Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন। এই রাতে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পশুদের নখের আঘাত এড়িয়ে তাঁদের মেয়েটা কি কোনওক্রমে বাড়ি ফিরতে পারবে? কোনও কোনও মেয়ের কিন্তু বাড়ি ফেরা হয় না। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা পড়ে যায় হায়নার ফাঁদে। সারা শরীর রক্তাক্ত হয়। হায়নার দাঁতের ফাঁকে আটকে যায় মেয়েটির শরীরের রক্ত-মাংস। এমন ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। রাত কিংবা দিন, এই দেশে যে মেয়েরা আর নিরাপদ নয়, তা প্রতিদিনের ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে। ছাড় পাচ্ছে না অবোধ এক বছরের শিশুকন্যা থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত। সেই হতভাগিনী নির্ভয়ার গল্প এখন আরও প্রসারিত। বেঙ্গালুরু, মুম্বই, কাঠুয়া, হায়দরাবাদ, উন্নাও, কামদুনি, মধ্যমগ্রাম। তারপর, তারপর...। অজস্র নারীর যন্ত্রণা আর কান্না মিশে যাচ্ছে আমাদের সভ্যতার উজ্জ্বল আলোয়। আমরা বুঝতেও পারছি না, আলোর নীচেই গাঢ় হচ্ছে ঘন অন্ধকার। ক্রমেই অবণ্যের আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করছে। হাড়হিম করা অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেক বাবা তাঁর কন্যাসন্তানের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে ভাবছেন, এই সমাজে আমার মেয়েটা নিরাপদ তো?
ঘটনার পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হবে। তারপর চলবে তার বিচার। কবে সে বিচার শেষ হবে, কেউ জানে না। উল্টে বিচারের সময় মেয়েটিকে নানা ধরনের প্রশ্নে প্রকাশ্য কোর্টে আরও একবার অপমানিত হতে হবে। আমরা তার নমুনা দেখেছি তপন সিংহের সাহসী ছবি ‘আদালত ও একটি মেয়ে’তে। এখনও সেরকমই চলছে। এখনও কত প্রশ্ন ওঠে। মেয়েটির বয়স কত, ধর্ম কী, মেয়েটির স্বভাবচরিত্র ঠিক ছিল কিনা! বিচার চলবে, চলবে, চলবে। আর মেয়েটার উপর হুমকি আসতেই থাকবে। তাকে কখনো গাড়িতে ধাক্কা মেরে খুন করার চেষ্টা হবে। কখনো পুড়িয়ে মারারও চেষ্টা হবে। এসব দেখে বিচারপ্রক্রিয়ার উপর মানুষের বিশ্বাস ক্রমে ক্রমে টলে যাচ্ছে। এটা একটা বিপজ্জনক দিক। হায়দরাবাদের ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে পুলিশ যখন এনকাউন্টারে মেরে ফেলল, তখন সারা দেশ উল্লাসে বলে উঠেছিল, ঠিক হয়েছে। এতেই বোঝা যায় সাধারণ মানুষের ভিতরে কতটা আগুন ধিক ধিক করে জ্বলছিল। এভাবে নিশ্চয়ই অপরাধীদের শাস্তি হতে পারে না। কিন্তু মানুষের সমর্থন দেখে একটাই কথা মনে হয়েছে, বিচারের বাণী এভাবে নীরবে নিভৃতে কাঁদুক, এটাও মানুষের পছন্দ নয়। পছন্দ নয় দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়াও। তাই বিচারের বাইরে এই ধরনের শাস্তিতে প্রায় সকলের উল্লসিত মানসিকতাই প্রকাশ পেয়েছে। সভ্য মন বলছে, এটা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। কিন্তু ভিতরের রোষ বলছে, চাই এনকাউন্টার। এটাই তো গণরোষ। আইন যখন দুর্বল হয়, গণরোষ তখন প্রবল শক্তি ধারণ করে। একটা কথা বলতেই হয় যে, হায়দরাবাদ পুলিশের এই এনকাউন্টার নিশ্চয়ই অপরাধপ্রবণতা কমাবে। বিচারব্যবস্থা যে ভয় অপরাধীদের দেখাতে পারেনি, এই এনকাউন্টার কিছুটা হলেও সেই ভয় তৈরি করতে সক্ষম হবে। এখানেই এই এনকাউন্টরের সার্থকতা বলে সকলের মনে হয়েছে। অর্থাৎ আইন তাদের এত তাড়াতাড়ি শাস্তি দিতে পারত না। সারা দেশে উল্লাসের মধ্য দিয়ে কার্যত সেই মনস্তত্ত্বই প্রকাশ পেয়েছে।
