Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। দর্শকদের মধ্যে তাই নিয়ে চলছে ফিসফিসানি। একজন দর্শক-শ্রোতা অপর একজনকে বললেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে পলিটিশিয়ানরা তাঁকে কী চোখে দেখতেন!’ অপরজন বললেন, ‘হ্যাঁ, উনি যে ব্যথা দিয়ে গিয়েছেন তা এখনও পলিটিশিয়ানরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।’ প্রথম জন বললেন, ‘আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে, ওনাদের আরও টাইট দিয়ে যেতেন।’ দ্বিতীয় জন বললেন, ‘মনে আছে, সেই সময় তাঁকে তাড়ানোর জন্য পলিটিশিয়ানদের সে কী দৌড়ঝাঁপ!’ দ্বিতীয় জন বললেন, ‘বিরোধী নেতানেত্রীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কত নাক শোঁকাশুঁকি করেছিলেন।’ প্রথম জন বললেন, ‘ইতিহাস সব মনে রেখেছে।’
যথাসময়ে শুরু হল স্মরণসভা। প্রথম বক্তা ছিলেন তাঁর কিছুটা ঘনিষ্ঠ। তাঁর কথায় উঠে এল মানুষ সেশনের জীবনের নানা দিক। বললেন, ‘উনি ছিলেন একজন অকুতোভয় মানুষ। সেই জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে তিনি সরকারি পদের দায়িত্ব সামলেছেন। সেদিন সেই তরুণ সাহসী, সৎ কর্মীটি নেহরুর নজরে পড়েছিলেন। কর্মজীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি ছিলেন তামিলনাড়ুর পরিবহণ কমিশনার। দায়িত্ব নিয়ে পড়লেন মহা ফাঁপড়ে। তিনি না জানেন গাড়ি চালাতে, না জানেন গাড়ি সারাতে। সেদিনই ঠিক করলেন, পরিবহণ কমিশনার হলে এগুলো জানা দরকার। দু’মাসের মধ্যে গাড়ি চালানো এবং গাড়ি সারানোর কাজ শিখে নিলেন। একেবারে গোড়া থেকেই তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন আজীবন সৎ থাকবেন। পরবর্তীকালে জুনিয়র অফিসারদের বলতেন, ‘একজন সরকারি আধিকারিকের একটা গুণই থাকা দরকার। সেটা হল সত্ত্ব গুণ। তাহলে জীবনে কোনও গ্লানি থাকবে না।’ এই সৎপথে থেকেই তাঁর একের পর এক উত্থান।
অথচ তিনি নিজের অস্তিত্বের মধ্য থেকে তাঁর মাটির গন্ধটাকে কোনওদিন মুছে ফেলেননি। কেরলের পালাক্কাড়ের সেই নরম, ভক্তিভাবালু মানুষটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত অন্তরে একইরকম ছিলেন। ১৯৫৫ সালের তামিলনাড়ু ব্যাচের এই আইএএস মানুষটির কঠোরতা আমরা দেখতে পাই তাঁর কেরিয়ারের গোড়া থেকেই। তামিলনাড়ুতে তখন চলছে হিন্দি ভাষা বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলন দমন করার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেন তৎকালীন কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী এম ভক্তবৎসলম। কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার চাইছিল দক্ষিণী রাজ্যগুলিতেও জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিতে। এতেই আগুন জ্বলে ওঠে রাজ্যজুড়ে। সেশন কঠোর হাতে সেই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তিনি তৎকালীন বিরোধী দল ডিএমকের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। পরের নির্বাচনে ডিএমকে ক্ষমতায় এলে তিনি দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন।
তাঁকে ভালোবাসতেন জওহরলালের নাতি রাজীব গান্ধীও। তখন তিনি রাজীবের সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর। একবার এক অনুষ্ঠানে রাজীব গান্ধীকে খাবার দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটা সিঙ্গারা জাতীয় কিছু একটা তুলে রাজীব মুখে দিতে যাচ্ছিলেন। সেটা দেখে সেশন তাঁর হাত থেকে সেটি কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘স্যার, এভাবে কোনও খাবার আপনার খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এই খাবারটির গুণমান পরীক্ষিত নয়।’ সেদিন রাজীব মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’। রাজীব তাঁকে প্রমোশন দেন। পরিবেশ সচিবের পদ থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন প্রতিরক্ষা সচিবের পদে। ভি পি সিং তাঁকে নিয়ে আসেন যোজনা কমিশনে। একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তিনি আজীবন নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করতে উঠে বললেন, ‘একবার তিনি বসে একটি গান শুনছিলেন। গানটি তখনকার খুব বিখ্যাত গান। ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত’। তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন তাঁকে বললেন, ‘আপনার মতো মানুষ এমন গান শুনছেন?’ উনি হেসে বলেছিলেন, ‘আমার শুনতে শুনতে মনে হল গানের কথাটা ভুল লেখা হয়েছে। ওটা হওয়া উচিত- তু চিজ বড়ি হ্যায় ভ্রষ্ট ভ্রষ্ট।’ রাজনীতিকদের এভাবে ব্যঙ্গ করে নিজেই হা হা করে হেসে উঠেছিলেন। অধিকাংশ ‘ভ্রষ্ট’ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে তিনি জেহাদে নেমেছিলেন। জেহাদ না বলে ধর্মযুদ্ধ বলাটাই শ্রেয় হবে। একজন সৎ আমলা সবসময় মন্ত্রী বা নেতাদের বশংবদ হন না। তাঁদের কাজে বা পরিকল্পনায় ভুল থাকলে মেরুদণ্ডসম্পন্ন আমলারা প্রতিবাদও করেন। হয়তো অনেক সময় সেই প্রতিবাদ শাসকের ক্ষমতার কাছে হার মেনে যায়। তাঁর সঙ্গেও বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্ঘাত বেধেছিল। বহুক্ষেত্রেই এইসব সঙ্ঘাত আদর্শগত। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বেধেছিল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রনের। তিনি বিরোধিতা করেছিলেন সর্দার সরোবর প্রকল্পের। পরিবেশ সচিব থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল মন্ত্রী ভজনলালের। অনেক সময় অনেকের মনে হয়েছে তিনি অহংকারী, উদ্ধত, আত্মম্ভর। কিন্তু মনে রাখা দরকার ধর্মযোদ্ধারা এমনই নির্ভীক ও আত্মবিশ্বাসী হন।
আমরা তাঁকে জানি একজন বলিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে। কিন্তু তিনি আজীবন সত্যের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি যখন হার্ভার্ডে পড়তে যান সেখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর পরামর্শেই চন্দ্রশেখর তাঁকে নির্বাচন কমিশনারের পদে নিয়ে আসেন। তাঁকে ডেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি প্রথমে ঠিক করতে পারেননি কী করবেন। দায়িত্ব কি নেবেন! উত্তর খুঁজতে সোজা চলে গেলেন কাঞ্চীপুরমের শঙ্করাচার্যের কাছে। সব কথা বললেন। বললেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করলেই সারা দেশের রাজনীতিকরা আমার উপর চটে যাবেন। আমি সেটা চাই না। আমি সংবিধান মেনে কাজ করলেই সবাই রে রে করে উঠে আমার শত্রু বনে যাবেন। আমি সেটা চাই না।’ শঙ্করাচার্য তাঁকে গীতার শ্লোক বললেন। ধর্মপালন, ধর্মরক্ষা এবং সত্যের শক্তির কী মাহাত্ম্য বোঝালেন। মনস্থির করে ফেললেন সেশন।
দায়িত্ব নিয়েই তালিকা করতে বসলেন। কতরকম ভাবে নির্বাচনী দুর্নীতি হয়। তালিকা দীর্ঘ হতে থাকত। ঠিক করলেন এগুলিকে নির্মূল করে ভারতীয় নির্বাচন পদ্ধতিকে কালিমামুক্ত করবেন। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা, ছাপ্পা-রিগিং, গুন্ডাগার্দি বন্ধ করে নির্বাচনকে স্বচ্ছ করা এবং ভোটারদের একশো শতাংশ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এই পণ নিয়ে তিনি কাজ শুরু করে দেন। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি থেকে ভোটারদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ তিনিই শুরু করেছিলেন। আজ নির্বাচন ব্যবস্থা যতটুকু স্বচ্ছ হয়েছে, তার পিছনে একমাত্র ব্যক্তি হলেন সেশন। অনেকে তাঁকে বলতেন হোলি টেরর। বহু রাজনীতিকের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন। মেগালোম্যানিয়াক, বুলডগ, খ্যাপা কুকুর যে যা ইচ্ছে তাঁকে বলেছেন। বহু রাজনীতিক আতঙ্কে তাঁদের সৌজন্যটুকুকে মুছে ফেলেছিলেন। মানুষ বুঝেছিলেন, তিনি দুষ্টু মৌমাছিদের চাকে ঢিল মেরেছেন। তিনি নিজেও ব্যাপারটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতেন। সাংবাদিকদের তিনি মজা করে বলতেন। ‘আমি রাজনীতিকদের দিয়ে ব্রেকফাস্ট করি।’ তিনি বলতেন, ‘খেলার মাঠে যেমন রেফারি, তেমনই নির্বাচনী ময়দানে আমি। রেফারি যেমন কেউ ভুল করলে ফাউল বা অফসাইড দেন, আমিও তেমনই দুর্নীতি বা অন্যায় দেখলেই বাঁশি বাজাই।’
তৃতীয় ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করতে উঠে বললেন, ‘সেদিন সেশন সাহেব ভোটার কার্ড চালু করার কথা বলতেই অনেকে প্রমাদ গণেছিলেন। তাঁরা বুঝেছিলেন এতে রিগিং, অবাধ ছাপ্পা বন্ধ হয়ে যাবে। কাঁধে বন্দুক নিয়ে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আর ভোট করা যাবে না। একচেটিয়া ভোট লুট বন্ধ হয়ে যাবে। জ্যোতি বসু, মুলায়ম সিং যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব সহ অনেকেই পরিচয়পত্রের বিরোধিতা শুরু করলেন। তাঁরা বুঝেছিলেন ওই ভদ্রলোক তাঁদের পাকা ধানে মই দিতে এসেছেন। সেশনও কম যান না। রাজনীতিকরা বুনো ওল হলে তিনি বাঘা তেঁতুল। তিনি বললেন, ‘পরিচয়পত্র না হলে তিনি নির্বাচন হতে দেবেন না। সব স্থগিত করে দেবেন।’ অনেকেই দল বেঁধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন। কোর্ট জানিয়ে দিল মানুষের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর ক্ষমতায় থাকার শেষ ভাগে এসে শুরু হয়ে গেল ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদানের কাজ। সেই আনন্দ নিয়েই তিনি অবসর নিয়েছিলেন। সব কাজ তিনি করে যেতে পারেননি। কিন্তু অন্ধকারের শেষে এনে দিয়েছিলেন আলোর ইঙ্গিত। তাঁর আমলেই সারা দেশ দেখেছিল মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কাকে বলে। সেই কন্ডাক্ট সেই সময় বহু রাজনীতিকের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল। তাঁদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল। তাই তাঁরা সেশনকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁরা বললেন, ‘নির্বাচন কমিশনে সেশন স্বেচ্ছাচার চালাচ্ছেন। এটা সেশনোম্যানিয়া। ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এমন ‘স্বেচ্ছাচারী’ মনোভাব না দেখাতে পারেন, বা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তার জন্য একাধিক নির্বাচন কমিশনারের প্রয়োজন।’ তারপর থেকেই নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল তিনজনের। অথচ রাজনৈতিক নেতারা কিন্তু বলেন না, একজন মুখ্যমন্ত্রী বা একজন প্রধানমন্ত্রী যাতে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তার জন্য একাধিক মুখ্যমন্ত্রী বা একাধিক প্রধানমন্ত্রী দরকার।
গত কয়েক বছর ধরে তিনি লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনী। বোঝাই যায়, সেই আত্মজীবনী একটা টাইম বোমার মতো। সে কথা জানতে পেরে তাঁর কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী তাঁকে বলেছিলেন, ‘এটা ছাপা হোক, সকলে অনেক সত্যি কথা জানতে পারবেন।’ তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘এই আত্মজীবনী আমি নিজের আনন্দের জন্য লিখেছি। এটা প্রকাশিত হলে অনেকেই অখুশি হবেন।’ সেই আত্মজীবনী প্রকাশিত হলে কার কার মুখোশ যে খসে পড়বে আমরা তা জানি না! 
18th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের সই ও লেটারহেড জাল করে ভুয়ো নার্সিং স্কুল খুলে প্রতারণা ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে কিছুদিন আগেই অভিযোগ করা হয়েছিল বিধাননগর উত্তর থানায়। এবার রানিগঞ্জ থানায়ও একই অভিযোগ জানিয়ে অবিলম্বে লোক ঠকানোর এই ব্যবসা ...

 বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ছ’ঘণ্টার জায়গায় চারদিন! হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনই অবস্থা হচ্ছে ডেঙ্গু কবলিত কলকাতা লাগোয়া দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে। কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছিল, ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে সরকারি হাসপাতালগুলির ঢিলেমি ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর (পিটিআই): নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সংসদের বাইরে আরও সরব কংগ্রেস। দলের দুই অন্যতম প্রধান মুখ রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোশ্যাল সাইটে এই বিলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। তাঁদের দু’জনের মতে, গণতন্ত্র ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্র।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মানসিক অস্থিরতার জন্য পঠন-পাঠনে আগ্রহ কমবে। কর্মপ্রার্থীদের যোগাযোগ থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২২: অভিনেতা দিলীপকুমারের জন্ম
১৯২৪: সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জন্ম
১৯৩৫: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪২: সঙ্গীত পরিচালক আনন্দ শংকরের জন্ম
১৯৬১: অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তীর মৃত্যু
১৯৬৯: ভারতীয় দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দের জন্ম
২০০৪: সঙ্গীতশিল্পী এম এস শুভলক্ষ্মীর মৃত্যু
২০১২: সেতারশিল্পী রবিশঙ্করের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪২ টাকা ৭২.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.১৯ টাকা ৯৫.৫৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৫ টাকা ৮০.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩ দিবা ১০/৫৯। রোহিণী অহোরাত্র। সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৫ গতে ১২/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৮/২২ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৫০ গতে ১০/১০ মধ্যে পুনঃ ১১/৩০ গতে ১২/৫০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৯ গতে ৪/৩০ মধ্যে।
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১১/৩৯/৪১ দিবা ১০/৫১/২৭। কৃত্তিকা ০/৪১/৪৪ প্রাতঃ ৬/২৮/১৭, সূ উ ৬/১১/৩৫, অ ৪/১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৮/৩২ মধ্যে ও ১০/৩৩ গতে ১২/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৬/৪১ মধ্যে ও ৮/২৯ গতে ৩/৩৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৫১/২ গতে ১০/১০/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৫১/২ গতে ৪/৩১/১৯ মধ্যে।
১৩ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোচবিহারের শীতলকুচির ডাকঘড়া বাজারে ৩টি বোমা উদ্ধার 

10:46:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল: উত্তর-পূর্বে বনধ, বাতিল একাধিক ট্রেন 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে ঘিরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য। অসম, ত্রিপুরাজুড়ে ...বিশদ

10:39:02 AM

বাগুইআটিতে যুবক খুন 
বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে ড্রেন থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। মৃতের ...বিশদ

10:22:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, বুধবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইমের ...বিশদ

10:06:24 AM

কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রীর
‘বুড়োদের থেকে পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ মঙ্গলবার, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে এই ...বিশদ

09:40:00 AM

 মুম্বই মেলে অত্যাধুনিক রেক
যাত্রীদের সফর আরও সুরক্ষিত এবং অধিক স্বাচ্ছন্দ্যযুক্ত করতে হাওড়া-মুম্বই সিএসএমটি-হাওড়া ...বিশদ

09:30:00 AM