Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? ভারত তার এই বহুকষ্টলব্ধ স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র আবার ভুল পদক্ষেপে হারিয়ে ফেলবে না তো?
তিনি আরও বলেছিলেন, জাতপাতের বিভাজন প্রবণতা বহু প্রাচীন এক শত্রু ভারতে। এই চেনা শত্রুদের পাশাপাশি, এখন ভারতে এসেছে নানাবিধ বৈচিত্র্যের রাজনৈতিক দল, যারা পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক নীতির অনুসারী। আম্বেদকর প্রশ্ন করেছিলেন, দেশবাসী কি সেই সব নীতির ঊর্ধ্বে রাখবে দেশকে? নাকি দেশের ঊর্ধ্বে রাখবে নিজেদের বিশ্বাস ও নীতিকে? আমার জানা নেই। কিন্তু এটা নিয়ে
সন্দেহ নেই যে, যদি রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের দলীয় নীতি আদর্শকে দেশের স্বার্থেরও উপরে স্থান দেয়, তা হলে আমাদের স্বাধীনতা দ্বিতীয়বারের
জন্য আবার সঙ্কটে পড়বে। হয়তো চিরকালের মতো সেই স্বাধীনতা লুপ্ত হবে।
ইংরেজিতে একটি শব্দ আছে। এথনিক ডেমোক্রেসি। অর্থাৎ বিশেষ সম্প্রদায়ের গণতন্ত্র। এই এথনিক ডেমোক্রেসির আদর্শ রূপ হিসাবে বলা হয় ইজরায়েলকে। সেখানে ডেমোক্রেসি থাকলেও ইহুদিদের সুযোগ সুবিধা অধিকার তুলনামূলকভাবে বেশি হিসাবেই অঘোষিত রীতি। সেটা অবশ্যই কোনও সরকারি নির্দেশিকায় পাওয়া যাবে না। তবে সমাজজীবনে পরিলক্ষিত। ভারত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘকাল ধরে যে ইমেজ রয়েছে সেটি হল বিশ্বের সবথেকে বৃহৎ একটি বহুত্ববাদী সংস্কৃতি। বস্তুত সেটাই ভারতের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, সেই ইমেজটি সরিয়ে দিয়ে ভারতের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের জনগণ এবং শাসকগোষ্ঠী কি আদতে এথনিক ডেমোক্রেসির পথেই হাঁটতে আগ্রহী? নাকি ভারতের সংবিধান নির্দেশিত পথটিই অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে? এই প্রশ্নের উত্তরের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। একটি দেশের সংখ্যাগুরু শ্রেণী যদি সেই দেশের শাসককে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা এটা দেখে মনে মনে অত্যন্ত আনন্দিত হয় যখন বিশেষ কোনও সংখ্যালঘু শ্রেণীর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কিংবা ওই শ্রেণীকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা হতে দেখা যাচ্ছে কিংবা সেই শ্রেণী যদি সরকার বা আইনের সহায়তা কম কম পাচ্ছে ইত্যাদি। সংখ্যালঘুদের এই সঙ্কট দেখে মনে চাপা আনন্দ হয় অনেকের। আর জনতার এই মনোভাব যদি সরকার বা শাসক জেনে যায়, তা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থেকে জনতার দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া সহজ হয়। কাশ্মীরের ৩৭০ নং ধারার অবলুপ্তিকরণকে যদি নীতিগত ভাবে ভারতের ঐক্যের জন্যই প্রয়োজন বলে মনে করা হয় (অবশ্যই সমর্থনযোগ্য), তা হলে সেই একই কারণে নাগাল্যাণ্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশের বিশেষ বিশেষ
অধিকার বা আইন নিয়েও আপত্তি বা ক্ষোভ থাকা উচিত ছিল সংখ্যাগুরুর। তা কিন্তু হচ্ছে না। যত ঐক্যের আবেগ কাশ্মীরকে ঘিরে দেখা গেল। কেন? উত্তরটা জানা সকলের।
এ ভাবে জনগণের মনের অনুভূতিকে বুঝতে পেরে যে জ্বলন্ত বিষয়গুলি জনগণকে প্রতিনিয়ত সঙ্কটে ফেলছে, অসুবিধার মুখোমুখি করাচ্ছে, আর্থিক ভাবে বিপদে ফেলছে, সেই ইস্যুগুলির তুলনায় শাসক সামনের সারিতে নিয়ে আসতে সুযোগ পায় ধর্মীয় অথবা সম্প্রদায়গত অ্যাজেণ্ডাকে দৈনন্দিন চর্চা বা পাবলিক ডিসকোর্সের মধ্যে নিয়ে আসতে।
আর এথনিক ডেমোক্রেসির বন্দনাকারী জনতাও আরও বেশি করে মশগুল হয়ে পড়ে। ৩৭০ নিয়ে আনন্দ হয়। রামমন্দির নিয়ে আনন্দ হয়। সংখ্যাগুরুর মনোভাবে এমনিতে দ্বিচারিতা মিশে থাকে।