কিন্তু এই এনকাউন্টার শেষ কথা হতে পারে না। এই ক্ষমতা পুলিসের হাতে চলে গেলে সমস্ত ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। কত ফেক এনকাউন্টারে পুলিস কত যে নিরীহ মানুষকে মেরে ফেলেছে, তার হিসাব নেই। আমাদের রাজ্যে ১৯৭১ সালের ঘটনা আমরা ভুলে যাইনি। সেদিন কত যে নিরীহ, মেধাবী ছেলেকে পুলিস নকশাল বলে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে দিয়েছিল, তার হিসাব নেই। আমাদের দেশে আইনরক্ষক পুলিসের ভূমিকা খুবই বিতর্কিত। বহু উর্দিতে লেগে আছে অনেক কলঙ্কের দাগ। লক আপে ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাও আমাদের দেশে কম ঘটেনি। সুতরাং আজ পুলিস পুষ্পবৃষ্টিতে অভিনন্দিত হলেও, ক্ষমতা তাকে বিপথে নিয়ে যাবেই। এই রক্ষকই যে ভক্ষক হয়ে ওঠে এটা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। তাই সব ক্ষেত্রে এনকাউন্টার শেষ কথা হতে পারে না।
কিন্তু গণরোষ ফিরে ফিরে আসবেই। কারও শক্তি নেই তাকে থামানোর। যুগে যুগে প্রমাণ হয়েছে মানুষের শক্তিই সবথেকে বড়। এই গণরোষ দেখেছিল নাগপুর। ২০০৪ সালে ধর্ষিতা মেয়েরা একত্রিত হয়ে কোর্টেই মেরে ফেলেছিলেন আক্কু যাদবকে। দিনের পর দিন কস্তুরবা বস্তির মেয়েরা আক্কুর শিকার হয়ে উঠছিলেন। প্রভাবশালী হওয়ায় আইন তাকে ছুঁতেও পারছিল না। এর মধ্যেই সমাজকর্মী ঊষা নারায়ণের নেতৃত্বে বস্তির মেয়েরা ফুঁসে ওঠেন। সেদিন কোর্টে হাজির করা হয় আক্কুকে। কোর্ট চত্বরে উপস্থিত মেয়েদের দেখে সে বলে ওঠে। ‘আজই জামিন পাব, বেরিয়ে এসে তোদের দেখে নেব।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২০০ মেয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কারও হাতে চাকু, কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে লঙ্কাগুঁড়ো। বিধাতার শাস্তি গণরোষ হয়ে নেমে আসে। সেখানেই খতম হয় আক্কু যাদব। পরিস্থিতি আবার সেইদিকেই এগচ্ছে।
একটা কথা আমার গত কয়েকদিন ধরেই মনে হচ্ছে, যে দেশে সীতাদের ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়, সে দেশেই আবার ঘটা করে রামমন্দির নির্মাণ করা হয়। এতেই বোঝা যায় এই রামমন্দির নির্মাণ আসলে রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা ছাড়া আর কিছু নয়। অযোধ্যা থেকে প্রায় দুশো কিলোমিটার দূরে উন্নাওয়ে দুটি মেয়ে লাঞ্ছনার শিকার। তাদের একজনকে অভিযুক্তরা গাড়ি দিয়ে পিষে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল আর একজনকে অভিযুক্তরা পুড়িয়ে মেরে দিয়েছে। একটি ঘটনায় স্বয়ং বিজেপি বিধায়ক অভিযুক্ত। এ কোন বর্বরতার দিকে হাঁটছি আমরা! সেটাও কি আর এক রামরাজ্য? আর কতজন মেয়ে ধর্ষিতা হলে আমরা সেই রামরাজ্য পাব?
যোগীর রাজ্যে দেখেছি গোরক্ষকরা খুব তৎপর। কেউ গোমাংস নিয়ে গেলেই বেদম গণপিটুনি দিয়ে তাদের ‘অপরাধের’ শাস্তি দেওয়া হয়। অনেক সময় তাদের প্রাণবায়ুও বেরিয়ে যায়। তাই উত্তরপ্রদেশের এমন অন্ধকার সময়ে আমরা শরণাপন্ন হতে পারি, সেই সব গোরক্ষকদের। বলতে পারি, হে গোরক্ষকগণ, তোমাদের রাজ্যের মেয়েরা কী দোষ করল? এমন প্রয়োজনীয় সময়ে গোমাংস ধরার চেয়ে ধর্ষণকারীদের ধরা অনেক মহৎ ও পুণ্যের কাজ। তোমরাই বিচার করে দেখ, একটা গোরুর থেকে মানুষের প্রাণের দাম কিংবা একজন নারীর শ্লীলতার দাম কম না বেশি?
হায়দরাবাদের ঘটনা আমাদের দেশের মানুষের ভিতরে একটা আগুন জ্বেলে দিয়েছিল। এই ক্রোধটা স্বাভাবিক। কিন্তু দিকে দিকে ধর্ষণের উল্লম্ফন দেখে যে সুশীল সমাজ, ছাত্রসমাজ কিংবা সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন, তাঁদেরই কারও কারও লালসার কলুষিত স্পর্শে বিব্রত হন বাসের মহিলা যাত্রী, হাটে বাজারে বা মলে কোনও মেয়ে। কিংবা কোনও স্কুলের শিক্ষকের বা পুলকারের চালকের ‘ব্যাড টাচ’ লেগে যায় বালিকার অঙ্গে। ফেসবুকে কেউ আপলোড করে দেয় বান্ধবীর অশ্লীল ছবি! তাদের শাস্তি দেবে কে? মানসিকতা না বদলালে মেয়েরা নিত্যদিন সমাজে অপমানিত, লাঞ্ছিত হতেই থাকবে। একটা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মেয়েরা বেশি লাঞ্ছিত হয় তাদের পরিচিত জনের কাছ থেকেই। কে দেবে তাদের শাস্তি? কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ধর্মীয় গুরু, পুলিস কর্তা, শিল্পপতি, আইনজীবী এই ধরনের মানুষদের এনকাউন্টারে ওড়াবেন কোন পুলিসকর্তা?
এর মধ্যে আবার দেখি ফোঁস করে ওঠেন মানবাধিকারবাদীরা। এইসব নৃশংস পশুদের ফাঁসি দেওয়ার কথা বললে তাঁরা মানবাধিকারের কথা বলেন। কার জন্য মানবাধিকার! ওই পশুদের জন্য? মানুষের দেহ ধারণ করলেই কী মনুষ্য পদবাচ্য হয়? মানবাধিকার অবশ্যই মানুষের জন্য থাকুক। মানুষের দেহধারী পশুদের জন্য সেই মানবাধিকার প্রয়োগ করে যদি তাদের সোহাগ করা হয়, তবে সেই রাতের অন্ধকারে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া মেয়েটা, দাউ দাউ আগুনে জ্বলতে থাকা মেয়েটা কি আমাদের গোটা সমাজটার মুখেই ঘৃণায় থুথু ছিটিয়ে দেবে না? বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, যেমন কুকুর তেমন মুগুর। অপরাধীকে যথোপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে। এবং সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
১৯৯৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালাম একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তখনও তিনি রাষ্ট্রপতি হননি। সেই বক্তৃতার শেষে একটি নয়-দশ বছরের মেয়ে তাঁর কাছে অটোগ্রাফ নিতে এলে তিনি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কী স্বপ্ন দেখো?’ মেয়েটি হাসিমুখে বলেছিল, ‘আমি উন্নত ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখি।’ উত্তরটা শুনে চমৎকৃত হয়েছিলেন কালাম সাহেব। সেই মেয়েটির স্বপ্ন আর এক রকমের স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিল কালাম সাহেবের চোখে। তিনিও স্বপ্ন দেখলেন, টোয়েন্টি টোয়েন্টি। অর্থাৎ তখন তিনি স্বপ্ন দেখলেন আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ভারত কীভাবে উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারে। লিখেছিলেন, ‘ইন্ডিয়া ২০২০: আ ভিশন ফর দ্য নিউ মিলেনিয়াম’। আর কয়েকদিন পরেই আমরা পৌঁছে যাব ২০২০ সালে। আজ কালাম বেঁচে থাকলে দেখতেন কীভাবে তাঁর স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে, অর্থনীতিতে, ক্ষুধায়, নারীদের লাঞ্ছনায় দেশ আজ পিছন দিকে হাঁটছে। আর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চলছে ক্ষমতার পিঠে ভাগাভাগি। শত ধিক বললেও হবে না কোনও কাজ। কেননা ক্ষমতাই একমাত্র সত্য তাহার উপরে নাই। সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!
09th  December, 2019
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
একনজরে
কানসাস সিটি, ২০ জানুয়ারি (এপি): আমেরিকার কানসাস সিটিতে রবিবার বন্দুকবাজের গুলিতে মৃত্যু হল দু’জনের। জখম ১৫ জনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। পুলিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ...

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় প্রোমোটারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাধিক বেআইনি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে চেয়ারম্যান, এমনই অভিযোগ তুলেছেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু। ...

সংবাদদাতা, ঘাটাল: সোমবার রাস্তা সংস্কারের দাবিতে পথ অবরোধ করলেন ব্যবসায়ীরা। এদিন সকালে দাসপুরের সোনাখালি বাজার সংলগ্ন এলাকায় সুলতাননগর-গোপীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করা হয়।   ...

সংবাদদাতা, পতিরাম: পুরসভার আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই এবার বালুরঘাটে পুরভোটের হাওয়া গরম করতে বিজেপি আন্দোলনে নেমে পড়েছে। আসন্ন পুরভোটের আগে তাদের স্লোগান, এই পুরসভা অনাথ আশ্রমের মতো। কোনও পরিষেবাই তারা দিতে পারে না। হয় না নির্বাচনও।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতান্তরে না যাওয়াই শ্রেয়। কর্মক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন হতে পারে। ব্যবসায় উপার্জন বাড়বে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৫- স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী বসুর মৃত্যু
১৯৫০- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের মৃত্যু
১৯৬৮- চারটি হাইড্রোজেন বোমা সহ গ্রিনল্যান্ডে ভেঙে পড়ল আমেরিকার বি-৫২ যুদ্ধবিমান
১৯৮৬- অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪৯ টাকা ৭২.৬২ টাকা
পাউন্ড ৯০.২৮ টাকা ৯৪.৬২ টাকা
ইউরো ৭৭.০৪ টাকা ৮০.৭৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০, ৬০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮, ৫২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯, ১০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ৭৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ৮৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, দ্বাদশী ৪৮/২৬ রাত্রি ১/৪৫। জ্যেষ্ঠা ৪৩/২১ রাত্রি ১১/৪৩। সূ উ ৬/২২/৪৯, অ ৫/১২/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫২ গতে ১২/৫২ মধ্যে. রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/৫২ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৪ গতে ৯/৫ মধ্যে পুনঃ ২/২৯ গতে ৩/৫০ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/৯ গতে ১১/৪৮ মধ্যে। 
৬ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, দ্বাদশী ৫০/৫৪/৪৮ রাত্রি ২/৪৭/৫৬। জ্যেষ্ঠা ৪৬/৪১/৪৮ রাত্রি ১/৬/৪৪। সূ উ ৬/২৬/১, অ ১/১৬/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১ গতে১০/৪৩ মধ্যে ও ১২/৫৬ গতে ২/২৫ মধ্যে ও ৩/৯ গতে ৪/৩৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৩ মধ্যে ও ৮/৪৯ গতে ১১/২৪ মধ্যে ও ১/৫৯ গতে ৩/৪৩ মধ্যে। কালবেলা ১/৯/১৩ গতে ২/২৯/৫৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫০/৩২ গতে ৮/২৯/৫২ মধ্যে। 
২৫ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সোনারপুরে অটো-পুলকারের সংঘর্ষ, মৃত ১ 

20-01-2020 - 07:02:00 PM

দিনহাটা কলেজে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল, জখম বেশ কয়েকজন 
তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটা ...বিশদ

20-01-2020 - 05:58:00 PM

ইসলামপুরের দাঁড়িভিটে সড়ক অবরোধ
 

ইসলামপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন দাঁড়িভিট কাণ্ডে নিহতদের পরিবার। ...বিশদ

20-01-2020 - 04:47:00 PM

৪১৬ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

20-01-2020 - 04:43:44 PM

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন  জগৎপ্রকাশ নাড্ডা
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন জগৎপ্রকাশ ...বিশদ

20-01-2020 - 03:37:00 PM

সততার নজির হোমগার্ডের 
সততার নজির ময়নাগুড়ি থানার এক হোমগার্ডের। কুড়িয়ে পাওয়া একটি মোবাইল ...বিশদ

20-01-2020 - 03:28:00 PM