Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

দেশের ভোট পাটিগণিতে উত্তরপ্রদেশের পরই স্থান মহারাষ্ট্রের। রাজ্য ভেঙে উত্তরাখণ্ড গঠনের পরও উত্তরপ্রদেশে এখনও লোকসভার ৮০টি আসন আছে। আর লোকসভার আসন সংখ্যার এই বিচারে দ্বিতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র, সেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৪৮টি। দিল্লির ক্ষমতা দখলের যুদ্ধে তাই ওই দুই রাজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ এখন প্রহর গুনছে দ্রুত রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের। ঠিক তখনই আবার মহারাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিতর্কিত ৩৫৬ ধারার প্রয়োগ এবং রাজ্যপালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নে আন্দোলিত হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। যার অভিঘাতে কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গিয়েছে অযোধ্যার রামমন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় এবং এদেশে নির্বাচনকে পেশিশক্তির প্রভাব থেকে বের করে আনার প্রথম নায়ক অকুতোভয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের মৃত্যু। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রামমন্দির গড়ার পথ যেমন উজ্জ্বল হয়েছে, ঠিক তেমনি ভুললে চলবে না সেশন সাহেবই প্রথম ব্যক্তি যিনি ভারতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে আপসহীন প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি সচিত্র ভোটার তালিকা ও এপিক ভোটার কার্ড। ভারতীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে যার ভূমিকা অপরিসীম। সেই সঙ্গে কোনও সাংবিধানিক পদের ক্ষমতা ও গুরুত্ব কতটা তাও তিনি তাঁর কার্যকালে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন। এবং, তা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আঘাত করেছিলেন প্রভাবশালীদের সাজানো বাগান তথা ক্ষমতার মধুভাণ্ডে। আজ থেকে তিন দশক আগে কাজটা খুব সহজ ছিল না। এভাবেই প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শুধু বিরাগভাজনই তিনি হননি, কেউ আবার তাঁকে পাগল, বদ্ধ উন্মাদ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। কিন্তু, কোনও কিছুর কাছেই নতিস্বীকার না করে লক্ষ্যে অবিচল থেকে ভোট পরিচালনার কাজকে নিষ্কলুষ করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। যাতে ভারতীয় গণতন্ত্র ও ভোটপ্রক্রিয়া অনেক পরিণত হয়েছে। সেজন্যই টি এন সেশনকে সোজা মেরুদণ্ডের আপসহীন আমলা হিসেবে দেশবাসী মনে রাখবে।
বর্তমান নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা, তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন, তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান! মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা জোটের পথচলা শুরু গত ১৯৮৯ সালে। বাজপেয়ি-আদবানিদের আমলে। সেই দীর্ঘ তিরিশ বছরের সম্পর্ক চুরমার হওয়ার একমাত্র কারণ উন্নয়ন নিয়ে দ্বিমত কিংবা রাজ্যের স্বার্থরক্ষা নিয়ে বিরোধ নয়, ছোট শরিক শিবসেনা এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদের হিস্যা চায়। অঙ্কটা কী রকম? মুখ্যমন্ত্রী হবেন আড়াই বছর ফড়নবিশ, আর আড়াই বছর উদ্ধব অথবা পুত্র আদিত্য। বালাসাহেবের নাতি তথা পরিবারের প্রথম কোনও নির্বাচিত সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়া আর কোনও কিছু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ। আর সেইজন্যই বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে এবার শারদ পাওয়ারের এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন উদ্ধব ও আদিত্য থ্যাকারে। শনিবারই এই নয়া জোটের নেতাদের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলেও, শেষপর্যন্ত তা হয়নি। কংগ্রেস আবার বিষয়টিকে ঝুলিয়ে দিয়েছে। রবিবার দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে শারদ পাওয়ারের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের দিকেই সবাই তাকিয়ে। শোনা যাচ্ছে, তিন দলের আলোচনায় সরকার গঠনের যে ফর্মুলা তৈরি হয়েছে তাতে শিবসেনাই নাকি পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবে। অন্যদিকে, এনসিপি ও কংগ্রেস পাবে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব। এখন সবকিছুই নির্ভর করছে রাজ্যপাল, কংগ্রেস এবং অবশ্যই শেষ প্রহরে মোদি-অমিত শাহ জুটির ওস্তাদের মার কোনও অঘটন ঘটায় কি না তার উপর।
আর এই ভোট-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েই শুরু হয়েছে চাপান-উতোর। যদিও যুদ্ধে এবং রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু অথবা শত্রু বলে কিছুই হয় না। তবু, আসন ভাগাভাগি করে যে জোট নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেল, তাকে পিছনে ফেলে, দীর্ঘ ৩০ বছর যারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েছে, একে অপরকে উচ্চকিত আক্রমণ করেছে, তারাই এখন গা ঘষাঘষি করছে, গদি দখলের নেশায়। আর এটাই রাজনৈতিক মূল্যবোধকে আঘাত করার পক্ষে যথেষ্ট নয় কি? সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি ছিল একে অপরের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী। এককথায় রাজনৈতিক শত্রু। সেই ১৯৮৯ সাল থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে বাল থ্যাকারে ও তাঁর শিবসেনার কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক। রাজনীতির ময়দানে তাদের আক্রমণ ও পারস্পরিক শত্রুতা অনেক সময়ই শালীনতার ধার পর্যন্ত ধারেনি। একদা সোনিয়া গান্ধীকে প্রায় প্রতিদিনই বিদেশিনী বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রয়াত বালাসাহেব ও তাঁর অনুগামীরা। যদিও আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিভা পাতিল ও প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন দিতে কিন্তু পিছপা হননি বাল থ্যাকারে। তাই চিরদিনই রাজনীতির সম্পর্ক সরলরেখা মেনে চলে না। উত্থান-পতন, চড়াই-উতরাই তাই এই রাস্তার সহজাত উপকরণ।
