Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে। অনেকের মতে, এই ঘর বদলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের গোপন রহস্য। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখলেই স্পষ্ট হবে, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ কার। জাহাজে জল ঢোকার খবর যেভাবে ক্যাপ্টেনের আগে ইঁদুর পায়, ঠিক সেইভাবেই নাকি ঘরবদলুরা বুঝে যায়, দল ডুবতে বসেছে। তাই ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবার আগে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় ইঁদুর। কিন্তু, সেই ইঁদুরের দল যখন ফের সেই জাহাজেই ওঠে? তখন রাজনীতির অঙ্ক ভয়ঙ্কর জটিল হয়ে যায়।
লোকসভা ভোটের সময় এরাজ্যে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ১০০ জন বিধায়ক যোগাযোগ করছেন। অমিত শাহ আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, লোকসভা ভোটের ফল যেদিন বের হবে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পড়ে যাবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতাদের আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা দেখে অনেকেই তখন অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছিলেন। তৃণমূল শাসনে ঘরে ঢুকে যাওয়ার সিপিএমের নেতা-কর্মীরা ভাবলেন, তৃণমূলকে বধ করার এই সুযোগ। তাঁরাও হয়তো ভেবেছিলেন, বিজেপি ভালো ফল করলেই তৃণমূলের বিধায়করা প্যারেড করে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তার জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। জারি হবে রাষ্ট্রপতি শাসন। সেই আশায় বুক বেঁধে বাম ভোট গেল রামে।
লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড় দেখে ঘাপটি মেরে থাকা সিপিএমের হার্মাদরা মাথা চাড়া দিল। তারা চলে এল বিজেপির সামনের সারিতে। তার পাশাপাশি প্রায় গোটা রাজ্যে তৃণমূলের উইকেট পড়া শুরু হল। একের পর এক পঞ্চায়েত, পুরসভা তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে গেল। কয়েকজন বিধায়কও বিজেপিতে যোগ দিলেন বটে। কিন্তু, সংখ্যাটা গেরুয়া শিবিরের দাবির ধারেকাছেও গেল না।
রাজনীতির সঙ্গে প্রকৃতির একটা জায়গায় ভীষণ মিল পাওয়া যায়। জনপ্রিয়তায়। প্রকৃতির নিয়মের নদীতে যেভাবে জোয়ার ভাটা খেলে, রাজনীতিতেও তেমনটাই চলে। রাজনীতিতে জোয়ার ভাটা আছে বলেই তো ক্ষমতার বদল ঘটে। জোয়ারের জল ধরে রাখার মতোই কঠিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসি দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিজেপির ভাটার টান শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, জোয়ারের তোড়ে ধেয়ে আসা নোনাজল বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার আকাশের বৃষ্টিতে ফসল ফলবে।
কাদের দাবি সত্যি, তা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে বাস্তবটা হচ্ছে, অধিকাংশ জেলায় ঘর ওয়াপসির দৌলতে একের পর এক পঞ্চায়েত ও পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে আসতে শুরু করেছে। আর এব্যাপারে রেকর্ড গড়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। লোকসভা ভোটের পর এই জেলাতেই সব চেয়ে বেশি দল বদলের হিড়িক পড়েছিল। আবার এখানেই সবচেয়ে বেশি ঘর ওয়াপসির ঘটনা। প্রশ্নটা হল, কেন এত দ্রুত এই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন?
ক্ষমতার লোভ বড় ভয়ঙ্কর। এই ক্ষমতার লোভেই ঔরঙ্গজেব তাঁর বৃদ্ধ পিতা সম্রাট শাহজাহানকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। এই ক্ষমতার টানেই রাজনীতির কারবারিরা নিজের আঁতুড়ঘর ছেড়ে অবলীলায় হাঁটা দিতে পারে বিরোধী শিবিরে। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের অবস্থা টলমল ভেবে দলের অনেক কেষ্টবিষ্টুই ছুটেছিলেন গেরুয়া শিবিরে। তাঁদের গলায় তখন একটাই সুর, ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’।
শুধু তৃণমূলের নয়, সিপিএমের গ্রাম ও ব্লক স্তরের অনেকেই ফের ক্ষমতা ভোগের আশায় ‘শহিদের রক্তে রাঙা’ লাল ঝাণ্ডা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন পদ্মফুল। সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই সেখানেই অবস্থান করছেন। নতুন দলে সম্মান জুটছে না, তবুও থাকছেন। কংগ্রেস এবং সিপিএম কাছাকাছি আসা, উপনির্বাচনে আসন সমঝোতার পরেও নয়। কারণ তাঁরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে ফেল করা দু’জন ছাত্রকে দেখাদেখি করে লেখার সুযোগ দিলেও পাশ মার্কস জোগাড় করা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন।
তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসির পিছনে মূলত দু’টি কারণ শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, অনেকেই ভাবছেন, লোকসভা ভোটের সাফল্য এরাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ধরে রাখতে পারবে না। দেশজুড়ে আর্থিক সঙ্কটের ধাক্কায় ‘মোদি ম্যাজিক’-এর সম্মোহনী ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। ‘আচ্ছে দিনের’ স্লোগান এখন গেরুয়া শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং। ‘কাটমানি’র মতো ইস্যুও বিজেপি কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তার উপর এনআরসি ইস্যু ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে লোকসভা ভোটের পর বিজেপিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা অনেকটাই স্তিমিত। তাই যাঁরা ভেবেছিলেন, বিজেপি এরাজ্যে ২০২১ সালে ‘ক্লিন স্যুইপ’ করবে, এই পরিস্থিতিতে তাঁরাই এখন দোলাচালে পড়ে গিয়ে ঘরে ফিরতে চাইছেন।
অনেকে আবার এও বলছেন, ছড়ি ঘোরানোর আশায় যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা এই ক’মাসেই হতাশ। তাঁদের নাকি উপলব্ধি হয়েছে, জাত খুইয়েও পেট ভরার তেমন আশা নেই। কারণ এরাজ্যেও বিজেপির উপর আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। সিপিএম এবং তৃণমূল থেকে আসা লোকজনকে তারা ঘরে জায়গা দিলেও ‘ঘরের ছেলে’ করতে চাইছে না। মারদাঙ্গার এলাকা বাদ দিয়ে বেশিরভাগ জায়গাতেই নব্যদের গুরুত্বহীন করে রেখে দিয়েছে। তাঁদের অবস্থা অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো। কেউ কেউ বলছেন, বিজেপিতে যোগদানকারীদের অবস্থা অনেকটা আমেরিকার অভিবাসীদের মতো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁদের কপালে ‘গ্রিন কার্ড’ জুটলেও নাগরিকত্ব! নৈব নৈব চ। কেউ কেউ আবার বিজেপির সুদিন এলে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন। তখন তাঁদের আমও যাবে, ছালাও যাবে। এইসব সাতপাঁচ ভেবেই নাকি ‘ঘর ওয়াপসি’।
তবে, এখানে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, বিজেপি নেতৃত্ব কি তৃণমূল নেতাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ ঠেকাতে পারছে না? নাকি চাইছে না?
একটা কথা ঠিক, ভোটের পর যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন জনপ্রতিনিধি। ওই জনপ্রতিনিধিদের অনেকে তাৎক্ষণিক জনরোষ থেকে বাঁচতেই ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’ গান গেয়েছিলেন। আর সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মারকুটে প্লেয়ার। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে তাঁদের একটাই ভাবনা, এলো মেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই। এককথায়, হার্মাদ সম্প্রদায়ভুক্ত। সেই মূলধনের জোরেই কেশপুর, গড়বেতা, পটাশপুর, ময়না, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পাত্রসায়র, ইন্দাস, দিনহাটা প্রভৃতি এলাকায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি সমানে টক্কর নিচ্ছে। কোনও কোনও এলাকায় তৃণমূলকে ঘরে ঢুকিয়েও দিচ্ছে। ফিরে আসছে বাম জমানার সেই স্মৃতি। সাধারণ মানুষ মারদাঙ্গার রাজনীতি মেনে নিতে পারছে না। শুধু সাধারণ ভোটাররাই নয়, বিজেপির একটা অংশও এসব পছন্দ করছে না।
লোকসভা ভোটে অভাবনীয় সাফল্যের পর বিজেপি নেতারা সংসার বাড়ানোর লোভে হাট করে খুলে দিয়েছিল দরজা। রক্ষীহীন সেই দরজা দিয়ে যিনিই ঢুকেছেন তাঁকেই পদ্মফুলে বরণ করা হয়েছে। কিন্তু, বিজেপি নেতারা তখন সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন, বন্যার জলে শুধু মাছ আসে না, সাপ, ব্যাঙও থাকে। দরজা খোলা পেয়ে এখানেও মাছের পিছু পিছু অনেক সাপ, ব্যাঙও ঢুকে গিয়েছে। আর তার খেসারতও বিজেপিকে দিতে হচ্ছে। শুরু হয়েছে আদি-নব্যের লড়াই। কোণঠাসা আদিরা ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। বিজেপির এখন শ্যাম রাখি, না কুল রাখি অবস্থা।
ঘটা করে তৃণমূলের নেতাদের দলে যোগদান করিয়েও তাঁদের ধরে রাখতে না পারার পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের ব্যর্থতা ক্রমশই প্রকট হচ্ছে, একথা ঠিক। কিন্তু, ‘হারাধন’রা ঘরে ফেরায় তৃণমূলের কি সবটাই লাভ হচ্ছে? কারণ যাঁদের সৌজন্যে লোকসভা ভোটে বিপর্যয়, তাঁরাই ফের দলের মুখ হয়ে উঠলে জনমানসে বিরূপ প্রভাব অনিবার্য। ধাক্কা খেতে পারে ‘দিদিকে বলো’র হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
দল বদলে রেকর্ড গড়ে বসেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। নির্বাচনে পঞ্চায়েতটি দখল করেছিল তৃণমূল। লোকসভা ভোটে কোচবিহারে বিজেপি জিততেই বহু তৃণমূল নেতা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন। অন্যান্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতটিও চলে যায় বিজেপির দখলে। কিন্তু, কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের ওই পঞ্চায়েতের অধিকাংশ সদস্যই ফের তৃণমূলে ফেরেন। তারপর ৩১ অক্টোবর আবার ওই পঞ্চায়েতের ১০জন সদস্যের মধ্যে ৯জনই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত ঘন ঘন জার্সি বদল? যাঁরা রাজনীতির উপরতলার বাসিন্দা তাঁদের ঘর বদলের পিছনে অনেক অঙ্ক থাকে। অনেক চাওয়া পাওয়া থাকে। অনেক দর কষাকষিও হয়। থাকে অনেক শর্তও। কিন্তু, সবাই কি শুধু পাওয়ার জন্যই দল, আদর্শ, পারস্পরিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে বিপরীত মেরুতে চলে যাচ্ছেন, নাকি বহু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বাধ্য করছে?
ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতের সদস্য প্রবীণ বর্মণ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত দেওয়ানহাট কলেজের কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। প্রবীণবাবু বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে আমি নির্দল প্রার্থী হয়েছিলাম। জিতেছিলাম তৃণমূলের ভোটেই। তাই জেতার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু, লোকসভা ভোটের পর সকলের সঙ্গে আমিও বিজেপিতে গেলাম। কিন্তু, সেখানে নেতৃত্বের অভাব। তাই ফের সকলে তৃণমূলে। আমিও ছিলাম। এমপি যোগাযোগ করায় সকলে সিদ্ধান্ত নিল, বিজেপিতে যোগ দেব। আমিও বিজেপিতে চলে গেলাম।
এই তরুণ পঞ্চায়েত সদ঩স্যের স্বীকারোক্তি, আসলে এখন আমাদের অবস্থা ফুটবলের মতো। একবার এ নেতার লাথি খেয়ে অন্য নেতার পায়ে গিয়ে পড়ছি। আবার কিছুদিন পর সেই নেতার লাথি খেয়ে অন্যজনের পায়ের সামনে। বারবার ডিগবাজি খাচ্ছি। হাসির খোরাক হচ্ছি। এসব আর ভালো লাগছে না।
ভালো না লাগারই কথা। কারণ আজ যিনি সঙ্গী, কাল তিনিই হয়ে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ। এখানে টিকে থাকার জন্য মুন্সিয়ানার দরকার। রং বদলের খেলায় গিরগিটিকেও হার মানানোর মুন্সিয়ানা লাগে। আর সেটা না থাকলে ভালো না লাগাটা দিন দিন জাঁকিয়ে বসবে। এর থেকে বেরিয়ে আসার কোনও উপায় নেই। কারণ রাজনীতির ময়দান এখন আক্ষরিক অর্থেই কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জ্যেষ্ঠ তাত যুধিষ্ঠির ও ভীমের নির্দেশে অভিমন্যু প্রবেশ করেছিলেন দ্রোণাচার্ষের তৈরি ‘ফাঁদ’ চক্রব্যূহে। অভিমন্যু তখন মাত্র ১৬। প্রবীণের মতো অনেকেই একইভাবে প্ররোচিত হয়ে ঢুকে পড়েন রাজনীতির চক্রব্যূহে। তাঁদের অবস্থাও অনেকটা মহাভারতের অভিমন্যুর মতোই। ঢুকে যান অনায়াসেই, কিন্তু চক্রব্যূহ থেকে বের হওয়ার রাস্তাটা তাঁদেরও অজানাই থেকে যায়। যুগে যুগে যুদ্ধক্ষেত্রের একটাই ভাষা, ‘হয় মারো, না হয় মরো’। এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কোনও জায়গা নেই। রাজনীতিতে বিরোধী ও শাসকের সহাবস্থানের নাম ‘সমঝোতা’।
16th  November, 2019
এনআরসি দেশ গড়ার পথ, নাকি ক্ষমতায় পৌঁছনোর ইস্যু
তন্ময় মল্লিক

পরিবর্তনই জীবনের বৈশিষ্ট্য। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সবকিছুই। কিন্তু পরিবর্তনের এই ধারায় সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির অভিমুখ ও উপাদান। একটা সময় রাজনীতিতে সাফল্য লাভের প্রধান উপাদান ছিল উন্নয়ন। এখন রাজনীতিতে সাফল্য লাভের উপাদান জবরদস্ত ইস্যু। ইস্যু তৈরি করতে পারলেই কেল্লা ফতে। 
বিশদ

বৈধ-অবৈধ নাগরিক কথা
সমৃদ্ধ দত্ত

পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসার পর মানুষদের কী অবস্থা সে সব আমরা খুব বেশি জানি না। আমরা বাঙালিরা জানি বাংলাদেশ সম্পর্কে। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের পাশের দেশ। সুতরাং নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া দরকার সেগুলি বাংলাদেশ সংক্রান্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।  
বিশদ

13th  December, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: শুক্রবার মাথাভাঙা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গেন্দুগুড়িতে ১০০ দিনের কাজে মাটির রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন শ্রমিকরা প্রায় এককিমি রাস্তার কাজ শুরু করেন।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য সরকার শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে এর মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা থেকে পরিকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।  ...

সংবাদদাতা, পূর্বস্থলী: পূর্বস্থলীর বাঁশদহ বিলেও এবার পরিযায়ী পাখিদের আগমন শুরু হয়েছে। ওই বিলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কচুরিপানার উপর পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচটি প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এখানে এসেছে।  ...

 কোচি, ১৩ ডিসেম্বর: শুক্রবার আইএসএলের অ্যাওয়ে ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও ২-২ গোলে ড্র করল জামশেদপুর এফসি। এদিন কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে জামশেদপুরকে এগিয়ে দেন পিটি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বিদ্যার্থীদের অধিক পরিশ্রম করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষার ফল ভালো হবে না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৪: অভিনেতা ও পরিচালক রাজ কাপুরের জন্ম
১৯৩১: কুমিল্লায় বিপ্লবী শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরি ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেনসকে হত্যা করেন
১৯৩৪: পরিচালক শ্যাম বেনেগালের জন্ম
১৯৫৩: ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড় বিজয় অমৃতরাজের জন্ম
১৯৫৭: হাওড়া এবং ব্যান্ডেলের মধ্যে প্রথম চালু হল বৈদ্যুতিক ট্রেন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮০ টাকা ৭১.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৪৩ টাকা ৯৬.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.৪৪ টাকা ৮০.৪৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৬/২৯ দিবা ৮/৪৭। পুনর্বসু ৫৭/৮ শেষরাত্রি ৫/৩। সূ উ ৬/১১/৫৯, অ ৪/৪৯/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৮/৪৯/১৯ দিবা ৯/৪৫/২৯। আর্দ্রা ২/৫১/২২ দিবা ৭/২২/১৮, সূ উ ৬/১৩/৪৫, অ ৪/৫০/১০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ৭/৪৫ গতে ৯/৫২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৩১ গতে ৪/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৪৬ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩৩/১৮ মধ্যে ও ৩/৩০/৩৭ গতে ৪/৫০/১০ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০/৩৭ মধ্যে ও ৪/৩৩/১৮ গতে ৬/১৪/২৯ মধ্যে। 
১৬ রবিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামীকাল রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যের একাধিক জেলা। তার মধ্যেই ...বিশদ

06:19:00 PM

বাতিল কলকাতাগামী রাধিকাপুর এক্সপ্রেস 
আজিমগঞ্জ ফারাক্কা এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতির জেরে রাধিকাপুর থেকে কলকাতাগামী ...বিশদ

06:16:33 PM

মালদহের সুজাপুর, কালিয়াচক সংলগ্ন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ 

06:16:17 PM

বাতিল ১৩১৪২ তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস 
বাতিল করা হল নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ ১৩১৪২ তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস। রানিনগর (জলপাইগুড়ি) ...বিশদ

06:12:50 PM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন: নদিয়ার তেহট্টে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ 

06:01:37 PM

মালদহের হরিশচন্দ্রপুরে ট্রেনে ভাঙচুর, অবরোধ 

05:58:10 PM