Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভারত-মার্কিন সহযোগিতাই ঠেকাতে পারবে
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিপদ 
কেনেথ আই জাস্টার

কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, সামান্য একটি ছাতাপড়া ‘মেলন’ জাতীয় ফলের ভিতর লুকিয়ে রয়েছে অগণিত মানুষের জিয়নকাঠি? হ্যাঁ, পেনিসিলিন—এটাই হল সর্বপ্রথম অ্যান্টিবায়োটিক। আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯২৮-এ। আমরা জানি, আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্দার ফ্লেমিং। তবু ১৯৪২-এর আগে অবধি ক্যানটালোপের ভিতরে সঞ্চিত রহস্যের সাহায্যে পেনিসিলিয়ামের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার অসুস্থ সৈনিকের জীবনদায়ী পেনিসিলিয়াম উৎপাদনের সূত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ শিল্প দ্রুত বিকশিত হতে পেরেছিল।
আমরা জানি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকরা যত সংখ্যায় না মরেছিল, তার তুলনায় বেশি সৈনিকের বেঘোরে প্রাণ গিয়েছিল নানাবিধ ইনফেকশন সারাতে না-পারার কারণে। উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই, পেনিসিলিয়াম মিরাকল বা চমৎকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকাল থেকে মানবসভ্যতার কাছে বিরাট এক আশীর্বাদ হয়ে উঠল, আমরা আগের বিপদটির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সক্ষম হলাম। নিউমোনিয়া এবং নানা ধরনের চর্মরোগের মতো সাধারণ অসুখে মৃত্যুর ব্যাপক হারটিও হঠাৎ করে কমিয়ে আনা সম্ভব হল। এই যে অগ্রণী এক যুগ এসে গেল, অনেকের মতে, সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইতে আমরা নিশ্চিতরূপে জয় ছিনিয়ে আনতে পারলাম। পেনিসিলিনের কার্যকারিতা হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মোকাবিলা করা গিয়েছিল নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের মাধ্যমে। তার ফলে, ১৯৮৫ সালে এসেও ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটি অফ অ্যামেরিকা তার বার্ষিক অধিবেশনে—সংক্রামক ব্যাধির জন্য স্পেশালিস্ট বা বিশেষজ্ঞদের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না—এরকম একটি প্রশ্ন তোলার অবকাশ পেয়েছিল।
অথচ, তার পর ৩৫ বছর পেরনোর আগেই আমাদের সামনে নতুন এক কঠিন বাস্তব এসে হাজির হয়েছে যে, এই সমস্ত জীবনদায়ী ওষুধ আর বেশিদিন কার্যকরী নাও থাকতে পারে। এই যে নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর নাম দিয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টান্স (এএমআর)। সারা পৃথিবীতে মানুষের স্বাস্থ্যের সামনে যে ভয়ঙ্কর দশটি বিপদ উপস্থিত হয়েছে, এএমআর তারই একটি। বছরে ২ লক্ষ ১৪ হাজার নবজাতকের মৃত্যুর কারণ এএমআর প্যাথোজেনস অথবা ‘সুপারবাগস’। ‘প্যাথোজেন’ শব্দের বাংলা করা যায় ‘রোগের জনক’ বা যে ‘এজেন্ট’ রোগসৃষ্টির জন্য দায়ী। অন্যদিকে, ‘সুপারবাগ’ হল সেইসব মারাত্মক জীবাণু—নির্দিষ্ট জীবাণুপ্রতিরোধী ওষুধ প্রয়োগের পরেও যারা নির্বিকার থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রতিটি ‘এএমআর প্যাথোজেন’ই হল জীবনঘাতী ‘সুপারবাগ’। বিশ্বজুড়ে এএমআর বেড়ে চলেছে। বলা দরকার, এটা পৃথিবীর যে-কোনও জায়গার যে-কোনও বয়সি মানুষের ক্ষতি করতে পারে। সামান্য ব্যাকটিরিয়াসংক্রমণের কারণে একসময় হরবখত মানুষ মারা যেত। ভয় হচ্ছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্সের বিপদ সেই ফেলে আসা দুঃসময়কেই না ফিরিয়ে আনে!
সোজা করে বললে বলতে হয় যে, অ্যান্টিবায়োটিকের মতো অমূল্য সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আমরা একেবারে ‘কেয়ারলেস’। আমরা এতটাই অবিবেচক যে অ্যান্টিবায়োটিক নিজেদের উপর এবং পশুদের উপরেও মুড়িমুড়কির মতো প্রয়োগ করে থাকি। এই যে সমস্যা তার মূলে আমাদের মধ্যে চারিয়ে যাওয়া কিছু সাধারণ ভুল ধারণা, যেমন ঠান্ডালাগা বা জ্বরজ্বালাতেও অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে—অথচ, বাস্তবটা হল, এইসব অ্যান্টিবায়োটিক কোনোভাবে ভাইরাসের ক্ষতি করতে পারে না। এবংবিধ ভুল ধারণা থেকেই আমাদের ভিতর অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বদঅভ্যাস গড়ে উঠেছে এবং কিছু ডাক্তারও প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার বা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, হাসপাতালগুলিতে যত ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’ ব্যবহার হচ্ছে তার প্রায় অর্ধেকের কোনও প্রয়োজন নেই অথবা যেমনভাবে ব্যবহার করা দরকার ঠিক সেইভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
অ্যান্টিবায়োটিকের আনাড়ির মতো এবং লাগামছাড়া ব্যবহার চলছে অন্যপ্রাণীদেরও উপর। যখন অগণিত মানুষের জীবনরক্ষার তাগিদে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখা কর্তব্য, তখন এই ধরনের অনেকগুলি ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে—খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত কিংবা খাদ্যপ্রদায়ী পশুপাখিদের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধির লোভ নিয়ে। পশুপাখির রোগসংক্রমণের চিকিৎসায় যত না তারা এইসব ওষুধ ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি করছে উপরোক্ত বাণিজ্যিক কারণে। চার দশকের বেশি হয়ে গেল, নতুন শ্রেণীর কোনও অ্যান্টিবায়োটিক ‘ডেভেলপ’ করা সম্ভব হয়নি, তার মধ্যে চলা এই কাণ্ডটিকে উপদ্রবকর বলেই মনে হচ্ছে।
