Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। আর ওদের যা যা ছিল, সব বেচেবুচে ওরা খেয়ে নিয়েছে এবং এখনও খাচ্ছে। পরিবারের আয় কমলে বা নির্দিষ্ট কোনও রোজগার না থাকলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখন ওদের দিন চলে জমিজমা আর ঘটিবাটি বেচে। কিন্তু এসব নিয়ে ঘণ্টেশ্বরদের কোনও হাহুতাশ নেই। কিছু বললেই ওরা বলে আমরা খুব ভালোই আছি। আর বেচাবেচির কথা বললে নাকটাকে উঁচু করে ও বলে, ‘ওসব তোরা বুঝবি না। অর্থনীতির ভাষায় এটাকে বলে প্রাইভেটাইজেশন। নিজেদের জমিদারি সত্ত্ব মুছে মানুষের মধ্যে ভোগের অধিকার তৈরি করছি আমরা। এটা একটা বড় স্বার্থত্যাগ। আমার দাদুর একটা বেলজিয়াম কাচের আয়না ছিল, সেটা আমরা একা ভোগ করতাম। বিক্রি করে দিলাম মানে সেটা অন্যকে ভোগ করার অধিকার দিলাম।’ এমনই অদ্ভুত ছিল ওর যুক্তি।
আজ যখন কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে বিলগ্নিকরণ, প্রা‌ই঩ভেটাইজেশন ইত্যাদি গালভরা নামের মধ্য দিয়ে সব বেচে ফাঁকা তহবিল ভরাট করার চেষ্টা করছে, তখন আমার ছেলেবেলার বন্ধু ওই ঘন্টেশ্বরের কথা মনে পড়ে গেল। ওদের ছিল নামেই তালপুকুর ঘটি ডোবে না। এই সরকারের এখন রাজকোষ শূন্য। তাই প্রয়োজনের তাগিদে অনেক কিছুই এক এক করে বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই প্রাইভেটাইজেশন নিয়ে হাটে বাজারে নানা গালগল্পও ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। হাটে-বাজারে, বাসে-ট্রেনে কান পাতলেই মানুষের নানা কথোপকথন আজ আমাদের কানে আসে। একজনকে সেদিন বাজারে বলতে শুনলাম। তিনি চায়ের দোকানে বসে অপর একজনকে বলছিলেন, ‘এখন দেশে বেচু যুগ চলছে। কত কিছু বেচে দিচ্ছে। একদিন তিল তিল করে এগুলি গড়ে উঠেছিল।’ অপরজন বললেন, ‘বলছে নাকি প্রাইভেটাইজেশন।’ আর একজন বললেন, ‘ওটা আসলে হবে প্রায়বেচাইজেশন’। আর একজন বললেন ‘উহুঁ, প্রায়বেচাইনেশন। মানে প্রায় সবকিছু বেচে যখন নেশন চালাতে হয়, তখনই তাকে বলে প্রায়বেচাইনেশন।’
ব্যাপারটা নিয়ে যতই হাসি মস্করা করি না কেন, এটা বলতে কিন্তু দ্বিধা হওয়ার কথা নয় যে আমাদের দেশের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে। সেটা যেমন দেশের মানুষ বুঝতে পারছেন, তেমনই সরকারপক্ষও বুঝতে পারছে। কিন্তু তারা তা স্বীকার করছে না। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে অবশ্য সরকারকে অনেক সত্যই গোপন করতে হয়। তার একটা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকে। এখন সরকার ছেঁড়া কাপড়ে রেশমি ফুল বোনার চেষ্টা করে দেশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে সব ঠিক আছে। সব যে ঠিক নেই এখন এটা শিশুও বোঝে। বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের কুফল ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যতদিন যাবে, ততই দৈন্যদশা প্রকট হয়ে উঠবে।
‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখালেই ভোট বাক্স কিন্তু ভরে ওঠে না। ১৯১৬ সালের ৮ নভেম্বর নোটবাতিল করে যে বিষবৃক্ষের ফল পোঁতা হয়েছিল, তার বিষময় ফল ফলতে শুরু করেছে। একক ব্যক্তিত্বের
ভুল আজ কাঁটা হয়ে ফুটছে। সেদিনও তিনি স্বীকার করেননি কাজটা ভুল হয়েছিল, আজও তিনি
স্বীকার করেন না, অর্থনীতিটা আসলে গোল্লায়
গিয়েছে। আচ্ছে দিনের স্বপ্ন ঘিরে কালো ধোঁয়া।
এই তো সরকারি রিপোর্টই বলছে, চলতি বছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে গিয়েছে ৪.৫ শতাংশে। আমরা যেন সেই স্বাধীনতার সময়কার অর্থনীতির দিকে হাঁটছি। ১৯৯১ সালে মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে অনেকটা সাবালক হয়েছিল আমাদের দেশের অর্থনীতি। তখন জিডিপি ছয় শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু বিজেপি সরকারের আমলে নানা পরীক্ষা এবং তুকতাক সেই সূচককে নিম্নগামী করা তুলেছে। দেশটাই এখন আমার সেই বন্ধু ঘন্টেশ্বরের পরিবারের মতো।
এর থেকে বেরতেই হবে। দশে মিলি করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। দেশের ভালো বা মন্দের ভাবনাটা কারও একার হতে পারে না। আর এনিয়ে ব্যক্তিগত ইগো বজায় রাখার চেষ্টা সার্বিক ধ্বংসের দিকেই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথার্থই বলেছেন, এই সঙ্কট কাটাতে গেলে সরকারের উচিত সবাইকে নিয়ে একটা বৈঠক ডাকা। সকলে মিলে নতুন আলোর সন্ধান করা।
এই ভাঙনটা যে আসবেই সেটা কিন্তু আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। সরকারের অর্থনীতি সংক্রান্ত মত মানতে না পেরে একের পর এক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা সরকারের সংস্রব ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে কেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। কোনও চাপের মুখে কি তাঁরা সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন? নাকি সরকারের কোন নীতির প্রতি তাঁরা অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন? নাকি তাঁরা অর্থনীতিটা ঠিক বুঝতেন না?
রঘুরাম রাজনের কথাই ধরা যাক। অসাধারণ কেরিয়ার তাঁর। অর্থনীতিতে তিনি কোনওদিন নোবেল পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মনমোহন সিংয়ের মতো বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ তাঁকে সরকারের অর্থনীতির রূপায়ণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মোদিযুগে তাঁকে চলে যেতে হল। অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যমও এক বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ। তিনি তাঁর কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করে চলে গেলেন। কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে? চলে যেতে হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকেও। আর একজন হলেন বিরল আচার্য। ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর। তিনিও তাঁর মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এসবের উত্তর মেলেনি। কিন্তু কারণটা বোধহয় বুঝতে অসুবিধা হয় না। বিশেষ করে আজ যখন অর্থনীতির এই অবস্থা! আসলে সকলেই বুঝেছিলেন ভেঙে পড়াটা সময়ের অপেক্ষামাত্র। কিন্তু তার জন্য তিনি যেন নিজে দায়ী না হয়ে যান।
