Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। আর ওদের যা যা ছিল, সব বেচেবুচে ওরা খেয়ে নিয়েছে এবং এখনও খাচ্ছে। পরিবারের আয় কমলে বা নির্দিষ্ট কোনও রোজগার না থাকলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখন ওদের দিন চলে জমিজমা আর ঘটিবাটি বেচে। কিন্তু এসব নিয়ে ঘণ্টেশ্বরদের কোনও হাহুতাশ নেই। কিছু বললেই ওরা বলে আমরা খুব ভালোই আছি। আর বেচাবেচির কথা বললে নাকটাকে উঁচু করে ও বলে, ‘ওসব তোরা বুঝবি না। অর্থনীতির ভাষায় এটাকে বলে প্রাইভেটাইজেশন। নিজেদের জমিদারি সত্ত্ব মুছে মানুষের মধ্যে ভোগের অধিকার তৈরি করছি আমরা। এটা একটা বড় স্বার্থত্যাগ। আমার দাদুর একটা বেলজিয়াম কাচের আয়না ছিল, সেটা আমরা একা ভোগ করতাম। বিক্রি করে দিলাম মানে সেটা অন্যকে ভোগ করার অধিকার দিলাম।’ এমনই অদ্ভুত ছিল ওর যুক্তি।
আজ যখন কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে বিলগ্নিকরণ, প্রা‌ই঩ভেটাইজেশন ইত্যাদি গালভরা নামের মধ্য দিয়ে সব বেচে ফাঁকা তহবিল ভরাট করার চেষ্টা করছে, তখন আমার ছেলেবেলার বন্ধু ওই ঘন্টেশ্বরের কথা মনে পড়ে গেল। ওদের ছিল নামেই তালপুকুর ঘটি ডোবে না। এই সরকারের এখন রাজকোষ শূন্য। তাই প্রয়োজনের তাগিদে অনেক কিছুই এক এক করে বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই প্রাইভেটাইজেশন নিয়ে হাটে বাজারে নানা গালগল্পও ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। হাটে-বাজারে, বাসে-ট্রেনে কান পাতলেই মানুষের নানা কথোপকথন আজ আমাদের কানে আসে। একজনকে সেদিন বাজারে বলতে শুনলাম। তিনি চায়ের দোকানে বসে অপর একজনকে বলছিলেন, ‘এখন দেশে বেচু যুগ চলছে। কত কিছু বেচে দিচ্ছে। একদিন তিল তিল করে এগুলি গড়ে উঠেছিল।’ অপরজন বললেন, ‘বলছে নাকি প্রাইভেটাইজেশন।’ আর একজন বললেন, ‘ওটা আসলে হবে প্রায়বেচাইজেশন’। আর একজন বললেন ‘উহুঁ, প্রায়বেচাইনেশন। মানে প্রায় সবকিছু বেচে যখন নেশন চালাতে হয়, তখনই তাকে বলে প্রায়বেচাইনেশন।’
ব্যাপারটা নিয়ে যতই হাসি মস্করা করি না কেন, এটা বলতে কিন্তু দ্বিধা হওয়ার কথা নয় যে আমাদের দেশের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে। সেটা যেমন দেশের মানুষ বুঝতে পারছেন, তেমনই সরকারপক্ষও বুঝতে পারছে। কিন্তু তারা তা স্বীকার করছে না। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে অবশ্য সরকারকে অনেক সত্যই গোপন করতে হয়। তার একটা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকে। এখন সরকার ছেঁড়া কাপড়ে রেশমি ফুল বোনার চেষ্টা করে দেশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে সব ঠিক আছে। সব যে ঠিক নেই এখন এটা শিশুও বোঝে। বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের কুফল ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যতদিন যাবে, ততই দৈন্যদশা প্রকট হয়ে উঠবে।
‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখালেই ভোট বাক্স কিন্তু ভরে ওঠে না। ১৯১৬ সালের ৮ নভেম্বর নোটবাতিল করে যে বিষবৃক্ষের ফল পোঁতা হয়েছিল, তার বিষময় ফল ফলতে শুরু করেছে। একক ব্যক্তিত্বের
ভুল আজ কাঁটা হয়ে ফুটছে। সেদিনও তিনি স্বীকার করেননি কাজটা ভুল হয়েছিল, আজও তিনি
স্বীকার করেন না, অর্থনীতিটা আসলে গোল্লায়
গিয়েছে। আচ্ছে দিনের স্বপ্ন ঘিরে কালো ধোঁয়া।
এই তো সরকারি রিপোর্টই বলছে, চলতি বছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে গিয়েছে ৪.৫ শতাংশে। আমরা যেন সেই স্বাধীনতার সময়কার অর্থনীতির দিকে হাঁটছি। ১৯৯১ সালে মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে অনেকটা সাবালক হয়েছিল আমাদের দেশের অর্থনীতি। তখন জিডিপি ছয় শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু বিজেপি সরকারের আমলে নানা পরীক্ষা এবং তুকতাক সেই সূচককে নিম্নগামী করা তুলেছে। দেশটাই এখন আমার সেই বন্ধু ঘন্টেশ্বরের পরিবারের মতো।
এর থেকে বেরতেই হবে। দশে মিলি করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। দেশের ভালো বা মন্দের ভাবনাটা কারও একার হতে পারে না। আর এনিয়ে ব্যক্তিগত ইগো বজায় রাখার চেষ্টা সার্বিক ধ্বংসের দিকেই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথার্থই বলেছেন, এই সঙ্কট কাটাতে গেলে সরকারের উচিত সবাইকে নিয়ে একটা বৈঠক ডাকা। সকলে মিলে নতুন আলোর সন্ধান করা।
এই ভাঙনটা যে আসবেই সেটা কিন্তু আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। সরকারের অর্থনীতি সংক্রান্ত মত মানতে না পেরে একের পর এক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা সরকারের সংস্রব ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে কেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। কোনও চাপের মুখে কি তাঁরা সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন? নাকি সরকারের কোন নীতির প্রতি তাঁরা অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন? নাকি তাঁরা অর্থনীতিটা ঠিক বুঝতেন না?
রঘুরাম রাজনের কথাই ধরা যাক। অসাধারণ কেরিয়ার তাঁর। অর্থনীতিতে তিনি কোনওদিন নোবেল পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মনমোহন সিংয়ের মতো বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ তাঁকে সরকারের অর্থনীতির রূপায়ণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মোদিযুগে তাঁকে চলে যেতে হল। অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যমও এক বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদ। তিনি তাঁর কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ করে চলে গেলেন। কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে? চলে যেতে হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকেও। আর একজন হলেন বিরল আচার্য। ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর। তিনিও তাঁর মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এসবের উত্তর মেলেনি। কিন্তু কারণটা বোধহয় বুঝতে অসুবিধা হয় না। বিশেষ করে আজ যখন অর্থনীতির এই অবস্থা! আসলে সকলেই বুঝেছিলেন ভেঙে পড়াটা সময়ের অপেক্ষামাত্র। কিন্তু তার জন্য তিনি যেন নিজে দায়ী না হয়ে যান।