যেমন সংখ্যাগুরু শ্রেণী অত্যন্ত খুশি হয়, যখন দেখা যায় একজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ হিন্দুদের পুজোয় অংশ নিয়েছে, কিংবা দুর্গাপূজায় আয়োজনে যুক্ত হয়েছে কিংবা কোনও মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে এক মুসলিম জড়িত। তখন এই সংখ্যাগুরু শ্রেণী সেটিকে সর্বধর্মসমন্বয়ে, প্রকৃত ভারত, উদার
ভারত ইত্যাদি আখ্যায় ভূষিত করে। অথচ ঠিক বিপরীত যখন ঘটে, অর্থাৎ কোনও হিন্দু যদি মুসলিমদের পরবে অংশ নেয় অথবা কোনও বিতর্কে তাদের পক্ষে কথা বলে, তখন সেই লোকটিকে তকমা দেওয়া হয় তোষণকারী।
ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় একটি দেশ যদি সার্বিকভাবে সংখ্যাগুরুর ডেমোক্রেসিতে পরিণত হয়, তা হলে সেই দেশের জনতার একটা সময় পর কিন্তু ক্লান্ত লাগবে। কারণ আমাদের দেশের অভ্যাসই হল সর্বধর্মসমন্বয়, বছরভর নানাবিধ পরবে মেতে থাকা। সেই কারণেই আজমির শরিফকে পাশ কাটিয়ে কেউ নিছক পুষ্করে পুজো দিয়ে আবার ফিরে আসে এমন নয়। আজমির শরিফেও একবার ঢুকে একটা চাদর চড়িয়ে আসেন হিন্দুরাও।
প্রতি বৃহস্পতিবার দিল্লির নিজামউদ্দিন দরগার কাওয়ালি অনুষ্ঠানে নিয়ম করে সব সম্প্রদায়ের মানুষই সমবেত হয়ে ওই ধর্মসঙ্গীত উপভোগ করেন হৃষ্ট চিত্তে। ক্রমেই যদি দেখা যায় গোটা দেশে সংখ্যাগুরুদের দাপটই বেশি এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরা সম্পূর্ণ আড়ষ্ট ও নীরব জীবনযাপন করছেন, তা হলে আজ যারা এথনিক ডেমোক্রেসিকেই নিজের শক্তি হিসাবে কল্পনা করছে তাদের ভুল ভাঙবে এক সময়। কারণ যদি এটাই একটি দেশের প্রকৃত শক্তি বা উন্নয়নের রূপরেখা হতো, তা হলে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ এতদিনে অনেক এগিয়ে যেত। এমনকী চীনকে এ ভাবে নিজেদের গোপন করে রাখতে হতো না। তাদের অভ্যন্তরে কী চলছে, কত মানুষ যে অপরিসীম দারিদ্র্যে বাস করছে সেটা যাতে বহির্জগৎ জানতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এত কাঠখড় পোড়াতে হতো না চীনকে। দরজা খুলে দিত। এথনিক ডেমোক্রেসির লক্ষ্য হল সর্বদাই যে কোনও সমস্যার জন্য একটি বিশেষ শ্রেণীকেই দোষারোপ করার দিকে জনতাকে ঠেলে দেওয়া। এর ফলে সরকারের দিকে আঙুল তোলে না কেউ।
কিন্তু আশার কথা হল ভারতের একটা অত্যাশ্চার্য ব্যালান্স করার চরিত্র আছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ভারতের। ঠিক যখন মনে হচ্ছে ভারত বোধহয় ক্রমেই সংখ্যাগুরুর ডেমোক্রেসিতে পরিণত হতে চলেছে, তখনই আচমকা একের পর এক রাজ্য বিধানসভা ভোটে দেখা যাচ্ছে বিজেপি ধাক্কা খাচ্ছে। গত বছর এক সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে বিজেপির পরাজয় হওয়ার পরও বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব কিংবা কর্মী সমর্থকরা সেই ফলাফলকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। ভাবা হয়েছিল ওটা বোধহয় সাধারণ অ্যান্টি ইনকামবেন্সি। কিন্তু এবার হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে বিজেপি একক গরিষ্ঠতা না পাওয়া আরও বড় বার্তা। অর্থাৎ হাইপার ন্যাশনালাইজেশন কিংবা হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেণ্ডা তীব্র হলেও বিজেপি বিপুল ভাবে জয়ী
হচ্ছে না। উল্টে কোনও কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতা, শক্তিশালী সংগঠন না থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস বা বিরোধীরা অনায়াসে প্রচুর আসনে বিজেপিকে
হারিয়ে দিচ্ছে। এটা অবশ্যই এক অন্যরকম মনোভাব বদলের আভাস।
আর এই সমীকরণটির জন্ম হচ্ছে গ্রামীণ ভারতে। দেখা যাচ্ছে প্রধানত গ্রামাঞ্চলেই এভাবে বিজেপি ধাক্কা খাচ্ছে। অর্থাৎ যে গ্রামজীবনের সঙ্গে সরকারের প্রত্যক্ষ ভাবে রোটি কাপড়া মকানের সম্পর্ক, তারা কোনও কারণে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছে না যে তাদের সব কিছু ভালো আছে। তাই তারা সরকারি পার্টিকে ভোট দিচ্ছে না রাগ করে। এই রাগকে সংখ্যাগুরুর ডেমোক্রেসি কমাতে পারছে না। শিবসেনা এতকাল পর হঠাৎ কেন বিজেপির হাত ছেড়ে দেওয়ার সাহস পেল? তারা চূড়ান্ত প্রফেশনাল একটি পলিটিক্যাল পার্টি। তারা জানে কীভাবে কখন সুবিধা আদায় করতে হয়। সুতরাং নেহাত ইগো নয়। শিবসেনা হয়তো আঁচ পেয়েছে যে, বিজেপি দুর্বল হচ্ছে। এই প্রতিটি বার্তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রে মনে করা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি অপরাজেয়। তাঁর তুলনীয় কোনও জনপ্রিয় নেতাই নেই বিরোধী শিবিরে। অথচ সেই মোদির নির্বাচনী প্রচার সত্ত্বেও রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হওয়ার তুলনায় বরং ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। কেন? এই উত্তরটি খুঁজতে হবে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে। বস্তুত মোদি সরকারকে বেছে নিতে হবে যে কোনও একটি পথ। হয় সংখ্যাগুরুর ডেমোক্রেসির পথকে আরও প্রশস্ত করা অথবা গণতন্ত্রের মূল স্ট্রাকচার অক্ষুণ্ণ রেখে অবিলম্বে রোটি কাপড়া মকান, বিজলী পানি সড়কের সেই চিরাচরিত লক্ষ্যপূরণে ডুবতে বসা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে সামাজিক গণতন্ত্রেও সম্প্রসারিত করা। কারণ, বিগত ৩০ বছরে সব থেকে বেশি যে ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত হারে বেড়েছে সেটি হল, বৈষম্য। ইনইকোয়ালিটি।
সর্বশেষ যে ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের হেলথ রাউণ্ড সমীক্ষা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে একটা অদ্ভুত তথ্য পাওয়া গিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই গরিব মানুষ চিকিৎসার কাছে যাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রথাগত চিকিৎসার খরচ এতই বেড়ে গিয়েছে যে, ভারতের গরিব মানুষের বিপুল অংশ অনেক জটিল রোগ শরীরে পুষে রেখেই টোটকা বা ধামাচাপা দেওয়া ব্যবস্থায় থেকে যাচ্ছে। ১৯৮৬ সালের রাউণ্ড সার্ভের পর ২০১৬ সালের রাউণ্ড সার্ভে পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে প্রবণতা কমার কথা, সেটি আদতে বেড়ে যাচ্ছে বছর বছর। অর্থাৎ গরিব মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকা।
সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, এটা স্রেফ টাকার অভাবে। এটা হল স্বাস্থ্য। এবার শিক্ষা। একটিমাত্র রাজ্য নিয়ে ছোট একটি তথ্য। যেখানে আগামী ৩০ নভেম্বর বিধানসভা ভোট। ঝাড়খণ্ড। এই রাজ্যে প্রতি ১০০ টি ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র ৩০ জন শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডিটি পেরোয়। ৭০ জনই প্রাইমারি লেভেলেই ড্রপ আউট হয়ে যায় স্কুল থেকে। যার মধ্যে আবার সিংহভাগ বালিকা। ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলায়
এই বালিকাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় দুটি কারণে। হয় খেতমজুরি করতে পাঠানো হয় অথবা ওই বাল্যকালেই বিয়ে দেওয়া হয়! দুই ক্ষেত্রেই টাকা
পায় গরিব বাবা মা!
সংখ্যাগুরুর ডেমোক্রেসি নয়। বরং অনেক
জরুরি কাজ হল সংবিধান অনুসরণ করা। যেখানে রক্ষা করতে বলা হয়েছে, জাস্টিস, লিবার্টি, ইকোয়ালিটি! ওটাই পথ!
15th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, খড়্গপুর: মঙ্গলবার সকালে চীনা মাঞ্জায় গলা কেটে খড়্গপুর শহরে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। তার নাম মহম্মদ সাদেক(১৫)। বাড়ি পাঁচবেড়িয়া কাজি মহল্লায়। সে সাউথ সাইড হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত।  ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

