Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে। অনেকের মতে, এই ঘর বদলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের গোপন রহস্য। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখলেই স্পষ্ট হবে, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ কার। জাহাজে জল ঢোকার খবর যেভাবে ক্যাপ্টেনের আগে ইঁদুর পায়, ঠিক সেইভাবেই নাকি ঘরবদলুরা বুঝে যায়, দল ডুবতে বসেছে। তাই ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবার আগে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় ইঁদুর। কিন্তু, সেই ইঁদুরের দল যখন ফের সেই জাহাজেই ওঠে? তখন রাজনীতির অঙ্ক ভয়ঙ্কর জটিল হয়ে যায়।
লোকসভা ভোটের সময় এরাজ্যে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ১০০ জন বিধায়ক যোগাযোগ করছেন। অমিত শাহ আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, লোকসভা ভোটের ফল যেদিন বের হবে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পড়ে যাবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতাদের আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা দেখে অনেকেই তখন অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছিলেন। তৃণমূল শাসনে ঘরে ঢুকে যাওয়ার সিপিএমের নেতা-কর্মীরা ভাবলেন, তৃণমূলকে বধ করার এই সুযোগ। তাঁরাও হয়তো ভেবেছিলেন, বিজেপি ভালো ফল করলেই তৃণমূলের বিধায়করা প্যারেড করে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তার জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। জারি হবে রাষ্ট্রপতি শাসন। সেই আশায় বুক বেঁধে বাম ভোট গেল রামে।
লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড় দেখে ঘাপটি মেরে থাকা সিপিএমের হার্মাদরা মাথা চাড়া দিল। তারা চলে এল বিজেপির সামনের সারিতে। তার পাশাপাশি প্রায় গোটা রাজ্যে তৃণমূলের উইকেট পড়া শুরু হল। একের পর এক পঞ্চায়েত, পুরসভা তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে গেল। কয়েকজন বিধায়কও বিজেপিতে যোগ দিলেন বটে। কিন্তু, সংখ্যাটা গেরুয়া শিবিরের দাবির ধারেকাছেও গেল না।
রাজনীতির সঙ্গে প্রকৃতির একটা জায়গায় ভীষণ মিল পাওয়া যায়। জনপ্রিয়তায়। প্রকৃতির নিয়মের নদীতে যেভাবে জোয়ার ভাটা খেলে, রাজনীতিতেও তেমনটাই চলে। রাজনীতিতে জোয়ার ভাটা আছে বলেই তো ক্ষমতার বদল ঘটে। জোয়ারের জল ধরে রাখার মতোই কঠিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসি দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিজেপির ভাটার টান শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, জোয়ারের তোড়ে ধেয়ে আসা নোনাজল বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার আকাশের বৃষ্টিতে ফসল ফলবে।
কাদের দাবি সত্যি, তা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে বাস্তবটা হচ্ছে, অধিকাংশ জেলায় ঘর ওয়াপসির দৌলতে একের পর এক পঞ্চায়েত ও পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে আসতে শুরু করেছে। আর এব্যাপারে রেকর্ড গড়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। লোকসভা ভোটের পর এই জেলাতেই সব চেয়ে বেশি দল বদলের হিড়িক পড়েছিল। আবার এখানেই সবচেয়ে বেশি ঘর ওয়াপসির ঘটনা। প্রশ্নটা হল, কেন এত দ্রুত এই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন?
ক্ষমতার লোভ বড় ভয়ঙ্কর। এই ক্ষমতার লোভেই ঔরঙ্গজেব তাঁর বৃদ্ধ পিতা সম্রাট শাহজাহানকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। এই ক্ষমতার টানেই রাজনীতির কারবারিরা নিজের আঁতুড়ঘর ছেড়ে অবলীলায় হাঁটা দিতে পারে বিরোধী শিবিরে। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের অবস্থা টলমল ভেবে দলের অনেক কেষ্টবিষ্টুই ছুটেছিলেন গেরুয়া শিবিরে। তাঁদের গলায় তখন একটাই সুর, ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’।
শুধু তৃণমূলের নয়, সিপিএমের গ্রাম ও ব্লক স্তরের অনেকেই ফের ক্ষমতা ভোগের আশায় ‘শহিদের রক্তে রাঙা’ লাল ঝাণ্ডা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন পদ্মফুল। সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই সেখানেই অবস্থান করছেন। নতুন দলে সম্মান জুটছে না, তবুও থাকছেন। কংগ্রেস এবং সিপিএম কাছাকাছি আসা, উপনির্বাচনে আসন সমঝোতার পরেও নয়। কারণ তাঁরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে ফেল করা দু’জন ছাত্রকে দেখাদেখি করে লেখার সুযোগ দিলেও পাশ মার্কস জোগাড় করা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন।
তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসির পিছনে মূলত দু’টি কারণ শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, অনেকেই ভাবছেন, লোকসভা ভোটের সাফল্য এরাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ধরে রাখতে পারবে না। দেশজুড়ে আর্থিক সঙ্কটের ধাক্কায় ‘মোদি ম্যাজিক’-এর সম্মোহনী ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। ‘আচ্ছে দিনের’ স্লোগান এখন গেরুয়া শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং। ‘কাটমানি’র মতো ইস্যুও বিজেপি কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তার উপর এনআরসি ইস্যু ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে লোকসভা ভোটের পর বিজেপিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা অনেকটাই স্তিমিত। তাই যাঁরা ভেবেছিলেন, বিজেপি এরাজ্যে ২০২১ সালে ‘ক্লিন স্যুইপ’ করবে, এই পরিস্থিতিতে তাঁরাই এখন দোলাচালে পড়ে গিয়ে ঘরে ফিরতে চাইছেন।
অনেকে আবার এও বলছেন, ছড়ি ঘোরানোর আশায় যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা এই ক’মাসেই হতাশ। তাঁদের নাকি উপলব্ধি হয়েছে, জাত খুইয়েও পেট ভরার তেমন আশা নেই। কারণ এরাজ্যেও বিজেপির উপর আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। সিপিএম এবং তৃণমূল থেকে আসা লোকজনকে তারা ঘরে জায়গা দিলেও ‘ঘরের ছেলে’ করতে চাইছে না। মারদাঙ্গার এলাকা বাদ দিয়ে বেশিরভাগ জায়গাতেই নব্যদের গুরুত্বহীন করে রেখে দিয়েছে। তাঁদের অবস্থা অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো। কেউ কেউ বলছেন, বিজেপিতে যোগদানকারীদের অবস্থা অনেকটা আমেরিকার অভিবাসীদের মতো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁদের কপালে ‘গ্রিন কার্ড’ জুটলেও নাগরিকত্ব! নৈব নৈব চ। কেউ কেউ আবার বিজেপির সুদিন এলে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন। তখন তাঁদের আমও যাবে, ছালাও যাবে। এইসব সাতপাঁচ ভেবেই নাকি ‘ঘর ওয়াপসি’।
তবে, এখানে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, বিজেপি নেতৃত্ব কি তৃণমূল নেতাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ ঠেকাতে পারছে না? নাকি চাইছে না?
একটা কথা ঠিক, ভোটের পর যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন জনপ্রতিনিধি। ওই জনপ্রতিনিধিদের অনেকে তাৎক্ষণিক জনরোষ থেকে বাঁচতেই ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’ গান গেয়েছিলেন। আর সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মারকুটে প্লেয়ার। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে তাঁদের একটাই ভাবনা, এলো মেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই। এককথায়, হার্মাদ সম্প্রদায়ভুক্ত। সেই মূলধনের জোরেই কেশপুর, গড়বেতা, পটাশপুর, ময়না, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পাত্রসায়র, ইন্দাস, দিনহাটা প্রভৃতি এলাকায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি সমানে টক্কর নিচ্ছে। কোনও কোনও এলাকায় তৃণমূলকে ঘরে ঢুকিয়েও দিচ্ছে। ফিরে আসছে বাম জমানার সেই স্মৃতি। সাধারণ মানুষ মারদাঙ্গার রাজনীতি মেনে নিতে পারছে না। শুধু সাধারণ ভোটাররাই নয়, বিজেপির একটা অংশও এসব পছন্দ করছে না।
লোকসভা ভোটে অভাবনীয় সাফল্যের পর বিজেপি নেতারা সংসার বাড়ানোর লোভে হাট করে খুলে দিয়েছিল দরজা। রক্ষীহীন সেই দরজা দিয়ে যিনিই ঢুকেছেন তাঁকেই পদ্মফুলে বরণ করা হয়েছে। কিন্তু, বিজেপি নেতারা তখন সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন, বন্যার জলে শুধু মাছ আসে না, সাপ, ব্যাঙও থাকে। দরজা খোলা পেয়ে এখানেও মাছের পিছু পিছু অনেক সাপ, ব্যাঙও ঢুকে গিয়েছে। আর তার খেসারতও বিজেপিকে দিতে হচ্ছে। শুরু হয়েছে আদি-নব্যের লড়াই। কোণঠাসা আদিরা ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। বিজেপির এখন শ্যাম রাখি, না কুল রাখি অবস্থা।
