Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ। না, হাওয়া নয়, বরং বলা ভালো তুফান। তুফানি শক্তি ছাড়া এক লহমায় ৪৫ হাজার, ৫৭ হাজারের মার্জিন ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়ে ২০ হাজারের লিড নেওয়া ছিল অসম্ভব। ২৯৪টির আসনের তুলনায় তিন সংখ্যাটি খুবই সামান্য। কিন্তু, তিনটি আসনে উপনির্বাচনের এই ফলই ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের অভিমুখ ঠিক করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। উপনির্বাচনের ফলে উৎসাহিত তৃণমূল সেনারা ফের লম্ফঝম্প শুরু না করলে একথা বলা মোটেই বাড়াবাড়ি হবে না, তৃতীয়বার ঘাসফুল শিবিরের ক্ষমতা দখল সময়ের অপেক্ষা।
রাজনীতিতে হার জিত আছে। একদল জিতলে অন্যদল হারবে। এটাই স্বাভাবিক। এই হার জিতের গভীরে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য কারণ। রাজনীতিতে ‘কেন’ শব্দটির গুরুত্ব অসীম। কেন পরাজয়, তার কারণ অনুসন্ধানের পর প্রতিকারের ব্যবস্থা করলে সাফল্য লাভ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এবার দেখা যাক, তৃণমূল কংগ্রেস কেন লোকসভা ভোটে বিপর্যস্ত হয়েছিল। একটা কথা প্রায় সকলেই স্বীকার করেন, ২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘মা-মাটি-মানুষে’র সরকার যে সমস্ত সরকারি পরিকল্পনা নিয়েছে, তা এর আগে কেউ নেয়নি। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণ তো হয়েছেই। পাশাপাশি প্রচুর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। নানা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কোনও না কোনও সুযোগ সুবিধা পাননি, এমন পরিবারের সংখ্যা গ্রামেগঞ্জে খুবই কম। তা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল।
তার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ফুলে ফেঁপে ওঠা, দুর্নীতি, পঞ্চায়েত কব্জা করার জন্য মানুষের ভোটদানের অধিকার হরণ, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও গড়িমসি এবং অবশ্যই তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশের হামবড়া ভাব দলকে ডুবিয়েছিল। দম্ভের হাত ধরে জনবিচ্ছিন্নতা তার শিকড় বিস্তার করছিল অবলীলায়। জনবিচ্ছিন্নতা অনেকটা পরগাছা স্বর্ণলতার মতো। পরগাছা হু হু করে বাড়তে থাকে। আসল গাছটার রস শুষে খায়। ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে মূল গাছ।
রাজনীতির দক্ষ কারিগর প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড় করানোর দায়িত্ব নিয়েই হারের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছেন। এখন সকলে বুঝতে পারছেন, ভোটগুরুর তকমা তিনি ফোকটে পাননি। ‘দিদিকে বলো’ তাঁর মাস্টার স্ট্রোক। দিদিকে বলোর মধ্যে দিয়ে তিনি আমজনতার ক্ষোভের কারণ আঁচ করেছিলেন। বুঝেছিলেন, অনেক লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৈরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাকসর্বস্ব কিছু নেতা। উল্টোপাল্টা কথা বলে প্রচারে আসা নেতাদের সাধারণ মানুষ যে ভালো চোখে দেখে না, সেটা উপলব্ধি করেছিলেন। তাই প্রথমেই তিনি কাগুজে সর্বস্ব নেতাদের মুখে চাবি লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ইদানীং তাঁদের টিভির পর্দায় খুব একটা দেখা যায় না। অর্থাৎ ওষুধ কাজ করেছে।
জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোর জন্য বিধায়ক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের গ্রামে গিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাতে বালি, মোরাম, বোল্ডারে মগ্ন নেতাদের কোথাও কোথাও জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে। হেনস্তা হতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে, এতদিন কোথায় ছিলেন? তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে। মানুষ মনের ঝাল মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আর তাতে ভিতরে থাকা ক্ষোভটাও বেরিয়ে গিয়েছে। পিকে এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিতে পেরেছে, নেতা ধরে বা লবি করে আর টিকিট নয়। টিকিট পেতে লাগবে জনসংযোগ। কারণ বিধানসভা ও পুরসভার ভোটে টিকিট বিলির সময় নেতৃত্বের চোখ থাকবে টিম পিকের রিপোর্ট কার্ডে।
তৃণমূল জমানায় সমস্ত সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছিল। গরিব মানুষের আবাস যোজনার টাকা থেকে ১০০ দিনের কাজ। সবেতেই শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের দিতে হয়েছে কাটমানি। নিজের হকের টাকা থেকে নেতাকে ভাগ দিতে হয়েছে। নেতাকে কাটমানি দিতে গিয়ে বহু ঘরের ছাউনিতে টালি, কিংবা টিন চাপেনি। তাতে ঘরের লোকও পর হয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে নেতাদের কাটমানির বিরুদ্ধে গলা ফাটাতে হয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করেছে, নেতাদের চুরিতে উপরতলার সায় নেই।
শাসক দলের নেতাদের অত্যধিক পুলিস ও প্রশাসন নির্ভরতাও তৃণমূলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে পুলিসের একটা বড় অংশ যে লুটপাট চালাচ্ছিল, সেটাও নেত্রীর সামনে এসেছিল। তারপরই তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সভায় গিয়ে পুলিসকে সতর্ক করেছেন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বালি, বোল্ডার, পাথর, মাটির গাড়ি থেকে তোলা কোনও টাকাই কলকাতায় যায় না। কোনও নেতাকে টাকা দিতে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের দুর্নীতিকে আড়াল না করে প্রকাশ্যে সেকথা বলায় সাধারণ মানুষ সম্ভবত তাঁদের সেই ‘অগ্নিকন্যা’কেই খুঁজে পেয়েছেন।
তবে, এখনও অনেক ব্যাপারেই ক্ষোভ আছে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের মনে বিস্তর ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ দূর করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে আইনি জটিলতা কাটাতেই হবে। যেভাবেই হোক বাম জমানার মতো প্রতি বছর নিয়ম করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। যদিও রাজ্যে বেকারত্বের হার জাতীয় হারের (৬ শতাংশ) চেয়ে কম, তবুও স্বস্তির কোনও জায়গা নেই। শিক্ষান্তে কাজের সুযোগ যে কোনও বেকারের প্রধান চাহিদা। লোকসভা ভোটে বালাকোট যদি জাতীয় আবেগ হয়ে থাকে, তাহলে যুব সমাজের আকর্ষণ ছিল নরেন্দ্র মোদির দেখানো ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন। সেই যুবসমাজ পাশে না থাকলে যে কোনও দলের ক্ষমতায় থাকার স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় না।
এবার দেখা যাক, উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবির এভাবে ধরাশায়ী হল কেন?
লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পিছনে সব চেয়ে বড় ভূমিকা ছিল জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। লোকসভায় যদি ৪২ আসনই জিতে যেত তাহলেও তৃণমূল যে সরকার গড়তে পারবে না, সেটা সকলেই জানতেন। ফলে, সাধারণ মানুষ দেশে একটা স্থায়ী সরকার গঠনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই ঝড়ে বক মরলেও বঙ্গ বিজেপির অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁদের ওঝাগিরির জন্যই এই সাফল্য। এখন তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, জনগণের কাছে তাঁদের মূল্য কতটা!
দ্বিতীয়, এরাজ্যে লোকসভা ভোটে গেরুয়া শিবিরের সাফল্যের পিছনে বালাকোটের জাতীয় আবেগ কিঞ্চিৎ কাজ করলেও প্রধান কারণ ছিল তৃণমূলের নেগেটিভ ভোট। তৃণমূলের পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলা নেতৃত্বের উপর মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল ইভিএমে। বিজেপিকে ভালোবেসে নয়, মানুষ আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন তৃণমূলের অহঙ্কারের জবাব দিতে। তাই তৃণমূলের দখলে থাকা একের পর এক বিধানসভা আসন থেকে ৪০ হাজার ৫০ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিল বিজেপি। লিড দেখে চমকে গিয়েছিলেন বিজেপির নেতারাও। কোনও সংগঠন ছাড়া স্রেফ হাওয়ার জোরে এভাবে সাফল্য যে ঘরে তোলা যায়, তা এর আগে এরাজ্য একবারই মাত্র প্রত্যক্ষ করেছিল। ১৯৮৪ সালের লোকসভা ভোটে। ইন্দিরা গান্ধীর অকাল প্রয়াণে। সেবার সহানুভূতির ঝড়ে টলে গিয়েছিল বামদুর্গের ভিত। কিন্তু, সেই ঝড় দীর্ঘমেয়াদি কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
লোকসভা ভোটে গেরুয়া শিবিরের সাফল্য লাভের সঙ্গে সঙ্গে বেনোজলের স্রোত আছড়ে পড়ল। ক্ষমতার চিটেগুড়ের লোভে তৃণমূল ও সিপিএমের দাগী, পচাদের ভিড় বাড়তে লাগল। কেউ কেউ আবার নতুন দলের মাথায় চড়ে বসল। বহু জায়গায় প্রায় আট বছর ঘরের মধ্যে সেঁধিয়ে থাকা সিপিএমের হার্মাদরা গাঝাড়া দিয়ে একেবারে সামনের সারিতে চলে এল। বিভিন্ন এলাকায় স্বঘোষিত নেতাদের আবির্ভাবে পদ্ম শিবির তখন চাঙ্গা। ভাবখানা এমন, এই বুঝি ক্ষমতায় এসে গেল। শুরু হল চেয়ার দখল নিয়ে আদি ও নব্যের লড়াই। মণ্ডল কমিটি দখল নিয়েও চলল খেয়োখেয়ি। মানুষ এসব দেখে ভাবতে শুরু করল, এ তো টকের জ্বালায় পালিয়ে এসে তেঁতুলতলায় বাস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বসার আগে বছরের পর বছর সিপিএমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। কয়েক দশক ধরে আন্দোলনের সুবাদে রাজ্যের কোণায় কোণায় তৈরি হয়েছে নিজের লোক। তারা মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, খুন হয়েছে। তারপর ক্ষমতা দখল। এসব কিছু হওয়ায় হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু, বঙ্গ বিজেপির ক’জন তাঁদের রাজনৈতিক জীবনে লড়াই, সংগ্রামের কথা স্বগর্বে ঘোষণা করতে পারবেন? রাজনীতিতে অনেক অঘটনই ঘটে। কিন্তু, শুধু হাওয়ায় আর বেনোজলের তোড়ে রাইটার্স বা নবান্নে পৌঁছনোর মতো অঘটন ঘটে না।
লোকসভা ভোটে সাফল্য পাওয়ার পর থেকে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব দল গড়ার থেকে দল ভাঙানোয় বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছিল। ভাড়াটে সেনা নিয়ে যে যুদ্ধ জেতা যায় না, এই সহজ সত্যিটা তাঁরা বুঝতে চাননি। রাজনীতি যে ১০০মিটারে স্প্রিন্ট নয়, ম্যারথন রেস তা বুঝতে চাননি। অনেকে বলছেন, সংগঠন না গড়ে অতিরিক্ত আরএসএস নির্ভরশীলতা এবং চট জলদি সাফল্য ঘরে তুলতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছে বঙ্গ বিজেপি।
২০২১ সালের আগে এই উপনির্বাচনে বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ অনেকটা স্পষ্ট। এর ফলে বিজেপিতে ভাটার টান অনিবার্য। একইভাবে অনিবার্য, তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলিতে ভিড় বৃদ্ধি। উপনির্বাচনে ফল ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পটকা ফাটা। দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস খুবই স্বাভাবিক। এরপর হয়তো শুরু হবে বিজয় মিছিল বা মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর নামে পদযাত্রা। সেই সব মিছিলে ফের মানুষের অপছন্দের মুখগুলি ভেসে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে। এখানে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ হিসেবে বলতেই হয়, অপছন্দের মুখ ফের সামনে এলে মুখ ফেরাবে জনতা জনার্দন। কারণ ক্ষমতার আস্ফালন আমজনতার নাপসন্দ।
30th  November, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
উপনির্বাচনী ফল: বঙ্গজুড়ে পারদ চড়ছে কৌতূহলের
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনী ফল বেরচ্ছে। কথায় বলে, ফলেই পরিচয়। ফলেন পরিচীয়তে। আজ সেই ফলের জন্য উদ্‌গ্রীব বাংলা, বাংলার রাজনৈতিকমহল। নানান জনের নানা প্রত্যাশা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবশ্য সেজন্য আসমুদ্রহিমাচল বাংলা টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে। বিশদ

28th  November, 2019
একনজরে
 উন্নাও ও নয়াদিল্লি, ৭ ডিসেম্বর (পিটিআই): শুক্রবার রাতে দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। শনিবার উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশে একের পর এক বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। ...

 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর জন্য দ্বিতীয়বার টেন্ডার ডেকেও তেমন সাড়া মিলল না। রাজ্যের নানা জায়গায় চালাতে ১৫০টি ইলেকট্রিক বাসের জন্য ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: শনিবার দুপুরে চাকুলিয়া থানার শিকারপুরে পাটবোঝাই একটি চলন্ত ট্রাক্টরে হঠাৎ আগুন লেগে প্রায় তিন লক্ষ টাকার পাট ভস্মীভূত হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাকুলিয়া হাট থেকে এক ব্যবসায়ী পাট কিনে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জিতল

10:32:44 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩/১ (১০ ওভার) 

09:47:37 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭১ রানের টার্গেট দিল ভারত 

08:47:23 PM

কোচবিহারে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম ২ 
কোচবিহারে ফের বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। বোমার ঘায়ে জখম দুই তৃণমূল সমর্থক। ...বিশদ

08:23:24 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১৩২/৪ (১৫ ওভার) 

08:19:18 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১১২/৩ (১২ ওভার) 

08:06:46 PM