মঙ্গল ঘোষ, গাজোল, সংবাদদাতা: দেশলাইয়ের বিভিন্ন মার্কা ও কাঠি দিয়ে নানা শিল্পকর্ম করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দা সুবীর কুমার সাহা। কখনও আর্ট পেপারে ...

নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর (পিটিআই): নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সংসদের বাইরে আরও সরব কংগ্রেস। দলের দুই অন্যতম প্রধান মুখ রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোশ্যাল সাইটে এই বিলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। তাঁদের দু’জনের মতে, গণতন্ত্র ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্র।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মানসিক অস্থিরতার জন্য পঠন-পাঠনে আগ্রহ কমবে। কর্মপ্রার্থীদের যোগাযোগ থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২২: অভিনেতা দিলীপকুমারের জন্ম
১৯২৪: সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জন্ম
১৯৩৫: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪২: সঙ্গীত পরিচালক আনন্দ শংকরের জন্ম
১৯৬১: অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তীর মৃত্যু
১৯৬৯: ভারতীয় দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দের জন্ম
২০০৪: সঙ্গীতশিল্পী এম এস শুভলক্ষ্মীর মৃত্যু
২০১২: সেতারশিল্পী রবিশঙ্করের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪২ টাকা ৭২.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.১৯ টাকা ৯৫.৫৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৫ টাকা ৮০.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩ দিবা ১০/৫৯। রোহিণী অহোরাত্র। সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৫ গতে ১২/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৮/২২ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৫০ গতে ১০/১০ মধ্যে পুনঃ ১১/৩০ গতে ১২/৫০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৯ গতে ৪/৩০ মধ্যে।
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১১/৩৯/৪১ দিবা ১০/৫১/২৭। কৃত্তিকা ০/৪১/৪৪ প্রাতঃ ৬/২৮/১৭, সূ উ ৬/১১/৩৫, অ ৪/১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৮/৩২ মধ্যে ও ১০/৩৩ গতে ১২/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৬/৪১ মধ্যে ও ৮/২৯ গতে ৩/৩৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৫১/২ গতে ১০/১০/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৫১/২ গতে ৪/৩১/১৯ মধ্যে।
১৩ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোচবিহারের শীতলকুচির ডাকঘড়া বাজারে ৩টি বোমা উদ্ধার 

10:46:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল: উত্তর-পূর্বে বনধ, বাতিল একাধিক ট্রেন 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে ঘিরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য। অসম, ত্রিপুরাজুড়ে ...বিশদ

10:39:02 AM

বাগুইআটিতে যুবক খুন 
বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে ড্রেন থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। মৃতের ...বিশদ

10:22:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, বুধবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইমের ...বিশদ

10:06:24 AM

কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রীর
‘বুড়োদের থেকে পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ মঙ্গলবার, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে এই ...বিশদ

09:40:00 AM

 মুম্বই মেলে অত্যাধুনিক রেক
যাত্রীদের সফর আরও সুরক্ষিত এবং অধিক স্বাচ্ছন্দ্যযুক্ত করতে হাওড়া-মুম্বই সিএসএমটি-হাওড়া ...বিশদ

09:30:00 AM