ভাবতে হবে কেন গাড়ি বিক্রির সংখ্যা হঠাৎ কমে গেল! সরকার পক্ষের লোকজন সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষকে একের পর এক বিভ্রান্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলেন। কেউ বললেন, ওলা-উবেরের জন্য গাড়ি বিক্রি কমেছে। কেউ দেশের অর্থনীতির হাল ভালো বোঝাতে গিয়ে সিনেমার টিকিট বিক্রি তো ভালোই হচ্ছে বললেন। এতে কি মানুষের কাছে নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে না!
কবি জীবনানন্দের সেই কবিতাটা অনেকেই জানেন। সেটা এক শাশ্বত সত্যের দিকনির্দেশ করে। ‘যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা।’
শরীরে ঘা যদি সত্যিই হয়, সেটা সারাতে হয়, প্রসাধনে ঘা ঢেকে রাখলে কয়েকদিন তাকে লুকানো যায়। কিন্তু অচিরেই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন শত ওষুধেও কোনও কাজ হয় না। সরকার এই তত্ত্বটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবে, ততই দেশের, দশের এবং তাদের পার্টিরও মঙ্গল হবে।
নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ যেভাবে বিভিন্ন রাজ্যে কম শক্তি নিয়েও একের পর এক কৌশল রচনা করে ক্ষমতা দখল করছেন, তার কিয়দংশও যদি অর্থনীতির পিছনে ব্যয় করতেন, তবে আজকের এই ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা হতো না। অবশ্য মহারাষ্ট্র দেখিয়ে দিল, এসব কৌশলে আর কাজ হবে না। সেখানে সরকার গড়তে গিয়ে মুখ পুড়েছে বিজেপির। ঠিক তারপরেই দেখা গেল রাজ্যের তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচনে সাফ হয়ে গেল বিজেপি। লোকসভা ভোটের ফল দেখে অকারণ স্বপ্ন দেখার শুরু হয়েছিল।
স্বপ্ন সফল করতে গিয়ে শুরু হয়েছিল তৃণমূল ভাঙানোর খেলা। কিন্তু অচিরেই ধাক্কা খেল সেই প্রক্রিয়া। একটা কথা বুঝতে হবে, অমিত শাহ যত বলবেন, এখানে এনআরসি হবেই, বিজেপির ভোট ততই কমবে। একদিন কম খেলে মানুষ ফুঁসে উঠবে না। কিন্তু তাকে মাটি থেকে উৎখাত করলে সে বিদ্রোহ করবেই। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সিপিএমকে সে কারণেই উচিত শিক্ষা দিয়েছে। বিজেপিকেও সেই শিক্ষা পেতে হবে। এই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচন তার নমুনা মাত্র।
আরও প্রমাণ আছে। অসমে বিজেপি সরকারের এখন এনআরসি রিপোর্ট নিয়ে ভিক্ষে চাই না মা কুকুর সামলা অবস্থা। সরকারই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেছে, এই রিপোর্ট অবিলম্বে প্রত্যাহার করা দরকার। অসমের বিজেপি পার্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে এই রিপোর্ট প্রত্যাহার না করলে আগামী নির্বাচনে বিজেপি সেখানে সাফ হয়ে যাবে। সে রাজ্যের হিন্দু এবং মুসলিম দুই পক্ষই তীব্র রাগে ফুঁসছে। গতকাল রবিবার তড়িঘড়ি এনিয়ে অমিত শাহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, নৈঋতে জমছে সিঁদুরে মেঘ। অসম থেকে শিক্ষা নিয়ে এরাজ্যের মানুষও বুঝেছে, এনআরসি হলে শুধু মুসলিমদের গায়েই আঁচ পড়বে, তা কিন্তু নয়। নগরে আগুন লাগলে দেবালয় কখনও আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।
আর এসব থেকে চোখ ঘোরাতে দেশভক্তির কথা শোনানো হচ্ছে। কিন্তু কেন হঠাৎ দেশভক্তির কথা! এটা তো কোনও স্বাধীনতার লড়াই নয়। এটা বিদেশি শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার লড়াইও নয়। এখন লড়াই ক্ষুধার বিরুদ্ধে। এখন লড়াই নিজের অস্তিত্বহীনতার বিরুদ্ধে। এখন লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এখন লড়াই দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে। ধর্মের দোহাই দিয়ে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রচারের বিরুদ্ধে। এখন লড়াই করতে হবে শিক্ষার স্বার্থে, স্বাস্থ্যের স্বার্থে, আর্থিক উন্নয়নের স্বার্থে, একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে। এইটুকুই তো মানুষ চায়। তার চাহিদা তো বেশি নেই। ক্ষুন্নিবৃত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান।
এটুকু হলেই মানুষ ধন্য ধন্য করবে। এসব থেকে মুখ ঘোরাতে যদি দেশভক্তির মলম লাগাতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা চলছে। দেশভক্তিটা আবেগের। সেটা আপনা আপনিই জন্মায়। দেশভক্তিকে শৃঙ্খলের মতো ব্যবহার করলে তখন আর দেশভক্তি থাকে না। বরং উল্টে মানষের মনেই প্রশ্ন জাগে। তাঁদের কেউ হয়তো বলবেন, ‘স্যার আপনি যে আচ্ছে দিন আনবেন বলেছিলেন তার কী হল? আজ আমাদের এমন বুরা হাল কেন?’ তখনই হয়তো আর এক পক্ষ যাত্রার বিবেকের মতো গেয়ে উঠবে, ‘আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান, তুমি কি এমন শক্তিমান?’  
02nd  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
উপনির্বাচনী ফল: বঙ্গজুড়ে পারদ চড়ছে কৌতূহলের
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনী ফল বেরচ্ছে। কথায় বলে, ফলেই পরিচয়। ফলেন পরিচীয়তে। আজ সেই ফলের জন্য উদ্‌গ্রীব বাংলা, বাংলার রাজনৈতিকমহল। নানান জনের নানা প্রত্যাশা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবশ্য সেজন্য আসমুদ্রহিমাচল বাংলা টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে। বিশদ

28th  November, 2019
একনজরে
 উন্নাও ও নয়াদিল্লি, ৭ ডিসেম্বর (পিটিআই): শুক্রবার রাতে দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। শনিবার উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশে একের পর এক বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: পুরসভার ওয়ার্ডের কাজের জন্যে বরাদ্দ হয়েছিল ২৮ জন শ্রমিক। কিন্তু, বাস্তবে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেল ৪ জন! খোদ পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই পরিস্থিতি ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর জন্য দ্বিতীয়বার টেন্ডার ডেকেও তেমন সাড়া মিলল না। রাজ্যের নানা জায়গায় চালাতে ১৫০টি ইলেকট্রিক বাসের জন্য ...

  মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর: বিপজ্জনক আচরণ করছিল পিচ। আর সেই কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গেল ঐতিহ্যশালী মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভিক্টোরিয়া এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভিক্টোরিয়া। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জিতল

10:32:44 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩/১ (১০ ওভার) 

09:47:37 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭১ রানের টার্গেট দিল ভারত 

08:47:23 PM

কোচবিহারে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম ২ 
কোচবিহারে ফের বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। বোমার ঘায়ে জখম দুই তৃণমূল সমর্থক। ...বিশদ

08:23:24 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১৩২/৪ (১৫ ওভার) 

08:19:18 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১১২/৩ (১২ ওভার) 

08:06:46 PM