Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন: মিলবে লোকসভা-উত্তর রাজ্য-রাজনীতির মতিগতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে প্রথম তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ আগামী ২৫ নভেম্বর,ফলাফল ২৮ নভেম্বর।  খড়্গপুর সদর করিমপুর এবং কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে বিবাদমান রাজ্য-রাজনীতির একাধিক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। এই তিনটি আসনের মধ্যে খড়্গপুর সদর আসনটি ছিল বিজেপির, করিমপুর তৃণমূল কংগ্রেসের এবং কালিয়াগঞ্জ বাম-কংগ্রেস জোটের তরফ থেকে কংগ্রেসের।
গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য-রাজনীতির গতিপ্রকৃতিতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসের রাজনীতির বৃত্তে বিজেপি প্রবলভাবে নিজের উপস্থিতি জাহির করতে সক্ষম হয়েছিল। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি লোকসভা আসনে জয়ের পাশাপাশি শাসক তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের ফারাক ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলায় বিজেপির প্রাপ্ত ভোট শাসক তৃণমূলের থেকে বেশি ছিল। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি একাই ১২১টি কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, বিগত লোকসভা নির্বাচনে বামেরা ৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থায় পৌঁছায়। কংগ্রেস লোকসভায় ২টি আসন পেলেও প্রাপ্ত ভোট ৫.৫ শতাংশে নেমে আসে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস তৃতীয় শক্তিতে পরিণত হয়। এই অবস্থায় ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর আবারও রাজ্যে বাম ও কংগ্রেস জোট গঠন করে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে।
লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে একের পর এক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী রাজ্য-রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখে বিজেপিতে যোগদান করতে শুরু করে। একের পর এক পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে ছিলেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুল রায় থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয় দাবি করেছিলেন, একশোর বেশি তৃণমূলের বিধায়ক বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে। বাস্তবে কিন্তু দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার যে-সমস্ত পুরসভা বিজেপির দখলে গিয়েছিল একের পর এক সেই পুরসভাগুলির জনপ্রতিনিধিরা দল বেঁধে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসে। এমনকী, অর্জুন সিংয়ের গড় বলে পরিচিত ভাটপাড়ার পুনর্দখল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজারহাট নিউ টাউনের বিধায়ক এবং বেহালা-পূর্বের বিধায়ক যথাক্রমে সব্যসাচী দত্ত এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করলেও শোভনবাবুর দলে ফিরে আসা সময়ের অপেক্ষামাত্র। সব্যসাচীবাবুও বিজেপির রাজনীতিতে কতটুকু সক্রিয় হয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অর্থাৎ, অন্যদল থেকে বিজেপিতে ঢোকার স্রোত কেবল বন্ধ হয়েছে তাই নয়, বরং যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের বিজেপির রাজনীতির প্রতি মোহভঙ্গের ছাপ স্পষ্ট। 
সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি একাই ৩০০-র বেশি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বার দেশ চালানোর দায়িত্ব পেলেও অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি সরকার এবং দল উভয়কেই দুশ্চিন্তায় রেখেছে। ৩৭০ ধারা বিলোপ, তিন তালাক বিল পাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রবাহের পরেও হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে বিজেপির ফল প্রত্যাশামতো হয়নি। হরিয়ানায় নতুন সঙ্গী জুটিয়ে সরকার গঠনে সফল হলেও, মহারাষ্ট্রে বিজেপির সরকার গঠনের স্বপ্ন এখনও অধরা রয়েছে। রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে হয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর অশান্ত কাশ্মীর উপত্যকা এখনও বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ। স্বস্তি কেবল অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের রায়। এইরূপ জাতীয় আবহে রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনের ভোট বিজেপির জাতীয় নেতৃত্বের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
আবার ফেরা যাক রাজ্য-রাজনীতির দিকে। লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলাতে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করে দলের হারানো জমি ফিরে পেতে। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুসারে তৃণমূল শুরু করে নতুন করে গণসংযোগ যাত্রা, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘দিদিকে  বলো’। এই উপনির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভোটের প্রচারকৌশল সবকিছুই নির্ধারিত হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে। এমনকী, তিনটি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরি করার পরামর্শ ছিল ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত। এই উপনির্বাচনের ফল থেকে প্রশান্ত কিশোরের কর্মদক্ষতার প্রমাণ মেলানোর সুযোগ রয়েছে।
বিগত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে দেখা গেছে রাজ্যজুড়ে বাম-কংগ্রেসের সিংহভাগ ভোটারই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে তৃণমূলের ভোটও  বিজেপিতে হস্তান্তরিত হয়েছিল। নির্বাচনের পর গঙ্গা দিয়ে অনেকটা জল বয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই অসমের এনআরসিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করবার কথা বিজেপির নেতৃত্ব ঘোষণা করায় তৃণমূল রাস্তায় নেমে বিরোধিতা শুরু করে। এনআরসি ইস্যু রাজ্য-রাজনীতিতে উঠে আসার পর বিজেপি যেমন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, তেমনি শাসক তৃণমূল এনআরসিকে সামনে রেখে ভোটারদের মন পেতে ব্যাপক রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তৃণমূলের এনআরসির বিরোধিতা থেকে রাজ্য-রাজনীতিতে উঠে আসতে পারে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজ্যজুড়েই মানুষ এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে। বিজেপি সংসদে নাগরিকত্ব বিল এনে হিন্দুভোটারদের আশ্বস্ত করতে পারলেও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে রয়েছে তীব্র আতঙ্ক। এই অবস্থায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটাররা আরও বেশি করে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে পড়ে কি না তা পরখ করার সুযোগ রয়েছে। আবার প্রতিযোগিতামূলকভাবে তৃণমূল এবং বিজেপি রাজ্য-রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করছে—এই অভিযোগ সামনে রেখে বাম, কংগ্রেস এনআরসি নিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের আশ্বস্ত করতে যে প্রচার চালাচ্ছে, তাতে বামেদের প্রতি সংখ্যালঘুদের নতুন কোনও ভাবনার প্রকাশ ফুটে ওঠে কি না তা এই উপনির্বাচনের ফল থেকে বোঝা যাবে। এনআরসির প্রভাব খড়্গপুর সদরে কম থাকলেও কালিয়াগঞ্জের প্রচারে শাসক বিরোধী উভয়ই এনআরসি নিয়ে তাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে ভোটারদের  সামনে তুলে ধরেছে। উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ কেন্দ্রে ৫০ শতাংশ রাজবংশী সম্প্রদায় মানুষের বাস। নাগরিকত্ব বিলকে সামনে রেখে যে বক্তব্য বিজেপি রাখছে তাতে হিন্দুদের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা দেখার সুযোগ রয়েছে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে।
লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবনাকে প্রতিহত করতে বাংলা-বাঙালি উপ-জাতীয়তাবাদকে সামনে এনেছে। কাশ্মীরে কর্মরত মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ইস্যু থেকে সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের একের পর এক বক্তব্যে বাংলা-বাঙালিয়ানার ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। দলের এই ভাবনায় তৃণমূল বাংলা ও বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার ধারক ও বাহক এবং অন্যদিকে বিজেপি একটি অ-বাঙালিদের দল—এই প্রচারকে তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কৌশল লক্ষ করা গেছে। তৃণমূলের হয়ে নানা সংগঠন গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক প্রচারও চালাচ্ছে। এই প্রচারের নিটফল কী হতে যাচ্ছে, তার একটা ইঙ্গিত তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে মিলতে পারে। 