দেশের ইতিহাসে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা যেখানেই প্রয়োগ হয়েছে তা কখনও সর্বসম্মত হয়নি। ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ছিল জলভাতের মতো। ইদানীং তা কমেছে সন্দেহ নেই। তবু, রাজ্যপালের চটজলদি সুপারিশ এবং ব্রাজিল সফরে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্তে সিলমোহর, প্রমাণ করে যে স্ক্রিপ্টটা বোধহয় আগেই দিল্লিতে লেখা হয়ে গিয়েছিল। মোদি ও অমিত শাহের নেপথ্য কৌশলে শুধু যোগ্য সঙ্গতটুকু দিয়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে এক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। উঠেছেও তাই। কেন রাজ্যপাল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময় দিয়েও দুপুর না হতেই দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠালেন, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। গত ২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ফল প্রকাশিত হয় ২৪ অক্টোবর। এরপর ইতিমধ্যেই প্রায় তিন সপ্তাহেরও বেশি কেটে গিয়েছে। মুম্বই তথা মহারাষ্ট্র হচ্ছে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী। সারা দেশের ব্যবসায়িক উত্থান-পতন তথা আর্থিক লেনদেনের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে মুম্বই। সেই শহরে শুধুমাত্র কোন দলের নেতা মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে এমন নাছোড় বিরোধ এবং অচলাবস্থা মোটেই অভিপ্রেত নয়, বিশেষত, যখন দেশের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। ভারতজুড়ে উৎপাদন মার খাচ্ছে, পণ্যের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা বাড়ছে না, যার নিটফল—কাজ হারাচ্ছেন অগণিত কর্মক্ষম মানুষ।
একথা বলাই বাহুল্য, মহারাষ্ট্রে মানুষ কিন্তু সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি-শিবসেনা জোটের পক্ষেই জনাদেশ দিয়েছিল। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপি ১৫০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছে ১০৫টি আসনে। আর শিবসেনা ১২৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। অর্থাৎ বিজেপি-শিবসেনা জোট কিন্তু মোট ১৬১ আসনে জিতে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতাই পেয়েছিল। সরকার গড়তে তাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বরং চিন্তা ছিল হরিয়ানা নিয়ে। কিন্তু ওই যে বললাম যুদ্ধ, আর রাজনীতিতে পাটিগণিতের সরল নিয়ম কখনও কখনও মেলে না। মহারাষ্ট্রেও তাই হল। ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করতে মরিয়া উদ্ধব থ্যাকারে ভোটের ফল বের হতেই স্বমূর্তি ধারণ করলেন। বললেন, যেহেতু অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে ভোটের আগেই ঠিক হয়েছিল মন্ত্রিসভায় দু’পক্ষের প্রতিনিধিত্ব হবে ৫০-৫০, তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদকেও আড়াই বছর করে ভাগ করতে হবে। এই জটিলতা তিন সপ্তাহেও কাটেনি। উল্টে ২৪ অক্টোবর ফল বেরনোর পর থেকে মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস, শিবসেনা এবং শারদ পাওয়ারের এনসিপি ক্ষমতা দখলের সঙ্কীর্ণ রাজনীতির সেই মেঠোপথ ধরেই ক্রমাগত কানাগলিতে ঘুরপাক খেয়ে অবশেষে একটা নয়া ফলপ্রসূ জোট গড়ার পথে এগতে পেরেছে। তবে তারা সরকার গড়ার ডাক পাবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
ভারতীয় সংবিধানে পরিষ্কার করে লেখা নেই সরকার গড়ার ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিলে রাজ্যপাল কোন দলকে কতটা সময় বরাদ্দ করবেন। শিবসেনাকে যতটুকু সময় দেওয়া হয়েছে শারদ পাওয়ারের এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে তার চেয়েও কম। উল্টে রাত সাড়ে ৮টা যেখানে ছিল ডেডলাইন, সেখানে দুপুরবেলাই পাঠিয়ে দেওয়া হল রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ। তাও আবার বিধানসভা ভঙ্গ না করে বিধায়ক কেনাবেচার মধ্যে দিয়ে যে কোনও সময় সরকার গড়ার পথকে সুগম রেখেই। ঠিক সেই সুযোগেই একটি বিকল্প শক্তি নতুন জোট গড়ে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার দিকে এগচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতা দখল সম্ভব হলেও আগামী পাঁচ বছর এই বিপরীত মতাদর্শের তিন দলের জোট সরকার স্থায়ী হবে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। ভয়টা সেই কারণেই।
17th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর (পিটিআই): নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সংসদের বাইরে আরও সরব কংগ্রেস। দলের দুই অন্যতম প্রধান মুখ রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোশ্যাল সাইটে এই বিলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। তাঁদের দু’জনের মতে, গণতন্ত্র ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্র।   ...

মাদ্রিদ ১০ ডিসেম্বর (পিটিআই): গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমণের মাত্রা কমিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উচ্চ প্রশংসিত হল ভারত। মঙ্গলবার মাদ্রিদে জলবায়ু সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলন সিওপি-২৫’-এ ‘ক্লাইমেক্স চেঞ্জ পারফরমেন্স ইনডেক্স (সিসিপিআই) প্রকাশিত হয়। ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

গুয়াংঝৌ, ১০ ডিসেম্বর: বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ব্যাডমিন্টনে সোনা জেতার পর ফর্ম হারিয়েছেন পিভি সিন্ধু। বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে খেতাব ধরে রাখাই লক্ষ্য গোপীচাঁদের এই ছাত্রীর। ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে বিশ্বের প্রথম আটজন খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সিন্ধুর এখন র‌্যাঙ্কিং ১৫।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মানসিক অস্থিরতার জন্য পঠন-পাঠনে আগ্রহ কমবে। কর্মপ্রার্থীদের যোগাযোগ থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২২: অভিনেতা দিলীপকুমারের জন্ম
১৯২৪: সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জন্ম
১৯৩৫: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪২: সঙ্গীত পরিচালক আনন্দ শংকরের জন্ম
১৯৬১: অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তীর মৃত্যু
১৯৬৯: ভারতীয় দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দের জন্ম
২০০৪: সঙ্গীতশিল্পী এম এস শুভলক্ষ্মীর মৃত্যু
২০১২: সেতারশিল্পী রবিশঙ্করের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪২ টাকা ৭২.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.১৯ টাকা ৯৫.৫৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৫ টাকা ৮০.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩ দিবা ১০/৫৯। রোহিণী অহোরাত্র। সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৫ গতে ১২/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৮/২২ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৫০ গতে ১০/১০ মধ্যে পুনঃ ১১/৩০ গতে ১২/৫০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৯ গতে ৪/৩০ মধ্যে।
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১১/৩৯/৪১ দিবা ১০/৫১/২৭। কৃত্তিকা ০/৪১/৪৪ প্রাতঃ ৬/২৮/১৭, সূ উ ৬/১১/৩৫, অ ৪/১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৮/৩২ মধ্যে ও ১০/৩৩ গতে ১২/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৬/৪১ মধ্যে ও ৮/২৯ গতে ৩/৩৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৫১/২ গতে ১০/১০/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৫১/২ গতে ৪/৩১/১৯ মধ্যে।
১৩ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোচবিহারের শীতলকুচির ডাকঘড়া বাজারে ৩টি বোমা উদ্ধার 

10:46:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল: উত্তর-পূর্বে বনধ, বাতিল একাধিক ট্রেন 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে ঘিরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য। অসম, ত্রিপুরাজুড়ে ...বিশদ

10:39:02 AM

বাগুইআটিতে যুবক খুন 
বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে ড্রেন থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। মৃতের ...বিশদ

10:22:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, বুধবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইমের ...বিশদ

10:06:24 AM

কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রীর
‘বুড়োদের থেকে পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ মঙ্গলবার, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে এই ...বিশদ

09:40:00 AM

 মুম্বই মেলে অত্যাধুনিক রেক
যাত্রীদের সফর আরও সুরক্ষিত এবং অধিক স্বাচ্ছন্দ্যযুক্ত করতে হাওড়া-মুম্বই সিএসএমটি-হাওড়া ...বিশদ

09:30:00 AM