‘এএমআর থ্রেট’-এর মোকাবিলায় ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার নেপথ্যে রয়েছে একটি ‘কমন ইন্টারেস্ট’। বিশ্বজুড়ে যেসব দেশে মাথাপিছু অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্যতম একটি। অন্যদিকে, অ্যান্টিবায়োটিকের সবর্মোট ব্যবহারের প্রশ্নে ভারত অন্য সমস্ত দেশকেই পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশনেও বলতে চাই যে, আশা হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থায় কিন্তু আমরা পৌঁছে যাইনি। একটা সম্ভাবনাময় সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত দুই দেশই অভিনব শক্তিতে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠতে অভ্যস্ত।
ওষুধ আবিষ্কারের প্রশ্নে এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অগ্রণী দেশ। ভারতের রয়েছে সমৃদ্ধ ফার্মাসিউটিকাল সেক্টর এবং প্রাণচঞ্চল পাবলিক হেলথ কমিউনিটি। সমস্যাগুলিকে বিভিন্ন দিক থেকে মোকাবিলা করার কাজটি আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালগুলির রোগসংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও চাঙ্গা করা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-রেজিস্টান্ট ইনফেকশনের উপর নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এএমআর সল্যুশানের বিষয়ে যেসব বিজ্ঞানী ও গবেষক কাজ করছেন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নতুন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ডেভেলপমেন্টের জন্য তহবিল জোগানো।
এএমআর বিষয়ে গবেষণা ও নীতিনির্ধাণের উদ্দেশ্যে কলকাতায় একটি নতুন হাব গড়ে তোলা হয়েছে। সেটির উদ্বোধন উপলক্ষে গত মাসে আমার সঙ্গে সচিব তথা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গবের সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানেই এই বিপদ মোকাবিলার অঙ্গীকারটি পুনরাবৃত্ত হয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছি যে, আমাদের ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবেই কাজ চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, এএমআর-এর বিপদ মোকাবিলায় আমাদের ইন্ডিয়ান পার্টনারদের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আইসিএমআর এবং বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট।
যখন আমাদের সরকার দুটি পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত উপায়ে এই সমস্যার সমাধানে একযোগে কাজ করে, তখন এএমআর-এর মতো কঠিন বিপদটি নিয়ে আমাদেরও ব্যক্তিগত স্তর থেকে সমষ্টিগতভাবে জরুরি ভিত্তিতে সোচ্চার হতে হবে, সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যপরিষেবার গ্রহীতা হিসেবে যে-কোনও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা অন্যভাবে নেওয়ার আগে আমাদের কর্তব্য হল উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ। সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানো ঠেকাতে প্রত্যেককেই বিরত থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের যথাযথ ধারণা। এই ধারণা থাকলে আমরা হাত পরিচ্ছন্ন রাখব, মুখ খুলে কাশি দেব না, অসুস্থ শরীর নিয়ে বাইরে বেরব না। রোগসংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, চিকিৎসার স্বীকৃত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে, প্রেসক্রিপশনে অপ্রয়োজনেও অ্যান্টিবায়োটিক লেখায় ক্ষান্ত দিতে হবে। আর যেটা দরকার তা হল, সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চালু ভ্যাকসিন বা টিকাগুলি যাতে মানুষ ঠিকমতো নেয় তার জন্য প্রচার বাড়াতে হবে। কৃষকদের উচিত গবাদি পশুপাখিদের টিকাকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া। কেবলমাত্র সংক্রামক ব্যাধি নিরাময়ের প্রয়োজনেই গবাদি পশুপাখিদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া দরকার এবং অবশ্যই তা প্রয়োগ করতে হবে উপযুক্ত পশুচিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে। নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে আমাদের শিল্পও গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের দায়িত্বশীল অভিভাবক হয়ে ওঠাও প্রয়োজন। অব্যবহার্য অ্যা঩ন্টিবায়োটিকের ‘ডিসপোজাল’-এর বিষয়েও বিবেচনাপূর্ণ ভূমিকা থাকা দরকার।
এই বিরাট চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমাদের ব্যক্তিগতভাবে এবং সমষ্টিগতভাবে—দু’ভাবেই সক্রিয় হতে হবে। এএমআর মোকাবিলায় আমাদের সহযোগিতা দুই দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করবে। একদিকে, ইউএস-ইন্ডিয়া কোঅপারেশন একটি সিম্বল হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, এমন একটি ‘লঞ্চ প্যাড’ হিসেবে ভাস্বর থাকবে, যেখানে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে এবং যেখান থেকে আমাদের দুটি দেশ তো বটেই সারা পৃথিবীও উপকৃত হবে।
 লেখক ভারতে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত 
20th  November, 2019
আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক।
বিশদ

সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
একনজরে
গোয়ালিয়র, ২৭ জানুয়ারি (পিটিআই): মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র সেন্ট্রাল জেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল এক বন্দি। নাম নরোত্তম রাওয়াত। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে জেলে ছিল সে। রবিবার রাতে জেল চত্বরের একটি গাছ থেকে নরোত্তমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।  ...

বিএনএ, বহরমপুর: এবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনজন করে পিওসি (পয়েন্ট অব কন্ট্রাক্ট) নিয়োগ করবে টিম পিকে। প্রতিটি জেলা থেকে বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতিদের কাছ থেকে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক তিনজনের নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেইমতো জেলা থেকে নাম পাঠানো হয়েছে।   ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্প ও ব্যবসায় উৎসাহ দিতে সব ক্ষেত্রেই ৯২ শতাংশ ফায়ার লাইসেন্স ফি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২০১৭ সালের এই ফি খুব বেড়ে গিয়েছিল বলে বেশ কয়েকজন শিল্পপতি ও বণিকসভার প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রশ্নে ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএমের সঙ্গে আর কোনও তিক্ততা নয়। তাই আসন্ন আলিপুরদুয়ার পুরভোটে বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেস থাকলেও শরিক আরএসপি’র কোনও অসুবিধা নেই।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শিক্ষার জন্য দূরে কোথাও যেতে পারেন। প্রেম-প্রণয়ে নতুন যোগাযোগ হবে। বিবাহের কথাবার্তাও পাকা হতে পারে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৫৬:দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যু
১৮৬৫: স্বাধীনতা সংগ্রামী পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রাইয়ের জন্ম
১৮৯৮: ভারতের মাটিতে পা রাখলেন ভগিনী নিবেদিতা
১৯২৫: বিজ্ঞানী রাজা রামান্নার জন্ম
১৯৩০: গায়ক যশরাজের জন্ম
১৯৩৭: গায়িকা সুমন কল্যাণপুরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৫ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৩২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,২০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) তৃতীয়া ৫/৩ দিবা ৮/২২। শতভিষা ৭/৩৪ দিবা ৯/২৩। সূ উ ৬/২১/২১, অ ৫/১৭/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/৯ মধ্যে পুনঃ ৮/৪৬ গতে ১১/২২ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ গতে ৯/৫ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৩৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৫৬ গতে ৮/৩৪ মধ্যে।
১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার, তৃতীয়া ০/৪৫/৪৫ প্রাতঃ ৬/৪২/৩৩। শতভিষা ৪/৩৯/৩৪ দিবা ৮/১৬/৫। সূ উ ৬/২৪/১৫, অ ৫/১৬/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১ গতে ১০/৪৩ মধ্যে ও ও ১২/৫৬ গতে ২/২৫ মধ্যে ও ৩/৯ গতে ৪/৩৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৩ মধ্যে ও ৮/৪৯ গতে ১১/২৫ মধ্যে। কালবেলা ১/১১/৫৩ গতে ২/৩৩/২৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৫৪/৫৬ গতে ৮/৩৩/২৫ মধ্যে।
২ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এই প্রথম বারুইপুর আদালতে ফাঁসির নির্দেশ
এই প্রথম ফাঁসির নির্দেশ দিল বারুইপুর আদালত। আজ এই আদালতে ...বিশদ

01:56:36 PM

 শিক্ষকদের জন্য সুখবর মমতার
শিক্ষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা রাজ্যের। ট্যু ইট করে সেই ...বিশদ

01:51:21 PM

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে ফিরেই গেলেন রাজ্যপাল 
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে ফিরে গেলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। ...বিশদ

01:42:00 PM

 ফের বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল
ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারকে। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

01:11:00 PM

 আদনান সামিকে পদ্মশ্রী: কেন্দ্রকে তোপ এনসিপির, পাল্টা বিজেপিও
পাক বংশোদ্ভূত গায়ক আদনান সামিকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে ...বিশদ

12:13:56 PM

কালনায় নৌকাডুবি
কালনা ফেরিঘাটে একটি চাল বোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটল। ...বিশদ

12:07:00 PM