রাজ্য-রাজনীতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলিকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারে নেমেছে। এর মধ্যে কাটমানি ফেরত  দেওয়ার মতো ইস্যু যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুলের নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির মতো ইস্যুও রয়েছে। উপনির্বাচনের ইস্যু পাল্টা ইস্যু, পাশাপাশি রাজ্যের হিংসাত্মক পঞ্চায়েত নির্বাচন বা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে-যাওয়া উপনির্বাচন ঘিরে হিংসার আবহকেও বিরোধীরা প্রচারের অঙ্গ করেছে। আগামী বছর রাজ্যজুড়ে ১১১টি পুরসভা নির্বাচনের পূর্বে এই তিনটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে তিন শিবিরের আজকের পরিস্থিতির একটা আন্দাজ মিলবে।
উত্তরবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের সমস্ত আসনই তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ (তফসিলি)  কেন্দ্রে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী ৪৬,৬০২ ভোটে জয়ী হলেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্রটি থেকে ৫৬,৫৬২ ভোটে এগিয়ে যায়। রাজবংশী সম্প্রদায় অধ্যুষিত এই কেন্দ্রের ফলাফল তিন পক্ষের কাছেই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস কি পারবে তার পুরনো জমি ফিরে পেতে? না কি বিজেপি লোকসভার মতো এই কেন্দ্রে তার প্রভাব অব্যাহত রাখবে? না কি এনআরসি-র মতো ইস্যু আসাতে ২৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের পক্ষে এই কেন্দ্রে চমক দেওয়া সম্ভব হবে?
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নদীয়ার করিমপুর ছিল বামেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ। প্রায় ৪৫ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ এই কেন্দ্রটিতে রয়েছেন। গত নির্বাচনে সিপিএমের প্রার্থীকে পরাজিত করে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র ১৫,৯৮৯ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে মহুয়া মৈত্রের ভোটের ব্যবধান সামান্য কিছু কমে দাঁড়ায় ১৪,৩৪০ ভোট। কিন্তু এই কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপি ৩৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। বাম-কংগ্রেস মিলে লোকসভায় ভোট ছিল ২০ শতাংশের মতন।
উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় কেন্দ্রে নতুন কোনও সমীকরণ উঠে আসে কি না, না কি বাম-কংগ্রেসের সংখ্যালঘু অবশিষ্ট ভোটাররাও আরও ব্যাপকভাবে তৃণমূলের সমর্থনে এগিয়ে আসে তা যেমন দেখার বিষয়, তেমনি বাম-কংগ্রেস জোট এবং তৃণমূলের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি এগিয়ে যায় কি না তা দেখার বিষয়।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে ৪৫,১৩৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। মোট ভোটের ৫৮ শতাংশ বিজেপির পক্ষে ছিল। উপনির্বাচনে প্রার্থিপদ নিয়ে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না তা দেখার। না কি জ্ঞানসিং সোহনপালের চার দশকে জেতা এই আসনে নতুন কোনও সমীকরণ উঠে আসে তা দেখার।
পুরসভার চেয়ারম্যানকে প্রার্থী করে তৃণমূল আসনটি দখল করতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি সভাপতির জেতা এই আসনে দুর্ঘটনা হলে রাজ্য-রাজনীতির সমীকরণই পাল্টে যেতে পারে। এই সমস্ত সম্ভাবনার উত্তর মিলবে ২৮ নভেম্বর। তার আগে ২৫ নভেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে এই তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
21st  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধানের নাড়া পোড়ানো নিষিদ্ধ করল রাজ্য সরকার। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ধান কাটার পর নাড়া তুলে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ধানের নাড়া পোড়ানোর জন্যই দূষণ মারাত্মক আকার নিচ্ছে। ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলায় কার্যত দিশেহারা গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।  ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গণে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট পিচ করা হল। শহরের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই অস্থায়ীভাবে এই পিচ করেছে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ। স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট খেলা চাঁদমনির মাঠে স্থানান্তর করার পর অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় শিলিগুড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের।   ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট মেট্রোয়
কলকাতা মেট্রোয় ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তার জেরে কিছুক্ষণের জন্য টানেলেই ...বিশদ

08:21:00 PM

অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM