Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার। আর এবার তিনি আত্মবিশ্বাসী, নিশ্চিত... মহারাষ্ট্রে সরকার হবে শিবসেনা-বিজেপিরই। বাজির শব্দ স্তিমিত হয়ে আসছে... বক্তব্য শুরু করলেন বাল থ্যাকারে। ভুল হল, বক্তব্য নয়। চোখা চোখা বাণের মতো শব্দবন্ধে আক্রমণ। শারদ পাওয়ারকে। সেবার ১৬৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে শিবসেনা জিতেছিল ৭৩টি। বিজেপি ১১৬টিতে লড়াই করে জয় পেয়েছিল ৬৫ আসনে। চাইলে কি সেবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না তিনি? আলবাৎ পারতেন। কিন্তু ওই ভোটের ফল ঘোষণার দিনকয়েক আগে একটি সাক্ষাৎকারে বালাসাহেব থ্যাকারে বলেছিলেন, ‘শপথ নিয়েছি... ওই কুর্সি (মুখ্যমন্ত্রীর) কোনওদিন ছুঁয়েও দেখব না। মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে... কারণ তারা মনে করে, আমি অন্যদের থেকে আলাদা। সেই বিশ্বাস আমি ভাঙতে পারি না। ভাঙবও না।’... ঠিক তার পরের বিধানসভা নির্বাচন। ১৯৯৯। জিজ্ঞেস করা হল, প্রয়োজনে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট? বলেছিলেন, ‘লোকে বলে রাজনীতিটা স্কাউন্ড্রেলদের খেলা। আপনার উপর নির্ভর করছে আপনি ভদ্রলোক থাকবেন, নাকি স্কাউন্ড্রেল হবেন। কেউ যদি যেচে স্কাউন্ড্রেল হতে চায়... আটকানো যায় না। তবে আমি একজন স্কাউন্ড্রেলের সঙ্গে জোট বাঁধব না। ওই লোকটা অটলবিহারী বাজপেয়ির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটা ক্ষমাহীন অপরাধ। গ্যারান্টি কি ভবিষ্যতেও করবে না?’
শারদ পাওয়ার তখন কংগ্রেসে। বিদেশিনী ইস্যু মাথাচাড়া দেয়নি। অর্থাৎ, সোনিয়া গান্ধীর নামে গাল পেড়ে দল ছাড়েননি তিনি। ১৩ মাসের অটলবিহারী বাজপেয়ি সরকারকে মাত্র এক ভোটে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে শারদ পাওয়ারের ভূমিকাই প্রবল বলে মনে করা হয়। এখন সময় বদলেছে। বালাসাহেব এখন অতীত। একজন কার্টুনিস্ট। শিল্পী। মারাঠা জাত্যাভিমানের লড়াইয়ের সেনাপতি। ‘সরকার’। ঠিক এই কারণে লোকে শিবসেনাকে মনে রাখে... ভোট দেয়। দলটা বাল থ্যাকারের। যে ভোট শিবসেনা পায়, তার বেশিটাই ওই গেরুয়া গায়ে, রুদ্রাক্ষের মালা পরা লোকটার লেগাসির জন্য। শুধু উদ্ধব থ্যাকারে বা আদিত্য থ্যাকারের ক্যারিশমায় আজকের দিনে কি ৫৬টা আসন শিবসৈনিকরা পেতে পারে? তর্কের ব্যাপার। কিন্তু সে যেভাবেই হোক, পেয়েছে। এবং এবার হয়তো দু’টোই হচ্ছে—মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে ‘পরিবারে’র কেউ, আর শারদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট। অন্তত এনসিপি প্রধানের দাবি মানলে তো তাই মনে হচ্ছে। কংগ্রেস ও এনসিপি থেকে একজন করে উপ মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনার। অর্থাৎ, বাল থ্যাকারে যে আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন... এই পরিবার ক্ষমতার রসায়নের মধ্যে ঢুকে পড়লে মানুষের মধ্যে থেকে সেই বিশ্বাসযোগ্যতাটা চলে যাবে, সেই ভাবনাটাও আজ অতীত হতে বসেছে। হয়তো উদ্ধব থ্যাকারে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিংবা আদিত্য। আবার বিজেপিও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। মহারাষ্ট্রজুড়ে কেমন একটা ঘোড়া কেনাবেচার গন্ধ। এর উপর বিজেপি আরও বলছে, এখনও সেনার জন্য দরজা খোলা। হাতে ১১৯টি আসন নিশ্চিত। শিবসেনা জোটে যোগ দিতে চাইলে দিতেই পারে। কিন্তু তার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এটা হল আপাতত মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি। যার কি খুব প্রয়োজন ছিল? উদ্ধবরা যদি মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে প্রাণপণ দড়ি টানাটানি না করতেন, তাহলে এতদিনে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন হয়ে যেত। আসলে ৫৬টি আসন ঝুলিতে চলে আসার পর শিবসেনা ভাবল, এই তো সুযোগ। ১০৫টা আসন নিয়ে বিজেপি একা সরকার গঠন করতে পারবে না। শিবসেনা যদি সমর্থন না করে, তাহলে হয় কংগ্রেস কিংবা এনসিপির সঙ্গে ওদের জোট বাঁধতে হবে। যা সম্ভব নয়। ২৯টি নির্দলের সবাইকে রাজি করাতে পারলেও ম্যাজিক ফিগার ১৪৫-এ পৌঁছনো যাবে না। ব্যাস! শিবসেনা দাবিতে অনড়... মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারই চাই। পুরো পাঁচ বছর না হোক, আড়াই বছর হলেও চলবে। আর বিজেপির গোঁ, দেবেন্দ্র ফড়নবিশই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
শিবসেনা আসলে একটা বিষয় স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিল... হয় এবার নয় নেভার। আর দর কষাকষির ঘোরে উদ্ধবরা ভুলে গিয়েছিলেন, তাঁরা আসলে দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ভিতেই কুড়ুল মেরে দিয়েছেন। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-এনসিপিও পুতুল নাচন নাচাচ্ছে। এমন অবস্থায় যদি সরকার গঠন না হয়ে মহারাষ্ট্রে ফের বিধানসভা ভোট করাতে হয়, তার দায় পুরোটাই চাপবে তাঁদের উপর। প্রত্যক্ষ দায় যদি সেনার হয়, বিজেপিও কিন্তু ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে থাকতে পারবে না! কুমিরছানার মতো দিনের পর দিন তারা একটাই ছবি দেখিয়ে যাচ্ছে—‘সব ঠিক আছে’। বেকারত্ব, কমতে থাকা জিডিপি, বাজারে নগদের ঘাটতি, উধাও হয়ে যাওয়া শিল্প-সম্ভাবনা... তাও তাদের দাবি ‘সব কুছ ঠিক হ্যায়’। ভোটার কিন্তু বোকা নয়। আর লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের গঠনতন্ত্রটাও আলাদা। প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদি। তার বিকল্প কোনও মুখ ভারতের ভোটাররা খুঁজে পাননি। তাই বিজেপিতেই ভোট-ভরসা। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন নিজের রাজ্যের ব্যাপার। ঘরের ব্যাপার। বিকল্প অনেক বেশি। ছবিটা পরিষ্কার, ওভার কনফিডেন্সের চোরাবালিতেই ডুবতে শুরু করেছে বিজেপি। তারা মনে করছে, যেখানে হাত দেব সোনা ফলবে। তা কিন্তু হচ্ছে না! তাই মহারাষ্ট্রে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ ডজন ডজন সভা করেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেননি। এখনও অমিত শাহ কী ভেবে রেখেছেন জানা নেই। ধরে নেওয়া যেতেই পারে কোনও প্ল্যান বি রয়েছে। আপাতত সেটা সামনে আসেনি। বরং শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের মধ্যে নিত্য বৈঠক চলছে। ছকটা হয়েছে। এবার কাঠামোটা বানাতে হবে। যেনতেনপ্রকারেণ সরকার গড়তেই হবে—এই মনোভাব থাকলে বিজেপি কিন্তু শিবসেনাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দিত। তা তারা করেনি। বরং এনসিপি-কংগ্রেস তেমন একটা টার্গেট নিয়েই ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ যখন মিলেছে সদ্ব্যবহার করো। এখানেও আর একটা ‘কিন্তু’ রয়েছে। সেটা কী? ধরা যাক সরকার হয়ে গেল। তারপর? কেউ বলছে এই বিয়ে দু’বছর টিকলে হয়! তো কেউ বাজি ধরছে, ছ’মাসও টিকবে না। রাজনীতি যতটা অঙ্ক, তার থেকে অনেক বেশি রসায়ন। একের সঙ্গে অপর শরিকের সম্পর্কটা পাঁচ বছর ধরে ঠিক কতটা মধুর থাকবে, তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ভুল হল, সব কিছু।
এবার প্রশ্ন হল উদ্ধব থ্যাকারের কি সেই রাজনৈতিক যোগ্যতা আছে? গত সাত বছর ধরে নিজেকে বাবার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারেননি তিনি। বরং দলটাকে বাল থ্যাকারের লেগাসিতে মুড়েই চালিয়ে যাচ্ছেন। আর অনুসরণ করছেন বাল থ্যাকারের পলিসি। গ্রামের দিকে নজর। কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতিশ্রুতি, মারাঠা জাত্যাভিমান। বিজেপি যা বলতে বা করতে চেয়েছে, শিবসেনা তারই উল্টো গান গেয়ে ফড়নবিশ ও মোদি সরকারকে বিরক্ত করেছে। কখনও জনসমক্ষে বিবৃতি দিয়ে, তো কখনও ‘সামনা’র সম্পাদকীয়র মাধ্যমে। উদ্ধবের এখানেও একটা ঢাল রয়েছে। স্বয়ং বাল থ্যাকারে। দু’দশক আগে তাঁকে যখন ছেলে উদ্ধব এবং ভাইপো রাজের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, ‘রাজীব গান্ধীও তো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ওঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা কী ছিল?’ রাজীব গান্ধীকে ডুবিয়েছিল তাঁর একের পর এক মিস-অ্যাডভেঞ্চার। উদ্ধব যদি মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে অন্যরকম কিছু হতেই পারে। হয়তো ভালো কিছু! সেটা সময় বলবে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের নিরিখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যে বেশ কিছুটা বিগড়ে গিয়েছে, সে নিয়ে সন্দেহ নেই। বিজেপিকে এখন আস্তিন থেকে নতুন কোনও তাস বের করতেই হবে। সেই তাস শুধু বিরোধী বা শরিক দলের জন্য হলে চলবে না। সেটা হতে হবে ভোটারকুলের জন্য।
এগুলো অবশ্যই পর্দার আড়ালে থাকা ছবি। সামনের ছবিটা হল, কংগ্রেস হাত মেলাচ্ছে শিবসেনার সঙ্গে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কারও হাত ধরা যায়, এটাই আপাতত বিরোধী দলগুলির এজেন্ডা। শারদ পাওয়ারের মিষ্টি কথায় শিবসেনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছেড়েছে। লোকসভার অধিবেশনে তারা এবার বসছে বিরোধী বেঞ্চে। আর দূরেরটা দেখলে? বিজেপি কিন্তু শক্তি হারাচ্ছে। আরও সোজাভাবে বলতে গেলে শরিকরা সরে যাচ্ছে। শিবসেনা সরে যাওয়ার পর জেডিইউ ছাড়া তেমন শক্তিশালী শরিক আর এনডিএতে নেই। সংখ্যায় হয়তো প্রচুর, কিন্তু ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রভাব ফেলার ক্ষমতা দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। জয়ললিতা বেঁচে থাকাকালীন তাও এআইএডিএমকের কিছু জোর ছিল। এখন নেই। বিধানসভা ভোটগুলিতে শরিকহীনতার প্রমাণ পাচ্ছে বিজেপি। এই প্রবণতা আরও বাড়বে। মহারাষ্ট্রই তার পথনির্দেশক। বন্ধুসুলভ আচরণ নয়, শরিকদের উপর দাদাগিরিটাই মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে বিজেপির। অভিভাবক হতে গেলে অনেক সহনশীল হতে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। লোকসভায় তিন শতাধিক আসনে বলীয়ান বিজেপি সেসব রাজনৈতিক নীতিকথা ভুলেছে। প্রথম ইউপিএ সরকারের সময় ডিএমকে সুপ্রিমো এম করুণানিধি দেখা করতে এলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজে নেমে আসতেন পোর্টিকোয়। দাঁড়াতেন গাড়ির সামনে। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। শরিক দলের নেতাকে গাড়ির দরজা থেকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে না গেলেও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত না। কিন্তু তিনি সেটাই করতেন জোট-রাজনীতির খাতিরে।
এটাই শিক্ষণীয়। আজ বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার মতো শক্তিশালী বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নেপথ্যে অবশ্যই শারদ পাওয়ার। সেই পাওয়ার, যিনি ’৮২ সালে টেক্সটাইল কর্মীদের ধর্মঘটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন বালাসাহেব থ্যাকারের সঙ্গে। কিন্তু আদর্শে কট্টর বাল থ্যাকারে পরবর্তীকালে রাজনীতির মুদ্রায় শারদ পাওয়ারের উল্টো পিঠ হয়ে যান। যা কোনওদিন মিলতে পারে না। সেনা সুপ্রিমোর জীবদ্দশায় তা মেলেওনি। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরিরা? পদবিটা এক হতে পারে। চরিত্র নয়। তাই এই শারদ পাওয়ারই এখন লেজে খেলাতে শুরু করেছেন শিবসেনাকে। নিন্দুকে বলছে, দিল্লি থেকে নির্ঘাত হুমকি এসেছে। এনসিপির অজিত পাওয়ার ও প্রফুল্ল প্যাটেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জালে পড়েছেন। আয়কর দপ্তরের হানা শুরু হয়েছে। এর থেকে বাঁচতে গেলে কিছু তো আত্মত্যাগ করতেই হবে। তাই শারদ পাওয়ার শেষ মুহূর্তে কোনদিকে যান, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
যদি বাল থ্যাকারে বেঁচে থাকতেন...! 
19th  November, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
উপনির্বাচনী ফল: বঙ্গজুড়ে পারদ চড়ছে কৌতূহলের
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনী ফল বেরচ্ছে। কথায় বলে, ফলেই পরিচয়। ফলেন পরিচীয়তে। আজ সেই ফলের জন্য উদ্‌গ্রীব বাংলা, বাংলার রাজনৈতিকমহল। নানান জনের নানা প্রত্যাশা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবশ্য সেজন্য আসমুদ্রহিমাচল বাংলা টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে। বিশদ

28th  November, 2019
পাওয়ারের শক্তিপরীক্ষা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এখন সত্যিই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, বালাসাহেব থ্যাকারে বেঁচে থাকলে কী করতেন! আগের রাতে শুনে ঘুমাতে গেলেন, শিবসেনার জোট সরকার হচ্ছে এবং ছেলে উদ্ধব সেখানে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পরদিন সাতসকালে ঘুম ভেঙে দেখলেন, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন।
বিশদ

26th  November, 2019
মহারাষ্ট্রে টানটান সিরিয়ালের নায়ক কে
সন্দীপন বিশ্বাস

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অবসান হয়েছে। যুধিষ্টিরের অভিষেক পর্বও হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি, রাজধর্ম নিয়ে শিক্ষা নিতে তিনি গেলেন শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মের কাছে। ভীষ্ম তাঁকে সেদিন যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা আদর্শ রাজধর্ম এবং রাজনীতি বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু আজকের যুগের স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতি দেখলে মনে হয় এই রাজনীতি যেমন নীতির রাজা নয়, তেমনই রাজার নীতিও নয়। 
বিশদ

25th  November, 2019
একনজরে
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা। স্থান সল্টলেক স্টেডিয়াম। যুবভারতীর বাঁ দিকে পাশাপাশি দু’টি প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। এটিকে’র প্র্যাকটিসের জন্য প্রথম মাঠটির ফ্লাড লাইট জ্বলে ...

বিএনএ, মালদহ: রোগীকে পরীক্ষার নাম করে তার শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকের খোঁজ মিলল না বৃহস্পতিবারেও। ইংলিশবাজার শহরে তার চেম্বারটিও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এব্যাপারে মালদহ মহিলা থানা একটি মামলা দায়ের করেছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।  ...

 নয়াদিল্লি, ৫ ডিসেম্বর (পিটিআই): আইনজীবীদের আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। মঙ্গলবার বিচারপতি মিশ্রর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে এক জমি অধিগ্রহণ মামলার শুনানি চলছিল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপদগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৩: জার্মান দার্শনিক ম্যাক্সমুলারের জন্ম
১৮৫৩: ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জন্ম
১৯৫৬: দলিত আন্দোলনের নেতা ভীমরাওজি রামাজি আম্বেদকরের মৃত্যু
১৯৮৫: ক্রিকেটার আর পি সিংয়ের জন্ম
১৯৯২: অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ ধ্বংস
২০১৬ - তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৯২ টাকা ৭৩.০৯ টাকা
পাউন্ড ৯১.৬২ টাকা ৯৬.০৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৪২ টাকা ৮১.১৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,২৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ৪২/৬ রাত্রি ১০/৫৭। সূ উ ৬/৬/৫৩, অ ৪/৪৭/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৭/৩২ গতে ৯/৪০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪১ গতে ৯/১৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/২৭ মধ্যে পুনঃ ৪/২০ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪৭ গতে ১১/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৭ গতে ৯/৪৭ মধ্যে।
১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ৫৮/২৮/৪৯ শেষরাত্রি ৫/৩১/৫০। উত্তরভাদ্রপদ ৪১/৪৫/৪১ রাত্রি ১০/৫০/৩৪, সূ উ ৬/৮/১৮, অ ৪/৪৮/২৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ২/৫১ মধ্যে ও ৩/২৭ গতে ৪/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৫ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ৩/৩৮ মধ্যে ও ৪/৩২ গতে ৬/৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৮/২০ গতে ১১/২৮/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৮/২২ গতে ৯/৪৮/২১ মধ্যে।
৮ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঝাড়গ্রামে লরির ধাক্কায় মৃত্যু যুবকের, গাড়িতে আগুন

 বালিবোঝাই লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক যুবকের। বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাটি ...বিশদ

05-12-2019 - 05:35:14 PM

কলকাতায় গ্রেপ্তার মাওবাদী!
গতকাল রাতে কলকাতার স্ট্যান্ড রোড এলাকা থেকে সুনীল কুমার(৩৭) নামক ...বিশদ

05-12-2019 - 04:32:00 PM

বহরমপুরে স্ক্রাব টাইফাসে মৃত ২
ফের রাজ্যে স্ক্রাব টাইফাসের বলি। এবার বহরমপুরে। মৃত্যু হল দু’জনের। ...বিশদ

05-12-2019 - 04:24:00 PM

সোমবার থেকে কয়েকটি রুটের বাস-মিনি বন্ধ
টালা ব্রিজ বন্ধ। বিকল্প রুটে বাস চালাতে নারাজ অধিকাংশ বাস ...বিশদ

05-12-2019 - 04:11:13 PM

কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, বোমাবাজি, পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর 

05-12-2019 - 04:06:00 PM

৯ মাসের শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তার জ্যাঠার বিরুদ্ধে 
মধ্যযুগীয় যৌন বর্বরতার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নয় মাসের ...বিশদ

05-12-2019 - 03:13:00 PM