Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে। অনেকের মতে, এই ঘর বদলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের গোপন রহস্য। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখলেই স্পষ্ট হবে, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ কার। জাহাজে জল ঢোকার খবর যেভাবে ক্যাপ্টেনের আগে ইঁদুর পায়, ঠিক সেইভাবেই নাকি ঘরবদলুরা বুঝে যায়, দল ডুবতে বসেছে। তাই ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবার আগে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় ইঁদুর। কিন্তু, সেই ইঁদুরের দল যখন ফের সেই জাহাজেই ওঠে? তখন রাজনীতির অঙ্ক ভয়ঙ্কর জটিল হয়ে যায়।
লোকসভা ভোটের সময় এরাজ্যে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ১০০ জন বিধায়ক যোগাযোগ করছেন। অমিত শাহ আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, লোকসভা ভোটের ফল যেদিন বের হবে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পড়ে যাবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতাদের আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা দেখে অনেকেই তখন অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছিলেন। তৃণমূল শাসনে ঘরে ঢুকে যাওয়ার সিপিএমের নেতা-কর্মীরা ভাবলেন, তৃণমূলকে বধ করার এই সুযোগ। তাঁরাও হয়তো ভেবেছিলেন, বিজেপি ভালো ফল করলেই তৃণমূলের বিধায়করা প্যারেড করে বিজেপিতে যোগ দেবেন। তার জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। জারি হবে রাষ্ট্রপতি শাসন। সেই আশায় বুক বেঁধে বাম ভোট গেল রামে।
লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড় দেখে ঘাপটি মেরে থাকা সিপিএমের হার্মাদরা মাথা চাড়া দিল। তারা চলে এল বিজেপির সামনের সারিতে। তার পাশাপাশি প্রায় গোটা রাজ্যে তৃণমূলের উইকেট পড়া শুরু হল। একের পর এক পঞ্চায়েত, পুরসভা তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে গেল। কয়েকজন বিধায়কও বিজেপিতে যোগ দিলেন বটে। কিন্তু, সংখ্যাটা গেরুয়া শিবিরের দাবির ধারেকাছেও গেল না।
রাজনীতির সঙ্গে প্রকৃতির একটা জায়গায় ভীষণ মিল পাওয়া যায়। জনপ্রিয়তায়। প্রকৃতির নিয়মের নদীতে যেভাবে জোয়ার ভাটা খেলে, রাজনীতিতেও তেমনটাই চলে। রাজনীতিতে জোয়ার ভাটা আছে বলেই তো ক্ষমতার বদল ঘটে। জোয়ারের জল ধরে রাখার মতোই কঠিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসি দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিজেপির ভাটার টান শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, জোয়ারের তোড়ে ধেয়ে আসা নোনাজল বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার আকাশের বৃষ্টিতে ফসল ফলবে।
কাদের দাবি সত্যি, তা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে বাস্তবটা হচ্ছে, অধিকাংশ জেলায় ঘর ওয়াপসির দৌলতে একের পর এক পঞ্চায়েত ও পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে আসতে শুরু করেছে। আর এব্যাপারে রেকর্ড গড়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। লোকসভা ভোটের পর এই জেলাতেই সব চেয়ে বেশি দল বদলের হিড়িক পড়েছিল। আবার এখানেই সবচেয়ে বেশি ঘর ওয়াপসির ঘটনা। প্রশ্নটা হল, কেন এত দ্রুত এই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন?
ক্ষমতার লোভ বড় ভয়ঙ্কর। এই ক্ষমতার লোভেই ঔরঙ্গজেব তাঁর বৃদ্ধ পিতা সম্রাট শাহজাহানকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন। এই ক্ষমতার টানেই রাজনীতির কারবারিরা নিজের আঁতুড়ঘর ছেড়ে অবলীলায় হাঁটা দিতে পারে বিরোধী শিবিরে। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের অবস্থা টলমল ভেবে দলের অনেক কেষ্টবিষ্টুই ছুটেছিলেন গেরুয়া শিবিরে। তাঁদের গলায় তখন একটাই সুর, ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’।
শুধু তৃণমূলের নয়, সিপিএমের গ্রাম ও ব্লক স্তরের অনেকেই ফের ক্ষমতা ভোগের আশায় ‘শহিদের রক্তে রাঙা’ লাল ঝাণ্ডা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন পদ্মফুল। সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই সেখানেই অবস্থান করছেন। নতুন দলে সম্মান জুটছে না, তবুও থাকছেন। কংগ্রেস এবং সিপিএম কাছাকাছি আসা, উপনির্বাচনে আসন সমঝোতার পরেও নয়। কারণ তাঁরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে ফেল করা দু’জন ছাত্রকে দেখাদেখি করে লেখার সুযোগ দিলেও পাশ মার্কস জোগাড় করা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন।
তৃণমূল নেতাদের ঘর ওয়াপসির পিছনে মূলত দু’টি কারণ শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, অনেকেই ভাবছেন, লোকসভা ভোটের সাফল্য এরাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ধরে রাখতে পারবে না। দেশজুড়ে আর্থিক সঙ্কটের ধাক্কায় ‘মোদি ম্যাজিক’-এর সম্মোহনী ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। ‘আচ্ছে দিনের’ স্লোগান এখন গেরুয়া শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং। ‘কাটমানি’র মতো ইস্যুও বিজেপি কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তার উপর এনআরসি ইস্যু ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে লোকসভা ভোটের পর বিজেপিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা অনেকটাই স্তিমিত। তাই যাঁরা ভেবেছিলেন, বিজেপি এরাজ্যে ২০২১ সালে ‘ক্লিন স্যুইপ’ করবে, এই পরিস্থিতিতে তাঁরাই এখন দোলাচালে পড়ে গিয়ে ঘরে ফিরতে চাইছেন।
অনেকে আবার এও বলছেন, ছড়ি ঘোরানোর আশায় যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা এই ক’মাসেই হতাশ। তাঁদের নাকি উপলব্ধি হয়েছে, জাত খুইয়েও পেট ভরার তেমন আশা নেই। কারণ এরাজ্যেও বিজেপির উপর আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। সিপিএম এবং তৃণমূল থেকে আসা লোকজনকে তারা ঘরে জায়গা দিলেও ‘ঘরের ছেলে’ করতে চাইছে না। মারদাঙ্গার এলাকা বাদ দিয়ে বেশিরভাগ জায়গাতেই নব্যদের গুরুত্বহীন করে রেখে দিয়েছে। তাঁদের অবস্থা অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো। কেউ কেউ বলছেন, বিজেপিতে যোগদানকারীদের অবস্থা অনেকটা আমেরিকার অভিবাসীদের মতো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁদের কপালে ‘গ্রিন কার্ড’ জুটলেও নাগরিকত্ব! নৈব নৈব চ। কেউ কেউ আবার বিজেপির সুদিন এলে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন। তখন তাঁদের আমও যাবে, ছালাও যাবে। এইসব সাতপাঁচ ভেবেই নাকি ‘ঘর ওয়াপসি’।
তবে, এখানে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, বিজেপি নেতৃত্ব কি তৃণমূল নেতাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ ঠেকাতে পারছে না? নাকি চাইছে না?
একটা কথা ঠিক, ভোটের পর যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন জনপ্রতিনিধি। ওই জনপ্রতিনিধিদের অনেকে তাৎক্ষণিক জনরোষ থেকে বাঁচতেই ‘রং দে মুঝে গেরুয়া’ গান গেয়েছিলেন। আর সিপিএম থেকে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মারকুটে প্লেয়ার। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে তাঁদের একটাই ভাবনা, এলো মেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই। এককথায়, হার্মাদ সম্প্রদায়ভুক্ত। সেই মূলধনের জোরেই কেশপুর, গড়বেতা, পটাশপুর, ময়না, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পাত্রসায়র, ইন্দাস, দিনহাটা প্রভৃতি এলাকায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি সমানে টক্কর নিচ্ছে। কোনও কোনও এলাকায় তৃণমূলকে ঘরে ঢুকিয়েও দিচ্ছে। ফিরে আসছে বাম জমানার সেই স্মৃতি। সাধারণ মানুষ মারদাঙ্গার রাজনীতি মেনে নিতে পারছে না। শুধু সাধারণ ভোটাররাই নয়, বিজেপির একটা অংশও এসব পছন্দ করছে না।
লোকসভা ভোটে অভাবনীয় সাফল্যের পর বিজেপি নেতারা সংসার বাড়ানোর লোভে হাট করে খুলে দিয়েছিল দরজা। রক্ষীহীন সেই দরজা দিয়ে যিনিই ঢুকেছেন তাঁকেই পদ্মফুলে বরণ করা হয়েছে। কিন্তু, বিজেপি নেতারা তখন সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন, বন্যার জলে শুধু মাছ আসে না, সাপ, ব্যাঙও থাকে। দরজা খোলা পেয়ে এখানেও মাছের পিছু পিছু অনেক সাপ, ব্যাঙও ঢুকে গিয়েছে। আর তার খেসারতও বিজেপিকে দিতে হচ্ছে। শুরু হয়েছে আদি-নব্যের লড়াই। কোণঠাসা আদিরা ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। বিজেপির এখন শ্যাম রাখি, না কুল রাখি অবস্থা।
ঘটা করে তৃণমূলের নেতাদের দলে যোগদান করিয়েও তাঁদের ধরে রাখতে না পারার পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের ব্যর্থতা ক্রমশই প্রকট হচ্ছে, একথা ঠিক। কিন্তু, ‘হারাধন’রা ঘরে ফেরায় তৃণমূলের কি সবটাই লাভ হচ্ছে? কারণ যাঁদের সৌজন্যে লোকসভা ভোটে বিপর্যয়, তাঁরাই ফের দলের মুখ হয়ে উঠলে জনমানসে বিরূপ প্রভাব অনিবার্য। ধাক্কা খেতে পারে ‘দিদিকে বলো’র হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
দল বদলে রেকর্ড গড়ে বসেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। নির্বাচনে পঞ্চায়েতটি দখল করেছিল তৃণমূল। লোকসভা ভোটে কোচবিহারে বিজেপি জিততেই বহু তৃণমূল নেতা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন। অন্যান্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতটিও চলে যায় বিজেপির দখলে। কিন্তু, কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের ওই পঞ্চায়েতের অধিকাংশ সদস্যই ফের তৃণমূলে ফেরেন। তারপর ৩১ অক্টোবর আবার ওই পঞ্চায়েতের ১০জন সদস্যের মধ্যে ৯জনই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এত ঘন ঘন জার্সি বদল? যাঁরা রাজনীতির উপরতলার বাসিন্দা তাঁদের ঘর বদলের পিছনে অনেক অঙ্ক থাকে। অনেক চাওয়া পাওয়া থাকে। অনেক দর কষাকষিও হয়। থাকে অনেক শর্তও। কিন্তু, সবাই কি শুধু পাওয়ার জন্যই দল, আদর্শ, পারস্পরিক সম্পর্ককে অস্বীকার করে বিপরীত মেরুতে চলে যাচ্ছেন, নাকি বহু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বাধ্য করছে?
ভেটাগুড়ি ১ পঞ্চায়েতের সদস্য প্রবীণ বর্মণ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত দেওয়ানহাট কলেজের কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। প্রবীণবাবু বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে আমি নির্দল প্রার্থী হয়েছিলাম। জিতেছিলাম তৃণমূলের ভোটেই। তাই জেতার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু, লোকসভা ভোটের পর সকলের সঙ্গে আমিও বিজেপিতে গেলাম। কিন্তু, সেখানে নেতৃত্বের অভাব। তাই ফের সকলে তৃণমূলে। আমিও ছিলাম। এমপি যোগাযোগ করায় সকলে সিদ্ধান্ত নিল, বিজেপিতে যোগ দেব। আমিও বিজেপিতে চলে গেলাম।
এই তরুণ পঞ্চায়েত সদ঩স্যের স্বীকারোক্তি, আসলে এখন আমাদের অবস্থা ফুটবলের মতো। একবার এ নেতার লাথি খেয়ে অন্য নেতার পায়ে গিয়ে পড়ছি। আবার কিছুদিন পর সেই নেতার লাথি খেয়ে অন্যজনের পায়ের সামনে। বারবার ডিগবাজি খাচ্ছি। হাসির খোরাক হচ্ছি। এসব আর ভালো লাগছে না।
ভালো না লাগারই কথা। কারণ আজ যিনি সঙ্গী, কাল তিনিই হয়ে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ। এখানে টিকে থাকার জন্য মুন্সিয়ানার দরকার। রং বদলের খেলায় গিরগিটিকেও হার মানানোর মুন্সিয়ানা লাগে। আর সেটা না থাকলে ভালো না লাগাটা দিন দিন জাঁকিয়ে বসবে। এর থেকে বেরিয়ে আসার কোনও উপায় নেই। কারণ রাজনীতির ময়দান এখন আক্ষরিক অর্থেই কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জ্যেষ্ঠ তাত যুধিষ্ঠির ও ভীমের নির্দেশে অভিমন্যু প্রবেশ করেছিলেন দ্রোণাচার্ষের তৈরি ‘ফাঁদ’ চক্রব্যূহে। অভিমন্যু তখন মাত্র ১৬। প্রবীণের মতো অনেকেই একইভাবে প্ররোচিত হয়ে ঢুকে পড়েন রাজনীতির চক্রব্যূহে। তাঁদের অবস্থাও অনেকটা মহাভারতের অভিমন্যুর মতোই। ঢুকে যান অনায়াসেই, কিন্তু চক্রব্যূহ থেকে বের হওয়ার রাস্তাটা তাঁদেরও অজানাই থেকে যায়। যুগে যুগে যুদ্ধক্ষেত্রের একটাই ভাষা, ‘হয় মারো, না হয় মরো’। এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কোনও জায়গা নেই। রাজনীতিতে বিরোধী ও শাসকের সহাবস্থানের নাম ‘সমঝোতা’।
16th  November, 2019
১২৫ বছরে স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ 
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বামী প্রণবানন্দজি অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রামে ১৩০২ বঙ্গাব্দের ১৬ মাঘ (১৮৯৬ সালের ২৯ জানুয়ারি) পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম বিষ্ণুচরণ দাস (ভুঁইয়া) ও মাতা সারদা দেবী। 
বিশদ

আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক।
বিশদ

28th  January, 2020
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
একনজরে
জাহানাবাদ (বিহার), ২৮ জানুয়ারি (পিটিআই): ‘পাঁচ লাখ মানুষ এক হলে অসমকে ভারত থেকে আলাদা’ করার হুমকি দিয়েছিলেন সিএএ তথা শাহিনবাগ আন্দোলনের অন্যতম মাথা শারজিল ইমাম। মঙ্গলবার তাঁকেই বিহারের জেহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।  ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রাহকরা হাতে নতুন রেশন কার্ড পাওয়ার পর এবার রেশন দোকানে গেলেই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে যাবেন। এব্যাপারে উদ্যাোগী হয়েছে খাদ্যদপ্তর। মঙ্গলবার খাদ্যভবনে এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়।  ...

সংবাদদাতা, গাজোল: সরস্বতীপুজোয় ইলিশ মাছ খাওয়ার রেওয়াজ মানতে গিয়ে এবার পকেট অনেকটাই হাল্কা হবে ইংলিশবাজারের বাসিন্দাদের। পুজো উপল঩ক্ষে শহরের বাজারগুলিতে বড় ইলিশ মাছের দেখা মিললেও ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তি সংস্কার বিষয়ে চিন্তাভাবনা ফলপ্রসূ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি। যাবতীয় আটকে থাকা কাজের ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের জন্ম
১৯৬৬: ব্রাজিলের ফুটবলার রোমারিওর জন্ম
১৯৭০: ওলিম্পিকে রুপোজয়ী শ্যুটার রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরের জন্ম
২০০৬: প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিক করলেন ইরফান পাঠান  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৮ টাকা ৭২.২৮ টাকা
পাউন্ড ৯১.৬১ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.২৫ টাকা ৮০.১৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,১৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৬১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) চতুর্থী ১১/৩ দিবা ১০/৪৬। পূর্বভাদ্রপদ ১৪/৪১ দিবা ১২/১৩। সূ উ ৬/২১/৩, অ ৫/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৭ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/১১ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৫০ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে। 
১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, চতুর্থী ৫/৫৫/২৫ দিবা ৮/৪৬/৪। পূর্ব্বভাদ্রপদ ১০/৫৭/৫৮ দিবা ১০/৪৭/৫। সূ উ ৬/২৩/৫৪, অ ৫/১৭/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে১১/২৯ মধ্যে ও ৩/১০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৪ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/১৪ গতে ১০/২৮/৫৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৭/১৪ গতে ৪/৪৫/৩৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ৩ জমাদিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
হাওড়ায় দুটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১৫  
হাওড়ার ৬ নং জাতীয় সড়কে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ...বিশদ

02:32:09 PM

কাটোয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
বুধবার সকালে সংবাদপত্র বিক্রি করতে গিয়ে কাটোয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে ...বিশদ

02:15:37 PM

কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক সংলগ্ন খালে পড়ল গাড়ি 

02:11:37 PM

ডালখোলায় পথ দুর্ঘটনায় গাড়ি চালকের মৃত্যু 
উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক গাড়ি চালকের। ...বিশদ

02:07:24 PM

নিউজিল্যান্ডকে ১৮০ রানের টার্গেট দিল ভারত 

02:03:14 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টর সীমান্তে পাক সেনার গোলাগুলি 

01:55:44 PM