ভাবতে হবে কেন গাড়ি বিক্রির সংখ্যা হঠাৎ কমে গেল! সরকার পক্ষের লোকজন সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে একের পর এক বিভ্রান্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলেন। কেউ বললেন, ওলা-উবেরের জন্য গাড়ি বিক্রি কমেছে। কেউ দেশের অর্থনীতির হাল ভালো বোঝাতে গিয়ে সিনেমার টিকিট বিক্রি তো ভালোই হচ্ছে বললেন। এতে কি মানুষের কাছে নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে না!
কবি জীবনানন্দের সেই কবিতাটা অনেকেই জানেন। সেটা এক শাশ্বত সত্যের দিকনির্দেশ করে। ‘যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা।’
শরীরে ঘা যদি সত্যিই হয়, সেটা সারাতে হয়, প্রসাধনে ঘা ঢেকে রাখলে কয়েকদিন তাকে লুকানো যায়। কিন্তু অচিরেই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন শত ওষুধেও কোনও কাজ হয় না। সরকার এই তত্ত্বটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবে, ততই দেশের, দশের এবং তাদের পার্টিরও মঙ্গল হবে।
নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ যেভাবে বিভিন্ন রাজ্যে কম শক্তি নিয়েও একের পর এক কৌশল রচনা করে ক্ষমতা দখল করছেন, তার কিয়দংশও যদি অর্থনীতির পিছনে ব্যয় করতেন, তবে আজকের এই ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা হতো না। অবশ্য মহারাষ্ট্র দেখিয়ে দিল, এসব কৌশলে আর কাজ হবে না। সেখানে সরকার গড়তে গিয়ে মুখ পুড়েছে বিজেপির। ঠিক তারপরেই দেখা গেল রাজ্যের তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচনে সাফ হয়ে গেল বিজেপি। লোকসভা ভোটের ফল দেখে অকারণ স্বপ্ন দেখার শুরু হয়েছিল।
স্বপ্ন সফল করতে গিয়ে শুরু হয়েছিল তৃণমূল ভাঙানোর খেলা। কিন্তু অচিরেই ধাক্কা খেল সেই প্রক্রিয়া। একটা কথা বুঝতে হবে, অমিত শাহ যত বলবেন, এখানে এনআরসি হবেই, বিজেপির ভোট ততই কমবে। একদিন কম খেলে মানুষ ফুঁসে উঠবে না। কিন্তু তাকে মাটি থেকে উৎখাত করলে সে বিদ্রোহ করবেই। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সিপিএমকে সে কারণেই উচিত শিক্ষা দিয়েছে। বিজেপিকেও সেই শিক্ষা পেতে হবে। এই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচন তার নমুনা মাত্র।
আরও প্রমাণ আছে। অসমে বিজেপি সরকারের এখন এনআরসি রিপোর্ট নিয়ে ভিক্ষে চাই না মা কুকুর সামলা অবস্থা। সরকারই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেছে, এই রিপোর্ট অবিলম্বে প্রত্যাহার করা দরকার। অসমের বিজেপি পার্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই রিপোর্ট প্রত্যাহার না করলে আগামী নির্বাচনে বিজেপি সেখানে সাফ হয়ে যাবে। সে রাজ্যের হিন্দু এবং মুসলিম দুই পক্ষই তীব্র রাগে ফুঁসছে। গতকাল রবিবার তড়িঘড়ি এনিয়ে অমিত শাহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, নৈঋতে জমছে সিঁদুরে মেঘ। অসম থেকে শিক্ষা নিয়ে এরাজ্যের মানুষও বুঝেছে, এনআরসি হলে শুধু মুসলিমদের গায়েই আঁচ পড়বে, তা কিন্তু নয়। নগরে আগুন লাগলে দেবালয় কখনও আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।
আর এসব থেকে চোখ ঘোরাতে দেশভক্তির কথা শোনানো হচ্ছে। কিন্তু কেন হঠাৎ দেশভক্তির কথা! এটা তো কোনও স্বাধীনতার লড়াই নয়। এটা বিদেশি শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার লড়াইও নয়। এখন লড়াই ক্ষুধার বিরুদ্ধে। এখন লড়াই নিজের অস্তিত্বহীনতার বিরুদ্ধে। এখন লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এখন লড়াই দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে। ধর্মের দোহাই দিয়ে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রচারের বিরুদ্ধে। এখন লড়াই করতে হবে শিক্ষার স্বার্থে, স্বাস্থ্যের স্বার্থে, আর্থিক উন্নয়নের স্বার্থে, একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে। এইটুকুই তো মানুষ চায়। তার চাহিদা তো বেশি নেই। ক্ষুন্নিবৃত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান।
এটুকু হলেই মানুষ ধন্য ধন্য করবে। এসব থেকে মুখ ঘোরাতে যদি দেশভক্তির মলম লাগাতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা চলছে। দেশভক্তিটা আবেগের। সেটা আপনা আপনিই জন্মায়। দেশভক্তিকে শৃঙ্খলের মতো ব্যবহার করলে তখন আর দেশভক্তি থাকে না। বরং উল্টে মানষের মনেই প্রশ্ন জাগে। তাঁদের কেউ হয়তো বলবেন, ‘স্যার আপনি যে আচ্ছে দিন আনবেন বলেছিলেন তার কী হল? আজ আমাদের এমন বুরা হাল কেন?’ তখনই হয়তো আর এক পক্ষ যাত্রার বিবেকের মতো গেয়ে উঠবে, ‘আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান, তুমি কি এমন শক্তিমান?’  
02nd  December, 2019
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: সারা দেশের সঙ্গে আজ শনিবার মালদহ জেলায় পালিত হল জাতীয় ভোটার দিবস। নতুন ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি (পিটিআই): জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে শনিবার দেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানালেন নির্বাচন কমিশনের প্রতি। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও প্রাণোচ্ছ্বল করে তোলা ও আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে কমিশনের ভূমিকার জন্য। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: যেসব শর্তে জলজীবন মিশন শুরু করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতে আপত্তি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। এদিকে, কেন জলজীবন মিশন, তা বোঝাতে কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের একটি বড় টিম রাজ্যে আসতে চাইছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সিনিয়র অফিসারদের ওই টিম ...