ঘটা করে তৃণমূলের নেতাদের দলে যোগদান করিয়েও তাঁদের ধরে রাখতে না পারার পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের ব্যর্থতা ক্রমশই প্রকট হচ্ছে, একথা ঠিক। কিন্তু, ‘হারাধন’রা ঘরে ফেরায় তৃণমূলের কি সবটাই লাভ হচ্ছে? কারণ যাঁদের সৌজন্যে লোকসভা ভোটে বিপর্যয়, তাঁরাই ফের দলের মুখ হয়ে উঠলে জনমানসে বিরূপ প্রভাব অনিবার্য। ধাক্কা খেতে পারে ‘দিদিকে বলো’র হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
দল বদলে রেকর্ড গড়ে বসেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। নির্বাচনে পঞ্চায়েতটি দখল করেছিল তৃণমূল। লোকসভা ভোটে কোচবিহারে বিজেপি জিততেই বহু তৃণমূল নেতা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন। অন্যান্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতটিও চলে যায় বিজেপির দখলে। কিন্তু, কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের ওই পঞ্চায়েতের অধিকাংশ সদস্যই ফের তৃণমূলে ফেরেন। তারপর ৩১ অক্টোবর আবার ওই পঞ্চায়েতের ১০জন সদস্যের মধ্যে ৯জনই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত ঘন ঘন জার্সি বদল? যাঁরা রাজনীতির উপরতলার বাসিন্দা তাঁদের ঘর বদলের পিছনে অনেক অঙ্ক থাকে। অনেক চাওয়া পাওয়া থাকে। অনেক দর কষাকষিও হয়। থাকে অনেক শর্তও। কিন্তু, সবাই কি শুধু পাওয়ার জন্যই দল, আদর্শ, পারস্পরিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে বিপরীত মেরুতে চলে যাচ্ছেন, নাকি বহু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বাধ্য করছে?
ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতের সদস্য প্রবীণ বর্মণ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত দেওয়ানহাট কলেজের কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। প্রবীণবাবু বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে আমি নির্দল প্রার্থী হয়েছিলাম। জিতেছিলাম তৃণমূলের ভোটেই। তাই জেতার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু, লোকসভা ভোটের পর সকলের সঙ্গে আমিও বিজেপিতে গেলাম। কিন্তু, সেখানে নেতৃত্বের অভাব। তাই ফের সকলে তৃণমূলে। আমিও ছিলাম। এমপি যোগাযোগ করায় সকলে সিদ্ধান্ত নিল, বিজেপিতে যোগ দেব। আমিও বিজেপিতে চলে গেলাম।
এই তরুণ পঞ্চায়েত সদ঩স্যের স্বীকারোক্তি, আসলে এখন আমাদের অবস্থা ফুটবলের মতো। একবার এ নেতার লাথি খেয়ে অন্য নেতার পায়ে গিয়ে পড়ছি। আবার কিছুদিন পর সেই নেতার লাথি খেয়ে অন্যজনের পায়ের সামনে। বারবার ডিগবাজি খাচ্ছি। হাসির খোরাক হচ্ছি। এসব আর ভালো লাগছে না।
ভালো না লাগারই কথা। কারণ আজ যিনি সঙ্গী, কাল তিনিই হয়ে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ। এখানে টিকে থাকার জন্য মুন্সিয়ানার দরকার। রং বদলের খেলায় গিরগিটিকেও হার মানানোর মুন্সিয়ানা লাগে। আর সেটা না থাকলে ভালো না লাগাটা দিন দিন জাঁকিয়ে বসবে। এর থেকে বেরিয়ে আসার কোনও উপায় নেই। কারণ রাজনীতির ময়দান এখন আক্ষরিক অর্থেই কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জ্যেষ্ঠ তাত যুধিষ্ঠির ও ভীমের নির্দেশে অভিমন্যু প্রবেশ করেছিলেন দ্রোণাচার্ষের তৈরি ‘ফাঁদ’ চক্রব্যূহে। অভিমন্যু তখন মাত্র ১৬। প্রবীণের মতো অনেকেই একইভাবে প্ররোচিত হয়ে ঢুকে পড়েন রাজনীতির চক্রব্যূহে। তাঁদের অবস্থাও অনেকটা মহাভারতের অভিমন্যুর মতোই। ঢুকে যান অনায়াসেই, কিন্তু চক্রব্যূহ থেকে বের হওয়ার রাস্তাটা তাঁদেরও অজানাই থেকে যায়। যুগে যুগে যুদ্ধক্ষেত্রের একটাই ভাষা, ‘হয় মারো, না হয় মরো’। এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কোনও জায়গা নেই। রাজনীতিতে বিরোধী ও শাসকের সহাবস্থানের নাম ‘সমঝোতা’।
16th  November, 2019
প্রচলিত ছকে মৌসুমি বায়ু চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
শান্তনু বসু

২০১৯-এর এই উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত আবহাওয়াবিদদের হিসেবেই ছিল না। উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই, কিন্তু আগামী বছর যদি আরও দেরিতে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, ভারতের কৃষি আবার অনিশ্চয়তায় চলে যাবে। চলতি বছরের উদ্বৃত্ত জলকে ধরে রাখা হয়েছে—এমন সুখবর কিন্তু নেই।
বিশদ

একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন।  
বিশদ

মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

17th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে, সোনার দামবৃদ্ধি। অন্যদিকে, আর্থিক মন্দা। সব মিলিয়ে সোনার বাজার মোটেই ভালো গেল না দেশে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য বলছে, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সোনার যে চাহিদা দেখা গিয়েছে, ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হবু শিক্ষকদের নিয়োগ করার আগে বহু চাকরিদাতা সংস্থাই তাঁদের ডিগ্রি যাচাই করে নেয়। এনসিটিই বা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের মাধ্যমেই তা করা হয়। এতদিন এর জন্য একটি পোর্টাল চালু করেছিল এনসিটিই।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গেমস-এর আসর বসতে চলেছে কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং (কিট)-এর ক্যাম্পাসে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই আসর বসবে। সাংবাদিক বৈঠক ...

সংবাদদাতা, কাটোয়া: আজ সোমবার কাটোয়ার ঐতিহ্যবাহী কার্তিক লড়াইয়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ৬৬টি পুজো কমিটি। শোভাযাত্রা ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

কর্মপ্রার্থীদের নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ আছে। সরকারি বা আধাসরকারি ক্ষেত্রে কর্ম পাওয়ার সুযোগ আছে। ব্যর্থ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭২৭: অম্বরের মহারাজা দ্বিতীয় জয়সিং জয়পুর শহর প্রতিষ্ঠা করলেন
১৯০১: পরিচালক ও অভিনেতা ভি শান্তারামের জন্ম
১৯৭৩: ভারতের জাতীয় পশু হল বাঘ
১৯৭৮: পরিচালক ও অভিনেতা ধীরেন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু
 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
17th  November, 2019

দিন পঞ্জিকা

১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ষষ্ঠী ২৮/৮ রাত্রি ৫/১০। পুষ্যা ৪১/৫ রাত্রি ১০/২১। সূ উ ৫/৫৪/৪৩, অ ৪/৪৮/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১ মধ্যে পুনঃ ৮/৪৮ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ১০/৫৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে ৩/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৬ গতে ৮/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৫ গতে ৩/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৩ গতে ১১/২১ মধ্যে। 
১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ষষ্ঠী ২৪/১৭/৩৬ দিবা ৩/৩৯/২৭। পুষ্যা ৩৯/১৯/৩৪ রাত্রি ৯/৪০/১৫, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৫১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩২ মধ্যে ও ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ১১/১ মধ্যে ও ২/৩৪ গতে ৩/২৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫/৪৫ গতে ৩/২৭/১৮ মধ্যে, কালবেলা ৭/১৭/৫৮ গতে ৮/৩৯/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪/১১ গতে ১১/২২/৩৮ মধ্যে।
২০ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোচবিহারে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

05:36:00 PM

খড়্গপুরের এসডিপিও সুকমল দাসকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন 

05:34:00 PM

হাসপাতালে ভর্তি নুসরত জাহান
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য ...বিশদ

04:58:35 PM

কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে: মমতা 

04:46:00 PM

মিথ্যে কথা বলা ছাড়া কোনও কাজ করছে না বিজেপি: মমতা 

04:43:00 PM

৩ দলকেই বাংলা থেকে বিদায় নিতে হবে: মমতা 

04:41:00 PM