Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার। আর এবার তিনি আত্মবিশ্বাসী, নিশ্চিত... মহারাষ্ট্রে সরকার হবে শিবসেনা-বিজেপিরই। বাজির শব্দ স্তিমিত হয়ে আসছে... বক্তব্য শুরু করলেন বাল থ্যাকারে। ভুল হল, বক্তব্য নয়। চোখা চোখা বাণের মতো শব্দবন্ধে আক্রমণ। শারদ পাওয়ারকে। সেবার ১৬৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে শিবসেনা জিতেছিল ৭৩টি। বিজেপি ১১৬টিতে লড়াই করে জয় পেয়েছিল ৬৫ আসনে। চাইলে কি সেবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না তিনি? আলবাৎ পারতেন। কিন্তু ওই ভোটের ফল ঘোষণার দিনকয়েক আগে একটি সাক্ষাৎকারে বালাসাহেব থ্যাকারে বলেছিলেন, ‘শপথ নিয়েছি... ওই কুর্সি (মুখ্যমন্ত্রীর) কোনওদিন ছুঁয়েও দেখব না। মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে... কারণ তারা মনে করে, আমি অন্যদের থেকে আলাদা। সেই বিশ্বাস আমি ভাঙতে পারি না। ভাঙবও না।’... ঠিক তার পরের বিধানসভা নির্বাচন। ১৯৯৯। জিজ্ঞেস করা হল, প্রয়োজনে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট? বলেছিলেন, ‘লোকে বলে রাজনীতিটা স্কাউন্ড্রেলদের খেলা। আপনার উপর নির্ভর করছে আপনি ভদ্রলোক থাকবেন, নাকি স্কাউন্ড্রেল হবেন। কেউ যদি যেচে স্কাউন্ড্রেল হতে চায়... আটকানো যায় না। তবে আমি একজন স্কাউন্ড্রেলের সঙ্গে জোট বাঁধব না। ওই লোকটা অটলবিহারী বাজপেয়ির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটা ক্ষমাহীন অপরাধ। গ্যারান্টি কি ভবিষ্যতেও করবে না?’
শারদ পাওয়ার তখন কংগ্রেসে। বিদেশিনী ইস্যু মাথাচাড়া দেয়নি। অর্থাৎ, সোনিয়া গান্ধীর নামে গাল পেড়ে দল ছাড়েননি তিনি। ১৩ মাসের অটলবিহারী বাজপেয়ি সরকারকে মাত্র এক ভোটে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে শারদ পাওয়ারের ভূমিকাই প্রবল বলে মনে করা হয়। এখন সময় বদলেছে। বালাসাহেব এখন অতীত। একজন কার্টুনিস্ট। শিল্পী। মারাঠা জাত্যাভিমানের লড়াইয়ের সেনাপতি। ‘সরকার’। ঠিক এই কারণে লোকে শিবসেনাকে মনে রাখে... ভোট দেয়। দলটা বাল থ্যাকারের। যে ভোট শিবসেনা পায়, তার বেশিটাই ওই গেরুয়া গায়ে, রুদ্রাক্ষের মালা পরা লোকটার লেগাসির জন্য। শুধু উদ্ধব থ্যাকারে বা আদিত্য থ্যাকারের ক্যারিশমায় আজকের দিনে কি ৫৬টা আসন শিবসৈনিকরা পেতে পারে? তর্কের ব্যাপার। কিন্তু সে যেভাবেই হোক, পেয়েছে। এবং এবার হয়তো দু’টোই হচ্ছে—মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে ‘পরিবারে’র কেউ, আর শারদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট। অন্তত এনসিপি প্রধানের দাবি মানলে তো তাই মনে হচ্ছে। কংগ্রেস ও এনসিপি থেকে একজন করে উপ মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনার। অর্থাৎ, বাল থ্যাকারে যে আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন... এই পরিবার ক্ষমতার রসায়নের মধ্যে ঢুকে পড়লে মানুষের মধ্যে থেকে সেই বিশ্বাসযোগ্যতাটা চলে যাবে, সেই ভাবনাটাও আজ অতীত হতে বসেছে। হয়তো উদ্ধব থ্যাকারে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিংবা আদিত্য। আবার বিজেপিও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। মহারাষ্ট্রজুড়ে কেমন একটা ঘোড়া কেনাবেচার গন্ধ। এর উপর বিজেপি আরও বলছে, এখনও সেনার জন্য দরজা খোলা। হাতে ১১৯টি আসন নিশ্চিত। শিবসেনা জোটে যোগ দিতে চাইলে দিতেই পারে। কিন্তু তার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এটা হল আপাতত মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি। যার কি খুব প্রয়োজন ছিল? উদ্ধবরা যদি মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে প্রাণপণ দড়ি টানাটানি না করতেন, তাহলে এতদিনে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন হয়ে যেত। আসলে ৫৬টি আসন ঝুলিতে চলে আসার পর শিবসেনা ভাবল, এই তো সুযোগ। ১০৫টা আসন নিয়ে বিজেপি একা সরকার গঠন করতে পারবে না। শিবসেনা যদি সমর্থন না করে, তাহলে হয় কংগ্রেস কিংবা এনসিপির সঙ্গে ওদের জোট বাঁধতে হবে। যা সম্ভব নয়। ২৯টি নির্দলের সবাইকে রাজি করাতে পারলেও ম্যাজিক ফিগার ১৪৫-এ পৌঁছনো যাবে না। ব্যাস! শিবসেনা দাবিতে অনড়... মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারই চাই। পুরো পাঁচ বছর না হোক, আড়াই বছর হলেও চলবে। আর বিজেপির গোঁ, দেবেন্দ্র ফড়নবিশই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
শিবসেনা আসলে একটা বিষয় স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিল... হয় এবার নয় নেভার। আর দর কষাকষির ঘোরে উদ্ধবরা ভুলে গিয়েছিলেন, তাঁরা আসলে দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ভিতেই কুড়ুল মেরে দিয়েছেন। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-এনসিপিও পুতুল নাচন নাচাচ্ছে। এমন অবস্থায় যদি সরকার গঠন না হয়ে মহারাষ্ট্রে ফের বিধানসভা ভোট করাতে হয়, তার দায় পুরোটাই চাপবে তাঁদের উপর। প্রত্যক্ষ দায় যদি সেনার হয়, বিজেপিও কিন্তু ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে থাকতে পারবে না! কুমিরছানার মতো দিনের পর দিন তারা একটাই ছবি দেখিয়ে যাচ্ছে—‘সব ঠিক আছে’। বেকারত্ব, কমতে থাকা জিডিপি, বাজারে নগদের ঘাটতি, উধাও হয়ে যাওয়া শিল্প-সম্ভাবনা... তাও তাদের দাবি ‘সব কুছ ঠিক হ্যায়’। ভোটার কিন্তু বোকা নয়। আর লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের গঠনতন্ত্রটাও আলাদা। প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদি। তার বিকল্প কোনও মুখ ভারতের ভোটাররা খুঁজে পাননি। তাই বিজেপিতেই ভোট-ভরসা। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন নিজের রাজ্যের ব্যাপার। ঘরের ব্যাপার। বিকল্প অনেক বেশি। ছবিটা পরিষ্কার, ওভার কনফিডেন্সের চোরাবালিতেই ডুবতে শুরু করেছে বিজেপি। তারা মনে করছে, যেখানে হাত দেব সোনা ফলবে। তা কিন্তু হচ্ছে না! তাই মহারাষ্ট্রে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ ডজন ডজন সভা করেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেননি। এখনও অমিত শাহ কী ভেবে রেখেছেন জানা নেই। ধরে নেওয়া যেতেই পারে কোনও প্ল্যান বি রয়েছে। আপাতত সেটা সামনে আসেনি। বরং শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের মধ্যে নিত্য বৈঠক চলছে। ছকটা হয়েছে। এবার কাঠামোটা বানাতে হবে। যেনতেনপ্রকারেণ সরকার গড়তেই হবে—এই মনোভাব থাকলে বিজেপি কিন্তু শিবসেনাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে দিত। তা তারা করেনি। বরং এনসিপি-কংগ্রেস তেমন একটা টার্গেট নিয়েই ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ যখন মিলেছে সদ্ব্যবহার করো। এখানেও আর একটা ‘কিন্তু’ রয়েছে। সেটা কী? ধরা যাক সরকার হয়ে গেল। তারপর? কেউ বলছে এই বিয়ে দু’বছর টিকলে হয়! তো কেউ বাজি ধরছে, ছ’মাসও টিকবে না। রাজনীতি যতটা অঙ্ক, তার থেকে অনেক বেশি রসায়ন। একের সঙ্গে অপর শরিকের সম্পর্কটা পাঁচ বছর ধরে ঠিক কতটা মধুর থাকবে, তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ভুল হল, সব কিছু।
এবার প্রশ্ন হল উদ্ধব থ্যাকারের কি সেই রাজনৈতিক যোগ্যতা আছে? গত সাত বছর ধরে নিজেকে বাবার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারেননি তিনি। বরং দলটাকে বাল থ্যাকারের লেগাসিতে মুড়েই চালিয়ে যাচ্ছেন। আর অনুসরণ করছেন বাল থ্যাকারের পলিসি। গ্রামের দিকে নজর। কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতিশ্রুতি, মারাঠা জাত্যাভিমান। বিজেপি যা বলতে বা করতে চেয়েছে, শিবসেনা তারই উল্টো গান গেয়ে ফড়নবিশ ও মোদি সরকারকে বিরক্ত করেছে। কখনও জনসমক্ষে বিবৃতি দিয়ে, তো কখনও ‘সামনা’র সম্পাদকীয়র মাধ্যমে। উদ্ধবের এখানেও একটা ঢাল রয়েছে। স্বয়ং বাল থ্যাকারে। দু’দশক আগে তাঁকে যখন ছেলে উদ্ধব এবং ভাইপো রাজের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, ‘রাজীব গান্ধীও তো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ওঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা কী ছিল?’ রাজীব গান্ধীকে ডুবিয়েছিল তাঁর একের পর এক মিস-অ্যাডভেঞ্চার। উদ্ধব যদি মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে অন্যরকম কিছু হতেই পারে। হয়তো ভালো কিছু! সেটা সময় বলবে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের নিরিখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যে বেশ কিছুটা বিগড়ে গিয়েছে, সে নিয়ে সন্দেহ নেই। বিজেপিকে এখন আস্তিন থেকে নতুন কোনও তাস বের করতেই হবে। সেই তাস শুধু বিরোধী বা শরিক দলের জন্য হলে চলবে না। সেটা হতে হবে ভোটারকুলের জন্য।
এগুলো অবশ্যই পর্দার আড়ালে থাকা ছবি। সামনের ছবিটা হল, কংগ্রেস হাত মেলাচ্ছে শিবসেনার সঙ্গে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কারও হাত ধরা যায়, এটাই আপাতত বিরোধী দলগুলির এজেন্ডা। শারদ পাওয়ারের মিষ্টি কথায় শিবসেনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছেড়েছে। লোকসভার অধিবেশনে তারা এবার বসছে বিরোধী বেঞ্চে। আর দূরেরটা দেখলে? বিজেপি কিন্তু শক্তি হারাচ্ছে। আরও সোজাভাবে বলতে গেলে শরিকরা সরে যাচ্ছে। শিবসেনা সরে যাওয়ার পর জেডিইউ ছাড়া তেমন শক্তিশালী শরিক আর এনডিএতে নেই। সংখ্যায় হয়তো প্রচুর, কিন্তু ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রভাব ফেলার ক্ষমতা দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। জয়ললিতা বেঁচে থাকাকালীন তাও এআইএডিএমকের কিছু জোর ছিল। এখন নেই। বিধানসভা ভোটগুলিতে শরিকহীনতার প্রমাণ পাচ্ছে বিজেপি। এই প্রবণতা আরও বাড়বে। মহারাষ্ট্রই তার পথনির্দেশক। বন্ধুসুলভ আচরণ নয়, শরিকদের উপর দাদাগিরিটাই মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে বিজেপির। অভিভাবক হতে গেলে অনেক সহনশীল হতে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। লোকসভায় তিন শতাধিক আসনে বলীয়ান বিজেপি সেসব রাজনৈতিক নীতিকথা ভুলেছে। প্রথম ইউপিএ সরকারের সময় ডিএমকে সুপ্রিমো এম করুণানিধি দেখা করতে এলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজে নেমে আসতেন পোর্টিকোয়। দাঁড়াতেন গাড়ির সামনে। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। শরিক দলের নেতাকে গাড়ির দরজা থেকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে না গেলেও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত না। কিন্তু তিনি সেটাই করতেন জোট-রাজনীতির খাতিরে।
এটাই শিক্ষণীয়। আজ বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার মতো শক্তিশালী বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নেপথ্যে অবশ্যই শারদ পাওয়ার। সেই পাওয়ার, যিনি ’৮২ সালে টেক্সটাইল কর্মীদের ধর্মঘটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন বালাসাহেব থ্যাকারের সঙ্গে। কিন্তু আদর্শে কট্টর বাল থ্যাকারে পরবর্তীকালে রাজনীতির মুদ্রায় শারদ পাওয়ারের উল্টো পিঠ হয়ে যান। যা কোনওদিন মিলতে পারে না। সেনা সুপ্রিমোর জীবদ্দশায় তা মেলেওনি। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরিরা? পদবিটা এক হতে পারে। চরিত্র নয়। তাই এই শারদ পাওয়ারই এখন লেজে খেলাতে শুরু করেছেন শিবসেনাকে। নিন্দুকে বলছে, দিল্লি থেকে নির্ঘাত হুমকি এসেছে। এনসিপির অজিত পাওয়ার ও প্রফুল্ল প্যাটেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জালে পড়েছেন। আয়কর দপ্তরের হানা শুরু হয়েছে। এর থেকে বাঁচতে গেলে কিছু তো আত্মত্যাগ করতেই হবে। তাই শারদ পাওয়ার শেষ মুহূর্তে কোনদিকে যান, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
যদি বাল থ্যাকারে বেঁচে থাকতেন...! 
19th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
বিএনএ, আসানসোল: ডিসেম্বরের শুরুতে জাঁকিয়ে শীত না পড়লেও দুর্গাপুর ব্যারেজ সহ চিত্তরঞ্জনের নানা ঝিল ও মাইথন জলাধারে পরিযায়ী পাখির দল ভিড় জমাতে শুরু করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে পরিযায়ী পাখির আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ফের তাদের সংখ্যা বাড়ছে।   ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধানের নাড়া পোড়ানো নিষিদ্ধ করল রাজ্য সরকার। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ধান কাটার পর নাড়া তুলে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ধানের নাড়া পোড়ানোর জন্যই দূষণ মারাত্মক আকার নিচ্ছে। ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলায় কার্যত দিশেহারা গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট মেট্রোয়
কলকাতা মেট্রোয় ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তার জেরে কিছুক্ষণের জন্য টানেলেই ...বিশদ

08:21:00 PM

অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM