Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ। না, হাওয়া নয়, বরং বলা ভালো তুফান। তুফানি শক্তি ছাড়া এক লহমায় ৪৫ হাজার, ৫৭ হাজারের মার্জিন ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়ে ২০ হাজারের লিড নেওয়া ছিল অসম্ভব। ২৯৪টির আসনের তুলনায় তিন সংখ্যাটি খুবই সামান্য। কিন্তু, তিনটি আসনে উপনির্বাচনের এই ফলই ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের অভিমুখ ঠিক করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। উপনির্বাচনের ফলে উৎসাহিত তৃণমূল সেনারা ফের লম্ফঝম্প শুরু না করলে একথা বলা মোটেই বাড়াবাড়ি হবে না, তৃতীয়বার ঘাসফুল শিবিরের ক্ষমতা দখল সময়ের অপেক্ষা।
রাজনীতিতে হার জিত আছে। একদল জিতলে অন্যদল হারবে। এটাই স্বাভাবিক। এই হার জিতের গভীরে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য কারণ। রাজনীতিতে ‘কেন’ শব্দটির গুরুত্ব অসীম। কেন পরাজয়, তার কারণ অনুসন্ধানের পর প্রতিকারের ব্যবস্থা করলে সাফল্য লাভ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এবার দেখা যাক, তৃণমূল কংগ্রেস কেন লোকসভা ভোটে বিপর্যস্ত হয়েছিল। একটা কথা প্রায় সকলেই স্বীকার করেন, ২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘মা-মাটি-মানুষে’র সরকার যে সমস্ত সরকারি পরিকল্পনা নিয়েছে, তা এর আগে কেউ নেয়নি। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণ তো হয়েছেই। পাশাপাশি প্রচুর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। নানা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কোনও না কোনও সুযোগ সুবিধা পাননি, এমন পরিবারের সংখ্যা গ্রামেগঞ্জে খুবই কম। তা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল।
তার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ফুলে ফেঁপে ওঠা, দুর্নীতি, পঞ্চায়েত কব্জা করার জন্য মানুষের ভোটদানের অধিকার হরণ, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও গড়িমসি এবং অবশ্যই তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশের হামবড়া ভাব দলকে ডুবিয়েছিল। দম্ভের হাত ধরে জনবিচ্ছিন্নতা তার শিকড় বিস্তার করছিল অবলীলায়। জনবিচ্ছিন্নতা অনেকটা পরগাছা স্বর্ণলতার মতো। পরগাছা হু হু করে বাড়তে থাকে। আসল গাছটার রস শুষে খায়। ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে মূল গাছ।
রাজনীতির দক্ষ কারিগর প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড় করানোর দায়িত্ব নিয়েই হারের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছেন। এখন সকলে বুঝতে পারছেন, ভোটগুরুর তকমা তিনি ফোকটে পাননি। ‘দিদিকে বলো’ তাঁর মাস্টার স্ট্রোক। দিদিকে বলোর মধ্যে দিয়ে তিনি আমজনতার ক্ষোভের কারণ আঁচ করেছিলেন। বুঝেছিলেন, অনেক লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৈরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাকসর্বস্ব কিছু নেতা। উল্টোপাল্টা কথা বলে প্রচারে আসা নেতাদের সাধারণ মানুষ যে ভালো চোখে দেখে না, সেটা উপলব্ধি করেছিলেন। তাই প্রথমেই তিনি কাগুজে সর্বস্ব নেতাদের মুখে চাবি লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ইদানীং তাঁদের টিভির পর্দায় খুব একটা দেখা যায় না। অর্থাৎ ওষুধ কাজ করেছে।
জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোর জন্য বিধায়ক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের গ্রামে গিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাতে বালি, মোরাম, বোল্ডারে মগ্ন নেতাদের কোথাও কোথাও জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে। হেনস্তা হতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে, এতদিন কোথায় ছিলেন? তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে জর্জরিত হতে হয়েছে। মানুষ মনের ঝাল মিটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আর তাতে ভিতরে থাকা ক্ষোভটাও বেরিয়ে গিয়েছে। পিকে এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিতে পেরেছে, নেতা ধরে বা লবি করে আর টিকিট নয়। টিকিট পেতে লাগবে জনসংযোগ। কারণ বিধানসভা ও পুরসভার ভোটে টিকিট বিলির সময় নেতৃত্বের চোখ থাকবে টিম পিকের রিপোর্ট কার্ডে।
তৃণমূল জমানায় সমস্ত সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছিল। গরিব মানুষের আবাস যোজনার টাকা থেকে ১০০ দিনের কাজ। সবেতেই শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের দিতে হয়েছে কাটমানি। নিজের হকের টাকা থেকে নেতাকে ভাগ দিতে হয়েছে। নেতাকে কাটমানি দিতে গিয়ে বহু ঘরের ছাউনিতে টালি, কিংবা টিন চাপেনি। তাতে ঘরের লোকও পর হয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে নেতাদের কাটমানির বিরুদ্ধে গলা ফাটাতে হয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করেছে, নেতাদের চুরিতে উপরতলার সায় নেই।
শাসক দলের নেতাদের অত্যধিক পুলিস ও প্রশাসন নির্ভরতাও তৃণমূলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে পুলিসের একটা বড় অংশ যে লুটপাট চালাচ্ছিল, সেটাও নেত্রীর সামনে এসেছিল। তারপরই তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সভায় গিয়ে পুলিসকে সতর্ক করেছেন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বালি, বোল্ডার, পাথর, মাটির গাড়ি থেকে তোলা কোনও টাকাই কলকাতায় যায় না। কোনও নেতাকে টাকা দিতে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের দুর্নীতিকে আড়াল না করে প্রকাশ্যে সেকথা বলায় সাধারণ মানুষ সম্ভবত তাঁদের সেই ‘অগ্নিকন্যা’কেই খুঁজে পেয়েছেন।
তবে, এখনও অনেক ব্যাপারেই ক্ষোভ আছে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের মনে বিস্তর ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ দূর করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে আইনি জটিলতা কাটাতেই হবে। যেভাবেই হোক বাম জমানার মতো প্রতি বছর নিয়ম করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। যদিও রাজ্যে বেকারত্বের হার জাতীয় হারের (৬ শতাংশ) চেয়ে কম, তবুও স্বস্তির কোনও জায়গা নেই। শিক্ষান্তে কাজের সুযোগ যে কোনও বেকারের প্রধান চাহিদা। লোকসভা ভোটে বালাকোট যদি জাতীয় আবেগ হয়ে থাকে, তাহলে যুব সমাজের আকর্ষণ ছিল নরেন্দ্র মোদির দেখানো ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন। সেই যুবসমাজ পাশে না থাকলে যে কোনও দলের ক্ষমতায় থাকার স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় না।
এবার দেখা যাক, উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবির এভাবে ধরাশায়ী হল কেন?
লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পিছনে সব চেয়ে বড় ভূমিকা ছিল জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। লোকসভায় যদি ৪২ আসনই জিতে যেত তাহলেও তৃণমূল যে সরকার গড়তে পারবে না, সেটা সকলেই জানতেন। ফলে, সাধারণ মানুষ দেশে একটা স্থায়ী সরকার গঠনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই ঝড়ে বক মরলেও বঙ্গ বিজেপির অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁদের ওঝাগিরির জন্যই এই সাফল্য। এখন তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, জনগণের কাছে তাঁদের মূল্য কতটা!
দ্বিতীয়, এরাজ্যে লোকসভা ভোটে গেরুয়া শিবিরের সাফল্যের পিছনে বালাকোটের জাতীয় আবেগ কিঞ্চিৎ কাজ করলেও প্রধান কারণ ছিল তৃণমূলের নেগেটিভ ভোট। তৃণমূলের পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলা নেতৃত্বের উপর মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল ইভিএমে। বিজেপিকে ভালোবেসে নয়, মানুষ আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন তৃণমূলের অহঙ্কারের জবাব দিতে। তাই তৃণমূলের দখলে থাকা একের পর এক বিধানসভা আসন থেকে ৪০ হাজার ৫০ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিল বিজেপি। লিড দেখে চমকে গিয়েছিলেন বিজেপির নেতারাও। কোনও সংগঠন ছাড়া স্রেফ হাওয়ার জোরে এভাবে সাফল্য যে ঘরে তোলা যায়, তা এর আগে এরাজ্য একবারই মাত্র প্রত্যক্ষ করেছিল। ১৯৮৪ সালের লোকসভা ভোটে। ইন্দিরা গান্ধীর অকাল প্রয়াণে। সেবার সহানুভূতির ঝড়ে টলে গিয়েছিল বামদুর্গের ভিত। কিন্তু, সেই ঝড় দীর্ঘমেয়াদি কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
লোকসভা ভোটে গেরুয়া শিবিরের সাফল্য লাভের সঙ্গে সঙ্গে বেনোজলের স্রোত আছড়ে পড়ল। ক্ষমতার চিটেগুড়ের লোভে তৃণমূল ও সিপিএমের দাগী, পচাদের ভিড় বাড়তে লাগল। কেউ কেউ আবার নতুন দলের মাথায় চড়ে বসল। বহু জায়গায় প্রায় আট বছর ঘরের মধ্যে সেঁধিয়ে থাকা সিপিএমের হার্মাদরা গাঝাড়া দিয়ে একেবারে সামনের সারিতে চলে এল। বিভিন্ন এলাকায় স্বঘোষিত নেতাদের আবির্ভাবে পদ্ম শিবির তখন চাঙ্গা। ভাবখানা এমন, এই বুঝি ক্ষমতায় এসে গেল। শুরু হল চেয়ার দখল নিয়ে আদি ও নব্যের লড়াই। মণ্ডল কমিটি দখল নিয়েও চলল খেয়োখেয়ি। মানুষ এসব দেখে ভাবতে শুরু করল, এ তো টকের জ্বালায় পালিয়ে এসে তেঁতুলতলায় বাস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বসার আগে বছরের পর বছর সিপিএমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। কয়েক দশক ধরে আন্দোলনের সুবাদে রাজ্যের কোণায় কোণায় তৈরি হয়েছে নিজের লোক। তারা মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, খুন হয়েছে। তারপর ক্ষমতা দখল। এসব কিছু হওয়ায় হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু, বঙ্গ বিজেপির ক’জন তাঁদের রাজনৈতিক জীবনে লড়াই, সংগ্রামের কথা স্বগর্বে ঘোষণা করতে পারবেন? রাজনীতিতে অনেক অঘটনই ঘটে। কিন্তু, শুধু হাওয়ায় আর বেনোজলের তোড়ে রাইটার্স বা নবান্নে পৌঁছনোর মতো অঘটন ঘটে না।
লোকসভা ভোটে সাফল্য পাওয়ার পর থেকে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব দল গড়ার থেকে দল ভাঙানোয় বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছিল। ভাড়াটে সেনা নিয়ে যে যুদ্ধ জেতা যায় না, এই সহজ সত্যিটা তাঁরা বুঝতে চাননি। রাজনীতি যে ১০০মিটারে স্প্রিন্ট নয়, ম্যারথন রেস তা বুঝতে চাননি। অনেকে বলছেন, সংগঠন না গড়ে অতিরিক্ত আরএসএস নির্ভরশীলতা এবং চট জলদি সাফল্য ঘরে তুলতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছে বঙ্গ বিজেপি।
২০২১ সালের আগে এই উপনির্বাচনে বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ অনেকটা স্পষ্ট। এর ফলে বিজেপিতে ভাটার টান অনিবার্য। একইভাবে অনিবার্য, তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলিতে ভিড় বৃদ্ধি। উপনির্বাচনে ফল ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পটকা ফাটা। দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস খুবই স্বাভাবিক। এরপর হয়তো শুরু হবে বিজয় মিছিল বা মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর নামে পদযাত্রা। সেই সব মিছিলে ফের মানুষের অপছন্দের মুখগুলি ভেসে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে। এখানে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ হিসেবে বলতেই হয়, অপছন্দের মুখ ফের সামনে এলে মুখ ফেরাবে জনতা জনার্দন। কারণ ক্ষমতার আস্ফালন আমজনতার নাপসন্দ।
30th  November, 2019
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
একনজরে
 অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: খোদ গাইডই জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন। তাই এ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এম ফিলের শংসাপত্র পাওয়া হচ্ছে না গবেষক কার্তিক নস্করের। দু’বছর ধরে এই অভিযোগের কোনও মীমাংসাও হয়নি। বাংলা বিভাগের গবেষক কার্তিকের দাবি, বোর্ড অব ডিসিপ্লিন বিষয়টি দেখছে। ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি (পিটিআই): বিনিয়োগ, বাণিজ্য, তেল, গ্যাস, সাইবার সুরক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্রাজিলের সঙ্গে ১৫টি চুক্তি করল ভারত। শনিবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের মেসিয়াস বলসোনারোর ...

বিএনএ, তমলুক: রেশন সামগ্রী লরিতে ভর্তি করে পাচার করার সময় হাতে নাতে ধরে পাঁশকুড়া থানার পুলিসের হাতে তুলে দিলেন জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহ স্থায়ী ...

সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: সারা দেশের সঙ্গে আজ শনিবার মালদহ জেলায় পালিত হল জাতীয় ভোটার দিবস। নতুন ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

সাধারণতন্ত্র দিবস
১৮৪১: আনুষ্ঠানিকভাবে হংকং দখল করল ব্রিটিশরা
১৯৩০: পরাধীন ভারতে এই দিনটিকে ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস
১৯৫০: লাগু হল ভারতের সংবিধান। রাষ্ট্রপতি পদে রাজেন্দ্র প্রসাদ দায়িত্ব গ্রহণ করে সূচনা করলেন গণতন্ত্রের।
১৯৫৪: রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু
১৯৬৫- হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র
১৯৯২: পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন শহরকে নিশানা করা থেকে রাশিয়া বিরত হবে বলে জানালেন বরিস ইয়েলৎসেন
২০০১: গুজরাতের ভুজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হল প্রায় ২০ হাজার মানুষের
২০০৪: আফগানিস্তানের নয়া সংবিধানে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

25-01-2020 - 09:18:00 PM

পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাজ, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

25-01-2020 - 09:13:00 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

25-01-2020 - 09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

25-01-2020 - 08:05:00 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

25-01-2020 - 06:32:00 PM

আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

25-01-2020 - 03:32:34 PM