখনওই সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। কথায় আছে না, বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, আর পুলিস ছুঁলে...। অনেক ক্ষেত্রেই শোনা যায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ। কাউকে মাদক মামলায়, কাউকে ধর্ষণের। বর্তমানের এক সাংবাদিক বহু বছর আগে এমনই এক ‘দুর্ঘটনা’র সম্মুখীন হয়েছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার একটি থানায় ঢুকে দেখেছিলেন, গোরু পাচারকারীদের ধরে তাদের থেকে টাকা আদায় চলছে। টাকা দিলে মুক্তি, না হলে জেল। হঠাৎ সেই অফিসারের খেয়াল হয়, অন্য একটি লোক সেখানে দাঁড়িয়ে। তাঁর প্রথম কাজ হয়, বর্তমানের সেই সাংবাদিকদে লক আপে পোরা। তারপর সরাসরি হুমকি, দেব নাকি ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে? কালকেই কোর্টে তুলব। এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় তখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। বিষয়টি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সে অন্য প্রসঙ্গ। এই ঘটনা উত্থাপনের কারণ একটা বিষয়ই স্পষ্ট করে দেওয়া, পুলিস চাইলে সব করতে পারে। তাই আজ সাইবারাবাদের এনকাউন্টারের পর মানবাধিকার সংগঠনগুলি মাথা তুলেছে... ওরা তো অভিযুক্ত! দোষী সাব্যস্ত নয়। তাহলে এই এনকাউন্টারের মানেটা কী? রাত তিনটের সময় ঘটনার পুনর্নির্মাণ মোটেই আইনসঙ্গত নয়। ওই সময়টাতেই কেন নিয়ে যাওয়া হল? ভিডিওগ্রাফি কোথায়? ওই অভিযুক্তরা যে পুলিসের অস্ত্র ছিনিয়ে হামলা করে, তার প্রমাণ কী? ওরা এগিয়ে এসে পুলিসের অস্ত্র কেড়ে নিল, আইন রক্ষকরা তখন কী করছিলেন? এমন বহু প্রশ্ন কিন্তু সমালোচকরা তুলতে শুরু করেছেন। এর অপর একটা কারণ হল, সন্দেহের নেপথ্যে অতীতের আরও কিছু এনকাউন্টার রয়েছে। যা হায়দরাবাদ পুলিস করেছিল। একই যুক্তি, একই প্লট। কাজেই প্রশ্ন উঠবেই।
পুলিস অবশ্য এসবে গা করছে না। করবেও না। কারণ, গোটা দেশ আজ তাদের পাশে। জয়া বচ্চন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধীদের রাস্তায় পিটিয়ে, মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া উচিত। সেই বক্তব্যেই হয়তো সিলমোহর দিল তেলেঙ্গানার পুলিস।
আমরাও কি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে পারি? কোন মেয়ে কী জামাকাপড় পরে রাস্তায় বেরবে, কেন বেশি রাতে বাড়ি ফিরবে, এসবের উপর খবরদারি না করে বাড়ির পুত্রসন্তানের শিক্ষায় বেশি জোর দেওয়াটা বেশি দরকারি। এই সমাজকে বাসযোগ্য করে তোলার একটাই শিক্ষা, নারীসমাজকে সম্মান। সুরক্ষাটা সর্বতোভাবে সামাজিক। এবং এই সমাজের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়েই রয়েছে। জীবন, সম্মান... এই সবই সাংবিধানিক অধিকার। সমাজে ‘না’ শব্দটির অর্থ সর্বতোভাবেই ‘না’। এর বিরুদ্ধে কোনও জোর চলে না। চলতে পারে না। সমাজকে সচেতন করতে পারি আমরাই।
ওই চার দুষ্কৃতী কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করেছিল, ধর্ষণ ও খুন তারাই করেছে। এরপর তৈরি হতো চার্জশিট, তারপর বিচার। চার্জশিট তৈরি হতেই মাসের পর মাস চলে যায়। তার মধ্যে কখনও কখনও চলে আসে প্রভাবশালী তত্ত্ব। টাকার প্রলোভন। কেস হাল্কা করার চেষ্টা। এরপর নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি হলেও বছরের পর বছর জেলে বসিয়ে করদাতাদের টাকায় ভরণ-পোষণ চলে ওই বজ্জাতদের। শেষ অস্ত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা। কামদুনির মামলা এখনও হাইকোর্টে পড়ে রয়েছে। সরকারি এই দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। মনে হয়, এদের গুলি করে মেরে ফেললেই ভালো হতো। আর সেটাই হয়েছে। আইন হাতে তুলে নেওয়া ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে মোটেও কাম্য নয়। পুলিসেরও না। কিন্তু সমাজটাকে পশুর খোঁয়াড়ে পরিণত করাটাও তো মেনে নেওয়া যায় না! আজ তেলেঙ্গানা..., কাল যদি উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গে এই ‘সাজা’ কার্যকর হয়, তাহলে অন্তত দুষ্কৃতীদের মনে ভয়টা ঢুকবে। বিকৃত মনগুলো একবার হলেও ভাববে, পরিণতিটা কী হতে পারে। এনকাউন্টার সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু আমাদের আইনও তো এই ধরনের মামলায় নাবালকত্বের পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে! চার্জশিট হয় না। মামলার ফয়সালা হয় না। হতাশা জন্ম দেয় বিরক্তির, রাগের। কিন্তু আমরা সমাজবদ্ধ জীব। হতাশায় কাঁদতে পারি। কিন্তু তারপরও উল্টোদিকের লোকটাকে বলি, কোর্টে দেখে নেব। কারণ, আমরা এখনও আইনে ভরসা রাখি। বিশ্বাস করি, আইনই পারে মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে। দীর্ঘসূত্রতার গেরো কাটিয়ে আইন যদি আরও কঠোর হয়, এই ধরনের দুষ্কৃতীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, তবেই মানুষের আস্থা বজায় থাকবে। গণতন্ত্রে সেটাই কাম্য। না হলে যেভাবে হোক, ন্যায়বিচার দাবি করবে জনগণ। মোরাদাবাদের ছাত্রীদের হাতের প্ল্যাকার্ড কিন্তু নিঃশব্দে সেই কথাই বলছে। বিচার চাই। যে কোনও পথে। 
10th  December, 2019
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
নতুন ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনধিকারীদের প্রবেশে কেউ আপত্তি করলে, বিরুদ্ধমতাবলম্বীদের বাছাই করে করে মারতে হবে। এবং মাথায় মারাই নিয়ম এক্ষেত্রে। কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাশক্তি এবং ভাবনায় ফারাক করে দেয় একটাই জিনিস, মাথা অর্থাৎ মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কেই থাকে মেধা। সুতরাং মাথাকে সবরকম ভাবে টার্গেট করাই যুক্তিযুক্ত ভাবা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, হয় মগজ ধোলাইয়ের কোর্স চালু হোক অথবা মাথা ফাটানোর পারমিশন দেওয়া হোক। একান্তই যদি এগুলো সম্ভব না হয়, তা হলে যে সব মনীষী আধুনিক উন্নত চিন্তাশক্তির জনক, তাঁদের মূর্তি ভাঙতে হবে। যেমন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে হয়েছে। ভাঙতে হলে বাঙালি মনীষীর মূর্তিই হয় টার্গেট। মাথায় মারতে হলেও বাঙালি ছাত্রী ও অধ্যাপিকাই টার্গেট হয়। বিশদ

10th  January, 2020
মিশন ২০২১: নাগরিকত্ব ইস্যু কি বঙ্গ বিজেপির পথের কাঁটা হয়ে উঠছে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ক্ষমতায় আসার পর মমতা রাজ্যের যেখানে যা উন্নয়ন উন্নতি করেছেন তার ফল সরাসরি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। বড় ও ভারী শিল্প হয়তো তিনি এখনও তেমন আনতে পারেননি, তবে ওই উন্নয়নের জোয়ারে এবং অব্যর্থতায় বাংলার গরিব সাধারণের জীবনযাত্রার মান ও গতিতে যে উন্নতি ঘটিয়েছেন— তা এই বঙ্গের ইতিহাসে অনন্য, মুখে না মানুন মনে মনে মানেন সকলেই। সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম আমলের সূচনায় ভূমি সংস্কার ছাড়া মমতার এই উন্নয়নের তুল্য উদ্যোগের নজির খুব কি আছে যাতে উপকৃত হয়েছেন গরিব প্রান্তিক মানুষ থেকে শহর বস্তির সাধারণজন?
বিশদ

09th  January, 2020
নিত্যযন্ত্রণা এবং সরকার
শান্তনু দত্তগুপ্ত

আমাদের এই বাংলায় এক প্রবাদপ্রতিম ভদ্রলোক আছেন। তাঁর নাম গৌরী সেন। মানে টাকার জোগানদার। শুধু হাত পেতে দাঁড়ানোর অপেক্ষা... তিনি তো দেওয়ার জন্য মুখিয়েই আছেন! আমাদের এই পোড়া দেশে গৌরী সেন হল সরকার। তা সে রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র। মানে, যে সরকারকে আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, সেই সরকার আমাদের ভর্তুকি দেবে। তেলে ভর্তুকি, গ্যাসে ভর্তুকি, চাল-চিনিতে ভর্তুকি...। ইদানীং এই গৌরী সেনের চরিত্র কিছুটা বদলেছে বলে বোধ হচ্ছে।
বিশদ

07th  January, 2020
একনজরে
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

ইসলামাবাদ, ১৬ জানুয়ারি (পিটিআই): নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মোশারফের হয়ে ৯০ পাতার পিটিশন দাখিল করেছেন তাঁর আইনজীবী। ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: গত কয়েক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্য সরকারের সঙ্গে অহি-নকুল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যপালের। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করায় সমঝোতার আবহ তৈরি হলেও পরবর্তীকালে নানা ইস্যুতে ফের সংঘাতের বাতাবরণ ফিরে এসেছে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে এই প্রথম নির্বিঘ্নে কোনও সমাবর্তনে হাজির হলেন জগদীপ ধনকার। আর সেই অনুষ্ঠানে গিয়েও সরকারের উদ্দেশ্যে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

গুরুজনের চিকিৎসায় বহু ব্যয়। ক্রোধ দমন করা উচিত। নানাভাবে অর্থ আগমনের সুযোগ। সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ায় ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪১: মহান বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র বসুর মহানিষ্ক্রমণ
১৯৪২: মার্কিন মুষ্টিযোদ্ধা মহম্মদ আলির জন্ম
১৯৪৫: গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের জন্ম
২০১০: কমিউনিস্ট নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মৃত্যু 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯. ২০ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯০.১৯ টাকা ৯৪.৫৮ টাকা
ইউরো ৭৭.১০ টাকা ৮০.৮৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০, ৩৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮, ৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৮, ৯০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ মাঘ ১৪২৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ২/৪০ দিবা ৭/২৮। চিত্রা ৪৭/৪ রাত্রি ১/১৩। সূ উ ৬/২৩/৭, অ ৫/৯/৫১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৮/৩২ গতে ১০/৪১ মধ্যে পুনঃ ১২/৫০ গতে ২/১৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি। বারবেলা ৯/৪ গতে ১১/৪৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৭ মধ্যে। 
২ মাঘ ১৪২৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, সপ্তমী ১২/৪/১৯ দিবা ১১/১৫/২৬। হস্তা ০/৩/৫ প্রাতঃ ৬/২৬/৫৬ পরে চিত্রা নক্ষত্র দং ৫৬/৯/৪১ শেষরাত্রি ৪/৫৩/৩৪। সূ উ ৬/২৫/৪২, অ ৫/৮/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে ও ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে ও ১২/৫৫ গতে ২/২৩ মধ্যে ও ৩/৫১ গতে ৫/৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩ গতে ৮/৪৭ মধ্যে ও ৩/৪৪ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। কালবেলা ১০/২৬/৫৫ গতে ১১/৪৭/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/২৮/৮ গতে ১০/৭/৪৩ মধ্যে । 
মোসলেম: ২১ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ভারত ৩৬ রানে জিতল 

09:55:34 PM

অস্ট্রেলিয়া ২৩৫/৫ (৪০ ওভার), টার্গেট ৩৪১ 

08:50:02 PM

অস্ট্রেলিয়া ১৫১/২ (২৬ ওভার), টার্গেট ৩৪১

07:46:57 PM

অস্ট্রেলিয়াকে ৩৪১ রানের টার্গেট দিল ভারত 

05:12:00 PM

নির্ভয়া কাণ্ড: দোষীদের ফাঁসি ১ ফেব্রুয়ারি 
নির্ভয়া কাণ্ডে চারজন দোষীদের ফাঁসি ২২ জানুয়ারির বদলে হবে ১ ...বিশদ

05:08:00 PM

ভারত ২৪৯/৩ (৪০ ওভার) 

04:25:39 PM