বিএনএ, তমলুক: রেশন সামগ্রী লরিতে ভর্তি করে পাচার করার সময় হাতে নাতে ধরে পাঁশকুড়া থানার পুলিসের হাতে তুলে দিলেন জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

সাধারণতন্ত্র দিবস
১৮৪১: আনুষ্ঠানিকভাবে হংকং দখল করল ব্রিটিশরা
১৯৩০: পরাধীন ভারতে এই দিনটিকে ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস
১৯৫০: লাগু হল ভারতের সংবিধান। রাষ্ট্রপতি পদে রাজেন্দ্র প্রসাদ দায়িত্ব গ্রহণ করে সূচনা করলেন গণতন্ত্রের।
১৯৫৪: রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু
১৯৬৫- হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র
১৯৯২: পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন শহরকে নিশানা করা থেকে রাশিয়া বিরত হবে বলে জানালেন বরিস ইয়েলৎসেন
২০০১: গুজরাতের ভুজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হল প্রায় ২০ হাজার মানুষের
২০০৪: আফগানিস্তানের নয়া সংবিধানে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

25-01-2020 - 09:18:00 PM

পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাজ, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

25-01-2020 - 09:13:00 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

25-01-2020 - 09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

25-01-2020 - 08:05:00 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

25-01-2020 - 06:32:00 PM

আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

25-01-2020 - 03:32:34 PM